The National Press ​
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

ভারতে কি শেষের পথে মোদি-যুগ? নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ছে প্রশ্ন

Sunday, October 18, 2026 The National Press
ভারতে কি শেষের পথে মোদি-যুগ? নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ছে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক, ছাত্রনেতাদের আটক এবং বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। অন্যদিকে, আন্দোলনে ছাত্রসংগঠন ও তরুণদের অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে। এসব ঘটনার প্রভাব নরেন্দ্র মোদি সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানে কতটা পড়বে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

১৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে ছাত্র ও তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রতিবাদ শুরু হয়। একই সময়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী পক্ষ।

দিল্লিতে ছাত্রনেতাদের আটক ঘিরে উত্তেজনা

দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় একটি কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে এবং ছাত্রনেতা নেহা বোড়াককে আটক করে পুলিশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগেও তাঁদের আটক করা হয়েছিল।

ঘটনাটি নিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবাদের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশের পদক্ষেপের পেছনে আইনশৃঙ্খলা ও অনুমতির বিষয়গুলোও বিবেচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে অভিজিৎ দীপকেকে আদালতের নির্দেশে মুক্তি দেওয়া হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং এর ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং ভোটারদের অধিকার সুরক্ষার দাবিও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্দেশ্য হলো তালিকাকে নির্ভুল করা এবং ভুল বা অযোগ্য অন্তর্ভুক্তি শনাক্ত করা। ভোটার তালিকা সংশোধনে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। 

দক্ষিণ ভারতেও প্রতিবাদের প্রভাব

দিল্লির ঘটনার পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতেও ভোটার তালিকা সংশোধনবিরোধী প্রতিবাদ হয়েছে। বাংলা এডিশনের প্রতিবেদনে তামিল চলচ্চিত্র তারকা থালাপতি বিজয় এবং তাঁর দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামের (টিভিকে) ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের প্রতিবাদে বিজয়ের দল রাজপথে কর্মসূচি পালন করেছে। একই ইস্যুতে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর অবস্থানও আলোচনায় এসেছে।

তবে বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য থেকে মোদি সরকারের পতন আসন্ন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বরং ঘটনাগুলো দেশটির নির্বাচনব্যবস্থা, ভোটার অধিকার ও রাজনৈতিক বিরোধের চলমান বিতর্ককে সামনে এনেছে।

মোদি সরকারের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ?

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সরকারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নির্বাচনী ফলাফল, জনসমর্থন, বিরোধী দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি এবং বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমান প্রতিবাদ ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অসন্তোষের একটি চিত্র তুলে ধরছে। তবে এই আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদে কতটা বিস্তৃত হবে এবং তা নির্বাচনী রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ওপর।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক ভারতের রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। তবে এটিকে মোদি সরকারের পতনের নিশ্চিত পূর্বাভাস না বলে চলমান রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করাই যুক্তিসংগত।

তথ্যসূত্র: বাংলা এডিশন