The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন আসামি

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন আসামি


 ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে হস্তান্তর করে।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের নথিপত্র বর্তমানে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত কার্যক্রম এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের পাশাপাশি তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকেও আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরসহ গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী অঙ্গনের আরও কয়েকজন ব্যক্তি।

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই তদন্ত প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে।

সূত্র : আমার সংবাদ

শাপলা চত্বর মামলার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় হাসিনাসহ কয়েক সাবেক বাহিনীপ্রধান

শাপলা চত্বর মামলার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় হাসিনাসহ কয়েক সাবেক বাহিনীপ্রধান


 রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার ঘটনায় তদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ২১ জুলাই ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।

বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল বলেন, এ মামলায় আসামি হচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কয়েকটি বাহিনীর তৎকালীন প্রধান, কয়েকজন সাংবাদিক এবং কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী

সূত্র: আমার দেশ

জামালপুর গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

জামালপুর গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

 

জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি ইদ্রিস আলীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— পাপ্পু, বিজু, বাদশা, জুয়েল, আশরাফুল, জসিম ও আসমত। । খালাসপ্রাপ্ত আসামির নাম ইদ্রিস আলী। তারা সবাই বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা

আদালত সূত্র ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে গভীর রাতে ইজিবাইকে বাসায় ফেরার পথে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের পর আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও তিন থেকে চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচারিক কার্যক্রমে নয়জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইদ্রিস আলীকে খালাস দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

২ হাজার ৪শ ৩২ টি নিষ্পন্ন মামলার জব্দকৃত আলামত ধ্বংশ

২ হাজার ৪শ ৩২ টি নিষ্পন্ন মামলার জব্দকৃত আলামত ধ্বংশ

 


ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশে ২ হাজার ৪শ ৩২ টি নিষ্পন্ন মামলার জব্দকৃত আলামত শনিবার ধ্বংশ করা হয়েছে। চলমান মামলাগুলোর আলামতগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষনের জন্য এ উদ্যগ নেয়া হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও আদালতের সংশ্লিস্ট প্রসিকিউশনের কর্মকর্তার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মোট ২ হাজার ৪৩২টি নিষ্পত্তিকৃত মামলার জব্দকৃত আলামত ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংস করা আলামতের মধ্যে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় জব্দ করা লাঠি, বাঁশ, হকি স্টিক, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ ও কাগজপত্রসহ নানা ধরনের সামগ্রী ছিল। দীর্ঘদিন ধরে আদালতের মালখানায় সংরক্ষিত এসব আলামত আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির আবুল হাসান কানন বলেন, যেসব মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা পাওয়া গেছে, সেসব মামলার জব্দকৃত আলামত বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়েছে। এর ফলে মালখানার সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং নতুন আলামত সংরক্ষণে সুবিধা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আদালতের মালখানায় সংরক্ষিত আলামত নিয়মিত পর্যালোচনা ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

হাদি হত্যা: অভিযুক্ত ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবী ফের রিমান্ডে

হাদি হত্যা: অভিযুক্ত ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবী ফের রিমান্ডে

 



ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানার মামলায় পলাতক আসামি প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী, বান্ধবী ও শ্যালকের ফের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়াও মামলার অপর আসামি রেন্টকার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর প্রথম দফায় তাদের প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হল, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু।

এর আগে বিকেলে রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। পরে পাঁচ কারণ দেখিয়ে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুনরায় তাদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তিনি। রিমান্ডে নেয়ার কারণসমূহে উল্লেখ করা হয়, হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডে অর্থদাতাদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার এবং এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার।

এ ছাড়া অপর আসামি উজ্জ্বলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপর আসামি উজ্জ্বলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

এ মামলার গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্টকার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম। এদের মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সালের বাবা-মা হুমায়ুন ও হাসি দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়। হাদি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্ব হতেই ঢাকা-৮ আসনের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের পলাতক কেন্দ্রীয় নেতাসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিজয়ের পর থেকে প্রকাশ্য ও গোপন ষড়যন্ত্র করছে। এর ধারাবাহিকতায় তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনা, নির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ, পেট্রল বোমা, গান পাউডার দিয়ে আগুন সন্ত্রাস, দেশি ও বিদেশি অস্ত্র গোলাবারুদের জোগানদান, অনলাইন গুজব রটনা ও ভীতি প্রদর্শন করছেন। এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করা, জনমনে আতঙ্ক ও ভীতি তৈরি করা সর্বোপরি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধা প্রদান এবং আগ্রহী প্রার্থীদের মনোবলে আঘাত হানার মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওইদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

 সূত্র : আমার দেশ

বাংলাদেশের আদালতে প্রথমবার কোনো ব্রিটিশ এমপির কারাদণ্ড

বাংলাদেশের আদালতে প্রথমবার কোনো ব্রিটিশ এমপির কারাদণ্ড

 

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক।তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি ও শেখ রেহানার মেয়ে। রাজধানীর পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাকে।বাংলাদেশের আদালতে কোনো ব্রিটিশ এমপিকে দণ্ড দেওয়ার ঘটনা ঘটলো এই প্রথম।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এই রায় দেওয়া হয়।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুদকের করা মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন আদালত।

মামলায় শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও তার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ছাড়া সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গণপূর্ত মন্ত্রনালয়, রাজউক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৪ জন কর্মকর্তা আসামি ছিলেন।

মামলার রায়ে শেখ রেহানার ৭ বছর কারাদণ্ড এবং টিউলিপের খালা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকিদেরও দেওয়া হয়েছে ৫ বছর করে কারাদণ্ড।

ছাত্র-জনতার অভুত্থ্যানে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। এই তালিকায় নাম আসে টিউলিপ সিদ্দিকীরও।

ডেভেলপারের কাছ থেকে লন্ডনে ৭ লাখ পাউন্ড দামের একটি ফ্ল্যাট ‘উপহার’ পাওয়ার খবর নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে ইস্তফা দেন টিউলিপ সিদ্দিক।

এর আগে আওয়ামী লীগের পতনের পরপর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগেও টিউলিপের নাম আসে। বিষয়টি নিয়ে সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর টিউলিপ ও তার বোনের পাওয়া ‘উপহারের’ ফ্ল্যাট নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা।

মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া গুলশানের একটি ফ্ল্যাট টিউলিপ সিদ্দিক তার বোন রূপন্তীকে ২০১৫ সালে হস্তান্তর করেন। তবে সেই হস্তান্তরে যে নোটারি ব্যবহার করা হয় তা তদন্তে ‘ভুয়া’ প্রমাণিত হওয়ার কথা বলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত বছরের মাঝামাঝিতে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে সরকার গঠন করে লেবার পার্টি, যাতে আর্থিক সেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান টানা চারবারের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।

বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও শফিক সিদ্দিকীর মেয়ে টিউলিপ প্রথমবার এমপি হন ২০১৫ সালে। পরে ২০১৭ ও ২০১৯ সালেও পুনঃনির্বাচিত হন।

লন্ডনের মিচামে জন্মগ্রহণ করা টিউলিপের শৈশব কেটেছে বাংলাদেশ, ভারত ও সিঙ্গাপুরে। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে পলিটিক্স, পলিসি ও গভর্মেন্ট বিষয়ে তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে।

পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির অন্য তিন মামলায় গত বৃহস্পতিবার টিউলিপের খালা শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় অন্য একটি আদালত। হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে দেওয়া হয় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড।

তার আগে গত ১৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ক্ষতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়। মামলাগুলোর মধ্যে মোট চারটির রায় হয়েছে।