The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
ভালোবাসা নিয়েই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে কুমার বিশ্বজিৎ

ভালোবাসা নিয়েই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে কুমার বিশ্বজিৎ


 বিনোদন ডেস্ক: চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা গানের আকাশে উজ্জ্বল নাম কুমার বিশ্বজিৎ। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন কোটি শ্রোতার হৃদয়ে। নতুন গান প্রকাশ না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এই জনপ্রিয় শিল্পী।

সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভক্তদের উদ্দেশে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি জানতে চান, তার গাওয়া কোন গানটি তাদের সবচেয়ে প্রিয়। পোস্টটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে হাজারের বেশি মন্তব্য জমা পড়ে। ভক্তরা তাদের পছন্দের শতাধিক গানের নাম উল্লেখ করেন।

ভক্তদের এই বিপুল সাড়া ও ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ। সোমবার বিকেলে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি লেখেন, “গত পোস্টে আমার গাওয়া আপনাদের ভালো লাগার গানগুলো জানতে চেয়েছিলাম। আপনাদের অনুভূতি, অভিব্যক্তি এবং ভালো লাগার গানগুলো জানিয়ে যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।”

কুমার বিশ্বজিৎ জানান, ভক্তদের উল্লেখ করা প্রায় ১২৫টি প্রিয় গানের মধ্যে ১০০টিরও বেশি ছিল চলচ্চিত্রের বাইরের মৌলিক গান। তার ভাষায়, এটি শুধু তার জন্য নয়, বরং সংশ্লিষ্ট গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের জন্যও বড় প্রাপ্তি ও আশীর্বাদ।

তিনি আরও লেখেন, “হয়তো আজীবন এই গানগুলো আপনাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। আপনাদের এই ভালোবাসা নিয়েই একদিন পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে। এমন ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে বিদায় নেওয়াও পরম শান্তির। এটাই সত্যি, এটাই শাশ্বত।”

পোস্টের শেষাংশে শ্রোতাদের জন্য একটি নতুন সংগীত উপহার দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন এই গুণী শিল্পী। তার আবেগঘন বার্তা ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানালেন আলিয়া ভাট

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানালেন আলিয়া ভাট

 

ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি শিক্ষার্থীদের সাহস, ধৈর্য ও ন্যায়বিচারের দাবির প্রশংসা করেন।

আলিয়া ভাট বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাকে যেমন ব্যথিত করেছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের দৃঢ় অবস্থান ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশাও জাগিয়েছে। তার মতে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর পেছনে রয়েছে একটি স্বপ্ন, একটি পরিবারের প্রত্যাশা এবং দীর্ঘদিনের ত্যাগের গল্প।

তিনি লেখেন, শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের অধিকারের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিতেও সোচ্চার হয়েছেন। তাদের এই অবস্থান সমাজকে তরুণদের কণ্ঠস্বর গুরুত্বের সঙ্গে শোনার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

আলিয়ার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের সাহস ও দৃঢ়তা সবার সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে—দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের মতামত ও দাবি আমরা যথাযথভাবে শুনছি কি না। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ তাদেরই এবং সেই ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা সবার দায়িত্ব।

এর আগে একই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলিউড অভিনেতা সালমান খানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে আহ্বানও জানান তিনি।

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি।

ফাইনালের মঞ্চ মাতাচ্ছেন শাকিরা

ফাইনালের মঞ্চ মাতাচ্ছেন শাকিরা

 

বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনার মধ্যেই জমে উঠেছে উদ্বোধনী সাংস্কৃতিক আয়োজন। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের সামনে মঞ্চে পারফর্ম করছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা

নিজের জনপ্রিয় গান ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের পাশাপাশি টেলিভিশন ও অনলাইন দর্শকদেরও মুগ্ধ করেন এই কলম্বিয়ান শিল্পী। বর্ণিল আলোকসজ্জা, নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা এবং আধুনিক মঞ্চসজ্জায় অনুষ্ঠানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে শাকিরার উপস্থিতি নতুন নয়। অতীতেও তিনি বিশ্বকাপের একাধিক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করেছেন। এবারও তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনা ফাইনালের আবহকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে।

জাপানে মুখ থুবড়ে পড়ল ‘ধুরন্ধর’, প্রথম দিনেই মাত্র ৯০০ দর্শক

জাপানে মুখ থুবড়ে পড়ল ‘ধুরন্ধর’, প্রথম দিনেই মাত্র ৯০০ দর্শক


 বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে ঝড় তুললেও জাপানের প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে ব্যর্থ হলো রণবীর সিং অভিনীত ব্লকবাস্টার ছবি ‘ধুরন্ধর’। ব্যাপক প্রচারণা সত্ত্বেও দেশটির দর্শকদের মনে জায়গা করে নিতে পারেনি এই অ্যাকশন থ্রিলার। বক্স অফিস ও ট্রেড রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০ জুলাই জাপানে মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমাটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে এসেছিলেন মাত্র ৯০০ জন দর্শক। 

এমনকি মুক্তির প্রথম উইকএন্ড বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দেশটির শীর্ষ ২৫টি সিনেমার তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি এই ছবি।

মুক্তির দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত জাপানের ৫৭টি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির মাত্র ৪৪৯টি টিকিট বিক্রি হয়েছিল। দিনের দ্বিতীয় ভাগে হলের সংখ্যা বেড়ে ৮০টি হলেও দর্শক খরা কাটেনি; দিনশেষে মোট টিকিটের সংখ্যা ৯০০-র কোটা পার করতে পারেনি। ফলে জাপানের বাজারে সেরা ১০টি ভারতীয় সিনেমার ওপেনিং রেকর্ডের তালিকায় নাম লেখাতে ব্যর্থ হয়েছে ‘ধুরন্ধর’। বর্তমানে এই তালিকার দশম স্থানে রয়েছে সালমান খানের ‘টাইগার ৩’, যা প্রথম দিনে ১,৩০০ জন দর্শক টেনেছিল। এর আগে আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা ২’ ছবিটিকেও জাপানের মাটিতে একই রকম দর্শক খরা ও ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

জাপানের বাজারে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ওপেনিংয়ের রেকর্ডটি ধরে রেখেছে এসএস রাজামৌলির ‘আরআরআর’, যা মুক্তির প্রথম দিনে রেকর্ড ৮,২৩০ জন দর্শক দেখেছিল। এর পরের স্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে ‘সাহো’, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’, ‘পাঠান’, ‘সালার’, ‘জওয়ান’, ‘রাঙ্গাস্থালাম’, ‘দেবরা’ এবং ‘বাহুবলী ২’।

যদিও জাপানের এই ব্যর্থতা বিশ্বব্যাপী ‘ধুরন্ধর’-এর আকাশচুম্বী সাফল্যে কোনো প্রভাব ফেলছে না। আদিত্য ধর পরিচালিত এবং জিও স্টুডিওস প্রযোজিত এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া প্রথম পর্বের ১,৩০৭ কোটি রুপি এবং দ্বিতীয় পর্বের ১,৮১৩ কোটি রুপির ওপর ভর করে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি প্রথম কোনো ভারতীয় সিনেমা হিসেবে বিশ্বব্যাপী ৩,০০০ কোটি রুপির ক্লাবে পা রেখেছে। আমির খানের ‘দঙ্গল’-এর পর এটিই এখন ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী ভারতীয় চলচ্চিত্র। 

রণবীর সিং, অক্ষয় খান্না, সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল ও আর মাধবন অভিনীত এই সিনেমাটি চীন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অবদান ছাড়াই এই বিপুল আয়ের রেকর্ড গড়েছে, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। তবে বিশ্বমঞ্চের এই জয়রথ জাপানের বক্স অফিসে গিয়ে থমকে যাবে, তা হয়তো নির্মাতারাও ভাবেননি।

সূত্র: এনডিটিভি

আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত, আনন্দে অভিনেত্রী পূর্ণিমা

আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত, আনন্দে অভিনেত্রী পূর্ণিমা


 শুধু সাধারণ দর্শকই নন, মহাতারকা লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনার এই ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর জয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা।

আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে কোটি ভক্তের উদ্দেশে মনের অনুভূতি শেয়ার করে নিয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের ভালোবাসা ও মুগ্ধতা প্রকাশ করে অভিনেত্রী লিখেছেন— আর্জেন্টিনার জন্য কী দুর্দান্ত একটি রাত!

পূর্ণিমা বলেন, যখন সারা বিশ্ব ভেবেছিল সব শেষ, মেসি এবং তার যোদ্ধারা দেখিয়ে দিলেন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ানদের হৃদস্পন্দন কেমন হয়। সাহস, আবেগ আর বিশ্বাস এক নান্দনিক উপায়ে পুরো খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিল। আলহামদুলিল্লাহ।

প্রিয় দলের এমন শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে পূর্ণিমার এ আবেগঘন বার্তা সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। তার ভক্ত-অনুরাগীরাও মন্তব্যের ঘরে এসে পূর্ণিমার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আর্জেন্টিনা দলের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানাচ্ছেন।

সূত্র: আমার দেশ

প্রথমবার বিচারকের দায়িত্বে মোশাররফ করিম

প্রথমবার বিচারকের দায়িত্বে মোশাররফ করিম


 অভিনয়ের বৈচিত্র্য আর অসাধারণ চরিত্র রূপায়ণের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়ে আসছেন মোশাররফ করিম। টেলিভিশন, ওটিটি ও বড় পর্দাÑ সব মাধ্যমেই সমান সফল এই অভিনেতা এবার যুক্ত হচ্ছেন নতুন এক ভূমিকায়। প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন তিনি।

বাংলাদেশ, ভারত ও সিঙ্গাপুরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাভাসি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬-এর প্রধান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোশাররফ করিম। এটি তার অভিনয় জীবনের প্রথম বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা।

নতুন এই দায়িত্ব নিয়ে মোশাররফ করিম বলেন, ‘বিচারক শব্দটা শুনতে যত সহজ মনে হয়, দায়িত্বটা কিন্তু ততটা সহজ নয়। তবে আমি সব সময় যে কোনো কাজে আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। বাভাসি সত্যিই অসাধারণ একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নতুনদের মেধা বিকাশের সুযোগ রয়েছে। এত বছরের ক্যারিয়ারে বিচারক হিসেবে এটাই আমার প্রথম দায়িত্ব। আমাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।’

এবারের বাভাসি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিভিন্ন দেশ থেকে ৭৫টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। প্রাথমিক বাছাই শেষে ৫২টি চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে। এরপর জুরি বোর্ডের মূল্যায়নে সেখান থেকে ১৬টি চলচ্চিত্র দ্বিতীয় পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধাপ শেষে চূড়ান্ত পর্বের জন্য সাতটি চলচ্চিত্র নির্বাচিত হবে।

উৎসবে সেরা চিত্রনাট্যকার, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, শিল্প নির্দেশক, চিত্রগ্রাহক, সম্পাদক, গীতিকার, আবহসংগীত ও রূপসজ্জাসহ বিভিন্ন বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হবে। আয়োজকদের ভাষ্য, এই উৎসবের লক্ষ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত ও সিঙ্গাপুরের নির্মাতা এবং শিল্পীদের মধ্যে সৃজনশীল ভাবনা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরো সমৃদ্ধ করা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন নির্মাতাদের কাজ তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করবে বাভাসি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।

এআই অভিনেত্রী টিলি এবার সিনেমায়, দেখা যাবে প্রধান ভূমিকায়

এআই অভিনেত্রী টিলি এবার সিনেমায়, দেখা যাবে প্রধান ভূমিকায়

 

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের শেষের দিকে যার আগমন হলিউডসহ বিশ্ব বিনোদন দুনিয়ায় প্রতিবাদের তীব্র ঝড় তুলেছিল, সেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি অভিনেত্রী টিলি নরউড এবার তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন। টিলিকে সৃষ্টিকারী এআই-ভিত্তিক স্টুডিও ‘পার্টিকেল সিক্স’ তাদের নতুন এই সিনেমার ঘোষণা দিয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে ‘মিসঅ্যালাইন্ড’। এই ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে এই ভার্চুয়াল অভিনেত্রীর, যা বিশ্ব চলচ্চিত্রে এক নতুন এবং বিতর্কিত অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

স্টুডিওর পক্ষ থেকে সিনেমাটিকে একটি কমেডি-ড্রামা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অস্তিত্বসংকটের গল্প ফুটিয়ে তোলা হবে। ‘টিলিভার্স’ নামক ক্লাউডের ভেতরের এক পরাবাস্তব ডিজিটাল জগতের পটভূমিতে তৈরি হবে এই ছবি। চলচ্চিত্রে দেখা যাবে টিলি এমন এক এআই সত্তা, যার কোনো বাস্তব শরীর, শৈশব বা নিজস্ব অভিজ্ঞতা নেই— আছে শুধু ইন্টারনেটে থাকা অন্য সবার অভিজ্ঞতায় প্রবেশ করার ক্ষমতা। গল্পে নাটকীয় মোড় আসে যখন ডার্ক ওয়েবের এক চতুর ও প্রলুব্ধকর রোবট বা বট টিলিকে তার সব প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকানুন ও নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে নিজের মধ্যে মানবীয় ইচ্ছা, আবেগ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি করার জন্য প্ররোচিত করে।

পার্টিকেল সিক্স-এর তৈরি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য এই এআই চলচ্চিত্রে প্রথাগত বা বাস্তব জগতের চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ও পরিচালকদের পাশাপাশি এআই বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ দল কাজ করবে। স্টুডিওর প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা এলিন ভ্যান ডার ভেল্ডেন জানান, তারা দীর্ঘ গবেষণায় দেখেছেন যে এআই দিয়ে উন্নত মানের চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব, তবে তার জন্য মানুষের মেধা, দক্ষতা এবং দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। আগামী দশকে যে পরিচালকরা নিজেদের গল্প বলার সহজাত প্রতিভাকে এই নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মেলাতে পারবেন, তারাই টিকে থাকবেন এবং ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ সিনেমাটি তারই একটি বড় প্রমাণ হতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর যখন এই এআই রূপসীকে কোনো বড় অ্যাক্টিং এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করানোর আভাস দেওয়া হয়েছিল, তখন হলিউডের অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের ইউনিয়নগুলো এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। মানুষের সৃজনশীলতার জায়গায় এআই-এর এমন অনুপ্রবেশ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল এই টিলি নরউড। 

নতুন এই সিনেমার নির্মাতা ভ্যান ডার ভেল্ডেন আরও যোগ করেন, সিনেমাটি যেমন হাস্যরসাত্মক ও রোমাঞ্চকর হবে, তেমনি এর গভীরে মানুষের পরিচয়-সংকট ও এআই নিয়ে আমাদের মনের সুপ্ত ভয়গুলোও চমৎকারভাবে উঠে আসবে। বর্তমানে সিনেমাটির প্রাথমিক কাজ চলছে এবং খুব শিগগিরই মূল নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

সূত্র: ভ্যারাইটি

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে ডিজে সানজয়

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে ডিজে সানজয়


 বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে ও সংগীত প্রযোজক সানজয় দেব (ডিজে সানজয়) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল মিউজিক প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পাশাপাশি সিএনএনেও তার সাফল্য ও বৈশ্বিক যাত্রা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমান ফিফা বিশ্বকাপে সানজয় একজন অফিসিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তার গান, যা বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি শিল্পী ভেজিড্রিম-এর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি, বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল অ্যালবামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

শুধু অ্যালবামেই নয়, সানজয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চেও পারফর্ম করেছেন। কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে তিনি নোরা ফাতেহি ও ভেজিড্রিমের সঙ্গে ‘ঝওওজ ঝওওজ’ পরিবেশন করেন, যা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামে সানজয়ের পাশাপাশি শাকিরা, বার্না বয়, রেমা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক তারকারাও যুক্ত রয়েছেন। এ অর্জনের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শ্রীমঙ্গলে জন্ম নেওয়া এবং চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা সানজয় পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিকের সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় সুরের মিশেলে তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার পোশাকে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক—বাঘ, শাপলা ও লাল-সবুজের প্রতিফলনও বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

ডিজে সানজয়ের এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বেরও এক গৌরবময় অধ্যায়।

আসছে চরকি অ্যাওয়ার্ডস

আসছে চরকি অ্যাওয়ার্ডস


 দেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে চরকি অ্যাওয়ার্ডস। আগামী ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘সেনসেশন চরকি কার্নিভাল পাওয়ার্ড বাই ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’, যেখানে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের সেরা শিল্পী, নির্মাতা ও কনটেন্টকে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি প্রয়াত অভিনেত্রী কারিনা কায়সার-কে বিশেষ সম্মাননা জানানো হবে।

বাংলা কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের শিল্পী, কলাকুশলী ও নির্মাতাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। চরকির তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটির প্রিমিয়াম কনটেন্ট ইতোমধ্যে ১০০ কোটিরও বেশি ঘণ্টা দেখা হয়েছে এবং নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩ কোটি।

সমালোচকদের মূল্যায়ন ও সাবস্ক্রাইবারদের ভোটের ভিত্তিতে মোট ২৩টি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হবে। ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণে দর্শকরা ২০২৪ সালের সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।

বেস্ট ফিল্ম বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে কাছের মানুষ দূরে থুইয়া, তুফান, লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী এবং ৩৬–২৪–৩৬।

বেস্ট অ্যাক্টর (মেল) – ফিল্ম বিভাগে মনোনীত হয়েছেন ইয়াশ রোহান, প্রীতম হাসান, শাকিব খান এবং সৈয়দ জামান শাওন। অন্যদিকে বেস্ট অ্যাক্টর (ফিমেল) – ফিল্ম বিভাগে রয়েছেন তাসনিয়া ফারিণ, মাসুমা রহমান নাবিলা এবং মেহজাবীন চৌধুরী।

বেস্ট সিরিজ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে আধুনিক বাংলা হোটেল, কালপুরুষ, সিনপাট এবং ২ষ। অভিনয় বিভাগে মনোনীতদের তালিকায় রয়েছেন এফ এস নাঈম, তাহসান খান, মোশাররফ করিম, সিয়াম আহমেদ, কাজী নওশাবা আহমেদ, জয়া আহসান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা এবং সাফা কবির।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি জানান, ‘৩৬–-২৪-–৩৬’ চলচ্চিত্রের জন্য কারিনা কায়সার বেস্ট অ্যাক্টর (ফিমেল) বিভাগে মনোনীত হলেও তার প্রয়াণের পর তাকে প্রতিযোগিতার বাইরে রেখে বিশেষ সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুরস্কার বিতরণীর পাশাপাশি এবারের চরকি কার্নিভালে থাকবে অভিনয়ের মাস্টারক্লাস, প্যানেল আলোচনা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ। আয়োজকরা আশা করছেন, আগামী বছর থেকে নিয়মিতভাবেই অনুষ্ঠিত হবে চরকি অ্যাওয়ার্ডস।

শাকিরার রেকর্ড ভেঙে কানাডা মাতাতে প্রস্তুত নোরা ফাতেহি

শাকিরার রেকর্ড ভেঙে কানাডা মাতাতে প্রস্তুত নোরা ফাতেহি

 


মেক্সিকো সিটির পর এবার উত্তর আমেরিকার আরেক আয়োজক কানাডায় বসছে ফিফা বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী আসর। টরন্টো স্টেডিয়ামের এই রাজকীয় মঞ্চে আজ মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এই অনুষ্ঠানটি শুরু হবে।

কানাডার উদ্বোধনী মঞ্চে পা রাখার আগেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে নোরার নতুন ফিফা অফিশিয়াল গান ‘সির সির’। মুক্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউটিউবে ২০ মিলিয়নেরও (২ কোটি) বেশি ভিউ পার করে রেকর্ড গড়েছে এই গানটি।

এর মাধ্যমে নোরা ভেঙে দিয়েছেন শাকিরার এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই’এর রেকর্ড। শাকিরার গানটি প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ভিউ পেয়েছিল ৮.২ মিলিয়ন। শাকিরাকে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবধানে পেছনে ফেলে ‘সির সির’ এখন ফিফার ইতিহাসে প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি দেখা থিম সং।

গানটির অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ান সংযোগ। নোরা ফাতেহির এই গানে তার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন ফরাসি গায়ক ভেজিড্রিম এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকান জনপ্রিয় মিউজিক প্রডিউসার ও ডিজে সঞ্জয়। আজ টরন্টোর মঞ্চে ভেজিড্রিম ও ডিজে সঞ্জয়কে সঙ্গে নিয়েই লাইভ পারফর্ম করবেন নোরা।

এই বৈশ্বিক অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বসিত নোরা ফাতেহি বলেন, ‘এটি আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ একটি মুহূর্ত। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আমি আমার মরক্কান এবং কানাডিয়ান শিকড়ের পাশাপাশি ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ভালোবাসাকে এক সুতোয় বাঁধতে পেরেছি। পর্দার পেছনের শক্তিশালী ভারতীয় প্রতিনিধিত্ব আমাদের এই কাজকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য করে তুলেছে। এটি সংগীতের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমকে এক করার একটি প্রয়াস।’

কানাডার বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলতে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোরার পাশাপাশি সুরের মূর্ছনা ছড়াবেন বিশ্বখ্যাত তারকা অ্যালানিস মরিসেট, অ্যালেসিয়া কারা, এলিয়ানা, জেসি রেয়েজ, মাইকেল বুলে এবং উইলিয়াম প্রিন্স।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ১৬ বছরের দুঃশাসন নিয়ে ২১টি ফিল্ম তৈরি করেছি: ফারুকী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ১৬ বছরের দুঃশাসন নিয়ে ২১টি ফিল্ম তৈরি করেছি: ফারুকী

 


দায়িত্ব পাওয়ার পর ১৬ মাসে ২১টি ফিল্ম তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছেন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব তথ্য জানান তিনি।

ফেসবুক পোস্টে ফারুকী লিখেন, একটি পত্রিকায় আজ একটা লেখা ছাপা হয়েছে। যার সারমর্ম হলো, আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের দুঃশাসন নিয়ে ৮টা ছবি করার কথা বলেছিলাম, তার মধ্যে ৫টাই হয় নাই। কথা সত‍্য। তবে আরও সত‍্য হচ্ছে, ৫টা হয় নাই, ২১টা হয়েছে।

সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা লিখেন, তার আগে আমাকে পরিষ্কার করতে হবে কেনও মুনসুন রেভুলুশন ফিল্ম প্রজেক্টটা নেয়া হয়েছিলো। দুই উদ্দেশ্য থেকে এটি করা হয়েছিল। প্রথম উদ্দেশ্য ছিলো খ‍্যাতনামা তরুণ পরিচালকদের দিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে ফিল্মমেকিং ওয়ার্কশপ করা। আট বিভাগেই এই ওয়ার্কশপ সাকসেসফুলি শেষ হয়েছে। এবং ওইসব শহরে বিপুল সাড়া পড়ে তরুণদের মধ্যে। আমি এই জন্য আটজন পরিচালকের প্রতিই কৃতজ্ঞতা জানাই।

দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের দুঃশাসনের গল্প আমাদের কালেকটিভ মেমোরির পার্ট হিসাবে সিনেমায় খোদাই করে রাখা। বিকজ কালচার ইজ নাথিং বাট আওয়ার কালেকটিভ মেমোরি। এই উদ্দেশ্যে আটটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। এর মাঝে দুইটি ডকুমেন্টারি এবং একটি কাহিনীচিত্রের কাজ শেষ হয়েছে। এগুলো প্রিভিউ শেষে রিলিজ করা হবে। বাকী পাঁচ চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট রিভিউ কমিটির কাছে জমা পড়েছে এবং কমিটি সেটা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে মতামত দিয়েছে।

তিনি লিখেন, এ সময় একটা ঘটনা ঘটে। জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে। তখন আমাদের উপর দায়িত্ব পড়ে ১৬ বছরের দুঃশাসন এবং জুলাইয়ের গৌরবগাঁথা নিয়ে ডকুমেন্টারি নির্মাণের। আমরা ২১টা ডকুমেন্টারি বানাই। যার বেশিরভাগই আপনাদের দেখা। পিলখানা: ৩৬ আওয়ার অব বিট্রেয়াল, আয়নাঘর ফাইলস, ক্লেপ্টোক্রেসি, জুলাই বিষাদ সিন্ধু সিরিজ, ইউ ফেইলড টু কিল আবরার ফাহাদ, ট্রায়াল অব জুলাই ম‍্যাসাকার ইত্যাদি। সেগুলোতে এই আটজন ফিল্মমেকারের অনেকেই যুক্ত হন। আবার আটজনের বাইরে থেকেও আরও অনেকে যুক্ত হন। ওই ডকুমেন্টারিগুলো জুলাই মাস জুড়ে অনলাইনে মুক্তি দেয়া হয়। পাশাপাশি সারাদেশেও ফিজিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করা হয়। ওই ডকুমেন্টারিগুলো ব্যাপক সাড়া ফেলে। আমাদের এই কন্টেন্টগুলো শুধু প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজেই ভিউ হয় ১০০ মিলিয়নের উপর।

ফারুকী আরও লিখেন, ওই সময় আমাদের উপলব্ধি হয় ঘটনার খুব কাছে থাকার কারণে ফিকশনের স্ক্রিপ্ট ডকুমেন্টারিগুলোর মতো আমাদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেই আটটি ছবি নির্মাণের ঘোষণা হয়েছে বলেই যে পুরোপুরি কনভিন্সড না হলেও আমরা টাকা খরচ করে ছবিগুলো বানিয়ে ফেলবো এটা ঠিক হবে না। তখন আমরা রিভিউ কমিটিকে স্ক্রিপ্টগুলো নিয়ে আরও কাজ করতে বলি। এর মধ্যে আমাদের মেয়াদও শেষ হয়ে আসে। নতুন সরকার মনে করলে বাকি স্ক্রিপ্টগুলো থেকে ছবি বানাতে পারে।

পাশাপাশি, আমাদের সময়ের কাজের তালিকা এবং বর্তমান সরকারের জন্য আমার তৈরি করা নোটস টু সাকসেসর এই প্রোফাইলে শেয়ার করে রাখবো এক ফাঁকে। কাজের তালিকা মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে দেয়া আছে যদিও। আর নোটস টু সাকসেসর ইতিমধ্যেই বর্তমান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে আমি শেয়ার করেছি। তারপরও এই প্রোফাইলেও শেয়ার করে রাখবো যাতে কেউ চাইলে দেখতে পারে।

যে কারণে বন্ধ হয়ে গেল নাজনীন মুন্নীর টকশো

যে কারণে বন্ধ হয়ে গেল নাজনীন মুন্নীর টকশো

 


গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের হেড অব নিউজ নাজনীন মুন্নীকে চাকরি থেকে বাদ দিতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষকে কয়েকজন তরুণ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মহানগর শাখা কমিটির নাম করে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত চ্যানেলটির কার্যালয়ে গিয়ে এই হুমকি দেয়া হয়। তারা বলেন, ‘চাকরি না ছাড়লে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো অফিস পুড়িয়ে দেয়া হবে।’

এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৈনিক মানবজমিনকে নাজনীন মুন্নি বলেন, ‘আমাকে সরাসরি কিছু বলেনি তারা। তবে অফিসে এসে হুমকি দিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি একটা শো করি। এর আগে তারা ফোন দিয়ে আমার শো বন্ধ করে দেয়। সম্ভবত চেয়ারম্যান স্যারকে তারা ফোন দেয়। বিভিন্ন অখ্যাত পত্রিকায় নানা ধরনের গুজব লিখে ওই লিংক তাকে পাঠায়। যা খুশি তাই লিখে পাঠায়। বেশ কয়েকদিন যাবত এগুলো করছিলো। তারপর আমার শো করা অ্যাজইউজুয়াল বন্ধ হয়ে যায়।’

নাজনীন মুন্নী বলেন, ‘গত ৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাই। সেখান থেকে ১৭ ডিসেম্বর ফিরি। ফিরে আসার পর আমার শো করার কথা। কিন্তু আমাকে আর শো করতে দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগেও এক সপ্তাহ শো করতে পেরেছি। তার আগে আবার বন্ধ ছিলো। মানে দুই মাস করেছি, আবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আবার এক সপ্তাহ করেছি, তারপর আমেরিকা গিয়েছি। সেখান থেকে ফেরার পর শো বন্ধ।’

শো বন্ধ করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উদ্ভট ধরনের গল্প বানিয়ে এগুলো চেয়ারম্যানকে পাঠায়। প্রথমে সহজভাবে বলেছেন বাদ দেয়ার জন্য। আমি বলেছি—কেন আমি বাদ দেবো। প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে তাকে ফোন দেয়। তবে চেয়ারম্যান স্যার কখনো আমাকে বলেননি। শুধু আমাকে বলেছেন দেশের অবস্থা খুবই খারাপ। আপনি কয়েকদিন শো কইরেন না। শো করলে তো সবার নজরে পড়ে আরও বেশি। এটা নিয়ে আমি আমার মতো করে বলেছি—কেন করবো না। এটা তো লুকানোর কিছু নেই। আমি একটা টেলিভিশনে কাজ করি। জার্নালিস্ট ও অ্যাংকর, আমাকে তো দেখবেই মানুষ। অ্যাংকরিংয়ে যদি কোনো ক্রাইসিস থেকে থাকে তাহলে আপনারা আমাকে বলবেন যে, এই সমস্যা হচ্ছে। শব্দগত বা কারও সাপোর্টে কথা বলেছি কিনা—তখন আপনি বন্ধ করতে পারেন। কে কী দিচ্ছে এর জন্য আমার শো বন্ধ—এটা কেমন কথা! তখন তিনি বললেন, এখন তো কোনো যুক্তির কথা খাটছে না।’

নাজনীন মুন্নী বলেন, ‘প্রথমে আমাকে বললেন তফসিল ঘোষণা করুক। তখন অবস্থা ঠান্ডা হয়ে যাবে এবং এটা নিয়ে কোনো কেওয়াজ করবে না। তখন আমি বললাম—ঠিক আছে, তবে তফসিল ঘোষণার করার পরও শো করতে দেয়া হয় না। তখন আমি বিষয়টা জানতে চাইলাম। তখন বলা হলো—ঝামেলা হচ্ছে। সবাই যখন নমিনেশান পেপার জমা দেবে তখন থেকে করবেন। এরমধ্যে শো-এর জন্য একজন হোস্ট হিসেবে ঠিক করে ফেললেন। তখনই আমি বুঝেছি আমাকে আর শো করতে দেয়া হবে না।’    

তিনি বলেন, ‘গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পুড়িয়ে দেয়া হয়। বিষয়টা নিয়ে আমাদের সবার মন খারাপ ছিলো। এরপর ২১ ডিসেম্বর ৭-৮ জন আমার অফিসে আসেন। তবে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তখন হয়ত আমি অফিসে ছিলাম না বা বাইরে বের হয়েছি। তখন বিষয়টা আমাকে জানানো হয়নি। পরদিন আমি নরমালি অফিস করেছি। এরপর সন্ধ্যার দিকে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়। আমাকে বলা হয়, অনেকগুলো ছেলে আসছিলো, তারা হুমকি দিয়ে গেছে। অফিস পুড়িয়ে দেবে।’

নাজনীন মুন্নী বলেন, ‘২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রিপোর্টারদের সঙ্গে বৈঠকের পর আমি চলে যাই। এরপর এমডি স্যারের কাছে ফোন আসে। কয়েকটা ছেলে বলছে তারা এমডি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে চায়। তিনি তাদের আসতে বলেন। তারপর তারা ৭-৮ জন আসেন। এমডির রুমে প্রবেশ করেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মহানগর শাখা কমিটি হিসেবে তারা পরিচয় দেন। আসার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, আমাদের শরিফ ওসমান হাদি ভাইয়ের জন্য মন খারাপ। আপনাদের গ্লোবাল টিভিতে হাদি ভাইয়ের কাভারেজ ভালো হয়নি। এটা আওয়ামী লীগের এমপির চ্যানেল আমরা জানি, কিন্তু আমরা কিছু বলি না। আপনারা নাজনীন মুন্নীকে কেন রাখছেন। উনি তো আওয়ামী লীগের দোসর। তখন এমডি বলেছেন, উনি আওয়ামী লীগের দোসর কীভাবে হন। আমরা তো উনাকে বুঝেশুনেই নিয়েছি। তখন তারা বলে, উনি আওয়ামী লীগের দোসর। উনাকে আপনারা বাদ দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘অফিস আমার বিষয়ে আন্তরিক। চেয়ারম্যান ও এমডিকে বাইরে থেকে প্রতিনিয়ত আমার বিষয়ে হুমকি দেয়া হয়। তবুও তারা আমার পক্ষেই থেকেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আর নিতে পারেননি। কারণ দুইদিন আগে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো পুড়িয়ে দেয়া হয়।’

এক দল তরুণের হুমকি দেয়া প্রসঙ্গে গতকাল বুধবার দুপুর ২ টার ৩৮ মিনিটে ফেসবুকে পোস্ট দেন নাজনীন মুন্নী। ওই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মহানগর শাখা কমিটির নাম করে ৭-৮ জন আমার অফিসে এসে হুমকি দিয়ে গেছে চাকরি না ছাড়লে অফিস প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো আগুন ধরিয়ে দেবে।’

বর্তমানে গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের হেড অব নিউজ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন নাজনীন মুন্নী। গত জুলাই মাসে এই চ্যানেলে তিনি যোগ দেন তিনি। এর আগে ডিবিসি নিউজ চ্যানেলে অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর ছিলেন নাজনীন মুন্নী।

সূত্র : Daily Manab Zamin

বিশ্বের সঙ্গে একই দিনে ঢাকায় মুক্তি পেল ‘অ্যাভাটার

বিশ্বের সঙ্গে একই দিনে ঢাকায় মুক্তি পেল ‘অ্যাভাটার

 



জেমস ক্যামেরনের প্রখ্যাত কল্পবিজ্ঞান সিরিজ ‘অ্যাভাটার’-এর তৃতীয় কিস্তি ‘অ্যাভাটার : ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে একই দিনে দেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও দর্শকদের সামনে এসেছে সিনেমাটি।

২০০৯ সালে প্রথম কিস্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক আলোচনায় উঠে আসে ‘অ্যাভাটার’। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া দ্বিতীয় কিস্তি ‘দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ আয় করে প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। নতুন কিস্তিতেও ক্যামেরনের ভিজ্যুয়াল নির্মাণ দর্শককে বড় পর্দার অভিজ্ঞতার দিকেই টেনে নিচ্ছে।

এবারের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে সুলি পরিবার। নতুন সংকটের পাশাপাশি ‘আগুন উপজাতি’র আবির্ভাব কাহিনিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রার উত্তেজনা। সমালোচকদের মতে, বড় পর্দায় সিনেমাটি দেখার অভিজ্ঞতা আলাদা গুরুত্ব পায়।

সিনেমার সংগীতেও রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতির ছাপ। সাইমন ফ্র্যাংলেনের সাত বছর ধরে নির্মিত ১,৯০৭ পাতার অর্কেস্ট্রা স্কোর ও নতুন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারে সংগীত অংশটি আলাদা পরিচয় পেয়েছে।

জেমস ক্যামেরন জানিয়েছেন, বক্স অফিসের ফলই নির্ধারণ করবে ‘অ্যাভাটার’ সিরিজের ভবিষ্যৎ

সূত্র : Ntv

রইদকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরলেন তুষি

রইদকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরলেন তুষি


 তিন বছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘হাওয়া’ সিনেমার পর দীর্ঘ সময় নতুন ছবির খবরে আড়ালে ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের নতুন সিনেমা ‘রইদ’ এর হাত ধরে আবারও আলোচনায় ফিরলেন তিনি। গত মঙ্গলবার সিনেমাটির পোস্টার প্রকাশের পরপরই ট্রেলার প্রকাশ করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শক ও সমালোচকদের ব্যাপক নজর কেড়েছে।

সিনেমাটি নিয়ে সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম’ বা আইএফএফআর এর ৫৫তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশনে’ অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়েছে ‘রইদ’। পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন জানান, এই আসরেই সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার বা বিশ্ব প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এটিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র যা এই উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় মর্যাদাপূর্ণ ‘টাইগার অ্যাওয়ার্ড’ এর জন্য লড়বে।

ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনেমার প্রধান অভিনয়শিল্পী মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, নাজিফা তুষি, গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ অন্যান্য কলাকুশলীরা। সিলেটের সুনামগঞ্জ অঞ্চলে চিত্রায়িত এই সিনেমার গল্প লিখেছেন মেজবাউর রহমান সুমন ও সেলিনা বানু মনি। যৌথভাবে চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিন ফারুক আমিন, সিদ্দিক আহমেদ ও সুকর্ণ শাহেদ ধীমান।

গল্পের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে পরিচালক বলেন, একজন সাধু, তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রী এবং তাদের বাড়ির পাশের একটি তালগাছকে কেন্দ্র করে এই আখ্যান আবর্তিত হয়েছে। এখানে মূলত আদম ও হাওয়ার আদিম আখ্যানকে বর্তমানের অনুভূতির প্রেক্ষাপটে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। সিনেমার প্রতিটি স্তরে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের দেখা গ্রামীণ বাংলার আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

 সূত্র : আমার সংবাদ

জাপানে পুলিশ হেফাজতে অভিনেতা জেরেমি”

জাপানে পুলিশ হেফাজতে অভিনেতা জেরেমি”

 


মার্কিন অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকার জেরেমি ও. হ্যারিস মাদকসহ আটক হয়েছেন। গত ১৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাপানে যাওয়ার সময় ওকিনাওয়ার নাহা বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে জাপানের কাস্টমস কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সময় শনিবার (৬ ডিসেম্বর)ওকিনাওয়া আঞ্চলিক শুল্ক দপ্তরের একজন মুখপাত্র অভিনেতাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের শুল্ক এজেন্টরা হ্যারিসের ব্যাগ থেকে এক গ্রামের কম এমডিএমএ মাদক খুঁজে পান। মাদক বহনের অভিযোগে ৩৬ বছর বয়সী এ অভিনেতা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জাপানের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যারিস ব্যক্তিগত কাজে জাপানে আসছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে তাইওয়ানে যাত্রা বিরতি দিয়ে জাপানে পৌঁছান গ্রেফতারের পর তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে অভিনেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করেছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। 

উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানে মাদকের প্রতি জিরো-টলারেন্স নীতির কারণে অতীতেও অনেক বিদেশি নাগরিককে কারাগারে থাকতে হয়েছে।  

২০১৮ সালে ‘স্লেভ প্লে’ দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন জেরেমি ও. হ্যারিস। যা টনি পুরস্কারে সেরা নাটকের জন্য মনোনীত হয়েছিল। তিনি এইচবিও-এর ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজের প্রযোজনা করেছেন। তার অভিনীত সিরিজগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘গসিপ গার্ল’ , ‘হোয়াট উই ডু ইন দ্য শ্যাডোস’।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

জোভান ও তটিনী জুটির হৃদয় গভীরে

জোভান ও তটিনী জুটির হৃদয় গভীরে




 বাংলা নাটকের জনপ্রিয় মুখ ফারহান আহমেদ জোভান ও তানজিম সাইয়ারা তটিনী। একসঙ্গে জুটি বেঁধে বেশ সফল হয়েছেন তারা। 

আবারও তাদের একসঙ্গে দেখা যাবে রোমান্টিক গল্পে। মেজবাহ উদ্দিন সুমনের গল্পে রুবেল হাসানের নাটকটির নাম ‘হৃদয় গভীরে’।

ক্যাপিটাল ড্রামায় নাটকটি আসবে ১১ ডিসেম্বর। বড় পরিসরে নির্মিত নাটক দিয়ে অল্প সময়েই দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে ইউটিউব চ্যানেলটি। 

নাটকটিতে থাকছে দুটি গান। একটি গান গেয়েছেন মাহাতিম সাকিব ও মৌটুসী খান। অন্যটি গেয়েছেন শেখ রেজওয়ান ও কনা। গানের কথা ফয়সাল রাব্বিকিনের, সংগীতায়োজনে শেখ রেজওয়ান।

সূত্র :বিডি-প্রতিদিন

সালমানের সঙ্গে বিয়ের কার্ডও তৈরি ছিল, সেই অভিনেত্রী এখন কোথায়

সালমানের সঙ্গে বিয়ের কার্ডও তৈরি ছিল, সেই অভিনেত্রী এখন কোথায়


 কেবল পর্দার উপস্থিতির জন্যই নয়; তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও দশকের পর দশক ধরে খবরের শিরোনাম হয়ে এসেছে। ১৯৮০-এর দশকে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করে তিনি দর্শকের হৃদয় জয় করেন। তবে পর্দার বাইরে তাঁর সম্পর্কগুলোও তাঁর চলচ্চিত্রের মতোই আলোচিত হয়েছে। এই অভিনেত্রী আর কেউ নন, সংগীতা বিজলানি।

সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্ক
সংগীতার জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় ছিল সালমান খানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগে তাঁদের পথ মিলিত হয় এবং তাঁরা বলিউডের অন্যতম আলোচিত জুটিতে পরিণত হন। বিয়ের প্রস্তুতির গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি সেই সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, তাঁদের বিয়ের কার্ডও তৈরি হয়েছিল।

তবে কেন শেষ পর্যন্ত তাঁরা বন্ধনে জড়াননি, সেটা আজও বড় রহস্য।
বিচ্ছেদের পরও তাঁরা উষ্ণ বন্ধুত্ব বজায় রেখেছিলেন। সালমান পরবর্তী সময়ে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও বিয়ে হয়নি।

বলিউড থেকে ক্রিকেটে প্রেম
সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর সংগীতার প্রেম হয় সাবেক ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের সঙ্গে। ১৯৯৬ সালে আজহারউদ্দিনের প্রথম বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম দিকে জীবন শান্তিপূর্ণ ছিল; সংগীতা চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে গিয়ে পরিবারকে সময় দেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল দেখা দেয় এবং ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবন যাপনের পর ২০১০ সালে তাঁরা বিচ্ছেদ ঘটান।




আজকের সংগীতা
৬৫ বছর বয়সী সংগীতা বিজলানি এখন নিজের জীবনকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলেছেন। তিনি ফিটনেস, যোগব্যায়াম, আধ্যাত্মিকতা আর ভ্রমণে মনোনিবেশ করেছেন। মিডিয়ায় নতুন সম্পর্কের গুজব থাকলেও তিনি সব সময় বলেন যে তাঁর জীবন নিজের মতো করে সুখী ও পূর্ণ। সালমান খান পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক এখনো শক্তিশালী। প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যায় তাঁদের।

ইন্ডিয়া ডটকম অবলম্বনে

নতুন লুকে শাকিব খানের চমক

নতুন লুকে শাকিব খানের চমক


ঢাকাই সিনেমার মেগাস্টার শাকিব খানকে নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকে। এবার নতুন আলোচনায় এই অভিনেতা। মূলত ৭টি নতুন লুক নিয়ে হাজির হয়ে ভক্তদের চমক দিয়েছেন তিনি।

আর এবার অভিনেতার সেই লুক ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটি বিজ্ঞাপন ঘিরেই শুরু হইয়েছে এই আলোচনা। মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই শাকিবকে দেখা গেছে ছয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রে, যা দেখে বিস্মিত ভক্ত-অনুরাগীরা।

সম্প্রতি নতুন টিভিসিতে কাজ করেছেন শাকিব খান। বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছেন দেশের আলোচিত পরিচালক আদনান আল রাজীব। পুরো বিজ্ঞাপনচিত্রটির দৈর্ঘ্য ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ড হলেও তার মধ্যে মাত্র এক মিনিটেই দেখানো হয়েছে সুপারস্টারের ছয়টি আলাদা রূপ। এই ছয় লুকের প্রতিটিই ছিল আলাদা প্রেক্ষাপট, আলাদা চরিত্র ও আলাদা ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি।

বিজ্ঞাপনের সব লুকের কস্টিউম ডিজাইন করেছেন ডিজাইনার সাফিয়া সাথী। এই ডিজাইনার নিজেই তার ফেসবুক পেজে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, কাজটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং কারণ শাকিব খানের মতো সুপারস্টারের ছয়টি আলাদা লুক তৈরি করা সহজ নয়। তার ওপর ওয়েডিং সিজনের ব্যস্ততার মধ্যে মাত্র পাঁচ দিনের প্রস্তুতিতেই সম্পন্ন করতে হয়েছে পুরো কস্টিউম পরিকল্পনা।

শুটিং সেটের ক্যাজুয়াল-ফর্মাল লুক : মরচে কমলা রঙের জ্যাকেট, সাদা টি-শার্ট, মিলিয়ে সাদা প্যান্ট ও স্নিকার্স এই লুকে শুটিং সেটের একজন স্টাইলিশ অভিনেতা হিসেবেই দেখা যায় তাকে। নতুন সিনেমার জন্য রাখা গোঁফ লুকটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।

বিমানের আকর্ষণীয় ক্যাপ্টেন : নেভি ব্লু স্যুটে সোনালি ডিটেইলিং, সাদা শার্ট, ক্যাপ এবং সানগ্লাস এই লুকে শাকিব খান একজন ক্যাপ্টেন। বিলাসী অথচ শৈল্পিক এই লুকটি নেটিজেনদের বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে।

তীর-ধনুক হাতে দক্ষ শ্যুটার : জার্সি, ট্র্যাক প্যান্ট এবং স্নিকার্স পরে শ্যুটিং গ্রাউন্ডে হাজির শাকিব। তার গেটআপ ও অ্যাটিটিউডে স্পোর্টস পারসোনার বিশ্বাসযোগ্যতা স্পষ্ট।

স্মার্ট টকশো হোস্ট : কালো শার্ট ও ব্রাউন স্যুটের সমন্বয়ে তৈরি এই লুকে শাকিবকে আরও পরিণত, আত্মবিশ্বাসী এবং স্টাইলিশ মনে হয়েছে। বিশেষ মনোযোগ কেড়েছে তার চুলের স্টাইল।

বৃদ্ধ কাজির লুক : এই ছিল বিজ্ঞাপনের সবচেয়ে আলোচিত রূপ। সাদা দাড়ি, মিলিয়ে পাগড়ি ও সোনালি কারুকাজ করা শেরওয়ানি এই লুকে শাকিব যেন সম্পূর্ণ রূপান্তরিত। অনেকেই প্রথমে চিনতেই পারেননি তিনি কে।

আইনস্টাইনের লুকে শাকিব :আইনস্টাইন- অনুপ্রাণিত শিক্ষকের রূপে এরপর পর্দায় হাজির হন শাকিব খান। ধূসর রঙের স্যুটের সঙ্গে সাদা শার্ট ও কালো টাই—পুরো সাজেই ফুটে উঠেছে এক শান্ত, জ্ঞানী শিক্ষকের ভাব। আর তার বিশেষ হেয়ারস্টাইল স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, এই লুকের পেছনে কিংবদন্তি বিজ্ঞানীর ছোঁয়া রয়েছে।

ফাইনাল লুকে মেগাস্টার শাকিব : শেষ লুকে তিনি যেন তার নিজেরই আরও গ্ল্যামারাস সংস্করণ। কালো ব্লেজারে উড রুট ব্যবহার এবং আন্ডারওয়াটার থিমের হাতে করা বিডসওয়ার্ক সব মিলিয়ে ছিল এক অপরূপ আর্টওয়ার্ক। ডিজাইনার সাফিয়া সাথী জানান, এই লুকটি তৈরি করতে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিবের সব লুক নিয়েই অভিনেতার ভক্তদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। বিজ্ঞাপনটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, এটি হয়তো শাকিবের নতুন সিনেমা ‘সোলজার’-এর কোনও লুক। তবে একে একে তার ৬টি লুক সামনে আসতেই পুরো বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যায়। মাত্র ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে চমৎকার সব লুকের সনবগে মানিয়ে গিয়ে অভিনেতার ভক্তদের প্রশংসা পাচ্ছেন।

গল্প লিখেছেন মেজবাহ উদ্দিন সুমন, চিত্রনাট্য করেছেন তিনি ও মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। পরিচালক জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুটিং শুরু হবে। আগামী ঈদে মুক্তির লক্ষ্যেই এগিয়ে যাবে কাজ।

বর্তমানে শাকিব ব্যস্ত আছেন ‘সোলজার’ সিনেমার শুটিং নিয়ে। এটি বানাচ্ছেন সাকিব ফাহাদ। এই নির্মাতারও এটি প্রথম সিনেমা। দেশপ্রেমকে উপজীব্য করে তৈরি হয়েছে সোলজার সিনেমার কাহিনি। বাস্তবতা, সংগ্রাম আর আশাবাদের গল্প বলবে সোলজার।

এতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন তানজিন তিশা ও জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। আরও আছেন তারিক আনাম খান, তৌকীর আহমেদ প্রমুখ। সোলজারের শুটিং শেষ করে শাকিব শুরু করবেন প্রিন্স সিনেমার শুটিং।


 

জীবনে আর কখনোই খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন করবো না: ডা. এজাজ

জীবনে আর কখনোই খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন করবো না: ডা. এজাজ

 


শোবিজের জনপ্রিয় মুখ ডা. এজাজুল ইসলাম। যিনি ডা. এজাজ নামেই বেশি পরিচিত। বৈচিত্রময় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয় জয় করেছেন তিনি। বিশেষ করে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বহু নাটক ও সিনেমায় তার চরিত্রগুলো এখনো দর্শকদের আনন্দ দেয়। সম্প্রতি এই অভিনেতা জানালেন বাজে এক অভিজ্ঞতার কথা। প্রকাশ করলেন ক্ষোভও।

খাঁটি-ঘি নামে একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে যুক্ত থাকার পর ভোক্তা অধিদপ্তরে তলব এবং গ্রাহকদের প্রতারণার অভিযোগে হতাশ হয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, জীবনে আর কখনও খাদ্যপণ্যের কোনো বিজ্ঞাপন করবেন না।

একজন ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতা গণমাধ্যমকে জানান, অনলাইনে নানা বিজ্ঞাপন দেখেও তিনি ভরসা পাননি। কিন্তু ডা. এজাজকে ঘিয়ের প্রচার করতে দেখে বিশ্বাস করে কিনেছিলেন। পরে পণ্যের মান নিম্নমানের হওয়ায় প্রতারণার শিকার হন। এমন অভিযোগ দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

এই পরিস্থিতিতে ভোক্তা অধিদপ্তরে ডেকে পাঠায় ডা. এজাজকে। তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালক তাকে পণ্যের গায়ে বিএসটিআই লোগো দেখান। তাই তিনি ধরে নিয়েছিলেন, পণ্যটি পরীক্ষিত ও মানসম্মত।

যদি প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই ভেজাল পণ্য দিয়ে থাকে, তবে ভোক্তা অধিদপ্তর যেন তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়- বললেন এজাজ। এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ দায়েরের পরও বিজ্ঞাপনটি এখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার হচ্ছে। বিষয়টি বন্ধে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কথা বলেও কোনো ফল পাননি তিনি।

তিনি বলেন, বলেছি যে বিজ্ঞাপন বন্ধ করুন, মানুষকে আর প্রতারণা করবেন না। কিন্তু তারা শুনছে না। বিষয়টি ভোক্তা অধিদপ্তরকে জানিয়েছি।

সবশেষে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে ডা. এজাজ বলেন, ‘এই ঘটনার পর স্থির সিদ্ধান্ত নিয়েছি-জীবনে আর কখনই খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন করবো না। মানুষের ভরসাকে কেউ যেন আর ব্যবহার করতে না পারে।’


মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন মেক্সিকোর ফাতিমা বোশ

মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন মেক্সিকোর ফাতিমা বোশ

 

সপ্তাহজুড়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই মিস ইউনিভার্স ২০২৫-এর মুকুট উঠল মেক্সিকোর ফাতিমা বোশের মাথায়। ২৫ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মী প্রাক-আয়োজনে এক বৈঠকে থাইল্যান্ডের এক পেজেন্ট ডিরেক্টরের প্রকাশ্য বকুনি পাওয়ার পর থেকেই দর্শকদের কাছে অন্যতম ফেভারিট হয়ে ওঠেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন প্রতিযোগী ওয়াকআউটও করেন।

গত বছরের বিজয়ী ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া কেয়ার থেইলভিগের কাছ থেকে মুকুট গ্রহণ করেন বোশ।

প্রথম রানার-আপ হন থাইল্যান্ডের প্রাভিনার সিং। এরপর অবস্থান করেন ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আবাসালি, ফিলিপাইনের আথিসা মানালো এবং আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াসে।

বিউটি পেজেন্টের “সুপার বোল” হিসেবে পরিচিত মিস ইউনিভার্সের প্রতিটি আসর দেখতে বসেন লাখো দর্শক। এবার থাইল্যান্ডে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা।

প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন নাদিন আয়ুব; তিনি সেরা ৩০ পর্যন্ত জায়গা করে নেন। ফাইনাল শো সঞ্চালনা করেন মার্কিন কমেডিয়ান স্টিভ বার্ন, আর ওপেনিং পারফরম্যান্স ছিল থাই গায়ক জেফ স্যাচুর।

সুইমস্যুট রাউন্ড শেষে সেরা ৩০ থেকে বেছে নেওয়া হয় ১২ জনকে। পরে ইভনিং গাউন রাউন্ডের পর নির্বাচিত হয় চূড়ান্ত পাঁচজন।

ফাইনালে প্রতিযোগীদের সামনে রাখা হয়—জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কোন বৈশ্বিক ইস্যু তুলে ধরবেন এবং তরুণী মেয়েদের অনুপ্রাণিত করতে মিস ইউনিভার্স প্ল্যাটফর্ম কীভাবে ব্যবহার করবেন—এসব প্রশ্ন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে বোশ বলেন, “নিজের সত্যিকারের সত্তার শক্তিতে বিশ্বাস রাখুন। আপনার স্বপ্ন মূল্যবান, আপনার হৃদয় মূল্যবান। কাউকে কখনো আপনার মূল্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি করতে দেবেন না।”

তিন সপ্তাহব্যাপী আয়োজনে প্রতিযোগীরা থাইল্যান্ডজুড়ে রিহার্সাল ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেন।

বুধবারের ন্যাশনাল কস্টিউম শোতে প্রতিযোগীরা তাঁদের দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরেন।

বিতর্কে মিস ইউনিভার্স আয়োজন

এবারের প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নানা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে জোর সমালোচনা হয়। মাসের শুরুতে হওয়া ওয়াকআউট নতুন করে প্রশ্ন তোলে নারীর ক্ষমতায়নের দাবি নিয়ে আয়োজকদের অবস্থান সম্পর্কে।

এক লাইভ ব্রিফিংয়ে মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ডের ডিরেক্টর নাওয়াত ইৎসারাগ্রিসিল অভিযোগ করেন—বোশ নাকি পর্যাপ্ত প্রোমোশনাল কনটেন্ট পোস্ট করছেন না। যদিও তিনি ‘ডামহেড’ বলার অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবুও স্বীকার করেন যে ‘ড্যামেজ’ করার অভিযোগ তিনি তুলেছিলেন।

আপত্তি জানালে তিনি নিরাপত্তাকর্মী ডেকে বোশকে বের করে দিতে বলেন, আর তাতেই অন্য প্রতিযোগীরা সংহতি জানিয়ে বের হয়ে আসেন।

এ ঘটনা আন্তর্জাতিক সমালোচনা ডেকে আনে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম নাওয়াতের বক্তব্যকে “আক্রমণাত্মক” বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, বোশ বিষয়টি “মর্যাদার সঙ্গে” সামলেছেন। পরে মিস ইউনিভার্স সংস্থা নাওয়াতের দায়িত্ব সীমিত করে এবং এক স্বাগত অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষমাও চান।

অন্যদিকে, মিস ইউনিভার্স ১৯৯৬ আলিসিয়া মাচাডো একটি ইনস্টাগ্রাম লাইভে নাওয়াতকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য ও অপমানজনক ইশারা করায় তাকেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।