The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
৪ আগস্ট: এক দিনের অসহযোগে রক্তাক্ত বাংলাদেশ, পরদিনই চূড়ান্ত ডাক ‘মার্চ টু ঢাকা’

৪ আগস্ট: এক দিনের অসহযোগে রক্তাক্ত বাংলাদেশ, পরদিনই চূড়ান্ত ডাক ‘মার্চ টু ঢাকা’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক রক্তাক্ত ও স্মরণীয় দিন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির প্রথম দিনেই রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও সহিংসতায় উত্তাল হয়ে ওঠে। দিনভর সংঘর্ষে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর আসে এবং আহত হন কয়েক হাজার মানুষ। সেই দিনের ঘটনাপ্রবাহই পরদিন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির পথ তৈরি করে।

সকালে বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। রাজধানীর শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব, মিরপুর-১০, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, উত্তরা, রামপুরা, বাড্ডা, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ চলাকালে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট, ছররা গুলি এবং বিভিন্ন ধরনের শক্তি প্রয়োগ করা হয়। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরাও বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, মিছিল এবং প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।

দিনভর সংঘর্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ১৩ পুলিশ সদস্য নিহত হন। এছাড়া ঢাকা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নরসিংদী, বগুড়া, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, মাগুরা, মুন্সীগঞ্জ, পাবনা, জয়পুরহাট, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

এদিকে সংঘর্ষের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, সরকারি স্থাপনা, থানা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জনপ্রতিনিধিদের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা যায়।

বিকেলের দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা শাহবাগে সমাবেশ থেকে পূর্বঘোষিত ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা আন্দোলনকারীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

সন্ধ্যায় সরকার রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করে। একই সঙ্গে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ, আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন এবং তিন দিনের সরকারি ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এসব পদক্ষেপের পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে রাত পর্যন্ত সংঘর্ষ চলতে থাকে।

৪ আগস্টের ঘটনাবলি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। ওই দিনের সহিংসতা ও প্রাণহানির পরের দিন ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে।

কাঁচামরিচের কেজি ৪০০ টাকা, ১০০ টাকার ওপরে বেশিরভাগ সবজির দাম

কাঁচামরিচের কেজি ৪০০ টাকা, ১০০ টাকার ওপরে বেশিরভাগ সবজির দাম

 

টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যার প্রভাব এখনও কাটেনি রাজধানীর কাঁচাবাজারে। সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও কমেনি দাম। বরং গত এক সপ্তাহে কাঁচামরিচ ও দেশি পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে। অধিকাংশ সবজিও দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সেগুনবাগিচা, ধুপখোলা ও রায়সাহেব বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বর্তমানে বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক খুচরা দোকানে ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর সবজি ব্যবসায়ী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে যে মরিচ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা ৪০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

রায়সাহেব বাজারের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় মরিচক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে সরবরাহও স্বাভাবিক নয়। ফলে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

কাঁচামরিচের পাশাপাশি দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগেও একই পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।

মাসের শুরুতে বৃষ্টি ও বন্যার কারণে যে মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি কমেনি। কয়েকটি সবজির দাম কিছুটা কমলেও অধিকাংশ সবজি এখনও ১০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারভেদে লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সাদা বেগুন প্রায় ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। করলা, বরবটি ও কাঁকরোলের দাম ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ধুন্দুল, ঝিঙে, পটোল ও ঢ্যাঁড়শের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। এসব সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। একটি লাউয়ের দাম আকারভেদে ৭০ থেকে ৯০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

ধুপখোলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, বর্তমান দামে কাঁচামরিচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তিনি মনে করেন, বৃষ্টির কারণে উৎপাদন কমলেও বাজারে নিয়মিত তদারকি বাড়ানো হলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় ছোট বাজারগুলোর তুলনায় কারওয়ান বাজারে কিছু পণ্য তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও কাঁচামরিচের দামই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বন্যা ও টানা বর্ষণের প্রভাব পুরোপুরি না কাটায় অল্প সময়ে দাম কমার সম্ভাবনাও কম বলে মনে করছেন তারা।

হবিগঞ্জে হামলা ও ১৪৪ ধারার প্রতিবাদে ঢাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ

হবিগঞ্জে হামলা ও ১৪৪ ধারার প্রতিবাদে ঢাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ

 

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলা, কেন্দ্রীয় কর্মসূচিকে ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি এবং পুলিশি বাধার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

বুধবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী অভিযোগ করেন, ভিন্নমত দমনে বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী সরকারের পথ অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, “তারেক রহমানের মধ্যে শেখ হাসিনা হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ভিন্নমত দমনে হাসিনার কায়দায় তারা বালুর ট্রাক দিয়ে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল আটকানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু যারা ১৭ বছরের দানবীয় শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে, তাদের বালুর ট্রাক দিয়ে আটকানো যাবে না। তারেকের নামে হোক বা হাসিনার নামে—এ দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেওয়া হবে না।”

দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বিষয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে, রাজধানীর অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক নয় এবং শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে তাদের যে পরিকল্পনা ছিল, গত পাঁচ মাসে তা স্পষ্ট হয়েছে। কীভাবে মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যায় এবং সভা-সমাবেশে হামলা করা যায়, সেটিই তারা দেখিয়েছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলকে ব্যবহার করে সহিংসতা সৃষ্টি করছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ বালুর ট্রাক দিয়ে আন্দোলন দমাতে পারেনি, আপনারাও খালি ট্রাক দিয়ে পারবেন না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে যে গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ ঘটেছে, তা আপনারা বুঝতে পারছেন না।”

তিনি আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে হামলা ও দমন-পীড়নের পথ অনুসরণ করা হলে সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে।

সমাবেশ শেষে বক্তারা হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়া এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

বাড়ছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা

বাড়ছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন—এমন বিধান যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য হয়নি। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে একক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবে বিএনপির আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় নোট অব ডিসেন্ট হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল ও আইন কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফ বা ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতাও বহাল রাখা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো আবেদন বিবেচনার আগে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতি গ্রহণের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ছাড়া প্রায় সব রাষ্ট্রীয় বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিকের মতে, জুলাই জাতীয় সনদের সুপারিশ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে। তবে চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করবে সংসদের সংবিধান সংশোধন কমিটি।

সরকারদলীয় হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান জানিয়েছেন, জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার ইতিবাচক। আর যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আলোচনা করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদও মনে করেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো হলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হবে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।

এদিকে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন এ কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা রয়েছেন। তবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এখনো কমিটিতে প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়নি

রাজধানীসহ ১৩ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

রাজধানীসহ ১৩ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

 

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩টি অঞ্চলে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য এ পূর্বাভাস কার্যকর থাকবে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার সব অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

নৌযান চালক, জেলে এবং নদীপথ ব্যবহারকারীদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

চুপ্পুর অসুস্থতায় স্বাস্থ্য সনদের প্রয়োজন নেই: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

চুপ্পুর অসুস্থতায় স্বাস্থ্য সনদের প্রয়োজন নেই: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি


 ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর অসুস্থতা নিয়ে কোনো স্বাস্থ্য সনদ বা মেডিকেল সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, "চুপ্পুর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সনদের প্রয়োজন নেই। তিনি যে শারীরিকভাবে অসুস্থ, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এমনকি মাঝে মাঝে তিনি অচেতনও হয়েছেন।"

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা রক্ষায় সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়টি সামনে রেখে তিনি চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফেরেন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।


পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি ব্যক্তিগত কারণ ও শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরই তা কার্যকর হয়েছে বলে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এ কারণে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পদত্যাগের বিষয়টি আগে থেকেই সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে জানা ছিল।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলার মধ্যেই চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরছেন বলে জানা গেছে।

সংসদ সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ১৯ জুলাই ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন স্পিকার। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তার আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও, সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুরোধে সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবারই দেশে ফিরছেন তিনি।

সূত্রগুলোর দাবি, শুক্রবার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে স্পিকারের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। এ কারণে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনার মধ্যে স্পিকারের আগাম দেশে ফেরাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।

ইতিহাসে এর আগে ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার প্রায় আড়াই মাস ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সেই সুযোগ রয়েছে

কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সেই সুযোগ রয়েছে

 

কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাইলে বাংলাদেশের সংবিধানে তার জন্য স্পষ্ট বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে চাইলে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দায়িত্ব ছাড়তে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, দায়িত্ব পালন বা উত্তরসূরি নিয়োগ—সব বিষয়ই সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর করণীয় সম্পর্কেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে পদত্যাগের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সাংবিধানিক কোনো শূন্যতা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।

সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য সরকারি ঘোষণার ওপরই নির্ভর করা উচিত।

চলতি মাসেই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, জোরালো আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে

চলতি মাসেই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, জোরালো আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে

 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) চলতি মাসের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে। একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যগত কারণ এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা বিবেচনা করে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে এখনও বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার ঘনিষ্ঠজন ও বঙ্গভবনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন। স্বাস্থ্যগত কারণেই তিনি পদত্যাগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলেও পরে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগ নিশ্চিত করে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কে নতুন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদে পরিবর্তন হলে তা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনা হিসেবেই দেখা উচিত।

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

 

প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত আটটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়া প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যবহার করা হবে।

একনেক সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত আটটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি নতুন প্রকল্প এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা সম্প্রসারণ এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন আসামি

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন আসামি


 ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে হস্তান্তর করে।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের নথিপত্র বর্তমানে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত কার্যক্রম এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের পাশাপাশি তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকেও আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরসহ গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী অঙ্গনের আরও কয়েকজন ব্যক্তি।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই তদন্ত প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে।

সূত্র : আমার সংবাদ

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে


 রাজধানী ও চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সব জেলায় চাঁদাবাজি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানদাররাও চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। যতই দিন যাচ্ছে, চাঁদাবাজি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছে। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামে একটি বড় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সন্ত্রাসীরা এর মালিকপক্ষকে দুই কোটি টাকা চাঁদা এবং মাসে দশ লাখ টাকা দেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে এসেছে। তা নাহলে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের এ ধরনের দৌরাত্ম্য কমবেশি সারাদেশেই চলছে। গতকাল ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে রাজধানীর চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাজধানীর ৪৫টি থানা এলাকায় প্রায় ১২০০ চাঁদাবাজ সক্রিয় রয়েছে। ক্ষিলখেত, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, হাতিরঝিল, বাড্ডা, উত্তরা, ভাটারা, খিলগাঁও, পল্লবী, আদাবর এলকায় চাঁদাবাজরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। অন্যান্য এলাকায়ও কমবেশি চাঁদাবাজি চলছে। চাঁদাবাজির এ চিত্র শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশের সর্বত্রই বিরাজমান।

দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি নতুন কিছু নয়। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে। যথাযথ পদক্ষেপ না থাকায় তা দমন করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। তাতে কাজ হয়নি। চাঁদাবাজদের সাথে রাজনৈতিক দলের একশ্রেণীর প্রভাবশালী নেতা ও আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যর সংশ্রব ও প্রশ্রয় থাকার কারণে চাঁদাবাজি নির্মূল করা যাচ্ছে না। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিগত দেড় দশকের শাসনামলে চাঁদাবাজি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল। প্রকাশ্যেই তা চলেছে। ফুটপাতের দোকান, মার্কেট, বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন, আবাসনখাতসহ বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়মিত ছিল। এর সাথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সরাসরি জড়িত ছিল। তাদের চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীদের নাভিশ^াস উঠেছিল। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের অন্যতম কারণ ছিল, চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে অতীষ্ঠ মানুষের ক্ষোভ। হাসিনার পতনের পর আশা করা হয়েছিল, চাঁদাবাজি, দখলবাজির অবসান ঘটবে। দেখা যাচ্ছে, তা ঘটেনি। আগের চাঁদাবাজদের জায়গায় নতুন চাঁদাবাজরা স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, কিংবা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চাঁদাবাজি বহাল রেখেছে। দেশে যে কথাটি বহুল প্রচলিত তা হচ্ছে, একদল ক্ষমতা থেকে গেলে, আরেকদল ক্ষমতায় এলে শুধু চাঁদাবাজদের পরিবর্তন ঘটে। চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। এটা পালাবদলের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে এখন ক্ষমতায়। দেখা যাচ্ছে, চাঁদাবাজির অপসংস্কৃতির পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই চাঁদাবাজরা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, হাসিনার শাসনামলে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী সীমাহীন নিপীড়ন-নির্যাতন, খুন-গুম, হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। অনেকের বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য আওয়ামী পান্ডারা দখল করে নিয়েছিল। তারা যে কিছু করে জীবনযাপন করবে, এ সুযোগও ছিল না। হাসিনার পতনের পর তাদের কেউ কেউ চাঁদাবাজি-দখলবাজির মতো অপকর্মে জড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে চাঁদাবাজির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিএনপি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল। চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ছয়-সাত হাজার নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কারসহ অনেকের বিরুদ্ধে দল থেকে মামলা করা হয়। তাতে চাঁদাবাজি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দল ক্ষমতায় আসার পর তা আবার বেড়ে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সিদ্ধান্ত থাকা অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও কঠোর অবস্থান থাকা দরকার। চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই, তারা শুধুই চাঁদাবাজÑএ মনোভাব থাকা জরুরি। চাঁদাবাজির সাথে যেই জড়িত থাকুক, যতই প্রভাবশালী হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বিএনপিকে এ কথাও মাথায় রাখতে হবে, যেসব নেতাকর্মী বিগত দেড়যুগ ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে অবর্ণনীয় নিপীড়ন-নির্যাতন ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে, সর্বস্ব হারিয়েছে, তাদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনে দলকে কিছু করতে হবে। দল কি তা করেছে? সহজ পথ হিসাবে, দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি এবং দখলবাজির সুযোগ দেয়া দলের পক্ষে মোটেই সমীচীন হতে পারে না।

চাঁদাবাজ-দখলবাজকে অপরাধী হিসেবে দেখতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের কেউ জড়িত থাকলে পার পেয়ে যাবে, এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বলা বাহুল্য, ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতাকর্মীর অপরাধ মানুষের কাছে অনেক বড় হয়ে দেখা দেয়। এর দায় ক্ষমতাসীন দলের উপরই বর্তায়। বর্তমানে যেভাবে চাঁদাবাজি চলছে, তার দায়ও ক্ষমতাসীন বিএনপির উপর বর্তাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জমা হচ্ছে। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, চাঁদাবাজরা তাকে ক্ষমতায় আনেনি, এনেছে সাধারণ মানুষ। এখন তারাই যদি চাঁদাবাজদের জুলুমের শিকার হয়, তাহলে তারা কোথায় যাবে? এমনিতেই দেশের অর্থনীতি নাজুক, ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম মন্দাবস্থার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে যদি চাঁদাবাজি চলতে থাকে, তাহলে মানুষের ক্ষোভ ক্ষমতাসীন বিএনপির উপরই পড়বে। চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির যে বদনাম হচ্ছে, তার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে যে পড়বে, তাতে সন্দেহ নেই। এসব নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী থাকবে। ভোটাররা তখন চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির প্রার্থীর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। অন্যদিকে, বিরোধীদলগুলো এই চাঁদাবাজিকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরবে। এতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। হাসিনার পতনের পর মানুষ যে পরিবর্তন আশা করেছিল, তা যদি ক্ষমতাসীন দলের সংশ্রবে বা প্রশ্রয়ে মুখথুবড়ে পড়ে, সেই পুরনো অপসংস্কৃতি বহাল থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের হতাশ ও ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক। ক্ষমতাসীন বিএনপিকে এ বিষয়টি সিরিয়াসলি বিবেচনায় নিতে হবে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।

২০ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে না এসএসসি পরীক্ষার ফল

২০ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে না এসএসসি পরীক্ষার ফল

 

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশের সম্ভাব্য সময় থাকলেও তা হচ্ছে না। প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে ফল প্রকাশের নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আসছে।

 তবে নতুন তারিখ এখনো নির্ধারণ না হলেও চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শনিবার (১৮ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘২০ জুলাই ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না। এইচএসসি নিয়ে নানান জটিলতার কারণে আমরা ফলাফল প্রস্তুত করতে পারিনি। আমরা মাসের শেষের দিকে ফলাফল প্রকাশ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

 এ মাসেই ফলাফল প্রকাশ হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সবকিছু প্রস্তুত করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় আমাদের জন্য তা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

আন্দোলনের গতিপথ পাল্টে দেয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আন্দোলনের গতিপথ পাল্টে দেয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

সকাল সোয়া ৯টা। ১৮ জুলাই, ২০২৪। কমপ্লিট শাটডাউন চলছে। ফেসবুক খুলতেই দেখি শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির গেটের ভেতরে ঢুকিয়ে দিল পুলিশ। মুহূর্তের ভগ্নাংশের মধ্যে ছুটে মেয়ের রুমে ঢুকে দেখি, ফাঁকা। পেছন থেকে ছোট মেয়ে বলল, প্যানিক করো না। আপি ম্যাচ, নিউজ পেপার, পেস্ট, এন্টিকাটার আর মরিচ গোলানো পানি নিয়ে ব্র্যাকে গেছে। আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম। পুলিশ গুলি ছুড়ছে। একদিন আগে আবু সাঈদ-ওয়াসিমসহ ছয়জন মারা গেছে। আর এরা এন্টিকাটার আর মরিচের গুঁড়া নিয়ে সাহস দেখাচ্ছে!

আগের রাত থেকেই পাবলিক ইউনির্ভাসিটিগুলোর হলে আর শিক্ষার্থীদের থাকতে দিচ্ছে না প্রশাসন। পুলিশ-ছাত্রলীগের তাণ্ডবে রাজু ভাস্কর্য বা টিএসসি—কোথাও জড়ো হতে পারছে না সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রায় অবরুদ্ধ পুরো শহর। দমবন্ধ এই পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাই রাস্তায় নেমে আসে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হাজার হাজার। ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্ট, নর্দান, নর্থ সাউথের তরুণ-তরুণীরা আন্দোলনে নতুন করে আগুন ধরায় সেদিন, যা ছিল জুলাই বিপ্লবের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট।

আগে থেকেই মেসেজিং অ্যাপ ডিসকোর্ডে গ্রুপ খোলে তারা। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে শেয়ার হতে থাকে গ্রুপের লিংক। চেষ্টা ছিল ১৮ তারিখে সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থীকে মাঠে নামানোর।

আমার আগের রাত কেটেছে মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে। কেন সে রোজ আন্দোলনে যোগ দিতে যাচ্ছে? সে পড়ে প্রাইভেট ভার্সিটিতে। বিসিএস কখনো দেবে না। কোটার তার প্রয়োজন নেই। দেশে থাকবে কি না তারও ঠিক নেই। ঘরকুনো, নিজের মধ্যে থাকা একটি মেয়ে কেন যাবে? প্রশ্নের চেয়েও জবাবগুলো ছিল অনেক তীক্ষ্ণ, ফেলো স্টুডেন্টরা গুলি খাবে, মরবে আর সে কাওয়ার্ডের মতো ঘরে বসে থাকবে? সব শেষে বলল, ‘একাত্তরে তোমার মতো মা থাকলে এ দেশ আর স্বাধীন হতো না।’

সকাল ৭টায় কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে গেছে।

ওদের পরিকল্পনা কোনোভাবে লিক হয়ে গিয়েছিল। ১৮ জুলাই ভার্সিটির গেটে আগেই পুলিশ এসে অবস্থান নেয়। পুলিশকে সামনে রেখে রাস্তায় বসে পড়ে শিক্ষার্থীরা। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। ওদের ওপর কড়া নির্দেশ ছিল, আইডি কার্ড নেই এমন কারো কাছ থেকে কিছু নেওয়া যাবে না। অচেনা অনুপ্রবেশকারীদের বিক্ষোভে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।

অল্প সময়ের মধ্যেই সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ। ধাওয়া দিয়ে তুলে দেয় শিক্ষার্থীদের। শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। এক পর্যায়ে ব্র্যাকের গেট খুলে দেওয়া হয়। পুলিশ বাইরে থেকে টিয়ার শেল ক্যাম্পাসে ছুড়তে থাকে। কোণঠাসা হয়ে পড়ে ব্র্যাকের শিক্ষার্থীরা।

এ সময় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনির্ভাসিটির শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে ব্র্যাকের দিকে ছুটে আসে। যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে এগোতে থাকে নর্থ সাউথসহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা। রোকেয়া সরণির পুরো রাস্তা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

মেয়ের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ হয় বেলা সাড়ে ১১টায়। ফোন করে জানায়, ক্যাম্পাসে আছে। টিয়ার শেলের ধোঁয়ায় ওরা কেউ শ্বাস নিতে পারছে না। মুখ ও হাতে পেস্ট মেখেছে। খবরের কাগজ পুড়িয়ে ধোঁয়া বানানোর পরও ঝাঁজ যাচ্ছে না।

আমি তখন যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় একটি অনলাইন পোর্টালে কাজ করি। সিদ্ধান্ত নিলাম অফিসে যাব, ওখান থেকে হেঁটে ব্র্যাকে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসব। ভেঙে ভেঙে অফিসে পৌঁছালাম। কিছুটা অফিসের গাড়িতে, কিছুটা রিকশায় আর বাকিটা হেঁটে। স্টুডেন্টদের বাধা, পুলিশ-ছাত্রলীগের ব্যারিকেড পার হয়ে ব্র্যাক পর্যন্ত আর এগোনো গেল না।

সারা দেশ থেকে ভয়াবহ নৃশংসতার খবর আসতে থাকে। দেশের ৪৭ জেলায় পুলিশ-র‌্যাব, ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলায় ৩১ জন নিহত হয়। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ২৬ জন। শুধু ঢাকায়ই নিহত হয় ১৯ জন।

ঘণ্টাখানেক চুপ থাকার পর মেয়ের এসএমএস আসে। পুলিশ বাইরে থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে বৃষ্টির মতো গুলি করছে। বহু স্টুডেন্টের শরীরে গুলি লেগেছে। বলল, ‘পাখির মতো স্টুডেন্টদের মারছে ওরা।’ মনে হলো কেউ খুব শক্ত হাতে কঠিনভাবে আমার গলা টিপে ধরেছে। শ্বাস নিতে পারছি না। আরেকটি বড় টেক্সট ফোনে ঢুকল, পুলিশের গুলি থামাতে ব্র্যাকের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছে। হাতে লাঠি নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া দিচ্ছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেল হাতে নিয়ে আবার ছুড়ে দিচ্ছে পুলিশের দিকে। সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইস্ট ওয়েস্টসহ আরো কয়েকটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা।

প্রাণ বাঁচাতে কানাডিয়ান ইউনিভাসির্টির দোতলায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে পুলিশ। তবে সেখান থেকেই শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি আর টিয়ার শেল ছুড়ছে তারা।

এবার আর টেক্সট না, ফোনই করে মেয়ে। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ভেতরে ঢুকে ওই পুলিশ সদস্যদের থামাতে যাচ্ছে ওরা। জানিয়েই ফোন কেটে দিল। হতবিহ্বল লাগছিল। এর ৩০-৩৫ মিনিট পর জানালো দোতলায় আটকে পড়া পুলিশ ছাদে উঠে গেছে। ওদের গুলি-টিয়ার শেল শেষ। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির সিঁড়ি দখল করে আছে স্টুডেন্টরা। এক পুলিশ সদস্যকে ওরা ধরে ফেলেছিল। তার কাপড় খুলে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কিছু চড়-থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

এর মধ্যেই ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেল। উত্তরা, সাভার, যাত্রাবাড়ী রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বলে টেলিফোনে খবর আসছে। ছাত্র মারা যাওয়ার খবর আসছে। ধানমন্ডিতে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র ফারহান ফাইয়াজ নিহত হয়েছে। পুলিশের গুলিতে মারা গেছে উত্তরার নর্দান ইউনিভাসিটির আসিফ ও শাকিল নামে দুটি ছেলে। উত্তরায় এপিসি নিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে পুলিশ।

দুপুরের দিকে বাড্ডা থেকে সহকর্মী ফোন করলেন। জানালেন, ক্যানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাদ থেকে পুলিশ সদস্যদের রেসকিউ করার জন্য র‌্যাবের হেলিকপ্টার যাচ্ছে। আমার মেয়ে চাইলে ওদের সঙ্গে বেরিয়ে আসতে পারে। মেয়েকে জানালাম। উত্তরে মেয়ে জানাল, ‘আমি প্রোটেস্ট করতে আসছি। আমি কাওয়ার্ড না। আমি পালাব না।’ ফোনটা বন্ধ করে দিল। আমি কোনোভাবেই আর ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলাম না।

বিকালে শাহবাগে জড়ো হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের ওপর টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। সাড়ে ৫টার দিকে কফিন মিছিল শুরু হতেই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ছাত্র-জনতা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য করে প্রশাসন। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করলে নিজ ভবনে আটকে পড়েন উপাচার্য। পরে পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় শিক্ষার্থীরা, আহত হয় শতাধিক। সারা দিনে সারা দেশে শুধু পুলিশের হিসাবেই আহত হয় দেড় হাজার মানুষ।

বিকালের দিকে বিটিভির কার্যালয়েও একাধিকবার হামলা চালানো হয়। অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ সময় বিরতি দিয়ে বিকাল সাড়ে ৫টায় মেয়ে আমাকে ফোন করে। জানায়, এবার সে বাড়ি ফিরতে চায়। রাস্তায় কোনো বাস বা রিকশা নেই। পুলিশ নেই। শিক্ষার্থীরা ফিরছে। তার আর হাঁটার শক্তি নেই। এবার আমি আমার সহকর্মীর সহায়তা নিতে পারলাম। তিনি মেয়েকে নিয়ে অফিসে ফিরলেন। আমার টুকটুকে ফর্সা তালপাতার সিপাই মেয়ে পুড়ে কুচকুচে কালো হয়ে গেছে। মনে হলো কেমন যেন কুঁকড়ে আছে। গলার কাছে উঁচু হয়ে আছে ছোট্ট একটি বল । কী ওটা? চামড়া সরে লাল হয়ে আছে জায়গাটা। ছররা বুলেটের টুকরা? মাথা থেকে বলটাকে ঝেড়ে ফেললাম। মেয়ে বেঁচে আছে। সুস্থ। আর কী চাওয়ার আছে?

সিদ্ধান্ত নিলাম পরদিন থেকে চাকরি-বাকরি বাদ। মেয়ের সঙ্গে বিক্ষোভে নামব।

আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলনের গতিপথে আসে বড় পরিবর্তন

আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলনের গতিপথে আসে বড় পরিবর্তন

 

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ পুলিশের বন্দুকের সামনে যেভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো বিশ্ব। আবু সাঈদের রক্তে পাল্টে যায় আন্দোলনের গতিপথ। আবু সাঈদের মৃত্যুতে কেঁপে ওঠে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী মসনদ। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সমর্থকদের হামলায় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদের পাশাপাশি সারা দেশে আরও পাঁচজন শহীদ হন। আহত হন অসংখ্য ছাত্র-জনতা। জেলায় জেলায় সংঘর্ষ, বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে সারা দেশ। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বগুড়ায় আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন দেয় আন্দোলনকারীরা। একদিকে সমগ্র দেশের ছাত্র-জনতা আর অন্যদিকে আওয়ামী সরকার, তাদের সমর্থক গোষ্ঠী এবং প্রশাসন। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও এদিন আন্দোলনে যোগ দেয়। নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আন্দোলন যাবে, আন্দোলন আসবে। কিন্তু ছাত্রলীগ আছে, ছাত্রলীগ থাকবে। সবকিছু মনে রাখা হবে। সবকিছুর জবাব দেওয়া হবে।’ আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কাজ কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। ওইদিন আন্দোলনে ঢাকায় শহীদ হন নিউমার্কেট এলাকার হকার মো. শাহজাহান এবং নীলফামারীর যুবক সবুজ আলী। চট্টগ্রামে শহীদ হন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম আকরাম, এমইএস কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমদ শান্ত এবং স্থানীয় ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ ফারুক। ১৬ জুলাই মধ্যরাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা পরদিন ১৭ জুলাইয়ের কর্মসূচি হিসেবে সারা দেশে কফিন মিছিল এবং গায়েবানা জানাজা কর্মসূচি ঘোষণা করে। অবস্থা বেগতিক দেখে এবং আন্দোলন দমাতে সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শেখ হাসিনা সরকার। শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে হল ত্যাগের নির্দেশ জারি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সারা দেশে মোতায়েন করে বর্ডার গার্ড। এর আগে দুপুর ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হল থেকে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন। ঢাবি ছাড়াও অধিভুক্ত সাত কলেজ এবং আশপাশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে জড়ো হন। বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় ছাত্রলীগ। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ করে ছাত্রলীগের ছোড়া ককটেল ও বোমার আঘাতে আহত হন অনেক শিক্ষার্থী। আন্দোলনকারী এবং ছাত্রলীগের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা দখলে নেয় আন্দোলনকারীরা। ছাত্রলীগ পিছু হটে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর ‘রাজাকার’ বক্তব্য প্রত্যাহার, কোটা সংস্কার এবং ছাত্রলীগের হামলার বিচার দাবিতে বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অবরোধে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ৮ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী। হলের তালা ভেঙে আন্দোলনে নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে রাবির বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের আবাসিক হল বঙ্গবন্ধু হলে আগুন লাগিয়ে দেয়। আবু সাঈদের আত্মত্যাগের দিনটিতে স্মরণীয় করে রাখতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কিন্তু পরিবারের দীর্ঘশ্বাস এখনো যায়নি। আবু সাঈদকে স্মরণে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তার কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে।

আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪-এর জুলাই গণ অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ক্যাম্পাসে তার স্মৃতি সংরক্ষণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য হাজার কোটি টাকার  প্রকল্প  নেওয়া হলেও দুই বছরেও সেই সব প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। তোরণ, জাদুঘর, স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর আর কোনো কাজ হয়নি। এমন প্রশ্ন করলেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। তিনি বলেন, আবু সাঈদকে নিয়ে এমন অবহেলা খুব কষ্ট দেয়। শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বাবা মকবুল হোসেন আরও বলেন, আদালত কনস্টেবলের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। কিন্তু গুলি করার জন্য ওপর লেভেলের অফিসাররা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ভালো করে তদন্ত করে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ে আবু সাঈদ স্মরণে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

১৬ জুলাই আবু সাঈদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, লাল ব্যাজ ধারণ, শোক র‌্যালি, শহীদদের কবর জিয়ারত, স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করা হবে। এরপর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে লাল ব্যাজ ধারণ ও শোক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিচারণা ও পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ‘জুলাই শহীদ স্মরণে’ বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া বিকাল ৫টায় কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ আসর দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

‘মৃত্যুভয়হীন জনতাকে থামাতে পারে না জালিম শাসক’

‘মৃত্যুভয়হীন জনতাকে থামাতে পারে না জালিম শাসক’

 

জালিম শাসকের লেলিয়ে দেওয়া খুনি বাহিনীর সামনে আবু সাঈদের বীরের মতো জীবন উৎসর্গ করার দৃশ্য মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদের এই আত্মত্যাগের মাধ্যমে ওইদিনই লেখা হয়ে যায় শেখ হাসিনার সরকারের মৃত্যু পরোয়ানা। আবু সাঈদকে হত্যার এই দৃশ্য ফ্যাসিবাদের অন্ধ সমর্থক ছাড়া দেশের সব মানুষের মনে গভীর দাগ কাটে। তাদের মনে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠে। মানুষের মন থেকে মুহূর্তে যেন মৃত্যুভয় উধাও হয়ে যায়। পরের দিন থেকে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধা থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসতে থাকেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির মতো। কোটা সংস্কার আন্দোলন দ্রুত রূপ নিতে থাকে সরকার পতনের এক দফায়। ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনীসহ সব নিরাপত্তা বাহিনী, অস্ত্রসহ দলীয় বাহিনীকে নামিয়েও আর পতন ঠেকানো সম্ভব হয়নি মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনার পক্ষে।

২০২৪ সালের ১১ জুলাই চীন থেকে অপমানিত হয়ে দেশে ফেরেন ভারতের তাঁবেদার শেখ হাসিনা। ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন । এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা কোটা না পেলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে? এর প্রতিবাদে ওইদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাবির রাতের ক্যাম্পাস। পরের দিন সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে শেখ হাসিনার রাজাকার-সংক্রান্ত বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ, তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও বহিরাগত অছাত্ররা ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অনেকে আহত হন। এ হামলার ঘটনার খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের গন্ডি পেরিয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন শহরে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব নামকরা কলেজসহ অনেক স্কুলের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে আসেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন দেশের তরুণ সমাজসহ অনেকে। ‘তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার,’ ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’ বিভিন্ন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথসহ সারা দেশের বিভিন্ন শহর-বন্দর। বেসামাল সরকার আন্দোলন দমনে পুলিশের পাশাপাশি লেলিয়ে দেয় দলীয় ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের। দলের সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় রাষ্ট্রের অস্ত্র।

১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর ফুঁসে ওঠে গোটা ক্যাম্পাস। ১৬ জুলাই সকাল থেকে ছাত্রীরাসহ সব বাসিক হলের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। তাদের দমনে পুলিশসহ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা অবস্থান নেয় টিএসসি এলাকায়। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের গণজোয়ারের মুখে দুপুরের পর ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে যায় ছাত্রলীগ ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। ক্যাম্পাসজুড়ে দিনভর বিক্ষোভের পর বিকাল থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হতে থাকেন শহীদ মিনারে। সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসজুড়ে র‌্যালি করার পর তারা শেষ করেন ওইদিনের কর্মসূচি।

রামপুরা ব্রিজ থেকে নতুনবাজার ছাড়িয়ে বিশ্বরোড পর্যন্ত ১৬ জুলাই দিনভার বিক্ষোভ মিছিল করেন ওই এলাকায় অবস্থিত ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট, ইউনাইটেড, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিসহ আরো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ঢাকার সায়েন্সল্যাব এলাকা, মহাখালীতে তিতুমীর, বিএফ শাহীন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার ও রাজাকারের নাতিপুতি ইস্যুতে বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ করেন।

১৬ জুলাই চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, খুলনা, সিলেট, কুমিল্লা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করতে থাকেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এতে ওইদিন অনেকে নিহত হন। নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ছয়জনের পরিচয় পরে শনাক্ত করা গেছে।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। এ সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলির সামনে দুই হাত দুদিকে প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু শেখ হাসিনার খুনি পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র একজন শিক্ষার্থীর ওপর খুব কাছ থেকে একের পর এক গুলি চালাতে থাকে। শরীরে গুলি লাগার পরও আবু সাঈদ দৌড়ে পালাননি; বরং তিনি বারবার একই ভঙ্গিতে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের দিকে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার সতীর্থরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরে তিনি শাহাদতবরণ করেন ।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বাংলাদেশে হাসিনা পতন আন্দোলনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন। ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’র মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। হাসিনা পতন আন্দোলনে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং তাদের অধিকাংশ নিহত হয়েছেন ১৯ জুলাই। ১৮ জুলাইও অনেক মানুষ শহীদ হয়েছেন। কিন্তু ১৯ জুলাইয়ের পরিবর্তে ১৬ জুলাই শহীদ দিবস ঘোষণা করা হয়েছে আবু সাঈদের শাহাদতের স্মরণে। কারণ এই শাহাদতের মাধ্যমেই লেখা হয়েছিল হাসিনার পতন।

১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ষোলশহর, মুরাদপুর ও ২ নম্বর গেট এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে শহীদ হন চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। একই ঘটনায় ওইদিন মুরাদপুরে শহীদ হন ওমরগণি এমইএস কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ শান্ত। এদিন বহদ্দারহাট-ষোলশহর, চট্টগ্রাম আসবাবপত্রের দোকানের ফারুক নামের এক কর্মচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদতবরণ করেন।

ঢাকার সায়েন্সল্যাব-সিটি কলেজ এলাকায় গুরুতর আহত হয়ে শাহাদতবরণ করেন শাহজাহান নামের একজন হকার। ঢাকা কলেজ এলাকায় সংঘর্ষে মৃত্যুবরণ করেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সবুজ আলী।

১৬ ‍জুলাই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনে ভীত হয়ে সরকার ওইদিন রাতেই সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। সমস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। ৫ আগস্ট পতনের আগ পর্যন্ত সরকার দফায় দফায় ইন্টারনেট বন্ধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ এবং কারফিউ জারি করে। আন্দোলন দমনে গণহত্যা ও গণগ্রেপ্তার, নির্যাতন, তীব্র ভয়ভীতি ছড়িয়ে দেওয়াসহ যাবতীয় দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু জালিম শাসকের বিরুদ্ধে গণমানুষের যখন মৃত্যুভয় দূর হয়ে যায়, তখন আর কোনো কিছুতেই তাদের দমন করা যায় না।

লুটেরা, খুনি, মাফিয়া শাসক শেখ হাসিনারও শেষ রক্ষা হয়নি। তীব্র গণরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট তিনি তার প্রভুদেশ ভারতে পালিয়ে যান। দেশবাসী তখন বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো রাস্তায় নেমে আসেন স্লোগান দিতে দিতে—‘এই মাত্র খবর এলো, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেল।’ শেখ হাসিনার মতো জালিম শাসক আর ভারতের সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে আবু সাঈদসহ যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, অবর্ণনীয় নির্যাতন ও ত্যাগ স্বীকার করেছন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করেছেন, তাদের ঋণ কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘লম্বা লুঙ্গি’ পরার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘লম্বা লুঙ্গি’ পরার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

 

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে নাগরিকদের মশারি টানিয়ে ঘুমানোর পাশাপাশি ফুলহাতা শার্ট, পাজামা অথবা লম্বা লুঙ্গি পরার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ কাজে সিভিল সার্জন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানান, বিভিন্ন এলাকার ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন ছাড়াও দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় নিয়মিত প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধনে স্প্রে এবং লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ ট্যাবলেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের ফলে মশার উপদ্রব এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমে এসেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মশা খুবই ছোট একটি কীটপতঙ্গ হলেও ঘনবসতিপূর্ণ ও বৃষ্টিপ্রবণ দেশে এটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিভিন্ন বাড়ির ছাদে টব কিংবা অন্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে সহজেই এডিস মশার প্রজনন হয়। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা এসব স্থান পরিদর্শনে গেলে অনেক সময় বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এমনকি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময়ও বাধার মুখে পড়তে হয়।

তিনি আরও বলেন, নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশা নিধনে স্প্রে, লার্ভা ধ্বংসে ট্যাবলেট প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং পাজামা কিংবা লুঙ্গি লম্বা করে পরার মতো ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক অভ্যাস গড়ে তুলতে দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

১০ ঘণ্টা পর পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত, আসছে নতুন কর্মসূচি

১০ ঘণ্টা পর পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত, আসছে নতুন কর্মসূচি


 প্রায় ১০ ঘণ্টা আন্দোলনের পর রাজপথের অবরোধ তুলে নিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেছে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে তারা নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা এ ঘোষণা দেন। পরে তারা সেখান থেকে সরে গেলে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে যান। পরে বিকেলে সংসদ ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে তারা অবস্থান চালিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন।

পরে পুলিশ সংসদ ভবনের সামনের এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিলে তারা আসাদগেটের আড়ং মোড় এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় উত্তেজিত কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ আবারও ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তবে শিক্ষার্থীরা সেখানে আবার জড়ো হন। এ সময় একটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, বাস ভাঙচুরে জড়িতরা শিক্ষার্থী নন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য পরিকল্পিতভাবে এ কাজ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা দুর্যোগ পরিস্থিতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একজন আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। তবে আজকের (মঙ্গলবার) আন্দোলন এখানেই স্থগিত করা হলো। পরবর্তীতে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র: আমার দেশ