The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...

আমদানি দায় পরিশোধে বাড়ছে ডলারের চাপ, ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ১২৩.৮২ টাকায় কেনার নির্দেশ

Thursday, July 30, 2026 The Future press
আমদানি দায় পরিশোধে বাড়ছে ডলারের চাপ, ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ১২৩.৮২ টাকায় কেনার নির্দেশ

 

আমদানি দায় পরিশোধে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আন্তঃব্যাংক বাজার ও রেমিট্যান্স চ্যানেল থেকে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি দরে ডলার না কেনার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি একাধিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

ব্যাংকারদের মতে, বর্তমানে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর প্রায় ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা থাকলেও রেমিট্যান্সের ডলার কিনতে ১২৩ টাকা ৯০ থেকে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশিত দরে ডলার সংগ্রহ করা অনেক ব্যাংকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বাজারে সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে দেওয়ায় অনেক ব্যাংক আন্তঃব্যাংক লেনদেনে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাদের মতে, প্রকৃত অর্থে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত করতে হলে ডলারের দাম চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে নির্ধারণ হওয়া উচিত। কৃত্রিমভাবে দর নিয়ন্ত্রণ করলে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দিয়ে আসছে।

জুনের শেষ দিক থেকেই ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সোমবার বেশ কয়েকটি ব্যাংক ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা দরে আমদানির ঋণপত্র (এলসি) পরিশোধ করেছে। একই সময়ে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন ঋণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার বজায় রাখা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ সীমিত রাখার বিষয়টি আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হতে পারে। এর আগের ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতেও এটি অন্যতম শর্ত ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে সরকারি এলসির অর্থ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলসির মাধ্যমে আমদানি দায় নিষ্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। অন্যদিকে জুন মাসে প্রবাসী আয় গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ডলারের প্রবাহের তুলনায় বহির্গমন বেশি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ বাড়ছে। এদিকে গত প্রায় দেড় মাস ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনাও বন্ধ রেখেছে। সর্বশেষ গত ৪ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনেছিল।

ব্যাংকারদের মতে, ২০২২ সালের মতো ডলার সংকট ও বাজার অস্থিরতা এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।

তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড