The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
মাথায় হেলমেট, হাতে লাঠি—সংঘর্ষে নেতৃত্বে যুবদল নেতা নয়ন

মাথায় হেলমেট, হাতে লাঠি—সংঘর্ষে নেতৃত্বে যুবদল নেতা নয়ন

রাজধানীর আলিয়া মাদরাসা মোড়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের সময় যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নকে ঘটনাস্থলে সক্রিয়ভাবে অবস্থান করতে দেখা গেছে। সাদা পাঞ্জাবি, মাথায় হেলমেট এবং হাতে জিআই পাইপ নিয়ে তাকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৫টার পর আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পৃথক সংঘর্ষের জেরে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ চলাকালে রবিউল ইসলাম নয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান নেন এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে তাদের সংগঠিত করার চেষ্টা করেন।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তাকে বলতে শোনা যায়, “তারা (শিবির) গুলি করছে, আপনারা কিছু করছেন না কেন?”

জানা গেছে, রবিউল ইসলাম নয়ন বর্তমানে যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আলিয়া মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চের প্রস্তুতি নিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চের প্রস্তুতি নিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে নতুন ধাপে নিতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জোটের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের ২৯ বা ৩০ আগস্ট থেকে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ শুরু করার প্রস্তাব লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচির রূপরেখাও ওই বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, লংমার্চের পাশাপাশি বিভাগীয় পথসভা, জনসভা, রাজধানীতে মহাসমাবেশ, জাতীয় সেমিনার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন–পরবর্তী সময় থেকেই জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে ১১ দলীয় ঐক্য। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি শেষ করে জোটটি।

এরপর ৩০ জুলাই রাজধানীর মিন্টো রোডে অনুষ্ঠিত লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে আন্দোলনের নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ, রাজধানীতে মহাসমাবেশ এবং বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে খুলনা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি রুটে একাধিক পথসভা ও জনসভা আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন বলেন, লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে লংমার্চের প্রস্তাব এসেছে। শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে অনুমোদন হলে সময়সূচি ও রুট চূড়ান্ত করা হবে।

জোটের নেতারা জানান, আগে অক্টোবরে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা থাকলেও লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সেটি নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় মাঠে থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে এ কৌশলের মূল লক্ষ্য।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের ভাষ্য, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, লোডশেডিং, গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান এবং জনভোগান্তি—এসব বিষয়ও আন্দোলনের অন্যতম ইস্যু হিসেবে সামনে আনা হবে।

জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ধারাবাহিক কর্মসূচিতে জনগণের ইতিবাচক সাড়া মিললেও সরকার এখনো দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করতে লংমার্চ, মহাসমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্তের পর পর্যায়ক্রমে সেগুলো ঘোষণা করা হবে।

নরসিংদীর পলাশে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গুলি ও হামলা, আহত অন্তত ১০

নরসিংদীর পলাশে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গুলি ও হামলা, আহত অন্তত ১০

 

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনাহাটা ফকিরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফকিরবাড়ি এলাকার আওলাদ, মহসিন, সানি ও সবজু মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই শনিবার রাতে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার সময় মাসুম, মামুন, জয়নাল আবেদীনসহ কয়েকজন একটি মুদি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়।

হামলায় ছাত্রদল নেতা মাসুম গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।

আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বগুড়ায় এনসিপি নেতাদের ব্যানারে আগুন দিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

বগুড়ায় এনসিপি নেতাদের ব্যানারে আগুন দিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা ছাত্রদল। বিক্ষোভ শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ছবিসংবলিত একটি ব্যানার ও কুশপুত্তলিকায় আগুন দেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ থেকে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাতমাথায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা সাতমাথার সপ্তপদী মার্কেটের ওপর টানানো এনসিপির নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার নামিয়ে আগুন দেন। এ সময় একটি কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।

সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান অভিযোগ করেন, এনসিপির কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি এনসিপির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান ছাত্রদলের নেতারা।

সত্য প্রকাশে আপস না করার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের

সত্য প্রকাশে আপস না করার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের


বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ এবং সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। সত্য প্রকাশে আপস না করাই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

শনিবার সিলেটের বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহ মসজিদ কমপ্লেক্সে দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ৩৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দৈনিক জালালাবাদ যেন কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র না হয়ে জনগণের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে। নীতিগত অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রতিকূলতার মুখে পড়লেও সত্য প্রকাশ থেকে সরে না আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোনো সংবাদ যদি তার ব্যক্তিগতভাবে বা তার দলের বিরুদ্ধেও যায়, তবুও সত্য প্রকাশে যেন গণমাধ্যম পিছপা না হয়। একটি সংবাদমাধ্যম নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরতে পারলেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

সমাজে আস্থার সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষে মানুষে বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তব্যের শেষে তিনি দৈনিক জালালাবাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের গণমাধ্যমে সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার ধারা আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, দৈনিক জালালাবাদের সম্পাদক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মির্জা আব্বাস

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মির্জা আব্বাস

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।



নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

 

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপিও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছিল। ফলে ঘটনাটি ঘিরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই বিকেলে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকায় এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর দাবি, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শোকসভায় অংশ নিতে গেলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ অভিযুক্তরা হামলা চালান। এতে জেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় কয়েকটি আইফোন, একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

মামলার নামীয় আসামিরা হলেন—নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, নুর আলম চৌধুরী, ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, নাহিদ উদ্দিন তারেক, আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

অন্যদিকে, একই ঘটনার পর এনসিপিও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। তাদের একজন একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। একই ঘটনায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়।

এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য একটি ভবনে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং পুলিশি নিরাপত্তায় মৌলভীবাজারে পৌঁছে দেয়।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এদিকে, জেলা ছাত্রদলের নেতারাও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের দায়ের করা পাল্টাপাল্টি মামলা ও অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দেশে আবারও ভয়ের সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

দেশে আবারও ভয়ের সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম


দেশে আবারও ভয়ের সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আন্দোলন দমনে বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে রাস্তা অবরোধ করা শেখ হাসিনা সরকারের কৌশলের পুনরাবৃত্তি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ডিএসএ) ব্যবহার করে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করেছিল। বর্তমান সরকারও একই ধরনের পথ অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা ও বাধার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন করতে বলপ্রয়োগ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তির বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, ‘ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত হলে নব্য ফ্যাসিবাদ আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি যদি ঢাকার মাটিতে পা রাখেন, তখন দেখা যাবে।’

এর আগে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা এবং মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে পৌঁছান। দক্ষিণ সুরমার পারাইচক বাইপাস এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীরা তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

পরে তারা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আলোচনা সভায় অংশ নেন।

সিলেটে সারজিস আলমের গাড়িতে আবারও হামলার অভিযোগ, কাঁচ ভাঙার কথা বলছে পুলিশ

সিলেটে সারজিস আলমের গাড়িতে আবারও হামলার অভিযোগ, কাঁচ ভাঙার কথা বলছে পুলিশ

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িতে আবারও হামলার অভিযোগ করেছে দলটি। বৃহস্পতিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, গোলাপগঞ্জ থেকে সিলেটে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা সারজিস আলমের গাড়িতে হামলা চালায়।

সারজিস আলমও নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, সিলেটের পাঁচ মাইল বাজার এলাকায় দ্বিতীয় দফায় তাদের বহরে হামলা চালানো হয়েছে। তার ভাষ্য, এতে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় ভিন্ন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। সিলেট জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গোলাপগঞ্জে কর্মসূচি শেষে কানাইঘাটের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে সারজিস আলমের গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়, তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল এনসিপি। যদিও বিএনপি হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

হবিগঞ্জে হামলা ও ১৪৪ ধারার প্রতিবাদে ঢাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ

হবিগঞ্জে হামলা ও ১৪৪ ধারার প্রতিবাদে ঢাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ

 

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা, কেন্দ্রীয় কর্মসূচিকে ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি এবং পুলিশি বাধার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

বুধবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী অভিযোগ করেন, ভিন্নমত দমনে বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী সরকারের পথ অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, “তারেক রহমানের মধ্যে শেখ হাসিনা হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ভিন্নমত দমনে হাসিনার কায়দায় তারা বালুর ট্রাক দিয়ে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল আটকানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু যারা ১৭ বছরের দানবীয় শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে, তাদের বালুর ট্রাক দিয়ে আটকানো যাবে না। তারেকের নামে হোক বা হাসিনার নামে—এ দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেওয়া হবে না।”

দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বিষয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে, রাজধানীর অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক নয় এবং শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে তাদের যে পরিকল্পনা ছিল, গত পাঁচ মাসে তা স্পষ্ট হয়েছে। কীভাবে মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যায় এবং সভা-সমাবেশে হামলা করা যায়, সেটিই তারা দেখিয়েছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলকে ব্যবহার করে সহিংসতা সৃষ্টি করছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ বালুর ট্রাক দিয়ে আন্দোলন দমাতে পারেনি, আপনারাও খালি ট্রাক দিয়ে পারবেন না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে যে গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ ঘটেছে, তা আপনারা বুঝতে পারছেন না।”

তিনি আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে হামলা ও দমন-পীড়নের পথ অনুসরণ করা হলে সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়া এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

জামায়াতের এক এমপিকে ঘিরে ভিডিও ভাইরাল, তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি

জামায়াতের এক এমপিকে ঘিরে ভিডিও ভাইরাল, তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে আলোচনায় থাকা সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভিডিওতে দেখা তরুণী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ অর্থ আদায় করে এবং পরে আরও টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সঙ্গে তার গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ জড়িত। পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি গোপনে স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ করেন এমপি।

গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা নয়; বরং বৈধ দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত মুহূর্তকে অপপ্রচারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, চলতি বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই মরিয়ম বেগমের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ বিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের উপস্থিতিতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এদিকে, মঙ্গলবার সকালে জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি দলের নজরে এসেছে। এমপি তাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই এই বিয়ে হয়েছে।

অন্যদিকে, গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম পৃথক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, তাদের পারিবারিক সম্মতিতেই এই বিয়ে হয়েছে। তারা ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম।

জুলাই জাতীয় সনদ প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি: রুহুল কবির রিজভী

জুলাই জাতীয় সনদ প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি: রুহুল কবির রিজভী

 

জুলাই জাতীয় সনদকে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এ সনদকে বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা এবং ন্যূনতম ঐকমত্য প্রয়োজন।

সোমবার রাজধানীর উত্তরায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিটি) আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতি’ এবং ‘তারুণ্যের স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে প্রয়োজন হলে নতুন প্রস্তাব বা সংশোধনী যুক্ত করা যেতে পারে। আলোচনার মাধ্যমে যেসব বিষয় আইনে পরিণত করা প্রয়োজন, সেগুলো সংসদে পাস করতে হবে এবং সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলে সেটিও সম্পন্ন করতে হবে। এর মাধ্যমেই জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির পুনরুত্থানের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আইনগত পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া জরুরি।

বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ কিছুটা ফিরে এসেছে। এখন সরকারকে সমালোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আগের তুলনায় বিস্তৃত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্তত কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সমঝোতা থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আবারও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং সেই চেতনা ধারণ করেই রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তার মতে, এসব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং সংস্কার উদ্যোগ অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি), এবি পার্টির নেতা আবু সাঈদ চঞ্চল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।

রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম ও সততার সাথে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম ও সততার সাথে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

 তিনি বলেন, সিভিল সার্ভিস রাষ্ট্রের প্রধান চালিকাশক্তি। বিগত ১৭ বছরের প্রশাসনিক রাজনীতিকরণের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জনপ্রশাসনকে জনগণের প্রকৃত সেবকে রূপান্তরিত করতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জনগণের সুউচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে এবং তা পূরণে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে 'জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬' উপলক্ষ্যে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি আয়োজিত “দক্ষ, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন: সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কর্মকৌশল” শীর্ষক চার দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুখ্য আলোচক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

 মন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক কর্মশালা বা উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, যদি না তা জনগণের প্রকৃত কল্যাণে আসে। সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনারা এ সমাজের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত একটি অংশ। তাই নিজেদের শাসক মনে না করে জনগণের সেবক হিসেবে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।"

 দেশে সঠিক নীতি প্রণয়নের স্বার্থে পরিসংখ্যান ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত রেজিমের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের সব পরিসংখ্যান ধ্বংস করা হয়েছে। আদমশুমারি, কৃষি উৎপাদন কিংবা পার ক্যাপিটা ইনকাম (মাথাপিছু আয়)—সবখানেই ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সঠিক নীতি প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (BBS) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় রূপান্তরিত করা দরকার।

 দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে কৃষি ও রেমিট্যান্স খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনও কৃষি ও কৃষকদের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। তাই আমাদের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর ভিত্তি করে 'এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি' বা কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং বা কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সাথে দেশের ক্রমবর্ধমান জন্মহার নিয়ন্ত্রণে ফ্যামিলি প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টকে পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়টিও সরকারের ভাবনায় রয়েছে।

 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নীতি বা পলিসি মূলত সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এবং রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের আলোকে প্রণীত হয়। ব্যুরোক্রেসির কাজ হলো সেই নীতির আলোকে কর্মসূচি (Programming) নির্ধারণ, প্রকল্প প্রণয়ন ও আইএমইডি (IMED)-র তদারকির মাধ্যমে প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "নিয়মের বাইরে কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না। নির্বাচিত সরকারের যে নির্বাচনী ইশতেহার এবং ৩১ দফা অঙ্গীকার রয়েছে, যার ওপর জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা বিধি মোতাবেক বাস্তবায়ন করাই আপনাদের মূল দায়িত্ব।"

শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি নাহিদ ইসলামের

শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি নাহিদ ইসলামের

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার দেখেছি, যিনি ডিসেম্বরে দেশে আসবেন আত্মসমর্পণ করবেন। আমরা জানি ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের মাস। ডিসেম্বরেই সবাই আত্মসমর্পণ করে। তো শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসবে কি, কবে আসবে এটা বাংলাদেশ সরকারকে নির্ধারণ করতে হবে। তিনি আসবেন এবং তাকে আসা মাত্রই এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং তার রায় কার্যকর করা হবে।’

 

বুধবার (১৫ জুলাই) জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজিত ‘স্মৃতিগাঁথায় জুলাই বিপ্লবের দিনগুলি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করা হয়েছে যে শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলার সময় একটা উনার স্বভাবসুলভভাবে একটা নোক্তা রেখেছেন, একটা ফাঁদ রেখেছেন। যে আপিল করা যাবে কিনা, সেটা আইন ব্যবস্থা নেবে। আপিল করা যাবে না। তিনি আসা মাত্র এই দেশে। ফলে আমরা বিচারের ব্যাপারে অগ্রগতি চাই, এই সরকারের কাছ থেকে। শেখ হাসিনার মামলার রায় যখন হয়েছে, আপিল করার সুযোগ ছিল ৩০ দিন। সেই ৩০ দিনে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কেউ আপিল করে নাই। ফলে শেখ হাসিনার মামলার রায়ে কোনো আপিলের সুযোগ নাই। এবং আমরা সুপ্রিম কোর্ট, মহামান্য আদালত, কমপ্লিট জাস্টিস হিসেবে শেখ হাসিনার যে ফাঁসির রায়, সেই রায়কে বহাল রেখে সেটাকে কার্যকরের ঘোষণা দেবে।’

 

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও উপাচার্য নিয়োগে সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।’

 

১৫ জুলাইয়ের ঘটনাবলির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ওই দিনের হামলাকারীদের তালিকা প্রকাশ এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষক ওই হামলাকে সমর্থন বা বৈধতা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

 

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘জুলাই নিয়ে অবশ্যই রাজনীতি করতে হবে। কারণ নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে জুলাইয়ের রাজনীতি। আমরা আর স্বৈরতন্ত্রে ফেরত যাব না। আমরা গণতন্ত্রে যাব। বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ চাই। আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ চাই। আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ চাই।’

 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন– এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল আমিন, আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব মাহীন সরকার, যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি হলে দেশ সংঘাতের দিকে যেতে পারে

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি হলে দেশ সংঘাতের দিকে যেতে পারে

 

সরকার গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন নিয়ে অহেতুক কালক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে দেশ আবারও সংঘাতের দিকে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

আজ সোমবার বিকেলে ফেনী শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন সেন্টারে ১১ দলীয় জোট ফেনী জেলার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, মানুষ তাজা প্রাণ আর রক্ত দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করেছে, কিন্তু দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান সরকার সে কথা ভুলে যাচ্ছে। জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণ করছে। তাঁর মতে, বিএনপির মুখে এক আর অন্তরে ভিন্ন রূপ দেখতে পাচ্ছে জনগণ।

তিনি আরও বলেন, সরকার মানুষের গণভোটের গণরায়কে না মেনে নিজেরাই জাতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখনো সময় আছে পার্লামেন্টে আলোচনা করুন, সংবিধান সংস্কারের বিশেষ কমিটি গঠন করুন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিশেষ বৈঠক ডাকুন। এটি সংসদে নিষ্পত্তি না করে রাজপথে নিয়ে যেতে চাইলে বিরোধী দলগুলোকে এক করে অথবা গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের রক্তের সাথে গাদ্দারি করে দিল্লির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেশ চালানো কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এখনও লক্ষ-কোটি শহীদ ওসমান হাদিরা পাড়ায়-মহল্লায় লাল-সবুজের পতাকা এবং এ দেশের আজাদী ও স্বাধীনতা পাহারা দিচ্ছে। এই আজাদির পাহারা থেকে এ দেশের কোটি কোটি যুবককে কোনোভাবেই বিচ্যুত করা যাবে না।

জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউসুফ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির জেলা সদস্য সচিব অধ্যাপক ফজলুল হক।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহসেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, এবি পার্টির জেলা সভাপতি মাস্টার আহসান উল্লাহ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম।

এছাড়াও এনসিপির জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, জেলা বিডিপি সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইসমাইল, জেলা জাগপা সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান ও শহর সভাপতি সফিকুল ইসলাম এতে বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : আমার সংবাদ

‘স্বাগতম শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন’—আসিফ নজরুল

‘স্বাগতম শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন’—আসিফ নজরুল

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার’ পরিকল্পনার কথা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখে শোনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে শেখ হাসিনাকে বিলম্ব না করে অবিলম্বে দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার আগেই ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছিল। একইভাবে বর্তমান বিএনপি সরকারও তাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে দেশে এনে আইনের আওতায় বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে। অন্যদিকে শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সত্যিই ফেরার ইচ্ছা থাকে, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন কী? তার ভাষায়, ‘শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন।’

পোস্টে আইন উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ এবং আদালতের সামনে শেখ হাসিনার অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার রয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় তার অবস্থান কী ছিল, সেটি ব্যাখ্যা করতে হবে। পাশাপাশি বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, আয়নাঘর, ব্যাপক দুর্নীতি, অর্থ পাচারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত রাখার কারণ এবং বাংলাদেশকে ভারতের ওপর অতিনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার অভিযোগ সম্পর্কেও জনগণ ও আদালতের কাছে জবাব দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশে পাঠিয়ে দিলেও আওয়ামী লীগের অসংখ্য সাধারণ নেতা-কর্মীকে রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাদের অনেকেই এখনও বিভিন্ন মামলায় জড়িত কিংবা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাই যদি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সত্যিই চূড়ান্ত হয়ে থাকে, তাহলে আর সময়ক্ষেপণ না করে ফিরে এসে আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, যদি বাস্তবে দেশে ফেরার কোনো পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে বারবার ফেরার ঘোষণা দিয়ে দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত করা কিংবা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত হবে না।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তিনি ডিসেম্বরে দলের পলাতক নেতাকর্মীদের নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি আত্মসমর্পণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারত যাওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। তবে এবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো ডিসেম্বর মাসকে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের সময় হিসেবে উল্লেখ করায় বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র : আমার সংবাদ

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

 

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, আজ একটা ইন্টারভিউ দেখেছি, ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। দেশ ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরবেন ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।

বাংলাদেশে তাঁর রায় হয়ে গেছে উল্লেখ করে যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় এই গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল এসএমই ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে আসবেন, কাদের নিয়ে আসবেন বা সারেন্ডার করবেন কি করবেন না, এটি ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে। এখানে আর কোনো পক্ষ নেই। ফলে সরকারই ঠিক করবে তাঁকে কখন, কীভাবে আনবে এবং বিচারের রায় কীভাবে কার্যকর করবে। সব প্রস্তুতি নিয়েই তাঁকে আনতে হবে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাঁকে যতটুকু অনুমতি দেওয়া হয়, সে অনুযায়ী তিনি কথা বলেন। ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কীভাবে আসবেন বা বিচার হবে কি না, এসব মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ এখন কোনো রাজনৈতিক দলই নয়।

জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছে, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা বা প্রচেষ্টা হয় এবং সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ, ত্রিশ হাজার আহত ও ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্যরা সবাই প্রস্তুত আছেন।

আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। তিনি মনে করেন, এটিই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় হয়ে গেছে এবং এটি কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কেবল ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই ফিরবেন।

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন উদ্যোক্তা অংশ নেন। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাগণ বক্তব্য প্রদান করেন।


সাভারে এনসিপির সমাবেশে হামলার অভিযোগ, সংসদে ক্ষোভ আখতার হোসেনের

সাভারে এনসিপির সমাবেশে হামলার অভিযোগ, সংসদে ক্ষোভ আখতার হোসেনের

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচির সমাবেশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি এ ঘটনাকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেন।

আখতার হোসেন বলেন, জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে এনসিপি দেশব্যাপী ‘জুলাই পথযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার সাভারে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার ঠিক আগে রহস্যজনকভাবে পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অন্ধকারের মধ্যে সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতির কারণে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হন নেতারা। পরে তারা বিষয়টি জানাতে স্থানীয় থানায় যান।

আখতার হোসেন বলেন, তারা যখনই জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে কোনো কর্মসূচি পালন করেন, তখনই একটি মহল নানাভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এর আগে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, বিরোধী দলের সমাবেশের সময় কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো, কীভাবে জনসমাগমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ নির্বিঘ্নে আয়োজনের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাভারের ঘটনাকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে শালীনতা খুঁজে পাই না : পানিসম্পদমন্ত্রী

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে শালীনতা খুঁজে পাই না : পানিসম্পদমন্ত্রী

 


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে শালীনতা খুঁজে পাই না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত জনসম্পৃক্ত নদী ব্যবস্থাপনা শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ডে ওয়ান থেকে প্রধানমন্ত্রী কি কাজগুলো করছেন এবং প্রকারান্তে ওই কাজগুলো নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা যেভাবে অট্টহাসি দিচ্ছেন, অসহযোগিতা করছেন এবং বিভিন্ন ভাষায় কথা বলছেন, এটা জাতি প্রত্যাশা করতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা ছাত্র রাজনীতি করেছি, আজকে থেকে নয়, ৩৫-৪০ বছর আগে থেকে আমরা ছাত্র রাজনীতি করতে করতে আজকে এখানে এসেছি। আমাদের রক্ত, শ্রম, ঘাম, জেল, জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন; আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাসিত জীবনে ছিলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, রাজনীতির মধ্যেও শালীনতা থাকবে, রাজনীতির মধ্যেও তো শৃঙ্খলা থাকবে। অশালীন; এগুলো তো আমাদেরকে হিসাব-নিকাশের মধ্যে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা দেখলাম গতকাল ঝিনাইদহ গেলেন নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী। আমরা তো নির্বাচনের আগ থেকেই দেখি তার বয়স কী। রাজনীতির মধ্যে যে একটা শালীনতা, তার মধ্যে কি আছে? রাজনীতির মধ্যে যে একটা শৃঙ্খলা, তার বক্তব্যের মধ্যে তো আমরা খুঁজে পাই নাই। এমন এমন কথা বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কথা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবার নিয়ে কথা বলেন। ঝিনাইদহে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গিয়েছেন। কাদেরকে নিয়ে গিয়েছেন; যারা একসময় এদেশের ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছিল, যারা একসময় এদেশের ছাত্র রাজনীতির ভাবমূর্তি নষ্ট করেছিল, কালিমা লেপন করেছিল।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আজকে যারা বিরোধী দলে আছেন, তাদের ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের ধারণা নাই? আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখি নাই? আজকে তারা প্রকারান্তে ভালো ব্যবহার দেখাচ্ছেন, প্রকৃতপক্ষে ভিতরে কি তাদের ভালো ব্যবহার? এটাও তো জাতিকে বিশ্লেষণ করতে হবে, চিন্তা করতে হবে। সেজন্য বলছি, এখনো সময় আছে, অনেক লম্বা সময়। এ সময় আমাদেরকে পাড়ি দিতে হবে।

আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব

আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব

 



জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার বিএফআইইউর পক্ষ থেকে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে তিন কর্মদিবসের মধ্যে আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য নথিভুক্ত করে বিএফআইইউতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন উপদেষ্টা হয়েছিলেন। তাঁদের একজন ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। প্রথমে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন আসিফ মাহমুদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ১০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছাড়েন আসিফ মাহমুদ। তার পর থেকে তিনি এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।