The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
দেশজুড়ে বৃষ্টি বাড়ার আভাস, থাকবে ভ্যাপসা গরম

দেশজুড়ে বৃষ্টি বাড়ার আভাস, থাকবে ভ্যাপসা গরম

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে শুরু করলেও গরম থেকে আপাতত স্বস্তি মিলছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী কয়েকদিন দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। তবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আপাতত নেই।

সোমবার দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। নোয়াখালীর মাইজদী কোর্টে ৮০ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় এদিন ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, লঘুচাপের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে গেলেও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বুধবার থেকে পরবর্তী দুই-তিন দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

কোথায় কেমন বৃষ্টি হতে পারে

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

পরদিনও রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বৃষ্টি হলেও থাকবে ভ্যাপসা গরম

বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অস্বস্তিকর গরম পুরোপুরি কাটবে না। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, চলতি মাসজুড়েই কমবেশি বৃষ্টির পাশাপাশি ভাদ্রের ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। আর্দ্রতা বেশি থাকলে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় শরীরে গরম বেশি অনুভূত হয়।

সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে, ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কোনো উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা নেই। ফলে বৃষ্টি বাড়লেও দেশজুড়ে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। 

যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের পর ময়মনসিংহে ২৭ পুলিশ সদস্য বদলি

যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের পর ময়মনসিংহে ২৭ পুলিশ সদস্য বদলি

ময়মনসিংহ নগরীতে যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ২৭ সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) পৃথক অফিস আদেশের মাধ্যমে জনস্বার্থে তাদের জেলার বিভিন্ন থানায় বদলি করা হয়। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বদলি হওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ১ নম্বর ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাবুব মিল্কী, চারজন উপপরিদর্শক (এসআই), পাঁচজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং ১৭ জন কনস্টেবল।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২১ আগস্ট নগরীর গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। এলাকাটি ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন। মিছিলের সময় ফাঁড়িতে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই ওই ফাঁড়িতে কর্মরত সদস্যদের বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মিছিলের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২০

এদিকে ওই মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় গত চার দিনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিমন শেখ, যুবলীগ নেতা হামিদুর রহমান আকাশ, মাসুদ, সাংস্কৃতিক জোটের নেতা ফরহাদ, যুবলীগ নেতা ওবায়দুল হক এবং তানভীর ওরফে লিমন রয়েছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম জানান, ২১ আগস্টের মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়েছে। এসআই মাজহার বাদী হয়ে করা মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, মামলায় গ্রেপ্তার ২০ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বদলি হওয়া পুলিশ সদস্যদের জায়গায় দ্রুত নতুন সদস্যদের পদায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

সূত্র: ইত্তেফাক

ট্রাফিক আইন ভাঙায় ঢাকায় ১,৪৯৩ মামলা, ডাম্পিং ৪৯৯ গাড়ি

ট্রাফিক আইন ভাঙায় ঢাকায় ১,৪৯৩ মামলা, ডাম্পিং ৪৯৯ গাড়ি

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একদিনে ১ হাজার ৪৯৩টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। একই অভিযানে ৪৯৯টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৩৫টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের আটটি জোনে পৃথকভাবে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরু এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে। সেখানে মোট ৩০০টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ১১টি বাস, ২২টি ট্রাক, ৩৫টি কাভার্ডভ্যান, ৩৫টি সিএনজি ও ১৩৭টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

মতিঝিল বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭৮টি মামলা হয়েছে। এ বিভাগের অভিযানে ২৩টি বাস, দুটি ট্রাক, ১৩টি কাভার্ডভ্যান, ৫৯টি সিএনজি ও ১২৩টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এ ছাড়া উত্তরা বিভাগে ২৫৬টি এবং লালবাগ বিভাগে ২২৭টি মামলা হয়েছে। উত্তরা এলাকায় মামলার মধ্যে ছিল ২৪টি বাস, সাতটি ট্রাক, ছয়টি কাভার্ডভ্যান, ৪৪টি সিএনজি ও ১০১টি মোটরসাইকেল।

অন্যদিকে ওয়ারী বিভাগে ১৪১টি, তেজগাঁওয়ে ১০২টি, গুলশানে ৯৯টি এবং রমনা বিভাগে ৯০টি মামলা করা হয়েছে।

ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করার পাশাপাশি অভিযানে বিপুলসংখ্যক যানবাহনের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, ৪৯৯টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৩৫টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট কমানো এবং চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সড়কে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুবিতে সংঘর্ষ: সাধারণ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ছাত্রদল কর্মীদের নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা

কুবিতে সংঘর্ষ: সাধারণ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ছাত্রদল কর্মীদের নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলে ‘JCD’ লেখা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে হল প্রশাসন। তবে একই ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম হলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন সাংবাদিকও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ইলিয়াস ইসলাম শুভ ও হুমায়ূন কবীর। অন্যদিকে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ইংরেজি বিভাগের মারুফ হোসাইন ও শনব দেবনাথ এবং মার্কেটিং বিভাগের সাদেক সাকেরের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জানা যায়, আগের একটি বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছিল হল প্রশাসন। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকসহ অন্যদের স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়। বের হওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ভিডিও ফুটেজে কয়েকজনকে ইলিয়াস শুভর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়াতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় সাদেক সাকের শুভকে ধরে রাখেন এবং মারুফ হোসাইন ও শনব দেবনাথ তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে মারুফ হোসাইনের সঙ্গে হুমায়ূন কবীরেরও ধস্তাধস্তি হয়। পরে মারুফের মুখে রক্ত দেখা যায়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

মারুফ হোসাইন বলেন, সংঘর্ষে তার মাথায় আঘাত লাগে এবং দুটি সেলাই দিতে হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।

অন্যদিকে ইলিয়াস শুভর দাবি, হুমায়ূনকে ধাক্কা দেওয়ার পর পরিস্থিতি থামাতে গেলে তিনি নিজেও হামলার শিকার হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন তাকে ধরে রাখার পর মাথায় আঘাত করা হয়।

হুমায়ূন কবীর বলেন, প্রভোস্টের কক্ষেই মারুফ ও শনবের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে বাইরে আবার ধাক্কাধাক্কি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। তবে মারুফ কীভাবে মাথায় আঘাত পেয়েছেন, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।

এদিকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কারের পর ইলিয়াস ও হুমায়ূনের বিছানাপত্রসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে সাদেক সাকের বলেন, তাদের এক ছোট ভাইকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার পর তারা সেখানে থাকা জিনিসপত্র বাইরে রেখেছেন।

ঘটনার পর ইলিয়াস শুভ ও হুমায়ূন কবীরকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের শহরের একটি মেসে পাঠানো হয়েছে বলে হল প্রশাসন জানিয়েছে।

ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম হলের হাউস টিউটর মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. হারুন বলেন, প্রথম ঘটনার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তী সংঘর্ষটি তাদের সামনেই ঘটায় বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ কোনো মন্তব্য করেননি।

অভিযুক্ত শনব দেবনাথের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হল প্রশাসন।

দেশে হামের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, একদিনে ২ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, একদিনে ২ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদকদেশে হামের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮১৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষায় আরও ৬৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৮৩১ জন। এর বাইরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম—দুই হিসাব মিলিয়ে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৯৩০ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ায় ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২৭৩ জনে।

হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। গত এক দিনে নতুন করে ৮১৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪০৬ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৮৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন।

হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

৭৫ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি পেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহানা, পড়বেন AUW-তে

৭৫ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি পেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহানা, পড়বেন AUW-তে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এউডব্লিউ)-এ প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৫ লাখ টাকা সমমূল্যের শিক্ষাবৃত্তি অর্জন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মেয়ে সুহানা আক্তার।

এই শিক্ষাবৃত্তির আওতায় আগামী চার বছর এউডব্লিউতে পড়াশোনা করে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন তিনি।

সুহানার এই সাফল্যের খবরে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্বজনদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাবৃত্তি অর্জন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সুহানা আক্তার বাচ্চু মিয়ার একমাত্র মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার ছিল বিশেষ আগ্রহ। নিয়মিত অধ্যয়ন, কঠোর পরিশ্রম এবং লক্ষ্য অর্জনে অটুট থাকার মানসিকতাই তাকে ধাপে ধাপে এই সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সুহানার এমন অর্জনে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের কল্যাণে সুহানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।

সুহানার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কুটিগ্রাম এলাকার লেশিয়ারা গ্রামে। বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগরীর খারপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।

স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মনে করছেন, সুহানার এই অর্জন শুধু একটি শিক্ষাবৃত্তি লাভের ঘটনা নয়; বরং স্বপ্ন, মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্ব সুহানা আক্তারের এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। একই সঙ্গে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সফল শিক্ষাজীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তারা।

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৯২৮

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৯২৮

সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৮ জনে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৯৪০ জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৮৭৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মারা যাওয়া ৯২৮ জনের মধ্যে ৯৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল।

একই সময়ে সারা দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জনে। এ পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ২০৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


গুলশানের দুই স্পা-সেলুনে পুলিশের অভিযান, ২৯ নারীসহ আটক ৫৩

গুলশানের দুই স্পা-সেলুনে পুলিশের অভিযান, ২৯ নারীসহ আটক ৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের দুটি স্পা ও সেলুনে পৃথক অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৫৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে ২৯ জন নারী ও ২৪ জন পুরুষ রয়েছেন। পুলিশের দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটির আড়ালে অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ ছিল।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে গুলশান থানা পুলিশের পৃথক দল অভিযান দুটি পরিচালনা করে। গুলশান থানার রোড নম্বর ২৪-এর ‘গুলশান ওয়ান সেলুন’ এবং রোড নম্বর ৯৯-এর ‘হট স্টোন স্পা’-তে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। গোপন তথ্য যাচাইয়ের পর বুধবার রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

তবে আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা এখনো আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন বলেন, গুলশান এলাকায় স্পা সেন্টারের আড়ালে কোনো ধরনের বেআইনি কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্পা ও সেলুনকেন্দ্রিক অভিযানে নারী-পুরুষ আটকের ঘটনা ঘটেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ ব্যবসার আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদরাসাছাত্র সংঘাত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদরাসাছাত্র সংঘাত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদরাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি জেলা পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ লাইন্সের গেট ও কম্পাউন্ডে দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদরাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সে ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরও অনুষ্ঠান চলছিল।

এ সময় উচ্চ শব্দে গান বাজানোর প্রতিবাদ জানিয়ে পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সে যান। সেখানে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার এবং তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ।

আখাউড়ার কেল্লা বাবার মাজারে মিলল ১২ বস্তা টাকা, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা

আখাউড়ার কেল্লা বাবার মাজারে মিলল ১২ বস্তা টাকা, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী খরমপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ ওরফে শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজারে সাত দিনব্যাপী ওরস শেষে দানবাক্স খুলে ১২ বস্তা নগদ টাকা পাওয়া গেছে। দানের অর্থের পাশাপাশি মিলেছে সোনা, রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) মাজারের দানবাক্স খুলে এসব অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়। বর্তমানে ব্যাংক কর্মকর্তা, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে অর্থ গণনার কাজ করছেন।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা গণনা শেষে এ পর্যন্ত নগদ ১ কোটি ৩ লাখ ৬৫১ টাকা পাওয়া গেছে। তবে গণনা কার্যক্রম সম্পূর্ণ হলে মোট অর্থ ও অন্যান্য দানের চূড়ান্ত হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে মিন্টু খাদেম বলেন, এ বছর নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সোনা ও রুপাও দান হিসেবে পাওয়া গেছে।

গত ১৬ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী ওরসে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও আশেকানরা চারটি দানবাক্সে নগদ অর্থ, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা দান করেন।

এ ছাড়া মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন পশুপাখি ও অন্যান্য সামগ্রী মাজার কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে ‘লাইন মেইনটেন্যান্স’-এর নামে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বাংলা এডিশনের অনুসন্ধানে চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এ ধরনের অর্থ আদায়ের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইনবোর্ড এলাকায় চলাচলকারী সিএনজি থেকে ৩০ টাকা এবং অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। টাকা দেওয়ার পর যানবাহনের গ্লাসে বিশেষ ধরনের চিহ্নও দেওয়া হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে। চালকদের অভিযোগ, কয়েকজনের একটি চক্র ‘লাইন নিয়ন্ত্রণের’ কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অর্থ আদায় করছে।

অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই সড়কে প্রায় ৩০০টি সিএনজি ও ৪০০টি অটোরিকশা চলাচল করে। চাষাঢ়া ও সাইনবোর্ড—দুই প্রান্তেই অর্থ আদায়ের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে মাসে প্রায় ৮ লাখ এবং বছরে কোটি টাকার বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

তবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। আলম ও রাকিবসহ অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তারা সিএনজি থেকে টাকা নেন না; অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা নেওয়া হয় জীবিকা নির্বাহের জন্য।

অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈধ ইজারা বা অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা চক্র যানবাহন থেকে অর্থ আদায় করছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা জরুরি।

তথ্যসূত্র: বাংলা এডিশন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অটোরিকশায় ৪০ লিটার দেশীয় মদ, গ্রেপ্তার ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অটোরিকশায় ৪০ লিটার দেশীয় মদ, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে দেশীয় তৈরি মদ পরিবহনের সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় অটোরিকশা থেকে ৪০ লিটার দেশীয় তৈরি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টা ৫ মিনিটের দিকে আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের টানমান্দাইল শান্তিপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় অটোরিকশা থেকে ৪০ লিটার দেশীয় তৈরি মদ উদ্ধার করা হয়। মাদক বহনের অভিযোগে অটোরিকশায় থাকা মো. রিয়াজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রিয়াজ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কামালপুর গ্রামের মো. তাজুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দেশীয় তৈরি মদ ও অটোরিকশাটি বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

বাকশাল’ নামে গরু জবাই করে রাবিতে জুলাই জিয়াফত

বাকশাল’ নামে গরু জবাই করে রাবিতে জুলাই জিয়াফত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘জুলাই জিয়াফত’-এর আয়োজন করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে এ আয়োজন করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, ১৫ আগস্টের আয়োজনের জন্য আনা গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখা হয়েছে। সেটি জবাই করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজনটি উদযাপন করা হবে বলেও তিনি জানান।

আয়োজনে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়। রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ টাকা। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংসের খাবার এবং অন্যদের জন্য বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়।

তবে শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি রাকসুর উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে বলে প্রচার করা হলেও পরে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

বিষয়টি নিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হলেও রাকসুর সব সদস্য এ আয়োজনে একমত ছিলেন না। পরে একজন শিক্ষার্থী গরুটি উপহার দেন। তাই এ আয়োজনের সঙ্গে রাকসু আনুষ্ঠানিকভাবে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখার কারণ জানতে চাইলে আম্মার বলেন, ১৫ আগস্টকে তিনি ‘বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন’ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন। সেই কারণেই গরুটির এমন নাম রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ আয়োজনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য ও সমালোচনা করেছেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ।

রান্নার সিলিন্ডারে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

রান্নার সিলিন্ডারে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জ্বালানি হিসেবে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। যাত্রীদের আসনের পেছনে দড়ি দিয়ে সিলিন্ডার বেঁধে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব অটোরিকশা চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় আগুন বা বিস্ফোরণের মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গজারিয়ার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সংকট চলছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে রান্নার এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন।

উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড থেকে হোগলাকান্দি হয়ে কালীপুরা ট্রলারঘাট সড়কে অন্তত ২৪টি অটোরিকশায় এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব গাড়িতে যাত্রীদের আসনের ঠিক পেছনে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সিলিন্ডার বাঁধা ছিল।

এক যাত্রী বলেন, যাত্রীদের ঠিক পেছনে এভাবে গ্যাসের সিলিন্ডার রাখায় তারা আতঙ্কের মধ্যে যাতায়াত করছেন। চালকদের কাছে জানতে চাইলে গ্যাস না পাওয়ার কারণে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। সামান্য দুর্ঘটনা ঘটলেও বড় বিপদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।

আরেক যাত্রী জানান, সিলিন্ডারটি তার ঠিক পেছনে রাখা ছিল। পুরো পথজুড়ে তার মধ্যে আতঙ্ক কাজ করেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার দ্রুত বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে আগে ৪০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চালকদের দাবি, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত গ্যাস পাওয়া গেলে তারা ঝুঁকি নিয়ে এলপিজি ব্যবহার করতেন না। একজন চালক বলেন, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় সারাদিনে গ্যাস পাওয়া যায় না। গাড়ি চালাতে না পারলে পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের মতে, শুধু অটোরিকশাচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহের সংকটের কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি যানবাহনে রান্নার সিলিন্ডার ব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ফিরোজ মিয়া বলেন, এলপি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য। সিলিন্ডারে ত্রুটি, অসতর্কতা কিংবা আগুনের সংস্পর্শে এলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী অটোরিকশায় এভাবে সিলিন্ডার বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ভবেরচর হাইওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল আখন্দ জানান, যানবাহনে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার নিষিদ্ধ ও বেআইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে তরুণী, ৫ দিনেও সমাধান নেই

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে তরুণী, ৫ দিনেও সমাধান নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে পাঁচ দিন ধরে অবস্থান করছেন লায়লা আক্তার (১৮) নামে এক তরুণী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি তরুণীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) থেকে বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত পর্যন্ত উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের প্রেমিক আমিন খানের বাড়িতে অবস্থান করেন লায়লা। আমিন ওই গ্রামের কামাল খানের ছেলে এবং বর্তমানে দুবাইপ্রবাসী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

লায়লার দাবি, আমিনের সঙ্গে তার প্রায় চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক। আমিন দেশে থাকাকালে দুই বছর এবং পরে দুবাই যাওয়ার পর আরও দুই বছর ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখেন। তবে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর এখন আমিন বিয়েতে রাজি হচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লায়লার বাবা সোহাগ খান বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক করার পর এখন অস্বীকৃতি জানানোয় তার মেয়ে পাঁচ দিন ধরে অনশন করছেন। স্থানীয় সর্দার-মাতব্বররা বিষয়টি সমাধানের জন্য ছেলে পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও পরে তারা টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মেয়ের জীবন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে আমিন খানের বড় ভাই আজমল খান জানান, তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে লায়লার সম্পর্ক ছিল। তবে আমিন বর্তমানে বিয়েতে সম্মতি দিচ্ছেন না। এ অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে কী করার আছে, সেটিও প্রশ্ন করেন তিনি।

লায়লার হাতে বিষের বোতল থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আজমল খান বলেন, বিষের বোতলটি স্থানীয় সর্দার-মাতব্বররা সরিয়ে নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য কয়েক দফা বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে। তরুণীকে বিয়ে করার বিষয়ে প্রেমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করায় এলাকায় উদ্বেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান দেখছেন। তবে অনশন বা প্রেমসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪

দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আট জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজার ও নেত্রকোনায়—দুই জেলায় চারজন করে মারা গেছেন। এছাড়া যশোর, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নওগাঁ ও গোপালগঞ্জে একজন করে নিহত হয়েছেন।

কক্সবাজারে বাস-জিটু গাড়ির সংঘর্ষে নিহত ৪

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় বাস ও স্থানীয় জিটু গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে এ দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন।

নিহতরা হলেন—চকরিয়ার জসিম উদ্দিন (২৫), শাহেদ (২৭), ঈদগাঁওয়ের রফিক (২৯) ও জিয়াবুল হক (২৫)। তারা সবাই জিটু গাড়ির যাত্রী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, কক্সবাজারমুখী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবোঝাই জিটু গাড়িটির সংঘর্ষ হয়। এতে গাড়িটির নয় যাত্রী গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজন মারা যান। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ উভয় যান জব্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

নেত্রকোনায় পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যু

নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের নারান্দিয়া এলাকায় পিকআপ ও সারবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন পুরুষ ও এক নারী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ট্রাক ও পিকআপ জব্দ করেছে।

যশোরে মাদরাসাশিক্ষক নিহত

বেনাপোল বাইপাস সড়কের ভবেরবেড় এলাকায় লোহার ভ্যান ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ইব্রাহিম হোসেন (৫০) নামে এক মাদরাসাশিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন।

ইব্রাহিম হোসেন শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ইছাপুর দাখিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।

ফেনীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নিহত ১

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় জুয়েল দাস (৩০) নিহত হয়েছেন। তিনি মুহুরীগঞ্জে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনায় একটি মাইক্রোবাসের চালকও গুরুতর আহত হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জে ট্রাকচাপায় বৃদ্ধের মৃত্যু

সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি কড়ইতলা এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি ট্রাকের চাপায় রাজু মিয়া (৬৫) নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মুন্সীগঞ্জে ট্রেইলারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

গজারিয়ার বাউশিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মালবাহী ট্রেইলারের ধাক্কায় আশরাফুল (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুরের বাসিন্দা ও পোলট্রি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নওগাঁ ও গোপালগঞ্জেও প্রাণহানি

নওগাঁর পত্নীতলায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শ্যামল তিগ্গা (৪০) নিহত হয়েছেন। একই দিনে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ট্রাকের ধাক্কায় রেজাউল আলম (৪৫) নামে আরেক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়।

দিনাজপুরে চেম্বার সভাপতি ও স্ত্রীসহ আহত ৪

এদিকে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের ফুলবাড়ী এলাকায় মাছবাহী একটি পিকআপের ধাক্কায় দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. আবু বকর ছিদ্দীক, তার স্ত্রীসহ চারজন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে একই দিনে একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যেসব অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

যেসব অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে অবস্থানরত লঘুচাপটি শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল ও কাছাকাছি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে সারা দেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে সারা দেশে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু এলাকায়ও বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিন সারা দেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনাময় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় সাময়িকভাবে পানি জমে জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরি হতে পারে।

‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন

‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন

 নিজস্ব প্রতিবেদক:কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) গভীর রাতে স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে প্রত্যাখ্যান করে তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও স্লোগান দিতে শোনা যায়। তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার এবং কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অগ্নিসংযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আলমাস হোসেন ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, স্মৃতিস্তম্ভে হামলার মতো ঘটনা ঘটতে পারে—এমন তথ্য আগে থেকেই তাদের কাছে ছিল এবং বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়েছিল।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের তদন্ত শেষ হলে অগ্নিসংযোগের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে—এসব বিষয়ে আরও তথ্য জানা যাবে।

১২ কোটি টাকার সেতু তৈরি, তবু নদী পার হতে হচ্ছে বাঁশের সাঁকো দিয়ে

১২ কোটি টাকার সেতু তৈরি, তবু নদী পার হতে হচ্ছে বাঁশের সাঁকো দিয়ে

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নে হুগলী নদীর ওপর প্রায় ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি দুই বছর ধরে পড়ে আছে। সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও পশ্চিম পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি এখনো যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে নদী পারাপারে স্থানীয়দের ভরসা এখনো বাঁশের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষের নড়িয়া উপজেলা সদরে যাতায়াত সহজ করতে থিরপাড়া এলাকায় হুগলী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য নিয়াজ-আরকে নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে প্রায় ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় ৯০ মিটার সেতুর পাশাপাশি দুই পাশে মোট ২৮৫ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা ছিল। ২০২৪ সালের জুনে সেতুর নির্মাণ শেষ হয়। এরপর পূর্ব পাশে ১৮০ মিটার সংযোগ সড়ক তৈরি করা হলেও পশ্চিম পাশের ১০৫ মিটার অংশের কাজ আটকে যায়।

জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় আটকে সংযোগ সড়ক

এলজিইডি কর্মকর্তারা জানান, সেতুর নকশা ও সমীক্ষার সময়ই দুই প্রান্তে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থাকার বিষয়টি জানা ছিল। সেখানে প্রায় দুই একর জমি প্রয়োজন হলেও জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা না করেই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়।

সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তায় পূর্ব পাশের জমির বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়। ফলে ওই অংশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পশ্চিম পাশের জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি দিতে রাজি হননি।

জমির মালিকদের দাবি, শুধু জমির মূল্য নয়, সংযোগ সড়ক নির্মাণের কারণে যেসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেগুলোরও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু মূল প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি সমাধানে গত বছরের নভেম্বরে নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে ৮১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়। তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় এখনো সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

সেতু আছে, কিন্তু ওঠার পথ নেই

সেতু নির্মাণের পর থিরপাড়া ঘাটে আগের নৌকা পারাপারও বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। বর্তমানে সেই সাঁকো দিয়েই মানুষ সেতুর ওপর উঠছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাঁকোটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ ব্যক্তিদেরও ঝুঁকি নিয়ে এটি পার হতে হচ্ছে।

ভেদরগঞ্জের চরভাগা এবং নড়িয়ার ঘড়িসার ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই পথ দিয়ে ঘড়িসার বাজার, কার্তিকপুর, গোলার বাজার ও নড়িয়া উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। আশপাশের দুটি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এই সাঁকো ব্যবহার করে।

প্রতিদিন হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

চরভাগা এলাকার বাসিন্দা সাগর সরদার বলেন, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এই পথে চলাচল করেন। আগে নৌকায় নদী পার হতে হতো। সেতু নির্মাণের পর মানুষের আশা ছিল যাতায়াত সহজ হবে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই সুবিধা মিলছে না।

তিনি জানান, গত এক বছরে বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে কয়েকজন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন।

ক্ষতিপূরণ চান জমির মালিক

থিরপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শাহ আলম মাল জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি ঘাট এলাকায় দোকান পরিচালনা করছেন। সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হলে তাঁর দোকানও সরিয়ে নিতে হবে।

তাঁর ভাষ্য, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে দোকান সরিয়ে দিলে তিনি জীবিকা হারাবেন। তবে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার স্বার্থে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হলে জমি ও স্থাপনা ছাড়তে তাঁর আপত্তি নেই।

দ্রুত সমাধানের চেষ্টা

নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এক পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি দিতে রাজি না হওয়ায় কাজটি আটকে আছে।

শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম বলেন, সেতু নির্মাণের আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জমির মালিকেরা মৌখিকভাবে জমি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই ভিত্তিতেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে এক পাশের জমির সমস্যা সমাধান হলেও অন্য পাশের জমি পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, স্থাপনার আংশিক ক্ষতিপূরণসহ বিকল্প কোনো উপায়ে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে সেতুটিকে পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।

দীর্ঘদিন পর সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে সেটি কার্যত অচল থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের দাবি, জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের জটিলতা দ্রুত সমাধান করে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হোক।

আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি'— শেষ ভয়েস মেসেজে মোহন

আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি'— শেষ ভয়েস মেসেজে মোহন

নওগাঁ প্রতিনিধি:বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হচ্ছে, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিনও ছুটিতে আসেনি। ছাওয়ালটা বলছিল—মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করবো। আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না।’

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই ছেলেকে হারিয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন নিহত সুমন ও মোহনের মা ময়না খাতুন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এর আগে রোববার দুপুর ২টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে গন্ডগোহালী গ্রামের দুই ভাই মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক নিহত হন। একই গ্রামের আরও দুজন এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহতদের মা ময়না খাতুন বলেন, ‘কালকে মেজো ব্যাটার সঙ্গে সকালে কথা কইছি। ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও, সুস্থ থাকো—এই কথা কইছিল। আগুন লাগার পর ছাওয়াল ভয়েস ম্যাসেজ দিছে। কইছে, মা, দুইডা কথা কমু, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমার দুই বাবাকে আমার বুকে অ্যানা দেও বাবা। আমার বাবাদেরকে দেখে আমি কলিজা শান্ত করমু। বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনক আমার বুকে অ্যানা দে বাবা রে।’

মোহনের বিয়ের কথা মনে করে মা বলেন, ‘মোহন বলতেছিল—এসে বিয়া করমু মা। মেয়ে-টেয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু।’

এদিকে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫) ও হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের মোহন প্রামাণিক, সুমন প্রামাণিক, রুবেল হোসেন (৩০) ও কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের সাগর (৩১) ও মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২)।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য ও মরদেহ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ও পরিচয় নিয়ে চূড়ান্ত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।