ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ, ফিফা আসিয়ান কাপে লাল-সবুজের নতুন সুযোগ
শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের সামনে খুলে গেল আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় এক সুযোগ। ভারতের সরে দাঁড়ানোর পর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬-এ অংশ নেওয়ার অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ। শনিবার বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আগেই আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। অপেক্ষা ছিল ফিফার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের। সেই অনুমোদন পাওয়ার পরই ভারতের পরিবর্তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ফিফা আসিয়ান কাপের ডিভিশন-১। ভারতের জায়গা নেওয়ায় ‘এ’ গ্রুপেই খেলবে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর।
কেন সরে দাঁড়াল ভারত?
আসিয়ান কাপের সময়সূচির সঙ্গে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচের সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ায় তারা টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ভারতের। ওই ম্যাচকে সামনে রেখেই আসিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
ভারতের শূন্যস্থান পূরণে দক্ষিণ এশিয়ার আরেকটি দল হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করে ফিফা। শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগই কাজে লাগাতে যাচ্ছে লাল-সবুজের দল।
চার ম্যাচ খেলার সুযোগ
বাংলাদেশের জন্য টুর্নামেন্টটি শুধু তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিযোগিতার কাঠামো অনুযায়ী গ্রুপে বাংলাদেশের অবস্থানের ভিত্তিতে আরও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে।
দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে। রানার্সআপ দলগুলো খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। একইভাবে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলোর জন্যও রয়েছে আলাদা স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। ফলে প্রতিটি দলেরই সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
খরচ নিয়েও স্বস্তি বাফুফের
বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সুবিধা হলো আর্থিক বিষয়টি। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর যাতায়াত ও আবাসনের ব্যয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে অর্থও দেওয়া হবে। ফলে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাফুফের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ পড়ছে না।
সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপও রয়েছে বাংলাদেশের। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে নিজেদের আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ও সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাবেন জামাল ভূঁইয়া-হামজারা।
ভারতের সরে দাঁড়ানোর কারণে যে সুযোগটি হঠাৎ বাংলাদেশের সামনে এসেছে, সেটি এখন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে কতটা কাজে লাগানো যায়—সেদিকেই থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের নজর।