The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
লোহিত সাগর কি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে?

লোহিত সাগর কি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে?

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে গোষ্ঠীটির এই অগ্রযাত্রা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য—সবকিছু নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোকা দখলের দাবি করে হুথিরা। এর ফলে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের ওপর তাদের সামরিক চাপ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, লোহিত সাগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেবকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এই পথ ব্যবহার করে। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে জাহাজ চলাচল ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সৌদি তেল রপ্তানিতে বড় ঝুঁকি

হরমুজ প্রণালিতে জটিলতা তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগর হয়ে তেল পরিবহনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এ উদ্দেশ্যে দেশটি প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইন ব্যবহার করছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের উপকূলে পাঠানোর সক্ষমতা রয়েছে।

চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৌদি তেল পরিবহনে বাব আল-মান্দেবের ব্যবহারও বেড়েছে। ফলে হুথিদের হাতে ইয়েমেনের উপকূলের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হলে সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি পথও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে সৌদি পতাকাবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে হুথিরা।

হুথিদের শক্তি কতটা?

ইয়েমেনে প্রায় এক দশক ধরে সংঘাত চলছে। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও হুদাইদাহ দখলের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এর পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ইরানের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তাদের সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তবে দ্রুত সামরিক অগ্রগতি ধরে রেখে দীর্ঘ সময় একটি বিশাল উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

পুরো নৌপথ বন্ধ করা কি সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের পক্ষে সরাসরি পুরো বাব আল-মান্দেব বা লোহিত সাগর দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা কঠিন হতে পারে। কিন্তু সেটি পুরোপুরি বন্ধ না করেও নৌপথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা সম্ভব।

কারণ কোনো একটি নৌপথ নিরাপদ নয়—এমন আশঙ্কা তৈরি হলেই জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানিগুলো বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় বাড়বে এবং বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সৌদি আরবের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত

হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি বাহিনী ইতোমধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব হামলা তাদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে হুথিদের মোকাবিলায় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইলেও ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে কি না, তা অনিশ্চিত। ফলে রিয়াদের সামনে একদিকে সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করার চাপ, অন্যদিকে বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাত এড়িয়ে চলার প্রয়োজন—দুই ধরনের হিসাবই রয়েছে।

সব মিলিয়ে হুথিরা লোহিত সাগর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবে বাব আল-মান্দেবকে ঘিরে তাদের সামরিক উপস্থিতি যত বাড়বে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সৌদি তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তাও তত বাড়তে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় মৃত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় মৃত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো তিন হাজারের বেশি মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্গম এলাকায় প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, নেপালের অংশে ৭৩৪ জন এবং তিব্বতে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল সরকারের হিসাবে, দেশটিতে বিদেশি নাগরিকসহ ২ হাজার ৪৯৮ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

তিব্বতের পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদেশি সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশের সুযোগ সীমিত থাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট নয়। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে ৫৪৬ জন নিখোঁজ এবং ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

টানেলে আটকা পড়ার আশঙ্কা

বন্যা ও ধসের কারণে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এসব প্রকল্পের টানেলে শতাধিক শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালের সেনাবাহিনী ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলে পাইপের মাধ্যমে বাতাস পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে। তবে রাতভর বৃষ্টি এবং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে উদ্ধারকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা ৯৩৩ জন শ্রমিকেরও খোঁজ মিলছে না। উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করতে ভারতের ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল এবং চীনের নয় সদস্যের টানেল উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছেছে।

নতুন হ্রদ ঘিরে বাড়ছে শঙ্কা

দুর্যোগের মধ্যে নতুন করে আরেকটি বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভূমিধসের পর তিব্বত সীমান্তের কাছে একটি নতুন হ্রদ সৃষ্টি হওয়ার কথা জানিয়েছে সিসিটিভি। হ্রদটি আগে পানি শূন্য হয়ে যাওয়া একটি হ্রদ থেকে প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দূরে।

নতুন এই জলাধার আরও বিপদ তৈরি করতে পারে আশঙ্কায় গিরং সীমান্তবন্দর এলাকার উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পুনর্গঠনে প্রয়োজন বিপুল অর্থ

দুর্যোগে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে নেপালের পুনর্গঠনে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন এবং পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন। 

বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে নেমে আসার পর এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসও হিমবাহ ধসের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। 

নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এখনও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টি, নদীর পানি বৃদ্ধি, ধসে যাওয়া সড়ক ও নতুন ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকারীদের কাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্র: এএফপি

সৌদিতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান, এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার ১৪ হাজারের বেশি

সৌদিতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান, এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার ১৪ হাজারের বেশি

সৌদি আরবে অবৈধ অভিবাসন, আবাসিক ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। গত এক সপ্তাহে এসব অভিযোগে ১৪ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে যৌথভাবে পরিচালিত অভিযানে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএর তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে গালফ নিউজ।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ৬ হাজার ৯০০ জনের বিরুদ্ধে আবাসিক আইন ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৯৮২ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৩৭৮ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন।

এ সময় সৌদি আরবের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে আরও ১ হাজার ৫২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৩৬ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

অন্যদিকে সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে বের হওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আরও ৩৮ জনকে আটক করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া বা কাজের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ২৪ জনকে।

আগস্টে ৩১ হাজারের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগস্টের শুরু থেকে অবৈধ অভিবাসন ও বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও কঠোর করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মোট ৩১ হাজার ৯২২ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তাদের মধ্যে ২৯ হাজার ৯৬১ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯৬১ জন নারী। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ৭২৪ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও ১৮ হাজার ৮০৮ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া আরও ৫ হাজার ৩৮৬ জনের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আইন লঙ্ঘনে কঠোর শাস্তির সতর্কতা

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশে সহায়তা করা কিংবা অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় অথবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন এবং অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং, মুখোমুখি হতে পারেন মোদির

সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং, মুখোমুখি হতে পারেন মোদির

দীর্ঘ সাত বছর পর আবারও ভারত সফরে আসতে পারেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। সফরটি হলে ২০১৯ সালের পর এটাই হবে ভারতে শির প্রথম উপস্থিতি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শির সফরকে কেন্দ্র করে চীনের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে হোটেল ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন। এবারের সফরে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় ৪০০ সদস্যের একটি বড় প্রতিনিধিদল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১৯ সালে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে সর্বশেষ ভারতে গিয়েছিলেন শি জিনপিং। এরপর ২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে ভয়াবহ সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে দিল্লি ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক ছিল বেশ শীতল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও বেড়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সীমান্তে সেনা প্রত্যাহার ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।

শির সম্ভাব্য ভারত সফর তাই শুধু ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সফরের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সেখানে উঠে আসতে পারে।

তবে এখনো শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদির আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিকস সহযোগিতাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং ভারতের আয়োজনে এবারের সম্মেলন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়াকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে শির সফর নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বেইজিং।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও শির সম্ভাব্য সফর ও মোদির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফলে সফরের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি সম্ভাব্য সফর হিসেবেই থাকছে।

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, প্রস্তুত খসড়া চুক্তি

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, প্রস্তুত খসড়া চুক্তি

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে তুলতে চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে সম্ভাব্য ক্রয় নিয়ে আলোচনার জন্য নেগোসিয়েশন মিটিংয়ের একটি খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পরিকল্পনা শুধু জে-১০সিই কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, ফাইটার বিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি সিস্টেম সংগ্রহের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে এসব উদ্যোগ চলতি অর্থবছরেই বাস্তবায়নের চেষ্টা থাকবে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।

জে-১০ নিয়ে কেন আগ্রহ

জে-১০ যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা নিয়ে সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গও সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে। জাহেদ উর রহমানের দাবি, ওই সংঘাতে ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় চীনের জে-১০ ফাইটারের ভূমিকা ছিল। তাঁর এই বক্তব্যকে সরকারি পক্ষের দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাফালকে আধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও জে-১০ বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা দেখিয়েছে বলে বাংলাদেশের আগ্রহ বেড়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় নির্মাতাদের কিছু সমমানের যুদ্ধবিমানের তুলনায় চীনের তৈরি ফাইটারের মূল্য তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যয়-সক্ষমতার সমন্বয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বাজেটের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ

সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে যুদ্ধবিমানসহ পরিকল্পনায় থাকা অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনার কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে সম্ভব না হলে পরবর্তী বাজেটের মাধ্যমে উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা ভাবা হবে।

অর্থাৎ খসড়া চুক্তি প্রস্তুত হলেও এখনই জে-১০সিই কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে—এমন নয়। বর্তমানে বিষয়টি আলোচনা ও দর-কষাকষির পর্যায়ে রয়েছে।

প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নে বড় পরিকল্পনা

বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে একাধিক ধরনের যুদ্ধ ও সহায়ক সরঞ্জাম সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ প্রয়োজন এবং দেশের কৌশলগত সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে এসব সরঞ্জাম বাছাই করা হচ্ছে।

নতুন যুদ্ধবিমান কেনার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বিমান প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতায় এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, কারিগরি বিষয়, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামরিক প্রয়োজন—সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট; ঘুরিয়ে দেওয়া হলো ১৫ বিমান

দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট; ঘুরিয়ে দেওয়া হলো ১৫ বিমান

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় শহরটিতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিমান চলাচলেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিঘ্ন।

সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। বিমানবন্দরের রানওয়েতেও পানি জমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে অনেক ফ্লাইট ওঠানামা করতে পারেনি। অবতরণে ব্যর্থ হয়ে ১৫টি বিমানকে দিল্লির পরিবর্তে অন্য বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া ২৫০টির বেশি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে দিল্লিতে অবতরণ করতে পারেনি। বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের উড্ডয়নেও বিলম্ব হয়েছে। এতে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

পানিতে তলিয়ে সড়ক, তীব্র যানজট

প্রবল বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে দিল্লির সড়ক যোগাযোগেও। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনের গতি কমে গেছে। সঙ্গম বিহারের কাছে এমবি রোডে জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল প্রায় থমকে যায়।

এ ছাড়া বিমানবন্দরমুখী সড়ক এবং সাকেত কোর্ট এলাকার রাস্তাতেও ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অফিসগামী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

কয়েক ঘণ্টায় ২৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ১৮ থেকে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে ছতরপুর এলাকায়।

এর আগে রোববার রাজধানীতে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থাকলেও সোমবার ভোরে হঠাৎ করেই বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ে।

আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস

দিল্লির আবহাওয়া পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর। পূর্বাভাসে সোমবার দিনভর মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লির পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রাম ও ফরিদাবাদে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির কারণে বিমান ও সড়ক যোগাযোগে সৃষ্ট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কতটা সময় লাগবে, তা আবহাওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।

সূত্র: আনন্দবাজার

ইউক্রেন ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলেছে, পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি পুতিনের

ইউক্রেন ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলেছে, পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি পুতিনের

রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর দাবি, রাশিয়ার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে ইউক্রেন কার্যত ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দিয়েছে।

রোববার রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

পুতিন বলেন, রাশিয়ার অর্থনৈতিক খাতগুলোতে হামলা চালিয়ে কিয়েভ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার পরিণতি তাদেরই ভোগ করতে হবে। ইউক্রেনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক খাতগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি মস্কোর রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়ার বিভিন্ন অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা বেড়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রুশ তেল শোধনাগার ও অনলাইন খুচরা বিক্রেতাদের গুদামসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে। কিয়েভের দাবি, এসব স্থাপনা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এবং তাই এগুলো হামলার বৈধ লক্ষ্য।

অন্যদিকে ইউক্রেনের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানির অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে মস্কোর বিরুদ্ধে।

খাদ্য সংকটের আশঙ্কা নাকচ পুতিনের

ইউক্রেনের কৃষি রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন পুতিন। তাঁর দাবি, ইউক্রেনীয় রপ্তানি কমে গেলেও রাশিয়া নিজেদের শস্য সরবরাহের মাধ্যমে বিশ্ববাজারের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম।

পুতিন বলেন, পণ্য পরিবহনে রাশিয়া কিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তবে এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব এবং বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না বলে তিনি দাবি করেন।

এর আগে কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি নিরাপদ রাখতে তুরস্কের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালে ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায় মস্কো।

আলোচনার পথ খোলা রাখার বার্তা

যুদ্ধ চললেও ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে নিজের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন পুতিন। তিনি জানান, মস্কো আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা ইউক্রেনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুতিনের সর্বশেষ বক্তব্যে একদিকে যেমন ইউক্রেনের অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় আরও পাল্টা হামলার ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ না রাখার বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধের ময়দানে উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতার দিকেও নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স,

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশের ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সি নির্ধারণ

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশের ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সি নির্ধারণ

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে নির্ধারণ করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (FWCMS) ওয়েবসাইটে এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে নতুন তালিকা প্রকাশ হলেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঘোষণা পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত এজেন্সিগুলো কীভাবে কর্মী নিয়োগ করবে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং কর্মীদের ওপর নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগের পর ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া।

শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে চলতি বছরের জুনে মালয়েশিয়া সফর করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রম অভিবাসন নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা এবং সংশোধিত চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়।

এরপর মালয়েশিয়া জানায়, বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য কোটার আবেদন দেশটির FWCMS-এর ‘ই-কোটা’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এরই মধ্যে ওই সিস্টেমে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের রিক্রুটিং এজেন্সির নাম যুক্ত করা হয়েছে।

যেসব ২৫ এজেন্সি তালিকায়

মালয়েশিয়ার প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এগুলো হলো—বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অন্বেষা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-ত্বাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-সুপ্ত ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড এবং রিফা ইন্টারন্যাশনাল।

তালিকায় আরও রয়েছে ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিংকু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিংক, নেইবার অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং দ্য অ্যাংকর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।

বাংলাদেশের পাশাপাশি কম্বোডিয়া, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের রিক্রুটিং এজেন্সির নামও ওই তালিকায় রয়েছে।

অর্থ লেনদেনে সতর্ক থাকার নির্দেশ

এদিকে শ্রমবাজার নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো ধরনের চুক্তি করা, কর্মীদের পাসপোর্ট সংগ্রহ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা তাদের কাছ থেকে অর্থ না নিতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আগেই নির্দেশ দিয়েছিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

ফলে মালয়েশিয়ার তালিকায় ২৫টি বাংলাদেশি এজেন্সির নাম যুক্ত হলেও কর্মীদের এখনই সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শ্রমবাজার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা প্রকাশের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসার পর ফের কারাগারে ইমরান খান

হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসার পর ফের কারাগারে ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর আবারও কারাগারে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে তাকে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ইমরান খানকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দীর্ঘদিন ধরেই দলটির নেতাকর্মীরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে এ আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের করা পুনর্বিবেচনার আবেদন পরে আদালত গ্রহণ করেনি। একই সঙ্গে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়।

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। পিটিআইয়ের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাকে কারাবন্দি রাখা হয়েছে।


সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাকে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে দেওয়া বিবৃতি প্রত্যাহার করল ভারত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে দেওয়া বিবৃতি প্রত্যাহার করল ভারত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তি মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন। শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কারণে শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। তবে পরবর্তীতে ওই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেয় ভারতীয় রাষ্ট্রপতি ভবন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে প্রথম বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। পরে বেলা ৩টার দিকে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান না হওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত আগের প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখনো ঢাকা বা নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

ভারতে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদের রাষ্ট্রীয় সফর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ভবনে বিশেষ সামরিক ও কূটনৈতিক আয়োজনের প্রচলন রয়েছে। এর অংশ হিসেবে গার্ড অব অনার, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।


সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

মুসলিমদের শত্রু হিসেবে পরিচিত ভারত কীভাবে আফগানিস্তানের বন্ধু হলো?

মুসলিমদের শত্রু হিসেবে পরিচিত ভারত কীভাবে আফগানিস্তানের বন্ধু হলো?

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক যখন তীব্র উত্তেজনার দিকে যাচ্ছে, তখন কাবুলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। আদর্শগতভাবে ভারত ও তালেবানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও কৌশলগত ও আঞ্চলিক স্বার্থের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলার পর ভারত বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে। অন্যদিকে পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, আফগান ভূখণ্ড থেকে ভারতবিরোধী নয়, বরং ভারতের সহযোগিতায় পাকিস্তানবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ভারত অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কে তিক্ততা

একসময় পাকিস্তানকে তালেবানের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বর্তমানে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে সম্পর্ক বেশ খারাপ। সীমান্ত সংঘাত, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যু এবং আফগান শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোসহ বিভিন্ন বিষয় দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অভিযোগ করেছেন, ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর দেশটি ভারতের প্রভাববলয়ে চলে গেছে। তার দাবি, কাবুল এখন ভারতের একটি প্রক্সি হিসেবে কাজ করছে এবং আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে তালেবানের যোগাযোগ বাড়ছে

তালেবান ২০২১ সালে আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর ভারত প্রথমদিকে সতর্ক অবস্থান নেয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। ২০২২ সালে ভারত কাবুলে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠায়। এরপর দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে ভারতও আফগানিস্তানের সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যোগাযোগ বাড়িয়েছে।

দীর্ঘদিনের ভারতীয় বিনিয়োগ

আফগানিস্তানে ভারতের উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। ২০০১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভারত আফগানিস্তানে অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। কাবুলের সংসদ ভবন, জারাঞ্জ-দিলারাম মহাসড়ক ও সালমা বাঁধসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ভারতের ভূমিকা রয়েছে।

এ ছাড়া ভারত আফগানিস্তানকে বিভিন্ন সময় বাস, সরকারি যানবাহন, সামরিক যান ও অ্যাম্বুলেন্সসহ নানা ধরনের সহায়তা দিয়েছে। ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সময় খাদ্য, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবাও সরবরাহ করেছে।

ক্রিকেটেও ভারতের ‘সফট পাওয়ার’

আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতার অন্যতম দিক হয়ে উঠেছে ক্রিকেট। আফগান ক্রিকেট দলকে ভারতের মাঠে নিজেদের হোম ভেন্যু ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দেশটির ক্রিকেটাররা নিয়মিত আইপিএলসহ বিভিন্ন ভারতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। ফলে আফগান তরুণদের মধ্যেও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ছে।

কেন বদলেছে সমীকরণ?

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও তালেবানের মধ্যে আদর্শগত মিল না থাকলেও উভয়ের কৌশলগত স্বার্থের জায়গায় কিছুটা মিল তৈরি হয়েছে। তালেবান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ চায়। অন্যদিকে ভারত আফগানিস্তানে নিজের কৌশলগত উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি পাকিস্তানের ওপর আঞ্চলিক চাপ তৈরির সুযোগ দেখছে।

তালেবান সরকার এখনো আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক স্বীকৃতি পায়নি। রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হলে আফগানিস্তানের জন্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনার বিপরীতে দিল্লি-কাবুল সম্পর্কের এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৌশলের ওপর এর কী প্রভাব পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতের

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক পর্যায়ে নয়, ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হলেও বিষয়টি এখন ভারতের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।

ভারতের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণের বিষয়ে আদালত প্রথমে যাচাই করবে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কি না। এ যাচাই-বাছাইয়ের পরই প্রত্যর্পণের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধ দুই দেশের ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোনো মামলায় দণ্ডিত হলে কিংবা বিচারের মুখোমুখি হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাকে প্রত্যর্পণের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। তবে রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধ সাধারণত প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে থাকে। একই সঙ্গে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো কয়েকটি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিধান রয়েছে।

ভারতের প্রত্যর্পণ আইন-১৯৬২ অনুযায়ীও অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের সুযোগ রয়েছে। প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি পরীক্ষা করতে পারেন। অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে প্রত্যর্পণের সুপারিশ করা সম্ভব; আবার যথেষ্ট ভিত্তি না পাওয়া গেলে অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগও আইনে রয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর তার প্রত্যর্পণের দাবি আরও জোরালো করেছে ঢাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। তবে তিনি কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে এখন ভারতের আদালতের আইনি প্রক্রিয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালতের পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকাংশে নির্ভর করবে।

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮, বাড়তে পারে সংখ্যা

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮, বাড়তে পারে সংখ্যা

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশটির পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

ন্যাশনাল ডিজাস্টার মিটিগেশন এজেন্সির প্রধান সুহারিয়ান্তো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।

ভূমিকম্পের পর আতঙ্কিত হয়ে প্রায় ২ হাজার মানুষ নিজেদের উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ বা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া লোকজনের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে।

ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: আমার দেশ।

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমে

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমে

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁর সম্ভাব্য ভারত সফর এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ নিয়ে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন দাবি করেছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। এ কারণে দ্বিপক্ষীয় সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে একই বিষয়ে ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের প্রস্তুতি চলছে। সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তাঁর প্রথম ভারত সফর।

এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। সেখানে বাণিজ্য, জ্বানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তবে তারেক রহমানের ভারত সফর করবেন কি না—এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। ফলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দুই ধরনের প্রতিবেদনের কোনটি শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও আয়োজক ভারতের বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে রায় হওয়ার পর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায় ঢাকা। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫, আহত সাড়ে ৩ হাজার

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫, আহত সাড়ে ৩ হাজার

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন অন্তত সাড়ে ৩ হাজার মানুষ। উদ্ধার অভিযান এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

তথ্যসূত্র: আল - জাজিরা। 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মেয়াদ শেষের পথে, হরমুজ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মেয়াদ শেষের পথে, হরমুজ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ আগামী রোববার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে সমঝোতা নবায়ন হবে কি না এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দুই দেশের সংকটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। সমঝোতা স্মারকের একটি ধারায় এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সমঝোতার পরও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।

সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ জোরদার করেছে পাকিস্তান। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এ বিষয়ে আলোচনা করতে তেহরান সফর করেছেন এবং ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান এখনো নিজেদের অবস্থানে অনড়। দেশটির প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় করতে হবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেও পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা স্পষ্ট। কখনো তিনি সংঘাত আরও বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন, আবার কখনো দ্রুত শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার কথা বলছেন। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন কোনো সমঝোতা হয় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। জলপথটি ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশ কোনো নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, নাকি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়বে—সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

তথ্যসূত্র: আমার দেশ

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ প্রধান এখন ঢাকায়

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ প্রধান এখন ঢাকায়

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যেই সরকারি সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং—‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন।

সরকারের একটি সূত্রের বরাতে একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় এসেছেন পরাগ জৈন। তবে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের এই সফর নিয়ে বাংলাদেশ বা ভারত—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

পরাগ জৈন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (RAW) সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের (SPG) স্পেশাল সেক্রেটারির দায়িত্বেও রয়েছেন।

ঢাকা সফরে পরাগ জৈনের সঙ্গে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি ও শৈবাল রায় চৌধুরী। রোববার দুপুরে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সফরকালে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকার একটি হোটেলে অবস্থান করবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই ‘র’ প্রধানের ঢাকায় সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সফরের আগে পরাগ জৈন চীন সফর করেছেন বলেও সরকারি সূত্র জানিয়েছে। তবে ঢাকায় তার সফরের নির্দিষ্ট কর্মসূচি, বৈঠকের বিষয়বস্তু কিংবা কোন কোন বাংলাদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি

সৌদিতে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নওগাঁর ৭ প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদিতে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নওগাঁর ৭ প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত বাংলাদেশি প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাত বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।

নিহত সাতজনই আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা এবং সৌদি আরবের ওই সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজন রয়েছেন।

তবে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান। এখন পর্যন্ত নিহত সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হলেও অন্যদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় অনেককে নিহতের সংখ্যা ১৫, ১৭ ও ১৯ জন উল্লেখ করে পোস্ট দিতে দেখা গেছে। তবে এসব দাবির কোনোটি এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

একই উপজেলার সাত প্রবাসীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আত্রাইজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে উপজেলার পরিবেশ।

নিহতদের পরিচয় ও অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ন্যাটোর ঐক্য পরীক্ষা করতে রাশিয়ার সীমিত হামলার আশঙ্কা, সতর্ক মার্কিন গোয়েন্দারা

ন্যাটোর ঐক্য পরীক্ষা করতে রাশিয়ার সীমিত হামলার আশঙ্কা, সতর্ক মার্কিন গোয়েন্দারা

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ন্যাটোর ঐক্য ও প্রতিরোধক্ষমতা পরীক্ষা করতে জোটের কোনো একটি সদস্যদেশে সীমিত আকারের হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে সাম্প্রতিক একটি মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

গোয়েন্দা বিশ্লেষণে রাশিয়ার সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাইবার হামলা, হাইব্রিড আক্রমণ এবং সীমিত সামরিক অনুপ্রবেশের মতো পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মস্কো এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে যার মাধ্যমে ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হবে এবং জোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি Article 5 বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

ন্যাটোর Article 5 অনুযায়ী, জোটের কোনো সদস্যদেশ সশস্ত্র হামলার শিকার হলে সেটিকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এর অর্থ প্রতিটি ঘটনায় সদস্যদেশগুলোকে একই ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতেই হবে—এমন নয়। ফলে কোনো সীমিত হামলা ন্যাটোর জন্য রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে কঠিন সিদ্ধান্তের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

বাল্টিক দেশ ও পোল্যান্ড নিয়ে উদ্বেগ

একটি সূত্রের দাবি, রাশিয়া ভবিষ্যতে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করলে বাল্টিক অঞ্চলের কোনো দেশ বা পোল্যান্ড সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। তবে কখন বা কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি।

মার্কিন ও ন্যাটো কর্মকর্তাদের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পুতিন যদি নিজের জন্য গ্রহণযোগ্য কোনো সমাধান বের করতে ব্যর্থ হন, তাহলে ভবিষ্যতে ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ন্যাটোর সামরিক মুখপাত্র মার্টিন ও’ডনেল গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, জোট বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য নিয়মিত পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

ন্যাটো ভূখণ্ডে ড্রোনের ঘটনাতেও উদ্বেগ

গত কয়েক বছরে ন্যাটোর ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ঘিরে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। রোমানিয়া ও পোল্যান্ডের আকাশসীমায় রুশ ড্রোন প্রবেশের ঘটনাও এর মধ্যে রয়েছে।

এ সপ্তাহে জার্মানির একটি বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন পাওয়ার ঘটনাও নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ইউরোপীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তার দাবি, ড্রোনটির সঙ্গে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং এতে সামরিক মানের বিস্ফোরক ছিল।

জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেন, ড্রোন বা হাইব্রিড হুমকি নতুন নয়। তবে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন বিমানবন্দরে পাওয়া নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

মার্কিন অস্ত্র মজুত নিয়েও উদ্বেগ

রাশিয়ার সম্ভাব্য ন্যাটো হামলার আশঙ্কার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

বিভিন্ন মার্কিন মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে THAAD ও Patriot-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত কমেছে।

এ পরিস্থিতিতে ইউরোপে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত—দুই পরিস্থিতির জন্য একসঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

এদিকে ইউক্রেনে রুশ হামলা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রুশ দূরপাল্লার হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগেও এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের অনিশ্চয়তা, ন্যাটোর সম্ভাব্য পরীক্ষার আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

নেপালে তুষারের নিচে একাধিক মরদেহের সন্ধান, নিখোঁজ পর্বতারোহীদের বলে ধারণা

নেপালে তুষারের নিচে একাধিক মরদেহের সন্ধান, নিখোঁজ পর্বতারোহীদের বলে ধারণা

 
নেপালের ইয়ালুং রি পর্বতে তুষারের নিচে চাপা পড়া একাধিক মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, মরদেহগুলো গত বছর তুষারধসে নিখোঁজ হওয়া পাঁচ পর্বতারোহীর হতে পারে। তবে এখনো তাঁদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

স্থানীয় কর্মকর্তা থাবিন্দ্র কুমার কাফলে জানান, একটি ট্রেকিং এজেন্সির কর্মীরা প্রথম মরদেহগুলো দেখতে পান। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

নেপালের দোলাখা জেলায় তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত ইয়ালুং রি পর্বতের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৬৩০ মিটার। দুর্গম এই এলাকায় তুষার ও বরফে ঢাকা কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে পর্বতারোহীদের চলাচল করতে হয়।

ড্রিমার্স ডেস্টিনেশন নামের একটি ট্রেকিং সংস্থার কর্মকর্তা ফুর্বা তেনজিং শেরপা জানান, হালকা বরফ গলে যাওয়ার কারণে তুষারের নিচে থাকা মরদেহগুলো দৃশ্যমান হয়ে থাকতে পারে। আবহাওয়া পরিষ্কার হলে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।

গত বছরের নভেম্বরে ওই এলাকায় তিনজন বিদেশি ও দুজন নেপালি পর্বতারোহী নিখোঁজ হন। বিদেশি পর্বতারোহীদের মধ্যে ইতালি, কানাডা ও জার্মানির নাগরিক ছিলেন।

ওই অভিযানের সময় আরও দুজন পর্বতারোহী বেস ক্যাম্পে মারা যান। বর্তমানে সন্ধান পাওয়া মরদেহগুলো নিখোঁজ পাঁচ পর্বতারোহীর কি না, তা উদ্ধার শেষে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।