The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
চাঁদপুরে ইজিবাইকে বাসের ধাক্কা, নিহত ১; আহত ৪

চাঁদপুরে ইজিবাইকে বাসের ধাক্কা, নিহত ১; আহত ৪

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ইজিবাইককে বাস চাপা দেওয়ার ঘটনায় সাদিয়া আক্তার (২৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইজিবাইকচালকসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাসচালককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে মতলব-গৌরীপুর পেন্নাই সড়কের নাগদা বড়বাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাদিয়া উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সৌদি আরবে কর্মরত এবং তাদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে তাদের এক আত্মীয় রাজিয়া (৫০) অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান। শনিবার সকালে তাঁর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে সাদিয়াসহ স্বজনরা ইজিবাইকে করে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা জৈনপুর পরিবহনের একটি বাস ইজিবাইকটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সাদিয়া গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহতরা হলেন ইজিবাইকচালক রোমান হোসেন (৪৫), খোরশেদা বেগম (৫৮), জিলানী (২৮) ও পারভীন (৪০)। তাঁদের মধ্যে খোরশেদা, জিলানী ও পারভীন নিহত সাদিয়ার স্বজন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বাসচালক কাউসারকে আটক করে একটি ঘরে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বাসচালককে আটক ও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর মতলব-গৌরীপুর পেন্নাই সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক

কুবিতে সংঘর্ষ: সাধারণ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ছাত্রদল কর্মীদের নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা

কুবিতে সংঘর্ষ: সাধারণ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ছাত্রদল কর্মীদের নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলে ‘JCD’ লেখা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে হল প্রশাসন। তবে একই ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম হলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন সাংবাদিকও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ইলিয়াস ইসলাম শুভ ও হুমায়ূন কবীর। অন্যদিকে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ইংরেজি বিভাগের মারুফ হোসাইন ও শনব দেবনাথ এবং মার্কেটিং বিভাগের সাদেক সাকেরের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জানা যায়, আগের একটি বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছিল হল প্রশাসন। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকসহ অন্যদের স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়। বের হওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ভিডিও ফুটেজে কয়েকজনকে ইলিয়াস শুভর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়াতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় সাদেক সাকের শুভকে ধরে রাখেন এবং মারুফ হোসাইন ও শনব দেবনাথ তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে মারুফ হোসাইনের সঙ্গে হুমায়ূন কবীরেরও ধস্তাধস্তি হয়। পরে মারুফের মুখে রক্ত দেখা যায়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

মারুফ হোসাইন বলেন, সংঘর্ষে তার মাথায় আঘাত লাগে এবং দুটি সেলাই দিতে হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।

অন্যদিকে ইলিয়াস শুভর দাবি, হুমায়ূনকে ধাক্কা দেওয়ার পর পরিস্থিতি থামাতে গেলে তিনি নিজেও হামলার শিকার হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন তাকে ধরে রাখার পর মাথায় আঘাত করা হয়।

হুমায়ূন কবীর বলেন, প্রভোস্টের কক্ষেই মারুফ ও শনবের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে বাইরে আবার ধাক্কাধাক্কি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। তবে মারুফ কীভাবে মাথায় আঘাত পেয়েছেন, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।

এদিকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কারের পর ইলিয়াস ও হুমায়ূনের বিছানাপত্রসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে সাদেক সাকের বলেন, তাদের এক ছোট ভাইকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার পর তারা সেখানে থাকা জিনিসপত্র বাইরে রেখেছেন।

ঘটনার পর ইলিয়াস শুভ ও হুমায়ূন কবীরকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের শহরের একটি মেসে পাঠানো হয়েছে বলে হল প্রশাসন জানিয়েছে।

ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম হলের হাউস টিউটর মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. হারুন বলেন, প্রথম ঘটনার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তী সংঘর্ষটি তাদের সামনেই ঘটায় বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ কোনো মন্তব্য করেননি।

অভিযুক্ত শনব দেবনাথের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হল প্রশাসন।

তনু হত্যা মামলা জামিন স্থগিতের পর ২৪ ঘণ্টায় আত্মসমর্পণ না করায় হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তার

তনু হত্যা মামলা জামিন স্থগিতের পর ২৪ ঘণ্টায় আত্মসমর্পণ না করায় হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত হওয়ার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৈয়ব উদ্দিন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পিবিআই জানিয়েছে, আসামি যাতে আত্মগোপন বা পালিয়ে যেতে না পারেন এবং আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা যায়, সে জন্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মাহবুবুর রহমান জানান, গত ৪ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর হাফিজুর রহমান কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৯ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আদালত।

পরে শনিবার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তারের পর কুমিল্লায় নিয়ে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তনু হত্যা মামলা

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু।

ওই রাতেই সেনানিবাসের পাওয়ারহাউস সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তের একপর্যায়ে গত ২১ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে হাফিজুর রহমানকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করে পিবিআই। বর্তমানে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ভারত পালানোর চেষ্টাকালে আটক ‘ডেভিড ইমন’, চট্টগ্রামে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ

ভারত পালানোর চেষ্টাকালে আটক ‘ডেভিড ইমন’, চট্টগ্রামে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ

 

চট্টগ্রামের আলোচিত অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ মোবারক হোসেন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’কে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের দাবি, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে বুধবার গভীর রাতে তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নাজিমুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান চলছিল। যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে চট্টগ্রামে নেওয়া হবে। সেখানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেভিড ইমনকে ধরতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ফটিকছড়ি উপজেলাসহ কয়েকটি স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার এবং কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি পুলিশের।

অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক বলেন, "চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডেভিড ইমনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চলবে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।"

পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা, আধিপত্য বিস্তার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায়ও তার নাম সামনে আসে। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক এবং পলাতক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামে সক্রিয় অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ডেভিড ইমনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য পলাতক ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

বিয়ের তিন দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন যুবক

বিয়ের তিন দিন পর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন যুবক

 

নোয়াখালীর সেনবাগে বিয়ের মাত্র তিন দিন পর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. আল আমিন (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কের কুটিরবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আল আমিন উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ছাতারপাইয়া পশ্চিম-দক্ষিণপাড়া গ্রামের রশিদ বেপারী বাড়ির আব্বাস ক্বারির ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, আল আমিন বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে ছাতারপাইয়া বাজারে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করতেন। গত সোমবার পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার রাতে মোটরসাইকেলে করে সোনাইমুড়ী থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুটিরবাড়ি এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত মুরগিবাহী অটোরিকশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত আল আমিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ঘটনায় যুবকের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ঘটনায় যুবকের আত্মহত্যা

 

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মো. হাসান (২৫) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসান চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও টেক এলাকার বাসিন্দা মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালকপুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে লামা পৌরসভার ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসানের ছোট বোন সম্প্রতি পরিবারের অজান্তে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে নিজ কক্ষের বাঁশের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে লামা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়ছার হামিদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড: মহাসড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলাই কি অপরাধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড: মহাসড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলাই কি অপরাধ

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড মোড়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের কাজের অবস্থা দেখে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি উন্নয়নের সুফল পাবো, নাকি আজীবন এই ভোগান্তিই আমাদের ভাগ্য?
​ভিডিওতে যে নির্মাণকাজ দেখছেন, সেখানে কাজ চলাকালীন অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো,
Video Link: https://www.facebook.com/share/r/1DNQc1YYS6/
এই কাজের ভিডিও ধারণ করতে গেলেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (Repcon) কর্মচারীরা বাধা দিচ্ছেন এবং ক্ষেপে যাচ্ছেন! তারা কিসের ভয়ে বা কেন ভিডিও করতে নিষেধ করছেন—তা সাধারণ মানুষের কাছে এক বড় প্রশ্ন।
​জনগণের টাকায় যে প্রকল্পের কাজ চলছে, সেখানে অস্বচ্ছতা বা অনিয়ম থাকলে তা দেখার অধিকার কি আমাদের নেই? সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, এই প্রকল্পের কাজের গুণমান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন আচরণের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

বন্যায় ডুবে গেল পারিবারিক কবরস্থান, মরদেহ নেওয়া হলো দূরের কবরস্থানে

বন্যায় ডুবে গেল পারিবারিক কবরস্থান, মরদেহ নেওয়া হলো দূরের কবরস্থানে

 

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, উঠান, কবরস্থান ও চলাচলের পথ। এমন পরিস্থিতিতে নিজ বাড়ির পাশে থাকা পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা সম্ভব হয়নি এক ব্যক্তিকে। শেষ পর্যন্ত স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভেলায় করে তার মরদেহ প্রায় ৩০০ মিটার দূরে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে একটি অটোরিকশায় করে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের কবরস্থানে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে। মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ফোরকান (৬০)। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে তিনি মারা যান। একই দিন রাতেই জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফোরকানের বসতঘর, উঠান এবং পারিবারিক কবরস্থানও বন্যার পানির নিচে চলে যায়। এমন অবস্থায় শুক্রবার সকালেও তিনি বন্যার পানিতে জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন। পরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং নিজ বাড়িতেই মারা যান।

তবে চারপাশে পানি থাকায় তার মরদেহের গোসল নিজ বাড়িতে করানো সম্ভব হয়নি। একই কারণে পারিবারিক কবরস্থানেও দাফনের সুযোগ ছিল না। ফলে মরদেহ প্রথমে ভেলায় তুলে শুকনা স্থানে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে অটোরিকশায় করে উপজেলার দস্তিদারহাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে গোসলসহ দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত ১০টার দিকে ফকির মুড়া ঈদগাহ এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ওই এলাকার পাহাড়সংলগ্ন সরকারি খাস জমিতে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মরহুমের বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।

জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এখনো ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানির নিচে রয়েছে। ফোরকানের বাড়ি, পারিবারিক কবরস্থান এবং যাতায়াতের পথ প্লাবিত থাকায় মরদেহ ভেলায় করে শুকনা জায়গায় নিয়ে যেতে হয়েছে। পরে অনেক দূরের একটি উন্মুক্ত সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

ফোরকানের আরেক ছেলে রাসেল উদ্দিন বলেন, তাদের বাড়ির পাশেই পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে, যেখানে তার দাদা-দাদি এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের দাফন করা হয়েছে। তার বাবারও ইচ্ছা ছিল পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার। কিন্তু বন্যার কারণে সেই ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, বাবা মারা যাওয়ার সময় পারিবারিক কবরস্থানে কোমরসমান পানি ছিল। তাই বাধ্য হয়েই তাকে দূরের পাহাড়ি এলাকায় দাফন করতে হয়েছে।

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সাতকানিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত। গত দুই দিনে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন এখনো কমবেশি পানিতে প্লাবিত রয়েছে। এতে প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানান, সাঙ্গু নদীর সাতকানিয়া অংশে পানি এখনো বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাগরে উচ্চ জোয়ার এবং পাহাড়ে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে পানি নামতে সময় লাগছে।

সাতকানিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান বলেন, বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রোববার সকাল থেকে আবার ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ফলে নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়ার এবং আরও ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আমার দেশ

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

চট্টগ্রামে পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

 

ঘরবাড়িতে পানি। কোথাও কোমর, কোথাও বুক সমান কিংবা আরও বেশি। রান্নার ব্যবস্থা নেই, নেই পর্যাপ্ত ত্রাণ। ভেঙে পড়ছে কাঁচা ঘরবাড়ি। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চলছে চট্টগ্রামের পানিবন্দি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই। 

দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা অতীতে বুক চিতিয়ে সামলেছেন ঘূর্ণিঝড়সহ নানা বড় আকারের বিপর্যয়। সেই সাহসী মানুষগুলোই এবার বন্যার পানিতে দিশেহারা। তারা বলছেন, নিকট অতীতে বন্যার এমন রুদ্রমূর্তি আর দেখা যায়নি।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর একটি সাতকানিয়া। এ উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি। দিন কাটাচ্ছেন খেয়ে না খেয়ে। ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। নৌকা ছাড়া যাতায়াত করা যাচ্ছে না। ১০-১২ জন ধারণক্ষমতার একেকটি ইঞ্জিন নৌকা একদিনের জন্য ৪০-৫০ হাজার টাকা ভাড়া হাঁকছে। টাকা দিয়েও নৌকা মিলছে না। তাই হাসপাতাল এবং আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার মতো জরুরি প্রয়োজনেও মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করতে পারছেন না। বিশেষ করে সন্তানসম্ভবা নারীরা আছেন বেশি ঝুঁকিতে।

তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পানির নিচে থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। গত শুক্রবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢেমশা এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।

সাতকানিয়ার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থিত কেরানীহাট থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকার সড়কের একাধিক স্থানে পানি উঠে গেছে। যে কারণে সদরের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ঢেমশা বোর্ড অফিস হয়ে নৌকযোগে স্রোতের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে পৌঁছাতে হচ্ছে। তবে এ কাজটিও অনেক কষ্টকর। প্রয়োজনের সময় নৌকাও মিলছে না।

সাতকানিয়া উপজেলার ৯০ শতাংশ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, নৌকা ছাড়া যাতায়াত কঠিন। উপজেলা প্রশাসন কিছু নৌকা সংগ্রহ করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

চট্টগ্রামের সাগর উপকূলবর্তী বাঁশখালী উপজেলার প্রায় পুরোটাই বন্যা কবলিত। অধিকাংশ এলাকার রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির জন্য বিভিন্ন এলাকায় চলছে হাহাকার। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের আসকরিয়াপাড়া এলাকার বয়োবৃদ্ধ সৈয়দ নামের এক ব্যক্তি পানিতে নিমজ্জিত সড়কে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সহায়তার আকুতি জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি জন্মের পর ৬৭ বছরের জীবনে কখনো এত পানি দেখিনি।

বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের চাঁপাছড়ি এলাকার বাসিন্দা জুয়েল মল্লিক জানান, তাদের এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতে কোমর থেকে গলাসমান পানি। অনেক কাঁচাঘর ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে মাটির ঘর ধসে পড়ছে। সরকারি ত্রাণ এখনও ওই এলাকায় পৌঁছায়নি। বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করেছে। অনেক বাড়িতে রান্না করার মতো অবস্থা নেই। এ অবস্থায় না খেয়ে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

একই উপজেলার ছনুয়া এলাকার বাসিন্দা মো. সুহিন জানান, ওই এলাকার মাটির ঘরগুলো ধসে পড়ছে। অনেক বাড়িতেই এখনও কোমরসমান পানি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া গতকাল বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। তিনি জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার দক্ষিণাংশের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ এবং উত্তরাংশের হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য উপজেলাগুলোতেও কম-বেশি বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

কক্সবাজারে বন্যায় দুই শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি ৩ লাখ মানুষ

কক্সবাজারে বন্যায় দুই শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি ৩ লাখ মানুষ

 

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, নবগঠিত মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে মারা যায় স্থানীয় সোলতান আহমদের দুই বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলামের তিন বছর বয়সী ছেলে পুষ্পের মৃত্যু হয়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, নিহত দুই শিশুর পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি দ্রুত নামানোর জন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, বমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এ ছাড়া নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পানি প্রবেশ করেছে। এতে সড়ক, কৃষিজমি ও চিংড়ির ঘের তলিয়ে গিয়ে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, বাঁকখালী নদীর পানি ৫ দশমিক ৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬ দশমিক ৫৪ মিটারে পৌঁছেছে, যা উভয় ক্ষেত্রেই বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে।

তিনি জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে কন্ট্রোল রুমের ০১৮৭২৬১৫১৩২ নম্বরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার আহ্বান জানান।

এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, গত পাঁচ দিনে জেলায় প্রায় ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বন্ধু

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বন্ধু

 


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্কুলজীবনের বন্ধু প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬-এর ধারা-৫(২) অনুযায়ী তাকে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে এক বছর মেয়াদে তিনি চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের আগে প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের কর্ম-সম্পর্ক ছেড়ে দিতে হবে।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন মাস্টার কামাল হোসেনের ছেলে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৪ সালে তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন।

পেকুয়ায় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্কুলজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার স্ত্রী ও কন্যা উভয়ই চিকিৎসক এবং ছেলে বর্তমানে একটি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করছেন।

ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন

ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন





 চট্টগ্রামের ফৌজদরহাটে চট্টলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ফৌজদারহাটের বিএমএ গেইটে ঢাকাগামী ট্রেনটিতে এ ঘটনা ঘটে।

বিস্তারিত আসছে…

হান্নান মাসউদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকে আহত করার অভিযোগ

হান্নান মাসউদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকে আহত করার অভিযোগ


 নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রতিহিংসার জেরে জসিম উদ্দিন (৪৫) নামের এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ- ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে এ ঘটনা ঘটায়।

বুধবার রাতে চানন্দী ইউনিয়নের শিউলি একরাম বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত জসিম উদ্দিন (৪৫) চানন্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর গ্রামের মো. ইসলামের ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, জসিম বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার পথে এনসিপি নেতা দিদার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (ছুরি, চাপাতি) নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ‘ধর ধর’ বলে জসিমকে কোপাতে শুরু করে। ভয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেনি। পরে টহলরত নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

হাতিয়া উপজেলা বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনের প্রধান সিফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, আব্দুল হান্নান মাসউদ তার নিশ্চিত পরাজয় জেনে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা করছেন। ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভোটদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনগণকে দমন-পীড়ন ও সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করে ধানের শীষের জোয়ার থামানো যাবে না।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও হান্নান মাসউদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয় উপজেলা বিএনপি।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশসহ নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাঁশখালীর ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত

বাঁশখালীর ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত

 


চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূল গন্ডামারায় অব‌স্থিত ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশ প্রতিনিধিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন একজন প্রকল্প সং‌শ্লিষ্ট কর্মকর্তা । তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) তিন হাজার কোটিরও বেশি টাকা বকেয়া রাখায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিপিডিবি বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় এসএস পাওয়ার আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দিবে। কেননা, বকেয়ার পরিমাণ বেশি হওয়ার পাশাপাশি কয়লা বুকিং দেয়ার মতও পর্যাপ্ত টাকা বর্তমানে এসএস পাওয়ারের কাছে নেই। এসএস পাওয়ার সুদূর ইন্দোনেশিয়া থেকেই কয়লা আমদানি করে থাকে।

এদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুৎ চাহিদার পরিমাণ ১৬০০ মেগাওয়াট। তার মধ্যে এসএস পাওয়ার থেকেই সরবরাহ করা হয় ১২২৪ মেগাওয়াট। এস এস পাওয়ার বন্ধ হয়ে গেলে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নেমে আসবে এবং দেশ বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

চী‌নের সেফ‌কো থ্রির উ‌দ্যো‌গে পরিচালিত ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শুরু থে‌কে নানা ঘটনার জন্ম‌দি‌লেও এ কেন্দ্র থে‌কে জাতীয় গ্রী‌ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ যুক্ত হওয়ার পর জনগণ-এ থেকে আশার আ‌লো দেখেছিল।

উ‌ল্লেখ্য, ২০২৩ সা‌লের ১৪ জানুয়ারি বাঁশখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টটি জাতীয় গ্রিডের ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর গত ২৪ মে থেকে জাতীয় গ্রিড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ও চীনের সেফ‌কো থ্রির মালিকানাধীন ২০১৬ সালে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় এই বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও এসএস পাওয়ারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। পরবর্তীতে এস আলম গ্রুপ থেকে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টটি নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসেন চীনের সেফ‌কো থ্রি কোম্পানি, এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সূত্র : আমার দেশ

সন্দ্বীপে ফসলের ক্ষতি ঠেকাতে পাখি নিধন, উঠছে প্রশ্ন

সন্দ্বীপে ফসলের ক্ষতি ঠেকাতে পাখি নিধন, উঠছে প্রশ্ন

 


গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ফসলের ক্ষতি বাঁচাতে চড়ুই পাখি নিধনের এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চীন। লাখ লাখ পাখি মারার পর দেখা গেল উল্টো চিত্র—প্রাকৃতিক প্রহরী না থাকায় পোকামাকড়ের অবাধ আক্রমণে উজাড় হয়ে গেল সব ফসল, নেমে এল ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। সেই ঐতিহাসিক ভুলেরই যেন ক্ষুদ্র সংস্করণ আজ মঞ্চস্থ হচ্ছে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। ফসল রক্ষার অজুহাতে এখানেও চলছে প্রকৃতির বন্ধু পাখিদের নির্বিচার গণহত্যা।

সন্দ্বীপের সন্তোষপুর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন একটি বরই গাছে নিথর হয়ে পড়ে আছে কয়েকটি পাখির ডিম। যে মা পাখিটি ডিমে তা দিয়ে নতুন প্রাণের অপেক্ষায় ছিল, সে এখন পাশের ক্ষীরাখেতের উপর টাঙানো জালে ঝুলে থাকা একখণ্ড নিষ্প্রাণ দেহ। কৃষকের দৃষ্টিতে সে ছিল ফসলের শত্রু।

সন্দ্বীপের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠগুলোতে এখন সবুজের ওপর দেখা যায় এক অদ্ভুত ধোঁয়াশা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কুয়াশা, কিন্তু কাছে গেলেই গা শিউরে ওঠে। ওগুলো আসলে কৃষকের পাতা অতি সূক্ষ্ম কারেন্ট জাল। সকাল-সন্ধ্যা খাবারের খোঁজে নিচে নামলেই এই অদৃশ্য মরণফাঁদে আটকে যাচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। ফসলের ক্ষেতগুলো পরিণত হয়েছে পাখিদের বধ্যভূমিতে।



ভোরের আলো ফুটতেই পাখির কিচিরমিচিরে যে জনপদ মুখর হওয়ার কথা, সেখানে এখন শুধুই মৃত্যুর নীরবতা। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী নুরুল আনোয়ার প্রায়ই এই নির্মম দৃশ্য দেখেন। তিনি বলেন, সেদিন সকালেও জালের সুতায় পেঁচিয়ে যাওয়া একটি ছটফটরত বুলবুলি পাখিকে দেখতে পাই। অনেক কসরত করে জালের বাঁধন কেটে পাখিটিকে আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সবার ভাগ্য তো আর সুপ্রসন্ন হয় না। নুরুল আনোয়ার আক্ষেপ করে বলেন, একটাকে বাঁচাতে গিয়ে দেখি পাশেই আরেকটা মরে শক্ত হয়ে আছে। সাদা সুতার জালে রক্ত মেখে ঝুলে আছে নিষ্পাপ প্রাণগুলো। কোনোটা সদ্য মারা গেছে, কোনোটা আবার রোদে শুকিয়ে মমি হয়ে ঝুলে আছে।

কেন প্রকৃতির এই সুন্দর সন্তানদের হত্যা করা হচ্ছে? কৃষকদের দাবি, ফসল বাঁচাতেই তাদের এই কঠোর অবস্থান। সন্তোষপুর এলাকার কৃষক মো. মহব্বতের ক্ষীরাখেতে গিয়ে দেখা যায় এক মর্মান্তিক দৃশ্য। জালের গায়ে মরে শুকিয়ে আছে একটি ফিঙে পাখি। অন্য পাখিদের ভয় দেখাতে ইচ্ছা করেই তিনি মরা পাখিটি সরাননি।

এই নির্মমতার বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষক মহব্বত বলেন, ভাবলাম, যত বুলবুলি মরবে, তত আমার ফসলের শত্রু কমবে। অথচ কৃষিবিজ্ঞান বলে ভিন্ন কথা। ফিঙে বা বুলবুলি ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে উল্টো কৃষকের উপকারই করে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে কৃষকরা বন্ধুকেই শত্রু ভেবে হত্যা করছেন। একসময় এই চরাঞ্চল ঘুঘু, বাবুই, মাছরাঙা, টিয়া আর হরেক রকমের পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকত। স্থানীয়রা বলছেন, এখন আর আগের মতো পাখির ডাক শোনা যায় না। কেবল পাখি নয়, এই সর্বনাশা জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে গুইসাপ ও বেজির মতো প্রাণীও।



স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা মারুফ হোসেন আমার দেশকে বলেন, আমরা কৃষকদের জালের বদলে ড্রাম বাজানো বা অন্য পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি।

উপজেলা বন রক্ষক কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, পাখি নিধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, শীঘ্রই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সূত্র : আমার দেশ

একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন এক মা

একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন এক মা

 


চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান প্রসব করেছেন এক গৃহবধূ। সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একে একে পাঁচটি সন্তান প্রসব করেন এনি আক্তার (৩০) নামের এই নারী।

নগরের পিপলস হসপিটালে জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতকের মধ্যে দুটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে। পাঁচটি শিশুই এখন সুস্থ আছে। তবে সাবধানতার জন্য নবজাতকদের পার্কভিউ হসপিটালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়েছে।

জানা যায়, ১০ বছর আগে এনি  আক্তার ও সুমনের বিয়ে হয়। কিন্তু তাদের বাচ্চা হচ্ছিল না। পরে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমির পরামর্শ নেন। তিনি তাদের ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশনের (আইইউআই) পরামর্শ দেন। আইইউআই করে প্রথম মাসেই সফল হন এই দম্পতি।

প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি বলেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়েছে। সেগুলো প্রিম্যাচ্যুর বেশি। আমরা আগে যতগুলো পরীক্ষা করেছি সবসময় চারটি বাচ্চা পাই। অস্ত্রোপচার শেষ করে চারটি বাচ্চা বের হওয়ার পর যখন শেষ করছিলাম, আশ্চর্যজনকভাবে দেখতে পাই আরও একটি বাচ্চা রয়েছে। এর মধ্যে একটা বাচ্চার ওজন ১৬০০ গ্রাম, একটি ১৫০০, আরেকটি ১৪০০ গ্রাম এবং বাকি দুটি ১ কেজি।

এর আগে, সোমবার বিকাল ৪টায় পিপলস হাসপাতালে ভর্তি হন এনি আক্তার। এর আধা ঘণ্টা পর একে একে পাঁচ সন্তান প্রসব করেন। সোমবার রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ওই নারী পিপলস হসপিটালের লেবার কক্ষে ছিলেন। সেখান থেকে কেবিনে পাঠানো হবে।

জানা যায়, বিকেলে এনি ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন। এরপর লেবার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সুমি ম্যাডামের তত্ত্বাবধানে পাঁচটি বাচ্চার জন্ম হয়।

এনি আক্তারের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। তার স্বামীর নাম ওয়াহিদুল ইসলাম সুমন। তিনি ব্যবসায়ী। পার্কভিউ হাসপাতালে এনির শাশুড়ি নুর নাহার ও তার ছেলে ফরিদুল আলম রয়েছেন। সুমন রয়েছেন স্ত্রীর সাথে পিপলস হসপিটালে।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

 যাত্রীবাহী বোটসহ ৪৫ যাত্রীকে উদ্ধার করলো কোস্ট গার্ড - টেকনাফে

যাত্রীবাহী বোটসহ ৪৫ যাত্রীকে উদ্ধার করলো কোস্ট গার্ড - টেকনাফে

 

টেকনাফের শাহপরী এলাকায় ইঞ্জিন বিকল হওয়া একটি যাত্রীবাহী বোট থেকে ৪৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, বৃহস্পতিবার (০৪ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় এম ভি মায়ের দোয়া নামের একটি যাত্রীবাহী বোট কায়োকখাল থেকে ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে বোটটি শাহপরীর সংলগ্ন গোলারচর এলাকায় পৌঁছালে শ্যাফট ভেঙে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়, ফলে বোটটি সমুদ্রে ভাসতে থাকে।

ঘটনার তথ্য পাওয়ার পর কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরীর একটি টহল দল সমুদ্রে ভাসমান বোটটি দেখতে পায় এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ৪৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখবে।’

সূত্র: News24bd.tv