The National Press ​
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন, আলোচনায় ১৫ বছরের শাসনামলের বিতর্কিত অধ্যায়

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন, আলোচনায় ১৫ বছরের শাসনামলের বিতর্কিত অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারেন—এমন দাবি ও প্রচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনার শাসনামল, তাঁর সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরের শাসনকালে মানবাধিকার পরিস্থিতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো আবারও সামনে এসেছে।

গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং বিরোধী মত দমনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল। মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে এ সময়ের গুম ও নিখোঁজের ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলা এডিশনের প্রতিবেদনে জাতিসংঘের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্যের বরাতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অন্তত ৬৭৭ জন গুমের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও এ প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে। এসব ঘটনার অনেকগুলোর সুরাহা এখনো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক সহিংসতা

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিগত সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠে এসেছে।

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, টেকনাফে মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা এবং বিভিন্ন সময়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাগুলো এ সময়ের আলোচিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, ছাত্রসংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড এ ধরনের সহিংসতার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ।

দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

শেখ হাসিনার সরকারের সময় দেশের ব্যাংকিং খাত, বড় উন্নয়ন প্রকল্প এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক, পিকে হালদার এবং এস আলম গ্রুপকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের বিষয়গুলো ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিভিন্ন বিশ্লেষণেও ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ছাড়া অর্থ পাচার ও বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তদন্ত ও আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরা।

নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলো নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোটের আগের রাতে ব্যালট পূরণের অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলগুলোর আপত্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক তৈরি করে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। তবে এসব অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলাদা তদন্ত ও মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থান ও সরকারের পতন

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনটি সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, প্রাণহানি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের অনুসন্ধানে ওই সময়ের সহিংসতা ও প্রাণহানির বিষয়ে গুরুতর তথ্য উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছাড়েন।

দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা

বর্তমানে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তাঁর সমর্থকদের একাংশ দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রচার চালালেও বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ ও জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন গোষ্ঠীর বক্তব্যে বিচার ও জবাবদিহির দাবি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শুধু দেশে ফেরার প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর শাসনামলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর দীর্ঘ শাসনামলের বিতর্কিত ঘটনাগুলো এবং সেসবের বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্ন বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।

তাহসিফের মরদেহের ময়নাতদন্তে নতুন তথ্য, নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার উল্লেখ

তাহসিফের মরদেহের ময়নাতদন্তে নতুন তথ্য, নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার উল্লেখ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দৈনিক আমার দেশ-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে মরদেহের বিভিন্ন শারীরিক অবস্থার বিবরণ তুলে ধরেছেন। 

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে যা রয়েছে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাহসিফের মরদেহের মুখমণ্ডল ও চোখ বন্ধ ছিল। তাঁর মাথার চুল কালো, মুখমণ্ডল গোলাকার এবং উচ্চতা আনুমানিক পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মুখে ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

মরদেহের নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হলেও শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া পেট ফোলা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব শারীরিক লক্ষণ থেকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যায় না। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরখান এলাকার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দৈনিক আমার দেশ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরদেহ শনাক্ত করেন তাহসিফের খালাতো ভাই জহির হাসান। এর আগে মরদেহের সঙ্গে পাওয়া মুঠোফোন ও হাতঘড়ির সূত্র ধরেও তাঁর পরিচয় শনাক্ত করার তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

নিখোঁজ হওয়ার আগে কী ঘটেছিল

পরিবারের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরেন তাহসিফ। কিছু সময় পর এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তিনি বাসা থেকে বের হন।

পরদিন ২৮ অক্টোবর তিনি শেষবারের মতো ‘আসছি’ লিখে বার্তা পাঠান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে অপেক্ষা

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আগে আলোচনায় এসেছিলেন সাবেক এই বিমানবাহিনী কর্মকর্তা। তাঁর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। তবে ভিডিও প্রকাশের ঘটনা এবং তাঁর মৃত্যুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো প্রমাণিত নয়।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের ফলাফল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বা দুর্ঘটনা হিসেবে নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করা সমীচীন হবে না।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ,

দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার ঋণগ্রস্ত, মাসিক ব্যয়ের চেয়ে আয় কম

দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার ঋণগ্রস্ত, মাসিক ব্যয়ের চেয়ে আয় কম

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে আর্থিক সংকটে পড়েছে দেশের বহু পরিবার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত। জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় মাসিক আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় সংসার চালাতে অনেককেই ধারদেনার আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

বিবিএসের ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’ শীর্ষক জরিপে পরিবারের আয়, ব্যয় ও ঋণগ্রস্ততার এই চিত্র উঠে এসেছে। জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে পরিচালিত জরিপটির তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলা এডিশন।

জরিপের হিসাব অনুযায়ী, দেশে পরিবারপ্রতি মাসিক গড় আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। বিপরীতে গড় ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে আয়ের তুলনায় একটি পরিবারকে গড়ে ১ হাজার ৭৯৮ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

গ্রামে ঋণগ্রস্ততার হার বেশি

জরিপে শহর ও গ্রামের পরিবারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতায় পার্থক্য দেখা গেছে। গত এক বছরে দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গ্রামীণ এলাকার ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ পরিবার ঋণ নিয়েছে। শহরাঞ্চলে এ হার ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ।

ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অঞ্চলভেদে পার্থক্য রয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা। অন্যান্য শহরাঞ্চলে এ ব্যয় ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা এবং গ্রামীণ এলাকায় ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা।

জরিপ অনুযায়ী, পরিবারের মোট ব্যয়ের বড় একটি অংশ খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে খরচ হয়। তবে সিটি করপোরেশন এলাকায় খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয়ের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

আগের তুলনায় বদলেছে আয়-ব্যয়ের চিত্র

বিবিএসের ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে পরিবারপ্রতি মাসিক গড় আয় ছিল ৩২ হাজার ৪২২ টাকা। ওই সময় গড় ব্যয় ছিল ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ তখন গড় আয়ের তুলনায় ব্যয় কম ছিল।

নতুন জরিপের তথ্য বলছে, বর্তমানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। পরিবারপ্রতি গড় ব্যয় এখন আয়ের চেয়ে বেশি। ফলে সঞ্চয় কমে যাওয়া এবং দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ তৈরিতে সহায়তার জন্য জরিপটি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ১৫০টি নমুনা এলাকা থেকে ৩ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে বিবিএস।

মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সংকটের প্রভাব

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের স্থবিরতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং প্রকৃত মজুরি হ্রাস মানুষের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও মানুষের আয় একই অনুপাতে না বাড়ায় ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় কাজের সুযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৈচিত্র্য তুলনামূলক সীমিত থাকায় সেখানকার পরিবারগুলো বেশি চাপের মুখে রয়েছে।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর সুবিধা সীমিতসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায় বলেও উল্লেখ করেন এই অর্থনীতিবিদ। ফলে অনেক পরিবারকে সঞ্চয় ভাঙতে কিংবা ঋণ নিতে হচ্ছে।

দারিদ্র্য বৃদ্ধির আশঙ্কা

বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের ঘাটতি এবং শিল্প খাতে নতুন চাকরি তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে বিবিএসের জরিপে উঠে আসা তথ্য দেশের পরিবারগুলোর আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা ও ঋণনির্ভরতার চাপ তুলে ধরেছে। আয় বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য না ফিরলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর আর্থিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।

ভারতের ভোটার তালিকায় নাম, তবু বাংলাদেশের স্কুলের প্রধান শিক্ষক

ভারতের ভোটার তালিকায় নাম, তবু বাংলাদেশের স্কুলের প্রধান শিক্ষক

খুলনার পাইকগাছার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, তাঁর নাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও তাঁর ভোটার তালিকায় নাম থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

পাইকগাছার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের নাগরিকত্ব, নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, অর্থ লেনদেন এবং বিদ্যালয়ের অনুদানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে তদন্তও হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২ নম্বর বরশুল গ্রামের একটি ঠিকানায় তাঁর নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি খুলনার পাইকগাছার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামেও তাঁর ভোটার হিসেবে নাম রয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে।

একাধিক তদন্ত, তবু বহাল পদ

অভিযোগগুলো নিয়ে এরই মধ্যে একাধিক তদন্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা রিসোর্স অফিসার মো. ঈমান উদ্দিন একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটিও প্রতিবেদন দেয়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো একটি প্রতিবেদনে দীপক চন্দ্র সরকারের পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হয়।

তারপরও তিনি কীভাবে এখনো প্রধান শিক্ষকের পদে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে উঠে আসা বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার প্রধান শিক্ষকের

তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন দীপক চন্দ্র সরকার। বাংলা এডিশনকে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, এতগুলো অভিযোগ ও তদন্তের পরও একই ব্যক্তি দায়িত্বে থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

কর্মকর্তাদের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বক্তব্যেও স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, দীপককে শোকজ করা হয়েছিল এবং জবাব না পাওয়ায় তাকে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তবে পরবর্তী অবস্থার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

খুলনা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালকও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। ফলে অভিযোগের তদন্ত, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং প্রধান শিক্ষকের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে তদন্তে যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ মেলে, তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।

দেশজুড়ে বৃষ্টি বাড়ার আভাস, থাকবে ভ্যাপসা গরম

দেশজুড়ে বৃষ্টি বাড়ার আভাস, থাকবে ভ্যাপসা গরম

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে শুরু করলেও গরম থেকে আপাতত স্বস্তি মিলছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী কয়েকদিন দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। তবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আপাতত নেই।

সোমবার দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। নোয়াখালীর মাইজদী কোর্টে ৮০ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় এদিন ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, লঘুচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে গেলেও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বুধবার থেকে পরবর্তী দুই-তিন দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

কোথায় কেমন বৃষ্টি হতে পারে

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

পরদিনও রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বৃষ্টি হলেও থাকবে ভ্যাপসা গরম

বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অস্বস্তিকর গরম পুরোপুরি কাটবে না। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, চলতি মাসজুড়েই কমবেশি বৃষ্টির পাশাপাশি ভাদ্রের ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। আর্দ্রতা বেশি থাকলে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় শরীরে গরম বেশি অনুভূত হয়।

সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে, ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কোনো উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা নেই। ফলে বৃষ্টি বাড়লেও দেশজুড়ে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। 

খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢুকছে ‘নীরব বিষ’, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢুকছে ‘নীরব বিষ’, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

খাবার শুধু ক্ষুধা মেটায় না, সুস্থ থাকারও অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু সেই খাবারেই যদি মিশে থাকে ক্ষতিকর রাসায়নিক, অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ কিংবা মাইক্রোপ্লাস্টিক, তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসই হয়ে উঠতে পারে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। দেশে খাদ্য ও নিত্যব্যবহার্য পণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা ও পরীক্ষার তথ্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ খাবার ও খাদ্যদূষণের প্রভাবে তাৎক্ষণিক অসুস্থতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অনিরাপদ খাবারের কারণে ২০০টিরও বেশি রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

ব্রয়লার মুরগি নিয়েও উদ্বেগ

দেশের মানুষের কাছে তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা অনেক। তবে মুরগির মাংসে অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ থাকার বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর তার অবশিষ্টাংশ মাংসে থেকে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন খাবার গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ উৎপাদন ও যথাযথ নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ফল-সবজি ও মিষ্টিতেও প্রশ্ন

শুধু মাংস নয়, ফলমূল ও শাকসবজিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। একইভাবে কেক ও জিলাপির মতো জনপ্রিয় খাবারে অননুমোদিত রং বা রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ক্ষতিকর উপাদান দীর্ঘদিন শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

পাউরুটিতেও ক্ষতিকর রাসায়নিকের তথ্য

পাউরুটি অনেকের প্রতিদিনের খাবারের অংশ। বিশেষ করে অসুস্থ মানুষদের জন্য এটি সহজলভ্য খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ২০২১ সালের একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৯টি পাউরুটির মধ্যে ১৬টিতে অতিরিক্ত মাত্রায় পটাশিয়াম ব্রোমেট পাওয়া গিয়েছিল।

গবেষণায় এসব নমুনায় পটাশিয়াম ব্রোমেটের মাত্রা ৩ দশমিক ৩১ থেকে ১২ দশমিক ৯১ পিপিএম পর্যন্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিলাপি নিয়েও সতর্কতার প্রয়োজন

বাঙালির প্রিয় মিষ্টান্ন জিলাপি নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। জিলাপিকে দীর্ঘক্ষণ মুচমুচে রাখা কিংবা দেখতে আকর্ষণীয় করতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মানুষের স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তাই খাবার তৈরির ক্ষেত্রে অনুমোদিত উপকরণ ব্যবহার এবং নিয়মিত বাজার তদারকি জরুরি।

টুথপেস্টেও মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

খাদ্যের বাইরেও নিত্যব্যবহার্য পণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ESDO) একটি গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল।

গবেষণাসংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

কঠোর নজরদারির দাবি

খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি উৎপাদন পর্যায় থেকেই নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জব্বার মন্ডল বলেন, ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান মেশানো চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু ভোক্তার সচেতনতা যথেষ্ট নয়। উৎপাদক, ব্যবসায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত পরীক্ষা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে খাদ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

নুসরাতের মা-ভাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি ইলিয়াস হোসাইনের

নুসরাতের মা-ভাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি ইলিয়াস হোসাইনের

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে নুসরাতের পরিবারকে ঘিরে কিছু অভিযোগ। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নুসরাতের মা ও দুই ভাইকে আইনের আওতায় এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতে ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও উচ্চ আদালতের রায়ে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। রায়ে সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। চার আসামির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

রায়ের পর ইলিয়াসের বক্তব্য

রায় ঘোষণার পর নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন নুসরাতের মা ও দুই ভাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তার অভিযোগ, নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের কোনো রায়ে নুসরাতের মা বা ভাইদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। ফলে ইলিয়াসের বক্তব্যকে অভিযোগ ও দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নুসরাতের মায়ের প্রতিক্রিয়া

হাইকোর্টের রায়ে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে রায়ের পর পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, নুসরাতের বিচার হলেও বর্তমানে পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এদিকে স্থানীয় পুলিশ নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে। এরই মধ্যে পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৯ সালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা

ইলিয়াস হোসাইনের বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে তার ২০১৯ সালের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে তিনি নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ভিন্ন ধরনের কিছু দাবি করেছিলেন। সেখানে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ডের পরিবর্তে পরিকল্পিত আত্মহত্যা হিসেবে দাবি করা হয়েছিল বলে বাংলা এডিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে নুসরাত হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত ২০১৯ সালে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে মামলাটি হাইকোর্টে আসে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আজ উচ্চ আদালত ১০ আসামিকে খালাস এবং চারজনের সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

হাইকোর্টের রায়ের পর মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ইলিয়াস হোসাইনের উত্থাপিত অভিযোগগুলো আদৌ কোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় যাবে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: বাংলা এডিশন

রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বছরে সাশ্রয় হতে পারে ১০০ কোটি ডলার

রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বছরে সাশ্রয় হতে পারে ১০০ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে চলছে শেষ ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব ধরনের পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সফলভাবে শেষ হলে ধাপে ধাপে গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুতে রূপপুরের প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের হিসাব বলছে, রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বিকল্প জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন কমে যাওয়ায় প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। বছরে এই সাশ্রয়ের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প হিসেবে কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের ওপর।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাছান জানিয়েছেন, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনের কাজ আগামী ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ইতোমধ্যে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল শেষ পর্যায়ের পরীক্ষাগুলো চলছে। প্রতিটি ধাপই বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন বেইসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। ফলে তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের ওঠানামার প্রভাবও দেশের বিদ্যুৎ খাতে তুলনামূলকভাবে কমবে।

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালনব্যবস্থার কমিশনিংয়ের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রিড ও সঞ্চালন অবকাঠামোর আরও কিছু প্রস্তুতি প্রয়োজন হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো নয়, দেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: ইত্তেফাক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুলকে অধ্যাপক ইউনূসের অভিনন্দন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুলকে অধ্যাপক ইউনূসের অভিনন্দন

 নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

এক শুভেচ্ছাবার্তায় অধ্যাপক ইউনূস নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অধ্যাপক ইউনূস মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

তিনি নতুন রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দায়িত্ব পালনে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

ইলিয়াস হোসাইনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ঘিরে নুরের বিরুদ্ধে নতুন বিতর্ক

ইলিয়াস হোসাইনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ঘিরে নুরের বিরুদ্ধে নতুন বিতর্ক

 নিজস্ব প্রতিবেদক: অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের প্ল্যাটফর্ম ‘ফিফটিন মিনিটস’-এ শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর এর বিভিন্ন দাবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক বিতর্ক।

প্রতিবেদনটির প্রতিক্রিয়ায় নুরুল হক নুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিনাকী ভট্টাচার্য ও ইলিয়াস হোসাইনের মতো বিদেশে অবস্থানরত কিছু কনটেন্ট নির্মাতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মনগড়া কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ করেন।

নুর দাবি করেন, তার দল গণঅধিকার পরিষদ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারার অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় তাকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নির্বাচনের আগেও তাকে পরাজিত করতে বিভিন্ন ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণা চালানো হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগকে তিনি গুরুত্ব দেন না এবং এসবের জবাব দিয়ে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব বাড়াতে আগ্রহী নন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ও পরে তিনি এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ইলিয়াস হোসাইনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নুরুল হক নুর ও তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে নুরের রাজনৈতিক উত্থানের পর তার ও তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।

ভিডিও প্রতিবেদনে সম্পদ অর্জন, আর্থিক লেনদেন, তদবির এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিবেদনে নুরের বিরুদ্ধে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে।

ইলিয়াস হোসাইনের অনুসন্ধানী ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

একদিকে নুরুল হক নুরের দাবি—তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে; অন্যদিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তার সম্পদ ও আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে পুরো বিষয়টি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয় হিসেবেও সামনে এসেছে।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে।

২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। ভোটগ্রহণে তিনজন সংসদ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে নির্বাচিত হয়ে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, ২১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জিয়া ও শেখ পরিবার: ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে দুই পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান

জিয়া ও শেখ পরিবার: ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে দুই পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া ও শেখ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত দুটি রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা, জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন প্রশ্নে দুই পরিবারের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক পদক্ষেপের পর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে এসব পরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আলোচিত হয়েছে।

এ ছাড়া ইসলামী শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার প্রসারের ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের আমলের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও ওই সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির সঙ্গে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক সম্পর্কও বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত চারদলীয় জোট সরকারে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয় এবং দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন।

ধর্মীয় শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার স্বীকৃতির বিষয়েও খালেদা জিয়ার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে আলোচিত হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের মূল্যায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

অন্যদিকে, শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মৌলিক নীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রচিন্তার সম্পর্ক বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকালেও আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রনীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন নিয়ে সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য দেখা গেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে তার সরকারের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ অবশ্য এসব অভিযোগের অনেকটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।

এদিকে, জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রীয় পরিচয় এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিএনপির রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির অবস্থান নিয়েও এসব বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে দুই পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে কেবল ধর্মীয় অবস্থানের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়—সবকটি বিষয়ই বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে।

ফলে জিয়া ও শেখ পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক মূলত বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা ও রাজনৈতিক আদর্শের দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বেরই একটি প্রতিফলন। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলালেও দুই পরিবারের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: বাংলা এডিশন

১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের দুই চরিত্র ডালিম-রাশেদকে দেশে ফেরানোর দাবি

১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের দুই চরিত্র ডালিম-রাশেদকে দেশে ফেরানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর শরিফুল হক ডালিম ও রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের ভূমিকার মূল্যায়ন ও উপযুক্ত মর্যাদা দেওয়ার দাবি উঠেছে।

সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানরত এসব সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে স্বদেশে ফেরানোর দাবি জোরালো হচ্ছে। সমর্থকদের দাবি, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং তৎকালীন একদলীয় শাসনব্যবস্থার অবসানে তাদের ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের অবদান ও বীরত্বের যথাযথ মূল্যায়নের তাগিদ দিয়েছেন বীর প্রতীক কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান। তার মতে, দেশের জন্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান দেওয়া না হলে ভবিষ্যতে দেশপ্রেমের চর্চা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে দেশে ফেরার প্রশ্নে রাশেদ চৌধুরীর সামনে রয়েছে বড় ধরনের আইনি জটিলতা। তিনি জানিয়েছেন, আদালতের দেওয়া সাজা ও দণ্ডাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় দেশে ফেরার সুযোগ দেখছেন না তিনি। তার মতে, সংশ্লিষ্ট দণ্ডাদেশ ও আইনি বাধা দূর না হলে তার স্বদেশে ফেরা সম্ভব নয়।

ফলে বিষয়টি এখন ইতিহাস ও রাজনীতির পাশাপাশি আইনি প্রশ্নের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে। একদিকে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা ও ভূমিকার পুনর্মূল্যায়নের দাবি, অন্যদিকে আদালতের রায় ও বিদ্যমান আইন—এই দুই বাস্তবতার মধ্যেই মেজর ডালিম ও রাশেদ চৌধুরীর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নটি রয়ে গেছে।

পরিস্থিতির পরবর্তী রাজনৈতিক ও আইনি অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে দীর্ঘদিনের এই জটিল অধ্যায়ের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়।

সূত্র: বাংলা এডিশন

ক্যামেরার নজরদারিতে আসছে মহাসড়কের চাঁদাবাজি, পর্যায়ক্রমে চালু হবে অটো ফাইন

ক্যামেরার নজরদারিতে আসছে মহাসড়কের চাঁদাবাজি, পর্যায়ক্রমে চালু হবে অটো ফাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন কিংবা পুলিশের কেউ চাঁদাবাজিতে জড়ালে তা ক্যামেরায় ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কের বিভিন্ন কার্যক্রম ক্যামেরার আওতায় চলে আসবে। এর ফলে চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অনিয়মের ওপর নজরদারি বাড়বে এবং এসব অপরাধের প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সময় কোনো ভুল বা সীমাবদ্ধতা ধরা পড়লে তা সংশোধন করে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই প্রযুক্তি চালু করা হবে।

যেসব অপরাধ শনাক্ত হবে

এআইভিত্তিক অটো ফাইন ব্যবস্থায় গাড়ির গতিসীমা লঙ্ঘন, অবৈধভাবে পার্কিং, বিপরীত দিক দিয়ে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন ভাঙার ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হবে।

আইন লঙ্ঘনের তথ্য শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে। একাধিকবার জরিমানা হলে গাড়ির নিবন্ধন বাতিল করা হবে কি না, তা বিআরটিএর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

২৫০ কিলোমিটারে ১,৪২৭ ক্যামেরা

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়কে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মেঘনাঘাটে একটি ডাটা সেন্টারও স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে নজরদারি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা করা হবে।

মহাসড়কে থ্রি-হুইলার নিয়েও কঠোর অবস্থান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচলের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল কোনোভাবেই অনুমোদনযোগ্য নয় এবং নিয়মটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

তবে গ্যাস স্টেশন, বাজার, নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও ফিডার সড়কের সঙ্গে সংযোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার জন্য হাইওয়ে পুলিশের প্রধানকে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নতুন এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু হলে মহাসড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে চালু হলো ‘মহিলা বাস সার্ভিস’

নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে চালু হলো ‘মহিলা বাস সার্ভিস’

নিজস্ব প্রতিবেদক: কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীতে আবারও পৃথক ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গোলাপি রঙের এসব বাসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীরাই দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে নতুন এই বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর দিয়ে পরিচালিত এই পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি গণপরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।

যেসব রুটে চলবে মহিলা বাস

বিআরটিসি জানিয়েছে, রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে এসব বাস চলাচল করবে। রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • নতুনবাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল
  • তালতলা-মতিঝিল
  • ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-মতিঝিল
  • মিরপুর-১০-মতিঝিল
  • মিরপুর-১২-মতিঝিল
  • আব্দুল্লাহপুর-কোয়ার্টার-জিপিও
  • মিরপুর-মতিঝিল
  • মোহাম্মদপুর-মতিঝিল

এ ছাড়া গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও বিশেষ বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুনবাজার থেকে মতিঝিলগামী বাস কোকাকোলা, নতুনবাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে। অন্য রুটগুলোর বাসও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা সংযুক্ত করবে।

ঢাকার বাইরেও চলবে

শুধু রাজধানীতে নয়, ঢাকার বাইরেও মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ার শেরপুর-মাটিডালি রুটে দুটি এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটে দুটি বাস চলবে।

চট্টগ্রামের বাসগুলো কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড় ও লালখান বাজার হয়ে চলাচল করবে।

বিআরটিসির এই উদ্যোগের ফলে কর্মজীবী ও শিক্ষার্থী নারীরা গণপরিবহনে তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৩১

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৩১

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩১ জন।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৫০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে ৯৮১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৯১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে।

এ সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৮ জনে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৯৩০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৬ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে প্রতিদিন নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা সামনে আসায় দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর ঘটনা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

বাংলাদেশে আল-কায়েদার বিস্তার নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে আল-কায়েদার বিস্তার নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা ও সম্প্রসারণ নিয়ে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্যকে অনুমাননির্ভর বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবেদনে যে ধরনের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, তা সরকার আমলে নিচ্ছে না।

সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে সংগঠনটির বাংলাদেশে স্থায়ী ঘাঁটি ও গোপন সেল তৈরির চেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর দেশে জঙ্গিবাদ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) আগের তুলনায় নিজেদের কার্যক্রমের ধরন পরিবর্তন করছে। বড় আকারের ইউনিটের পরিবর্তে বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে তাদের আর্থিক ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের এই মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিষয়ে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি বলে মনে করছে সরকার। দেশে আল-কায়েদার এমন বিস্তৃত তৎপরতার বিষয়ে সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো তথ্য নেই বলেও তিনি জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো ধরনের জঙ্গি তৎপরতা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে।

গত ১০ আগস্ট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দল তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে আল-কায়েদা ও আইএসআইএলের বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

সরকারের বক্তব্য হলো, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভারতকে এমন জবাব দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম’

ভারতকে এমন জবাব দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম’

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাদিকুর রহমান খান।

রোববার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফেরত না দিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না—সরকারের এমন অবস্থানকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের দৃঢ় অবস্থান আগে খুব কমই দেখা গেছে।

সাদিকুর রহমান খান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরকারের এমন অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে তিনি সরকারের সমালোচনা করলেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কথা বলার বিষয়টিকে তিনি সমর্থন করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাদিকুর রহমানের ভাষ্য, বাংলাদেশের মানুষ আগেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তিনি এটিকে দেশের সার্বভৌমত্বের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফেরত আনার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। 

ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরাতে কঠোর অবস্থানে ঢাকা

ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরাতে কঠোর অবস্থানে ঢাকা

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত স্থগিত করেছে বাংলাদেশ। সফরের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে এগোতে চায় না ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিল্লি সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওসমান হাদী হত্যা মামলায় অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এখন ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র জানান, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করবে।

এদিকে ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরাতে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ইতোমধ্যে ভারতের কাছে পাঠিয়েছে। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনের প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে ভারতের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিচার চলমান অবস্থাতেও অভিযুক্তদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করা সম্ভব। এরই মধ্যে মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীরকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ।

দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাওয়ার বিষয়টি ঢাকা-নয়াদিল্লি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যর্পণ ইস্যুগুলোরও সমাধান চায় ঢাকা।

শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান

শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন-এর বরাত দিয়ে বাংলা এডিশনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না। এমনকি ২০২৬ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনেও তিনি অংশ নেবেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। বৈঠকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত ভারত সফরের বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন—এমন দাবি করা হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে।

নতুন পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত

বাংলা এডিশনের প্রতিবেদনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় আরও স্বাধীন ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

চীন সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কেও নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি মোংলা বন্দর ও তিস্তা প্রকল্পে চীনা সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ঢাকার কঠোর অবস্থান

শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি এখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার কাছে এটি শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক সমীকরণও জড়িয়ে রয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না বা ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন না—এই দাবিগুলো মূলত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

তথ্যসূত্র: দ্য ট্রিবিউন।