The National Press ​
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

তাহসিফের মরদেহের ময়নাতদন্তে নতুন তথ্য, নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার উল্লেখ

Thursday, October 29, 2026 The National Press
তাহসিফের মরদেহের ময়নাতদন্তে নতুন তথ্য, নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার উল্লেখ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দৈনিক আমার দেশ-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে মরদেহের বিভিন্ন শারীরিক অবস্থার বিবরণ তুলে ধরেছেন। 

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে যা রয়েছে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাহসিফের মরদেহের মুখমণ্ডল ও চোখ বন্ধ ছিল। তাঁর মাথার চুল কালো, মুখমণ্ডল গোলাকার এবং উচ্চতা আনুমানিক পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মুখে ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

মরদেহের নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হলেও শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া পেট ফোলা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব শারীরিক লক্ষণ থেকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যায় না। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরখান এলাকার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দৈনিক আমার দেশ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরদেহ শনাক্ত করেন তাহসিফের খালাতো ভাই জহির হাসান। এর আগে মরদেহের সঙ্গে পাওয়া মুঠোফোন ও হাতঘড়ির সূত্র ধরেও তাঁর পরিচয় শনাক্ত করার তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

নিখোঁজ হওয়ার আগে কী ঘটেছিল

পরিবারের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরেন তাহসিফ। কিছু সময় পর এক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে তিনি বাসা থেকে বের হন।

পরদিন ২৮ অক্টোবর তিনি শেষবারের মতো ‘আসছি’ লিখে বার্তা পাঠান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে অপেক্ষা

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আগে আলোচনায় এসেছিলেন সাবেক এই বিমানবাহিনী কর্মকর্তা। তাঁর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। তবে ভিডিও প্রকাশের ঘটনা এবং তাঁর মৃত্যুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো প্রমাণিত নয়।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের ফলাফল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বা দুর্ঘটনা হিসেবে নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করা সমীচীন হবে না।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ,