The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড থেকে বক্তব্য দিতে না পারেন: ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড থেকে বক্তব্য দিতে না পারেন: ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তেজগাঁও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের ব্যক্তি যেন ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্যসংক্রান্ত আলোচনাও বৈঠকে উঠে আসে। এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী জানান, বিষয়টি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ভারত সচেষ্ট থাকবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যুতে নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

তিস্তা প্রকল্প ও অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়নে আশাবাদী চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

তিস্তা প্রকল্প ও অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়নে আশাবাদী চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক: তিস্তা মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ (সিএমবি) অর্থনৈতিক করিডরসহ বিভিন্ন যৌথ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘কম্পারেটিভ গভার্নেন্স ফোরাম-২০২৬’ শীর্ষক যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইয়াও ওয়েন বলেন, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ওই সফরে বাংলাদেশ ও চীন কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর ও বিস্তৃত করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর এবং অন্যান্য যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বেইজিং আশা করছে।

তিনি আরও বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বিশেষ বক্তব্য দেন। এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান

দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, নতুন বার্তা আবহাওয়া অফিসের

দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, নতুন বার্তা আবহাওয়া অফিসের

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগেরই বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে কার্যকর পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার ভারী বর্ষণের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই; তাপমাত্রা প্রায় বর্তমান অবস্থায় থাকতে পারে।

আবহাওয়া বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করা নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে সরে গিয়ে রাজস্থান অঞ্চলে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে এবং সেটি মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর বিস্তৃত অক্ষ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল অতিক্রম করে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ুর কার্যক্রম মাঝারি অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

২০২৭ সালে হজের খরচ আরও কমানোর পরিকল্পনা, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

২০২৭ সালে হজের খরচ আরও কমানোর পরিকল্পনা, জানালেন প্রতিমন্ত্রী


২০২৬ সালের সফল হজ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ সালের হজের খরচ আরও কমিয়ে আনতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের হজ ও ওমরা ফেয়ার ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিমান ভাড়া এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন কর কমানো সম্ভব হলে একজন হাজির খরচ অন্তত ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হজ প্যাকেজের সামগ্রিক মূল্য কমাতে শুধু বিমান ভাড়া নয়, সৌদি আরবে আবাসন ব্যয়ও কমাতে হবে। এ ক্ষেত্রে হজ এজেন্সিগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তবে সেবার মান যেন কোনোভাবেই কমে না যায়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুনাফা কমিয়ে বিমান ভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবে বিমানবন্দর কর ও গাকা চার্জ বাবদ যে অতিরিক্ত ব্যয় হয়, তা কমাতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এ বিষয়ে একটি কারিগরি দলের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রশাসনিক ব্যয় ও সৌদি চার্জ কমানো সম্ভব হলে শুধু এভিয়েশন খাত থেকেই হজযাত্রীর খরচ প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে আসবে।

তিনি আরও জানান, হজ এজেন্সিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে তাদের প্রায় ৬২ কোটি টাকা বকেয়া দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছোট-বড় সব এজেন্সি যেন সমানভাবে হজ ব্যবস্থাপনায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়েও সরকার নজর রাখছে।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হজ ক্যাম্পে খাবারের দাম লাভবিহীন পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি নুসুক কার্ডরোড টু মক্কা প্রকল্পের মাধ্যমে হাজিদের ভোগান্তি কমানো হয়েছে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে দরিদ্র মানুষের জন্য হজকে আরও সহজলভ্য করতে যাকাত ফান্ড ব্যবহার অথবা সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ হজযাত্রী বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। তাই দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এজেন্সিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার হজযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে নয়, শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত হজ এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধন ও লেনদেন করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বাড়ছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা

বাড়ছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন—এমন বিধান যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য হয়নি। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে একক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবে বিএনপির আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় নোট অব ডিসেন্ট হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল ও আইন কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফ বা ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতাও বহাল রাখা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো আবেদন বিবেচনার আগে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতি গ্রহণের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ছাড়া প্রায় সব রাষ্ট্রীয় বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিকের মতে, জুলাই জাতীয় সনদের সুপারিশ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় বৃদ্ধি পাবে। তবে চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করবে সংসদের সংবিধান সংশোধন কমিটি।

সরকারদলীয় হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান জানিয়েছেন, জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার ইতিবাচক। আর যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আলোচনা করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদও মনে করেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো হলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হবে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।

এদিকে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন এ কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা রয়েছেন। তবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এখনো কমিটিতে প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়নি

চুপ্পুর অসুস্থতায় স্বাস্থ্য সনদের প্রয়োজন নেই: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

চুপ্পুর অসুস্থতায় স্বাস্থ্য সনদের প্রয়োজন নেই: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি


 ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর অসুস্থতা নিয়ে কোনো স্বাস্থ্য সনদ বা মেডিকেল সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, "চুপ্পুর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সনদের প্রয়োজন নেই। তিনি যে শারীরিকভাবে অসুস্থ, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এমনকি মাঝে মাঝে তিনি অচেতনও হয়েছেন।"

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা রক্ষায় সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়টি সামনে রেখে তিনি চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফেরেন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।


কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সেই সুযোগ রয়েছে

কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সেই সুযোগ রয়েছে

 

কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাইলে বাংলাদেশের সংবিধানে তার জন্য স্পষ্ট বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে চাইলে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দায়িত্ব ছাড়তে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, দায়িত্ব পালন বা উত্তরসূরি নিয়োগ—সব বিষয়ই সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর করণীয় সম্পর্কেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে পদত্যাগের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সাংবিধানিক কোনো শূন্যতা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।

সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য সরকারি ঘোষণার ওপরই নির্ভর করা উচিত।

গাজী নজরুল এমপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে জামায়াত

গাজী নজরুল এমপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে জামায়াত

 দল থেকে বহিস্কার হতে পারেন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে দলটি। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জমা পড়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে বুধবার জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে। বৈঠক শেষে এ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

জামায়াতের একাধিক সূত্র জানায়, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কেন্দ্র থেকে কয়েকটি টিমের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপ নির্ধারণের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, কোনো ধরনের অনৈতিকতা বা অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল কঠোর অবস্থান নেবে। নৈতিকতার প্রশ্নে কারও রাজনৈতিক পদ বা পরিচয় বিবেচ্য নয়; দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর সংগঠনের ভেতরে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জোরালো হয়। ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্রীসংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

সূত্রগুলো আরও জানায়, শুধু সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ভূমিকা নয়, পুরো ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক ভূমিকা ও দায়িত্বও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, তদন্ত-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দলের বৈঠক রয়েছে। বৈঠকের পর এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভাইরাল ভিডিওতে দেখা নারী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীও পৃথক ভিডিও বার্তায় তাদের বিয়ের বিষয়টি বৈধ ও পারিবারিক সম্মতিতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে

মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে

 

সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিচার সেনা আইনের আওতায় জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একই ঘটনার জন্য একজন ব্যক্তিকে একাধিক আইনে বা একই অপরাধে দুইবার বিচারের সুযোগ নেই। যেহেতু মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে সামরিক আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন, তাই তাকে পুনরায় সেনা আইনের অধীনেই বিচার করা হবে।

তিনি আরও জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশে ফেরার পর মোজাফফর হোসেনকে আটক করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শাল তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, একই মামলায় যেসব আসামির বিচার ও দণ্ড কার্যকর হয়েছে, তাদের রায় এবং বিদ্যমান সামরিক আইন বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সহযোগীদের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত বা বেসামরিক আদালতে মামলা হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে সামরিক আইনই প্রযোজ্য। তবে ভবিষ্যতে কোনো বিষয় যদি বেসামরিক আদালতের এখতিয়ারে পড়ে, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা বিবেচনা করা হবে।

চট্টগ্রামে দায়ের করা পুনঃতদন্তের আবেদন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালতের এখতিয়ারভুক্ত যেকোনো বিষয় আইন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তবে একই ব্যক্তিকে একই অপরাধে দুইবার বিচারের সুযোগ নেই বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ সময় বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনে ছাত্র নন এমন ব্যক্তিরাও আছেন, দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আন্দোলনে ছাত্র নন এমন ব্যক্তিরাও আছেন, দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

 

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এইচএসসি শিক্ষার্থীদের ব্যানারে চলমান ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি মন্তব্য করেছেন, কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে।

এ আন্দোলনে অনেক অছাত্রও এসেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার এখন পর্যন্ত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না।’

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দুএকটি জেলায় ও ঢাকায় দুএকটি স্পটে দেখেছি, তাদের সংখ্যা বেশি না যারা এগুলো নিয়ে কথা-বার্তা বলছে। হয়তো মিডিয়াতে এসেছে, এ জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। এগুলোতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকারকে বিব্রত করতে চায় এ রকম কিছু মহল তো আছেই। বিভিন্ন ইস্যুতে তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়—সেটা দৃশ্যমান হয়েছে। যারা আন্দোলন করছে, তাদের মধ্যে অনেকেই দেখা গেছে আসলে ছাত্রই না, পরীক্ষার্থীই না।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এমন আন্দোলনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি চলছে। আর শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।’

জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করা হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মাধ্যমে জাস্টিস বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে তার বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এ দেশের জনগণ চায় তার অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক। একইসঙ্গে তার প্রত্যর্পণের জন্য ইতোমধ্যে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে।’

মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার রাজনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক কোনো চাপের বিষয় নিয়ে ভাবছে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে- (ক্ষমতাচ্যুত) শেখ হাসিনার বিচারের লক্ষ্যে তাকে প্রত্যর্পণ করতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চাওয়া হয়েছে। আমরা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি, কারণ আমরা এই রাষ্ট্রে ‘ইনসাফ’ ও ন্যায়বিচার (জাস্টিস) নিশ্চিত করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশের জনগণ দেখতে চায় শেখ হাসিনা যে অপরাধ করেছেন, তার বিচার হোক এবং ইতোমধ্যে তার যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে তা বহাল এবং কার্যকর হোক।’

উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইসিটি আইনকে অত্যন্ত আধুনিক ও বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী সংস্কার করা হয়েছে। শেখ হাসিনা চাইলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বিদেশি আইনজীবী এনে নিজেকে ডিফেন্ড করার সুযোগ পাবেন। এই আইসিটি আদালতে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও বিচার প্রক্রিয়া ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘একেবারে স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া চলবে। তবে আদালতে শেখ হাসিনা যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন যে, তিনি অপরাধী নন-সেক্ষেত্রে আদালত অন্য কোনো শাস্তিও দিতে পারে। সেজন্যই বলছি রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা একজন মানুষকেও সরকার জাস্টিস দিতে চায়। জাস্টিস মূলত এভাবেই নিশ্চিত করতে হয়।’

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা কোনো নির্বাহী আদেশ বা সরকারের সিদ্ধান্ত নয়। এটি সরাসরি আদালতের নির্দেশনা। রাষ্ট্র পরিচালনা ও আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা এক্সিকিউটিভ বডি হিসেবে সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের এই নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা। কোনো রাজনৈতিক দল বা গণমাধ্যম কর্মী যদি মনে করেন এই আদেশে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তবে তারা আদালতে গিয়ে এটি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। আদালত তুলে নিলে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে, কিন্তু যতক্ষণ নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে, সবাইকে রাষ্ট্রের আইন মেনে চলতে হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

রামমূর্তি নির্মাণে জড়িত হরিদাসের কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ

রামমূর্তি নির্মাণে জড়িত হরিদাসের কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ


 গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ নির্মাণ করতে চেয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা সেই হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেয়। আসামিকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং তিনি ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারসহ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসামির ব্যাংক হিসাবসমূহে ব্যবসাবহির্ভূত নগদ অর্থ জমা করা হয়েছে। অভিযোগটির অনুসন্ধানে তার নামে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি এমএফএস হিসাবে বিভিন্ন সন্দেহজনক উৎস থেকে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা হওয়ার রেকর্ডপত্র ভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায়।

আমার দেশের গাইবান্ধা প্রতিনিধি প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, রোববার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। তারা হরিদাস চন্দ্রকে বাইরে ডেকে আনেন এবং পরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্দির এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপিনাথ চন্দ্র তরণী দাসের ছেলে। তার জন্ম ১৯৯১ সালে। তার আপন তিন ভাই গোবিন্দ, গৌরাঙ্গ ও আনন্দ চন্দ্র দাস দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে বসবাস করছেন।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতেই তিনি ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখান থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক ও ইলেক্ট্রনিক বিষয়ে দুই বছরের বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। ধারণা করা হয়, সেখান থেকে ফিরে আসার পরই তার মধ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদের দীক্ষা ও কর্মতৎপরতা শুরু হয়।

২০১০ সালে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় পুরনো এসি মেকানিকের কাজ শুরু করেন। গোয়েন্দা সংস্থার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তিনি তাওহীদ ইসলাম নাম ব্যবহার শুরু করেন। একই বছরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ছাইতানতলা এলাকার সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলামের মেয়ে স্মৃতি আক্তারকে বিয়ে করেন।

আমার দেশ-এর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এক সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘কথিত’ ব্যবসায় সক্রিয় থাকাকালে শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ সেলিমের সঙ্গেও তার গভীর সখ্য গড়ে ওঠে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের ছবি যুক্ত করে ২০১৪ সালের দিকে তিনি প্রতারণা শুরু করেন। তার প্রতারণায় প্রলুব্ধ হয়ে অনেকে চাকরি, বদলি, টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তদবির নিয়ে তার কাছে আসা শুরু করেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ শুরু করেন।

২০১৮ সালে প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। পরে জামিনে ছাড়া পান তিনি।

চলতি বছরের জুন মাসে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দেশের বৃহত্তম ‘রামমূর্তি’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস। পরবর্তীতে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে জুনের শেষভাগে মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিত ঘোষণা করে শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমিটি।

সূত্র: আমার দেশ

‘আমার মাথায় হেলথ নেই, উনি আছেন’—স্ত্রীকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য

‘আমার মাথায় হেলথ নেই, উনি আছেন’—স্ত্রীকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এক রসিক মন্তব্য করে উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফোটান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তার সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে পুরো অডিটোরিয়ামে প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়।

শনিবার ঢামেক ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের পর কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, চিকিৎসা শিক্ষা এবং নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজেদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।

আলোচনার একপর্যায়ে একজন অংশগ্রহণকারী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা জানি আপনার মাথায় হেলথ আছে।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী পাশে বসে থাকা তার সহধর্মিণী ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের দিকে ইঙ্গিত করে হাস্যরসের ভঙ্গিতে বলেন, ‘আমার মাথায় হেলথ নেই, উনি আছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে মুহূর্তেই অডিটোরিয়ামজুড়ে হাসির রোল পড়ে। পরে প্রশ্নকারী বলেন, ডা. জুবাইদা রহমানের মতো একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক যদি দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন, তাহলে তা চিকিৎসক সমাজের জন্য গর্বের বিষয় হবে।

এর আগে সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছে ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি। পরে ক্যাম্পাসে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং বিভিন্ন আয়োজন ঘুরে দেখেন।

দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন, চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সূত্র : আমার সংবাদ

জুলাই আন্দোলনে আহতদের সেবা দিয়েছিলেন ঢামেকের চিকিৎসকরা: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই আন্দোলনে আহতদের সেবা দিয়েছিলেন ঢামেকের চিকিৎসকরা: প্রধানমন্ত্রী

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (ঢামেক) ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঢামেক ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ সালের আন্দোলনে অবদান রেখেছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ঢামেকের প্রত্যেক চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সেই আন্দোলনের সাথে ওঁতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন, সেদিন আহত-শহীদ মানুষগুলোর পাশে তারা দাঁড়িয়েছিলেন, চিকিৎসা দিয়েছিলেন।

শনিবার ডিএমসি ডে-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডাক্তাররা জনগণের পরম বন্ধু, ভরসার জায়গা। মানুষ বিপদে পড়লে ডাক্তারের কাছে যায়। চিকিৎসকরাই রোগ-শোকে কাতর মানুষের পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন। এই কথাটি আমি আমার জীবনেও উপলব্ধি করেছি।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকরাই বহু বছর ধরে আমার মায়ের চিকিৎসা করেছেন। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে তার পাশে ছিলেন। বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও আমার বিশ্বাস ছিল, উন্নত যন্ত্রপাতি সেখানে থাকলেও এই মানবিক সেবা পাওয়া যেতো না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখেছি, তারা কী অসাধারণ নিষ্ঠায় মায়ের সেবা করেছেন। তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের সেবা বাড়াতে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একইসঙ্গে নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ মাতৃত্ব ও মানসম্মত নবজাতক সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

দেশে প্রায় ৬০০টি উপজেলা থাকলেও এর মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অথচ দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে বসবাস করেন, আর শহরাঞ্চলে বাস করেন মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ। তাই গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী ও সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের প্রতি আমার আহ্বান, প্রতি বছর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, লাখো মানুষ উন্নত চিকিৎসার আশায় বিদেশে যাচ্ছেন। এতে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও ব্যয় হচ্ছে। আসুন, আমরা এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলি, যাতে দেশের মানুষ আস্থার সঙ্গে দেশেই উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন এবং বিদেশমুখিতা কমে আসে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

তাজউদ্দিনের অনুরোধেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব

তাজউদ্দিনের অনুরোধেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব


 জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার পক্ষে ছিলেন না। তার দাবি, পাকিস্তানি বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কার মধ্যেও তাজউদ্দীন আহমদের অনুরোধ সত্ত্বেও শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে রাজি হননি।

শনিবার ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে জানিয়েছিলেন যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং জনগণ স্বাধীনতা প্রত্যাশা করছে। কিন্তু শেখ মুজিব নাকি জবাবে বলেন, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে চান না এবং পাকিস্তান ভাঙার সঙ্গে নিজের নাম জড়াক, সেটিও তিনি চান না। এ কারণেই তিনি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি বলে মন্তব্য করেন স্পিকার।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও দমন-পীড়নের মুখে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টই প্রথম সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেই সময় মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল। তার দাবি, এটাই ইতিহাসের প্রকৃত ঘটনা।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল সমগ্র জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর একটি বিশেষ মহল ইতিহাসকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে শুধু ৭ মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার কৃতিত্ব দাবি করার চেষ্টা করেছে। তার মতে, এটি ইতিহাসের প্রতি সুবিচার নয়।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে প্রায়ই অন্যের অবদান নিজেদের নামে প্রতিষ্ঠার প্রবণতা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে দলীয় নেতার বাইরে অন্য কারও অবদান স্বীকার করতে অনীহা থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টটির মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। দেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানরত এসব সদস্য পূর্বপরিকল্পনা বা পারস্পরিক সমন্বয় ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং সাধারণ মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, এই প্রতিরোধই পরবর্তী নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করেছিল।

নিজের সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতিচারণ করে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মূলত ফুটবল খেলার আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের উৎসাহে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, জেনারেল জিয়াউর রহমানই তাকে এই রেজিমেন্টে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।

আলোচনার একপর্যায়ে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে রেজিমেন্টের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সূত্র : আমার সংবাদ

জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার

জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার

 

দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত, আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। তার সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। শহীদ মিনার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মিতব্য দুটি ছাত্রী হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, চিকিৎসা শিক্ষার প্রসার এবং হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

সূত্র : আমার সংবাদ

সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

 

একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে বড়সড় জালিয়াতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী-ডুলাহাজারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত যে ট্রেন লাইন গেছে, সেখানে কয়েক লাখ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে, কিন্তু আমি নিজে যাচাই করে দেখেছি সেখানে বড়জোর দুই লাখের মতো গাছ হবে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

তিনি জানান, উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে, প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে সমৃদ্ধি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যে আমরা ‘ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ’ এবং ‘এনভায়রনমেন্ট স্টার্টআপ ফান্ড’সহ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আগামী ৫ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।

অযৌক্তিকভাবে গাছ না লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ইচ্ছামতো গাছ রোপণ করলে আমাদের লক্ষ্য সফল হবে না। কোন পরিবেশে, মাটিতে ও আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা প্রয়োজন, সেই সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। নব্বইয়ের দশকে লাগানো ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছ পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। এর বদলে দেশীয় প্রজাতির ওষুধি, অর্কিড, বাঁশ জাতীয় বনজ, ফলদ বা বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা বেশি দরকার।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকার সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের কর্মসূচি শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এটি শুধু নগর প্রশাসন বা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। 

যেখানে সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট না ফেলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এক যুবকের রাস্তায় প্যাকেট ছুড়ে ফেলার কথা উল্লেখ করে তিনি পরিবেশকর্মীদের সাধারণ মানুষকে এসব বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানান।

জীববৈচিত্র্য রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ— এগুলোকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। কোনো একটি পোকা বা মাকড়সা দেখলে আমরা মেরে দেই। ও তো আপনাকে কামড়াচ্ছে না, কী দরকার ওকে মারার? একটা পাখি দেখলে আমরা ঢিল মারি। এসব জিনিস আমাদের বাচ্চাদের শেখানো উচিত।

উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন ও পরিবেশ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়ে উঠুক— এটিই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। দেশ হোক সব প্রাণী এবং প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে নতুন কূটনৈতিক কৌশল প্রধানমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে নতুন কূটনৈতিক কৌশল প্রধানমন্ত্রীর


 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক ফ্রন্টে মিয়ানমারের মূল জান্তা সরকারের পাশাপাশি সকল পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের মূলভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইকরণের কাজ নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রমও চলামান আছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের এমপি সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয়। এর সমাধানের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশেই নির্ভর করে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর। রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সঙ্গে সংলাপ জোরদার করেছি। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে এই বিপুলসংখ্যক বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সসম্মানে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে বর্তমান সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানের লক্ষে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক-সকল ফ্রন্টেই অত্যন্ত জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আওয়ালের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বিরাজমান থাকায় ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার খোলার উদ্যোগসহ থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া থাইল্যান্ড সরকারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। তাছাড়া, বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে সেদেশের চাহিদা নিরূপণপূর্বক জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রেরণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, বন্ধ থাকিা মালয়েশিয়া শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সরকারদলীয় এমপি এবিএম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দেশের শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের কারণ উদঘাটনের লক্ষে বিভিন্ন সময় বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী সংগঠন এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

তিনি বলেন, শেয়ার মার্কেটের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পরিকল্পনা আছে। ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা রয়েছে। যার প্রেক্ষিতে কতিপয় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে আরও অন্যান্য ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান জড়িত কিনা উদঘাটনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেয়ার মার্কেট কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া দায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণে গঠিত তদন্ত কমিটির গঠন ও প্রদত্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য বদ্ধপরিকর। সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পণ্যের বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

চট্টগ্রাম ও ঢাকা পুঁজিবাজারের বৈষম্য দূর করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা। পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি প্রযোজ্য। তিনি বলেন, কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিভিন্ন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক অফারে গ্রাহকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ রয়েছে। সেখানে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম ও ঢাকা পুঁজিবাজারের বৈষম্য দূর করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা। পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য।

তিনি বলেন, কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিভিন্ন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক অফারে গ্রাহকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ রয়েছে। সেখানে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: আমার দেশ

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী


 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে সম্মানী বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এনসিপির এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের অনেক শিক্ষক সংসার চালাতে ক্লাস শেষে দ্বিতীয় কাজ বা কৃষিকাজে যেতে বাধ্য হন, এমন বাস্তবতা তুলে ধরে তাদের সম্মানী বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি শিক্ষকদের সঠিকভাবে ট্রেনিং দিতে না পারি, তাদের সম্মানী যদি বৃদ্ধি করতে না পারি, তাহলে অবশ্যই আমরা প্রত্যাশা করি না যে তারা ভালো কিছু করতে পারবে।

অনেক শিক্ষকের আর্থিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় আমরা এখনও দেখি যে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা তাড়াতাড়ি করে ক্লাস করে হয়ত আরেকটি সেকেন্ড জবে অথবা কৃষি কাজে যেতে হয়। তা না হলে তার সংসার চলে না।

মাধ্যমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা দেখা যায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, শিক্ষকরা যেন দ্বিতীয় কাজ করতে বাধ্য না হন এবং তাদের সময় ও মেধা শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করতে পারেন, সেজন্য তাদের সম্মানী বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং সম্মানী বৃদ্ধির কাজ সরকার পর্যায়ক্রমে করবে।

শিক্ষাখাতের আগের পরিস্থিতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের সময়ে শুধু ভবন হয়েছে, কিন্তু মানবসম্পদের উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার মান বাড়াতে হলে শিক্ষক প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নও জরুরি।

সূত্র: আমার দেশ