The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
ভারতের সংসদ ভবন ঘিরে ছাত্রদের বিক্ষোভ, নিরাপত্তা জোরদার

ভারতের সংসদ ভবন ঘিরে ছাত্রদের বিক্ষোভ, নিরাপত্তা জোরদার

 

ভারতের সংসদ ভবন ঘিরে বিক্ষোভে নেমেছেন একদল শিক্ষার্থী। তাদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লির সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে সংসদ ভবনের আশপাশে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিক্ষোভের কারণে সংসদ ভবনসংলগ্ন কয়েকটি সড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু এলাকায় প্রবেশে বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘর্ষ বা হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

‘ককরোচ’ পার্টির কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ভারতের একটি অঞ্চলে

‘ককরোচ’ পার্টির কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ভারতের একটি অঞ্চলে


 ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরের কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সোমবার দলটি দাবি করে, বিক্ষোভের তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দলের দাবি, যন্তর মন্তরের কাছে হাজারো সমর্থক জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মাঠপর্যায়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এক পোস্টে সিজেপি লিখেছে, আপনারা যদি ভাবেন কেন আমরা ঘটনাস্থল থেকে আরো বেশি আপডেট দিতে পারছি না, তার কারণ হলো কাপুরুষ কর্তৃপক্ষ শহরের কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে।

আরেক পোস্টে দলটি জানায়, দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকার অসংখ্য অভিযোগ তারা পাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলে, এই কঠিন সময়ে আমরা সবাইকে তথ্য জানাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। অনুগ্রহ করে সব সময় শান্ত থাকুন।

আরও এক বার্তায় সিজেপি মন্তব্য করে, আপনারা ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারেন, কিন্তু বিক্ষোভকারীদের চোখ ও কান কীভাবে বন্ধ করবেন? তারা যা দেখছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেবে।

এদিকে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

এর আগে দিল্লি পুলিশ জানায়, প্রস্তাবিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং নিউ দিল্লি জেলায় জারি করা নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশ বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক ফেসবুকের ডেস্কটপ সেবা, স্বস্তি ব্যবহারকারীদের

প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক ফেসবুকের ডেস্কটপ সেবা, স্বস্তি ব্যবহারকারীদের

 

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা প্রযুক্তিগত সমস্যার পর আবারও স্বাভাবিক হয়েছে মেটার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ডেস্কটপ (ওয়েব) সংস্করণ। রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার পর থেকে ব্যবহারকারীরা আগের মতো ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে ফেসবুকে প্রবেশ ও ব্যবহার করতে সক্ষম হন।

এর আগে দুপুর দেড়টার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অনেক ব্যবহারকারী ফেসবুকের ওয়েব সংস্করণ ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন। কেউ লগইন করতে পারছিলেন না, আবার কারও ক্ষেত্রে নিউজফিড লোড হচ্ছিল না বা পেজ রিফ্রেশে বিলম্ব হচ্ছিল।

বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ডাউন ডিটেক্টর-এর তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের পর থেকেই ফেসবুকের বিভিন্ন সেবা নিয়ে অভিযোগ দ্রুত বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী একই ধরনের সমস্যার কথা জানান।

ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, মোবাইল অ্যাপে তুলনামূলকভাবে সেবা স্বাভাবিক থাকলেও ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের ওয়েব সংস্করণে সবচেয়ে বেশি বিঘ্ন দেখা যায়। ফলে অনেকেই বার্তা আদান-প্রদান, নিউজফিড দেখা এবং অন্যান্য ওয়েবভিত্তিক ফিচার ব্যবহার করতে পারেননি।

পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে সেবাগুলো স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বর্তমানে অধিকাংশ ব্যবহারকারী কোনো সমস্যা ছাড়াই ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহার করতে পারছেন।

তবে এই প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি মেটা।

সূত্র: ডাউন ডিটেক্টর

হঠাৎ কী হলো ফেসবুকের? একসঙ্গে সমস্যায় পড়লেন লাখো ব্যবহারকারী

হঠাৎ কী হলো ফেসবুকের? একসঙ্গে সমস্যায় পড়লেন লাখো ব্যবহারকারী

 

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হঠাৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। রবিবার দুপুর থেকে প্ল্যাটফর্মটিতে প্রবেশ করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন বহু ব্যবহারকারী।

ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, তারা ফেসবুকে লগইন করতে পারছেন না। অনেকের ক্ষেত্রে অ্যাপ ও ওয়েবসাইট স্বাভাবিকভাবে লোড হচ্ছে না। আবার কারও নিউজফিড আপডেট হচ্ছে না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন সেবা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউন ডিটেক্টরেও ফেসবুকের এই সমস্যার প্রতিফলন দেখা গেছে। ওয়েবসাইটটির তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর দেড়টার পর থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করতে না পারার অভিযোগ আসতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযোগের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

তবে এই বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে মেটার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: ডাউন ডিটেক্টর

রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম ও সততার সাথে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম ও সততার সাথে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

 তিনি বলেন, সিভিল সার্ভিস রাষ্ট্রের প্রধান চালিকাশক্তি। বিগত ১৭ বছরের প্রশাসনিক রাজনীতিকরণের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জনপ্রশাসনকে জনগণের প্রকৃত সেবকে রূপান্তরিত করতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জনগণের সুউচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে এবং তা পূরণে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে 'জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬' উপলক্ষ্যে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি আয়োজিত “দক্ষ, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন: সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কর্মকৌশল” শীর্ষক চার দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুখ্য আলোচক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

 মন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক কর্মশালা বা উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, যদি না তা জনগণের প্রকৃত কল্যাণে আসে। সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনারা এ সমাজের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত একটি অংশ। তাই নিজেদের শাসক মনে না করে জনগণের সেবক হিসেবে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।"

 দেশে সঠিক নীতি প্রণয়নের স্বার্থে পরিসংখ্যান ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত রেজিমের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের সব পরিসংখ্যান ধ্বংস করা হয়েছে। আদমশুমারি, কৃষি উৎপাদন কিংবা পার ক্যাপিটা ইনকাম (মাথাপিছু আয়)—সবখানেই ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সঠিক নীতি প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (BBS) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় রূপান্তরিত করা দরকার।

 দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে কৃষি ও রেমিট্যান্স খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনও কৃষি ও কৃষকদের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। তাই আমাদের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর ভিত্তি করে 'এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি' বা কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং বা কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সাথে দেশের ক্রমবর্ধমান জন্মহার নিয়ন্ত্রণে ফ্যামিলি প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টকে পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়টিও সরকারের ভাবনায় রয়েছে।

 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নীতি বা পলিসি মূলত সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এবং রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের আলোকে প্রণীত হয়। ব্যুরোক্রেসির কাজ হলো সেই নীতির আলোকে কর্মসূচি (Programming) নির্ধারণ, প্রকল্প প্রণয়ন ও আইএমইডি (IMED)-র তদারকির মাধ্যমে প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "নিয়মের বাইরে কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না। নির্বাচিত সরকারের যে নির্বাচনী ইশতেহার এবং ৩১ দফা অঙ্গীকার রয়েছে, যার ওপর জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা বিধি মোতাবেক বাস্তবায়ন করাই আপনাদের মূল দায়িত্ব।"

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে


 রাজধানী ও চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সব জেলায় চাঁদাবাজি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানদাররাও চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। যতই দিন যাচ্ছে, চাঁদাবাজি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছে। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামে একটি বড় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সন্ত্রাসীরা এর মালিকপক্ষকে দুই কোটি টাকা চাঁদা এবং মাসে দশ লাখ টাকা দেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে এসেছে। তা নাহলে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের এ ধরনের দৌরাত্ম্য কমবেশি সারাদেশেই চলছে। গতকাল ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে রাজধানীর চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাজধানীর ৪৫টি থানা এলাকায় প্রায় ১২০০ চাঁদাবাজ সক্রিয় রয়েছে। ক্ষিলখেত, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, হাতিরঝিল, বাড্ডা, উত্তরা, ভাটারা, খিলগাঁও, পল্লবী, আদাবর এলকায় চাঁদাবাজরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। অন্যান্য এলাকায়ও কমবেশি চাঁদাবাজি চলছে। চাঁদাবাজির এ চিত্র শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশের সর্বত্রই বিরাজমান।

দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি নতুন কিছু নয়। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে। যথাযথ পদক্ষেপ না থাকায় তা দমন করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। তাতে কাজ হয়নি। চাঁদাবাজদের সাথে রাজনৈতিক দলের একশ্রেণীর প্রভাবশালী নেতা ও আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যর সংশ্রব ও প্রশ্রয় থাকার কারণে চাঁদাবাজি নির্মূল করা যাচ্ছে না। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিগত দেড় দশকের শাসনামলে চাঁদাবাজি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল। প্রকাশ্যেই তা চলেছে। ফুটপাতের দোকান, মার্কেট, বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন, আবাসনখাতসহ বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়মিত ছিল। এর সাথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সরাসরি জড়িত ছিল। তাদের চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীদের নাভিশ^াস উঠেছিল। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের অন্যতম কারণ ছিল, চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে অতীষ্ঠ মানুষের ক্ষোভ। হাসিনার পতনের পর আশা করা হয়েছিল, চাঁদাবাজি, দখলবাজির অবসান ঘটবে। দেখা যাচ্ছে, তা ঘটেনি। আগের চাঁদাবাজদের জায়গায় নতুন চাঁদাবাজরা স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, কিংবা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চাঁদাবাজি বহাল রেখেছে। দেশে যে কথাটি বহুল প্রচলিত তা হচ্ছে, একদল ক্ষমতা থেকে গেলে, আরেকদল ক্ষমতায় এলে শুধু চাঁদাবাজদের পরিবর্তন ঘটে। চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। এটা পালাবদলের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে এখন ক্ষমতায়। দেখা যাচ্ছে, চাঁদাবাজির অপসংস্কৃতির পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই চাঁদাবাজরা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, হাসিনার শাসনামলে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী সীমাহীন নিপীড়ন-নির্যাতন, খুন-গুম, হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। অনেকের বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য আওয়ামী পান্ডারা দখল করে নিয়েছিল। তারা যে কিছু করে জীবনযাপন করবে, এ সুযোগও ছিল না। হাসিনার পতনের পর তাদের কেউ কেউ চাঁদাবাজি-দখলবাজির মতো অপকর্মে জড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে চাঁদাবাজির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিএনপি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল। চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ছয়-সাত হাজার নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কারসহ অনেকের বিরুদ্ধে দল থেকে মামলা করা হয়। তাতে চাঁদাবাজি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দল ক্ষমতায় আসার পর তা আবার বেড়ে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সিদ্ধান্ত থাকা অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও কঠোর অবস্থান থাকা দরকার। চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই, তারা শুধুই চাঁদাবাজÑএ মনোভাব থাকা জরুরি। চাঁদাবাজির সাথে যেই জড়িত থাকুক, যতই প্রভাবশালী হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বিএনপিকে এ কথাও মাথায় রাখতে হবে, যেসব নেতাকর্মী বিগত দেড়যুগ ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে অবর্ণনীয় নিপীড়ন-নির্যাতন ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে, সর্বস্ব হারিয়েছে, তাদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনে দলকে কিছু করতে হবে। দল কি তা করেছে? সহজ পথ হিসাবে, দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি এবং দখলবাজির সুযোগ দেয়া দলের পক্ষে মোটেই সমীচীন হতে পারে না।

চাঁদাবাজ-দখলবাজকে অপরাধী হিসেবে দেখতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের কেউ জড়িত থাকলে পার পেয়ে যাবে, এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বলা বাহুল্য, ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতাকর্মীর অপরাধ মানুষের কাছে অনেক বড় হয়ে দেখা দেয়। এর দায় ক্ষমতাসীন দলের উপরই বর্তায়। বর্তমানে যেভাবে চাঁদাবাজি চলছে, তার দায়ও ক্ষমতাসীন বিএনপির উপর বর্তাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জমা হচ্ছে। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, চাঁদাবাজরা তাকে ক্ষমতায় আনেনি, এনেছে সাধারণ মানুষ। এখন তারাই যদি চাঁদাবাজদের জুলুমের শিকার হয়, তাহলে তারা কোথায় যাবে? এমনিতেই দেশের অর্থনীতি নাজুক, ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম মন্দাবস্থার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে যদি চাঁদাবাজি চলতে থাকে, তাহলে মানুষের ক্ষোভ ক্ষমতাসীন বিএনপির উপরই পড়বে। চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির যে বদনাম হচ্ছে, তার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে যে পড়বে, তাতে সন্দেহ নেই। এসব নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী থাকবে। ভোটাররা তখন চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির প্রার্থীর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। অন্যদিকে, বিরোধীদলগুলো এই চাঁদাবাজিকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরবে। এতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। হাসিনার পতনের পর মানুষ যে পরিবর্তন আশা করেছিল, তা যদি ক্ষমতাসীন দলের সংশ্রবে বা প্রশ্রয়ে মুখথুবড়ে পড়ে, সেই পুরনো অপসংস্কৃতি বহাল থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের হতাশ ও ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক। ক্ষমতাসীন বিএনপিকে এ বিষয়টি সিরিয়াসলি বিবেচনায় নিতে হবে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।

হরমুজের পর এবার কি লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বন্ধ করতে পারে ইরান

হরমুজের পর এবার কি লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বন্ধ করতে পারে ইরান

 

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার পর এবার ইরান আরও বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনে মিত্রগোষ্ঠী হুতিদের দিয়ে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব–এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করাতে পারে তেহরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহনের পথই ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জোরদার হয়েছে। সমান্তরালে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলাও বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান এখন সংঘাতের আওতা বাড়িয়ে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। উপসাগরীয় এলাকার বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহকে ব্যাহত করতে চাইছে তারা।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে ইরান এরই মধ্যে তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তির প্রভাব দেখিয়েছে। এখন দেশটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা বাব–এল-মান্দেব প্রণালিকেও নতুন চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়েই হয়।

ইরানের প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বাব–এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত আছে। তার দাবি, এমনটি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

ইরানের প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, গত সোমবার হুতিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একটি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে যায়, তবে তাঁরা বাব–এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত আছেন। তাঁর দাবি, এমনটি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম বেড়ে ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

হুতি প্রতিরোধ আন্দোলন আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ইয়েমেনে হামলা চালাতে উসকানি দিচ্ছে। তবে এ ধরনের উসকানি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ হাসিল করবে না।

মোহাম্মদ আল-ফারাহ সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে হরমুজ ও বাব–এল-মান্দেব—দুই প্রণালিই একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

শ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি যদি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার হয়, তবে বড় চাপ তৈরির জন্য বাব–এল-মান্দেবই তাদের হাতে থাকা শেষ উপায়।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফাওয়াজ গেরগেস রয়টার্সকে বলেন, ইরান প্রয়োজনে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত।

ফাওয়াজ গেরগেসের মতে, তেহরান ওয়াশিংটনকে দেখাতে চাইছে যে তারা একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব–এল-মান্দেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এতে সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান সমুদ্রপথগুলোও হুমকির মুখে পড়বে।

ফাওয়াজ আরও বলেন, তেহরান এখন কাছের ও দূরের—উভয় ক্ষেত্রেই সংঘাতের মাত্রা বাড়াচ্ছে। তাদের বার্তা স্পষ্ট—শুধু হরমুজ নয়, বাব–এল-মান্দেবও এখন ঝুঁকির মুখে।

ধীরে ধীরে সংঘাতের বিস্তার

বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার চেয়ে বড় উদ্বেগ হলো ‘মিশন ক্রিপ’। এটি হলো এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে দুই পক্ষই সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও ধীরে ধীরে সংঘাতের মাত্রা বাড়াতে থাকে।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এতে বিশ্বে তেল সরবরাহের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রণালি যুদ্ধের প্রধান সংঘাতস্থলে পরিণত হওয়ার আগেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের ওপর আলোচনায় ফেরার চাপ বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শান্তি আলোচক ডেনিস রস ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে বলেন, মূল প্রশ্ন হলো—কীভাবে ইরানের অবস্থান এমনভাবে বদলানো যায়, যেন তারা আবার আলোচনায় বসতে রাজি হয়। শুধু আলোচনার জন্য নয়, বরং উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সত্যিকারের আগ্রহ দেখায়।

বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের হামলা

হুতিরা আগেই প্রমাণ করেছে যে বাব–এল-মান্দেব প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করার সক্ষমতা তাদের আছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলা চালায়। তাদের দাবি ছিল, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো তারা নিশানা করছে।

এ হামলার কারণে বিশ্বের বড় বড় জাহাজ পরিবহন কোম্পানিগুলোকে জাহাজের পথ পরিবর্তন করে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে চলাচল করতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বিমান হামলা চালায় এবং বহুজাতিক নৌ অভিযানও শুরু হয়।

লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রিয়াস ক্রিগ বলেন, হরমুজ প্রণালির পর যুক্তরাষ্ট্রকে হুতিদের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ হুমকিটি ইরানের জন্য আরেকটি ‘চূড়ান্ত চাপের অস্ত্র’। তাঁর মতে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) তখনই এই কৌশল ব্যবহার করবে, যখন তারা মনে করবে—পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরে যাওয়া আর এড়ানো সম্ভব নয়।

সৌদি আরবভিত্তিক গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুলআজিজ সাগের বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করছে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। যদিও তারা জানে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পুরো অঞ্চলকেই এর জন্য বড় মূল্য চোকাতে হবে।

সাগের আরও বলেন, ‘ইরান বিজয়ী হোক বা পরাজিত—এই অঞ্চলে দুই পরিস্থিতিরই প্রভাব পড়বে। তবে উপসাগরীয় অনেক দেশ মনে করতে পারে, ইরানের পরাজয়ের মূল্য যদি শেষ পর্যন্ত আরও স্থিতিশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে সেই মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য।’

সাগের মনে করেন, এখনো বাব–এল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা হুতিদের আছে। তবে তেহরানের স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া তাদের বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করার সম্ভাবনা কম। তাঁর ধারণা, হুতিরা নৌপরিবহনকে হুমকির মুখে ফেলার চেষ্টা করলে তাদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আরও বড় সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এই যুদ্ধ শুরু করে। এর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সংঘাত। এর মধ্যে ইরান বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক।

ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী আজ বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। 

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।’ 

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনি ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।’

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।’ 

তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার (Judicial Process) মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক।’

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।’

সালাহউদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে। 

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।’

জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের।’ 

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী ‘৭১ ও ‘২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘনাচ্ছে সর্বনাশ, মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘনাচ্ছে সর্বনাশ, মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ


 স্ক্রিনে একটা আলতো টোকা, আর তাতেই ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে আস্ত একটা জীবন! বিজ্ঞানের যে আশীর্বাদ মানুষের হাতের মুঠোয় থাকার কথা ছিল, তা আজ রূপ নিয়েছে এক অদম্য দানবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একসময় ছিল শুধুই যোগাযোগের সেতু, আজ তা হয়ে উঠেছে গুজব, অপপ্রচার আর চরিত্রহননের এক ভয়াবহ মরণফাঁদ। প্রতিদিন কোটি কোটি চোখ আটকে থাকছে ফেসবুক আর ইউটিউবের দুনিয়ায়, অথচ এই বিপুল শক্তির পেছনে লুকিয়ে থাকা অন্ধকারকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো লাগাম নেই আমাদের হাতে।

সাধারণ সংবাদমাধ্যমের জন্য আইন আছে, জবাবদিহিতা আছে, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এই উত্তাল জোয়ারে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা নেই। বিশেষ করে ফেসবুকের 'রিলস' নামক এক নতুন ফাঁদ এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য। কে, কখন, পৃথিবীর কোন প্রান্ত থেকে একটা বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর ভিডিও আপলোড করে দিল, তার হদিস মেলা ভার। মুহূর্তের মধ্যে সেই বিষাক্ত কনটেন্ট পৌঁছে যাচ্ছে লাখো মানুষের স্ক্রিনে, ধ্বংস করে দিচ্ছে সমাজ ও ব্যক্তির সম্মান, অথচ এই অপরাধের উৎস খুঁজে বের করা যেন এক দুর্ভেদ্য ধাঁধা।

আমাদের দেশে ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যমগুলোকে প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস অ্যাক্ট মেনে চলতে হয়, সেখানে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা গুগলের মতো বিশ্ব কাঁপানো প্রযুক্তি জায়ান্টদের এ দেশে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্বই নেই। কোনো নিয়মের বেড়াজালে তাদের বাঁধা যাচ্ছে না, কারণ এ দেশে তাদের কোনো ঘরবাড়ি নেই, নেই কোনো অফিস। ফলে, তারা যেন সমস্ত আইনের ঊর্ধ্বে থেকে এক সমান্তরাল সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

সংখ্যাটা শুনলে যে কেউ চমকে উঠবেন, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ১০ কোটি ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ ফেসবুকের পেছনে নিজেদের সময় আর শ্রম ঢালছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব নিয়ে যাচ্ছে সিলিকন ভ্যালির শাসকেরা। বাংলাদেশ তাদের জন্য এক বিশাল সোনার খনি, অথচ এই খনি থেকে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিলেও এ দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি প্রতিনিধি অফিস খোলার ন্যূনতম প্রয়োজন মনে করেনি তারা।

যখনই কোনো আপত্তিকর ছবি, উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কোনো নোংরা ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আমাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি কেবল এক অসহায় দর্শকের ভূমিকা পালন করে। তাদের করতে হয় স্রেফ মেইল চালাচালি। প্রযুক্তি জায়ান্টদের কৃপা আর তাদের তথাকথিত ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’-এর ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে হয় দিনের পর দিন। ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে যায়; একটা মিথ্যা দাবানলের মতো পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় সাজানো সংসার কিংবা সামাজিক সম্প্রীতি।

অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশ কিন্তু এই ডিজিটাল ঔপনিবেশিকতার সামনে এভাবে হাঁটু গেড়ে বসে থাকেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মেটা ও গুগলকে শত কোটি ডলার জরিমানা করে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তাদের আইন ভাঙার পরিণতি কতটা ভয়ানক হতে পারে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতও তাদের নিজস্ব আইটি আইনের মাধ্যমে এই পরাশক্তিগুলোকে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করেছে, স্থাপন করিয়েছে স্থানীয় কার্যালয়। জার্মানি বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতেও আজ আর প্রযুক্তি জায়ান্টরা স্বেচ্ছাচারিতা চালানোর সাহস পায় না।

বাংলাদেশ সরকার অবশ্য এবার নড়েচড়ে বসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার মতো কঠোর বিধান সাইবার সুরক্ষা আইনে যুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, যে প্রতিষ্ঠানের কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যালয়ই এ দেশে নেই, তার ওপর আপনি আইনের চাবুক মারবেন কীভাবে? দেশের বাইরে বসে থাকা এক অদৃশ্য শক্তির ওপর এ দেশের অভ্যন্তরীণ আইন প্রয়োগ করা কি আদৌ সম্ভব, যদি না তাদের এখানে অফিস স্থাপন করতে বাধ্য করা যায়?

প্রযুক্তির স্বাধীনতা আমরা অবশ্যই চাই, কিন্তু সেই স্বাধীনতার নামে কোটি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার লাইসেন্স কাউকেই দেওয়া যায় না। আজ এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যেভাবে রাজনৈতিক অপপ্রচার, নারীদের ভুয়া ছবি ও অডিও ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে, তা সমাজকে এক গভীর নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অদৃশ্য যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের সাধারণ নাগরিকেরা আজ একেবারেই অরক্ষিত, যেখানে প্রতিদিন জন্ম নিচ্ছে নতুন নতুন সাইবার ট্র্যাজেডি।

সময় এসেছে এই অসহায়ত্বের দেয়াল ভেঙে ফেলার। ফেসবুক-ইউটিউবকে সাফ জানিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে যে, এ দেশে ব্যবসা করতে হলে এ দেশের মানুষকে সম্মান করতে হবে, মানতে হবে এখানকার আইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতা বজায় রেখেই তাদের জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। তা না হলে, প্রযুক্তির এই অভিশাপের আগুনে পুড়তে হবে আমাদের আগামী প্রজন্মকে, আর আমরা কেবল চেয়ে চেয়ে দেখব এক ডিজিটাল ধ্বংসলীলা।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হবে, আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হবে, আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

 


বৈরি আবহাওয়ায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলমান রাখার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানির কারণে পরীক্ষা দিতে সমস্যা হয়েছে, সেখানে পুনঃপরীক্ষার চিন্তা করবে সরকার।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা বিষয়টি আবারও পর্যালোচনা করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় পরীক্ষা দিতে না পারা নিয়ে জরিপটা আমাদের কাছে আসার পর আমরা প্রয়োজনে আবারও পরীক্ষা নিতে পারি। আমরা চট্টগ্রাম বোর্ডেও সেই ব্যবস্থা করেছি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করবো- যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যান। আমরা তাদের (শিক্ষার্থীদের) চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন কীভাবে পরীক্ষা সঠিকভাবে নেবো এবং এই দুর্যোগ মোকাবিলা করবো।

মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা সবাই উদ্বিগ্ন এই বর্ষার সিজনে পরীক্ষা নিয়ে। আমরা অবিরাম মনিটরিংয়ে ছিলাম, আছি, সারা দিনই আমরা এই কাজটি করে থাকি। সেখানে আমরা যদি দেখি কোনো কোনো কেন্দ্রে যদি পনি উঠে থাকে, আমরা তাৎক্ষণিক কেন্দ্র সরিয়ে দিই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্থানীয় প্রতিনিধিদের সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ যাবৎ একটি কলেজ, শুধু কুমিল্লা সরকারি কলেজের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ কলেজের মাঠ ডুবে গিয়েছিল। এ ছাড়া অন্যান্য যেসব জায়গায় পানি উঠেছে, সেটা তেমন বেশি নয়। তবুও সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের যেসব সুবিধা দেওয়ার কথা, সেটা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যপারে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করেছি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের শুধরিয়ে দেওয়া আমাদের জন্য বিরাট কাজ নয়। আমরা অনেক জায়গায় পরীক্ষা বন্ধ করেছি এবং আমাদের প্রশ্নপত্র রয়েছে, আমরা আবার তাদের পরীক্ষা নেব।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আমি আবারও আশ্বাস দিচ্ছি, যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে এমন ভুলত্রুটি হয়েছে সেখানে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আমাদের ভবিষ্যৎ, কোনোভাবেই আমরা তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারি না।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোন ৫০ বছরে অর্ধেকে নেমেছে

পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোন ৫০ বছরে অর্ধেকে নেমেছে


 বিশ্বজুড়ে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের গড় মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৫০ বছরে টেস্টোস্টেরনের গড় মাত্রা কমেছে অর্ধেকের বেশি। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, মানবসমাজ এখন পুরুষদের প্রজননক্ষমতার ব্যাপক সংকটের মুখে।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বার্ষিক সভায় বসেছিলেন ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজির সদস্যরা। সেখানেই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে দেখা গেছে, ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমেছে ৫৪ শতাংশ।

টেস্টোস্টেরন হরমোন পুরুষের বয়ঃসন্ধি, পেশি গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন ও যৌন আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন ও ডায়াবেটিস প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এর সঙ্গে পরিবেশগত কিছু বিষয়ের প্রভাব রয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যে থাকা এন্ডোক্রাইনের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিও টেস্টোস্টেরন হরমোন কমার বড় কারণ হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন ইসরায়েলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি-হাডাসা ব্রাউন স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক হাগাই লেভিন। তাঁর মতে, পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য বিষয়টি যতটা আশঙ্কার, ততটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

হাগাই লেভিন বলেন, ‘৫০ বছরে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৫০ শতাংশের বেশি কমে যেতে আমরা দেখেছি। এর অর্থ প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশের বেশি হারে টেস্টোস্টেরন কমেছে। এটি আকস্মিক ঘটনা নয়, কোনো পরিসংখ্যানগত ভুলও নয়।’পুরুষের প্রজননক্ষমতা আসলেই কমছে কি না এবং কমলেও কেন কমছে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। এ পটভূমিতে পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

একই গবেষক দল এর আগে পুরুষদের শুক্রাণু নিয়ে গবেষণা করেছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল, গত ৪০ বছরে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। সে তথ্যও বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিল।

তবে এসব দাবি বিজ্ঞানী মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ও রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চান্না জয়সেনা গার্ডিয়ানকে বলেন, পুরুষের টেস্টোস্টেরন নিয়ে সর্বশেষ এসব পর্যবেক্ষণকে ‘বাস্তবতার নিরিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা’ হিসেবেই দেখা উচিত।

চান্না জয়সেনা বলেন, ‘ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন সময়কাল ধরে এসব গবেষণা চালানো হয়েছে। এ বিষয়টিই আমাকে গবেষণায় পাওয়া ফলাফলের ব্যাপারে সত্যিই আশ্বস্ত করেছে। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রবণতা আরও বেড়েই চলেছে।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

শিয়ালের মাংস খাওয়ার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?

শিয়ালের মাংস খাওয়ার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?


 সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রচারিত সংবাদ অনুযায়ী, বরিশালের একটি এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি সাতটি শিয়াল ধরে জবাই করে রুটির সঙ্গে খেয়েছেন। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে- শিয়ালের গোশত খাওয়া কি ইসলামে বৈধ? 

কেউ বলছেন, এটি সম্পূর্ণ হারাম। আবার কেউ দাবি করছেন, বিশেষ কিছু রোগের চিকিৎসায় শিয়ালের গোশত বা চর্বি ব্যবহার করা যায়। নানা ধরনের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ ধরনের বিষয়ে আবেগ, প্রচলিত ধারণা বা লোকবিশ্বাসের পরিবর্তে কোরআন, সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য ফিকহের আলোকে বিষয়টি জানা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র আছে, তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৮)। অন্য আয়াতে তিনি বলেন, ‘তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন।’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৫৭)। অর্থাৎ, কোনো প্রাণী হালাল না হারাম—তা মানুষের রুচি, সংস্কৃতি বা প্রচলিত বিশ্বাস দ্বারা নির্ধারিত হয় না; বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত।

সহিহ হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক নখরবিশিষ্ট হিংস্র জন্তুর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৩৩)। শিয়াল একটি হিংস্র ও শিকারি প্রাণী। এটি ধারালো দাঁত ও নখরের সাহায্যে শিকার ধরে এবং মাংস ভক্ষণ করে। এই কারণে অধিকাংশ ফকিহ শিয়ালকে হিংস্র জন্তুর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আল্লামা আলাউদ্দিন কাসানি (রহ.) বলেন, ‘প্রত্যেক নখরবিশিষ্ট হিংস্র জন্তুর গোশত হারাম।’ (বাদায়েউস সানায়ে, ৫/৩৫)। ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন, ‘যেসব হিংস্র জন্তু দাঁত দিয়ে শিকার করে, সেগুলোর গোশত খাওয়া হারাম।’ (রদ্দুল মুহতার,6/307—পদ্ধতিগত কারণে সংখ্যা অপরিবর্তিত)। তাই নির্ভরযোগ্য ফিকহের গ্রন্থসমূহে শিয়ালকে হারাম প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনেকে দাবি করেন, শিয়ালের গোশত বা চর্বি বিভিন্ন রোগের ওষুধ। কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে সাধারণভাবে হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের রোগ সৃষ্টি করেছেন এবং তার চিকিৎসাও সৃষ্টি করেছেন। অতএব, চিকিৎসা গ্রহণ করো; তবে হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা করো না।’ (সুনানে আবু دাউদ, হাদিস: ৩৮৭৪)। অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন, তাতে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান)। সুতরাং, লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাস বা কুসংস্কারের ভিত্তিতে শিয়ালের গোশত খাওয়া কিংবা তা দিয়ে চিকিৎসা নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।

তবে ইসলামের মূলনীতি হলো, যদি জীবন রক্ষার মতো চরম ও অনিবার্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং কোনো বিশ্বস্ত ও দক্ষ চিকিৎসক নিশ্চিতভাবে বলেন, হারাম বস্তু ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প চিকিৎসা নেই এবং তা ব্যবহার না করলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে প্রয়োজনের সীমার মধ্যে ব্যতিক্রমী বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী অবস্থা; সাধারণ নিয়ম নয়। যদি কেউ জেনে-শুনে শিয়ালের গোশত খেয়ে থাকে, তাহলে তার উচিত আন্তরিকভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা করা, ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

শুধু শরিয়তের দৃষ্টিতেই নয়, বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ীও শিয়াল শিকার, হত্যা, ক্রয়-বিক্রয় ও অবৈধভাবে সংরক্ষণ দণ্ডনীয় অপরাধ।

সারকথা হলো, শিয়ালের গোশত খাওয়া ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম। কারণ এটি দাঁত ও নখর দিয়ে শিকার করা হিংস্র প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত, আর রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ধরনের প্রাণীর গোশত ভক্ষণ থেকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। অসুস্থতার অজুহাতে বা লোকমুখে প্রচলিত ধারণার ভিত্তিতে শিয়ালের গোশত খাওয়াও বৈধ নয়। কেবল জীবনরক্ষার মতো চরম ও অনিবার্য পরিস্থিতিতে শরিয়তের নির্ধারিত কঠোর শর্ত পূরণ হলে সীমিত পরিসরে ব্যতিক্রমী বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।

তাই একজন মুসলমানের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব বা প্রচারণার পরিবর্তে কোরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের গবেষণা ও ফিকহের আলোকে নিজের জীবন পরিচালনা করা। হালাল খাদ্য শুধু দেহের পুষ্টিই নিশ্চিত করে না, ঈমান, ইবাদত ও দোয়া কবুল হওয়ার ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল-হারাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং সর্বদা হালাল রিজিক গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় উল্লম্ফন

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় উল্লম্ফন


 ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ বলছে, ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) লেনদেনের শুরুতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। মূলত এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ০২ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৫৬ ডলার।

এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে বহুল ব্যবহৃত আবুধাবির প্রধান রপ্তানিযোগ্য গ্রেড মুরবান ক্রুডের দাম সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৫৭ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ২২০ ডলারে পৌঁছায়।

এর আগে বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একমাত্র মহাসাগরীয় বন্দর চাবাহারে সামরিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো বা আন্তর্জাতিক নৌপথে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

তাদের মতে, পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে। এ কারণেই এশিয়ার দেশগুলোতে ব্যবহৃত মুরবান ক্রুডের দামে তুলনামূলক বেশি ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের জানান, এখন বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর রয়েছে—ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হয় কি না। এসব বিষয়ের ওপর আগামী কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

সূত্র: গালফ নিউজ

ইসলামে দেনমোহর নির্ধারণে কী বলেছেন নবীজি (সা.)

ইসলামে দেনমোহর নির্ধারণে কী বলেছেন নবীজি (সা.)

 

নারী-পুরুষের পবিত্র ও বৈধ সম্পর্কের একমাত্র হালাল মাধ্যম বিয়ে। আর বিয়ের অন্যতম এক আবশ্যিক অনুষঙ্গ হলো দেনমোহর। দেনমোহর নারীর অধিকার এবং তা পরিশোধ করা ইসলামের স্পষ্ট বিধান। এটি কেবল খাতাকলমে একটি বড় অঙ্ক লিখে রাখার নাম নয়, বরং তা স্ত্রীকে অবশ্যই বুঝিয়ে দিতে হবে।

ইসলামী শরিয়তে বিয়ের জন্য দেনমোহর অপরিহার্য। এটি কোনো দয়া বা দান নয়, বরং স্ত্রীর ওপর আল্লাহর দেওয়া এক অকাট্য অধিকার। মোহর পরিশোধ না করা পর্যন্ত স্ত্রী নিজেকে স্বামীর থেকে দূরে রাখার অধিকারও রাখে। মূলত মোহরানা হলো সতীত্বের সম্মান, পবিত্র বন্ধনের দায়বদ্ধতা এবং নারীর ভবিষ্যৎ জীবনের এক ধরনের সামাজিক গ্যারান্টি। এটি কোনো অর্থ-বিত্তের প্রতিযোগিতা নয়, বরং স্বামীর ওপর অবধারিত এক কর্তব্য।

মোহর নির্ধারণের দায়িত্ব মূলত বর-কনে এবং তাঁদের অভিভাবকদের। আমাদের সমাজে সাধারণত উভয় পক্ষের মুরুব্বিরা মিলে এটি ঠিক করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো সর্বোচ্চ সীমা ইসলামে ঠিক করে দেওয়া হয়নি। তবে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন মোহর হলো ১০ দিরহাম (যা ৩০.৬১৮ গ্রাম রুপা বা এর সমপরিমাণ অর্থ)। হাদিস শরিফে এসেছে, “দশ দিরহামের কম কোনো মোহর নেই।” (বায়হাকি)

অবশ্য ইসলামের শুরুর দিকে অসচ্ছলতার কারণে একদম নিঃস্ব এক সাহাবিকে পবিত্র কোরআন শেখানোর বিনিময়ে বিয়ে দিয়েছিলেন আল্লাহর রাসুল (সা.)। তিনি বলেছিলেন, “কোরআনের যা কিছু তোমার জানা আছে, তা স্ত্রীকে শিক্ষা দেবে; এর বিনিময়ে আমি মেয়েটিকে তোমার কাছে বিয়ে দিলাম।” (মুসনাদে আহমদ)

সামর্থ্যবান স্বামী চাইলে স্ত্রীকে বেশি পরিমাণে মোহর দিতে পারেন, তাতে ইসলামে কোনো বাধা নেই। তবে তা যেন কোনোভাবেই লোকদেখানো বা অহংকারবশত না হয়। কারণ ইসলামে লোকদেখানো আমল বা লৌকিকতাকে ছোট শিরকের সমতুল্য বলা হয়েছে। মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা সবসময় এক রকম থাকে না, তাই মোহরের পরিমাণ স্বামীর সামর্থ্য, স্ত্রীর সামাজিক মর্যাদা এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “সর্বোত্তম পরিমাণের মোহর হচ্ছে তা, যা পরিশোধ করা সহজসাধ্য।”

লোকদেখানো লৌকিকতা কিংবা ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে অস্বাভাবিক বেশি দেনমোহর ধার্য করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামী শরিয়তে যৌতুক নেওয়া যেমন পুরোপুরি অবৈধ, তেমনি মোহরের জন্য বরপক্ষকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়াও যুক্তিসঙ্গত নয়। সহজ ও অনাড়ম্বর বিয়ে প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয় বরকতের দিক দিয়ে সর্বোত্তম ও গ্রহণযোগ্য বিয়ে হলো, যে বিয়ে সবচেয়ে স্বল্প খরচে সম্পাদিত হয়।” (বায়হাকি)

জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগে মোহরানা নিয়ে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে ব্যাপক দরকষাকষি হতো এবং মাত্রাতিরিক্ত মোহর ধার্য করা হতো। পরবর্তী সময়ে তা আদায় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ ও নানা জটিলতা তৈরি হতো। বর্তমান মুসলিম সমাজের চিত্রও অনেকটা একই রকম। মোহরের প্রকৃত গুরুত্ব ভুলে এটিকে এখন স্রেফ একটি আনুষ্ঠানিক রীতিনীতিতে পরিণত করা হয়েছে।

ইসলামী শরিয়তে স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করা স্বামীর ওপর ওয়াজিব করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেন, “তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের থেকে যে স্বাদ গ্রহণ করো, তার বিনিময়ে অপরিহার্য ফরজ হিসেবে তাদের মোহর পরিশোধ করো।” (সূরা নিসা: ২৪)

অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিয়ের সময় বিশাল অঙ্কের মোহর ধার্য করলেও মনে মনে তা পরিশোধের নিয়তই থাকে না। কেবল প্রচারের উদ্দেশ্যেই তা করা হয়। এ ধরনের মানসিকতা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো একটা পরিমাণ মোহরানা ধার্য করে কোনো নারীকে বিয়ে করল, অথচ আল্লাহ জানেন তা পরিশোধ করার ইচ্ছে তার নেই, এ ব্যক্তি আল্লাহর নামে তার স্ত্রীকে প্রতারিত করল এবং অন্যায়ভাবে তার সতীত্ব নিজের জন্য হালাল মনে করে ভোগ করল; এমন ব্যক্তি কিয়ামতে ব্যভিচারী হিসেবে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে।” (মুসনাদে আহমদ)

আমাদের সমাজে দেনমোহরের ক্ষেত্রে ‘মোহরে ফাতেমি’র বেশ প্রচলন রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর প্রিয় কন্যা হজরত ফাতিমা (রা.)-এর বিয়ের সময় যে পরিমাণ মোহর নির্ধারণ করেছিলেন, সেটিকে মোহরে ফাতেমি বলা হয়। এর পরিমাণ ছিল ৫০০ দিরহাম, যা বর্তমান হিসাব অনুযায়ী ১৫৩০.৯ গ্রাম রুপার সমতুল্য।

বিয়ে হলো একটি পবিত্র আত্মিক বন্ধন, মানব বংশবৃদ্ধির চিরায়ত প্রক্রিয়া এবং চরিত্র হেফাজতের মোক্ষম উপায়। তাই সামর্থ্য থাকলে বিয়ে সহজ করার বিকল্প নেই। একটি শান্তিময় সমাজ গঠনে আমাদের উচিত দেনমোহরের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি পরিহার করে বিয়ের সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে সহজ ও প্রাণবন্ত করে তোলা।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৯০

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৯০

 

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৯০ জন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিস্তারিত আসছে...