The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
গিনেস রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনাকে নিষিদ্ধের দাবির পিটিশন, ফিফার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই

গিনেস রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনাকে নিষিদ্ধের দাবির পিটিশন, ফিফার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই

 

২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটিকে ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে চালু হওয়া একটি অনলাইন পিটিশন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ‘Leave Argentina’ শিরোনামের ওই পিটিশনে ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮টি স্বাক্ষর জমা পড়েছে।

পিটিশনের উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে ফিফা ও ম্যাচ কর্মকর্তারা আর্জেন্টিনা এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। তাদের ভাষ্য, যদি কোনো দলের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সেই যুক্তিতে তারা আর্জেন্টিনাকে ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে পিটিশনের লক্ষ্য ছিল ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। তবে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সেই লক্ষ্য অতিক্রম করে স্বাক্ষরের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ইউরোনিউজ-এর তথ্য অনুযায়ী, পিটিশনটি বন্ধ হওয়ার সময় মোট স্বাক্ষরের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮

এত বিপুল সমর্থন পাওয়ায় পিটিশনটি বিশ্বের বৃহত্তম গণস্বাক্ষর অভিযানের অন্যতম হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অনলাইন বা গণস্বাক্ষর অভিযানের আনুষ্ঠানিক রেকর্ড এখনো ১৯৯৭ সালের ‘জুবিলি ২০০০’ আন্দোলনের দখলে, যেখানে ২ কোটি ৪৩ লাখেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন। ফলে নতুন এই পিটিশনটি সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনো তা অতিক্রম করতে পারেনি।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এখন পর্যন্ত এ পিটিশনকে কোনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। একইভাবে ফিফাও আর্জেন্টিনাকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা সিদ্ধান্ত জানায়নি।

পিটিশনের সমাপনী বার্তায় উদ্যোক্তারা লিখেছেন, “ফিফা আমাদের কথা শোনেনি, কিন্তু স্পেন তাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছে। ধন্যবাদ, স্পেন।” যদিও এই পিটিশনের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো জাতীয় দলকে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা একমাত্র ফিফার, এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত শৃঙ্খলা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: ইউরোনিউজ, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে

 

বিশ্বকাপের আরেকটি আসরেও নিজের গোল করার অসাধারণ ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জিতে নিলেন গোল্ডেন বুট

পুরো আসরজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়ান এমবাপ্পে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক গোল করে তিনি ফ্রান্সকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুই আসরে গোল্ডেন বুট জয় এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে আরেকটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বমঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

গোল্ডেন বুট জয়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় আরও একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার যোগ হলো ফরাসি এই তারকার।

আর্জেন্টাইনদের কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টাইনদের কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

 

দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে স্পেন। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের লড়াই শেষে স্প্যানিশরা নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি গৌরবময় অধ্যায় যোগ করেছে।

ম্যাচজুড়ে দুই দলই সমানতালে আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসে স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী এই লড়াইয়ে রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্প্যানিশরা।

অন্যদিকে ১০ জনের দল নিয়ে দীর্ঘ সময় লড়াই করেও শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। লাল কার্ডে এনজো ফার্নান্দেজ মাঠ ছাড়ার পর ম্যাচে চাপ বেড়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ওপর।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকরা। ট্রফি জয়ের আনন্দে উৎসবের রঙে রাঙিয়ে তোলে পুরো স্টেডিয়াম।

শিরোপা নির্ধারণে অতিরিক্ত সময়ে স্পেন-আর্জেন্টিনা

শিরোপা নির্ধারণে অতিরিক্ত সময়ে স্পেন-আর্জেন্টিনা

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় বিশ্বকাপ ফাইনালের শিরোপা নির্ধারণের লড়াই গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে একাধিক আক্রমণ ও সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত জালের দেখা মেলেনি।

ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে পাল্টাপাল্টি লড়াই করেছে দুই দল। রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং গোলরক্ষকদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্যই থাকে স্কোরলাইন।

এদিকে একজন খেলোয়াড় কম নিয়েও আর্জেন্টিনা দারুণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে জয়ের গোল খুঁজছে স্পেন।

ফলে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণের অপেক্ষা বাড়িয়ে ম্যাচ এখন অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেই নির্ধারিত হতে পারে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। গোল না এলে ম্যাচের ভাগ্য গড়াবে টাইব্রেকারে।

লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ

লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ

 

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বড় ধাক্কা খেল আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে কঠিন এক ট্যাকলের জেরে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ

ঘটনার পরপরই রেফারি ভিএআর পর্যালোচনা শেষে এনজোকে লাল কার্ড দেখান। ফলে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

এনজোর বিদায়ের পর আক্রমণ ও মাঝমাঠে কিছুটা চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে একজন বেশি খেলোয়াড়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিপক্ষ।

ম্যাচের ফল নির্ধারণে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

ফাইনালের মঞ্চ মাতাচ্ছেন শাকিরা

ফাইনালের মঞ্চ মাতাচ্ছেন শাকিরা

 

বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনার মধ্যেই জমে উঠেছে উদ্বোধনী সাংস্কৃতিক আয়োজন। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের সামনে মঞ্চে পারফর্ম করছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা

নিজের জনপ্রিয় গান ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের পাশাপাশি টেলিভিশন ও অনলাইন দর্শকদেরও মুগ্ধ করেন এই কলম্বিয়ান শিল্পী। বর্ণিল আলোকসজ্জা, নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা এবং আধুনিক মঞ্চসজ্জায় অনুষ্ঠানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে শাকিরার উপস্থিতি নতুন নয়। অতীতেও তিনি বিশ্বকাপের একাধিক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করেছেন। এবারও তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনা ফাইনালের আবহকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে।

গোলশূন্য প্রথমার্ধ, স্পেন-আর্জেন্টিনার জমজমাট লড়াই

গোলশূন্য প্রথমার্ধ, স্পেন-আর্জেন্টিনার জমজমাট লড়াই

 

দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথমার্ধ শেষে এখন পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি স্পেন কিংবা আর্জেন্টিনা। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও শেষ পর্যন্ত কোনো দলই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে পারেনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে লড়াই চালায় উভয় দল। মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও গোলরক্ষকদের সতর্কতায় সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

প্রথম ৪৫ মিনিটে স্পেন বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ সেগুলো সফলভাবে প্রতিহত করে। অন্যদিকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার স্পেনের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে আর্জেন্টিনাও, তবে কাঙ্ক্ষিত গোল আদায় করতে পারেনি।

ফলে নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষে ০-০ সমতায় বিরতিতে গেছে দুই দল। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খোঁজে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সমর্থকদের।


বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখেছে ব্রাজিল

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখেছে ব্রাজিল


ফিফা বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ ও তীব্র লড়াইয়ের কারণে দলটি সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় হারানোর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে।

বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা এখন পর্যন্ত ১১টি লাল কার্ড দেখেছেন, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। তালিকার পরের দিকে রয়েছে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও ইতালির মতো দল।

যদিও ব্রাজিল লাল কার্ডের তালিকায় শীর্ষে, তবুও বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল হিসেবেই নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। দলটি এখন পর্যন্ত ৫টি বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে এবং বহুবার ফাইনাল ও নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণ, অধিকসংখ্যক ম্যাচ খেলা এবং হাই-ভোল্টেজ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের কারণেই ব্রাজিলের লাল কার্ডের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি।

সূত্র: ফিফা বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান।

মেসির আবেগঘন বার্তায় কাঁদলেন লাখো আর্জেন্টিনা সমর্থক

মেসির আবেগঘন বার্তায় কাঁদলেন লাখো আর্জেন্টিনা সমর্থক

 

স্পেনের বিরুদ্ধে ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণে মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে আবেগঘন বার্তায় পুরো আর্জেন্টাইন শিবিরকে কাঁদিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মাঠ এবং মাঠের বাইরে আলবিসেলেস্তেদের এই অবিসংবাদিত নেতা আজ ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সতীর্থ ও দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন। মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় তার বার্তাটি।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মেসি লিখেছেন, এই দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিটি শুধু শিরোপা জেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং পুরো যাত্রাটাই ছিল অসাধারণ। দলের সবার সাথে প্রতিটি দিন কাজ করা, একসঙ্গে বুক চিতিয়ে লড়াই করা, কঠিন মুহূর্তগুলোতে একে অপরকে টেনে তোলা এবং প্রতিটি কদম উপভোগ করাই ছিল আসল আনন্দ। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পেছনে পর্দার আড়ালে অবদান রাখা দলের কোচিং স্টাফ এবং প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসি বলেন, জাতীয় দলটিকে একটি পরিবারে রূপান্তর করার পেছনে সবারই অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে।

বার্তার শেষাংশে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের ফল যাই হোক না কেন, নিজেদের অর্জনকে কালজয়ী হিসেবে উল্লেখ করেন আর্জেন্টিনার এই ম্যাজিশিয়ান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফাইনালে যা-ই ঘটুক না কেন, এই দলটি ইতিমধ্যেই এমন এক ইতিহাস লিখে ফেলেছে যা কেউ কোনোদিন ভুলতে পারবে না, কেউ তা মুছে ফেলতেও পারবে না। 

সূত্র: মার্কা

বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন দামও ১০ হাজার ডলার!

বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন দামও ১০ হাজার ডলার!

 

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চান? তাহলে পকেটের দিকে তাকানোর একদমই জো নেই। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ মুহূর্তের টিকিটের দাম এখন আকাশচুম্বী। বিশ্বমঞ্চের এই মহারণ গ্যালারিতে বসে দেখতে চাইলে ফুটবলপ্রেমীদের গুনতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ১০ হাজার মার্কিন ডলার! এটা রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো ঘটনাই বটে।

ফিফার অফিশিয়াল টিকিট রিসেল ওয়েবসাইটে গোলপোস্টের পেছনের মিড-লেভেল ভিউয়ের জন্য সবচেয়ে সস্তা টিকিটগুলোর দাম ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৪১১ ডলার। কিন্তু সেই টিকিটগুলোও শনিবার দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপরই আপার-ডেক কর্নারের টিকিটের দাম উঠে যায় প্রায় ১০ হাজার ডলারে। অন্যদিকে মাঠের একদম কাছাকাছি বসে খেলা দেখার সাধ যাদের রয়েছে, তাদের খরচ করতে হচ্ছে ১৬ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই টিকিটের এমন লাগামহীন দাম নিয়ে ফুটবল ভক্ত এবং পণ্ডিতরা ফিফার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। 

অনেক ফুটবল ভক্তের কাছে এটাও ইতিবাচক। কারণ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে লোভনীয় ট্রফির জন্য এই মহারণটি হতে যাচ্ছে দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি এবং লামিন ইয়ামালের প্রথম এবং সম্ভবত শেষ দ্বৈরথ। ফলে এই ম্যাচের উত্তেজনা স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি যেখানে নিজের দ্বিতীয় এবং টানা ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় আছেন, সেখানে স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল চাইছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সিংহাসনচ্যুত করে স্পেনের সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ী হতে। চলতি টুর্নামেন্টে ইয়ামাল একটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করে নিজের জাত চিনিয়েছেন। ফাইনালের এই মহাকাব্যিক মঞ্চে তিনি মেসির মুখোমুখি হতে নিজের সেরাটা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। 

বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ ঘোষণা

বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ ঘোষণা

 

২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে এবার স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। রোববার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মহারণে মাঠে নামবে দুই দল।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকা লিওনেল স্কালোনির দল ফাইনালেও তাদের পরিচিত ৪-৪-২ ছকেই খেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোলপোস্টের নিচে থাকবেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। চার সদস্যের রক্ষণভাগে দেখা যেতে পারে নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও নিকোলাস তালিয়াফিকোকে।

মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ঘিরে থাকবেন রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। মাঝমাঠের দখল ধরে রাখা ও আক্রমণ তৈরিতে এই চার ফুটবলারের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ।

আক্রমণভাগে অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে খেলতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। চলতি বিশ্বকাপে মেসি ইতোমধ্যে ৮ গোল করার পাশাপাশি ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে আলভারেজও দলকে ফাইনালে তুলতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ:

গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো।

মিডফিল্ডার: রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।

ট্রাম্পের হাত ধরে বিশ্বকাপ সফল হয়েছে: ইনফান্তিনো

ট্রাম্পের হাত ধরে বিশ্বকাপ সফল হয়েছে: ইনফান্তিনো

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকাকে প্রশংসা করে বলেছেন এবারের বিশ্বকাপ সফল হয়েছে। তিনি বলেন, এই টুর্নামেন্ট বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে একত্রিত করার লক্ষ্য পূরণ করেছে।

ইনফান্তিনো জানান, বিক্রি হওয়া টিকিট ও টেলিভিশন রেটিং প্রমাণ করে যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ প্রত্যাশা পূরণ করেছে। নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারে শুক্রবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "আমেরিকান ড্রিম বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আমরা বিশ্বকে এক করেছি।"

ট্রাম্পও বিশ্বকাপকে "ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রীড়া আসর" বলে অভিহিত করেছেন এবং স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

এর আগে ইনফান্তিনো জাতিসংঘে বক্তব্য দেন, যেখানে তিনি বিশ্বকাপকে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আমরা বিভক্ত পৃথিবীতে বাস করি, কিন্তু এই বিশ্বকাপ দেখিয়েছে যে আমাদের একত্রিত করার মতো বিষয়ই বেশি।"

এই বিশ্বকাপে রেকর্ড ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট দর্শক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৭ মিলিয়ন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। 

যদিও বড় কোনো নিরাপত্তা সমস্যা দেখা দেয়নি, তবুও কিছু বিতর্ক হয়েছে, যেমন— ইরানের দল ভিসা ও ভ্রমণ জটিলতায় ভুগেছে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্যানার প্রদর্শন করায় ব্রিটিশ সরকার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে, মার্কিন তারকা ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড শাস্তি ট্রাম্পের সুপারিশে তুলে নেওয়ায় সমালোচনা হয়েছে।

ইনফান্তিনো বলেন, ফুটবল এখন শুধু জনপ্রিয় খেলা নয়, বরং একটি "সর্বজনীন ভাষা" যা মানুষকে একত্রিত করে।

 

দুর্দান্ত জয়ে ইংল্যান্ডকে হারাল আর্জেন্টিনা, ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়

দুর্দান্ত জয়ে ইংল্যান্ডকে হারাল আর্জেন্টিনা, ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়


ফুটবল বিশ্বের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার হাইভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচে শেষ হাসি হাসল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টানটান উত্তেজনার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে জয় তুলে নিয়েছে স্ক্যালোনির শিষ্যরা।


ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে মাঠের লড়াই। আর্জেন্টিনার কৌশলী আক্রমণভাগ বারবার ইংলিশ রক্ষণভাগকে পরীক্ষার মুখে ফেলে। প্রথমার্ধে দুই দলই সতর্ক থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে খেলার মোড় ঘুরে যায়। আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডদের নিখুঁত ফিনিশিং ও মিডফিল্ডারদের বল ডিস্ট্রিবিউশন ছিল চোখে পড়ার মতো।

ম্যাচের একপর্যায়ে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও, ইংল্যান্ড শেষ দিকে তীব্র লড়াই করে একটি গোল পরিশোধ করে। তবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত নিজেদের রক্ষণভাগ জমাট রেখে জয় নিশ্চিত করে নীল-সাদা জার্সিধারীরা।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি তার দলের জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা এবং পরিশ্রমকে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট জানিয়েছেন, তাদের দলের ফিনিশিং নিয়ে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে, তবে খেলোয়াড়দের লড়াই করার মানসিকতায় তিনি সন্তুষ্ট।

এই জয়ের ফলে আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস আরও একধাপ বেড়ে গেল। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড এই হারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী বড় টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের এই জয় আর্জেন্টিনা ভক্তদের মাঝে খুশির জোয়ার বয়ে এনেছে। বিশ্ব ফুটবলের এমন লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকেন কোটি ভক্ত, আর আজকের ম্যাচটি সমর্থকদের হতাশ করেনি।

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড: বিশ্বকাপে শেষ দেখায় কী ঘটেছিল?

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড: বিশ্বকাপে শেষ দেখায় কী ঘটেছিল?


 ফুটবল বিশ্বের অন্যতম চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড আবারও মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামছে এই দুই দল। যেখানে ইতিমধ্যেই ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে এবং ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ১৯৯৮ সালের সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল থ্রি-লায়নসদের। স্বাভাবিকভাবেই ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামার আগে সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকবে ইংলিশরা।

১৯৯৮ সালের সেই ঐতিহাসিক নকআউট ম্যাচটি মূলত ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড দেখার জন্য ফুটবল ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে সেই লাল কার্ডের নাটকীয়তার আগেও ম্যাচে ঘটে গিয়েছিল অনেক কিছু। খেলার মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ডেভিড সিম্যান। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মাত্র এক মিনিট পরেই পেনাল্টি থেকে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। তবে দমে যায়নি ইংলিশরা। ম্যাচের ১১ মিনিটে অ্যালান শিয়ারের পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান এবং ১৭ মিনিটে মাইকেল ওয়েনের দর্শনীয় গোলে লিড নেয় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ইনজুরি টাইমে হাভিয়ের জানেত্তির দুর্দান্ত গোল আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে এবং ২-২ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘটে সেই বহুল আলোচিত ঘটনা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে ডেভিড বেকহ্যাম লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে মাত্র ৯ জনের দলে পরিণত হয় ইংল্যান্ড। বাকিটা সময় ৯ জন নিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করে ইংলিশ রক্ষণভাগ। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল করতে দেয়নি তারা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুটআউটে দুই দলেরই ছয়টি করে শট নেওয়ার পর ৪-৩ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের পক্ষে পেনাল্টি মিস করেন পল ইনস ও ডেভিড ব্যাটি। সেই সাথে প্রথম লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড় হিসেবে আগেই মাঠ ছাড়া ডেভিড সিম্যানের শট মিসের হতাশা ইংল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত করে। 

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

ফ্রান্সকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করল স্পেন

ফ্রান্সকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করল স্পেন


 ডালাসের সেমিফাইনালে ফরাসিদের কোণঠাসা করে ফাইনালের টিকিট পাওয়ার পথ আরও সুগম করে তুললো লা রোহারা। প্রথমার্ধের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেছে স্পেন। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে রাইট ব্যাক পেড্রো পোরোর এক দুর্দান্ত ও চোখ ধাঁধানো গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। এই গোলের পর ম্যাচ থেকে একপ্রকার ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে ফরাসিরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম কার্ডের ঝুঁকিতে থাকা আদ্রিয়েন রাবিওকে উঠিয়ে মানু কোনেকে মাঠে নামান। তবে কোচের এই কৌশল মাঠে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দানি ওলমোর এক চমৎকার টার্নিং পাস খুঁজে নেয় বক্সে থাকা পেড্রো পোরোকে। টটেনহ্যামের এই রাইট ব্যাক কোনো ভুল না করে নিখুঁত শটে বল ফরাসি জাল কাঁপিয়ে দেন। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ১ গোল হজম করা স্পেনের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে চরম বিপদে পড়েছে ফ্রান্স।

ম্যাচে স্পেনের আধিপত্য এখানেই শেষ হয়নি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে ফরাসি রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে জালে বল জড়িয়েছিলেন তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। স্প্যানিশ সমর্থকরা যখন ৩-০ গোলের উল্লাসে মাতোয়ারা, ঠিক তখনই লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলেন। ফলে রেফারি গোলটি বাতিল করে দিলে এ যাত্রায় বড় লজ্জার হাত থেকে বেঁচে যায় কিলিয়ান এমবাপ্পের দল। তবে অফসাইডের কারণে গোল না পেলেও স্পেনের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে ফ্রান্সকে বড্ড অসহায় দেখাচ্ছে।

পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের দুই মিডফিল্ডার রদ্রি এবং ফ্যাবিয়ান রুইজ এক কথায় অসাধারণ খেলছেন। ফরাসিদের প্রতিটি কাউন্টার অ্যাটাক মাঝমাঠেই রুখে দিয়ে তারা স্পেনের আক্রমণভাগের দিকে বল বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের উইঙ্গার ব্রাডলি বারকোলা কিংবা অধিনায়ক এমবাপ্পে স্পেনের ডিফেন্সের সামনে বারবার খেই হারাচ্ছেন। ম্যাচ জয়ের জন্য ফ্রান্সের অলৌকিক কিছুর প্রয়োজন, যা এই স্প্যানিশ ডিফেন্সের বিপক্ষে অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ৩০০ কোটির এক ম্যাচ

ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ৩০০ কোটির এক ম্যাচ


 বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে ফ্রান্স–স্পেন। তার আগে স্প্যানিশ দৈনিক ‘এএস’ জানিয়েছে এক চমকপ্রদ তথ্য। দুই দলের খেলোয়াড়দের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমটির দাবি অনুযায়ী, ফ্রান্স ও স্পেনের এই লড়াই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান সেমিফাইনাল। কারণ, খেলোয়াড়দের আর্থিক মূল্যের দিক থেকে এটি অতীতের সব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালকে ছাড়িয়ে গেছে।

আকাশছোঁয়া এই দামের মধ্যেও দুই দলের মধ্যে ব্যবধানটা প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের। ফরাসি দলের মোট বাজারমূল্য প্রায় ১৭৮ কোটি ডলার, অন্যদিকে স্পেনের দলটির মূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ডলার।

দলের মতো ব্যক্তিগত মূল্যের লড়াইয়েও রয়েছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল এই মুহূর্তে সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড়, যাঁর বাজারমূল্য প্রায় ২৩.৪ কোটি ডলার। ফরাসি তারকা এমবাপ্পের মূল্য প্রায় ২১ কোটি ডলার। এ ছাড়া মাইকেল ওলিসে ও পেদ্রি—দুজনেরই বাজারমূল্য প্রায় ১৭.৫ কোটি ডলার করে।

এই চার তারকা ছাড়াও দুই দলে এমন সাতজন খেলোয়াড় আছেন, যাঁদের প্রত্যেকের বাজারমূল্য ১১.৭ কোটি ডলার বা তার চেয়ে বেশি। আর দুই দল মিলিয়ে ২২ জন খেলোয়াড়ের দাম অন্তত ৫.৮ কোটি ডলার। এই ২২ জনের মধ্যে ১৫ জনই ফ্রান্সের আর ৭ জন স্পেনের। অর্থাৎ এই মানের দামি খেলোয়াড়ের সংখ্যায় স্পেনের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি এগিয়ে আছে ফরাসিরা।

পজিশনভিত্তিক হিসাব করলে গোলপোস্টের নিচে অবশ্য এগিয়ে আছে স্পেন। ফ্রান্সের তিন গোলকিপারের সম্মিলিত বাজারমূল্য যেখানে প্রায় ৬.৭ কোটি ডলার, সেখানে স্পেনের তিন গোলরক্ষকের মোট মূল্য প্রায় ১১.৪ কোটি ডলার।

তবে রক্ষণভাগে স্পষ্ট আধিপত্য ফ্রান্সের। ফরাসি ডিফেন্ডারদের সম্মিলিত বাজারমূল্য ৪৭.৩ কোটি ডলার, বিপরীতে স্পেনের রক্ষণভাগের মূল্য প্রায় ৩৩.৭ কোটি ডলার।
মিডফিল্ড বা মাঝমাঠের লড়াইয়ে আবার এগিয়ে স্পেন। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারদের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৪৯.১ কোটি ডলার, যেখানে ফ্রান্সের মাঝমাঠের মূল্য প্রায় ৩৬.৫ কোটি ডলার। তবে দুই দলের আসল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে আক্রমণভাগ।

স্পেনের ইয়ামালের একার দামই ২৩.৪ কোটি ডলার হলেও ফ্রান্সের উইঙ্গার ও স্ট্রাইকারদের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৮৭.৭ কোটি ডলার। যেখানে স্পেনের আক্রমণভাগের মোট বাজারমূল্য ৪৮.৮ কোটি ডলার। আক্রমণভাগের এই বিশাল ফারাকই ফ্রান্সকে সামগ্রিক বাজারমূল্যে স্পেনের চেয়ে এগিয়ে রাখল।


কেন বিশ্বকাপ শেষে ‘রেকুন’ বগলদাবা করে দেশে ফিরলেন হালান্ড?

কেন বিশ্বকাপ শেষে ‘রেকুন’ বগলদাবা করে দেশে ফিরলেন হালান্ড?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে। তবে টুর্নামেন্ট শেষ হলেও মাঠের বাইরের এক কাণ্ড দিয়ে সংবাদমাধ্যমের সব আলো নিজের কেড়ে নিয়েছেন দলটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে ফেরার সময় এক অদ্ভুত ভ্রমণসঙ্গী নিয়ে এসেছেন এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা, যা দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছেন ভক্ত-সমর্থকরা। 

সোমবার ওসলোর গার্ডারমোয়েন বিমানবন্দরে নরওয়ে দলের বিমানটি যখন অবতরণ করে, তখন লাল গালিচায় হালান্ডকে দেখা যায় একেবারেই ভিন্ন এক লুকে। তিনি বগলদাবা করে নিয়ে এসেছেন ৭৫০ মার্কিন ডলার মূল্যের একটি ট্যাক্সিডার্মি বা প্রক্রিয়াজাত করা স্টাফড রেকুন, যার হাতে ধরা একটি হুইস্কির বোতল। বিমানবন্দরে নামার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই রেকুনের ছবি শেয়ার করে হালান্ড স্বভাবসুলভ রসিকতায় ক্যাপশন দিয়েছেন, এটি নিজেই আমার পিছু পিছু বাড়ি চলে এসেছে।

আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এমন একটি স্টাফড বন্যপ্রাণী নিয়ে আসার পেছনের গল্পটি বেশ মজার। জুলাইয়ের শুরুতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে টেক্সাসে অবস্থান করছিল নরওয়ে দল। টুর্নামেন্টের মাঝে পাওয়া এক বিরতিতে হালান্ড ডালাসের বিখ্যাত ‘ওয়াইল্ড বিলস ওয়েস্টার্ন স্টোর’ পরিদর্শনে যান। সেখানে আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় কাউবয় সংস্কৃতিতে মেতে উঠে তিনি একটি কালো কাউবয় হ্যাট, চামড়ার বুট এবং টি-শার্ট কেনেন। কেনাকাটার এক পর্যায়ে দোকানের এক কোণে রাখা অদ্ভুত সব ট্যাক্সিডার্মি বা স্টাফড পশুপাখির দিকে চোখ যায় তার। সেখান থেকেই মূলত ‘হুইস্কি রেকুন’ নামের এই অদ্ভুত স্টাফড রেকুনটি পছন্দ করে কিনে নেন তিনি। ম্যানচেস্টার সিটির এই সুপারস্টারের আগমনে দোকানের মালিকরা এতটাই আপ্লুত ছিলেন যে তারা হালান্ডের ছবি তাদের ওয়েবসাইটের হোমপেজে আপলোড করেন। এরপরই শুরু হয় আসল চমক। হালান্ডের সেই ছবির জাদুতে মুহূর্তের মধ্যেই ৭৫০ ডলারের এই স্টাফড রেকুন অনলাইনে সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে যায় এবং বিশ্বজুড়ে অর্ডার সামলাতে দোকান কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়।

এবারের বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সেও এমন একটি স্মরণীয় স্মারক পাওয়ার যোগ্য দাবিদার ছিলেন হালান্ড। ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে শেষ ষোলোর ম্যাচে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করে নরওয়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলের এক বিতর্কিত ম্যাচে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়, তবে পুরো টুর্নামেন্টে নরওয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৭টি গোল করে অনন্য দ্যুতি ছড়িয়েছেন হালান্ড। 

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

ব্রাজিল-পর্তুগালের বিদায়ে বিপাকে দেশের জার্সি ব্যবসায়ীরা, ভরসা শুধু মেসি ও আর্জেন্টিনায়

ব্রাজিল-পর্তুগালের বিদায়ে বিপাকে দেশের জার্সি ব্যবসায়ীরা, ভরসা শুধু মেসি ও আর্জেন্টিনায়


বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই ব্রাজিল ও পর্তুগালের বিদায় বাংলাদেশের জার্সির বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। ঢাকার বিভিন্ন স্পোর্টস জোন ও জার্সির দোকানগুলোতে বিক্রি কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়েছেন। তবে বাজারে এখনো সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার জার্সির। পাশাপাশি কিছু কনসেপ্ট জার্সিও বিক্রি ধরে রাখতে ভূমিকা রাখছে।

দেশের জনপ্রিয় স্পোর্টস গিয়ার ও জার্সি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

'ডিয়ার ফ্রেন্ডস' প্রতিষ্ঠানের মালিক লিটন রুবেল বলেন, বিশ্বকাপের প্রায় ছয় মাস আগে থেকেই জার্সি বাজারে আসতে শুরু করে। অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই মূল স্টক বিক্রির পরিকল্পনা করেন। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন তারা, যারা বিশ্বকাপ চলাকালে বেশি দামে নতুন স্টক তোলেন।

তার ভাষ্য, বড় কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেই সেই দলের জার্সি বিক্রি প্রায় থেমে যায়। এবার ব্রাজিল ও পর্তুগালের বিদায়ে অনেক ব্যবসায়ীর পুঁজি আটকে গেছে। বিশ্বকাপ যত এগোয়, জার্সির বিক্রিও তত কমতে থাকে। তাই আগেভাগে বাজার বিশ্লেষণ করেই ব্যবসা করা উচিত।

তিনি জানান, ব্রাজিলকে নরওয়ে হারানোর পর নরওয়ের জার্সির চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। একইভাবে কিলিয়ান এমবাপের পারফরম্যান্সের কারণে ফ্রান্সের জার্সির বিক্রিও বেড়েছে।

অন্যদিকে ক্লথিস্টের মালিক তানভির বলেন, বাংলাদেশের বাজারে আর্জেন্টিনা, মেসি ও বার্সেলোনার সমর্থক সবচেয়ে বেশি। সে কারণেই তারা শুরু থেকেই এসব জার্সির ওপর বেশি গুরুত্ব দেন।

তার মতে, অনেক ব্যবসায়ী বাজার বিশ্লেষণ না করেই অন্য দলগুলোর জার্সি বেশি পরিমাণে মজুত করেন। ব্রাজিল ও পর্তুগালের বিদায়ের পর তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। যদিও সামগ্রিকভাবে জার্সির বিক্রি কিছুটা কমেছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পর্তুগাল বিদায় নিলেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জনপ্রিয়তায় খুব একটা ভাটা পড়েনি। পর্তুগাল কিংবা আল নাসরের ৭ নম্বর জার্সির সারা বছরই একটি স্থায়ী বাজার রয়েছে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বিভিন্ন কনসেপ্ট জার্সির চাহিদাও বাড়ছে। প্রচলিত জাতীয় দলের জার্সির বিক্রি কমলেও এসব নতুন ডিজাইনের জার্সি ব্যবসায়ীদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন

বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন


 বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। ২০১০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল স্প্যানিশরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। সেই সুবাদে এগিয়েও যায় ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে কিছুক্ষণ পরেই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ চললেও পুরো সময়ে গোল আসে একটি। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে সেই গোল করে স্পেন। তাতেই ২-১ গোল ব্যবধানে জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরুতে পেদ্রির পরিবর্তে আজ শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ফাভিয়ান রুইজ। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে বেশি সময় নেননি তিনি। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে চমৎকার এক দলীয় আক্রমণ থেকে স্পেনকে লিড এনে দেন এই মিডফিল্ডার।

ডি-বক্সের খুব কাছ থেকে দানি ওলমোর নেওয়া জোরালো শটটি বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। রিবাউন্ড থেকে ধেয়ে আসা বল লুফে নিতে কোনো ভুল করেননি রুইজ। তার নেওয়া শটটি বেলজিয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। এতে এগিয়ে যায় স্পেন। 

তবে গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। স্পেনের এতদিনের অভেদ্য রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে চমৎকার এক পাল্টা-আক্রমণ সাজায় তারা। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে নিখুঁত এক ফিনিশিংয়ে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পরাস্ত করে বল জালের ঠিকানায় পাঠান চার্লস ডি কেটেলারা।

চলতি বিশ্বকাপে এটিই স্পেনের জালে জড়ানো প্রথম গোল। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একটি গোলও হজম না করা স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণদুর্গ অবশেষে ভাঙতে সফল হয় বেলজিয়াম। ডি কেটেলারার এই গোলের পর ম্যাচে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে বড় ধরনের ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। চোটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। কোর্তোয়ার পরিবর্তে স্পেনের আক্রমণভাগকে আটকানোর কঠিন দায়িত্ব নিয়ে গোলপোস্টের নিচে বদলি হিসেবে নামেন তরুণ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স।

ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে বেলজিয়ামের ডি-বক্সের ভেতর সৃষ্টি হওয়া জটলা থেকে বল পেয়ে যান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। বল পাওয়া মাত্রই কোনো ভুল না করে ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বল গোলপোস্টের একদম মাঝখান দিয়ে জালের ঠিকানায় পাঠান তিনি।
এরপর ম্যাচে আর কোনো গোল আসেনি। ফলে ২-১ গোল ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন স্পেন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

কেতেলায়েরের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে সমতা আনল বেলজিয়াম

কেতেলায়েরের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচে সমতা আনল বেলজিয়াম

স্পেনের এগিয়ে যাওয়ার পর কেতেলায়েরের গোলে সমতায় ফিরেছে বেলজিয়াম। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে ডান দিক থেকে টিমোথি ক্যাসটেগনের ক্রস থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান কেতেলায়ের। এতে করে স্কোরলাইন দাঁড়িয়েছে ১-১।

এর আগে, ম্যাচের ৩০ মিনিটে স্পেনকে লিড এনে দেন ফাবিয়ান রুইজ। দারুণ এক আক্রমণে প্রথম দানি ওলমোর প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। এরপর ফিরতি শটে বল জালে জড়ান রুইজ।

প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের আগ পর্যন্ত গোলের মুখ দেখেনি কোনো দলই। তবে বলে দখল ও আক্রমণে স্পেনই এগিয়ে ছিল। ৬৪ শতাংশ বল দখলে রেখে বেলজিয়াম রক্ষণে ৩টি শট নিয়ে স্পেন, বক্সে বল স্পর্শ সাতবার।

বিপরীতে ৩৬ শতাংশ বল দখলে রাখতে পারা বেলজিয়াম শট নিয়েছে মাত্র একটি, স্পেনের বক্সে বলও স্পর্শ মাত্র একবার।