বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হতো না আসিফ নজরুল
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তবে স্বাধীনতার পর তাঁর শাসনামলের নানা বিতর্কিত ঘটনাও আড়াল করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অনেক কারণ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হতো না।
আসিফ নজরুল বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুর মধ্যে গণতন্ত্র, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখা গেছে। এ বিষয়ে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গণপরিষদের বিতর্কের দলিলেও বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে বঙ্গবন্ধুর দেশ পরিচালনার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পরের বাংলাদেশ পরিচালনা করা নানা কারণে কঠিন ছিল। কিন্তু সেই বাস্তবতা পরবর্তী সময়ে তাঁর শাসনব্যবস্থায় কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা তৈরি হওয়ার বিষয়টিকে বৈধতা দেয় না। তাঁর শাসনামলের দুর্ভিক্ষ, হত্যাকাণ্ড এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোও আড়াল করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর কয়েক বছরের শাসনের সমালোচনা থাকলেও স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকার কারণে অনেক মানুষ তাঁকে ভালোবাসতেন ও শ্রদ্ধা করতেন। তিনি নিজেকেও সেই মানুষদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে শেখ হাসিনার শাসনামলের কারণে বঙ্গবন্ধুর প্রতি সেই ভালোবাসা প্রকাশ করা তাঁর মতো মানুষের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা নিজের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করতে বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন।
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উল্লেখ করে আসিফ নজরুল তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর জন্য দোয়া করেন।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ।