The National Press ​
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রবাসীর দোকান দখলের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রবাসীর দোকান দখলের অভিযোগ

file photo

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি দোকান ও জমির মালিকানা নিয়ে প্রবাসী মো. সাইফুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুরের পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাড়াটিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দলিলের বাইরে অতিরিক্ত জমি নিজের নামে রেকর্ড করার অভিযোগ তুলে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রবাসী সাইফুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়া অভিযোগে সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি সরাইল সদরের বাসিন্দা এবং মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ২০০৫ সালের ২৮ জুন সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে সরাইল মৌজার বিএস ১৪১৭৩ দাগে এক শতক জমির মালিকানা অর্জন করেন তিনি। ওই জমিতে দোকান নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া দিয়ে আসছেন বলেও দাবি তাঁর।

সাইফুলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাঁর দোকান ও জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাড়াটিয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান বন্ধ করে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে। গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে কয়েকজন লোক নিয়ে দোকানের শাটার তালাবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে তাঁকে রাজনৈতিক মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন সাইফুল। নিজের সম্পত্তির নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতার

তবে সাইফুল ইসলামের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর। তাঁর দাবি, মৃত সিরাজুল ইসলাম ছিলেন নিঃসন্তান এবং সাইফুল তাঁর পালিত ছেলে। সিরাজুল ইসলাম জীবিত অবস্থায় নিজের অধিকাংশ সম্পত্তি সাইফুলের নামে দলিল করে দিয়েছেন।

আনিছুল ইসলাম জানান, সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী তাঁর স্ত্রীর আপন বড় বোন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আনিছুলের এক ছেলেকে ছোটবেলা থেকেই ওই নারী লালন-পালন করেছেন। বর্তমানে তাঁর ছেলেই বয়স্ক ওই নারীর দেখাশোনা করছেন। এ কারণে ওই নারী নিজের ইচ্ছায় তাঁর ছেলেকে দুটি দোকান দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

দলিলের বাইরে জমি খারিজের পাল্টা অভিযোগ

প্রবাসী সাইফুলের বিরুদ্ধে জমির পরিমাণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন আনিছুল ইসলাম ঠাকুর। তাঁর দাবি, সাফ কবলা দলিলে ২ দশমিক ৪২৫ শতক জমি উল্লেখ থাকলেও সাইফুল ২ দশমিক ৭৮ শতক জমি নিজের নামে খারিজ করিয়েছেন। একইভাবে পৈতৃক সম্পত্তির সাত শতক জমির বিপরীতে আট শতক খারিজ করার অভিযোগও করেন তিনি।

আনিছুল ইসলাম জানান, এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলেও দাবি তাঁর।

তবে জমির পরিমাণ বেশি খারিজ করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সাইফুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন স্থানের জমির হিসাব একসঙ্গে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। নিজের বাড়ি, দোকান ও অন্য স্থানের জমির হিসাব আলাদা না করে দেখানোর কারণে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাইফুলের অভিযোগ, প্রকৃত জমির হিসাব আড়াল করে তাঁর বৈধ সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

saiful_islam_complaint File


তদন্তের কথা জানাল পুলিশ সুপার

বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে জমির প্রকৃত মালিকানা, দলিলের পরিমাণ এবং খারিজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথি ও দলিলপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশি তদন্তের ফলাফল এবং ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির ওপরই বিরোধটির পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে।

​ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে কু-পিয়ে হ-ত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

​ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে কু-পিয়ে হ-ত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি (হালিমা খানম): ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেশার টাকার জন্য মারুফা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বিরাশার গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।  

​নিহত মারুফা সদর উপজেলার উলচাপাড়া গ্রামের তাহের মিয়ার মেয়ে। প্রায় এক মাস আগে কুদ্দুস মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল।  

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত স্বামী কুদ্দুস মিয়া একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি প্রায়ই নেশার টাকার জন্য মারুফাকে মারধর করতেন। গত রবিবার রাতেও কুদ্দুস তার স্ত্রীর কাছে নেশার টাকা চান। মারুফা টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে কুদ্দুস তাকে মারধর করে। সোমবার সকালে ঘরের ভেতর মারুফার কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে ঘরের ভেতর থেকে মোবাইল ফোনের রিংটোনের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকে মারুফার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।  

​পরে নিহতের পরিবার ও পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, নেশার টাকা না পেয়েই মাদকাসক্ত স্বামী কুদ্দুস তার স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।  

​ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আলম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে তার স্বামী পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি! নতুন উপজেলা প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি! নতুন উপজেলা প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন ভেঙে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো জেলা। প্রস্তাবিত এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সোমবার (সকালে) জেলা শহর ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিপুল সংখ্যক জনতা অবরোধ সৃষ্টি করেন।  

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব এবং বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নকে ভেঙে আখাউড়ার বরিসল ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করে ‘বরিসল’ নামে একটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়ার প্রস্তাব উঠে। এই প্রস্তাবের প্রতিবাদে সোমবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী মোড় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর বিক্ষুব্ধ অধিবাসীরা। এ সময় তারা মহাসড়কে কাঠ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও বিভিন্ন ক্ষুব্ধ স্লোগান দিতে থাকেন।  

​বিক্ষুব্ধ জনতা ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একটি বিশেষ রাজনৈতিক চক্রান্ত ও পরিকল্পনার আলোকেই এই নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবটি করা হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নতুন উপজেলা গঠনের সম্ভ্যাব্যতা পরিদর্শনের জন্য চিঠি পাঠালেও জেলা প্রশাসন বিষয়টিকে জনগণের কাছ থেকে গোপন রেখেছিল বলে দাবি করেন বক্তারা। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কক্ষে প্রবেশ করে এ বিষয়ে তাঁদের তীব্র অসন্তোষ জানান।  

​পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তৌফিকুল ইসলাম রোমা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ আন্দোলনকারী ৪টি ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।  

​বৈঠক শেষে নতুন উপজেলা গঠনের অবাস্তব ও অযৌক্তিক প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসকের নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।  

​এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "চারটি ইউনিয়নের অধিবাসীদের যৌক্তিক দাবি ও মতামত দ্রুততম সময়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন ও অবহিত করা হবে।"Administración জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আশ্বাসের বার্তা পাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বিক্ষোভকারীরা।  

​তবে আন্দোলনরত নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর তীব্র হুঁশিয়ারি— জোরপূর্বক বা কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যদি নতুন উপজেলার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সড়ক ও রেলপথ অবরুদ্ধ করে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে অচল করে দেওয়া হবে।

আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে: তাহসিফের বোন

আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে: তাহসিফের বোন

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর খালাতো বোন মোশফেকা জাহান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তাহসিফের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। 

‘আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে’

তাহসিফের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁর খালাতো বোন মোশফেকা জাহান। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর তাহসিফকে দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছিল।

মোশফেকার অভিযোগ, চাকরি থেকে অবসরে পাঠানোর পরও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাহসিফকে অনুসরণ করতেন বলে তিনি তাঁকে জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, বাসা থেকে ডেকে নিয়ে তাহসিফকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তের ফলাফল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। 

আলোচিত ভিডিও ঘিরে আগে থেকেই আলোচনা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যসংবলিত একটি ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে তাহসিফ সাউরির নাম বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছিল। তবে ওই ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট জানিয়েছিল, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ও নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাহসিফকে অবসরে পাঠানো হয়েছিল। তাঁকে কোনো সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক অভিযোগে অবসরে পাঠানো হয়নি বলেও সংস্থাটির বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছিল।

যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ

নৌপুলিশ সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় যায়। সেখান থেকে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহের সঙ্গে থাকা ঘড়ি ও পকেটে পাওয়া মুঠোফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

মৃত্যুর কারণ নিয়ে অপেক্ষা

তাহসিফের মৃত্যুকে ঘিরে তাঁর স্বজনদের অভিযোগ সামনে এলেও ঘটনাটিকে এখনই নিশ্চিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, তাঁর মৃত্যু দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের জন্য।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে অন্যতম চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড নিদারাবাদের সাত খুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে অন্যতম চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড নিদারাবাদের সাত খুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: সময় গড়িয়েছে প্রায় চার দশক। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিদারাবাদ গ্রামের একটি পরিবারের ওপর নেমে আসা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি আজও মুছে যায়নি স্থানীয় মানুষের মন থেকে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শশাঙ্ক দেবনাথকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এর দুই বছর পর খুন হন তাঁর স্ত্রী বিরজাবালা দেবনাথ ও পাঁচ সন্তান। ছয়জনের মরদেহ টুকরো করে দুটি লোহার ড্রামে ভরে ধুপাজুড়ি বিলে ডুবিয়ে রাখার ঘটনা সে সময় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তবে পরিবারের কর্তা শশাঙ্ক দেবনাথের মরদেহ আজও উদ্ধার হয়নি।

১৯৮৭ সালের ১৬ অক্টোবর শশাঙ্ক দেবনাথ নিখোঁজ হন। পরে তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমে উঠে আসে, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এর প্রায় দুই বছর পর, ১৯৮৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে হত্যার ঘটনা সামনে আসে। তৎকালীন নাসিরনগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের নিদারাবাদ গ্রামে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড বর্তমানে বিজয়নগর উপজেলার ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অপরাধ হিসেবে পরিচিত।

জমি নিয়ে বিরোধ থেকেই হত্যার সূত্রপাত

নিদারাবাদ গ্রামের বাসিন্দা শশাঙ্ক দেবনাথের জমি ও বাড়ির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ছিল। অভিযুক্ত তাজুল ইসলামসহ কয়েকজন দাবি করেছিলেন, শশাঙ্ক তাঁদের কাছে সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে গেছেন। অন্যদিকে, শশাঙ্কের পরিবারের পক্ষ থেকে জমি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়।

শশাঙ্ক নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী বিরজাবালা দেবনাথ স্বামীর সন্ধান এবং সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে থানায় মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, মামলা চালিয়ে যাওয়ার কারণে তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকির মুখে পড়তে হয়।

মামলার বর্ণনা ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, শশাঙ্ককে হত্যার ঘটনায় তাজুল ইসলামকে প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই পরবর্তী সময়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

সীমান্তে নেওয়ার কথা বলে শশাঙ্ককে হত্যা

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাজুল ইসলাম শশাঙ্ককে হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনার বিবরণ দেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, একদিন ভোরে তিনি ও তাঁর জামাতা ইনু মিয়া শশাঙ্কের বাড়িতে যান। তাঁকে জানানো হয়, তাঁর মেয়ের জামাই মনা দেবনাথ ভারত সীমান্তে অপেক্ষা করছেন। এ কথা বিশ্বাস করে শশাঙ্ক তাঁদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন।

পরে তাঁকে মাধবপুরের নিজনগর গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সীমান্ত পরিস্থিতির কথা বলে রাতে যাত্রার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়।

জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই রাতেই তাজুল ও তাঁর সহযোগীরা গামছা দিয়ে শশাঙ্কের গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে হত্যা করেন। পরে তাঁর মরদেহ ভারতের চেহরিয়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত শরণার্থীশিবিরের পাতকুয়ায় ফেলে আসা হয় বলে বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

তবে শশাঙ্কের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

একই পরিবারের ছয়জনকে হত্যার পরিকল্পনা

শশাঙ্ক নিখোঁজ হওয়ার পরও তাঁর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলতে থাকে। বিরজাবালা মামলা চালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার বিবরণে উঠে আসে।

১৯৮৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাতে বিরজাবালা দেবনাথ ও তাঁর পাঁচ সন্তানকে হত্যা করা হয়। নিহত সন্তানদের মধ্যে ছিলেন নিয়তিবালা দেবনাথ (১৭), সুভাস দেবনাথ (১৪), প্রণতিবালা দেবনাথ (১০), সুপ্রসন্ন দেবনাথ সুমন (৫) এবং সুজন দেবনাথ (২)।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে তাজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা পরিকল্পনা করেন। এ কাজে অর্থের লেনদেন, নৌকা ভাড়া এবং হত্যার পর মরদেহ গোপন করার প্রস্তুতির কথাও জবানবন্দিতে উঠে আসে।

বর্ণনা অনুযায়ী, সহযোগীরা নৌকায় করে শশাঙ্কের বাড়িতে পৌঁছে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে বিরজাবালা ও তাঁর সন্তানদের ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ধুপাজুড়ি বিলে।

সেখানে তাঁদের হত্যা করার পর মরদেহগুলো টুকরো করে দুটি লোহার ড্রামে রাখা হয়। ড্রামে চুন ও লবণ দিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে সেগুলো বিলের পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

বিলের পানিতে ভেসে ওঠে দুর্গন্ধ, প্রকাশ পায় হত্যার ঘটনা

বিরজাবালা ও তাঁর সন্তানদের নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর ধুপাজুড়ি বিল থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আবুল মোবারক নৌকায় করে বাড়ি ফেরার পথে পানিতে দুর্গন্ধযুক্ত তেল ভাসতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি নৌকা ঘুরিয়ে ওই স্থানে খোঁজ নেন।

একপর্যায়ে নৌকার নিচে কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লাগলে মাঝি পানির নিচ থেকে একটি লোহার ড্রাম তুলে আনেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ড্রামটির মুখ খোলা হলে ভেতরে তিনটি মরদেহ পাওয়া যায়।

এরপর বিলের পানিতে তল্লাশি চালিয়ে দ্বিতীয় ড্রামটিও উদ্ধার করা হয়। সেটির ভেতরেও তিনটি মরদেহ ছিল। পরে সেগুলো নিখোঁজ বিরজাবালা ও তাঁর পাঁচ সন্তানের বলে শনাক্ত করা হয়।

শশাঙ্কের একমাত্র মেয়ে সুনীতিবালা দেবনাথ সে সময় শ্বশুরবাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিচারে নয়জনের মৃত্যুদণ্ড

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং পরিকল্পিত হত্যার বিষয়টি সামনে আসে। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে নয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে তাজুল ইসলাম ও বাদশার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অন্য আসামিদের মধ্যে ২৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজন খালাস পান বলে প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাজুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল বলে জানান এলাকাবাসী। তাঁর মরদেহ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও স্থানীয়দের স্মৃতিতে রয়েছে।

দুর্গম পথ পেরিয়ে সংবাদ সংগ্রহ

হত্যাকাণ্ডের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েছিলেন সাংবাদিকেরা। তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত সাংবাদিক এবং বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোহাম্মদ আরজু, সৈয়দ মোহাম্মদ আকরাম ও দীপক চৌধুরী বাপ্পির স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে সেই সময়ের চিত্র।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা শহর থেকে নিদারাবাদে পৌঁছানো ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। কখনো রিকশায়, কখনো পায়ে হেঁটে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে হতো। সংবাদ সংগ্রহের পর তা ঢাকার সংবাদপত্রের কার্যালয়ে পাঠাতেও বর্তমান সময়ের মতো তাৎক্ষণিক যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। টেলিগ্রাম কিংবা বাহকের মাধ্যমে সংবাদ পাঠানো হতো।

সাংবাদিকদের স্মৃতিতে, সে সময় গ্রামজুড়ে মানুষের মধ্যে শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

চলচ্চিত্রেও উঠে আসে নিদারাবাদের ঘটনা

নিদারাবাদের সাত খুনের ঘটনা তৎকালীন সময়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে ‘কাঁদে নিদারাবাদ’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

ঘটনার প্রায় চার দশক পরও নিদারাবাদের মানুষের কাছে এটি শুধু একটি পুরোনো অপরাধের ঘটনা নয়; বরং জমি নিয়ে বিরোধ, একটি পরিবারের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে উত্তর না পাওয়া নানা প্রশ্নের স্মারক।

স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হলেও শশাঙ্ক দেবনাথের দেহাবশেষের সন্ধান আজও মেলেনি। সেই অসমাপ্ত অধ্যায়ই নিদারাবাদের সাত খুনের ইতিহাসকে এখনো বেদনাবিধুর করে রেখেছে।

বদলির এক মাস পরও নতুন ওসি নেই আশুগঞ্জ থানায় পুলিশি সেবা নিয়ে উদ্বেগ

বদলির এক মাস পরও নতুন ওসি নেই আশুগঞ্জ থানায় পুলিশি সেবা নিয়ে উদ্বেগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি বদলির আদেশের এক মাস পেরিয়ে গেলেও। বিদায়ী কর্মকর্তা দায়িত্ব হস্তান্তর করে চলে যাওয়ার পরও পদটিতে স্থায়ীভাবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে থানার সেকেন্ড অফিসার দুই মাসের প্রশিক্ষণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এমন পরিস্থিতিতে থানার কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের পুলিশি সেবা পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বিভিন্ন বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করেও তাঁরা প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছেন না। বিশেষ করে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরীকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় বদলি করা হয়। পরে ২ অক্টোবর তিনি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আনিসুর রহমানের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে অব্যাহতি নেন। এরপর ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো ওসি পদায়ন করা হয়নি। বর্তমানে মো. আনিসুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত ওসি হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আশুগঞ্জ উপজেলার চারতলা গ্রামের বাসিন্দা আমীর হোসেন এবং লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাদকসংক্রান্ত কয়েকটি বিষয়ে তাঁরা থানায় অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগ জানানোর পরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেরি হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

এদিকে থানার সেকেন্ড অফিসার নুর আলম দুই মাসের প্রশিক্ষণে ঢাকায় রয়েছেন। তাঁরও বদলির আদেশ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে থানার গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে দায়িত্ব বণ্টন ও নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ থানায় বর্তমানে নয়জন উপপরিদর্শক (এসআই), ১১ জন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং ৩৩ জন কনস্টেবল কর্মরত রয়েছেন। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও এ থানাকে পালন করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আটটি ইউনিয়নে বিট ও সহকারী বিট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের কারণে থানার অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় জনবলসংকটের চাপ তৈরি হচ্ছে। থানার ভৌগোলিক পরিধি ও বন্দর এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আরাফাতুল ইসলাম জানান, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আনিসুর রহমানকে ওসি হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন ওসি নিয়োগে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখভাল করেন।

নতুন ওসি পদায়ন এবং থানার জনবলসংকটের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের নিষ্পত্তি ও পুলিশি সেবা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

প্রতিবেদন: হালিমা খানম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগরে ‘সিঙ্গারবিল শান্তি মোড়া’ যুব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের যাত্রা শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগরে ‘সিঙ্গারবিল শান্তি মোড়া’ যুব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘সিঙ্গারবিল (শান্তি মোড়া) যুব কল্যাণ ঐক্য পরিষদ’। এলাকার তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করে সামাজিক উন্নয়ন, মানবসেবা ও ইতিবাচক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও স্থানীয় বিশিষ্ট সালিশকারক সায়েদুল ইসলাম খাঁন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রশিদ আবু এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য মশিউর রহমান (ইমন), মহসিন মোল্লা, মোহাম্মদ জুনায়েদ ও পাপেল।

যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে সংগঠন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রমের একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে এলাকার তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখা। খেলাধুলা ও বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুবসমাজকে ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির।

এ ছাড়া অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসায় সহযোগিতা, দুর্যোগের সময় ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রেও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে পরিষদের। মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে কর্মসূচি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও জুয়ার মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রবাসীদের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ

সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্থানীয় ও প্রবাসী যুবকদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এলাকার প্রবাসীদের অবদানকে মূল্যায়নের পাশাপাশি তাদের সহযোগিতায় স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি এলাকার পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্য বজায় রাখতে সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অতিথিরা সংগঠনের ভালো উদ্যোগগুলোতে পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার কথাও জানান।

অনুষ্ঠানে সংগঠনটির কার্যক্রমে প্রবাসীদের আর্থিক ও বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে কামরুল, সোহেল, আরিফ, আল আমিনসহ সংশ্লিষ্টদের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি এলাকার মুরুব্বি এবং বিভিন্ন বয়সী স্থানীয়দের সহযোগিতার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকদের আশা, ভবিষ্যতে সংগঠনটি সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

আয়োজনে: সিঙ্গারবিল (শান্তি মোড়া) যুব কল্যাণ ঐক্য পরিষদ, বিজয়নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

দেশজুড়ে বৃষ্টি বাড়ার আভাস, থাকবে ভ্যাপসা গরম

দেশজুড়ে বৃষ্টি বাড়ার আভাস, থাকবে ভ্যাপসা গরম

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে শুরু করলেও গরম থেকে আপাতত স্বস্তি মিলছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী কয়েকদিন দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। তবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আপাতত নেই।

সোমবার দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। নোয়াখালীর মাইজদী কোর্টে ৮০ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় এদিন ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, লঘুচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে গেলেও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বুধবার থেকে পরবর্তী দুই-তিন দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

কোথায় কেমন বৃষ্টি হতে পারে

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

পরদিনও রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বৃষ্টি হলেও থাকবে ভ্যাপসা গরম

বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অস্বস্তিকর গরম পুরোপুরি কাটবে না। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, চলতি মাসজুড়েই কমবেশি বৃষ্টির পাশাপাশি ভাদ্রের ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। আর্দ্রতা বেশি থাকলে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় শরীরে গরম বেশি অনুভূত হয়।

সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে, ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কোনো উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা নেই। ফলে বৃষ্টি বাড়লেও দেশজুড়ে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। 

যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের পর ময়মনসিংহে ২৭ পুলিশ সদস্য বদলি

যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের পর ময়মনসিংহে ২৭ পুলিশ সদস্য বদলি

ময়মনসিংহ নগরীতে যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ২৭ সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) পৃথক অফিস আদেশের মাধ্যমে জনস্বার্থে তাদের জেলার বিভিন্ন থানায় বদলি করা হয়। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বদলি হওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ১ নম্বর ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাবুব মিল্কী, চারজন উপপরিদর্শক (এসআই), পাঁচজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং ১৭ জন কনস্টেবল।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২১ আগস্ট নগরীর গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। এলাকাটি ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন। মিছিলের সময় ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই ওই ফাঁড়িতে কর্মরত সদস্যদের বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মিছিলের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২০

এদিকে ওই মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় গত চার দিনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিমন শেখ, যুবলীগ নেতা হামিদুর রহমান আকাশ, মাসুদ, সাংস্কৃতিক জোটের নেতা ফরহাদ, যুবলীগ নেতা ওবায়দুল হক এবং তানভীর ওরফে লিমন রয়েছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম জানান, ২১ আগস্টের মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়েছে। এসআই মাজহার বাদী হয়ে করা মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, মামলায় গ্রেপ্তার ২০ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বদলি হওয়া পুলিশ সদস্যদের জায়গায় দ্রুত নতুন সদস্যদের পদায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

সূত্র: ইত্তেফাক

ট্রাফিক আইন ভাঙায় ঢাকায় ১,৪৯৩ মামলা, ডাম্পিং ৪৯৯ গাড়ি

ট্রাফিক আইন ভাঙায় ঢাকায় ১,৪৯৩ মামলা, ডাম্পিং ৪৯৯ গাড়ি

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একদিনে ১ হাজার ৪৯৩টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। একই অভিযানে ৪৯৯টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৩৫টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের আটটি জোনে পৃথকভাবে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরু এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে। সেখানে মোট ৩০০টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ১১টি বাস, ২২টি ট্রাক, ৩৫টি কাভার্ডভ্যান, ৩৫টি সিএনজি ও ১৩৭টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

মতিঝিল বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭৮টি মামলা হয়েছে। এ বিভাগের অভিযানে ২৩টি বাস, দুটি ট্রাক, ১৩টি কাভার্ডভ্যান, ৫৯টি সিএনজি ও ১২৩টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এ ছাড়া উত্তরা বিভাগে ২৫৬টি এবং লালবাগ বিভাগে ২২৭টি মামলা হয়েছে। উত্তরা এলাকায় মামলার মধ্যে ছিল ২৪টি বাস, সাতটি ট্রাক, ছয়টি কাভার্ডভ্যান, ৪৪টি সিএনজি ও ১০১টি মোটরসাইকেল।

অন্যদিকে ওয়ারী বিভাগে ১৪১টি, তেজগাঁওয়ে ১০২টি, গুলশানে ৯৯টি এবং রমনা বিভাগে ৯০টি মামলা করা হয়েছে।

ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করার পাশাপাশি অভিযানে বিপুলসংখ্যক যানবাহনের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, ৪৯৯টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৩৫টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট কমানো এবং চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সড়কে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুবিতে সংঘর্ষ: সাধারণ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ছাত্রদল কর্মীদের নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা

কুবিতে সংঘর্ষ: সাধারণ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ছাত্রদল কর্মীদের নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলে ‘JCD’ লেখা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে হল প্রশাসন। তবে একই ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম হলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন সাংবাদিকও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ইলিয়াস ইসলাম শুভ ও হুমায়ূন কবীর। অন্যদিকে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ইংরেজি বিভাগের মারুফ হোসাইন ও শনব দেবনাথ এবং মার্কেটিং বিভাগের সাদেক সাকেরের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জানা যায়, আগের একটি বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছিল হল প্রশাসন। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকসহ অন্যদের স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়। বের হওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ভিডিও ফুটেজে কয়েকজনকে ইলিয়াস শুভর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়াতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় সাদেক সাকের শুভকে ধরে রাখেন এবং মারুফ হোসাইন ও শনব দেবনাথ তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে মারুফ হোসাইনের সঙ্গে হুমায়ূন কবীরেরও ধস্তাধস্তি হয়। পরে মারুফের মুখে রক্ত দেখা যায়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

মারুফ হোসাইন বলেন, সংঘর্ষে তার মাথায় আঘাত লাগে এবং দুটি সেলাই দিতে হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।

অন্যদিকে ইলিয়াস শুভর দাবি, হুমায়ূনকে ধাক্কা দেওয়ার পর পরিস্থিতি থামাতে গেলে তিনি নিজেও হামলার শিকার হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন তাকে ধরে রাখার পর মাথায় আঘাত করা হয়।

হুমায়ূন কবীর বলেন, প্রভোস্টের কক্ষেই মারুফ ও শনবের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে বাইরে আবার ধাক্কাধাক্কি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। তবে মারুফ কীভাবে মাথায় আঘাত পেয়েছেন, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।

এদিকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কারের পর ইলিয়াস ও হুমায়ূনের বিছানাপত্রসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে সাদেক সাকের বলেন, তাদের এক ছোট ভাইকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার পর তারা সেখানে থাকা জিনিসপত্র বাইরে রেখেছেন।

ঘটনার পর ইলিয়াস শুভ ও হুমায়ূন কবীরকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের শহরের একটি মেসে পাঠানো হয়েছে বলে হল প্রশাসন জানিয়েছে।

ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম হলের হাউস টিউটর মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. হারুন বলেন, প্রথম ঘটনার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তী সংঘর্ষটি তাদের সামনেই ঘটায় বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ কোনো মন্তব্য করেননি।

অভিযুক্ত শনব দেবনাথের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হল প্রশাসন।

দেশে হামের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, একদিনে ২ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, একদিনে ২ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদকদেশে হামের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮১৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষায় আরও ৬৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৮৩১ জন। এর বাইরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম—দুই হিসাব মিলিয়ে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৯৩০ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ায় ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২৭৩ জনে।

হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। গত এক দিনে নতুন করে ৮১৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪০৬ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৮৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন।

হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

৭৫ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি পেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহানা, পড়বেন AUW-তে

৭৫ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি পেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহানা, পড়বেন AUW-তে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এউডব্লিউ)-এ প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা সমমূল্যের শিক্ষাবৃত্তি অর্জন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মেয়ে সুহানা আক্তার।

এই শিক্ষাবৃত্তির আওতায় আগামী চার বছর এউডব্লিউতে পড়াশোনা করে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন তিনি।

সুহানার এই সাফল্যের খবরে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্বজনদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাবৃত্তি অর্জন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সুহানা আক্তার বাচ্চু মিয়ার একমাত্র মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার ছিল বিশেষ আগ্রহ। নিয়মিত অধ্যয়ন, কঠোর পরিশ্রম এবং লক্ষ্য অর্জনে অটুট থাকার মানসিকতাই তাকে ধাপে ধাপে এই সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সুহানার এমন অর্জনে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের কল্যাণে সুহানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।

সুহানার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কুটিগ্রাম এলাকার লেশিয়ারা গ্রামে। বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগরীর খারপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।

স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করছেন, সুহানার এই অর্জন শুধু একটি শিক্ষাবৃত্তি লাভের ঘটনা নয়; বরং স্বপ্ন, মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্ব সুহানা আক্তারের এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। একই সঙ্গে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সফল শিক্ষাজীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তারা।

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৯২৮

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৯২৮

সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৮ জনে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৯৪০ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৮৭৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মারা যাওয়া ৯২৮ জনের মধ্যে ৯৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল।

একই সময়ে সারা দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জনে। এ পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ২০৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


গুলশানের দুই স্পা-সেলুনে পুলিশের অভিযান, ২৯ নারীসহ আটক ৫৩

গুলশানের দুই স্পা-সেলুনে পুলিশের অভিযান, ২৯ নারীসহ আটক ৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের দুটি স্পা ও সেলুনে পৃথক অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৫৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে ২৯ জন নারী ও ২৪ জন পুরুষ রয়েছেন। পুলিশের দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটির আড়ালে অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ ছিল।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে গুলশান থানা পুলিশের পৃথক দল অভিযান দুটি পরিচালনা করে। গুলশান থানার রোড নম্বর ২৪-এর ‘গুলশান ওয়ান সেলুন’ এবং রোড নম্বর ৯৯-এর ‘হট স্টোন স্পা’-তে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। গোপন তথ্য যাচাইয়ের পর বুধবার রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

তবে আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা এখনো আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন বলেন, গুলশান এলাকায় স্পা সেন্টারের আড়ালে কোনো ধরনের বেআইনি কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্পা ও সেলুনকেন্দ্রিক অভিযানে নারী-পুরুষ আটকের ঘটনা ঘটেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ ব্যবসার আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদরাসাছাত্র সংঘাত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদরাসাছাত্র সংঘাত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদরাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি জেলা পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ লাইন্সের গেট ও কম্পাউন্ডে দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদরাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সে ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরও অনুষ্ঠান চলছিল।

এ সময় উচ্চ শব্দে গান বাজানোর প্রতিবাদ জানিয়ে পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সে যান। সেখানে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার এবং তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ।

আখাউড়ার কেল্লা বাবার মাজারে মিলল ১২ বস্তা টাকা, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা

আখাউড়ার কেল্লা বাবার মাজারে মিলল ১২ বস্তা টাকা, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী খরমপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ ওরফে শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজারে সাত দিনব্যাপী ওরস শেষে দানবাক্স খুলে ১২ বস্তা নগদ টাকা পাওয়া গেছে। দানের অর্থের পাশাপাশি মিলেছে সোনা, রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) মাজারের দানবাক্স খুলে এসব অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়। বর্তমানে ব্যাংক কর্মকর্তা, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে অর্থ গণনার কাজ করছেন।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা গণনা শেষে এ পর্যন্ত নগদ ১ কোটি ৩ লাখ ৬৫১ টাকা পাওয়া গেছে। তবে গণনা কার্যক্রম সম্পূর্ণ হলে মোট অর্থ ও অন্যান্য দানের চূড়ান্ত হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে মিন্টু খাদেম বলেন, এ বছর নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সোনা ও রুপাও দান হিসেবে পাওয়া গেছে।

গত ১৬ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী ওরসে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও আশেকানরা চারটি দানবাক্সে নগদ অর্থ, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা দান করেন।

এ ছাড়া মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রী মাজার কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে ‘লাইন মেইনটেন্যান্স’-এর নামে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বাংলা এডিশনের অনুসন্ধানে চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এ ধরনের অর্থ আদায়ের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইনবোর্ড এলাকায় চলাচলকারী সিএনজি থেকে ৩০ টাকা এবং অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। টাকা দেওয়ার পর যানবাহনের গ্লাসে বিশেষ ধরনের চিহ্নও দেওয়া হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে। চালকদের অভিযোগ, কয়েকজনের একটি চক্র ‘লাইন নিয়ন্ত্রণের’ কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অর্থ আদায় করছে।

অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই সড়কে প্রায় ৩০০টি সিএনজি ও ৪০০টি অটোরিকশা চলাচল করে। চাষাঢ়া ও সাইনবোর্ড—দুই প্রান্তেই অর্থ আদায়ের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে মাসে প্রায় ৮ লাখ এবং বছরে কোটি টাকার বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

তবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। আলম ও রাকিবসহ অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তারা সিএনজি থেকে টাকা নেন না; অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা নেওয়া হয় জীবিকা নির্বাহের জন্য।

অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈধ ইজারা বা অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা চক্র যানবাহন থেকে অর্থ আদায় করছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা জরুরি।

তথ্যসূত্র: বাংলা এডিশন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অটোরিকশায় ৪০ লিটার দেশীয় মদ, গ্রেপ্তার ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অটোরিকশায় ৪০ লিটার দেশীয় মদ, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে দেশীয় তৈরি মদ পরিবহনের সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় অটোরিকশা থেকে ৪০ লিটার দেশীয় তৈরি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টা ৫ মিনিটের দিকে আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের টানমান্দাইল শান্তিপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় অটোরিকশা থেকে ৪০ লিটার দেশীয় তৈরি মদ উদ্ধার করা হয়। মাদক বহনের অভিযোগে অটোরিকশায় থাকা মো. রিয়াজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রিয়াজ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কামালপুর গ্রামের মো. তাজুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দেশীয় তৈরি মদ ও অটোরিকশাটি বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

বাকশাল’ নামে গরু জবাই করে রাবিতে জুলাই জিয়াফত

বাকশাল’ নামে গরু জবাই করে রাবিতে জুলাই জিয়াফত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘জুলাই জিয়াফত’-এর আয়োজন করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে এ আয়োজন করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, ১৫ আগস্টের আয়োজনের জন্য আনা গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখা হয়েছে। সেটি জবাই করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজনটি উদযাপন করা হবে বলেও তিনি জানান।

আয়োজনে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়। রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ টাকা। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংসের খাবার এবং অন্যদের জন্য বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়।

তবে শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি রাকসুর উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে বলে প্রচার করা হলেও পরে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

বিষয়টি নিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হলেও রাকসুর সব সদস্য এ আয়োজনে একমত ছিলেন না। পরে একজন শিক্ষার্থী গরুটি উপহার দেন। তাই এ আয়োজনের সঙ্গে রাকসু আনুষ্ঠানিকভাবে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখার কারণ জানতে চাইলে আম্মার বলেন, ১৫ আগস্টকে তিনি ‘বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন’ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন। সেই কারণেই গরুটির এমন নাম রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ আয়োজনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য ও সমালোচনা করেছেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ।