The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ৫ আগস্ট: শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন

বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ৫ আগস্ট: শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। ঘটনাটি শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর ও সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতার পরিবর্তন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীতে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করলে হাজারো মানুষ গণভবনের দিকে অগ্রসর হয়। পরিস্থিতির একপর্যায়ে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। এর মাধ্যমে টানা প্রায় দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্ব

বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, কয়েক সপ্তাহের সহিংস বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে গেলে বাংলাদেশজুড়ে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রতিবেদনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও কোটা আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির সিদ্ধান্তের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

রয়টার্স জানায়, কোটা সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। শত শত প্রাণহানির পর শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব পায়।

সিএনএন প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। একই সঙ্গে সেনাপ্রধানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বানও তুলে ধরা হয়।

দ্য গার্ডিয়ান লিখেছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।

এনপিআর জানায়, হাজারো ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণ করবে না এবং সহিংসতার তদন্ত হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে পরিণত হয়। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

দ্য ডিপ্লোম্যাট তাদের বিশ্লেষণে লিখেছিল, হাজারো বিক্ষোভকারীর চাপ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন, যার মাধ্যমে তার দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া

শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর জাতিসংঘ শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর, সংযম এবং দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানায়।

এদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, কয়েক সপ্তাহের গণবিক্ষোভের পর এই রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। সংস্থাটির তথ্যমতে, আন্দোলনের সময় আনুমানিক ৩০০ জন নিহত, হাজারো মানুষ আহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন।

অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা

পদত্যাগের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব সংগঠনকে এনসিপির কৃতজ্ঞতা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব সংগঠনকে এনসিপির কৃতজ্ঞতা


ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রক্তাক্ত জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখা বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় দলটি জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ছাত্র ইউনিয়নসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী ও জুলাইপন্থি সব ছাত্রসংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের অবদান তারা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

এনসিপি আরও জানায়, গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সাধারণ জনগণের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। সংগঠনটি আন্দোলনে অবদান রাখা সব ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানিয়েছে।

সৌদি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, সৌরবিদ্যুৎ খাতে জোর

সৌদি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, সৌরবিদ্যুৎ খাতে জোর


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষত সৌরবিদ্যুৎ খাতে সৌদি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এল-খেরেইজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায়।

জবাবে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে সৌদি আরব আগ্রহী।

তিনি জানান, সৌদি আরব প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সি-ফুড, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী।

বৈঠকে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানেরও প্রশংসা করেন। পাশাপাশি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাতের শেষদিকে ওয়ালিদ এল-খেরেইজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধি দলে দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

দুই দিনের সফরে ঢাকায় সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা ইস্যুতে হবে আলোচনা

দুই দিনের সফরে ঢাকায় সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা ইস্যুতে হবে আলোচনা


নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এলখেরেজি। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য কৌশলগত ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে।

সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সফরকালে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও মতবিনিময় হবে।

দুই দিনের সরকারি সফর শেষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এলখেরেজির।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ধর্মীয় সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ-সৌদি বিমান চলাচল চুক্তি হালনাগাদে উদ্যোগ, সপ্তাহে ৮৪ ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব

বাংলাদেশ-সৌদি বিমান চলাচল চুক্তি হালনাগাদে উদ্যোগ, সপ্তাহে ৮৪ ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লটসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করা এবং হজ-ওমরাহ যাত্রীদের ভ্রমণ আরও নির্বিঘ্ন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিভিল অ্যাভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সোমবার সৌদি আরব সফরে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সমস্যা ও ফ্লাইট শিডিউলসংক্রান্ত জটিলতার সমাধানে এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর হজ মৌসুমে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লট পেতে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। শেষ মুহূর্তে স্লট বরাদ্দ, অনুপযুক্ত সময়ে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি এবং আকস্মিক শিডিউল পরিবর্তনের কারণে হজযাত্রীদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোকেও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দুই দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স মিলিয়ে সপ্তাহে ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। তবে সৌদি আরবে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী, ওমরাহ যাত্রী এবং হজ মৌসুমের অতিরিক্ত যাত্রীর তুলনায় এই সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। ফলে টিকিটের সংকট এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সপ্তাহে ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব দেবে। অর্থাৎ বর্তমানে পরিচালিত ৪৯টি ফ্লাইটের সঙ্গে আরও ৩৫টি অতিরিক্ত সাপ্তাহিক ফ্লাইট যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনা রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়বে। এতে টিকিট সংকট কমবে এবং ভাড়া স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাজনক সময়ে ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লট না পাওয়ার সমস্যায় ভুগছে। অনেক সময় মধ্যরাত বা অনুপযুক্ত সময়ে স্লট পাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

এবারের সফরে প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি সৌদি স্লট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপারেশনাল সমস্যা, স্লট বণ্টনের জটিলতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরাও তাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথের যোগাযোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নতুন সমঝোতা স্মারক বা দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে শুধু বিমান সংস্থাগুলোর বাণিজ্যিক সুযোগই বাড়বে না, বরং সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের যাতায়াত আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক হবে।

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা সম্ভব: মির্জা ফখরুল

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা সম্ভব: মির্জা ফখরুল

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, “জুলাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যারা গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন শক্তি ও প্রেরণা যোগ করেছে। শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের ফলে দেশের সামনে পরিবর্তনের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য বিভাজন ও সংঘাত নয়, বরং সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সনদ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে সংসদে সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আলোচনার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও পেশাগত সমস্যাগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত সাংবাদিকদের পরিবারের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের অধিকাংশ বিষয়ের সঙ্গে একমত হলেও গণভোটের প্রশ্নে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। তবে দলটি জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য ও সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐক্যের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে একটি কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠাই হবে তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন।

আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে, জামিন বাতিলের উদ্যোগ সরকারের

বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে, জামিন বাতিলের উদ্যোগ সরকারের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের কাছে অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ কারণে আদালতের মাধ্যমে তার জামিন বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বেনজীরের কাছে অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।”

তিনি জানান, রোববার বিকেলে সরকার জানতে পারে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীর আহমেদকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার শর্তে জামিন দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জানার পরই সরকারের নিয়োজিত আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল ফার্ম)কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সচিব ইউএইর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আদালত কী কী শর্তে জামিন দিয়েছেন, তার প্রত্যয়নিত (সার্টিফায়েড) কপি সংগ্রহের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে জমা দেওয়ার জন্য ল ফার্মকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আদালতের মাধ্যমে তার জামিন বাতিলের আবেদন করা।

সরকার দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার পরও কেন তাকে জামিন দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে আদেশের প্রত্যয়নিত কপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতে পাচারের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

ভারতে পাচারের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

 

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ভারতে পাঠানোর আগে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

শনিবার রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ কার্যালয়ে অবস্থিত টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, বিচারপতিদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল কথিত নির্যাতনকক্ষের বাস্তব অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা। তিনি বলেন, এই পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ ও তথ্য মামলার বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কথিত ‘আয়নাঘর’ বা টিএফআই সেল-সংক্রান্ত কোনো আলামত নষ্ট কিংবা গোপন করার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, মামলার আসামিদের আইনজীবীরা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘টিএফআই সেল’ নামে কোনো গোপন বন্দিশালা নেই এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে র‍্যাবের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উত্তরার র‍্যাব-১ কার্যালয়ে পৌঁছান। পরে তারা টিএফআই সেল হিসেবে চিহ্নিত স্থানটি পরিদর্শন করেন।

কথিত গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে র‍্যাবে দায়িত্ব পালনকারী ১০ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন, হারুন অর রশিদ এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ টিএফআই সেল পরিদর্শনের অনুমতি দেয়। সেই আদেশের ভিত্তিতেই শনিবার বিচারপতিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সূত্র: বিডি প্রতিদিন

শিগগিরই ঢাকা সফরে আসতে আগ্রহী আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

শিগগিরই ঢাকা সফরে আসতে আগ্রহী আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

 

ইরানের হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতি সংহতি প্রকাশ করায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইউএইর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ ইউএই দূতাবাস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইউএই প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার অবস্থান দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।

চিঠিতে ইরানের হামলায় ইউএইতে বসবাসরত দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

ইউএই প্রেসিডেন্ট অর্থনীতি, উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও মানবিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও সাদরে গ্রহণ করেছেন শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সুবিধাজনক প্রথম সুযোগেই সরকারি সফরে ঢাকা আসতে চান। এ সফর বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও গতিশীল করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে গড়ে ওঠা বহুমাত্রিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে।

ভারত পালানোর চেষ্টাকালে আটক ‘ডেভিড ইমন’, চট্টগ্রামে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ

ভারত পালানোর চেষ্টাকালে আটক ‘ডেভিড ইমন’, চট্টগ্রামে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ

 

চট্টগ্রামের আলোচিত অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ মোবারক হোসেন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’কে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের দাবি, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে বুধবার গভীর রাতে তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নাজিমুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান চলছিল। যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে চট্টগ্রামে নেওয়া হবে। সেখানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেভিড ইমনকে ধরতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ফটিকছড়ি উপজেলাসহ কয়েকটি স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার এবং কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি পুলিশের।

অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক বলেন, "চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডেভিড ইমনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চলবে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।"

পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা, আধিপত্য বিস্তার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায়ও তার নাম সামনে আসে। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক এবং পলাতক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামে সক্রিয় অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ডেভিড ইমনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য পলাতক ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে জোর আলোচনা, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে জোর আলোচনা, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই

 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি শিগগিরই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার একটি কথিত গোপন ফোনালাপ সামনে আসার পর এই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে সূত্রগুলোর ভাষ্য।

তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বাস্থ্যগত কারণেই দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করতে চান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে সেখানেই তিনি হৃদরোগের চিকিৎসা ও বাইপাস সার্জারি করিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি তার এই ব্যক্তিগত ইচ্ছার কথা বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠজনদের অবহিত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২০২৩ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে দায়িত্বে থাকা শীর্ষ সাংবিধানিক ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমানে তিনিই একমাত্র দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি ৯ মে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই ফোনালাপের বিষয়ে অবগত হওয়ার পর তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

তবে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, সম্ভাব্য পদত্যাগের পেছনে শুধু ওই ফোনালাপই কারণ নয়। তার মতে, বিষয়টি আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা সম্প্রতি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানানোর পর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে গত ১০ জুলাই প্রকাশিত রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। একই সময়ে দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন নিয়েও কিছু তৎপরতা নজরদারিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিএনপির ওই নেতার মতে, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ সরকারের পক্ষ থেকে একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। এর মাধ্যমে সরকার বোঝাতে চাইবে যে দেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারে- এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে রাষ্ট্রপতি ঠিক কবে পদত্যাগ করবেন কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন।

এর আগে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শেষে মেয়াদের মাঝপথেই দায়িত্ব ছাড়তে চান। একই সময়ে তিনি দাবি করেছিলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।

পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’। সূত্রটির ভাষ্য, ‘তিনি আজ বা কাল দায়িত্বে থাকবেন না- এটাই স্বাভাবিক বাস্তবতা।’

একই সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি অতীতের কিছু রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন- এমন তথ্য সরকারের অসন্তোষের কারণ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী সময়ের কোনো ব্যক্তিকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বহাল রাখা বর্তমান সরকার আর সমীচীন মনে করছে না বলেও সূত্রটি উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এক-দুই দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে একই সূত্র জানায়, আগামী ২৯ জুলাই চারটি দেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণের একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রাষ্ট্রপতির রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে সৌদি প্রবাসীদের উদ্বেগ, সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে সৌদি প্রবাসীদের উদ্বেগ, সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি

সৌদি আরবের মক্কা, জেদ্দা, মদিনাসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যুর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাংশ সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশি। তাদের আশঙ্কা, এ প্রক্রিয়ার ফলে প্রকৃত বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান, দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

প্রবাসীদের দাবি, সৌদি আরবে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যুর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশি পরিচয়ে এসব ব্যক্তিরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর পড়তে পারে।

এছাড়া সৌদি আরবের শ্রমবাজারে প্রকৃত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের মতে, বাংলাদেশি পরিচয়ে নতুন কর্মী যুক্ত হলে নিয়োগদাতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, যা বৈধভাবে কর্মরত বাংলাদেশিদের স্বার্থের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, কনস্যুলেটে পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে প্রকৃত বাংলাদেশিদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রচণ্ড গরমেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় সেবা প্রত্যাশীদের। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারী যুক্ত হলে বিদ্যমান চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

তাদের আরও দাবি, কনস্যুলার সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়া, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া এবং আর্থিক ক্ষতির মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন প্রবাসীরা। এ কারণে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থ ও সেবার মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

প্রবাসীদের মতে, জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের বর্তমান অবকাঠামো ও সেবার পরিধি সৌদি আরবে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির তুলনায় যথেষ্ট নয়। তারা কনস্যুলেট ভবনের পরিসর বৃদ্ধি, জনবল বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো তুলনামূলকভাবে বড় পরিসরে এবং আরও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সেবা প্রদান করে। বাংলাদেশ কনস্যুলেটেও একই ধরনের উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ অবস্থায় মক্কা, জেদ্দা, মদিনাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের একটি অংশের কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। পাশাপাশি অবশিষ্ট আবেদনগুলোর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে একটি বিশেষ টিম সৌদি আরবে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।

পাসপোর্ট ইস্যুর পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, যথাযথ যাচাই এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশিরা।

আইন অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পু: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইন অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পু: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


 সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) আইন অনুযায়ী একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান-সংক্রান্ত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার সরকারের শেষ পর্যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময় এবং বর্তমান সরকারের প্রায় ছয় মাস তিনি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্বে থাকাকালে সংবিধান অনুযায়ী তিনি সাংবিধানিক সুরক্ষা (প্রিভিলেজ) ভোগ করেছেন। ফলে দায়িত্ব পালনের সময়ের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনের সময়ের বাইরে কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগতভাবে কোনো বক্তব্য দিয়ে থাকেন, সেটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে। তবে এ ধরনের কোনো বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত আমলে নেওয়ার মতো কিছু খুঁজে পায়নি।

এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে যে কেউ সমালোচনা বা অভিযোগ উত্থাপন করতে পারেন। তবে এ পর্যন্ত যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে সরকারের বিবেচনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো বিষয় পাওয়া যায়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) ও প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর মাধ্যমে ছয় মাস নিরাপত্তা দেওয়ার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, মো. সাহাবুদ্দিনও সেগুলোই পাবেন।

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি ব্যক্তিগত কারণ ও শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরই তা কার্যকর হয়েছে বলে একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এ কারণে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পদত্যাগের বিষয়টি আগে থেকেই সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে জানা ছিল।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনাটি শিবির ও ছাত্রীসংস্থার জন্যও একটি ‘লিটমাস টেস্ট’: আবিদ

ঘটনাটি শিবির ও ছাত্রীসংস্থার জন্যও একটি ‘লিটমাস টেস্ট’: আবিদ


 একটি সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আবিদ। তিনি বলেন, “ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ইস্যু নয়, এটি শিবির ও ছাত্রীসংস্থার জন্যও একটি লিটমাস টেস্ট।”

এক প্রতিক্রিয়ায় আবিদ বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অবস্থান, দায়িত্বশীলতা এবং নৈতিক অবস্থান জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া জরুরি। কোনো অনিয়ম বা বিতর্কের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ব্যক্তি বা সংগঠন—সবারই জবাবদিহির আওতায় থাকা উচিত। কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে পক্ষপাত বা দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণ না করে ন্যায়সংগত অবস্থান নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আবিদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর আদর্শ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং জনআস্থারও পরীক্ষা। তাই বিষয়টি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।

২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,০০৮

২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,০০৮

 

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮ জন রোগী শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু। তাদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আর কিছু রোগী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুরুতর অসুস্থদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকাদান কর্মসূচির আওতায় না থাকা শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই অভিভাবকদের শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ রোধে দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে লালচে র‍্যাশ, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

২০ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে না এসএসসি পরীক্ষার ফল

২০ জুলাই প্রকাশ হচ্ছে না এসএসসি পরীক্ষার ফল

 

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশের সম্ভাব্য সময় থাকলেও তা হচ্ছে না। প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে ফল প্রকাশের নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আসছে।

 তবে নতুন তারিখ এখনো নির্ধারণ না হলেও চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শনিবার (১৮ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘২০ জুলাই ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না। এইচএসসি নিয়ে নানান জটিলতার কারণে আমরা ফলাফল প্রস্তুত করতে পারিনি। আমরা মাসের শেষের দিকে ফলাফল প্রকাশ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

 এ মাসেই ফলাফল প্রকাশ হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সবকিছু প্রস্তুত করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় আমাদের জন্য তা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী আজ বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। 

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।’ 

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনি ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।’

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।’ 

তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার (Judicial Process) মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক।’

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।’

সালাহউদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে। 

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।’

জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের।’ 

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী ‘৭১ ও ‘২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়নে রাজনীতিকরণ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়নে রাজনীতিকরণ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশ স্বাধীনের পরে প্রকৃত শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়ন যাদের দায়িত্ব ছিল তারা সেটাকে রাজনীতিকরণ করেছে।’

তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে যখন দেশ স্বাধীন হলো এ সময় যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এ দায়িত্ব যাদের ছিল তারা সেটিকে সঠিকভাবে না করে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে এ তালিকা করেনি।’

এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এ তালিকা প্রণয়নে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘যেখানে আমরা চেষ্টা করব সঠিক যারা মুক্তিযোদ্ধা, সঠিক যারা শহীদ তাদেরকে চিহ্নিত করা জন্য।’

বুধবার পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

একাত্তরের শহীদ পরিবারের ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা রুহুল আমীন দুলালের এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার দলের নির্বাচনি অঙ্গীকার মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যাগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয় গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।’

তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ও সকল শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহনযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।’

দলীয়করণমুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক  প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে আপনাকে একটু আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং শুধু তাই নয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দ্বারা গঠিত এই দল। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র একটি দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই আমি বলেছিলাম, দেশ স্বাধীনের পরে তাদের দায়িত্ব ছিলো সঠিকভাবে শহীদদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা, তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, তারা সেটা নিরপেক্ষভাবে সঠিকভাবে করেনি।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তিতে বিভিন্ন সময়ে এই লিস্ট তৈরিতে বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সরকার চেষ্টা করছে যাতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে নিয়ে একটির পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করতে পারি।’

এর আগে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকাল তিনটায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম ত্রিশ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্ব।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিলো ৭টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন। এরমধ্যে তিনি নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটে তিনটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও এই সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘লম্বা লুঙ্গি’ পরার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘লম্বা লুঙ্গি’ পরার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

 

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে নাগরিকদের মশারি টানিয়ে ঘুমানোর পাশাপাশি ফুলহাতা শার্ট, পাজামা অথবা লম্বা লুঙ্গি পরার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ কাজে সিভিল সার্জন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানান, বিভিন্ন এলাকার ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন ছাড়াও দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় নিয়মিত প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধনে স্প্রে এবং লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ ট্যাবলেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের ফলে মশার উপদ্রব এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমে এসেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মশা খুবই ছোট একটি কীটপতঙ্গ হলেও ঘনবসতিপূর্ণ ও বৃষ্টিপ্রবণ দেশে এটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিভিন্ন বাড়ির ছাদে টব কিংবা অন্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে সহজেই এডিস মশার প্রজনন হয়। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা এসব স্থান পরিদর্শনে গেলে অনেক সময় বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এমনকি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময়ও বাধার মুখে পড়তে হয়।

তিনি আরও বলেন, নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশা নিধনে স্প্রে, লার্ভা ধ্বংসে ট্যাবলেট প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা এবং পাজামা কিংবা লুঙ্গি লম্বা করে পরার মতো ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক অভ্যাস গড়ে তুলতে দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।