The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
২৮ বার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন পেজেশকিয়ান, আবার দিলে মেনে নেওয়ার হুঁশিয়ারি খামেনির

২৮ বার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন পেজেশকিয়ান, আবার দিলে মেনে নেওয়ার হুঁশিয়ারি খামেনির

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে পদত্যাগের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন—এমন একটি দাবি ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত একটি ভিডিওতে জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম মোহাম্মদ-বাগের খারাযি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান একাধিকবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা বার্তা দিয়েছেন—ভবিষ্যতে আবার এমন প্রস্তাব এলে সেটি সরাসরি অনুমোদন করা হবে।

খারাযির দাবি, ওই সতর্কবার্তার পর প্রেসিডেন্ট আর পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আনছেন না।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৬ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে একটি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেখানে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত ভূমিকা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

তবে প্রেসিডেন্টের মিডিয়া ও তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা মেহেদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী জাতীয় ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আলী-আসগর শাফিয়ান। তার দাবি, মোহাম্মদ-বাগের খারাযির সঙ্গে মোজতবা খামেনির কোনো বৈঠক বা সরাসরি যোগাযোগ নেই। তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতেই এসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমদ জাইদাবাদিও বিষয়টিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ভিডিওতে খারাযি আরও দাবি করেন, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারককে কেন্দ্র করে দেশটির সরকার ও কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহলের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রয়োজনীয় সমর্থন এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সম্মতির ভিত্তিতেই সমঝোতা-সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার পর ১৯ তলা থেকে লাফ, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন তরুণী

প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার পর ১৯ তলা থেকে লাফ, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন তরুণী


চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে প্রেমিকের সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের তর্ক-বিতর্কের পর ১৯ তলার বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। নিচে থাকা একটি গাছ ও ঘন ঝোপঝাড় তার পতনের গতি কমিয়ে দেওয়ায় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জিয়াশিং শহরের বাসিন্দা ওই তরুণীর ছদ্মনাম শিয়াওই। গত ১২ জুলাই ভোরের দিকে ভাড়া বাসার বারান্দা থেকে তিনি নিচে ঝাঁপ দেন। প্রথমে একটি গাছের ডালে আঘাত লেগে তার পতনের ধাক্কা অনেকটাই কমে যায়। পরে ঝোপঝাড়ের ওপর পড়ায় তিনি গুরুতর আহত হলেও জীবিত উদ্ধার হন।

গুরুতর আঘাত, চলছে একাধিক অস্ত্রোপচার

ঘটনার পর শিয়াওইকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথা, ফুসফুস, যকৃত ও প্লীহায় আঘাত লেগেছে। এছাড়া পেলভিস, পিউবিক হাড় এবং দুই পায়ের একাধিক হাড় ভেঙে গেছে।

ইতোমধ্যে তার দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকরা আরও একটি অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করেছেন।

সম্পর্কের টানাপোড়েনেই চরম সিদ্ধান্ত

জ্ঞান ফেরার পর শিয়াওই জানান, প্রেমিকের সঙ্গে টানা কয়েক ঘণ্টার ঝগড়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তার চাচা জানান, এর আগেও তাদের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ হয়েছে।

পরিবারের দাবি, কয়েকদিন আগেই সম্পর্ক শেষ করে নিজ শহরে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শিয়াওই। কিন্তু ঘটনার আগের রাতে আবারও ঝগড়া শুরু হলে প্রেমিক তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেন এবং বাসার দরজা তালাবদ্ধ করে দেন। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি ওই সিদ্ধান্ত নেন।

চিকিৎসা ব্যয়ে সংকটে পরিবার

পরিবার জানিয়েছে, শিয়াওইয়ের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে এক লাখ ইউয়ানের বেশি ব্যয় হয়েছে এবং হাসপাতালের কাছে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বকেয়া রয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালে তার মায়ের ক্যান্সারের চিকিৎসায় পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে অনলাইন দাতব্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

প্রেমিককে হাসপাতালে ঢুকতে দেয়নি পরিবার

ঘটনার পর প্রেমিক হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, কী পরিস্থিতিতে ওই তরুণী ১৯ তলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, আবেগের বশে নেওয়া মুহূর্তের সিদ্ধান্ত মানুষের জীবনকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (SCMP)

শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের আয়োজনে ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা নেই

শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের আয়োজনে ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা নেই

 

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যকে ঘিরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এ আয়োজন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে হচ্ছে। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

আগামী ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান জানতে নয়াদিল্লির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

সূত্র: রয়টার্স

সরাসরি বা ভিডিও নয়, এবার অডিও বার্তায় কথা বলবেন শেখ হাসিনা

সরাসরি বা ভিডিও নয়, এবার অডিও বার্তায় কথা বলবেন শেখ হাসিনা


 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিডিও নয়, কেবল অডিও সংযোগের মাধ্যমে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ত্যাগের পর থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন। পাশাপাশি একপর্যায়ে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্ষমতা ছাড়ার পর এটিই হবে শেখ হাসিনার প্রথম সরাসরি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া। এর আগে তিনি বিভিন্ন সময়ে লিখিত বিবৃতি ও রেকর্ড করা বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সরাসরি বা ভার্চুয়ালি অংশ নিতে পারেন।

এদিকে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তিনি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন এবং দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।

সূত্র: সিএনএন-নিউজ১৮।

ঘুমন্ত নারীকে টেনে নিয়ে গেল বাঘ, হাসপাতালে মৃত্যু

ঘুমন্ত নারীকে টেনে নিয়ে গেল বাঘ, হাসপাতালে মৃত্যু

ভারতের মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকা এক নারীকে কুঁড়েঘর থেকে টেনে নিয়ে যায় একটি বাঘ। স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণীটি পালিয়ে গেলেও গুরুতর আহত ওই নারীকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) রাতে কানহা জাতীয় উদ্যানের খাপা রেঞ্জের অন্তর্গত পররাপুর বৈগাটোলা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম সুগনি বাই ধুরভে (৩০)

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, রাত প্রায় দেড়টার দিকে একটি বাঘ লোকালয়ে ঢুকে সুগনি বাইয়ের কুঁড়েঘরে প্রবেশ করে। সে সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। বাঘটি তার মাথায় কামড় বসিয়ে ঘর থেকে টেনে বাইরে নিয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন টর্চ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে বাঘটি প্রায় ৩০০ মিটার দূরে সুগনি বাইকে ফেলে জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাইহার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

কানহা জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক মাসে ওই এলাকায় বাঘ ও চিতাবাঘের লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। নতুন করে এমন ঘটনা এড়াতে এলাকায় খাঁচা বসানো, রাতের টহল জোরদার এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, দরজাবিহীন একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করছিল সুগনি বাইয়ের পরিবার। সরকারি আবাসন সুবিধা না পাওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও আবাসনের ব্যবস্থা থাকলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।

সূত্র: এনডিটিভি।

এটাই শেষ সুযোগ’, ইরানকে কঠোর বার্তা ট্রাম্পের

এটাই শেষ সুযোগ’, ইরানকে কঠোর বার্তা ট্রাম্পের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সামনে এখন মাত্র দুটি পথ খোলা—একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করা।

ট্রাম্পের দাবি, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বিশেষ করে কাতারের সহযোগিতায় বর্তমানে ইরানকে নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। তিনি আরও বলেন, ইরানও এই আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপের বিরোধিতা করে ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক এই নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। তার ভাষ্য, এ ধরনের অর্থ আদায়ের অধিকার ইরানের নেই। প্রয়োজনে এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রই নিশ্চিত করবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে তারা গোপনে আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে দাবি করছে যে তারা কেবল ওমানের মাধ্যমেই যোগাযোগ রাখছে।

এ সময় হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিকেও গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে এবং তাদের অনুমতি ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের অবসান ঘটাতে হলে ইরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার মতে, একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিই বর্তমান পরিস্থিতির একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান। অন্যথায় তেহরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

সবশেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না।

সূত্র: ট্রুথ সোশ্যাল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমওইউ ইরানের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে: পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমওইউ ইরানের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে: পেজেশকিয়ান

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভবিষ্যতে ইরানের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

টিআরটি ওয়ার্ল্ড–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান জানান, এই সমঝোতা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যদের সম্মিলিত চিন্তাভাবনা, অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দূরদর্শিতার ফল। তিনি বলেন, কাউন্সিলের সব সদস্যই এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এই সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে আমাদের পররাষ্ট্র সম্পর্কের একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।”

তিনি আরও বলেন, চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে প্রতিপক্ষকে বাধ্য করতে ইরান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তার ভাষায়, “যে বিষয়ে তারা স্বাক্ষর করেছে, তা বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এই সমঝোতা আমাদের দেশ, অঞ্চল এবং মিত্রদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।”

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্যকে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির প্রতিবাদে মোদির বাসভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা কেজরিওয়ালের

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির প্রতিবাদে মোদির বাসভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা কেজরিওয়ালের

 

ভারতে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনে গিয়ে দুই লাখের বেশি নাগরিকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে। এ উপলক্ষে রাজধানী দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিলেরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার আয়োজিত এক গণশুনানিতে কেজরিওয়াল বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। তাই বিষয়টি সরকারের নজরে আনতে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যাবেন। তার সঙ্গে এমন প্রায় একশ স্বেচ্ছাসেবী থাকবেন, যারা গ্রেপ্তার বা বলপ্রয়োগের আশঙ্কা উপেক্ষা করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রস্তুত।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার যদি মনে করে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি পুরোপুরি নিরাপদ, তাহলে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত বিতর্ক আয়োজন করা উচিত। সেখানে সরকার ও সমালোচক—উভয় পক্ষই নিজেদের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে পারবে। কিন্তু সরকার এমন আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, কেজরিওয়ালের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। তথ্য ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ানোর সরকারি নীতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের দাবি, এতে জ্বালানি খরচ বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে যানবাহনের ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, এই উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াবে এবং আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।

কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, এই নীতির পেছনে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। তার দাবি, ইথানল ব্যবসার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়করির পরিবারের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সমঝোতার বিষয়টিও সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্তের একটি কারণ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি তিনটি দাবি তুলে ধরেছেন। সেগুলো হলো—প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি—উভয় বিকল্প রাখা, পেট্রোলের দাম কমানো এবং ইথানলভিত্তিক জ্বালানির মূল্যও হ্রাস করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইথানল ইস্যু এখন কেবল জ্বালানি নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, মূল্যস্ফীতি এবং জনস্বার্থের প্রশ্নে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ৪ আগস্টের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের


 বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহের কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এইচই ইউকাউ সো মো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণে মিয়ানমার থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পাইপলাইনের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পুরোনো একটি প্রস্তাবও নতুন করে আলোচনায় আসে। উভয় পক্ষই বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার আগ্রহ প্রকাশ করে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। এ ধরনের আঞ্চলিক সংযোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনও আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও মতবিনিময় হয়।

এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত বেনজীর আহমেদ, ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা

দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত বেনজীর আহমেদ, ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই কারাগার থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তার পারিবারিক সূত্রের দাবি, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

সূত্র জানায়, এর আগে ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের শর্ত অনুযায়ী, তিনি দুবাই ত্যাগ করতে পারবেন না এবং তার পাসপোর্ট আমিরাত কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ পুলিশের ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পায়নি। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথি এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুবাই পুলিশের সহযোগিতায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে এ বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দুদক তদন্ত শুরু করলে তিনি দেশ ত্যাগ করেন।

৪৪ লাখ রুপির বীমার টাকার লোভে স্ত্রীকে হত্যা, দুর্ঘটনা সাজাতে মরদেহের ওপর চালানো হয় গাড়ি

৪৪ লাখ রুপির বীমার টাকার লোভে স্ত্রীকে হত্যা, দুর্ঘটনা সাজাতে মরদেহের ওপর চালানো হয় গাড়ি

 

ভারতের উত্তর প্রদেশের হামিরপুর জেলায় ৪৪ লাখ রুপির বীমার অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর অভিযোগে এক ব্যক্তি ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২ আগস্ট) দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত নারীর নাম রিতা। অভিযুক্ত স্বামী অমর সিং প্রথমে নিজেই স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানাতে থানায় যান। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অমর সিং অপরাধের কথা স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, বীমার অর্থ পাওয়ার লোভে তিনি আরও তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে কাঠ ও লাঠি দিয়ে রিতাকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এরপর ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে তার মরদেহের ওপর দিয়ে একটি গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়।

গত বুধবার গভীর রাতে হামিরপুরের লালপুরা এলাকার বৈঠকা ধাম মন্দিরসংলগ্ন এলাকা থেকে রিতার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শরীরে ১২টিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রিতার শরীরে ১২টিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া কিডনি ছাড়া শরীরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহতের বাবা সর্বেশ কুমার জানান, ২০০২ সালে রিতার প্রথম বিয়ে হয় এবং তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি কানপুরের গুজাইনি এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে আটার একটি কারখানায় কর্মরত অমর সিংয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। প্রায় দুই বছর আগে তারা বিয়ে করেন।

তিনি আরও জানান, মাত্র দুই মাস আগে অমর সিং রিতার নামে ৪৪ লাখ রুপির একটি জীবনবীমা করেন এবং প্রথম কিস্তি হিসেবে ২ লাখ ৬০ হাজার রুপি জমা দেন।

হামিরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) অরবিন্দ কুমার ভার্মা বলেন, অভিযুক্ত নিজেই স্ত্রী নিখোঁজের অভিযোগ জানাতে থানায় এসেছিলেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। পরে পুরো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়।

তিনি জানান, অভিযুক্ত স্বামী ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে রিতার সন্তানরা উত্তর প্রদেশের মইনপুরীতে তাদের দাদা-দাদির কাছে বসবাস করছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮, আহত ৭৬

গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮, আহত ৭৬


গাজা উপত্যকায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭৬ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আগের এক ইসরাইলি হামলায় আহত আরও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছরের তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ১,২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,০৫৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮০৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৪৯ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬২ জন।

এ ছাড়া ভবন ধসের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় এ ধরনের ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

২০২৭ সালের ২ আগস্ট সৌদির আকাশে শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব

২০২৭ সালের ২ আগস্ট সৌদির আকাশে শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব

 

আগামী বছরের (২০২৭ সাল) ২ আগস্ট সৌদি আরবের আকাশে ঘটতে যাচ্ছে শতাব্দীর অন্যতম বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। সেদিন কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো মিলিয়ে যাবে, সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলবে চাঁদ, দিনের আকাশে দেখা যাবে তারা, তাপমাত্রা কমে আসবে এবং সূর্যের রহস্যময় বহিঃস্তর করোনা খালি চোখে দেখা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ নয়; এটি একবিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণ সূর্যগ্রহণগুলোর একটি এবং ৭৫ বছরেরও বেশি সময় পর সৌদি আরবের ওপর দিয়ে অতিক্রম করা প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। 

সৌদি স্পেস এজেন্সি এটিকে ‘এই শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

কেন সৌদি আরবেই দেখা যাবে এই বিরল সূর্যগ্রহণ?
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে তখনই, যখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে এবং মাঝখানে থাকে চাঁদ।

প্রকৃতির এক বিস্ময়কর কাকতালীয় কারণে চাঁদ সূর্যের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ ছোট, আবার পৃথিবী থেকে ৪০০ গুণ বেশি কাছে। ফলে পৃথিবী থেকে দেখলে সূর্য ও চাঁদকে প্রায় একই আকারের মনে হয়। যখন তারা নিখুঁতভাবে এক সরলরেখায় আসে, তখন চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে এবং পৃথিবীর ওপর একটি সরু ছায়াপথ সৃষ্টি করে।

এই ছায়াপথকে বলা হয় ‘পাথ অব টোটালিটি’ । এই পথের ভেতরে থাকা মানুষই কেবল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে পান, অন্য এলাকায় দেখা যায় আংশিক সূর্যগ্রহণ।

২০২৭ সালের সূর্যগ্রহণের ছায়াপথ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে উত্তর আফ্রিকা, মিসর, লোহিত সাগর অতিক্রম করে সৌদি আরবের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে ভারত মহাসাগরের দিকে চলে যাবে। সৌদি আরব এই ছায়াপথের ঠিক মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় দেশটি বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যবেক্ষণস্থলে পরিণত হবে।

কেন এত দীর্ঘ হবে এই সূর্যগ্রহণ?
এই সূর্যগ্রহণের দীর্ঘস্থায়িত্বের পেছনে রয়েছে মহাজাগতিক অবস্থানের বিশেষ সমন্বয়।

আগস্টের শুরুতে পৃথিবী সূর্য থেকে বছরের সবচেয়ে দূরের অবস্থানের কাছাকাছি থাকে। ফলে সূর্যকে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা ছোট দেখায়। একই সময়ে চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানের কাছাকাছি থাকবে, ফলে সেটিকে তুলনামূলক বড় দেখাবে।

বড় চাঁদ যখন অপেক্ষাকৃত ছোট দেখানো সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়, তখন গ্রহণের স্থায়িত্ব বেড়ে যায়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ সময়, ছয় মিনিটের কিছু বেশি, দেখা যাবে প্রতিবেশী মিসরে। তবে সৌদি আরবেও এই অন্ধকার থাকবে প্রায় ছয় মিনিট, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য বিরল সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সৌদি স্পেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী-
•    আভা অঞ্চলে অন্ধকার থাকবে প্রায় ৬ মিনিট। 
•    জেদ্দা ও পশ্চিম উপকূলের কিছু এলাকায় থাকবে প্রায় ৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ড। 
তুলনামূলকভাবে বিশ্বের অধিকাংশ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দুই মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয়।

যেসব শহরে দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ
সৌদি জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মাজেদ আবু জাহরার মতে, পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে-
•    মক্কা 
•    জেদ্দা 
•    তায়েফ 
•    আল-বাহা 
•    খামিস মুশাইত 
•    জিজান 
•    নাজরান 

এছাড়াও তুওয়াল, দাহবান, খুলাইস, আল-লিথ, আল-কুনফুদাহ, তানুমা, বারিক, সাবিয়া, সারাত আবিদাহসহ আরও অনেক শহর ও জনপদ এই পূর্ণ গ্রহণের আওতায় থাকবে।

অন্যদিকে রাজধানী রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে পূর্ণ গ্রহণ দেখা যাবে না। সেখানে সূর্যের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদ ঢেকে দেবে।

কখন শুরু হবে গ্রহণ?
পুরো গ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে তিন ঘণ্টারও বেশি সময়।
•    প্রথম আংশিক গ্রহণ শুরু: বেলা ১১:৪১ টা (সৌদি সময়) 
•    পূর্ণ গ্রহণ: দুপুর ১:২১ টা থেকে ১:৪৪ টা 
•    গ্রহণ শেষ: বিকাল প্রায় ৩টা 

প্রধান শহরগুলোর সময়সূচি
জেদ্দা
•    আংশিক গ্রহণ: দুপুর ১২:০০টা 
•    পূর্ণ গ্রহণ: ১:২৫ টা
•    শেষ: ২:৪৩ টা

মক্কা
•    আংশিক গ্রহণ: ১২:০১ টা 
•    পূর্ণ গ্রহণ: ১:২৬ টা 
•    শেষ: ২:৪৪ টা

তায়েফ
•    আংশিক গ্রহণ: ১২:০৩ টা
•    পূর্ণ গ্রহণ: ১:২৮ টা
•    শেষ: ২:৪৫ টা

খামিস মুশাইত
•    আংশিক গ্রহণ: ১২:১৩ টা
•    পূর্ণ গ্রহণ: ১:৩৭ টা
•    শেষ: ২:৫৪ টা

কেমন হবে সেই মুহূর্ত?
পূর্ণ গ্রহণ শুরুর ঠিক আগে দিনের আলো রূপালি আভা ধারণ করবে। ছায়া আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠবে। তারপর হঠাৎ করেই নেমে আসবে অন্ধকার।

দিগন্তে দেখা দেবে গোধূলির মতো পরিবেশ, বাতাস কিছুটা শীতল হবে এবং দিনের আকাশেই ফুটে উঠবে উজ্জ্বল তারা ও গ্রহ।

ঠিক মাঝখানে থাকবে একটি কালো বৃত্তের মতো সূর্য, যার চারপাশে ছড়িয়ে থাকবে সাদা আলোর মুকুট- সূর্যের করোনা। সাধারণ সময়ে সূর্যের তীব্র আলোয় এই করোনা দেখা যায় না; কেবল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময়ই এটি দৃশ্যমান হয়।

কোথায় সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, যারা পূর্ণ অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের পাথ অব টোটালিটির কেন্দ্ররেখার যতটা সম্ভব কাছাকাছি অবস্থান করা উচিত।

সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানগুলো হলো-
•    জেদ্দা ও লোহিত সাগরের উপকূল- অধিকাংশ পর্যটকের জন্য এটি সবচেয়ে সহজ বিকল্প। এখানে একটি বড় বিমানবন্দর, প্রচুর হোটেল এবং প্রায় পাঁচ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের অন্ধকার থাকবে। উন্মুক্ত সৈকতগুলো থেকে আকাশের বিস্তৃত ও নির্মল দৃশ্য দেখা যাবে।
•    আভা ও খামিস মুশাইতের পার্বত্য এলাকা- রাজ্যের দীর্ঘতম অন্ধকার, প্রায় ছয় মিনিট, থাকবে এখানে। উচ্চতার কারণে সাধারণত বাতাস সেখানকার পরিষ্কার থাকে। তারপরও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেননা, আগস্ট মাসে বিকালে পাহাড়ের উপর মেঘ জমতে পারে।
•    তায়েফ ও আল-বাহা- পাহাড়ি এই অঞ্চলের আবহাওয়া শীতল। সেখানকার পথের ভেতরে আরামদায়ক পরিবেশ বজায় থাকে। যারা গ্রীষ্মের তীব্র গরম থেকে বাঁচতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প।
•    মরুভূমির খোলা এলাকা- এটি ফটোগ্রাফারদের জন্য আদর্শ স্থান। সেখানে দিগন্তজুড়ে চাঁদের ছায়া অগ্রসর হওয়ার দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাবে। 
এ উপলক্ষে জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটিসহ বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান সংগঠন বিশেষ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কী দেখা যাবে?
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। দুবাইসহ পুরো দেশেই দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ।

দুবাইয়ে স্থানীয় সময় দুপুর ১:৩৩ টা থেকে ৩:৪৮ টা পর্যন্ত সূর্যের প্রায় ৫৩ শতাংশ চাঁদ ঢেকে ফেলবে। দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে এই হার ৬১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

তবে সেখানে দিনের অন্ধকার, সূর্যের করোনা কিংবা দিনের আকাশে তারা দেখার সুযোগ থাকবে না।

নিরাপদে সূর্যগ্রহণ দেখার নির্দেশনা
সৌদি স্পেস এজেন্সি সতর্ক করে বলেছে, বিশেষ সুরক্ষাচশমা ছাড়া কখনওই সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

নিরাপদ পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দেশনাগুলো হলো-
•    আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সোলার ইক্লিপস গ্লাস ব্যবহার করতে হবে। 
•    সাধারণ সানগ্লাস কখনওই যথেষ্ট সুরক্ষা দেয় না। 
•    ক্ষতিগ্রস্ত বা আঁচড়যুক্ত গ্রহণের চশমা ব্যবহার করা যাবে না। 
•    সোলার ফিল্টার ছাড়া দূরবীন, টেলিস্কোপ বা ক্যামেরা দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানো বিপজ্জনক। 
•    সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যাওয়ার কয়েক মিনিট ছাড়া বাকি সব সময় সুরক্ষাচশমা পরে থাকতে হবে। সূর্যের আলো ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আবার চশমা ব্যবহার করতে হবে।

বিরল মহাজাগতিক প্রদর্শনীর অপেক্ষায় বিশ্ব
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৭ সালের ২ আগস্ট সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম সেরা স্থান হয়ে উঠবে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করার জন্য। গবেষক, আলোকচিত্রী এবং আকাশপ্রেমীদের জন্য এটি হবে এক অসাধারণ সুযোগ, কারণ এত দীর্ঘ সময়ের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এক জায়গা থেকে দেখা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। ৭৫ বছরের অপেক্ষার পর সৌদি আরবের আকাশে এই মহাজাগতিক প্রদর্শনী নিঃসন্দেহে ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। 

সূত্র: গালফ নিউজ

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক জোটে বাংলাদেশ, সামনে সুযোগ-ঝুঁকির হিসাব

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক জোটে বাংলাদেশ, সামনে সুযোগ-ঝুঁকির হিসাব

 

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই জোটে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের নাম উঠে এসেছে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাব আল-মান্দেব কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়।

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং লোহিত সাগরে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় বিকল্প সামুদ্রিক রুটের নিরাপত্তা এখন বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ও পণ্যের পরিবহন ব্যাহত হতে পারে।

এর প্রভাব আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

বাংলাদেশের অংশগ্রহণের গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় শ্রমবাজারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ ছাড়া বহুজাতিক সামুদ্রিক সহযোগিতায় অংশ নিলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আধুনিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রেও এই ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

রয়েছে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও

তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন কোনো সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকির কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে অবস্থান ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশকে এমনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে একদিকে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় থাকে, অন্যদিকে কোনো সংঘাতের অংশ হিসেবেও যেন বিবেচিত না হয়।

ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিই মূল বিষয়

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত অবস্থান হলো ভারসাম্য বজায় রাখা। তাই সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় অংশ নিলেও দেশের স্বার্থ, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। সঠিক কৌশল ও কূটনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই পরিস্থিতিতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।

নেপালের মধেশে সহিংসতা: নিহত বেড়ে ৩, চার জেলায় কারফিউ

নেপালের মধেশে সহিংসতা: নিহত বেড়ে ৩, চার জেলায় কারফিউ

 

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের মধেশ প্রদেশে কয়েক দিন ধরে চলা সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে তিনজনে পৌঁছেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চারটি জেলায় কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ফোর্স (এপিএফ) ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুনসারি, সপ্তরী, সিরাহা ও ধনুষা জেলায় কারফিউ কার্যকর রয়েছে। এছাড়া পারসা জেলায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উত্তেজনাপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভারত সীমান্তঘেঁষা সুনসারি জেলার একটি গ্রামে একটি শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আশপাশের কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানান, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালানোর সময় দুজন নিহত হন। এছাড়া কারফিউ চলাকালেও বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলার একটি বিক্ষোভে আরও একজন প্রাণ হারান। তবে তিনজনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সুনসারি জেলার ২৪ বছর বয়সী ওম প্রকাশ মেহতা, যিনি সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একই ঘটনায় আহত ২০ বছর বয়সী জয় প্রকাশ মেহতারও পরে মৃত্যু হয়। এছাড়া সিরাহা জেলার গোলবাজার এলাকায় সংঘর্ষের সময় ১৭ বছর বয়সী গণেশ যাদব নিহত হন।

এ ঘটনায় আহত ১৯ বছর বয়সী সুভাষ ঠাকুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক রাজধানী জনকপুরের জনকপুরধাম উপমহানগর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ধনুষা জেলা প্রশাসন নিরাপত্তা বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার ও অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে সিরাহার গোলবাজার এলাকায় কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কয়েকটি দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

সিরাহার মুখ্য জেলা কর্মকর্তা সুরেন্দ্র পৌডেল জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উত্তেজনা কমাতে রাজনৈতিক দল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে নেপাল পুলিশ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টাও চলছে।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, শুরুতেই প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না।

এদিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সূত্র: আল জাজিরা, কাঠমান্ডু পোস্ট ও ফার্স্ট পোস্ট

স্পেনে অভিবাসী প্রবেশ ৬০ হাজার ছাড়াল, প্রাণ গেল ৪১ জনের

স্পেনে অভিবাসী প্রবেশ ৬০ হাজার ছাড়াল, প্রাণ গেল ৪১ জনের

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৬০ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর প্রবেশে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। সমুদ্র সাঁতরে ও স্থলপথে মরক্কো থেকে আসা এসব মানুষের ঢলে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সীমান্ত পরিস্থিতি। এ সময় সমুদ্রপথে পারাপারের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘটনাটিকে দেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে মানব পাচারকারী চক্রকে এর জন্য দায়ী করেছেন। তার ভাষ্য, ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে হাজারো মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত অতিক্রমে উৎসাহিত করা হয়েছে।

সেউতার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, একদিনে প্রবেশ করা অভিবাসীর সংখ্যা শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান। ফলে আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম চাপে পড়েছে।

ঘটনার পর মরক্কো ও স্পেন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সীমান্ত এলাকায় অভিবাসীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ইতালি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্পেনের সঙ্গে শেনগেন ব্যবস্থায় সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে এবং ফ্রান্সও সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের একটি সাম্প্রতিক আদালতের রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে মানব পাচারকারী চক্র অভিবাসীদের মধ্যে এই ধারণা ছড়ায় যে সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছালে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। তবে এ দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্পেনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত অতিক্রমকারীদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছে। তবুও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং সীমান্তে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। 

ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: মোদি সরকার

ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: মোদি সরকার

 

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবিক কারণে শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হলেও ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না।

কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে ঘিরে কূটনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান বৈঠকে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের পাঠানো অনুরোধ দেশটির আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সুপারিশ

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক কূটনৈতিক ও জনসম্পর্ক আরও জোরদারের সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিসা প্রক্রিয়া সীমিত থাকায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটক ভিসা স্থগিত হওয়ার পর ২০২৬ সালের ২৮ জুন বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় পর্যটক ভিসা চালু করে ভারত।

গঙ্গা চুক্তি নবায়নের সুপারিশ

প্রতিবেদনে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরু করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, হালনাগাদ নদীর প্রবাহের তথ্য এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর মতামত বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে অব্যাহতভাবে গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।

ইরানের তেল খাতে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ‘চরম মূল্য’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের তেল খাতে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ‘চরম মূল্য’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

 

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করতে দেশটির তেল বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ এ পদক্ষেপে ইরানের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত আটটি ট্যাংকার এবং ১০টি প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন অর্থ বিভাগ জানায়, তেহরানের অস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন ব্যাহত করার পাশাপাশি ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর কার্যক্রম সীমিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই জর্ডানে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। এর জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তেহরানকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র “প্রচণ্ড হামলা” চালাবে।

অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, জর্ডানের দিকে ছোড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই আকাশে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

ট্রাম্প এ ঘটনাকে “আকস্মিক হামলা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর মার্কিন সেনাদের প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য মাত্র কয়েক মিনিট সময় ছিল।

মিয়ানমার ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমার ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী


 বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে মিয়ানমার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ তথ্য জানিয়েছেন।

বুধবার মালয়েশিয়ার চেন্নাহ এলাকায় স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে মিয়ানমারের সঙ্গে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে তারা এখন মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয় ধৈর্য ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, অতীতেও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি উঠেছিল। তবে মিয়ানমার তাদের গ্রহণে সম্মত না হওয়ায় প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, এ কারণেই দেশটিতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নির্ধারিত স্থানে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ার আইন মেনে চলা এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান।

আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, তিনি ইতোমধ্যে দেশটির পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো রোহিঙ্গা শরণার্থী যদি জনসমাগমস্থল বা সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।

তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে কী সময়সীমার মধ্যে এবং কী প্রক্রিয়ায় ফেরত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

তথ্যসূত্র: দ্য স্টার।

ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ফ্রান্স-স্পেন, নিরাপদ আশ্রয়ে তিন লাখের বেশি মানুষ

ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ফ্রান্স-স্পেন, নিরাপদ আশ্রয়ে তিন লাখের বেশি মানুষ


 ইউরোপের দুই দেশ ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। আগুনের তীব্রতায় ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন তিন লাখেরও বেশি মানুষ। চলমান তাপপ্রবাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি পৌঁছেছে। চরম গরম, শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাস দাবানল দ্রুত বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গিরোন্দে অঞ্চলে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। বিখ্যাত ওয়াইন উৎপাদন এলাকা বোর্দোর আশপাশে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৪২০ বর্গকিলোমিটার বনভূমি ও বিস্তীর্ণ এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। দাবানল বর্তমানে বোর্দো শহরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক স্থাপনাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশের এলাকাতেও ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, প্রায় ৭৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অঞ্চলটির ইতিহাসে অন্যতম বড় দাবানল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দাবানলের তাপ এতটাই তীব্র যে এর ফলে বায়ুমণ্ডলে বিশেষ ধরনের কিউমুলোনিম্বাস মেঘ তৈরি হচ্ছে। এসব মেঘ থেকে সৃষ্ট বজ্রপাত আবার নতুন নতুন স্থানে আগুনের সূত্রপাত ঘটাচ্ছে, ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্স ও স্পেনের দমকল বাহিনী, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। ফ্রান্সে বিশেষ অগ্নিনির্বাপক বিমান ব্যবহার করে আকাশপথ থেকে পানি ও অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিক ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি আগুনের বিস্তার ঠেকাতে বুলডোজার ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে বনাঞ্চলে ফায়ারব্রেক বা প্রতিরোধক পথ তৈরি করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এত বড় পরিসরের দাবানল মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে, যা দাবানল নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি।