The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বছরে সাশ্রয় হতে পারে ১০০ কোটি ডলার

Saturday, August 22, 2026 The National Press
রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বছরে সাশ্রয় হতে পারে ১০০ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে চলছে শেষ ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব ধরনের পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সফলভাবে শেষ হলে ধাপে ধাপে গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুতে রূপপুরের প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের হিসাব বলছে, রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে বিকল্প জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন কমে যাওয়ায় প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। বছরে এই সাশ্রয়ের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প হিসেবে কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের ওপর।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাছান জানিয়েছেন, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনের কাজ আগামী ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ইতোমধ্যে প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল শেষ পর্যায়ের পরীক্ষাগুলো চলছে। প্রতিটি ধাপই বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নিউক্লিয়ার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলামের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন বেইসলোড বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। ফলে তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের ওঠানামার প্রভাবও দেশের বিদ্যুৎ খাতে তুলনামূলকভাবে কমবে।

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালনব্যবস্থার কমিশনিংয়ের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রিড ও সঞ্চালন অবকাঠামোর আরও কিছু প্রস্তুতি প্রয়োজন হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো নয়, দেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: ইত্তেফাক