তনু হত্যা মামলা জামিন স্থগিতের পর ২৪ ঘণ্টায় আত্মসমর্পণ না করায় হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত হওয়ার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৈয়ব উদ্দিন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পিবিআই জানিয়েছে, আসামি যাতে আত্মগোপন বা পালিয়ে যেতে না পারেন এবং আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা যায়, সে জন্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মাহবুবুর রহমান জানান, গত ৪ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর হাফিজুর রহমান কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৯ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আদালত।
পরে শনিবার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তারের পর কুমিল্লায় নিয়ে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তনু হত্যা মামলা
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু।
ওই রাতেই সেনানিবাসের পাওয়ারহাউস সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তের একপর্যায়ে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে হাফিজুর রহমানকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করে পিবিআই। বর্তমানে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।