The National Press ​
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রবাসীর দোকান দখলের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রবাসীর দোকান দখলের অভিযোগ

file photo

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি দোকান ও জমির মালিকানা নিয়ে প্রবাসী মো. সাইফুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুরের পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাড়াটিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দলিলের বাইরে অতিরিক্ত জমি নিজের নামে রেকর্ড করার অভিযোগ তুলে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রবাসী সাইফুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়া অভিযোগে সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি সরাইল সদরের বাসিন্দা এবং মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ২০০৫ সালের ২৮ জুন সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে সরাইল মৌজার বিএস ১৪১৭৩ দাগে এক শতক জমির মালিকানা অর্জন করেন তিনি। ওই জমিতে দোকান নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া দিয়ে আসছেন বলেও দাবি তাঁর।

সাইফুলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাঁর দোকান ও জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাড়াটিয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান বন্ধ করে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে। গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে কয়েকজন লোক নিয়ে দোকানের শাটার তালাবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে তাঁকে রাজনৈতিক মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন সাইফুল। নিজের সম্পত্তির নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতার

তবে সাইফুল ইসলামের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর। তাঁর দাবি, মৃত সিরাজুল ইসলাম ছিলেন নিঃসন্তান এবং সাইফুল তাঁর পালিত ছেলে। সিরাজুল ইসলাম জীবিত অবস্থায় নিজের অধিকাংশ সম্পত্তি সাইফুলের নামে দলিল করে দিয়েছেন।

আনিছুল ইসলাম জানান, সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী তাঁর স্ত্রীর আপন বড় বোন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আনিছুলের এক ছেলেকে ছোটবেলা থেকেই ওই নারী লালন-পালন করেছেন। বর্তমানে তাঁর ছেলেই বয়স্ক ওই নারীর দেখাশোনা করছেন। এ কারণে ওই নারী নিজের ইচ্ছায় তাঁর ছেলেকে দুটি দোকান দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

দলিলের বাইরে জমি খারিজের পাল্টা অভিযোগ

প্রবাসী সাইফুলের বিরুদ্ধে জমির পরিমাণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন আনিছুল ইসলাম ঠাকুর। তাঁর দাবি, সাফ কবলা দলিলে ২ দশমিক ৪২৫ শতক জমি উল্লেখ থাকলেও সাইফুল ২ দশমিক ৭৮ শতক জমি নিজের নামে খারিজ করিয়েছেন। একইভাবে পৈতৃক সম্পত্তির সাত শতক জমির বিপরীতে আট শতক খারিজ করার অভিযোগও করেন তিনি।

আনিছুল ইসলাম জানান, এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলেও দাবি তাঁর।

তবে জমির পরিমাণ বেশি খারিজ করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সাইফুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন স্থানের জমির হিসাব একসঙ্গে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। নিজের বাড়ি, দোকান ও অন্য স্থানের জমির হিসাব আলাদা না করে দেখানোর কারণে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাইফুলের অভিযোগ, প্রকৃত জমির হিসাব আড়াল করে তাঁর বৈধ সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

saiful_islam_complaint File


তদন্তের কথা জানাল পুলিশ সুপার

বিষয়টি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন ফাহিম বলেন, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে জমির প্রকৃত মালিকানা, দলিলের পরিমাণ এবং খারিজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথি ও দলিলপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশি তদন্তের ফলাফল এবং ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির ওপরই বিরোধটির পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে।

​ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে কু-পিয়ে হ-ত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

​ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে কু-পিয়ে হ-ত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি (হালিমা খানম): ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেশার টাকার জন্য মারুফা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বিরাশার গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।  

​নিহত মারুফা সদর উপজেলার উলচাপাড়া গ্রামের তাহের মিয়ার মেয়ে। প্রায় এক মাস আগে কুদ্দুস মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল।  

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত স্বামী কুদ্দুস মিয়া একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি প্রায়ই নেশার টাকার জন্য মারুফাকে মারধর করতেন। গত রবিবার রাতেও কুদ্দুস তার স্ত্রীর কাছে নেশার টাকা চান। মারুফা টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে কুদ্দুস তাকে মারধর করে। সোমবার সকালে ঘরের ভেতর মারুফার কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে ঘরের ভেতর থেকে মোবাইল ফোনের রিংটোনের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকে মারুফার রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।  

​পরে নিহতের পরিবার ও পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, নেশার টাকা না পেয়েই মাদকাসক্ত স্বামী কুদ্দুস তার স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।  

​ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আলম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে তার স্বামী পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি! নতুন উপজেলা প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি! নতুন উপজেলা প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন ভেঙে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো জেলা। প্রস্তাবিত এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সোমবার (সকালে) জেলা শহর ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিপুল সংখ্যক জনতা অবরোধ সৃষ্টি করেন।  

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব এবং বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নকে ভেঙে আখাউড়ার বরিসল ইউনিয়নের সাথে যুক্ত করে ‘বরিসল’ নামে একটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়ার প্রস্তাব উঠে। এই প্রস্তাবের প্রতিবাদে সোমবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী মোড় ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর বিক্ষুব্ধ অধিবাসীরা। এ সময় তারা মহাসড়কে কাঠ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও বিভিন্ন ক্ষুব্ধ স্লোগান দিতে থাকেন।  

​বিক্ষুব্ধ জনতা ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একটি বিশেষ রাজনৈতিক চক্রান্ত ও পরিকল্পনার আলোকেই এই নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবটি করা হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নতুন উপজেলা গঠনের সম্ভ্যাব্যতা পরিদর্শনের জন্য চিঠি পাঠালেও জেলা প্রশাসন বিষয়টিকে জনগণের কাছ থেকে গোপন রেখেছিল বলে দাবি করেন বক্তারা। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কক্ষে প্রবেশ করে এ বিষয়ে তাঁদের তীব্র অসন্তোষ জানান।  

​পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তৌফিকুল ইসলাম রোমা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ আন্দোলনকারী ৪টি ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।  

​বৈঠক শেষে নতুন উপজেলা গঠনের অবাস্তব ও অযৌক্তিক প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসকের নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।  

​এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "চারটি ইউনিয়নের অধিবাসীদের যৌক্তিক দাবি ও মতামত দ্রুততম সময়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন ও অবহিত করা হবে।"Administración জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আশ্বাসের বার্তা পাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বিক্ষোভকারীরা।  

​তবে আন্দোলনরত নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর তীব্র হুঁশিয়ারি— জোরপূর্বক বা কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যদি নতুন উপজেলার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সড়ক ও রেলপথ অবরুদ্ধ করে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে অচল করে দেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে অন্যতম চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড নিদারাবাদের সাত খুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে অন্যতম চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড নিদারাবাদের সাত খুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: সময় গড়িয়েছে প্রায় চার দশক। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিদারাবাদ গ্রামের একটি পরিবারের ওপর নেমে আসা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি আজও মুছে যায়নি স্থানীয় মানুষের মন থেকে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শশাঙ্ক দেবনাথকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এর দুই বছর পর খুন হন তাঁর স্ত্রী বিরজাবালা দেবনাথ ও পাঁচ সন্তান। ছয়জনের মরদেহ টুকরো করে দুটি লোহার ড্রামে ভরে ধুপাজুড়ি বিলে ডুবিয়ে রাখার ঘটনা সে সময় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তবে পরিবারের কর্তা শশাঙ্ক দেবনাথের মরদেহ আজও উদ্ধার হয়নি।

১৯৮৭ সালের ১৬ অক্টোবর শশাঙ্ক দেবনাথ নিখোঁজ হন। পরে তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমে উঠে আসে, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এর প্রায় দুই বছর পর, ১৯৮৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে হত্যার ঘটনা সামনে আসে। তৎকালীন নাসিরনগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের নিদারাবাদ গ্রামে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড বর্তমানে বিজয়নগর উপজেলার ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অপরাধ হিসেবে পরিচিত।

জমি নিয়ে বিরোধ থেকেই হত্যার সূত্রপাত

নিদারাবাদ গ্রামের বাসিন্দা শশাঙ্ক দেবনাথের জমি ও বাড়ির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ছিল। অভিযুক্ত তাজুল ইসলামসহ কয়েকজন দাবি করেছিলেন, শশাঙ্ক তাঁদের কাছে সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে গেছেন। অন্যদিকে, শশাঙ্কের পরিবারের পক্ষ থেকে জমি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়।

শশাঙ্ক নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী বিরজাবালা দেবনাথ স্বামীর সন্ধান এবং সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে থানায় মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, মামলা চালিয়ে যাওয়ার কারণে তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকির মুখে পড়তে হয়।

মামলার বর্ণনা ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, শশাঙ্ককে হত্যার ঘটনায় তাজুল ইসলামকে প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই পরবর্তী সময়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

সীমান্তে নেওয়ার কথা বলে শশাঙ্ককে হত্যা

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাজুল ইসলাম শশাঙ্ককে হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনার বিবরণ দেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, একদিন ভোরে তিনি ও তাঁর জামাতা ইনু মিয়া শশাঙ্কের বাড়িতে যান। তাঁকে জানানো হয়, তাঁর মেয়ের জামাই মনা দেবনাথ ভারত সীমান্তে অপেক্ষা করছেন। এ কথা বিশ্বাস করে শশাঙ্ক তাঁদের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন।

পরে তাঁকে মাধবপুরের নিজনগর গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সীমান্ত পরিস্থিতির কথা বলে রাতে যাত্রার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়।

জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই রাতেই তাজুল ও তাঁর সহযোগীরা গামছা দিয়ে শশাঙ্কের গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে হত্যা করেন। পরে তাঁর মরদেহ ভারতের চেহরিয়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত শরণার্থীশিবিরের পাতকুয়ায় ফেলে আসা হয় বলে বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

তবে শশাঙ্কের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

একই পরিবারের ছয়জনকে হত্যার পরিকল্পনা

শশাঙ্ক নিখোঁজ হওয়ার পরও তাঁর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলতে থাকে। বিরজাবালা মামলা চালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার বিবরণে উঠে আসে।

১৯৮৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাতে বিরজাবালা দেবনাথ ও তাঁর পাঁচ সন্তানকে হত্যা করা হয়। নিহত সন্তানদের মধ্যে ছিলেন নিয়তিবালা দেবনাথ (১৭), সুভাস দেবনাথ (১৪), প্রণতিবালা দেবনাথ (১০), সুপ্রসন্ন দেবনাথ সুমন (৫) এবং সুজন দেবনাথ (২)।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে তাজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা পরিকল্পনা করেন। এ কাজে অর্থের লেনদেন, নৌকা ভাড়া এবং হত্যার পর মরদেহ গোপন করার প্রস্তুতির কথাও জবানবন্দিতে উঠে আসে।

বর্ণনা অনুযায়ী, সহযোগীরা নৌকায় করে শশাঙ্কের বাড়িতে পৌঁছে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে বিরজাবালা ও তাঁর সন্তানদের ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ধুপাজুড়ি বিলে।

সেখানে তাঁদের হত্যা করার পর মরদেহগুলো টুকরো করে দুটি লোহার ড্রামে রাখা হয়। ড্রামে চুন ও লবণ দিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে সেগুলো বিলের পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

বিলের পানিতে ভেসে ওঠে দুর্গন্ধ, প্রকাশ পায় হত্যার ঘটনা

বিরজাবালা ও তাঁর সন্তানদের নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর ধুপাজুড়ি বিল থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আবুল মোবারক নৌকায় করে বাড়ি ফেরার পথে পানিতে দুর্গন্ধযুক্ত তেল ভাসতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি নৌকা ঘুরিয়ে ওই স্থানে খোঁজ নেন।

একপর্যায়ে নৌকার নিচে কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লাগলে মাঝি পানির নিচ থেকে একটি লোহার ড্রাম তুলে আনেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ড্রামটির মুখ খোলা হলে ভেতরে তিনটি মরদেহ পাওয়া যায়।

এরপর বিলের পানিতে তল্লাশি চালিয়ে দ্বিতীয় ড্রামটিও উদ্ধার করা হয়। সেটির ভেতরেও তিনটি মরদেহ ছিল। পরে সেগুলো নিখোঁজ বিরজাবালা ও তাঁর পাঁচ সন্তানের বলে শনাক্ত করা হয়।

শশাঙ্কের একমাত্র মেয়ে সুনীতিবালা দেবনাথ সে সময় শ্বশুরবাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিচারে নয়জনের মৃত্যুদণ্ড

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং পরিকল্পিত হত্যার বিষয়টি সামনে আসে। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে নয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে তাজুল ইসলাম ও বাদশার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। অন্য আসামিদের মধ্যে ২৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজন খালাস পান বলে প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাজুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল বলে জানান এলাকাবাসী। তাঁর মরদেহ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়িতে মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও স্থানীয়দের স্মৃতিতে রয়েছে।

দুর্গম পথ পেরিয়ে সংবাদ সংগ্রহ

হত্যাকাণ্ডের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েছিলেন সাংবাদিকেরা। তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত সাংবাদিক এবং বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোহাম্মদ আরজু, সৈয়দ মোহাম্মদ আকরাম ও দীপক চৌধুরী বাপ্পির স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে সেই সময়ের চিত্র।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা শহর থেকে নিদারাবাদে পৌঁছানো ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। কখনো রিকশায়, কখনো পায়ে হেঁটে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে হতো। সংবাদ সংগ্রহের পর তা ঢাকার সংবাদপত্রের কার্যালয়ে পাঠাতেও বর্তমান সময়ের মতো তাৎক্ষণিক যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। টেলিগ্রাম কিংবা বাহকের মাধ্যমে সংবাদ পাঠানো হতো।

সাংবাদিকদের স্মৃতিতে, সে সময় গ্রামজুড়ে মানুষের মধ্যে শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

চলচ্চিত্রেও উঠে আসে নিদারাবাদের ঘটনা

নিদারাবাদের সাত খুনের ঘটনা তৎকালীন সময়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে ‘কাঁদে নিদারাবাদ’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

ঘটনার প্রায় চার দশক পরও নিদারাবাদের মানুষের কাছে এটি শুধু একটি পুরোনো অপরাধের ঘটনা নয়; বরং জমি নিয়ে বিরোধ, একটি পরিবারের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে উত্তর না পাওয়া নানা প্রশ্নের স্মারক।

স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের মরদেহ উদ্ধার হলেও শশাঙ্ক দেবনাথের দেহাবশেষের সন্ধান আজও মেলেনি। সেই অসমাপ্ত অধ্যায়ই নিদারাবাদের সাত খুনের ইতিহাসকে এখনো বেদনাবিধুর করে রেখেছে।

বদলির এক মাস পরও নতুন ওসি নেই আশুগঞ্জ থানায় পুলিশি সেবা নিয়ে উদ্বেগ

বদলির এক মাস পরও নতুন ওসি নেই আশুগঞ্জ থানায় পুলিশি সেবা নিয়ে উদ্বেগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি বদলির আদেশের এক মাস পেরিয়ে গেলেও। বিদায়ী কর্মকর্তা দায়িত্ব হস্তান্তর করে চলে যাওয়ার পরও পদটিতে স্থায়ীভাবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে থানার সেকেন্ড অফিসার দুই মাসের প্রশিক্ষণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এমন পরিস্থিতিতে থানার কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের পুলিশি সেবা পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বিভিন্ন বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করেও তাঁরা প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছেন না। বিশেষ করে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরীকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় বদলি করা হয়। পরে ২ অক্টোবর তিনি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আনিসুর রহমানের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে অব্যাহতি নেন। এরপর ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো ওসি পদায়ন করা হয়নি। বর্তমানে মো. আনিসুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত ওসি হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আশুগঞ্জ উপজেলার চারতলা গ্রামের বাসিন্দা আমীর হোসেন এবং লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাদকসংক্রান্ত কয়েকটি বিষয়ে তাঁরা থানায় অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগ জানানোর পরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেরি হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

এদিকে থানার সেকেন্ড অফিসার নুর আলম দুই মাসের প্রশিক্ষণে ঢাকায় রয়েছেন। তাঁরও বদলির আদেশ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে থানার গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে দায়িত্ব বণ্টন ও নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ থানায় বর্তমানে নয়জন উপপরিদর্শক (এসআই), ১১ জন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং ৩৩ জন কনস্টেবল কর্মরত রয়েছেন। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও এ থানাকে পালন করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আটটি ইউনিয়নে বিট ও সহকারী বিট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের কারণে থানার অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় জনবলসংকটের চাপ তৈরি হচ্ছে। থানার ভৌগোলিক পরিধি ও বন্দর এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আরাফাতুল ইসলাম জানান, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আনিসুর রহমানকে ওসি হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন ওসি নিয়োগে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখভাল করেন।

নতুন ওসি পদায়ন এবং থানার জনবলসংকটের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের নিষ্পত্তি ও পুলিশি সেবা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

প্রতিবেদন: হালিমা খানম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগরে ‘সিঙ্গারবিল শান্তি মোড়া’ যুব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের যাত্রা শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগরে ‘সিঙ্গারবিল শান্তি মোড়া’ যুব কল্যাণ ঐক্য পরিষদের যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘সিঙ্গারবিল (শান্তি মোড়া) যুব কল্যাণ ঐক্য পরিষদ’। এলাকার তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করে সামাজিক উন্নয়ন, মানবসেবা ও ইতিবাচক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও স্থানীয় বিশিষ্ট সালিশকারক সায়েদুল ইসলাম খাঁন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রশিদ আবু এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য মশিউর রহমান (ইমন), মহসিন মোল্লা, মোহাম্মদ জুনায়েদ ও পাপেল।

যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে সংগঠন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রমের একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে এলাকার তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখা। খেলাধুলা ও বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুবসমাজকে ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির।

এ ছাড়া অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসায় সহযোগিতা, দুর্যোগের সময় ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রেও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে পরিষদের। মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে কর্মসূচি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও জুয়ার মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রবাসীদের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ

সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্থানীয় ও প্রবাসী যুবকদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এলাকার প্রবাসীদের অবদানকে মূল্যায়নের পাশাপাশি তাদের সহযোগিতায় স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি এলাকার পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সিঙ্গারবিল ইউনিয়নে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্য বজায় রাখতে সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অতিথিরা সংগঠনের ভালো উদ্যোগগুলোতে পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার কথাও জানান।

অনুষ্ঠানে সংগঠনটির কার্যক্রমে প্রবাসীদের আর্থিক ও বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে কামরুল, সোহেল, আরিফ, আল আমিনসহ সংশ্লিষ্টদের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি এলাকার মুরুব্বি এবং বিভিন্ন বয়সী স্থানীয়দের সহযোগিতার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকদের আশা, ভবিষ্যতে সংগঠনটি সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

আয়োজনে: সিঙ্গারবিল (শান্তি মোড়া) যুব কল্যাণ ঐক্য পরিষদ, বিজয়নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।