The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
কাঁচামরিচের কেজি ৪০০ টাকা, ১০০ টাকার ওপরে বেশিরভাগ সবজির দাম

কাঁচামরিচের কেজি ৪০০ টাকা, ১০০ টাকার ওপরে বেশিরভাগ সবজির দাম

 

টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যার প্রভাব এখনও কাটেনি রাজধানীর কাঁচাবাজারে। সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও কমেনি দাম। বরং গত এক সপ্তাহে কাঁচামরিচ ও দেশি পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে। অধিকাংশ সবজিও দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সেগুনবাগিচা, ধুপখোলা ও রায়সাহেব বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বর্তমানে বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক খুচরা দোকানে ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর সবজি ব্যবসায়ী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে যে মরিচ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা ৪০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

রায়সাহেব বাজারের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় মরিচক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে সরবরাহও স্বাভাবিক নয়। ফলে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

কাঁচামরিচের পাশাপাশি দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগেও একই পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।

মাসের শুরুতে বৃষ্টি ও বন্যার কারণে যে মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি কমেনি। কয়েকটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও অধিকাংশ সবজি এখনও ১০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারভেদে লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সাদা বেগুন প্রায় ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। করলা, বরবটি ও কাঁকরোলের দাম ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ধুন্দুল, ঝিঙে, পটোল ও ঢ্যাঁড়শের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। এসব সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। একটি লাউয়ের দাম আকারভেদে ৭০ থেকে ৯০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

ধুপখোলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, বর্তমান দামে কাঁচামরিচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তিনি মনে করেন, বৃষ্টির কারণে উৎপাদন কমলেও বাজারে নিয়মিত তদারকি বাড়ানো হলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় ছোট বাজারগুলোর তুলনায় কারওয়ান বাজারে কিছু পণ্য তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও কাঁচামরিচের দামই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বন্যা ও টানা বর্ষণের প্রভাব পুরোপুরি না কাটায় অল্প সময়ে দাম কমার সম্ভাবনাও কম বলে মনে করছেন তারা।

আমদানি দায় পরিশোধে বাড়ছে ডলারের চাপ, ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ১২৩.৮২ টাকায় কেনার নির্দেশ

আমদানি দায় পরিশোধে বাড়ছে ডলারের চাপ, ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ১২৩.৮২ টাকায় কেনার নির্দেশ

 

আমদানি দায় পরিশোধে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আন্তঃব্যাংক বাজার ও রেমিট্যান্স চ্যানেল থেকে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি দরে ডলার না কেনার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি একাধিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

ব্যাংকারদের মতে, বর্তমানে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর প্রায় ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা থাকলেও রেমিট্যান্সের ডলার কিনতে ১২৩ টাকা ৯০ থেকে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশিত দরে ডলার সংগ্রহ করা অনেক ব্যাংকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বাজারে সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে দেওয়ায় অনেক ব্যাংক আন্তঃব্যাংক লেনদেনে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাদের মতে, প্রকৃত অর্থে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত করতে হলে ডলারের দাম চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে নির্ধারণ হওয়া উচিত। কৃত্রিমভাবে দর নিয়ন্ত্রণ করলে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দিয়ে আসছে।

জুনের শেষ দিক থেকেই ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সোমবার বেশ কয়েকটি ব্যাংক ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা দরে আমদানির ঋণপত্র (এলসি) পরিশোধ করেছে। একই সময়ে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন ঋণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার বজায় রাখা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ সীমিত রাখার বিষয়টি আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হতে পারে। এর আগের ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতেও এটি অন্যতম শর্ত ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে সরকারি এলসির অর্থ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলসির মাধ্যমে আমদানি দায় নিষ্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। অন্যদিকে জুন মাসে প্রবাসী আয় গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ডলারের প্রবাহের তুলনায় বহির্গমন বেশি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ বাড়ছে। এদিকে গত প্রায় দেড় মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনাও বন্ধ রেখেছে। সর্বশেষ গত ৪ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনেছিল।

ব্যাংকারদের মতে, ২০২২ সালের মতো ডলার সংকট ও বাজার অস্থিরতা এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।

তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম


 আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন করে পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া, বন্ডের ফলন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মূল্যবান ধাতুটির দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ড এবং ফিউচার উভয় বাজারেই দর নিম্নমুখী রয়েছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার–সংক্রান্ত অবস্থানকে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের দামে আরও ওঠানামা হতে পারে। একই সঙ্গে ডলারের গতিপ্রকৃতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিগত সিদ্ধান্তও বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের পরিবর্তনের প্রভাব দেশীয় স্বর্ণবাজারেও পড়তে পারে। তবে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর তা নির্ভর করবে।

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

 

প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত আটটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়া প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যবহার করা হবে।

একনেক সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত আটটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি নতুন প্রকল্প এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা সম্প্রসারণ এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

জুলাইয়ের প্রথম ৫ দিনে দেশে এলো ৫৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

জুলাইয়ের প্রথম ৫ দিনে দেশে এলো ৫৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

 


চলতি জুলাই মাসের প্রথম পাঁচ দিনে দেশে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৪১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। সেই হিসাবে এবার প্রথম পাঁচ দিনেই প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর আগে জুন মাসে দেশে মোট ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে ৫১ কোটি ৫১ লাখ ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার আসে।

এ ছাড়া মে মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। মার্চে আসে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং এপ্রিলে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৩৫.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল

 




বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে। একইসঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা এবং ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে, ব্যাংকটির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে এবং জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, একই আইনের ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির পরিচালনায় সরাসরি নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধান আরও জোরদার হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা, তারল্য পরিস্থিতি এবং গ্রাহকসেবা নিয়ে নানা আলোচনা ও উদ্বেগের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ পদক্ষেপ এলো। ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা কাঠামো ও নতুন পর্ষদ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে ৪-৫ বছর লাগবে

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে ৪-৫ বছর লাগবে

 


সবার জন্য বাজেট দেয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেটা স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধির পথে নিতে সময় লাগবে। আগামী দুই বছর কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমশক্তিকে দক্ষ করে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এজন্য শিক্ষা, কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যাতে দেশের ভেতরে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে এবং শ্রমিকরা উচ্চ আয়ের চাকরি পেতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, বর্তমানে নিম্ন আয়ের ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পরিবারভিত্তিক সহায়তা, কৃষি খাত, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার এখন বড় বড় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিটি প্রকল্পে ‘ভ্যালু ফর মানি’ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং অর্থ সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার।

বাজেটে সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এখন সরকারি অফিসে দুর্নীতি কমবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমার কথা। কারণ অভাব থাকলে দুর্নীতির একটা প্রবণতা থাকে। ১১ বছর ধরে পে-স্কেল হয়নি, অন্য দিকে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। সুতরাং এটা সমন্বয় করা দরকার। বেতন বাড়লে, আয় বাড়বে তখন নিশ্চয় দুর্নীতি কমার কথা।

বাজেটে কর্মসংস্থানের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাজেটে পরিষ্কারভাবে বলা আছে চাকরির কথা। আমরা আশা করি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব। বিনিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছি কর্মসংস্থানের জন্য। স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য আমরা জোর দিচ্ছি। দক্ষ একজন শ্রমিকের চাকরি দেশে-বিদেশে হওয়া খুবই সহজ। এই জন্য আমরা স্কিল ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত নানান প্রকল্প হাতে নিচ্ছি।

বাজার বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ পুলিশ, র‌্যাব কিংবা সরকারি লোক দিয়ে পিটিয়ে করার বিষয় না, এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সঠিক পলিসি ও ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা তো জানেন মূল্যস্ফীতি গত তিন মাসের ব্যাপার না, এটি বেশ কয়েক বছর ধরেই ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এবং গত তিন মাস ধরে তা ৯ শতাংশের ওপরে চলছে। এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিগ্রহ এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতার প্রভাব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যাংকিং খাতের সঙ্কট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, লুটপাট ও মানি লন্ডারিংয়ের কারণে ব্যাংকগুলোতে বিরাট ক্যাপিটাল (মূলধন) ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ‘কস্ট অব ফান্ড’ অনেক বেড়ে গেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটছে মূল্যস্ফীতির ওপর। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে আমদানিকৃত সব পণ্যের দামই দেশের বাজারে বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি জানান, বহির্বিশ্বের কারণে যে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, সেখানে আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে আমাদের চেষ্টা করতে হবে অভ্যন্তরীণভাবে কিভাবে ব্যবসার খরচ কমিয়ে আনা যায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ইজ অব ডুইং বিজনেস (সহজে ব্যবসা করার সূচক) মানদণ্ডে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ একেবারে তলানীতে। এর অর্থ হলো আমাদের ব্যবসার খরচ অনেক বেশি। একটি পারমিশন পেতে বা কোম্পানি করতে ছয় মাস থেকে এক বছর লেগে যায়। অনেক ডিপার্টমেন্টে যেতে হয়, সময় নষ্ট হয় এবং অনেক জায়গায় তাদের খরচ (ঘুষ/অনিয়ম) করতে হয় এটা তো সত্য কথা।

স্পট বায়িং বন্ধ, ৩ মাসের বাফার স্টকের পরিকল্পনা : জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্পট মার্কেট (তাৎক্ষণিক ক্রয়) থেকে কেনার কারণে খরচের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। দুই-তিন ঘণ্টার নোটিশে বেশি দামে কিনতে হয়। অতীতে এই দীর্ঘমেয়াদি অ্যারেঞ্জমেন্টগুলো করা হয়নি। খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমাদের প্রোপার প্ল্যানিং দরকার। ভবিষ্যৎ সঙ্কট মোকাবেলায় আমাদের রিজার্ভ বা নিয়ন্ত্রণে কমপক্ষে তিন মাসের জ্বালানি ও খাদ্যমজুদ রাখার মতো বাফার স্টক গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের পোর্টগুলোতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি ও বাড়তি খরচ কমাতে পারলে সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী হবে এবং দেশের অভ্যন্তরে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিনিয়োগ বাধা দূর করতে টাস্কফোর্স হবে : বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে নিয়ন্ত্রণ ও জটিলতা কমানোর (ডিরেগুলেশন) উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। একইসাথে সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, বিলম্ব কিংবা অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা যাতে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইটও চালু করা হবে। তিনি বলেন, ‘নতুন বিনিয়োগ নীতিমালা কোথায় লঙ্ঘিত হচ্ছে, কে বাধা সৃষ্টি করছে কিংবা কোথায় প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে– এসব বিষয় টাস্কফোর্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বা ‘পিপলস ইকোনমি’ বাস্তবায়ন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি খাত, এনজিও এবং বিভিন্ন অংশীজনকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘বরিশালের কোনো প্রান্তিক নারী যদি শীতল পাটি তৈরি করেন, তাহলে সেই পণ্যের নকশা উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ এবং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে ৭০০ টাকার পণ্যকে ২ হাজার টাকার পণ্যে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজাইন সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বাজেটের পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারব কিনা তা সময়ই বলবে। তবে যদি ঘোষিত কর্মসূচির ৮০ শতাংশও বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।


বাজেটে ছাড়, বাজারে স্বস্তির অপেক্ষায় ভোক্তা

বাজেটে ছাড়, বাজারে স্বস্তির অপেক্ষায় ভোক্তা


 নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের উপর উৎসে কর-এ বড় ছাড় দিয়েছে। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। উলটো চাল, আটা ও ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে কর ছাড়ের ঘোষণায় ক্রেতারা খুশি হলেও এটা কতটা বাস্তবায়ন করা যাবে তা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

বাজেট পেশের পরদিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, কাওরানবাজার ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। বাজেটে যেসব নিত্যপণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, লবণ, চিনি ও ভোজ্য তেল। সবমিলিয়ে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উেস কর আড়াই শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

কিন্তু বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। গতকাল খুচরা বাজারে মোটা ও মাঝারিমানের চাল ইরি, স্বর্ণা, পাইজাম ও লতার দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ডালের বাজারেও একই চিত্র। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনেও পণ্য দুটির দাম বাড়ার কথা জানিয়েছে। গতকাল বাজারে মাঝারিমানের চাল পাইজাম/লতা মানভেদে ৫৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়। যা দুই দিন আগেও ৫২ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর দুই দিনের ব্যবধানে মোটা চালের কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে তা ৫২ থেকে ৬০ বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে সাদা খোলা আটার দামও। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে তা ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডালের মধ্যে ছোলার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এসব পণ্য আগের কেনা। পুরোনো দামে কেনা পণ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর ছাড়ের সুবিধা বাজারে প্রতিফলিত হবে না।

তুরাগ এলাকার নতুন বাজারের মুদি ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাজেটে কেবল কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সুবিধা পেতে কিছুদিন সময় লাগবে। নতুন আমদানিকৃত পণ্য বাজারে আসলে আশা করি, দাম কমে যাবে। এদিকে চাল, ডাল, আটার দাম বাড়লেও বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম কমেছে। গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পটোল ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁকরোল, বেগুন, করলা, বরবটি, ঝিঙা ও চিচিঙ্গাসহ বেশির ভাগ সবজি ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মুরগির বাজারেও স্বস্তির চিত্র রয়েছে। প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমে বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায়। ডিমের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।

তবে মাছের বাজারে স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৭০ টাকা, রুই, কাতলা ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা , পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কোরাল ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা, কই ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল কাওরানবাজারে বাজার করতে আসা চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার আগামী বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পণ্য আমদানিতে কর কমিয়েছে। কিন্তু বাজারে এখনো কোনো পণ্যের দাম কমেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্যের দাম কমতে সময় লাগবে। অথচ, যদি বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানোর কথা বলা হতো, তাহলে ঠিকই সঙ্গে সঙ্গে সেই পণ্যের দাম বেড়ে যেত। ক্রেতাদের দাবি, সরকার যে ৬০টি পণ্যের উেস কর কমিয়েছে, তার সুফল যেন দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়। এজন্য বাজার মনিটরিং আরো জোরদার করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আরো কমলো জেট ফুয়েলের দাম

আরো কমলো জেট ফুয়েলের দাম


 জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা কমানো হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে । নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েল ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এরআগে গত ৭ মে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২২ টাকা ৩৫ পয়সা কমানো হয়। গত ৭ এপ্রিল প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছিল প্রায় ২৫ টাকা। এর আগে ২৪ মার্চ জেট ফুয়েলের দাম ৯০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জ্বালানির দাম কমানো হয়। প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ৩৩ ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ০৮ ডলার করা হয়েছে।

বিইআরসির কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েলের দামের বিষয়ে কমিশনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ৫ মে থেকে ২১ মে সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের গড়, বিপিসি এর এলসি সেটেলমেন্ট এ মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের বিদ্যমান মূল্য বিবেচনায় মূল্যহার সমন্বয় করা হয়।


নতুন নোট বিক্রি বেআইনি, ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

নতুন নোট বিক্রি বেআইনি, ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

 


বাজারে নতুন নোট পণ্য হিসেবে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

নতুন নোট কোনো পণ্য নয় : মুখপাত্র বলেন, প্রতিটি উৎসব ঘিরে নতুন নোটের চাহিদা থাকে। বিশেষ করে ঈদ সামনে রেখে বাজারে নতুন নোট সংগ্রহের প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যায়। তবে নতুন নোটকে পণ্য হিসেবে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি বলেন, ‘নতুন নোট কোনো পণ্য নয় যে তা বাজারে বিক্রি হবে। কেউ যদি নতুন নোট বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি দেখবে।’

ক্যাশলেস বাংলাদেশের দিকে অগ্রযাত্রা : বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, উৎসব কেন্দ্র করে নতুন নোটের প্রতি মানুষের একটি আবেগ বা আকাক্সক্ষা রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ধীরে ধীরে ক্যাশলেস বাংলাদেশের দিকে এগোচ্ছি। ফলে নগদের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

ঈদ কেন্দ্র করে বাড়ে নতুন নোটের চাহিদা : প্রতি বছর ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নতুন নোট সংগ্রহে মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। সালামি দেওয়ার জন্য অনেকেই ব্যাংক থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করেন। এ সুযোগে কিছু অসাধু চক্র ব্যাংক থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করে বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঈদের আগে নতুন নোটের বান্ডিল অতিরিক্ত দামে বিক্রির ঘটনা প্রায়ই সামনে আসে।

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ


দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ হাজার ৯৬৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ফলে ভালো মানের স্বর্ণের দাম বেড়ে লাখ ২২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম।

 

নতুন দাম মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম (পিওর গোল্ড) বাড়ায় বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

 

তবে মূল কারণ হচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছাড়িয়েছে হাজার ৪০০ ডলার।

 

নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম লাখ ২২ হাজার ৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৫১ হাজার ৩৯৯ টাকা।

 

স্বর্ণের দামের সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হাজার ৯৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা হাজার ৭২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম হাজার ৩৩ টাকা।

সূত্র : যুগান্তর

দেশের ইতিহাসে রেকর্ড: সোনার ভরি ছাড়াল ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা

দেশের ইতিহাসে রেকর্ড: সোনার ভরি ছাড়াল ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা

 


দেশের বাজারে আবারও বাড়ছে সোনার দাম। সব রেকর্ড ভেঙে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে সোনার দামের ক্ষেত্রে এটিই এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

রোববার বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই মূল্যতালিকা ঘোষণা করেছে। 

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে সারা দেশে এই দাম কার্যকর হবে। বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৩৪০ ডলার অতিক্রম করেছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, সোমবার থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার জন্য ক্রেতাদের গুণতে হবে ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোনার দাম দফায় দফায় বাড়লেও এবারের বিজ্ঞপ্তিতে রুপার দাম অপরিবর্তিত রেখেছে বাজুস। মানভেদে প্রতি ভরি রুপার দাম সর্বনিম্ন ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫৭২ টাকা পর্যন্ত বহাল রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

 সূত্র : আমার সংবাদ

১৩ দিনে দেড় বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে

১৩ দিনে দেড় বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে


 বছরের শেষ সময়ে এসেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের ১৩ দিনে দেশে এসেছে প্রায় ১৫০ কোটি ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার প্রবাসী আয়। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৮ হাজার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) ৩৯০ কোটি টাকার বেশি।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম ১৩ দিনে ১৫০ কোটি ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক (কৃষি ব্যাংক) ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ লাখ ডলার। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলো মাধ্যমে ১০৯ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ডলার এসেছেন এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩২ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয় ছিল— জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স।

প্রসঙ্গত, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল, যা ছিল ওই অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। পুরো অর্থবছরে প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার—আগের বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

২০২৩–২৪ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। ওই অর্থবছরের মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স ছিল— জুলাইয়ে ১৯১ দশমিক ৩৭ কোটি, আগস্টে ২২২ দশমিক ১৩ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০ দশমিক ৪১ কোটি, অক্টোবরে ২৩৯ দশমিক ৫০ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি, মার্চে ৩২৯ কোটি, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি, মে মাসে ২৯৭ কোটি এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলার।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

আমদানির অনুমোদনের পর বাজারে কমল পেঁয়াজের দাম

আমদানির অনুমোদনের পর বাজারে কমল পেঁয়াজের দাম


পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়ার পর বাজারে এর মূল্য নিম্নমুখী হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। 

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা বলেন, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই মূল্য কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমদানির কারণে কৃষকের ক্ষতি হবে এমন ধারণা সঠিক নয়। সরকারের দায়িত্ব হলো উৎপাদক ও ভোক্তার স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, এবং সে লক্ষ্যেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে।

আলুর বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ বছর আলু চাষিরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাদের সহায়তার জন্য ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে দেশের আলুর জাত উন্নত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সারের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন। তার ভাষায়, মৎস্য খাতসহ অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত সার ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন খাতে সারের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে।

সূত্র : আমার সংবাদ

 

টানা চতুর্থ মাস রপ্তানি আয় কমল

টানা চতুর্থ মাস রপ্তানি আয় কমল


 

নভেম্বরে দেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কম।এ নিয়ে টানা চতুর্থ মাস রপ্তানি আয় কমল।বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এ তথ্য জানিয়েছে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বলছে, এবারও রপ্তানি আয়ের শীর্ষে আছে তৈরি পোশাক খাত। এই খাত থেকে নভেম্বরে ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার এসেছে।পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, ওষুধ (ফার্মাসিউটিক্যালস), জাহাজ, চিংড়ি পণ্যও রপ্তানিতে অবদান রাখছে।

সূত্র: যুগান্তর

,ভারতের জন্য বড় ধাক্কা,সর্বকালের সর্বনিম্ন রুপির দাম

,ভারতের জন্য বড় ধাক্কা,সর্বকালের সর্বনিম্ন রুপির দাম

 




আরও কমেছে ভারতের রুপির দাম। দীর্ঘদিন ধরে ৮৮.৮০-এর গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক স্তরে থাকার পর রুপির দ্রুত পতন শুরু হয়। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে রুপির দাম। গতকাল বুধবার রুপির দাম ৯০-এর মনস্তাত্ত্বিক বাধাও ভেঙে দেয়। বৃহস্পতিবার রুপি আরও দুর্বল হয়েছে। বর্তমানে ১ ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় হার ৯০.৪২।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের আর্থিক বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি প্রত্যাহারের জেরে বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর আরও রেকর্ড নিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। এ নিয়ে টানা তিন দিনের মতো রুপির পতন ঘটল।

এদিন লেনদেনের শুরু থেকেই রুপির দুর্বলতা দেখা যায় এবং দিনের শেষে মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার মূল্য ২৩ পয়সা কমে গিয়ে এক নতুন সর্বকালীন নিম্নস্তরে পৌঁছানোর রেকর্ড গড়ে। এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য এখন দাঁড়িয়েছে **৯০.৪২ রুপি**।

রুপির এই লাগামহীন অবমূল্যায়ন ঠেকাতে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ব্লুমবার্গ রিপোর্ট অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ মুদ্রার অবচয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরবিআই বাজার থেকে ডলার বিক্রি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাজার থেকে পুঁজি প্রত্যাহার এবং শক্তিশালী ডলারের চাপে রুপির পতন থামানো যায়নি।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লাগাতার দরপতন দেশের অর্থনীতিতে এবং আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাখছে গোটা দেশ।


সূত্র : বিডি-প্রতিদিন