The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসছে ১০০ গাড়ি, বাড়ছে ঢাকা-ইসলামাবাদ বাণিজ্য

Saturday, September 12, 2026 The National Press
পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসছে ১০০ গাড়ি, বাড়ছে ঢাকা-ইসলামাবাদ বাণিজ্য

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি সেপ্টেম্বরেই পাকিস্তান থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশে আসছে স্থানীয়ভাবে সংযোজিত ১০০টি গাড়ি। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে বড় পরিসরে গাড়ি বাণিজ্যের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে পাকিস্তানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমজেডব্লিউ মোবাইল পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রেনকন গ্রুপের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির আওতায় প্রথম ধাপে ২০২৬ সালে ১০০টি গাড়ি বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী বছর থেকে বাণিজ্যিক পরিসরে রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। সম্ভাব্যভাবে বছরে প্রায় ৫ হাজার গাড়ি আমদানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ব্যবসায়িক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান থেকে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্যও বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ গাড়ির বাজারে পরিণত হতে পারে।

শুধু গাড়ি রপ্তানিই নয়, বাংলাদেশের অংশীদার প্রতিষ্ঠানকে গাড়ি সংযোজন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে পাকিস্তানি পক্ষের। এর ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে অটোমোবাইল খাতের সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে।

শিক্ষা ও ক্রীড়াতেও সহযোগিতা

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

চলতি বছরের জুনে ঢাকায় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বাংলাদেশের সরকারি স্কুলগুলোর জন্য ১ হাজার ফুটবল দেওয়ার কথা জানান। একই সময়ে বাংলাদেশের ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন ও দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আলোচনায় এসব বৃত্তির ঘোষণা আসে। এর মাধ্যমে প্রকৌশল, চিকিৎসা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়তে পারে।

নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

গাড়ি আমদানির সম্ভাব্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা খাতে বৃত্তি এবং ক্রীড়া ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা—সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মাত্রা তৈরি হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বাণিজ্যিক বাস্তবতা, পারস্পরিক চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় নীতির ওপর।

সূত্র: বাংলা এডিশন