The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
জুলাইয়ের প্রথম ৫ দিনে দেশে এলো ৫৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

জুলাইয়ের প্রথম ৫ দিনে দেশে এলো ৫৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

 


চলতি জুলাই মাসের প্রথম পাঁচ দিনে দেশে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৪১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। সেই হিসাবে এবার প্রথম পাঁচ দিনেই প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর আগে জুন মাসে দেশে মোট ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে ৫১ কোটি ৫১ লাখ ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার আসে।

এ ছাড়া মে মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। মার্চে আসে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং এপ্রিলে আসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বা ৩৫.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল

 




বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে। একইসঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা এবং ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে, ব্যাংকটির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে এবং জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, একই আইনের ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটির পরিচালনায় সরাসরি নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধান আরও জোরদার হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা, তারল্য পরিস্থিতি এবং গ্রাহকসেবা নিয়ে নানা আলোচনা ও উদ্বেগের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ পদক্ষেপ এলো। ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা কাঠামো ও নতুন পর্ষদ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে ৪-৫ বছর লাগবে

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে ৪-৫ বছর লাগবে

 


সবার জন্য বাজেট দেয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেটা স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধির পথে নিতে সময় লাগবে। আগামী দুই বছর কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমশক্তিকে দক্ষ করে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এজন্য শিক্ষা, কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যাতে দেশের ভেতরে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে এবং শ্রমিকরা উচ্চ আয়ের চাকরি পেতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, বর্তমানে নিম্ন আয়ের ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পরিবারভিত্তিক সহায়তা, কৃষি খাত, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার এখন বড় বড় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিটি প্রকল্পে ‘ভ্যালু ফর মানি’ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং অর্থ সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার।

বাজেটে সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এখন সরকারি অফিসে দুর্নীতি কমবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমার কথা। কারণ অভাব থাকলে দুর্নীতির একটা প্রবণতা থাকে। ১১ বছর ধরে পে-স্কেল হয়নি, অন্য দিকে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। সুতরাং এটা সমন্বয় করা দরকার। বেতন বাড়লে, আয় বাড়বে তখন নিশ্চয় দুর্নীতি কমার কথা।

বাজেটে কর্মসংস্থানের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাজেটে পরিষ্কারভাবে বলা আছে চাকরির কথা। আমরা আশা করি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব। বিনিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছি কর্মসংস্থানের জন্য। স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য আমরা জোর দিচ্ছি। দক্ষ একজন শ্রমিকের চাকরি দেশে-বিদেশে হওয়া খুবই সহজ। এই জন্য আমরা স্কিল ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত নানান প্রকল্প হাতে নিচ্ছি।

বাজার বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ পুলিশ, র‌্যাব কিংবা সরকারি লোক দিয়ে পিটিয়ে করার বিষয় না, এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সঠিক পলিসি ও ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা তো জানেন মূল্যস্ফীতি গত তিন মাসের ব্যাপার না, এটি বেশ কয়েক বছর ধরেই ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এবং গত তিন মাস ধরে তা ৯ শতাংশের ওপরে চলছে। এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিগ্রহ এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিতিশীলতার প্রভাব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যাংকিং খাতের সঙ্কট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, লুটপাট ও মানি লন্ডারিংয়ের কারণে ব্যাংকগুলোতে বিরাট ক্যাপিটাল (মূলধন) ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ‘কস্ট অব ফান্ড’ অনেক বেড়ে গেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রতিফলন ঘটছে মূল্যস্ফীতির ওপর। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে আমদানিকৃত সব পণ্যের দামই দেশের বাজারে বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি জানান, বহির্বিশ্বের কারণে যে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, সেখানে আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে আমাদের চেষ্টা করতে হবে অভ্যন্তরীণভাবে কিভাবে ব্যবসার খরচ কমিয়ে আনা যায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ইজ অব ডুইং বিজনেস (সহজে ব্যবসা করার সূচক) মানদণ্ডে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ একেবারে তলানীতে। এর অর্থ হলো আমাদের ব্যবসার খরচ অনেক বেশি। একটি পারমিশন পেতে বা কোম্পানি করতে ছয় মাস থেকে এক বছর লেগে যায়। অনেক ডিপার্টমেন্টে যেতে হয়, সময় নষ্ট হয় এবং অনেক জায়গায় তাদের খরচ (ঘুষ/অনিয়ম) করতে হয় এটা তো সত্য কথা।

স্পট বায়িং বন্ধ, ৩ মাসের বাফার স্টকের পরিকল্পনা : জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্পট মার্কেট (তাৎক্ষণিক ক্রয়) থেকে কেনার কারণে খরচের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। দুই-তিন ঘণ্টার নোটিশে বেশি দামে কিনতে হয়। অতীতে এই দীর্ঘমেয়াদি অ্যারেঞ্জমেন্টগুলো করা হয়নি। খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমাদের প্রোপার প্ল্যানিং দরকার। ভবিষ্যৎ সঙ্কট মোকাবেলায় আমাদের রিজার্ভ বা নিয়ন্ত্রণে কমপক্ষে তিন মাসের জ্বালানি ও খাদ্যমজুদ রাখার মতো বাফার স্টক গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের পোর্টগুলোতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি ও বাড়তি খরচ কমাতে পারলে সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী হবে এবং দেশের অভ্যন্তরে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিনিয়োগ বাধা দূর করতে টাস্কফোর্স হবে : বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে নিয়ন্ত্রণ ও জটিলতা কমানোর (ডিরেগুলেশন) উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। একইসাথে সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, বিলম্ব কিংবা অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা যাতে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইটও চালু করা হবে। তিনি বলেন, ‘নতুন বিনিয়োগ নীতিমালা কোথায় লঙ্ঘিত হচ্ছে, কে বাধা সৃষ্টি করছে কিংবা কোথায় প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে– এসব বিষয় টাস্কফোর্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বা ‘পিপলস ইকোনমি’ বাস্তবায়ন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি খাত, এনজিও এবং বিভিন্ন অংশীজনকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘বরিশালের কোনো প্রান্তিক নারী যদি শীতল পাটি তৈরি করেন, তাহলে সেই পণ্যের নকশা উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ এবং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে ৭০০ টাকার পণ্যকে ২ হাজার টাকার পণ্যে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজাইন সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বাজেটের পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারব কিনা তা সময়ই বলবে। তবে যদি ঘোষিত কর্মসূচির ৮০ শতাংশও বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।


বাজেটে ছাড়, বাজারে স্বস্তির অপেক্ষায় ভোক্তা

বাজেটে ছাড়, বাজারে স্বস্তির অপেক্ষায় ভোক্তা


 নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন পণ্যের উপর উৎসে কর-এ বড় ছাড় দিয়েছে। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। উলটো চাল, আটা ও ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। ফলে কর ছাড়ের ঘোষণায় ক্রেতারা খুশি হলেও এটা কতটা বাস্তবায়ন করা যাবে তা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

বাজেট পেশের পরদিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, কাওরানবাজার ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। বাজেটে যেসব নিত্যপণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা এসেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, লবণ, চিনি ও ভোজ্য তেল। সবমিলিয়ে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উেস কর আড়াই শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

কিন্তু বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। গতকাল খুচরা বাজারে মোটা ও মাঝারিমানের চাল ইরি, স্বর্ণা, পাইজাম ও লতার দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ডালের বাজারেও একই চিত্র। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনেও পণ্য দুটির দাম বাড়ার কথা জানিয়েছে। গতকাল বাজারে মাঝারিমানের চাল পাইজাম/লতা মানভেদে ৫৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়। যা দুই দিন আগেও ৫২ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর দুই দিনের ব্যবধানে মোটা চালের কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে তা ৫২ থেকে ৬০ বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে সাদা খোলা আটার দামও। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে তা ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডালের মধ্যে ছোলার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এসব পণ্য আগের কেনা। পুরোনো দামে কেনা পণ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর ছাড়ের সুবিধা বাজারে প্রতিফলিত হবে না।

তুরাগ এলাকার নতুন বাজারের মুদি ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, বাজেটে কেবল কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সুবিধা পেতে কিছুদিন সময় লাগবে। নতুন আমদানিকৃত পণ্য বাজারে আসলে আশা করি, দাম কমে যাবে। এদিকে চাল, ডাল, আটার দাম বাড়লেও বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম কমেছে। গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পটোল ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁকরোল, বেগুন, করলা, বরবটি, ঝিঙা ও চিচিঙ্গাসহ বেশির ভাগ সবজি ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মুরগির বাজারেও স্বস্তির চিত্র রয়েছে। প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমে বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায়। ডিমের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।

তবে মাছের বাজারে স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৭০ টাকা, রুই, কাতলা ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা , পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কোরাল ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা, কই ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল কাওরানবাজারে বাজার করতে আসা চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার আগামী বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পণ্য আমদানিতে কর কমিয়েছে। কিন্তু বাজারে এখনো কোনো পণ্যের দাম কমেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্যের দাম কমতে সময় লাগবে। অথচ, যদি বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানোর কথা বলা হতো, তাহলে ঠিকই সঙ্গে সঙ্গে সেই পণ্যের দাম বেড়ে যেত। ক্রেতাদের দাবি, সরকার যে ৬০টি পণ্যের উেস কর কমিয়েছে, তার সুফল যেন দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়। এজন্য বাজার মনিটরিং আরো জোরদার করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ


দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ হাজার ৯৬৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ফলে ভালো মানের স্বর্ণের দাম বেড়ে লাখ ২২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম।

 

নতুন দাম মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম (পিওর গোল্ড) বাড়ায় বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

 

তবে মূল কারণ হচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছাড়িয়েছে হাজার ৪০০ ডলার।

 

নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম লাখ ২২ হাজার ৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৫১ হাজার ৩৯৯ টাকা।

 

স্বর্ণের দামের সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হাজার ৯৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা হাজার ৭২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম হাজার ৩৩ টাকা।

সূত্র : যুগান্তর

আমদানির অনুমোদনের পর বাজারে কমল পেঁয়াজের দাম

আমদানির অনুমোদনের পর বাজারে কমল পেঁয়াজের দাম


পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়ার পর বাজারে এর মূল্য নিম্নমুখী হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। 

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা বলেন, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল করতে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই মূল্য কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমদানির কারণে কৃষকের ক্ষতি হবে এমন ধারণা সঠিক নয়। সরকারের দায়িত্ব হলো উৎপাদক ও ভোক্তার স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, এবং সে লক্ষ্যেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে।

আলুর বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ বছর আলু চাষিরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাদের সহায়তার জন্য ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তবে দেশের আলুর জাত উন্নত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সারের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন। তার ভাষায়, মৎস্য খাতসহ অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত সার ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন খাতে সারের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে।

সূত্র : আমার সংবাদ

 

নভেম্বরে এলো ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স

নভেম্বরে এলো ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স

 


সদ্যবিদায়ী নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকার বেশি। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি প্রায় ৬৯ কোটি ডলার বা ৮ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।  

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা মোট ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৮ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের একটির মাধ্যমে এসেছে ২৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে সর্বাধিক ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।  

তবে নভেম্বরে আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) এবং বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক রেমিট্যান্স আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক আল ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া থেকেও কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয় ছিল জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এবং অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ নভেম্বর মাসে প্রবাসী আয় আগের মাসগুলোর তুলনায় বেশি এসেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির এ ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে পরিবারগুলোতে আর্থিক স্বস্তি আনবে। তবে কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স না আসা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

সূত্র : বিডি-প্রতিদিন

নভেম্বরে রেমিট্যান্স ৩১ শতাংশ বেড়ে ২.৮৮ বিলিয়ন ডলার

নভেম্বরে রেমিট্যান্স ৩১ শতাংশ বেড়ে ২.৮৮ বিলিয়ন ডলার

 


নভেম্বরে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩১ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ২ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।

গতমাসে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের এই অংক অক্টোবরের চেয়েও ১৩ শতাংশ বেশি। অক্টোবরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

ত বছরের ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স আসা বেড়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব কারণের মধ্যে রয়েছে বৈধ ও অবৈধ (হুন্ডি) বাজারের বিনিময় হারের ব্যবধান কমে আসা এবং মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার।

Cenbank gives final approval to merge 5 Shariah-based banks into ‘United Islami Bank’

Cenbank gives final approval to merge 5 Shariah-based banks into ‘United Islami Bank’

 

The Bangladesh Bank has given final approval to merge five troubled Shariah-based banks into a single entity named "United Islami Bank", clearing all the regulatory hurdle for the new institution to begin operations.

The approval was granted today (30 November) at a board meeting of the central bank, officially paving the way for the launch of what will now be the country's largest state-run Islamic bank.

বন্দর ১০ মাসে রেকর্ড পরিমাণ কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে

বন্দর ১০ মাসে রেকর্ড পরিমাণ কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে

 

নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বেড়েছে পণ্য আমদানি। আগের তুলনায় জাহাজ বেশি আসলেও বহির্নোঙরে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না। ফলে ১০ মাসেই রেকর্ড পরিমাণ কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে বন্দর। বছর শেষে আগের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন মাইলফলক গড়ার অপেক্ষায় বন্দর। ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অটোমেশনসহ সামাগ্রিকভাবে বন্দরের দক্ষতা বাড়ায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

ডলারের উচ্চ মূল্য, নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় সতর্ক আমদানিকারকরা। বাজারের চাহিদা, লাভ ক্ষতি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমদানির জন্য এলসি খুলছেন তারা।

এরপরেও চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস হাউসের পরিসংখ্যান বলছে পণ্য আমদানি বেড়েছে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে তিন কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার টন পণ্য আমদানি হয়েছে। যার মূল্য প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা। গেল বছরের একই সময়ে তুলনায় পণ্যের হিসেবে ৫৬ লাখ টন ও টাকার অঙ্কে ১৯ হাজার ১২২ কোটি টাকার বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে।

আমদানি বাড়ায়, বেড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আয়ও। অক্টোবর পর্যন্ত সংস্থাটি রাজস্ব আহরণ করেছে ২৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও গত বছরের চেয়ে আয় বেড়েছে সাড়ে নয় শতাংশের বেশি।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার এইচ এম কবির বলেন, ‘পণ্য আমদানির তুলনায় গত বছরের তুলনায় একইসময়ে অক্টোবর পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। এটি পায় ২৩.১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে পণ্য আমদানির পরিমাণের বিবেচনায়।’এদিকে রাজস্ব কর্মকর্তাদের কলম বিরতি, পরিবহন ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি ভালোভাবেই সামাল দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসেই রেকর্ড প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টিইউএস কনটেইনার ও ১১ কোটি ৫০ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে দেশের প্রধান এ সমুদ্র বন্দর। গেল বছরের চেয়ে এ সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ। আর জাহাজ বেশি এসেছে ৩৫১টি। তাই বছর শেষে নতুন রেকর্ডের মাইলফলক ছোঁয়ার প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার ও মেরিন সদস্য আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ বছরে আমরা আশা করছি ডিসেম্বরের প্রথম নাগাদই আমরা গত অর্থবছরে যে ক্যাপাসিটি দেখিয়েছিলাম সেটাকে আমরা ক্লোজ করতে পারবো। পুরো ক্যালেন্ডার ইয়ারে আমরা আশা করছি একটা মাইলফলক স্পর্শ করতে পারবো।’

সবচেয়ে বড় অর্জন, আগে একটি জাহাজকে বহির্নোঙরে তিন থেকে দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও বর্তমানে অধিকাংশ জাহাজ এক দিনেই বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারছে। এতে কমেছে বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকালে। যাতে কমেছে শিপিং কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয়।

আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়েটিং টাইমটা এখন শূন্য। আমরা খুব প্রাউডলিই বলবো এটা, কারণ আমরা চেষ্টা করেছি কন্টিনিউয়াস ব্যবসাবান্ধব এবং জনবান্ধব করার জন্য। নভেম্বরের আজকে পর্যন্ত আউটারে কোনো কন্টেইনার জাহাজকে ওয়েটিংয়ে থাকতে হয়নি।’

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘প্রফেশনাল ভালো অপারেটর যদি আসে, সেটা দেশি বা বিদেশি হোক। আমরা মনে করি আমাদের দেশের স্বার্থে পোর্টকে যদি আমরা ডেভেলপ করতে চাই, পোর্টকে যদি আমরা আরও কার্যকর করতে চাই তাহলে আমাদের মর্ডান ইকুয়েপমেন্ট লাগবে, মর্ডান টেকনিশিয়ান লাগবে, মর্ডান এক্সপার্ট লাগবে।’

২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর রেকর্ড ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করলেও কনটেইনার পরিবহনের বৈশ্বিক তালিকায় এক ধাপ পিছিয়ে যায়।


ফের দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ

ফের দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ


 

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ২ হাজার ৪০৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) থেকেই নতুন দর কার্যকর হবে।

এর আগে সবশেষ গত ২০ নভেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। ওইদিন ভরিতে ১ হাজার ৩৫৩ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা।

নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭২ হাজার ২৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

সবমিলিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। যেখানে ৫৫ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে, আর দাম কমেছে মাত্র ২৬ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৬২ বার সমন্বয় করা হয়েছিল স্বর্ণের দাম। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া গতবছর ২৭ বার স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস।
স্বর্ণের দাম বেড়েছে, এখন ভরি কত?

স্বর্ণের দাম বেড়েছে, এখন ভরি কত?

 
File Photo



দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৪১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা হয়েছে।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাজুস স্ট্যান্ডিংকমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্প গোষ্ঠীর ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্প গোষ্ঠীর ৫৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

 

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং ১০ শিল্প গোষ্ঠীর ব্যাংক ঋণে অনিয়ম, কর ফাঁকি, অর্থপাচারসহ নানা অনিয়ম অনুসন্ধান করছে সরকার গঠিত ১১টি তদন্ত দল। শেখ পরিবারসহ ১১টি শিল্প গ্রুপের পাচার করা বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং পাচারের টাকায় বিদেশে গড়ে তোলা বিপুল পরিমাণ সম্পদের হদিস মিলেছে। ইতোমধ্যে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ৫৭ হাজার ২৬০ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ও শেয়ার জব্দ করা হয়েছে।

তদন্ত সংস্থাগুলোর কয়েকটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।  

জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বয়ে যৌথ তদন্ত দল। সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিশেষ নিরাপত্তাবিশিষ্ট কক্ষে চলছে তদন্তের নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ।

এছাড়া পাচার করা অর্থ উদ্ধারে কাজে সহায়তা করছে আন্তর্জাতিক চারটি প্রভাবশালী সংস্থা। এগুলো হলো- দ্য স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি (এসটিএআর), ইন্টারন্যাশনাল এন্টি করাপশন কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (আইএসিসিসি), যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাসেট রিকভারি (আইসিএআর)।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ছাড়া পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্প গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আরামিট গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, জেমকন গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ। এসব গ্রুপের পাশাপাশি গ্রুপের প্রধান ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত আর্থিক বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, বিএফআইইউ এখন পর্যন্ত এক হাজার ৫৭৩টি ব্যাংক হিসাবে ১৬৮০ কোটি টাকা ও ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পাশাপাশি ১৮৮টি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) হিসাবে ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অর্থ ও শেয়ার স্থগিত আছে।

এছাড়া আদালতের নির্দেশনায় এখন পর্যন্ত জব্দ করা দেশীয় সম্পদের পরিমাণ ৪৬ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ ৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ৩৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা। এছাড়া বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দের পরিমাণ ১০ হাজার ৪৫৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ ৬০৯৭ কোটি টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ৪৩৫৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে আদালতের নির্দেশনায় দেশে-বিদেশে স্থগিত সম্পদের পরিমাণ  ৫৭ হাজার ২৬০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
ভাঙলো আগের সব রেকর্ড, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ

ভাঙলো আগের সব রেকর্ড, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ

 


দেশের বাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ১ হাজার ৯৯৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮১২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮১২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৩ হাজার ১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ২২ হাজার ৫৭৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

এর আগে, সবশেষ গত ৬ ফেব্রুয়ারি দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ৯২৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮১৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম।
 
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯৯ হাজার ৫২৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে।

এ নিয়ে চলতি বছর ৬ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ছয় বারই। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার।

স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫৭৮ টাকায়।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ১১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৮৬ টাকায়।
 
এদিকে, বিশ্ববাজারেও রেকর্ড ছুঁয়েছে স্বর্ণের দাম।  ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক আউন্স স্বর্ণের দাম ছাড়িয়েছে ২ হাজার ৯০০ ডলার।