ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে ‘লাইন মেইনটেন্যান্স’-এর নামে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বাংলা এডিশনের অনুসন্ধানে চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এ ধরনের অর্থ আদায়ের তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইনবোর্ড এলাকায় চলাচলকারী সিএনজি থেকে ৩০ টাকা এবং অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। টাকা দেওয়ার পর যানবাহনের গ্লাসে বিশেষ ধরনের চিহ্নও দেওয়া হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে। চালকদের অভিযোগ, কয়েকজনের একটি চক্র ‘লাইন নিয়ন্ত্রণের’ কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অর্থ আদায় করছে।
অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই সড়কে প্রায় ৩০০টি সিএনজি ও ৪০০টি অটোরিকশা চলাচল করে। চাষাঢ়া ও সাইনবোর্ড—দুই প্রান্তেই অর্থ আদায়ের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে মাসে প্রায় ৮ লাখ এবং বছরে কোটি টাকার বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
তবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। আলম ও রাকিবসহ অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তারা সিএনজি থেকে টাকা নেন না; অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা নেওয়া হয় জীবিকা নির্বাহের জন্য।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈধ ইজারা বা অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা চক্র যানবাহন থেকে অর্থ আদায় করছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা জরুরি।
তথ্যসূত্র: বাংলা এডিশন