পরাজয় নিশ্চিত জেনেও রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ, জানালেন দুই কারণ
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)। সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত—এমন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও কেন তিনি রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সে বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন অলি আহমদ।
সম্প্রতি সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন এলডিপি চেয়ারম্যান। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান
অলি আহমদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং ফলাফলকে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।
১১ দলীয় জোটের অবস্থান তুলে ধরতে প্রার্থী
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দ্বিতীয় কারণ হিসেবে ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন অলি আহমদ।
তিনি বলেন, জোটের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী না দিলে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠত—১১ দলীয় জোট কেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেয়নি। তাই জোটের নিজস্ব প্রার্থী থাকা প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন।
অলি আহমদের বক্তব্য, নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের সামনে ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপিও জোটের প্রার্থীর চেয়ে ভালো একজন প্রার্থী দেবে।
মনোনয়নপত্র জমা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন প্রক্রিয়া চলছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগে থেকেই নানা আলোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অলি আহমদের প্রার্থিতা মূলত নির্বাচনে বিরোধী জোটের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর।