শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন-এর বরাত দিয়ে বাংলা এডিশনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না। এমনকি ২০২৬ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনেও তিনি অংশ নেবেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। বৈঠকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত ভারত সফরের বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন—এমন দাবি করা হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে।
নতুন পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত
বাংলা এডিশনের প্রতিবেদনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় আরও স্বাধীন ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
চীন সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কেও নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি মোংলা বন্দর ও তিস্তা প্রকল্পে চীনা সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ঢাকার কঠোর অবস্থান
শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি এখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার কাছে এটি শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক সমীকরণও জড়িয়ে রয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না বা ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন না—এই দাবিগুলো মূলত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
তথ্যসূত্র: দ্য ট্রিবিউন।