ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি! নতুন উপজেলা প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন ভেঙে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো জেলা। প্রস্তাবিত এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সোমবার (সকালে) জেলা শহর ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিপুল সংখ্যক জনতা অবরোধ সৃষ্টি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব এবং বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নকে ভেঙে আখাউড়ার বরিসল ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করে ‘বরিসল’ নামে একটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়ার প্রস্তাব উঠে। এই প্রস্তাবের প্রতিবাদে সোমবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী মোড় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর বিক্ষুব্ধ অধিবাসীরা। এ সময় তারা মহাসড়কে কাঠ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও বিভিন্ন ক্ষুব্ধ স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষুব্ধ জনতা ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একটি বিশেষ রাজনৈতিক চক্রান্ত ও পরিকল্পনার আলোকেই এই নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবটি করা হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নতুন উপজেলা গঠনের সম্ভ্যাব্যতা পরিদর্শনের জন্য চিঠি পাঠালেও জেলা প্রশাসন বিষয়টিকে জনগণের কাছ থেকে গোপন রেখেছিল বলে দাবি করেন বক্তারা। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কক্ষে প্রবেশ করে এ বিষয়ে তাঁদের তীব্র অসন্তোষ জানান।
পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তৌফিকুল ইসলাম রোমা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ আন্দোলনকারী ৪টি ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।
বৈঠক শেষে নতুন উপজেলা গঠনের অবাস্তব ও অযৌক্তিক প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসকের নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "চারটি ইউনিয়নের অধিবাসীদের যৌক্তিক দাবি ও মতামত দ্রুততম সময়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন ও অবহিত করা হবে।"Administración জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আশ্বাসের বার্তা পাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বিক্ষোভকারীরা।
তবে আন্দোলনরত নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর তীব্র হুঁশিয়ারি— জোরপূর্বক বা কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যদি নতুন উপজেলার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সড়ক ও রেলপথ অবরুদ্ধ করে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে অচল করে দেওয়া হবে।
