The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
সাব্বিরের ঝোড়ো ফিফটিতে বাংলাদেশ এইচপির টানা দ্বিতীয় জয়

সাব্বিরের ঝোড়ো ফিফটিতে বাংলাদেশ এইচপির টানা দ্বিতীয় জয়

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। নেপালের বিপক্ষে জয়ের পর এবার হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমিকেও হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা।

রোববার (২৩ আগস্ট) ডারউইনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমিকে ৩ উইকেটে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ এইচপি। দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন সাব্বির রহমান। চাপের মুহূর্তে ব্যাট হাতে আক্রমণাত্মক ফিফটি করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন তিনি।

টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমি। তাদের হয়ে টিগুই ওয়াইলি ৫৩ বলে ৭৮ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কা। ব্র্যাডলি হোপ করেন ১৭ বলে ২২ রান।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রুবেল তিনটি এবং রিপন মণ্ডল দুটি উইকেট শিকার করেন। ফলে প্রতিপক্ষকে ১৫৩ রানের মধ্যে আটকে রাখতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

জয়ের জন্য ১৫৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৬০ রান তুলতেই চার উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এমন পরিস্থিতিতে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের রান এগিয়ে নিতে থাকেন সাব্বির রহমান।

দারুণ ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩৬ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন সাব্বির। শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৫৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে ফেরেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও দুটি ছক্কার মার।

সাব্বির আউট হওয়ার পরও জয়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যায় বাংলাদেশ। শামীম ২৪ বলে ১৬ এবং এসএম মেহরব ১৪ বলে ১৩ রান করেন। এরপর আব্দুল গাফফার সাকলাইন ১৩ বলে ১৯ এবং আবু হায়দার রনি ৫ বলে ৮ রান করে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

শেষ পর্যন্ত ১৫৪ রানের লক্ষ্য ৩ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ এইচপি। ফলে টুর্নামেন্টে টানা দুই ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ল দলটির।

অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের দিকে নজর রয়েছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। বিশেষ করে জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাব্বির রহমানের ব্যাটে এমন ছন্দ তার জন্যও স্বস্তির খবর।

ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ, ফিফা আসিয়ান কাপে লাল-সবুজের নতুন সুযোগ

ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ, ফিফা আসিয়ান কাপে লাল-সবুজের নতুন সুযোগ

শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের সামনে খুলে গেল আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় এক সুযোগ। ভারতের সরে দাঁড়ানোর পর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬-এ অংশ নেওয়ার অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ। শনিবার বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আগেই আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। অপেক্ষা ছিল ফিফার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের। সেই অনুমোদন পাওয়ার পরই ভারতের পরিবর্তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ফিফা আসিয়ান কাপের ডিভিশন-১। ভারতের জায়গা নেওয়ায় ‘এ’ গ্রুপেই খেলবে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর

কেন সরে দাঁড়াল ভারত?

আসিয়ান কাপের সময়সূচির সঙ্গে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচের সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ায় তারা টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ভারতের। ওই ম্যাচকে সামনে রেখেই আসিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

ভারতের শূন্যস্থান পূরণে দক্ষিণ এশিয়ার আরেকটি দল হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করে ফিফা। শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগই কাজে লাগাতে যাচ্ছে লাল-সবুজের দল।

চার ম্যাচ খেলার সুযোগ

বাংলাদেশের জন্য টুর্নামেন্টটি শুধু তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিযোগিতার কাঠামো অনুযায়ী গ্রুপে বাংলাদেশের অবস্থানের ভিত্তিতে আরও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে।

দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে। রানার্সআপ দলগুলো খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। একইভাবে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলোর জন্যও রয়েছে আলাদা স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। ফলে প্রতিটি দলেরই সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

খরচ নিয়েও স্বস্তি বাফুফের

বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সুবিধা হলো আর্থিক বিষয়টি। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া দলগুলোর যাতায়াত ও আবাসনের ব্যয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে অর্থও দেওয়া হবে। ফলে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাফুফের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ পড়ছে না।

সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপও রয়েছে বাংলাদেশের। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে নিজেদের আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ও সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাবেন জামাল ভূঁইয়া-হামজারা।

ভারতের সরে দাঁড়ানোর কারণে যে সুযোগটি হঠাৎ বাংলাদেশের সামনে এসেছে, সেটি এখন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে কতটা কাজে লাগানো যায়—সেদিকেই থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের নজর।

শেখ হাসিনাকে ‘অধিনায়ক’ উল্লেখ করে তার সঙ্গে দেশে ফিরতে চান সাকিব

শেখ হাসিনাকে ‘অধিনায়ক’ উল্লেখ করে তার সঙ্গে দেশে ফিরতে চান সাকিব

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালে দেশ ছাড়ার পর এবার দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি বলেছেন, সরকার যদি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, সরকার যদি তাকে দেশে ফেরার অনুমতি ও নিরাপত্তা দেয়, তাহলে তিনি দেশে ফিরে আদালতের বিচারসহ প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) খেলতে দেশটিতে অবস্থান করছেন সাকিব। সেখান থেকেই ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি। সরকার যদি আমাকে ক্লিয়ারেন্স দেয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে দেশে ফিরে যা যা করার প্রয়োজন, সবকিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।”

সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। একই প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, তিনি এখনই দেশে ফিরতে চান। তবে তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফেরার চেষ্টা করবেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে সাকিব বলেন, “অধিনায়ক যা বলেন, আমরা তাই অনুসরণ করি। আমি মনে করি, তারা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন, আর আমরা তাদের নির্দেশনা মেনে চলব।”

শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা হয়েছে। একইভাবে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে, যা তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করেছে।

এটি গত দুই বছরে বিদেশে অবস্থান নিয়ে সাকিব আল হাসানের সবচেয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্য মন্তব্য বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

ইনজুরি কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে ফিরলেন লিটন দাস

ইনজুরি কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে ফিরলেন লিটন দাস


বাংলাদেশ দলের জন্য এলো স্বস্তির খবর। ইনজুরি কাটিয়ে শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে জায়গা পেয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন কুমার দাস। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বাম পায়ের কাফে চোট পাওয়ায় দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। একই কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ঘোষিত প্রাথমিক স্কোয়াডেও তার নাম ছিল না।

তবে পুনর্বাসন কার্যক্রমে দ্রুত উন্নতি হওয়ায় মেডিকেল দলের ইতিবাচক মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাকে প্রথম টেস্টের জন্য দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিসিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠায় লিটনকে আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে রাখা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ দলের প্রথম বহর ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছে। লিটন রোববার আলাদা ফ্লাইটে ডারউইনের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে পৌঁছে তিনি দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবেন।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে চোট পাওয়ার পর থেকেই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন লিটন দাস। তবে পুনর্বাসন সফলভাবে শেষ হওয়ায় জাতীয় দলে তার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বাড়তি শক্তি যোগ করবে।

গিনেস রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনাকে নিষিদ্ধের দাবির পিটিশন, ফিফার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই

গিনেস রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনাকে নিষিদ্ধের দাবির পিটিশন, ফিফার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই

 

২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটিকে ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে চালু হওয়া একটি অনলাইন পিটিশন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ‘Leave Argentina’ শিরোনামের ওই পিটিশনে ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮টি স্বাক্ষর জমা পড়েছে।

পিটিশনের উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে ফিফা ও ম্যাচ কর্মকর্তারা আর্জেন্টিনা এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। তাদের ভাষ্য, যদি কোনো দলের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সেই যুক্তিতে তারা আর্জেন্টিনাকে ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে পিটিশনের লক্ষ্য ছিল ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। তবে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সেই লক্ষ্য অতিক্রম করে স্বাক্ষরের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ইউরোনিউজ-এর তথ্য অনুযায়ী, পিটিশনটি বন্ধ হওয়ার সময় মোট স্বাক্ষরের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮

এত বিপুল সমর্থন পাওয়ায় পিটিশনটি বিশ্বের বৃহত্তম গণস্বাক্ষর অভিযানের অন্যতম হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অনলাইন বা গণস্বাক্ষর অভিযানের আনুষ্ঠানিক রেকর্ড এখনো ১৯৯৭ সালের ‘জুবিলি ২০০০’ আন্দোলনের দখলে, যেখানে ২ কোটি ৪৩ লাখেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন। ফলে নতুন এই পিটিশনটি সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনো তা অতিক্রম করতে পারেনি।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এখন পর্যন্ত এ পিটিশনকে কোনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। একইভাবে ফিফাও আর্জেন্টিনাকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা সিদ্ধান্ত জানায়নি।

পিটিশনের সমাপনী বার্তায় উদ্যোক্তারা লিখেছেন, “ফিফা আমাদের কথা শোনেনি, কিন্তু স্পেন তাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছে। ধন্যবাদ, স্পেন।” যদিও এই পিটিশনের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো জাতীয় দলকে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা একমাত্র ফিফার, এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত শৃঙ্খলা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: ইউরোনিউজ, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে

 

বিশ্বকাপের আরেকটি আসরেও নিজের গোল করার অসাধারণ ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জিতে নিলেন গোল্ডেন বুট

পুরো আসরজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়ান এমবাপ্পে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক গোল করে তিনি ফ্রান্সকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুই আসরে গোল্ডেন বুট জয় এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে আরেকটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বমঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

গোল্ডেন বুট জয়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় আরও একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার যোগ হলো ফরাসি এই তারকার।

আর্জেন্টাইনদের কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আর্জেন্টাইনদের কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

 

দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে স্পেন। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের লড়াই শেষে স্প্যানিশরা নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি গৌরবময় অধ্যায় যোগ করেছে।

ম্যাচজুড়ে দুই দলই সমানতালে আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসে স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী এই লড়াইয়ে রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্প্যানিশরা।

অন্যদিকে ১০ জনের দল নিয়ে দীর্ঘ সময় লড়াই করেও শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। লাল কার্ডে এনজো ফার্নান্দেজ মাঠ ছাড়ার পর ম্যাচে চাপ বেড়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ওপর।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকরা। ট্রফি জয়ের আনন্দে উৎসবের রঙে রাঙিয়ে তোলে পুরো স্টেডিয়াম।

শিরোপা নির্ধারণে অতিরিক্ত সময়ে স্পেন-আর্জেন্টিনা

শিরোপা নির্ধারণে অতিরিক্ত সময়ে স্পেন-আর্জেন্টিনা

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় বিশ্বকাপ ফাইনালের শিরোপা নির্ধারণের লড়াই গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে একাধিক আক্রমণ ও সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত জালের দেখা মেলেনি।

ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে পাল্টাপাল্টি লড়াই করেছে দুই দল। রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং গোলরক্ষকদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্যই থাকে স্কোরলাইন।

এদিকে একজন খেলোয়াড় কম নিয়েও আর্জেন্টিনা দারুণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে জয়ের গোল খুঁজছে স্পেন।

ফলে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণের অপেক্ষা বাড়িয়ে ম্যাচ এখন অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেই নির্ধারিত হতে পারে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। গোল না এলে ম্যাচের ভাগ্য গড়াবে টাইব্রেকারে।

লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ

লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ

 

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বড় ধাক্কা খেল আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে কঠিন এক ট্যাকলের জেরে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ

ঘটনার পরপরই রেফারি ভিএআর পর্যালোচনা শেষে এনজোকে লাল কার্ড দেখান। ফলে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

এনজোর বিদায়ের পর আক্রমণ ও মাঝমাঠে কিছুটা চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে একজন বেশি খেলোয়াড়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিপক্ষ।

ম্যাচের ফল নির্ধারণে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

ফাইনালের মঞ্চ মাতাচ্ছেন শাকিরা

ফাইনালের মঞ্চ মাতাচ্ছেন শাকিরা

 

বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনার মধ্যেই জমে উঠেছে উদ্বোধনী সাংস্কৃতিক আয়োজন। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের সামনে মঞ্চে পারফর্ম করছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা

নিজের জনপ্রিয় গান ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের পাশাপাশি টেলিভিশন ও অনলাইন দর্শকদেরও মুগ্ধ করেন এই কলম্বিয়ান শিল্পী। বর্ণিল আলোকসজ্জা, নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা এবং আধুনিক মঞ্চসজ্জায় অনুষ্ঠানটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে শাকিরার উপস্থিতি নতুন নয়। অতীতেও তিনি বিশ্বকাপের একাধিক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করেছেন। এবারও তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনা ফাইনালের আবহকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে।

গোলশূন্য প্রথমার্ধ, স্পেন-আর্জেন্টিনার জমজমাট লড়াই

গোলশূন্য প্রথমার্ধ, স্পেন-আর্জেন্টিনার জমজমাট লড়াই

 

দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথমার্ধ শেষে এখন পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি স্পেন কিংবা আর্জেন্টিনা। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও শেষ পর্যন্ত কোনো দলই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে পারেনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে লড়াই চালায় উভয় দল। মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও গোলরক্ষকদের সতর্কতায় সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

প্রথম ৪৫ মিনিটে স্পেন বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ সেগুলো সফলভাবে প্রতিহত করে। অন্যদিকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার স্পেনের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে আর্জেন্টিনাও, তবে কাঙ্ক্ষিত গোল আদায় করতে পারেনি।

ফলে নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষে ০-০ সমতায় বিরতিতে গেছে দুই দল। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খোঁজে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সমর্থকদের।


বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখেছে ব্রাজিল

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখেছে ব্রাজিল


ফিফা বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ ও তীব্র লড়াইয়ের কারণে দলটি সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় হারানোর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে।

বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা এখন পর্যন্ত ১১টি লাল কার্ড দেখেছেন, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। তালিকার পরের দিকে রয়েছে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও ইতালির মতো দল।

যদিও ব্রাজিল লাল কার্ডের তালিকায় শীর্ষে, তবুও বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল হিসেবেই নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। দলটি এখন পর্যন্ত ৫টি বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে এবং বহুবার ফাইনাল ও নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণ, অধিকসংখ্যক ম্যাচ খেলা এবং হাই-ভোল্টেজ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের কারণেই ব্রাজিলের লাল কার্ডের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি।

সূত্র: ফিফা বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান।

মেসির আবেগঘন বার্তায় কাঁদলেন লাখো আর্জেন্টিনা সমর্থক

মেসির আবেগঘন বার্তায় কাঁদলেন লাখো আর্জেন্টিনা সমর্থক

 

স্পেনের বিরুদ্ধে ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণে মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে আবেগঘন বার্তায় পুরো আর্জেন্টাইন শিবিরকে কাঁদিয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মাঠ এবং মাঠের বাইরে আলবিসেলেস্তেদের এই অবিসংবাদিত নেতা আজ ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সতীর্থ ও দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন। মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় তার বার্তাটি।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মেসি লিখেছেন, এই দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিটি শুধু শিরোপা জেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং পুরো যাত্রাটাই ছিল অসাধারণ। দলের সবার সাথে প্রতিটি দিন কাজ করা, একসঙ্গে বুক চিতিয়ে লড়াই করা, কঠিন মুহূর্তগুলোতে একে অপরকে টেনে তোলা এবং প্রতিটি কদম উপভোগ করাই ছিল আসল আনন্দ। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পেছনে পর্দার আড়ালে অবদান রাখা দলের কোচিং স্টাফ এবং প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসি বলেন, জাতীয় দলটিকে একটি পরিবারে রূপান্তর করার পেছনে সবারই অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে।

বার্তার শেষাংশে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের ফল যাই হোক না কেন, নিজেদের অর্জনকে কালজয়ী হিসেবে উল্লেখ করেন আর্জেন্টিনার এই ম্যাজিশিয়ান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফাইনালে যা-ই ঘটুক না কেন, এই দলটি ইতিমধ্যেই এমন এক ইতিহাস লিখে ফেলেছে যা কেউ কোনোদিন ভুলতে পারবে না, কেউ তা মুছে ফেলতেও পারবে না। 

সূত্র: মার্কা

বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন দামও ১০ হাজার ডলার!

বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন দামও ১০ হাজার ডলার!

 

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চান? তাহলে পকেটের দিকে তাকানোর একদমই জো নেই। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ মুহূর্তের টিকিটের দাম এখন আকাশচুম্বী। বিশ্বমঞ্চের এই মহারণ গ্যালারিতে বসে দেখতে চাইলে ফুটবলপ্রেমীদের গুনতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ১০ হাজার মার্কিন ডলার! এটা রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো ঘটনাই বটে।

ফিফার অফিশিয়াল টিকিট রিসেল ওয়েবসাইটে গোলপোস্টের পেছনের মিড-লেভেল ভিউয়ের জন্য সবচেয়ে সস্তা টিকিটগুলোর দাম ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৪১১ ডলার। কিন্তু সেই টিকিটগুলোও শনিবার দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপরই আপার-ডেক কর্নারের টিকিটের দাম উঠে যায় প্রায় ১০ হাজার ডলারে। অন্যদিকে মাঠের একদম কাছাকাছি বসে খেলা দেখার সাধ যাদের রয়েছে, তাদের খরচ করতে হচ্ছে ১৬ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই টিকিটের এমন লাগামহীন দাম নিয়ে ফুটবল ভক্ত এবং পণ্ডিতরা ফিফার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। 

অনেক ফুটবল ভক্তের কাছে এটাও ইতিবাচক। কারণ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে লোভনীয় ট্রফির জন্য এই মহারণটি হতে যাচ্ছে দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি এবং লামিন ইয়ামালের প্রথম এবং সম্ভবত শেষ দ্বৈরথ। ফলে এই ম্যাচের উত্তেজনা স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি যেখানে নিজের দ্বিতীয় এবং টানা ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় আছেন, সেখানে স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল চাইছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সিংহাসনচ্যুত করে স্পেনের সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ী হতে। চলতি টুর্নামেন্টে ইয়ামাল একটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করে নিজের জাত চিনিয়েছেন। ফাইনালের এই মহাকাব্যিক মঞ্চে তিনি মেসির মুখোমুখি হতে নিজের সেরাটা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। 

বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ ঘোষণা

বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ ঘোষণা

 

২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে এবার স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। রোববার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মহারণে মাঠে নামবে দুই দল।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকা লিওনেল স্কালোনির দল ফাইনালেও তাদের পরিচিত ৪-৪-২ ছকেই খেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোলপোস্টের নিচে থাকবেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। চার সদস্যের রক্ষণভাগে দেখা যেতে পারে নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও নিকোলাস তালিয়াফিকোকে।

মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ঘিরে থাকবেন রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। মাঝমাঠের দখল ধরে রাখা ও আক্রমণ তৈরিতে এই চার ফুটবলারের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ।

আক্রমণভাগে অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে খেলতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। চলতি বিশ্বকাপে মেসি ইতোমধ্যে ৮ গোল করার পাশাপাশি ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন। অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে আলভারেজও দলকে ফাইনালে তুলতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ:

গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো।

মিডফিল্ডার: রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।

ট্রাম্পের হাত ধরে বিশ্বকাপ সফল হয়েছে: ইনফান্তিনো

ট্রাম্পের হাত ধরে বিশ্বকাপ সফল হয়েছে: ইনফান্তিনো

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকাকে প্রশংসা করে বলেছেন এবারের বিশ্বকাপ সফল হয়েছে। তিনি বলেন, এই টুর্নামেন্ট বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষকে একত্রিত করার লক্ষ্য পূরণ করেছে।

ইনফান্তিনো জানান, বিক্রি হওয়া টিকিট ও টেলিভিশন রেটিং প্রমাণ করে যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ প্রত্যাশা পূরণ করেছে। নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারে শুক্রবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "আমেরিকান ড্রিম বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আমরা বিশ্বকে এক করেছি।"

ট্রাম্পও বিশ্বকাপকে "ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রীড়া আসর" বলে অভিহিত করেছেন এবং স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

এর আগে ইনফান্তিনো জাতিসংঘে বক্তব্য দেন, যেখানে তিনি বিশ্বকাপকে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "আমরা বিভক্ত পৃথিবীতে বাস করি, কিন্তু এই বিশ্বকাপ দেখিয়েছে যে আমাদের একত্রিত করার মতো বিষয়ই বেশি।"

এই বিশ্বকাপে রেকর্ড ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোট দর্শক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৭ মিলিয়ন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। 

যদিও বড় কোনো নিরাপত্তা সমস্যা দেখা দেয়নি, তবুও কিছু বিতর্ক হয়েছে, যেমন— ইরানের দল ভিসা ও ভ্রমণ জটিলতায় ভুগেছে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্যানার প্রদর্শন করায় ব্রিটিশ সরকার তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে, মার্কিন তারকা ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড শাস্তি ট্রাম্পের সুপারিশে তুলে নেওয়ায় সমালোচনা হয়েছে।

ইনফান্তিনো বলেন, ফুটবল এখন শুধু জনপ্রিয় খেলা নয়, বরং একটি "সর্বজনীন ভাষা" যা মানুষকে একত্রিত করে।

 

দুর্দান্ত জয়ে ইংল্যান্ডকে হারাল আর্জেন্টিনা, ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়

দুর্দান্ত জয়ে ইংল্যান্ডকে হারাল আর্জেন্টিনা, ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়


ফুটবল বিশ্বের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার হাইভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচে শেষ হাসি হাসল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টানটান উত্তেজনার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে জয় তুলে নিয়েছে স্ক্যালোনির শিষ্যরা।


ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে মাঠের লড়াই। আর্জেন্টিনার কৌশলী আক্রমণভাগ বারবার ইংলিশ রক্ষণভাগকে পরীক্ষার মুখে ফেলে। প্রথমার্ধে দুই দলই সতর্ক থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে খেলার মোড় ঘুরে যায়। আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডদের নিখুঁত ফিনিশিং ও মিডফিল্ডারদের বল ডিস্ট্রিবিউশন ছিল চোখে পড়ার মতো।

ম্যাচের একপর্যায়ে আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও, ইংল্যান্ড শেষ দিকে তীব্র লড়াই করে একটি গোল পরিশোধ করে। তবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত নিজেদের রক্ষণভাগ জমাট রেখে জয় নিশ্চিত করে নীল-সাদা জার্সিধারীরা।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি তার দলের জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা এবং পরিশ্রমকে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট জানিয়েছেন, তাদের দলের ফিনিশিং নিয়ে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে, তবে খেলোয়াড়দের লড়াই করার মানসিকতায় তিনি সন্তুষ্ট।

এই জয়ের ফলে আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস আরও একধাপ বেড়ে গেল। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড এই হারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী বড় টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের এই জয় আর্জেন্টিনা ভক্তদের মাঝে খুশির জোয়ার বয়ে এনেছে। বিশ্ব ফুটবলের এমন লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকেন কোটি ভক্ত, আর আজকের ম্যাচটি সমর্থকদের হতাশ করেনি।

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড: বিশ্বকাপে শেষ দেখায় কী ঘটেছিল?

আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড: বিশ্বকাপে শেষ দেখায় কী ঘটেছিল?


 ফুটবল বিশ্বের অন্যতম চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড আবারও মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামছে এই দুই দল। যেখানে ইতিমধ্যেই ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে এবং ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ১৯৯৮ সালের সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল থ্রি-লায়নসদের। স্বাভাবিকভাবেই ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামার আগে সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকবে ইংলিশরা।

১৯৯৮ সালের সেই ঐতিহাসিক নকআউট ম্যাচটি মূলত ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড দেখার জন্য ফুটবল ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে সেই লাল কার্ডের নাটকীয়তার আগেও ম্যাচে ঘটে গিয়েছিল অনেক কিছু। খেলার মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ডেভিড সিম্যান। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মাত্র এক মিনিট পরেই পেনাল্টি থেকে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। তবে দমে যায়নি ইংলিশরা। ম্যাচের ১১ মিনিটে অ্যালান শিয়ারের পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান এবং ১৭ মিনিটে মাইকেল ওয়েনের দর্শনীয় গোলে লিড নেয় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ইনজুরি টাইমে হাভিয়ের জানেত্তির দুর্দান্ত গোল আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে এবং ২-২ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘটে সেই বহুল আলোচিত ঘটনা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে ডেভিড বেকহ্যাম লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে মাত্র ৯ জনের দলে পরিণত হয় ইংল্যান্ড। বাকিটা সময় ৯ জন নিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করে ইংলিশ রক্ষণভাগ। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল করতে দেয়নি তারা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুটআউটে দুই দলেরই ছয়টি করে শট নেওয়ার পর ৪-৩ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের পক্ষে পেনাল্টি মিস করেন পল ইনস ও ডেভিড ব্যাটি। সেই সাথে প্রথম লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড় হিসেবে আগেই মাঠ ছাড়া ডেভিড সিম্যানের শট মিসের হতাশা ইংল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত করে। 

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

ফিলিস্তিনের পক্ষে ছিলেন ম্যারাডোনা, ইসরায়েলের নীতির কড়া সমালোচক ছিলেন তিনি

ফিলিস্তিনের পক্ষে ছিলেন ম্যারাডোনা, ইসরায়েলের নীতির কড়া সমালোচক ছিলেন তিনি

ইসরায়েলের সমালোচনায় বারবার সোচ্চার হয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা। ফিলিস্তিনের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে তিনি নিজেকে একাধিকবার ‘ফিলিস্তিনের সবচেয়ে বড় সমর্থক’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে সেই প্রতিবাদী ম্যারাডোনার নাম, যিনি ফুটবল মাঠের নায়ক হওয়ার পাশাপাশি নানা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও মানবিক ইস্যুতেও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের ইতিহাস মানেই অনেকের কাছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি। ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং শতাব্দীর সেরা গোল ফুটবল ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। আজ আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে দুই দল আবার মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের স্মৃতিতে তাই অবধারিতভাবেই ফিরে এসেছে তাদের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অধিনায়কের নাম।

তবে ম্যারাডোনার পরিচয় শুধু মাঠের পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ ছিল না। খেলোয়াড়ি জীবনের বাইরেও তিনি নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সরব ছিলেন। ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ, কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো এবং বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রতিও তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতেন।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুধু আর্জেন্টিনা নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। ফিলিস্তিন থেকেও আসে শোকবার্তা। হামাসের তৎকালীন মুখপাত্র সামি আবু জুহরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যারাডোনার পরিবার ও ভক্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লিখেছিলেন, ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে ম্যারাডোনা সবসময় তাদের পাশে ছিলেন।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে ম্যারাডোনা বহুবার প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। ২০১২ সালে তিনি নিজেকে ‘প্যালেস্টাইন জনগণের সবচেয়ে বড় ভক্ত’ বলে উল্লেখ করে বলেছিলেন, তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি অনুভব করেন এবং কোনো ধরনের ভয় ছাড়াই তাদের সমর্থন করেন।

২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায়ও তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। সে সময় দেওয়া এক বিবৃতিতে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েল যা করছে, তা লজ্জাজনক। গাজায় সংঘটিত ওই হামলায় অন্তত তিন হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

ম্যারাডোনাকে ঘিরে ২০১৫ সালে একটি সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে দাবি করা হয় যে এএফসি এশিয়ান কাপের সময় ফিলিস্তিনি জাতীয় ফুটবল দলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে শক্ত প্রমাণ কখনও সামনে আসেনি।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে রাশিয়ার মস্কোতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ম্যারাডোনা। সেই সাক্ষাতে তিনি আবারও ফিলিস্তিনের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানান। আব্বাসকে আলিঙ্গন করে তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয়ে, আমি প্যালেস্টাইন।’ ওই মুহূর্তের ভিডিও পরে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও প্রকাশ করা হয়েছিল।

শুধু ফিলিস্তিন নয়, আন্তর্জাতিক নানা রাজনৈতিক ইস্যুতেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ম্যারাডোনা। সিরিয়া প্রসঙ্গেও তাকে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশবিরোধী বার্তাসংবলিত টি-শার্ট পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত এই কিংবদন্তি ফুটবলারের অবস্থান আজও তার ভক্তদের কাছে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।

তথ্যসূত্র আল-জাজিরা

 

ফ্রান্সকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করল স্পেন

ফ্রান্সকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করল স্পেন


 ডালাসের সেমিফাইনালে ফরাসিদের কোণঠাসা করে ফাইনালের টিকিট পাওয়ার পথ আরও সুগম করে তুললো লা রোহারা। প্রথমার্ধের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেছে স্পেন। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে রাইট ব্যাক পেড্রো পোরোর এক দুর্দান্ত ও চোখ ধাঁধানো গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। এই গোলের পর ম্যাচ থেকে একপ্রকার ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে ফরাসিরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম কার্ডের ঝুঁকিতে থাকা আদ্রিয়েন রাবিওকে উঠিয়ে মানু কোনেকে মাঠে নামান। তবে কোচের এই কৌশল মাঠে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দানি ওলমোর এক চমৎকার টার্নিং পাস খুঁজে নেয় বক্সে থাকা পেড্রো পোরোকে। টটেনহ্যামের এই রাইট ব্যাক কোনো ভুল না করে নিখুঁত শটে বল ফরাসি জাল কাঁপিয়ে দেন। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ১ গোল হজম করা স্পেনের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে চরম বিপদে পড়েছে ফ্রান্স।

ম্যাচে স্পেনের আধিপত্য এখানেই শেষ হয়নি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে ফরাসি রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে জালে বল জড়িয়েছিলেন তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। স্প্যানিশ সমর্থকরা যখন ৩-০ গোলের উল্লাসে মাতোয়ারা, ঠিক তখনই লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলেন। ফলে রেফারি গোলটি বাতিল করে দিলে এ যাত্রায় বড় লজ্জার হাত থেকে বেঁচে যায় কিলিয়ান এমবাপ্পের দল। তবে অফসাইডের কারণে গোল না পেলেও স্পেনের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে ফ্রান্সকে বড্ড অসহায় দেখাচ্ছে।

পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের দুই মিডফিল্ডার রদ্রি এবং ফ্যাবিয়ান রুইজ এক কথায় অসাধারণ খেলছেন। ফরাসিদের প্রতিটি কাউন্টার অ্যাটাক মাঝমাঠেই রুখে দিয়ে তারা স্পেনের আক্রমণভাগের দিকে বল বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের উইঙ্গার ব্রাডলি বারকোলা কিংবা অধিনায়ক এমবাপ্পে স্পেনের ডিফেন্সের সামনে বারবার খেই হারাচ্ছেন। ম্যাচ জয়ের জন্য ফ্রান্সের অলৌকিক কিছুর প্রয়োজন, যা এই স্প্যানিশ ডিফেন্সের বিপক্ষে অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন