The National Press ​
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রবাসীর দোকান দখলের অভিযোগ

Thursday, November 05, 2026 The National Press
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রবাসীর দোকান দখলের অভিযোগ

file photo

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি দোকান ও জমির মালিকানা নিয়ে প্রবাসী মো. সাইফুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুরের পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাড়াটিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দলিলের বাইরে অতিরিক্ত জমি নিজের নামে রেকর্ড করার অভিযোগ তুলে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রবাসী সাইফুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়া অভিযোগে সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি সরাইল সদরের বাসিন্দা এবং মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ২০০৫ সালের ২৮ জুন সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে সরাইল মৌজার বিএস ১৪১৭৩ দাগে এক শতক জমির মালিকানা অর্জন করেন তিনি। ওই জমিতে দোকান নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া দিয়ে আসছেন বলেও দাবি তাঁর।

সাইফুলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাঁর দোকান ও জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাড়াটিয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান বন্ধ করে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে। গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে কয়েকজন লোক নিয়ে দোকানের শাটার তালাবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে তাঁকে রাজনৈতিক মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন সাইফুল। নিজের সম্পত্তির নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতার

তবে সাইফুল ইসলামের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর। তাঁর দাবি, মৃত সিরাজুল ইসলাম ছিলেন নিঃসন্তান এবং সাইফুল তাঁর পালিত ছেলে। সিরাজুল ইসলাম জীবিত অবস্থায় নিজের অধিকাংশ সম্পত্তি সাইফুলের নামে দলিল করে দিয়েছেন।

আনিছুল ইসলাম জানান, সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী তাঁর স্ত্রীর আপন বড় বোন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আনিছুলের এক ছেলেকে ছোটবেলা থেকেই ওই নারী লালন-পালন করেছেন। বর্তমানে তাঁর ছেলেই বয়স্ক ওই নারীর দেখাশোনা করছেন। এ কারণে ওই নারী নিজের ইচ্ছায় তাঁর ছেলেকে দুটি দোকান দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

দলিলের বাইরে জমি খারিজের পাল্টা অভিযোগ

প্রবাসী সাইফুলের বিরুদ্ধে জমির পরিমাণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন আনিছুল ইসলাম ঠাকুর। তাঁর দাবি, সাফ কবলা দলিলে ২ দশমিক ৪২৫ শতক জমি উল্লেখ থাকলেও সাইফুল ২ দশমিক ৭৮ শতক জমি নিজের নামে খারিজ করিয়েছেন। একইভাবে পৈতৃক সম্পত্তির সাত শতক জমির বিপরীতে আট শতক খারিজ করার অভিযোগও করেন তিনি।

আনিছুল ইসলাম জানান, এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলেও দাবি তাঁর।

তবে জমির পরিমাণ বেশি খারিজ করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সাইফুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন স্থানের জমির হিসাব একসঙ্গে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। নিজের বাড়ি, দোকান ও অন্য স্থানের জমির হিসাব আলাদা না করে দেখানোর কারণে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাইফুলের অভিযোগ, প্রকৃত জমির হিসাব আড়াল করে তাঁর বৈধ সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

saiful_islam_complaint File


তদন্তের কথা জানাল পুলিশ সুপার

বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে জমির প্রকৃত মালিকানা, দলিলের পরিমাণ এবং খারিজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথি ও দলিলপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশি তদন্তের ফলাফল এবং ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির ওপরই বিরোধটির পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে।