The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
৭৫ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি পেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহানা, পড়বেন AUW-তে

৭৫ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি পেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহানা, পড়বেন AUW-তে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এউডব্লিউ)-এ প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা সমমূল্যের শিক্ষাবৃত্তি অর্জন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মেয়ে সুহানা আক্তার।

এই শিক্ষাবৃত্তির আওতায় আগামী চার বছর এউডব্লিউতে পড়াশোনা করে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন তিনি।

সুহানার এই সাফল্যের খবরে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্বজনদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাবৃত্তি অর্জন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সুহানা আক্তার বাচ্চু মিয়ার একমাত্র মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার ছিল বিশেষ আগ্রহ। নিয়মিত অধ্যয়ন, কঠোর পরিশ্রম এবং লক্ষ্য অর্জনে অটুট থাকার মানসিকতাই তাকে ধাপে ধাপে এই সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সুহানার এমন অর্জনে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের কল্যাণে সুহানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।

সুহানার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কুটিগ্রাম এলাকার লেশিয়ারা গ্রামে। বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগরীর খারপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।

স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করছেন, সুহানার এই অর্জন শুধু একটি শিক্ষাবৃত্তি লাভের ঘটনা নয়; বরং স্বপ্ন, মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্ব সুহানা আক্তারের এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। একই সঙ্গে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সফল শিক্ষাজীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদরাসাছাত্র সংঘাত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদরাসাছাত্র সংঘাত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদরাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি জেলা পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ লাইন্সের গেট ও কম্পাউন্ডে দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদরাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সে ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরও অনুষ্ঠান চলছিল।

এ সময় উচ্চ শব্দে গান বাজানোর প্রতিবাদ জানিয়ে পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সে যান। সেখানে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার এবং তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ।

আখাউড়ার কেল্লা বাবার মাজারে মিলল ১২ বস্তা টাকা, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা

আখাউড়ার কেল্লা বাবার মাজারে মিলল ১২ বস্তা টাকা, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী খরমপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ ওরফে শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজারে সাত দিনব্যাপী ওরস শেষে দানবাক্স খুলে ১২ বস্তা নগদ টাকা পাওয়া গেছে। দানের অর্থের পাশাপাশি মিলেছে সোনা, রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) মাজারের দানবাক্স খুলে এসব অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়। বর্তমানে ব্যাংক কর্মকর্তা, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে অর্থ গণনার কাজ করছেন।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা গণনা শেষে এ পর্যন্ত নগদ ১ কোটি ৩ লাখ ৬৫১ টাকা পাওয়া গেছে। তবে গণনা কার্যক্রম সম্পূর্ণ হলে মোট অর্থ ও অন্যান্য দানের চূড়ান্ত হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে মিন্টু খাদেম বলেন, এ বছর নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সোনা ও রুপাও দান হিসেবে পাওয়া গেছে।

গত ১৬ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী ওরসে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও আশেকানরা চারটি দানবাক্সে নগদ অর্থ, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা দান করেন।

এ ছাড়া মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রী মাজার কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অটোরিকশায় ৪০ লিটার দেশীয় মদ, গ্রেপ্তার ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অটোরিকশায় ৪০ লিটার দেশীয় মদ, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে দেশীয় তৈরি মদ পরিবহনের সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় অটোরিকশা থেকে ৪০ লিটার দেশীয় তৈরি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টা ৫ মিনিটের দিকে আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের টানমান্দাইল শান্তিপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় অটোরিকশা থেকে ৪০ লিটার দেশীয় তৈরি মদ উদ্ধার করা হয়। মাদক বহনের অভিযোগে অটোরিকশায় থাকা মো. রিয়াজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রিয়াজ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কামালপুর গ্রামের মো. তাজুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দেশীয় তৈরি মদ ও অটোরিকশাটি বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে তরুণী, ৫ দিনেও সমাধান নেই

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে তরুণী, ৫ দিনেও সমাধান নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে পাঁচ দিন ধরে অবস্থান করছেন লায়লা আক্তার (১৮) নামে এক তরুণী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি তরুণীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) থেকে বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত পর্যন্ত উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের প্রেমিক আমিন খানের বাড়িতে অবস্থান করেন লায়লা। আমিন ওই গ্রামের কামাল খানের ছেলে এবং বর্তমানে দুবাইপ্রবাসী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

লায়লার দাবি, আমিনের সঙ্গে তার প্রায় চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক। আমিন দেশে থাকাকালে দুই বছর এবং পরে দুবাই যাওয়ার পর আরও দুই বছর ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখেন। তবে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর এখন আমিন বিয়েতে রাজি হচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লায়লার বাবা সোহাগ খান বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক করার পর এখন অস্বীকৃতি জানানোয় তার মেয়ে পাঁচ দিন ধরে অনশন করছেন। স্থানীয় সর্দার-মাতব্বররা বিষয়টি সমাধানের জন্য ছেলে পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও পরে তারা টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মেয়ের জীবন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে আমিন খানের বড় ভাই আজমল খান জানান, তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে লায়লার সম্পর্ক ছিল। তবে আমিন বর্তমানে বিয়েতে সম্মতি দিচ্ছেন না। এ অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে কী করার আছে, সেটিও প্রশ্ন করেন তিনি।

লায়লার হাতে বিষের বোতল থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আজমল খান বলেন, বিষের বোতলটি স্থানীয় সর্দার-মাতব্বররা সরিয়ে নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য কয়েক দফা বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে। তরুণীকে বিয়ে করার বিষয়ে প্রেমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করায় এলাকায় উদ্বেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান দেখছেন। তবে অনশন বা প্রেমসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, থমথমে পরিস্থিতি!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, থমথমে পরিস্থিতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার টিয়ারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে সম্প্রতি টিয়ারা এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কিছু ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং সংঘর্ষের মূল কারণ উদঘাটনে কাজ করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাওয়ার হাউজ রোড এলাকা থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রের লাশ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাওয়ার হাউজ রোড এলাকা থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রের লাশ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাওয়ার হাউস রোড এলাকায় মোহাম্মদ আনিসুর রহমান (১৩) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে একটি চারতলা ভবনের নিচতলার সিঁড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আনিসুর রহমান নবীনগর উপজেলার লক্ষ্মীপুর সাতঘরহাটি গ্রামের আলকাছ মিয়া ও জাহানারা বেগমের ছেলে। বর্তমানে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাওয়ার হাউস রোডের ওই ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকতেন। আনিসুর কৃষ্ণনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েক মাস আগে আনিসুরের এক চাচা হত্যার শিকার হন। ওই হত্যা মামলায় আনিসুরের বাবা আলকাছ মিয়া আসামি হওয়ায় তারা শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

শুক্রবার রাতে ভবনের নিচতলার সিঁড়ির পাশে আনিসুরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পেছনে আনিসুরের চাচাতো ভাইদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম. এম. রকীব উর রাজা বলেন, মরদেহের প্রাথমিক অবস্থা দেখে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪৫ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪৫ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার


 ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের জয়কালিপুর পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় হনুফার বাড়ির উঠান থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।

পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের সামনে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে মাদকগুলো জব্দ করে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন, জয়কালিপুর গ্রামের শিপন মিয়ার ছেলে তানভীর (১৯), হেকিম মিয়ার ছেলে বাবু মিয়া (২১) এবং অলিউল্লার ছেলে শুভ আহমেদ অন্তর (১৯)

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে বিধবার গোডাউন থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে বিধবার গোডাউন থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকায় এক বিধবার গোডাউন ভেঙে প্রায় ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকার মালামাল লুট, চুরি ও জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে ১৮ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীরা হলো চর চারতলার মৃত নাছির মিয়া ছেলে অপি সওদাগর ওরফে দাউদ মিয়া, মেহেদ হাসান জিহাদ, দিবা আক্তার, সরাইল কুট্রাপাড়ার মৃতু বাচ্চু মিয়ার ছেলে সানু মিয়া,মৃত্যু আব্দুল খালেক এর ছেলে সাজু মিয়া, আবুল ফজর এর ছেলে সাজু মিয়া, জুনাইদ মিয়া,জাবেদ আবেদ ও আব্দুল আলীর ছেলে শরিফ মিয়া, বশির মিয়া মোট আটার জন। মামলার বাদী রুজি আক্তার, মৃত আবদুল হাফিজের স্ত্রী। তিনি সরাইল সদর ইউনিয়নের কুট্টাপাড়া (দর্জীপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই ভোর সাড়ে ৪টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার কুট্টাপাড়া মৌজার বিএস ১১২৩৮ ও এসএ ১১২৩৯ দাগে অবস্থিত একটি গোডাউনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আসামিরা তার স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন আদালত, উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা প্রশাসক এবং মানবাধিকার সংস্থার কাছে একাধিক অভিযোগ ও মামলা করা হয়েছে। এতে প্রতিকার না পাওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ভূমি জরিপসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় বাদী ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল ডিক্রি লাভ করেন। এরপর থেকেই তাকে ওই সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা আরও জোরদার হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার কিছুদিন আগে এক আসামি বাদীকে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্য আসামিদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে গোডাউনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। বাদীর দাবি, এরপর গোডাউনে থাকা দুটি ব্যাটারি, একটি ৮ হর্সপাওয়ারের হাই-স্পিড পাম্প, একটি রিকন্ডিশন হিনো-৭০০ ইঞ্জিন, ট্রাকের দুটি চাকা, খাট, ফ্যান, লাইট, টিন, কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গোডাউনের টিনের চাল, বেড়া, দরজা, জানালা, পিলার ও বৈদ্যুতিক তার খুলেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, খবর পেয়ে বাদী ঘটনাস্থলে গেলে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। পরে তিনি সরাইল থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও কয়েকজন আসামি ইট, বাঁশ ও মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ দেখে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, গোডাউন, সেখানে থাকা মালামাল এবং অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৪৪৮, ৪৫১, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৮২, ৫০৬(২), ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটি আশপাশের লোকজন প্রত্যক্ষ করেছেন এবং নিকটবর্তী একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার কিছু আলামত ধারণ হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আদালতে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

এস আই জে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ২০


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় শিশুদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হামদু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বাইগদা বন্দেরবাড়ি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে হামদু মিয়ার ছেলে নীরব (১১) ও প্রতিবেশী আবুল হোসেনের ছেলে ইয়াছিনের (১২) মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইয়াছিন নীরবকে চড় মারলে বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় হামদু মিয়ার আঘাতে ইয়াছিন মাথায় আহত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। সংঘর্ষ চলাকালে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন হামদু মিয়া। পরে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম রকীব উর রাজা বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড: মহাসড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলাই কি অপরাধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড: মহাসড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলাই কি অপরাধ

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড মোড়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের কাজের অবস্থা দেখে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি উন্নয়নের সুফল পাবো, নাকি আজীবন এই ভোগান্তিই আমাদের ভাগ্য?
​ভিডিওতে যে নির্মাণকাজ দেখছেন, সেখানে কাজ চলাকালীন অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো,
Video Link: https://www.facebook.com/share/r/1DNQc1YYS6/
এই কাজের ভিডিও ধারণ করতে গেলেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (Repcon) কর্মচারীরা বাধা দিচ্ছেন এবং ক্ষেপে যাচ্ছেন! তারা কিসের ভয়ে বা কেন ভিডিও করতে নিষেধ করছেন—তা সাধারণ মানুষের কাছে এক বড় প্রশ্ন।
​জনগণের টাকায় যে প্রকল্পের কাজ চলছে, সেখানে অস্বচ্ছতা বা অনিয়ম থাকলে তা দেখার অধিকার কি আমাদের নেই? সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, এই প্রকল্পের কাজের গুণমান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন আচরণের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

লাগেজ হারিয়েছে সৌদিতে, দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়

লাগেজ হারিয়েছে সৌদিতে, দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়

 


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর শহরের শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে হজযাত্রীর হারিয়ে যাওয়া লাগেজকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় চার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে। 

শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন রাবার বুলেট এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলেও পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। সেখানে তার একটি লাগেজ হারিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই হজযাত্রী হারিয়ে যাওয়া লাগেজের বিষয়ে জানতে আড়াইবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পরিচালিত ‘কসবা হজ কাফেলা’ ট্রাভেল এজেন্সিতে যান। তখন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হারিয়ে যাওয়া লাগেজের দায়ভার সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর নিজস্ব বিষয় এবং এ বিষয়ে ট্রাভেল এজেন্সির কিছু করার নেই। এ কথা নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা, হাতাহাতি হয়। এরপর থেকেই দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এরই জের ধরে শনিবার সকালে শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের শতশত লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের কারণে কদমতলী মোড়সহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।

খবর পেয়ে কসবা থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। তবে বিকাল ৪টায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলছিল বলে জানা গেছে।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনিন সুলতানা বলেন, ‌‘পূর্ববিরোধের জের ধরে শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা রুমিন ফারহানার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা রুমিন ফারহানার

 


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা।

শুক্রবার বিকেলে সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বাজারে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি যা বলি, তা-ই করি। আমার এলাকার মানুষের সিদ্ধান্তই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, তবে মার্কা যা-ই হোক না কেন, আমি সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করব। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের অধিকাংশ আসনে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হলেও সরাইল-আশুগঞ্জের মানুষ এখনও তাদের প্রার্থীর নাম না জানায় এলাকাটি অভিভাবকহীনতায় ভুগছে।

নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে জনগণের অধিকার আদায়ে তাঁর ভূমিকা সবার জানা। মূলত তাঁর বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন এবং সরাইল ও আশুগঞ্জকে 'মডেল উপজেলা' হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

আগামী ২০২৬ সালে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, গত ১৫ বছর মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেনি। এবার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করে তিনি সরকারের প্রতি দুটি দাবি জানান, প্রথমত, নির্বাচনের আগে সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এবং দ্বিতীয়ত, ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো দ্রুত আইনের আওতায় এনে ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, বিএনপি ইতোমধ্যে দুই দফায় দেশের ২৭২টি আসনে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে এখন পর্যন্ত কারো নাম ঘোষণা করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস ধরে এই আসনে রুমিন ফারহানার ধারাবাহিক গণসংযোগ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

 সূত্র : আমার সংবাদ

জয় বাংলা’ স্লোগান ভাইরাল কারনে ফের বহিষ্কার যুবদল নেতা

জয় বাংলা’ স্লোগান ভাইরাল কারনে ফের বহিষ্কার যুবদল নেতা

 


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজয়নগরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ভাইরাল হওয়ার পর আবারও বহিষ্কারাদেশ পেয়েছেন আল জাবের ওরফে জাবেদ আহমেদ নামে যুবদল নেতা।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর রাতে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কেন্দ্রীয় যুবদল জানায়জাবেদের বহিষ্কারাদেশই বহাল থাকবে।এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়া ও পরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়।বুধবার সন্ধ্যায় যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে জাবেদসহ কয়েকজন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়; কিন্তু কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় জাবেদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ভিডিও।ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে ‘অভিভাবক’ বলে সম্বোধন করছেন এবং বক্তব্য শেষ করছেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে।ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১০টার দিকে যুবদলের পক্ষ থেকে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে জানানো হয়ভুলবশত তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আল জাবের ওরফে জাবেদ আহমেদের বহিষ্কার আদেশ বহাল রাখা হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ জুন বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন জাবেদ আহমেদ। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তিনি যুবদলের পদ থেকে বহিষ্কৃত হন। নির্বাচনের পর তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভাসমাবেশে নিয়মিত যোগ দেন।মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ভুল হয়েছিল, আমাদের তথ্যের একটু ঘাটতি ছিল। তার (জাবেদ) বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকবে।

সূত্র: যুগান্তর