বাংলাদেশ-সৌদি বিমান চলাচল চুক্তি হালনাগাদে উদ্যোগ, সপ্তাহে ৮৪ ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লটসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করা এবং হজ-ওমরাহ যাত্রীদের ভ্রমণ আরও নির্বিঘ্ন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিভিল অ্যাভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সোমবার সৌদি আরব সফরে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সমস্যা ও ফ্লাইট শিডিউলসংক্রান্ত জটিলতার সমাধানে এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর হজ মৌসুমে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লট পেতে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। শেষ মুহূর্তে স্লট বরাদ্দ, অনুপযুক্ত সময়ে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি এবং আকস্মিক শিডিউল পরিবর্তনের কারণে হজযাত্রীদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোকেও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দুই দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স মিলিয়ে সপ্তাহে ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। তবে সৌদি আরবে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী, ওমরাহ যাত্রী এবং হজ মৌসুমের অতিরিক্ত যাত্রীর তুলনায় এই সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। ফলে টিকিটের সংকট এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সপ্তাহে ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব দেবে। অর্থাৎ বর্তমানে পরিচালিত ৪৯টি ফ্লাইটের সঙ্গে আরও ৩৫টি অতিরিক্ত সাপ্তাহিক ফ্লাইট যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনা রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়বে। এতে টিকিট সংকট কমবে এবং ভাড়া স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাজনক সময়ে ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লট না পাওয়ার সমস্যায় ভুগছে। অনেক সময় মধ্যরাত বা অনুপযুক্ত সময়ে স্লট পাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
এবারের সফরে প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি সৌদি স্লট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপারেশনাল সমস্যা, স্লট বণ্টনের জটিলতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরাও তাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথের যোগাযোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নতুন সমঝোতা স্মারক বা দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে শুধু বিমান সংস্থাগুলোর বাণিজ্যিক সুযোগই বাড়বে না, বরং সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের যাতায়াত আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক হবে।