The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বছরে সাশ্রয় হতে পারে ১০০ কোটি ডলার

রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বছরে সাশ্রয় হতে পারে ১০০ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে চলছে শেষ ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব ধরনের পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সফলভাবে শেষ হলে ধাপে ধাপে গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুতে রূপপুরের প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের হিসাব বলছে, রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বিকল্প জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন কমে যাওয়ায় প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। বছরে এই সাশ্রয়ের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প হিসেবে কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের ওপর।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাছান জানিয়েছেন, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনের কাজ আগামী ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ইতোমধ্যে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল শেষ পর্যায়ের পরীক্ষাগুলো চলছে। প্রতিটি ধাপই বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন বেইসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। ফলে তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের ওঠানামার প্রভাবও দেশের বিদ্যুৎ খাতে তুলনামূলকভাবে কমবে।

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালনব্যবস্থার কমিশনিংয়ের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রিড ও সঞ্চালন অবকাঠামোর আরও কিছু প্রস্তুতি প্রয়োজন হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো নয়, দেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: ইত্তেফাক

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন চার মুখ, রাতে শপথ

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন চার মুখ, রাতে শপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরও চারজন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পাঠ করাবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় আরও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। বিমান, কৃষি, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্থানীয় সরকার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুলকে অধ্যাপক ইউনূসের অভিনন্দন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুলকে অধ্যাপক ইউনূসের অভিনন্দন

 নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

এক শুভেচ্ছাবার্তায় অধ্যাপক ইউনূস নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অধ্যাপক ইউনূস মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

তিনি নতুন রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দায়িত্ব পালনে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। ভোটগ্রহণে তিনজন সংসদ সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে নির্বাচিত হয়ে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, ২১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

নুরু-ইলিয়াসের পাল্টাপাল্টি পোস্ট, উত্তপ্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

নুরু-ইলিয়াসের পাল্টাপাল্টি পোস্ট, উত্তপ্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুরের পাল্টাপাল্টি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনার শুরু ইলিয়াস হোসাইনের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। তিনি জানান, নুরুল হক নুরকে নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে তার ইউটিউব চ্যানেলে। নির্ধারিত সময় হিসেবে বুধবার রাত ৮টার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ইলিয়াসের এমন ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানান নুরুল হক নুর। ভিডিও প্রকাশের আগেই সেটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ভিডিও বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। একই সঙ্গে ভিডিওটি দেখে ইলিয়াস হোসাইনের পরিশ্রম সার্থক করার আহ্বানও জানান নুর।

এরপর নুরের বক্তব্যের জবাব দেন ইলিয়াস হোসাইন। তিনি দাবি করেন, ভিডিও প্রকাশের আগেই এআইয়ের প্রসঙ্গ তোলা আত্মপক্ষ সমর্থনের ইঙ্গিত হতে পারে। নির্ধারিত সময়েই ভিডিও প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

দুজনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। এখন অনেকের দৃষ্টি ইলিয়াস হোসাইনের ঘোষিত অনুসন্ধানী ভিডিওটির দিকে।

 

ক্যামেরার নজরদারিতে আসছে মহাসড়কের চাঁদাবাজি, পর্যায়ক্রমে চালু হবে অটো ফাইন

ক্যামেরার নজরদারিতে আসছে মহাসড়কের চাঁদাবাজি, পর্যায়ক্রমে চালু হবে অটো ফাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন কিংবা পুলিশের কেউ চাঁদাবাজিতে জড়ালে তা ক্যামেরায় ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কের বিভিন্ন কার্যক্রম ক্যামেরার আওতায় চলে আসবে। এর ফলে চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অনিয়মের ওপর নজরদারি বাড়বে এবং এসব অপরাধের প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সময় কোনো ভুল বা সীমাবদ্ধতা ধরা পড়লে তা সংশোধন করে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই প্রযুক্তি চালু করা হবে।

যেসব অপরাধ শনাক্ত হবে

এআইভিত্তিক অটো ফাইন ব্যবস্থায় গাড়ির গতিসীমা লঙ্ঘন, অবৈধভাবে পার্কিং, বিপরীত দিক দিয়ে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন ভাঙার ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হবে।

আইন লঙ্ঘনের তথ্য শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে। একাধিকবার জরিমানা হলে গাড়ির নিবন্ধন বাতিল করা হবে কি না, তা বিআরটিএর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

২৫০ কিলোমিটারে ১,৪২৭ ক্যামেরা

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়কে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪২৭টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মেঘনাঘাটে একটি ডাটা সেন্টারও স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে নজরদারি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা করা হবে।

মহাসড়কে থ্রি-হুইলার নিয়েও কঠোর অবস্থান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচলের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল কোনোভাবেই অনুমোদনযোগ্য নয় এবং নিয়মটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

তবে গ্যাস স্টেশন, বাজার, নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও ফিডার সড়কের সঙ্গে সংযোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার জন্য হাইওয়ে পুলিশের প্রধানকে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নতুন এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু হলে মহাসড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে চালু হলো ‘মহিলা বাস সার্ভিস’

নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে চালু হলো ‘মহিলা বাস সার্ভিস’

নিজস্ব প্রতিবেদক: কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীতে আবারও পৃথক ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গোলাপি রঙের এসব বাসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীরাই দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে নতুন এই বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর দিয়ে পরিচালিত এই পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি গণপরিবহন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।

যেসব রুটে চলবে মহিলা বাস

বিআরটিসি জানিয়েছে, রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে এসব বাস চলাচল করবে। রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • নতুনবাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল
  • তালতলা-মতিঝিল
  • ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-মতিঝিল
  • মিরপুর-১০-মতিঝিল
  • মিরপুর-১২-মতিঝিল
  • আব্দুল্লাহপুর-কোয়ার্টার-জিপিও
  • মিরপুর-মতিঝিল
  • মোহাম্মদপুর-মতিঝিল

এ ছাড়া গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও বিশেষ বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুনবাজার থেকে মতিঝিলগামী বাস কোকাকোলা, নতুনবাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে। অন্য রুটগুলোর বাসও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা সংযুক্ত করবে।

ঢাকার বাইরেও চলবে

শুধু রাজধানীতে নয়, ঢাকার বাইরেও মহিলা বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ার শেরপুর-মাটিডালি রুটে দুটি এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটে দুটি বাস চলবে।

চট্টগ্রামের বাসগুলো কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড় ও লালখান বাজার হয়ে চলাচল করবে।

বিআরটিসির এই উদ্যোগের ফলে কর্মজীবী ও শিক্ষার্থী নারীরা গণপরিবহনে তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মতি মিয়ানমারের

৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মতি মিয়ানমারের

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে দেশটির সরকার। যাচাই-বাছাই শেষে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৭৫ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে না বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। 

মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় যেসব রোহিঙ্গাকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা রয়েছে। এসব বিষয়ে নিশ্চয়তা না থাকায় অতীতেও কয়েক দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাত। রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত অব্যাহত থাকায় সেখানে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারে ব্যাপক সহিংসতা ও নির্যাতনের পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। বাংলাদেশ শুরু থেকেই নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরার আগে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।

মিয়ানমারের সর্বশেষ অবস্থান প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও বাস্তবে কবে নাগাদ এবং কী প্রক্রিয়ায় এসব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বাংলাদেশে আল-কায়েদার বিস্তার নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে আল-কায়েদার বিস্তার নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুমাননির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা ও সম্প্রসারণ নিয়ে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্যকে অনুমাননির্ভর বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবেদনে যে ধরনের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, তা সরকার আমলে নিচ্ছে না।

সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে সংগঠনটির বাংলাদেশে স্থায়ী ঘাঁটি ও গোপন সেল তৈরির চেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর দেশে জঙ্গিবাদ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) আগের তুলনায় নিজেদের কার্যক্রমের ধরন পরিবর্তন করছে। বড় আকারের ইউনিটের পরিবর্তে বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে তাদের আর্থিক ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের এই মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিষয়ে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি বলে মনে করছে সরকার। দেশে আল-কায়েদার এমন বিস্তৃত তৎপরতার বিষয়ে সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো তথ্য নেই বলেও তিনি জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো ধরনের জঙ্গি তৎপরতা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে।

গত ১০ আগস্ট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দল তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে আল-কায়েদা ও আইএসআইএলের বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

সরকারের বক্তব্য হলো, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভারতকে এমন জবাব দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম’

ভারতকে এমন জবাব দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম’

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাদিকুর রহমান খান।

রোববার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফেরত না দিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না—সরকারের এমন অবস্থানকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের দৃঢ় অবস্থান আগে খুব কমই দেখা গেছে।

সাদিকুর রহমান খান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সরকারের এমন অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে তিনি সরকারের সমালোচনা করলেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কথা বলার বিষয়টিকে তিনি সমর্থন করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাদিকুর রহমানের ভাষ্য, বাংলাদেশের মানুষ আগেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তিনি এটিকে দেশের সার্বভৌমত্বের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফেরত আনার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। 

ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরাতে কঠোর অবস্থানে ঢাকা

ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরাতে কঠোর অবস্থানে ঢাকা

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত স্থগিত করেছে বাংলাদেশ। সফরের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে এগোতে চায় না ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিল্লি সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওসমান হাদী হত্যা মামলায় অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এখন ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র জানান, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করবে।

এদিকে ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরাতে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ইতোমধ্যে ভারতের কাছে পাঠিয়েছে। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনের প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে ভারতের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিচার চলমান অবস্থাতেও অভিযুক্তদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করা সম্ভব। এরই মধ্যে মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীরকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ।

দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাওয়ার বিষয়টি ঢাকা-নয়াদিল্লি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যর্পণ ইস্যুগুলোরও সমাধান চায় ঢাকা।

শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান

শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফরে যাবেন না তারেক রহমান

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন-এর বরাত দিয়ে বাংলা এডিশনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না। এমনকি ২০২৬ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনেও তিনি অংশ নেবেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। বৈঠকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত ভারত সফরের বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন—এমন দাবি করা হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে।

নতুন পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত

বাংলা এডিশনের প্রতিবেদনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় আরও স্বাধীন ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

চীন সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কেও নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি মোংলা বন্দর ও তিস্তা প্রকল্পে চীনা সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ঢাকার কঠোর অবস্থান

শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি এখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার কাছে এটি শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক সমীকরণও জড়িয়ে রয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না বা ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন না—এই দাবিগুলো মূলত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

তথ্যসূত্র: দ্য ট্রিবিউন।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হতো না  আসিফ নজরুল

বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হতো না আসিফ নজরুল

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তবে স্বাধীনতার পর তাঁর শাসনামলের নানা বিতর্কিত ঘটনাও আড়াল করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

শনিবার (১৫ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অনেক কারণ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হতো না।

আসিফ নজরুল বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুর মধ্যে গণতন্ত্র, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখা গেছে। এ বিষয়ে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গণপরিষদের বিতর্কের দলিলেও বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে বঙ্গবন্ধুর দেশ পরিচালনার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পরের বাংলাদেশ পরিচালনা করা নানা কারণে কঠিন ছিল। কিন্তু সেই বাস্তবতা পরবর্তী সময়ে তাঁর শাসনব্যবস্থায় কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা তৈরি হওয়ার বিষয়টিকে বৈধতা দেয় না। তাঁর শাসনামলের দুর্ভিক্ষ, হত্যাকাণ্ড এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোও আড়াল করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ নজরুল আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর কয়েক বছরের শাসনের সমালোচনা থাকলেও স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকার কারণে অনেক মানুষ তাঁকে ভালোবাসতেন ও শ্রদ্ধা করতেন। তিনি নিজেকেও সেই মানুষদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে শেখ হাসিনার শাসনামলের কারণে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সেই ভালোবাসা প্রকাশ করা তাঁর মতো মানুষের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা নিজের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করতে বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উল্লেখ করে আসিফ নজরুল তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর জন্য দোয়া করেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ।

জনগণ আপনার অপেক্ষায় আছে, আসুন’—শেখ হাসিনাকে সোহেল তাজ

জনগণ আপনার অপেক্ষায় আছে, আসুন’—শেখ হাসিনাকে সোহেল তাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, ‘দয়া করে ফিরে আসুন। বাংলাদেশের জনগণ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।’ ভিডিও বার্তাটি রাজধানীর জুলাই ৩৬ জাদুঘরের সামনে থেকে দেওয়া হয়। সোহেল তাজ জানান, শুক্রবার জাদুঘরটি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এসেছেন। জাদুঘরের সামনে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারিও দেখা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

জুলাই ৩৬ জাদুঘরটি আগে গণভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সোহেল তাজ দাবি করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় এখান থেকেই বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনসহ সাধারণ মানুষ বর্তমানে স্থানটি দেখতে আসছেন বলেও তিনি জানান। 

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে সোহেল তাজ বলেন, তিনি যদি দেশে ফেরেন, তাহলে জনগণের সামনে এসে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। 

ভিডিওর শেষ দিকে সোহেল তাজ আবারও শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে এবং তাঁকে দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানান। 

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ

অটোরিকশার কারণে হঠাৎ বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা: বিদ্যুৎমন্ত্রী

অটোরিকশার কারণে হঠাৎ বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা: বিদ্যুৎমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:দেশে ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব যানবাহনের অধিকাংশই রাতে চার্জ দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার জন্য অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনের মুখে পড়তে হয়। এমনকি অভিযান পরিচালনার সময় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে দেশে এলএনজির সরবরাহ বাড়াতে আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে একটি এলএনজি টার্মিনালের জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোংলা-হিরন পয়েন্ট এলাকায় আরও একটি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনি আগের আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলকেও দায়ী করেন।

বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন। পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করেন।

এরপর বিকেলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। তার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। সমর্থনকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রাজনৈতিকভাবে বেশ জোরালো।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন।

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের দেশের বাইরে অবস্থানের সময় দল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি একাধিকবার কারাবরণও করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।

প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যও প্রার্থী দিয়েছে। ওই জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তার মনোনয়নপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে।

সব প্রার্থী শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা বহাল রাখলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন নির্বাচন

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

বর্তমান সংসদে বিএনপির বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল নির্বাচিত হলে তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

পরাজয় নিশ্চিত জেনেও রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ, জানালেন দুই কারণ

পরাজয় নিশ্চিত জেনেও রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ, জানালেন দুই কারণ

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত—এমন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও কেন তিনি রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সে বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন অলি আহমদ।

সম্প্রতি সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন এলডিপি চেয়ারম্যান। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান

অলি আহমদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং ফলাফলকে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

১১ দলীয় জোটের অবস্থান তুলে ধরতে প্রার্থী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দ্বিতীয় কারণ হিসেবে ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন অলি আহমদ।

তিনি বলেন, জোটের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী না দিলে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠত—১১ দলীয় জোট কেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। তাই জোটের নিজস্ব প্রার্থী থাকা প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন।

অলি আহমদের বক্তব্য, নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের সামনে ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপিও জোটের প্রার্থীর চেয়ে ভালো একজন প্রার্থী দেবে।

মনোনয়নপত্র জমা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন প্রক্রিয়া চলছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।

সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগে থেকেই নানা আলোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অলি আহমদের প্রার্থিতা মূলত নির্বাচনে বিরোধী জোটের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর।

আমরা সবাই বাংলাদেশি, কেউ আদিবাসী নই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমরা সবাই বাংলাদেশি, কেউ আদিবাসী নই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের প্রধান পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দেশের নাগরিকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সংবিধান অনুযায়ী সমানভাবে সুরক্ষিত।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় দেশের সব নাগরিকের জাতীয় পরিচয় একটাই—‘বাংলাদেশি’। তাঁর দাবি, দেশের ভূখণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের এই পরিচয়ের বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজন দেশের মানুষের জাতীয় পরিচয়ের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। জাতীয় ঐক্য ও এই রাজনৈতিক অঙ্গীকার দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ, নারী ও শিশুদের মূলধারার সঙ্গে সমান সুযোগে নিয়ে আসতে রাষ্ট্র বিশেষ সুবিধা ও বিভিন্ন ধরনের কোটা ব্যবস্থা চালু রেখেছে। এসব সুবিধার সাংবিধানিক স্বীকৃতিও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নীতিমালা ও সনদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত ‘ইউনাইটেড নেশনস ডিক্লারেশন অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলস’ বা UNDRIP-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল।

তিনি দাবি করেন, ওই ঘোষণার ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত ছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, UNDRIP বা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন ১৬৯ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের নাগরিকদের অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টিও উঠে আসে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হতে পারে। এমন বিধান রয়েছে বাংলাদেশের সংবিধানে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা ভোট দেন এবং এ ক্ষেত্রে দলীয় নির্দেশনার বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার পরিণতি গুরুতর হতে পারে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জনগণের সরাসরি ভোটে নয়, সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ভোটের অবস্থান নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সংসদ সদস্যদের ভোটের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভিন্ন প্রার্থীকে ভোট দিলে তার বিরুদ্ধে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা, মনোনয়ন ও ভোট গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সংসদ সদস্যদের ভোট নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের মধ্যে সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ভোটের আগে দলীয় নির্দেশনা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাদির খুনি ও হাসিনাকে দ্রুত ফেরত দেবে ভারত, আশা বাংলাদেশের

হাদির খুনি ও হাসিনাকে দ্রুত ফেরত দেবে ভারত, আশা বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। এ সময় দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় গত দুই মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়। একই সঙ্গে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান বিষয়গুলো সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা ও টানাপোড়েনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের এই সাক্ষাৎ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।