The Future Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির প্রতিবাদে মোদির বাসভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা কেজরিওয়ালের

Sunday, August 02, 2026 The Future press
ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির প্রতিবাদে মোদির বাসভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা কেজরিওয়ালের

 

ভারতে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনে গিয়ে দুই লাখের বেশি নাগরিকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে। এ উপলক্ষে রাজধানী দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিলেরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার আয়োজিত এক গণশুনানিতে কেজরিওয়াল বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। তাই বিষয়টি সরকারের নজরে আনতে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যাবেন। তার সঙ্গে এমন প্রায় একশ স্বেচ্ছাসেবী থাকবেন, যারা গ্রেপ্তার বা বলপ্রয়োগের আশঙ্কা উপেক্ষা করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রস্তুত।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার যদি মনে করে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি পুরোপুরি নিরাপদ, তাহলে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত বিতর্ক আয়োজন করা উচিত। সেখানে সরকার ও সমালোচক—উভয় পক্ষই নিজেদের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে পারবে। কিন্তু সরকার এমন আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, কেজরিওয়ালের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। তথ্য ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ানোর সরকারি নীতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই আলোচনা ও বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের দাবি, এতে জ্বালানি খরচ বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে যানবাহনের ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, এই উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াবে এবং আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।

কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, এই নীতির পেছনে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। তার দাবি, ইথানল ব্যবসার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়করির পরিবারের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সমঝোতার বিষয়টিও সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্তের একটি কারণ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি তিনটি দাবি তুলে ধরেছেন। সেগুলো হলো—প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি—উভয় বিকল্প রাখা, পেট্রোলের দাম কমানো এবং ইথানলভিত্তিক জ্বালানির মূল্যও হ্রাস করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইথানল ইস্যু এখন কেবল জ্বালানি নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, মূল্যস্ফীতি এবং জনস্বার্থের প্রশ্নে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ৪ আগস্টের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।