The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার অভিযোগ, আহত জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার অভিযোগ, আহত জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

জকসু সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবার উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের পরিকল্পনা ছিল। ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এসব দাবি জানাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

তাদের অভিযোগ, প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশের সময় বাধা দেওয়া হয়। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং জকসুর প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রতিনিধি অডিটোরিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তাদের বাধা দেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসানকেও ধাক্কা দেওয়া হয় বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

ভিডিওতে আরও শোনা যায়, ছাত্রদল আহ্বায়ককে বলতে, “এই দরজা বন্ধ কর, দ্রুত গেট আটকা।” এরপর মিলনায়তনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে বিধবার গোডাউন থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে বিধবার গোডাউন থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকায় এক বিধবার গোডাউন ভেঙে প্রায় ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকার মালামাল লুট, চুরি ও জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে ১৮ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীরা হলো চর চারতলার মৃত নাছির মিয়া ছেলে অপি সওদাগর ওরফে দাউদ মিয়া, মেহেদ হাসান জিহাদ, দিবা আক্তার, সরাইল কুট্রাপাড়ার মৃতু বাচ্চু মিয়ার ছেলে সানু মিয়া,মৃত্যু আব্দুল খালেক এর ছেলে সাজু মিয়া, আবুল ফজর এর ছেলে সাজু মিয়া, জুনাইদ মিয়া,জাবেদ আবেদ ও আব্দুল আলীর ছেলে শরিফ মিয়া, বশির মিয়া মোট আটার জন। মামলার বাদী রুজি আক্তার, মৃত আবদুল হাফিজের স্ত্রী। তিনি সরাইল সদর ইউনিয়নের কুট্টাপাড়া (দর্জীপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই ভোর সাড়ে ৪টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার কুট্টাপাড়া মৌজার বিএস ১১২৩৮ ও এসএ ১১২৩৯ দাগে অবস্থিত একটি গোডাউনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আসামিরা তার স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন আদালত, উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা প্রশাসক এবং মানবাধিকার সংস্থার কাছে একাধিক অভিযোগ ও মামলা করা হয়েছে। এতে প্রতিকার না পাওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে ভূমি জরিপসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় বাদী ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল ডিক্রি লাভ করেন। এরপর থেকেই তাকে ওই সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা আরও জোরদার হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার কিছুদিন আগে এক আসামি বাদীকে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্য আসামিদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে গোডাউনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। বাদীর দাবি, এরপর গোডাউনে থাকা দুটি ব্যাটারি, একটি ৮ হর্সপাওয়ারের হাই-স্পিড পাম্প, একটি রিকন্ডিশন হিনো-৭০০ ইঞ্জিন, ট্রাকের দুটি চাকা, খাট, ফ্যান, লাইট, টিন, কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গোডাউনের টিনের চাল, বেড়া, দরজা, জানালা, পিলার ও বৈদ্যুতিক তার খুলেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, খবর পেয়ে বাদী ঘটনাস্থলে গেলে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। পরে তিনি সরাইল থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও কয়েকজন আসামি ইট, বাঁশ ও মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ দেখে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, গোডাউন, সেখানে থাকা মালামাল এবং অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৪৪৮, ৪৫১, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৮২, ৫০৬(২), ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটি আশপাশের লোকজন প্রত্যক্ষ করেছেন এবং নিকটবর্তী একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার কিছু আলামত ধারণ হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আদালতে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

এস আই জে

শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড থেকে বক্তব্য দিতে না পারেন: ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড থেকে বক্তব্য দিতে না পারেন: ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তেজগাঁও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের ব্যক্তি যেন ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্যসংক্রান্ত আলোচনাও বৈঠকে উঠে আসে। এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী জানান, বিষয়টি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ভারত সচেষ্ট থাকবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যুতে নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এটাই শেষ সুযোগ’, ইরানকে কঠোর বার্তা ট্রাম্পের

এটাই শেষ সুযোগ’, ইরানকে কঠোর বার্তা ট্রাম্পের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সামনে এখন মাত্র দুটি পথ খোলা—একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করা।

ট্রাম্পের দাবি, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বিশেষ করে কাতারের সহযোগিতায় বর্তমানে ইরানকে নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। তিনি আরও বলেন, ইরানও এই আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপের বিরোধিতা করে ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক এই নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। তার ভাষ্য, এ ধরনের অর্থ আদায়ের অধিকার ইরানের নেই। প্রয়োজনে এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রই নিশ্চিত করবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে তারা গোপনে আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে দাবি করছে যে তারা কেবল ওমানের মাধ্যমেই যোগাযোগ রাখছে।

এ সময় হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিকেও গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে এবং তাদের অনুমতি ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের অবসান ঘটাতে হলে ইরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার মতে, একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিই বর্তমান পরিস্থিতির একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান। অন্যথায় তেহরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

সবশেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না।

সূত্র: ট্রুথ সোশ্যাল

ভালোবাসা নিয়েই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে কুমার বিশ্বজিৎ

ভালোবাসা নিয়েই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে কুমার বিশ্বজিৎ


 বিনোদন ডেস্ক: চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা গানের আকাশে উজ্জ্বল নাম কুমার বিশ্বজিৎ। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন কোটি শ্রোতার হৃদয়ে। নতুন গান প্রকাশ না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এই জনপ্রিয় শিল্পী।

সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভক্তদের উদ্দেশে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি জানতে চান, তার গাওয়া কোন গানটি তাদের সবচেয়ে প্রিয়। পোস্টটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে হাজারের বেশি মন্তব্য জমা পড়ে। ভক্তরা তাদের পছন্দের শতাধিক গানের নাম উল্লেখ করেন।

ভক্তদের এই বিপুল সাড়া ও ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ। সোমবার বিকেলে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি লেখেন, “গত পোস্টে আমার গাওয়া আপনাদের ভালো লাগার গানগুলো জানতে চেয়েছিলাম। আপনাদের অনুভূতি, অভিব্যক্তি এবং ভালো লাগার গানগুলো জানিয়ে যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।”

কুমার বিশ্বজিৎ জানান, ভক্তদের উল্লেখ করা প্রায় ১২৫টি প্রিয় গানের মধ্যে ১০০টিরও বেশি ছিল চলচ্চিত্রের বাইরের মৌলিক গান। তার ভাষায়, এটি শুধু তার জন্য নয়, বরং সংশ্লিষ্ট গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের জন্যও বড় প্রাপ্তি ও আশীর্বাদ।

তিনি আরও লেখেন, “হয়তো আজীবন এই গানগুলো আপনাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। আপনাদের এই ভালোবাসা নিয়েই একদিন পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে। এমন ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে বিদায় নেওয়াও পরম শান্তির। এটাই সত্যি, এটাই শাশ্বত।”

পোস্টের শেষাংশে শ্রোতাদের জন্য একটি নতুন সংগীত উপহার দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন এই গুণী শিল্পী। তার আবেগঘন বার্তা ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

দুই দিনের সফরে ঢাকায় সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা ইস্যুতে হবে আলোচনা

দুই দিনের সফরে ঢাকায় সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা ইস্যুতে হবে আলোচনা


নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এলখেরেজি। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য কৌশলগত ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে।

সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সফরকালে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও মতবিনিময় হবে।

দুই দিনের সরকারি সফর শেষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এলখেরেজির।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ধর্মীয় সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ-সৌদি বিমান চলাচল চুক্তি হালনাগাদে উদ্যোগ, সপ্তাহে ৮৪ ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব

বাংলাদেশ-সৌদি বিমান চলাচল চুক্তি হালনাগাদে উদ্যোগ, সপ্তাহে ৮৪ ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লটসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করা এবং হজ-ওমরাহ যাত্রীদের ভ্রমণ আরও নির্বিঘ্ন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিভিল অ্যাভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সোমবার সৌদি আরব সফরে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত সমস্যা ও ফ্লাইট শিডিউলসংক্রান্ত জটিলতার সমাধানে এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর হজ মৌসুমে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লট পেতে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। শেষ মুহূর্তে স্লট বরাদ্দ, অনুপযুক্ত সময়ে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি এবং আকস্মিক শিডিউল পরিবর্তনের কারণে হজযাত্রীদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোকেও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দুই দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্স মিলিয়ে সপ্তাহে ৪৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। তবে সৌদি আরবে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী, ওমরাহ যাত্রী এবং হজ মৌসুমের অতিরিক্ত যাত্রীর তুলনায় এই সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। ফলে টিকিটের সংকট এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সপ্তাহে ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব দেবে। অর্থাৎ বর্তমানে পরিচালিত ৪৯টি ফ্লাইটের সঙ্গে আরও ৩৫টি অতিরিক্ত সাপ্তাহিক ফ্লাইট যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনা রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়বে। এতে টিকিট সংকট কমবে এবং ভাড়া স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাজনক সময়ে ল্যান্ডিং ও টেক-অফ স্লট না পাওয়ার সমস্যায় ভুগছে। অনেক সময় মধ্যরাত বা অনুপযুক্ত সময়ে স্লট পাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

এবারের সফরে প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি সৌদি স্লট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপারেশনাল সমস্যা, স্লট বণ্টনের জটিলতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরাও তাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথের যোগাযোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নতুন সমঝোতা স্মারক বা দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে শুধু বিমান সংস্থাগুলোর বাণিজ্যিক সুযোগই বাড়বে না, বরং সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের যাতায়াত আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চের প্রস্তুতি নিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চের প্রস্তুতি নিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে নতুন ধাপে নিতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জোটের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের ২৯ বা ৩০ আগস্ট থেকে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ শুরু করার প্রস্তাব লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচির রূপরেখাও ওই বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, লংমার্চের পাশাপাশি বিভাগীয় পথসভা, জনসভা, রাজধানীতে মহাসমাবেশ, জাতীয় সেমিনার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন–পরবর্তী সময় থেকেই জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে ১১ দলীয় ঐক্য। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি শেষ করে জোটটি।

এরপর ৩০ জুলাই রাজধানীর মিন্টো রোডে অনুষ্ঠিত লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে আন্দোলনের নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ, রাজধানীতে মহাসমাবেশ এবং বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে খুলনা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি রুটে একাধিক পথসভা ও জনসভা আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন বলেন, লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে লংমার্চের প্রস্তাব এসেছে। শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে অনুমোদন হলে সময়সূচি ও রুট চূড়ান্ত করা হবে।

জোটের নেতারা জানান, আগে অক্টোবরে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা থাকলেও লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সেটি নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় মাঠে থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে এ কৌশলের মূল লক্ষ্য।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের ভাষ্য, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, লোডশেডিং, গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান এবং জনভোগান্তি—এসব বিষয়ও আন্দোলনের অন্যতম ইস্যু হিসেবে সামনে আনা হবে।

জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ধারাবাহিক কর্মসূচিতে জনগণের ইতিবাচক সাড়া মিললেও সরকার এখনো দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করতে লংমার্চ, মহাসমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্তের পর পর্যায়ক্রমে সেগুলো ঘোষণা করা হবে।

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা সম্ভব: মির্জা ফখরুল

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা সম্ভব: মির্জা ফখরুল

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, “জুলাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যারা গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন শক্তি ও প্রেরণা যোগ করেছে। শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের ফলে দেশের সামনে পরিবর্তনের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য বিভাজন ও সংঘাত নয়, বরং সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সনদ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে সংসদে সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আলোচনার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও পেশাগত সমস্যাগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত সাংবাদিকদের পরিবারের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের অধিকাংশ বিষয়ের সঙ্গে একমত হলেও গণভোটের প্রশ্নে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। তবে দলটি জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য ও সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐক্যের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে একটি কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠাই হবে তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন।

আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তিস্তা প্রকল্প ও অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়নে আশাবাদী চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

তিস্তা প্রকল্প ও অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়নে আশাবাদী চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক: তিস্তা মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ (সিএমবি) অর্থনৈতিক করিডরসহ বিভিন্ন যৌথ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘কম্পারেটিভ গভার্নেন্স ফোরাম-২০২৬’ শীর্ষক যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইয়াও ওয়েন বলেন, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ওই সফরে বাংলাদেশ ও চীন কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর ও বিস্তৃত করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর এবং অন্যান্য যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বেইজিং আশা করছে।

তিনি আরও বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বিশেষ বক্তব্য দেন। এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান

বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে, জামিন বাতিলের উদ্যোগ সরকারের

বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে, জামিন বাতিলের উদ্যোগ সরকারের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের কাছে অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ কারণে আদালতের মাধ্যমে তার জামিন বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বেনজীরের কাছে অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।”

তিনি জানান, রোববার বিকেলে সরকার জানতে পারে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীর আহমেদকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার শর্তে জামিন দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জানার পরই সরকারের নিয়োজিত আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল ফার্ম)কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সচিব ইউএইর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আদালত কী কী শর্তে জামিন দিয়েছেন, তার প্রত্যয়নিত (সার্টিফায়েড) কপি সংগ্রহের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে জমা দেওয়ার জন্য ল ফার্মকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আদালতের মাধ্যমে তার জামিন বাতিলের আবেদন করা।

সরকার দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার পরও কেন তাকে জামিন দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে আদেশের প্রত্যয়নিত কপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমওইউ ইরানের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে: পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমওইউ ইরানের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে: পেজেশকিয়ান

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভবিষ্যতে ইরানের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

টিআরটি ওয়ার্ল্ড–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান জানান, এই সমঝোতা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যদের সম্মিলিত চিন্তাভাবনা, অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দূরদর্শিতার ফল। তিনি বলেন, কাউন্সিলের সব সদস্যই এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এই সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে আমাদের পররাষ্ট্র সম্পর্কের একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।”

তিনি আরও বলেন, চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে প্রতিপক্ষকে বাধ্য করতে ইরান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তার ভাষায়, “যে বিষয়ে তারা স্বাক্ষর করেছে, তা বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এই সমঝোতা আমাদের দেশ, অঞ্চল এবং মিত্রদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।”

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্যকে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির প্রতিবাদে মোদির বাসভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা কেজরিওয়ালের

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির প্রতিবাদে মোদির বাসভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা কেজরিওয়ালের

 

ভারতে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনে গিয়ে দুই লাখের বেশি নাগরিকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে। এ উপলক্ষে রাজধানী দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিলেরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার আয়োজিত এক গণশুনানিতে কেজরিওয়াল বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। তাই বিষয়টি সরকারের নজরে আনতে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যাবেন। তার সঙ্গে এমন প্রায় একশ স্বেচ্ছাসেবী থাকবেন, যারা গ্রেপ্তার বা বলপ্রয়োগের আশঙ্কা উপেক্ষা করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রস্তুত।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার যদি মনে করে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি পুরোপুরি নিরাপদ, তাহলে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত বিতর্ক আয়োজন করা উচিত। সেখানে সরকার ও সমালোচক—উভয় পক্ষই নিজেদের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে পারবে। কিন্তু সরকার এমন আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, কেজরিওয়ালের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। তথ্য ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ানোর সরকারি নীতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের দাবি, এতে জ্বালানি খরচ বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে যানবাহনের ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, এই উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াবে এবং আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।

কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, এই নীতির পেছনে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। তার দাবি, ইথানল ব্যবসার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়করির পরিবারের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সমঝোতার বিষয়টিও সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্তের একটি কারণ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি তিনটি দাবি তুলে ধরেছেন। সেগুলো হলো—প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি—উভয় বিকল্প রাখা, পেট্রোলের দাম কমানো এবং ইথানলভিত্তিক জ্বালানির মূল্যও হ্রাস করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইথানল ইস্যু এখন কেবল জ্বালানি নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, মূল্যস্ফীতি এবং জনস্বার্থের প্রশ্নে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ৪ আগস্টের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের


 বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহের কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ।

রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত এইচই ইউকাউ সো মো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণে মিয়ানমার থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পাইপলাইনের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

বৈঠকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পুরোনো একটি প্রস্তাবও নতুন করে আলোচনায় আসে। উভয় পক্ষই বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার আগ্রহ প্রকাশ করে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। এ ধরনের আঞ্চলিক সংযোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনও আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও মতবিনিময় হয়।

এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত বেনজীর আহমেদ, ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা

দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত বেনজীর আহমেদ, ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই কারাগার থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তার পারিবারিক সূত্রের দাবি, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

সূত্র জানায়, এর আগে ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের শর্ত অনুযায়ী, তিনি দুবাই ত্যাগ করতে পারবেন না এবং তার পাসপোর্ট আমিরাত কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ পুলিশের ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পায়নি। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথি এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুবাই পুলিশের সহযোগিতায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে এ বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দুদক তদন্ত শুরু করলে তিনি দেশ ত্যাগ করেন।

এইচএসসি ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় ছাত্রদল নেতা জেলহাজতে

এইচএসসি ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় ছাত্রদল নেতা জেলহাজতে


যশোর প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদল নেতা আরাফাত হোসেন রাব্বিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (২ আগস্ট) তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামি আরাফাত হোসেন রাব্বি চৌগাছা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে যশোর জেলা ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহ নেওয়াজ ইমরান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আরাফাত হোসেন রাব্বিকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি ও সদস্যসচিব শাহ নেওয়াজ ইমরান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র করে দেওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত আরাফাত হোসেন রাব্বি ওই কলেজছাত্রীকে চৌগাছা শহরে নিয়ে যান। পরে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিরিবিলিপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে ভুক্তভোগী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ ধর্ষণের মামলা রুজু করে।

অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (১ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে আরাফাত হোসেন রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালতে পাঠানো হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তসহ অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নরসিংদীর পলাশে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গুলি ও হামলা, আহত অন্তত ১০

নরসিংদীর পলাশে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গুলি ও হামলা, আহত অন্তত ১০

 

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনাহাটা ফকিরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফকিরবাড়ি এলাকার আওলাদ, মহসিন, সানি ও সবজু মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই শনিবার রাতে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার সময় মাসুম, মামুন, জয়নাল আবেদীনসহ কয়েকজন একটি মুদি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়।

হামলায় ছাত্রদল নেতা মাসুম গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।

আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বগুড়ায় এনসিপি নেতাদের ব্যানারে আগুন দিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

বগুড়ায় এনসিপি নেতাদের ব্যানারে আগুন দিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা ছাত্রদল। বিক্ষোভ শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ছবিসংবলিত একটি ব্যানার ও কুশপুত্তলিকায় আগুন দেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ থেকে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাতমাথায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা সাতমাথার সপ্তপদী মার্কেটের ওপর টানানো এনসিপির নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার নামিয়ে আগুন দেন। এ সময় একটি কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।

সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান অভিযোগ করেন, এনসিপির কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি এনসিপির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান ছাত্রদলের নেতারা।

সত্য প্রকাশে আপস না করার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের

সত্য প্রকাশে আপস না করার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের


বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ এবং সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। সত্য প্রকাশে আপস না করাই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

শনিবার সিলেটের বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহ মসজিদ কমপ্লেক্সে দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ৩৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দৈনিক জালালাবাদ যেন কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র না হয়ে জনগণের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে। নীতিগত অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রতিকূলতার মুখে পড়লেও সত্য প্রকাশ থেকে সরে না আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোনো সংবাদ যদি তার ব্যক্তিগতভাবে বা তার দলের বিরুদ্ধেও যায়, তবুও সত্য প্রকাশে যেন গণমাধ্যম পিছপা না হয়। একটি সংবাদমাধ্যম নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরতে পারলেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

সমাজে আস্থার সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষে মানুষে বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তব্যের শেষে তিনি দৈনিক জালালাবাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের গণমাধ্যমে সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার ধারা আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, দৈনিক জালালাবাদের সম্পাদক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮, আহত ৭৬

গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮, আহত ৭৬


গাজা উপত্যকায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭৬ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আগের এক ইসরাইলি হামলায় আহত আরও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছরের তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ১,২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,০৫৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮০৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৪৯ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬২ জন।

এ ছাড়া ভবন ধসের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় এ ধরনের ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে।