The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসছে ১০০ গাড়ি, বাড়ছে ঢাকা-ইসলামাবাদ বাণিজ্য

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসছে ১০০ গাড়ি, বাড়ছে ঢাকা-ইসলামাবাদ বাণিজ্য

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি সেপ্টেম্বরেই পাকিস্তান থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশে আসছে স্থানীয়ভাবে সংযোজিত ১০০টি গাড়ি। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে বড় পরিসরে গাড়ি বাণিজ্যের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে পাকিস্তানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমজেডব্লিউ মোবাইল পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রেনকন গ্রুপের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির আওতায় প্রথম ধাপে ২০২৬ সালে ১০০টি গাড়ি বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী বছর থেকে বাণিজ্যিক পরিসরে রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্ভাব্যভাবে বছরে প্রায় ৫ হাজার গাড়ি আমদানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ব্যবসায়িক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান থেকে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্যও বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ গাড়ির বাজারে পরিণত হতে পারে।

শুধু গাড়ি রপ্তানিই নয়, বাংলাদেশের অংশীদার প্রতিষ্ঠানকে গাড়ি সংযোজন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে পাকিস্তানি পক্ষের। এর ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে অটোমোবাইল খাতের সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।

শিক্ষা ও ক্রীড়াতেও সহযোগিতা

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

চলতি বছরের জুনে ঢাকায় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বাংলাদেশের সরকারি স্কুলগুলোর জন্য ১ হাজার ফুটবল দেওয়ার কথা জানান। একই সময়ে বাংলাদেশের ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন ও দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আলোচনায় এসব বৃত্তির ঘোষণা আসে। এর মাধ্যমে প্রকৌশল, চিকিৎসা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়তে পারে।

নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

গাড়ি আমদানির সম্ভাব্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা খাতে বৃত্তি এবং ক্রীড়া ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা—সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বাণিজ্যিক বাস্তবতা, পারস্পরিক চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় নীতির ওপর।

সূত্র: বাংলা এডিশন

খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢুকছে ‘নীরব বিষ’, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

খাবারের সঙ্গে শরীরে ঢুকছে ‘নীরব বিষ’, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

খাবার শুধু ক্ষুধা মেটায় না, সুস্থ থাকারও অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু সেই খাবারেই যদি মিশে থাকে ক্ষতিকর রাসায়নিক, অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ কিংবা মাইক্রোপ্লাস্টিক, তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসই হয়ে উঠতে পারে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। দেশে খাদ্য ও নিত্যব্যবহার্য পণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা ও পরীক্ষার তথ্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ খাবার ও খাদ্যদূষণের প্রভাবে তাৎক্ষণিক অসুস্থতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অনিরাপদ খাবারের কারণে ২০০টিরও বেশি রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

ব্রয়লার মুরগি নিয়েও উদ্বেগ

দেশের মানুষের কাছে তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা অনেক। তবে মুরগির মাংসে অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ থাকার বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর তার অবশিষ্টাংশ মাংসে থেকে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন খাবার গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ উৎপাদন ও যথাযথ নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ফল-সবজি ও মিষ্টিতেও প্রশ্ন

শুধু মাংস নয়, ফলমূল ও শাকসবজিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। একইভাবে কেক ও জিলাপির মতো জনপ্রিয় খাবারে অননুমোদিত রং বা রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ক্ষতিকর উপাদান দীর্ঘদিন শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

পাউরুটিতেও ক্ষতিকর রাসায়নিকের তথ্য

পাউরুটি অনেকের প্রতিদিনের খাবারের অংশ। বিশেষ করে অসুস্থ মানুষদের জন্য এটি সহজলভ্য খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ২০২১ সালের একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৯টি পাউরুটির মধ্যে ১৬টিতে অতিরিক্ত মাত্রায় পটাশিয়াম ব্রোমেট পাওয়া গিয়েছিল।

গবেষণায় এসব নমুনায় পটাশিয়াম ব্রোমেটের মাত্রা ৩ দশমিক ৩১ থেকে ১২ দশমিক ৯১ পিপিএম পর্যন্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিলাপি নিয়েও সতর্কতার প্রয়োজন

বাঙালির প্রিয় মিষ্টান্ন জিলাপি নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। জিলাপিকে দীর্ঘক্ষণ মুচমুচে রাখা কিংবা দেখতে আকর্ষণীয় করতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে মানুষের স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তাই খাবার তৈরির ক্ষেত্রে অনুমোদিত উপকরণ ব্যবহার এবং নিয়মিত বাজার তদারকি জরুরি।

টুথপেস্টেও মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

খাদ্যের বাইরেও নিত্যব্যবহার্য পণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ESDO) একটি গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল।

গবেষণাসংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

কঠোর নজরদারির দাবি

খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি উৎপাদন পর্যায় থেকেই নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জব্বার মন্ডল বলেন, ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান মেশানো চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু ভোক্তার সচেতনতা যথেষ্ট নয়। উৎপাদক, ব্যবসায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত পরীক্ষা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে খাদ্যঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব

নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়, ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়, ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

ফেনীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম।

যেভাবে হত্যার শিকার হন নুসরাত

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষায় অংশ নিতে মাদরাসায় গিয়েছিলেন নুসরাত। ওই দিন তাকে পরিকল্পিতভাবে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

আগুনে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল

নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় ২০১৯ সালের ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে একই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেন।

পরবর্তী সময়ে ওই রায়ের ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিদের পক্ষ থেকে আপিল ও জেল আপিলও করা হয়।

সেসব আবেদন ও মামলার নথি পর্যালোচনার পর হাইকোর্ট আজ রায় ঘোষণা করেন। এতে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও চারজনকে যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

নুসরাত হত্যা মামলা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

হাইকোর্টের আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির আপিল পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ শেষ হলো।

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ঢাকা

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ঢাকা। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক বাস্তবতা ও পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ কথা জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন আসছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উদ্যোগের সম্ভাব্য সুবিধা-অসুবিধা বাংলাদেশ যাচাই করে দেখবে।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় আন্তর্জাতিক কোনো জোট, প্রতিরক্ষা কাঠামো কিংবা সহযোগিতামূলক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থই হবে সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ। তাই কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন সিদ্ধান্ত ঢাকা নিতে চায় না। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতাও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কেও অগ্রগতি

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে ধীরে ধীরে আরও সক্রিয় হচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশই আগ্রহী।

সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সফরটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, শ্রম ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নতুন করে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হলে দুই দেশের সম্পর্কের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

তবে সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতীয় স্বার্থ ও সামগ্রিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: ইত্তেফাক

জিয়া ও শেখ পরিবার: ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে দুই পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান

জিয়া ও শেখ পরিবার: ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে দুই পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া ও শেখ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত দুটি রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা, জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন প্রশ্নে দুই পরিবারের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক পদক্ষেপের পর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে এসব পরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আলোচিত হয়েছে।

এ ছাড়া ইসলামী শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার প্রসারের ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের আমলের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও ওই সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির সঙ্গে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক সম্পর্কও বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত চারদলীয় জোট সরকারে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয় এবং দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন।

ধর্মীয় শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার স্বীকৃতির বিষয়েও খালেদা জিয়ার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে আলোচিত হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের মূল্যায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

অন্যদিকে, শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মৌলিক নীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রচিন্তার সম্পর্ক বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকালেও আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রনীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন নিয়ে সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য দেখা গেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে তার সরকারের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ অবশ্য এসব অভিযোগের অনেকটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।

এদিকে, জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রীয় পরিচয় এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিএনপির রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির অবস্থান নিয়েও এসব বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে দুই পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে কেবল ধর্মীয় অবস্থানের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়—সবকটি বিষয়ই বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে।

ফলে জিয়া ও শেখ পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক মূলত বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা ও রাজনৈতিক আদর্শের দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বেরই একটি প্রতিফলন। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলালেও দুই পরিবারের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: বাংলা এডিশন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

সোমবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সাক্ষাতের বিষয়টি জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ককে আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বুধবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়ের পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের এ সাক্ষাৎ হলো।

গত জুনে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই প্রথম সাক্ষাৎ।

এর আগে সাক্ষাতের প্রস্তুতি হিসেবে রোববার বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সম্মান করে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন।

দুই দেশের বিভিন্ন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে বৈঠক হলে অনেক সমস্যার সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে। আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ বের করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের এই সাক্ষাৎকে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা নয়, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা নয়, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

 

বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও উসকানির ঘটনায় হামলার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, কেউ গালি দিলে তার জবাব গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দিতে হবে। প্রতিবাদ করা যাবে, তবে হামলা করা যাবে না। হামলার রাজনীতি অব্যাহত থাকলে তা পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই পুনরাবৃত্তি হবে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থী বা রাজনৈতিক কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। এ ধরনের ‘ফাঁদে’ পা না দেওয়ার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, মতপ্রকাশ, সমালোচনা ও প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা কিংবা সহিংসতায় জড়ানো যাবে না। সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণের মধ্য দিয়েই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যে বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, এর দায় ভারত এড়াতে পারে না।

বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা—দুটি বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না।

বোমা হামলার গুজবে দেশজুড়ে সতর্কতা, পুলিশের দাবি ভিত্তিহীন

বোমা হামলার গুজবে দেশজুড়ে সতর্কতা, পুলিশের দাবি ভিত্তিহীন

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সারা দেশে বোমা হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন একটি বার্তা শুক্রবার রাতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নামে পাঠানো ওই বার্তায় জেলা ও রেঞ্জ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের রাতের চেকপোস্ট, টহল ও মোবাইল ডিউটিতে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথাও বলা হয়।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই দিন সারা দেশে বোমা হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে রাতের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এ ধরনের সতর্কতা জারির খবরকে গুজব বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন।

তিনি জানান, সারা দেশে বোমা হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির যে তথ্য ছড়িয়েছে, সেটি গুজব।

ফলে পুলিশের অভ্যন্তরীণ কোনো সতর্কতামূলক বার্তা আদৌ জারি হয়েছিল কি না এবং সেটির প্রেক্ষাপট কী—তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এমপিদের বেতন ৫ লাখ, মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা হওয়া উচিত: নুরুল হক নুর

এমপিদের বেতন ৫ লাখ, মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা হওয়া উচিত: নুরুল হক নুর

দুর্নীতি কমানো এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫ লাখ টাকা এবং মন্ত্রীদের বেতন ১০ লাখ টাকা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নুরুল হক নুর বলেন, একজন সংসদ সদস্য দায়িত্ব পালনকালীন সরকারের দেওয়া গাড়ি ব্যবহার করবেন এবং মেয়াদ শেষে সেটি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদের জন্যও এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা উচিত।

তিনি বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মোট মাসিক ভাতা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং একজন মন্ত্রীর মৌলিক বেতন প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। কিন্তু নির্বাচনী এলাকায় চিকিৎসা সহায়তা, সামাজিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক খাতে আর্থিক সহায়তার চাপ থাকে, যা বর্তমান আয়ে সামাল দেওয়া কঠিন।

তার ভাষায়, ব্যক্তিগতভাবে বিপুল সম্পদের মালিক নন—এমন জনপ্রতিনিধিদের জন্য সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত না হলে অনেক সময় অনৈতিক উপায়ে অর্থ সংগ্রহের প্রলোভন তৈরি হতে পারে।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপযুক্ত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে ওই দেশগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শ্রম আইন বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, রাজধানীতে একজন দিনমজুর দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করেন। সেই বাস্তবতায় সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতনও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, অতীতে তিনি সরকারি চাকরিজীবীদের ন্যূনতম বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন এবং দুর্নীতির প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নুরুল হক নুর বলেন, দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকাকালে রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে তিনি বিস্তৃতভাবে অধ্যয়ন করার সুযোগ পেয়েছেন এবং তার ঘোষিত বিভিন্ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে: শামা ওবায়েদ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে: শামা ওবায়েদ

ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতেরই নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের বিষয়েও প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ এবং সরকার উভয়ই পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও উন্নত হোক—এটাই দুই দেশের জনগণ ও সরকারের প্রত্যাশা। তবে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যদি স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী ও সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার তা বন্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করবে।”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

তিনি বলেন, “ভারত এখন সিদ্ধান্ত নেবে—তারা তাদের ভূখণ্ড থেকে স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেবে কি না। এ সিদ্ধান্ত ভারতেরই।”

সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ৫ আগস্ট: শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন

বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ৫ আগস্ট: শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। ঘটনাটি শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর ও সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতার পরিবর্তন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীতে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করলে হাজারো মানুষ গণভবনের দিকে অগ্রসর হয়। পরিস্থিতির একপর্যায়ে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। এর মাধ্যমে টানা প্রায় দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্ব

বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, কয়েক সপ্তাহের সহিংস বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে গেলে বাংলাদেশজুড়ে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রতিবেদনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও কোটা আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির সিদ্ধান্তের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

রয়টার্স জানায়, কোটা সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। শত শত প্রাণহানির পর শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব পায়।

সিএনএন প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে প্রবেশের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। একই সঙ্গে সেনাপ্রধানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বানও তুলে ধরা হয়।

দ্য গার্ডিয়ান লিখেছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।

এনপিআর জানায়, হাজারো ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণ করবে না এবং সহিংসতার তদন্ত হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে পরিণত হয়। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

দ্য ডিপ্লোম্যাট তাদের বিশ্লেষণে লিখেছিল, হাজারো বিক্ষোভকারীর চাপ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন, যার মাধ্যমে তার দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া

শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর জাতিসংঘ শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর, সংযম এবং দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানায়।

এদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, কয়েক সপ্তাহের গণবিক্ষোভের পর এই রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। সংস্থাটির তথ্যমতে, আন্দোলনের সময় আনুমানিক ৩০০ জন নিহত, হাজারো মানুষ আহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন।

অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা

পদত্যাগের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব সংগঠনকে এনসিপির কৃতজ্ঞতা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব সংগঠনকে এনসিপির কৃতজ্ঞতা


ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রক্তাক্ত জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখা বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় দলটি জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ছাত্র ইউনিয়নসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী ও জুলাইপন্থি সব ছাত্রসংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের অবদান তারা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

এনসিপি আরও জানায়, গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সাধারণ জনগণের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। সংগঠনটি আন্দোলনে অবদান রাখা সব ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানিয়েছে।

সৌদি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, সৌরবিদ্যুৎ খাতে জোর

সৌদি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, সৌরবিদ্যুৎ খাতে জোর


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষত সৌরবিদ্যুৎ খাতে সৌদি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এল-খেরেইজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায়।

জবাবে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে সৌদি আরব আগ্রহী।

তিনি জানান, সৌদি আরব প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সি-ফুড, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী।

বৈঠকে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানেরও প্রশংসা করেন। পাশাপাশি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাতের শেষদিকে ওয়ালিদ এল-খেরেইজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধি দলে দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

দুই দিনের সফরে ঢাকায় সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা ইস্যুতে হবে আলোচনা

দুই দিনের সফরে ঢাকায় সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা ইস্যুতে হবে আলোচনা


নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এলখেরেজি। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য কৌশলগত ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে।

সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সফরকালে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও মতবিনিময় হবে।

দুই দিনের সরকারি সফর শেষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এলখেরেজির।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ধর্মীয় সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ-সৌদি বিমান চলাচল চুক্তি হালনাগাদে উদ্যোগ, সপ্তাহে ৮৪ ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব

বাংলাদেশ-সৌদি বিমান চলাচল চুক্তি হালনাগাদে উদ্যোগ, সপ্তাহে ৮৪ ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লটসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করা এবং হজ-ওমরাহ যাত্রীদের ভ্রমণ আরও নির্বিঘ্ন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিভিল অ্যাভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সোমবার সৌদি আরব সফরে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সমস্যা ও ফ্লাইট শিডিউলসংক্রান্ত জটিলতার সমাধানে এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর হজ মৌসুমে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লট পেতে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। শেষ মুহূর্তে স্লট বরাদ্দ, অনুপযুক্ত সময়ে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি এবং আকস্মিক শিডিউল পরিবর্তনের কারণে হজযাত্রীদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোকেও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দুই দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স মিলিয়ে সপ্তাহে ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। তবে সৌদি আরবে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী, ওমরাহ যাত্রী এবং হজ মৌসুমের অতিরিক্ত যাত্রীর তুলনায় এই সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। ফলে টিকিটের সংকট এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সপ্তাহে ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব দেবে। অর্থাৎ বর্তমানে পরিচালিত ৪৯টি ফ্লাইটের সঙ্গে আরও ৩৫টি অতিরিক্ত সাপ্তাহিক ফ্লাইট যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনা রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়বে। এতে টিকিট সংকট কমবে এবং ভাড়া স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাজনক সময়ে ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লট না পাওয়ার সমস্যায় ভুগছে। অনেক সময় মধ্যরাত বা অনুপযুক্ত সময়ে স্লট পাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

এবারের সফরে প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি সৌদি স্লট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপারেশনাল সমস্যা, স্লট বণ্টনের জটিলতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরাও তাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথের যোগাযোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নতুন সমঝোতা স্মারক বা দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে শুধু বিমান সংস্থাগুলোর বাণিজ্যিক সুযোগই বাড়বে না, বরং সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের যাতায়াত আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক হবে।

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা সম্ভব: মির্জা ফখরুল

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা সম্ভব: মির্জা ফখরুল

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, “জুলাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যারা গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন শক্তি ও প্রেরণা যোগ করেছে। শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের ফলে দেশের সামনে পরিবর্তনের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য বিভাজন ও সংঘাত নয়, বরং সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সনদ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে সংসদে সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আলোচনার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও পেশাগত সমস্যাগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত সাংবাদিকদের পরিবারের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের অধিকাংশ বিষয়ের সঙ্গে একমত হলেও গণভোটের প্রশ্নে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। তবে দলটি জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য ও সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐক্যের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে একটি কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠাই হবে তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন।

আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে, জামিন বাতিলের উদ্যোগ সরকারের

বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে, জামিন বাতিলের উদ্যোগ সরকারের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের কাছে অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ কারণে আদালতের মাধ্যমে তার জামিন বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বেনজীরের কাছে অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।”

তিনি জানান, রোববার বিকেলে সরকার জানতে পারে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীর আহমেদকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার শর্তে জামিন দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জানার পরই সরকারের নিয়োজিত আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল ফার্ম)কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সচিব ইউএইর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আদালত কী কী শর্তে জামিন দিয়েছেন, তার প্রত্যয়নিত (সার্টিফায়েড) কপি সংগ্রহের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে জমা দেওয়ার জন্য ল ফার্মকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আদালতের মাধ্যমে তার জামিন বাতিলের আবেদন করা।

সরকার দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার পরও কেন তাকে জামিন দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে আদেশের প্রত্যয়নিত কপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতে পাচারের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

ভারতে পাচারের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

 

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ভারতে পাঠানোর আগে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

শনিবার রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ কার্যালয়ে অবস্থিত টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, বিচারপতিদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল কথিত নির্যাতনকক্ষের বাস্তব অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা। তিনি বলেন, এই পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ ও তথ্য মামলার বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কথিত ‘আয়নাঘর’ বা টিএফআই সেল-সংক্রান্ত কোনো আলামত নষ্ট কিংবা গোপন করার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, মামলার আসামিদের আইনজীবীরা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘টিএফআই সেল’ নামে কোনো গোপন বন্দিশালা নেই এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে র‍্যাবের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উত্তরার র‍্যাব-১ কার্যালয়ে পৌঁছান। পরে তারা টিএফআই সেল হিসেবে চিহ্নিত স্থানটি পরিদর্শন করেন।

কথিত গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে র‍্যাবে দায়িত্ব পালনকারী ১০ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন, হারুন অর রশিদ এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ টিএফআই সেল পরিদর্শনের অনুমতি দেয়। সেই আদেশের ভিত্তিতেই শনিবার বিচারপতিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সূত্র: বিডি প্রতিদিন

শিগগিরই ঢাকা সফরে আসতে আগ্রহী আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

শিগগিরই ঢাকা সফরে আসতে আগ্রহী আমিরাতের প্রেসিডেন্ট

 

ইরানের হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতি সংহতি প্রকাশ করায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইউএইর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ ইউএই দূতাবাস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইউএই প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার অবস্থান দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।

চিঠিতে ইরানের হামলায় ইউএইতে বসবাসরত দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

ইউএই প্রেসিডেন্ট অর্থনীতি, উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও মানবিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও সাদরে গ্রহণ করেছেন শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সুবিধাজনক প্রথম সুযোগেই সরকারি সফরে ঢাকা আসতে চান। এ সফর বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও গতিশীল করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে গড়ে ওঠা বহুমাত্রিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে।

ভারত পালানোর চেষ্টাকালে আটক ‘ডেভিড ইমন’, চট্টগ্রামে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ

ভারত পালানোর চেষ্টাকালে আটক ‘ডেভিড ইমন’, চট্টগ্রামে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ

 

চট্টগ্রামের আলোচিত অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ মোবারক হোসেন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’কে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের দাবি, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে বুধবার গভীর রাতে তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নাজিমুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান চলছিল। যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে চট্টগ্রামে নেওয়া হবে। সেখানে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেভিড ইমনকে ধরতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ফটিকছড়ি উপজেলাসহ কয়েকটি স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তার কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার এবং কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি পুলিশের।

অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক বলেন, "চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডেভিড ইমনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চলবে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।"

পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা, আধিপত্য বিস্তার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও হামলার ঘটনায়ও তার নাম সামনে আসে। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক এবং পলাতক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামে সক্রিয় অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ডেভিড ইমনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য পলাতক ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।