The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
নুসরাতের মা-ভাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি ইলিয়াস হোসাইনের

নুসরাতের মা-ভাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি ইলিয়াস হোসাইনের

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে নুসরাতের পরিবারকে ঘিরে কিছু অভিযোগ। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নুসরাতের মা ও দুই ভাইকে আইনের আওতায় এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতে ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও উচ্চ আদালতের রায়ে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। রায়ে সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। চার আসামির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

রায়ের পর ইলিয়াসের বক্তব্য

রায় ঘোষণার পর নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন নুসরাতের মা ও দুই ভাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তার অভিযোগ, নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের কোনো রায়ে নুসরাতের মা বা ভাইদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। ফলে ইলিয়াসের বক্তব্যকে অভিযোগ ও দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নুসরাতের মায়ের প্রতিক্রিয়া

হাইকোর্টের রায়ে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে রায়ের পর পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, নুসরাতের বিচার হলেও বর্তমানে পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এদিকে স্থানীয় পুলিশ নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে। এরই মধ্যে পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৯ সালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা

ইলিয়াস হোসাইনের বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে তার ২০১৯ সালের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে তিনি নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ভিন্ন ধরনের কিছু দাবি করেছিলেন। সেখানে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ডের পরিবর্তে পরিকল্পিত আত্মহত্যা হিসেবে দাবি করা হয়েছিল বলে বাংলা এডিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে নুসরাত হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত ২০১৯ সালে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে মামলাটি হাইকোর্টে আসে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আজ উচ্চ আদালত ১০ আসামিকে খালাস এবং চারজনের সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

হাইকোর্টের রায়ের পর মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ইলিয়াস হোসাইনের উত্থাপিত অভিযোগগুলো আদৌ কোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় যাবে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: বাংলা এডিশন

নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়, ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়, ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

ফেনীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।

যেভাবে হত্যার শিকার হন নুসরাত

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে মাদরাসায় গিয়েছিলেন নুসরাত। ওই দিন তাকে পরিকল্পিতভাবে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

আগুনে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল

নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় ২০১৯ সালের ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে একই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেন।

পরবর্তী সময়ে ওই রায়ের ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিদের পক্ষ থেকে আপিল ও জেল আপিলও করা হয়।

সেসব আবেদন ও মামলার নথি পর্যালোচনার পর হাইকোর্ট আজ রায় ঘোষণা করেন। এতে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও চারজনকে যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

নুসরাত হত্যা মামলা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

হাইকোর্টের আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির আপিল পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ শেষ হলো।

তনু হত্যা মামলা জামিন স্থগিতের পর ২৪ ঘণ্টায় আত্মসমর্পণ না করায় হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তার

তনু হত্যা মামলা জামিন স্থগিতের পর ২৪ ঘণ্টায় আত্মসমর্পণ না করায় হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত হওয়ার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৈয়ব উদ্দিন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পিবিআই জানিয়েছে, আসামি যাতে আত্মগোপন বা পালিয়ে যেতে না পারেন এবং আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা যায়, সে জন্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মাহবুবুর রহমান জানান, গত ৪ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর হাফিজুর রহমান কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৯ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আদালত।

পরে শনিবার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তারের পর কুমিল্লায় নিয়ে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তনু হত্যা মামলা

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু।

ওই রাতেই সেনানিবাসের পাওয়ারহাউস সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তের একপর্যায়ে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে হাফিজুর রহমানকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করে পিবিআই। বর্তমানে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এক মাসের মধ্যে রামিসার বিচার হবে—প্রতিশ্রুতির পর পেরিয়েছে কত দিন, রায় হলেও কার্যকর হবে কবে?”

এক মাসের মধ্যে রামিসার বিচার হবে—প্রতিশ্রুতির পর পেরিয়েছে কত দিন, রায় হলেও কার্যকর হবে কবে?”

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে। তবে আদালতের দেওয়া সেই মৃত্যুদণ্ড এখনো কার্যকর হয়নি। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসা হত্যার ঘটনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের কথা উল্লেখ করেন।

এরপর মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়। ১ জুন দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই মামলাটির রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছে আদালত।

৭ জুন শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রীও জানান, মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন করে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হওয়া আর তা কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ডেথ রেফারেন্স, আপিলসহ নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। আইনমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, এসব প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হবে।

ফলে রামিসা হত্যা মামলায় এক মাসের মধ্যে বিচারিক রায় ও সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ এলেও, মৃত্যুদণ্ড এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এখন প্রশ্ন উঠেছে—প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির ‘শাস্তি নিশ্চিত’ করার বিষয়টি কবে বাস্তবে কার্যকর হবে।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় শুরু থেকেই দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্বজন ও সাধারণ মানুষ। আদালতের রায়ের পরও এখন তাদের অপেক্ষা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার।

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন আসামি

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন আসামি


 ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে হস্তান্তর করে।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের নথিপত্র বর্তমানে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত কার্যক্রম এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের পাশাপাশি তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকেও আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরসহ গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী অঙ্গনের আরও কয়েকজন ব্যক্তি।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই তদন্ত প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে।

সূত্র : আমার সংবাদ

শাপলা চত্বর মামলার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় হাসিনাসহ কয়েক সাবেক বাহিনীপ্রধান

শাপলা চত্বর মামলার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় হাসিনাসহ কয়েক সাবেক বাহিনীপ্রধান


 রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার ঘটনায় তদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ২১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।

বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল বলেন, এ মামলায় আসামি হচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কয়েকটি বাহিনীর তৎকালীন প্রধান, কয়েকজন সাংবাদিক এবং কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী

সূত্র: আমার দেশ

জামালপুর গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

জামালপুর গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

 

জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি ইদ্রিস আলীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— পাপ্পু, বিজু, বাদশা, জুয়েল, আশরাফুল, জসিম ও আসমত। । খালাসপ্রাপ্ত আসামির নাম ইদ্রিস আলী। তারা সবাই বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা

আদালত সূত্র ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে গভীর রাতে ইজিবাইকে বাসায় ফেরার পথে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের পর আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও তিন থেকে চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচারিক কার্যক্রমে নয়জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইদ্রিস আলীকে খালাস দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

২ হাজার ৪শ ৩২ টি নিষ্পন্ন মামলার জব্দকৃত আলামত ধ্বংশ

২ হাজার ৪শ ৩২ টি নিষ্পন্ন মামলার জব্দকৃত আলামত ধ্বংশ

 


ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে ২ হাজার ৪শ ৩২ টি নিষ্পন্ন মামলার জব্দকৃত আলামত শনিবার ধ্বংশ করা হয়েছে। চলমান মামলাগুলোর আলামতগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষনের জন্য এ উদ্যগ নেয়া হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও আদালতের সংশ্লিস্ট প্রসিকিউশনের কর্মকর্তার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মোট ২ হাজার ৪৩২টি নিষ্পত্তিকৃত মামলার জব্দকৃত আলামত ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংস করা আলামতের মধ্যে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় জব্দ করা লাঠি, বাঁশ, হকি স্টিক, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ ও কাগজপত্রসহ নানা ধরনের সামগ্রী ছিল। দীর্ঘদিন ধরে আদালতের মালখানায় সংরক্ষিত এসব আলামত আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির আবুল হাসান কানন বলেন, যেসব মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা পাওয়া গেছে, সেসব মামলার জব্দকৃত আলামত বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়েছে। এর ফলে মালখানার সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং নতুন আলামত সংরক্ষণে সুবিধা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আদালতের মালখানায় সংরক্ষিত আলামত নিয়মিত পর্যালোচনা ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

হাদি হত্যা: অভিযুক্ত ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবী ফের রিমান্ডে

হাদি হত্যা: অভিযুক্ত ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবী ফের রিমান্ডে

 



ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানার মামলায় পলাতক আসামি প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী, বান্ধবী ও শ্যালকের ফের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়াও মামলার অপর আসামি রেন্টকার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর প্রথম দফায় তাদের প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হল, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু।

এর আগে বিকেলে রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। পরে পাঁচ কারণ দেখিয়ে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুনরায় তাদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তিনি। রিমান্ডে নেয়ার কারণসমূহে উল্লেখ করা হয়, হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডে অর্থদাতাদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার এবং এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার।

এ ছাড়া অপর আসামি উজ্জ্বলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপর আসামি উজ্জ্বলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

এ মামলার গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্টকার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম। এদের মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সালের বাবা-মা হুমায়ুন ও হাসি দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়। হাদি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্ব হতেই ঢাকা-৮ আসনের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের পলাতক কেন্দ্রীয় নেতাসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিজয়ের পর থেকে প্রকাশ্য ও গোপন ষড়যন্ত্র করছে। এর ধারাবাহিকতায় তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনা, নির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ, পেট্রল বোমা, গান পাউডার দিয়ে আগুন সন্ত্রাস, দেশি ও বিদেশি অস্ত্র গোলাবারুদের জোগানদান, অনলাইন গুজব রটনা ও ভীতি প্রদর্শন করছেন। এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা, জনমনে আতঙ্ক ও ভীতি তৈরি করা সর্বোপরি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধা প্রদান এবং আগ্রহী প্রার্থীদের মনোবলে আঘাত হানার মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওইদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

 সূত্র : আমার দেশ

বাংলাদেশের আদালতে প্রথমবার কোনো ব্রিটিশ এমপির কারাদণ্ড

বাংলাদেশের আদালতে প্রথমবার কোনো ব্রিটিশ এমপির কারাদণ্ড

 

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক।তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও শেখ রেহানার মেয়ে। রাজধানীর পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাকে।বাংলাদেশের আদালতে কোনো ব্রিটিশ এমপিকে দণ্ড দেওয়ার ঘটনা ঘটলো এই প্রথম।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এই রায় দেওয়া হয়।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুদকের করা মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন আদালত।

মামলায় শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও তার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়া সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গণপূর্ত মন্ত্রনালয়, রাজউক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৪ জন কর্মকর্তা আসামি ছিলেন।

মামলার রায়ে শেখ রেহানার ৭ বছর কারাদণ্ড এবং টিউলিপের খালা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকিদেরও দেওয়া হয়েছে ৫ বছর করে কারাদণ্ড।

ছাত্র-জনতার অভুত্থ্যানে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। এই তালিকায় নাম আসে টিউলিপ সিদ্দিকীরও।

ডেভেলপারের কাছ থেকে লন্ডনে ৭ লাখ পাউন্ড দামের একটি ফ্ল্যাট ‘উপহার’ পাওয়ার খবর নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে ইস্তফা দেন টিউলিপ সিদ্দিক।

এর আগে আওয়ামী লীগের পতনের পরপর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগেও টিউলিপের নাম আসে। বিষয়টি নিয়ে সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর টিউলিপ ও তার বোনের পাওয়া ‘উপহারের’ ফ্ল্যাট নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা।

মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া গুলশানের একটি ফ্ল্যাট টিউলিপ সিদ্দিক তার বোন রূপন্তীকে ২০১৫ সালে হস্তান্তর করেন। তবে সেই হস্তান্তরে যে নোটারি ব্যবহার করা হয় তা তদন্তে ‘ভুয়া’ প্রমাণিত হওয়ার কথা বলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত বছরের মাঝামাঝিতে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে সরকার গঠন করে লেবার পার্টি, যাতে আর্থিক সেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান টানা চারবারের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।

বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও শফিক সিদ্দিকীর মেয়ে টিউলিপ প্রথমবার এমপি হন ২০১৫ সালে। পরে ২০১৭ ও ২০১৯ সালেও পুনঃনির্বাচিত হন।

লন্ডনের মিচামে জন্মগ্রহণ করা টিউলিপের শৈশব কেটেছে বাংলাদেশ, ভারত ও সিঙ্গাপুরে। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পলিটিক্স, পলিসি ও গভর্মেন্ট বিষয়ে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে।

পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির অন্য তিন মামলায় গত বৃহস্পতিবার টিউলিপের খালা শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় অন্য একটি আদালত। হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দেওয়া হয় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড।

তার আগে গত ১৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ক্ষতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়। মামলাগুলোর মধ্যে মোট চারটির রায় হয়েছে।