The Future Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর শান্তা ফারজানাসহ ৬ জন পুলিশ হেফাজতে

৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর শান্তা ফারজানাসহ ৬ জন পুলিশ হেফাজতে

 

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংঘর্ষের পর চিকিৎসা নিতে গিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন নতুন ধারা বাংলাদেশের (এনডিবি) ছয় নেতা। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ তাদের নিরাপত্তার মধ্যে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, আহত নেতাদের নিরাপত্তার স্বার্থে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের হেফাজতে নেওয়া নেতারা হলেন—নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল এবং হরিদাস সরকার।

রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাব্বানী এবং শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন আহত ছয় নেতাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)-এর নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে সেখানে আবারও উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দফায় দফায় সংঘর্ষের কারণে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ সময় ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা অভিযোগ করেন, প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ মশাল ও প্রতিবাদ মিছিল চলাকালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে চিকিৎসার জন্য ঢামেকে গেলে সেখানেও হামলার মুখে পড়েন এবং জরুরি বিভাগে আটকা পড়ে চিকিৎসা নিতে সমস্যায় পড়েন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াশ দাবি করেন, তাদের পক্ষের প্রতিবাদের জেরে নতুন ধারা বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। হাসপাতালেও তাদের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে মঞ্চ-২৪-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সংঘর্ষের কারণ ও অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নরসিংদীর পলাশে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গুলি ও হামলা, আহত অন্তত ১০

নরসিংদীর পলাশে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গুলি ও হামলা, আহত অন্তত ১০

 

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনাহাটা ফকিরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফকিরবাড়ি এলাকার আওলাদ, মহসিন, সানি ও সবজু মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই শনিবার রাতে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার সময় মাসুম, মামুন, জয়নাল আবেদীনসহ কয়েকজন একটি মুদি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়।

হামলায় ছাত্রদল নেতা মাসুম গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।

আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বোমা আতঙ্কে মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ

বোমা আতঙ্কে মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ

 


বোমা আতঙ্কে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চক্করের মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে বন্ধ রাখা হয়।





বিস্তারিত আসছে...


১০ হাজার টাকার পাওনা ফেরত চাওয়ায় ডেকে নিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী

১০ হাজার টাকার পাওনা ফেরত চাওয়ায় ডেকে নিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী

 

রাজধানীর হাতিরঝিল থানার বড় মগবাজার এলাকায় মাত্র ১০ হাজার টাকা পাওনা আদায় করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মো. রাজু (৪৮) নামে এক সবজি বিক্রেতা। এ ঘটনায় তার পরিচিত ব্যবসায়ী বজলুর রহমান ও তার স্ত্রী সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের তথ্যমতে, বরিশালের কাঁঠালিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. রাজু দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে সবজি ব্যবসা করতেন। একসময় বড় মগবাজার এলাকায় বজলুর রহমানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে বজলুরের কাছে রাজুর ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। দীর্ঘদিন টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি বারবার তা দাবি করছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে রাজুকে বড় মগবাজারের একটি বাসায় ডেকে নেন বজলুর রহমান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় অভিযুক্তরা প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোন্তারছির বিল্লাহ জানান, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। বুধবার রাতে এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে বজলুর রহমান ও তার স্ত্রী সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রাজুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তার বোন শাহানা বেগম মরদেহ গ্রামের বাড়ি বরিশালের কাঁঠালিয়া উপজেলায় নিয়ে যান।

শাহানা বেগম বলেন, “আমার ভাই অনেক দিন ধরে ১০ হাজার টাকা পাওনা আদায়ের জন্য চেষ্টা করছিল। টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

স্বজনদের ভাষ্য, রাজু এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। প্রায় সাত-আট বছর আগে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব একাই পালন করছিলেন। সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা রাজুর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবি, নিখোঁজ ২

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবি, নিখোঁজ ২

 

রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় নৌকায় থাকা ১০ জনের মধ্যে ৮ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
 
আজ রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গাজীপুরের কড্ডার বাজার থেকে একটি নতুন স্টিল বডি ইঞ্জিনচালিত নৌকা কিনে ১০ জন লোক কুমিল্লা মুরাদনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। নৌকাটি পোস্তগোলা ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ সেটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় নিয়ন্ত্রণহীন নৌকাটিকে ‘সুন্দরবন-১২’ নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।
 
দুর্ঘটনার পর ৮ যাত্রী সাঁতরে নদীর কূলে উঠতে সক্ষম হলেও ২ জন নিখোঁজ হন। একই সাথে নৌকাটিও তলিয়ে যায়।

খবর পেয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে


 রাজধানী ও চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সব জেলায় চাঁদাবাজি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানদাররাও চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। যতই দিন যাচ্ছে, চাঁদাবাজি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছে। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামে একটি বড় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সন্ত্রাসীরা এর মালিকপক্ষকে দুই কোটি টাকা চাঁদা এবং মাসে দশ লাখ টাকা দেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে এসেছে। তা নাহলে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের এ ধরনের দৌরাত্ম্য কমবেশি সারাদেশেই চলছে। গতকাল ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে রাজধানীর চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাজধানীর ৪৫টি থানা এলাকায় প্রায় ১২০০ চাঁদাবাজ সক্রিয় রয়েছে। ক্ষিলখেত, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, হাতিরঝিল, বাড্ডা, উত্তরা, ভাটারা, খিলগাঁও, পল্লবী, আদাবর এলকায় চাঁদাবাজরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। অন্যান্য এলাকায়ও কমবেশি চাঁদাবাজি চলছে। চাঁদাবাজির এ চিত্র শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশের সর্বত্রই বিরাজমান।

দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি নতুন কিছু নয়। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে। যথাযথ পদক্ষেপ না থাকায় তা দমন করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। তাতে কাজ হয়নি। চাঁদাবাজদের সাথে রাজনৈতিক দলের একশ্রেণীর প্রভাবশালী নেতা ও আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যর সংশ্রব ও প্রশ্রয় থাকার কারণে চাঁদাবাজি নির্মূল করা যাচ্ছে না। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিগত দেড় দশকের শাসনামলে চাঁদাবাজি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল। প্রকাশ্যেই তা চলেছে। ফুটপাতের দোকান, মার্কেট, বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন, আবাসনখাতসহ বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়মিত ছিল। এর সাথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সরাসরি জড়িত ছিল। তাদের চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীদের নাভিশ^াস উঠেছিল। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের অন্যতম কারণ ছিল, চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে অতীষ্ঠ মানুষের ক্ষোভ। হাসিনার পতনের পর আশা করা হয়েছিল, চাঁদাবাজি, দখলবাজির অবসান ঘটবে। দেখা যাচ্ছে, তা ঘটেনি। আগের চাঁদাবাজদের জায়গায় নতুন চাঁদাবাজরা স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, কিংবা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চাঁদাবাজি বহাল রেখেছে। দেশে যে কথাটি বহুল প্রচলিত তা হচ্ছে, একদল ক্ষমতা থেকে গেলে, আরেকদল ক্ষমতায় এলে শুধু চাঁদাবাজদের পরিবর্তন ঘটে। চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। এটা পালাবদলের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে এখন ক্ষমতায়। দেখা যাচ্ছে, চাঁদাবাজির অপসংস্কৃতির পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই চাঁদাবাজরা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, হাসিনার শাসনামলে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী সীমাহীন নিপীড়ন-নির্যাতন, খুন-গুম, হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। অনেকের বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য আওয়ামী পান্ডারা দখল করে নিয়েছিল। তারা যে কিছু করে জীবনযাপন করবে, এ সুযোগও ছিল না। হাসিনার পতনের পর তাদের কেউ কেউ চাঁদাবাজি-দখলবাজির মতো অপকর্মে জড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে চাঁদাবাজির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিএনপি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল। চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ছয়-সাত হাজার নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কারসহ অনেকের বিরুদ্ধে দল থেকে মামলা করা হয়। তাতে চাঁদাবাজি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দল ক্ষমতায় আসার পর তা আবার বেড়ে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সিদ্ধান্ত থাকা অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও কঠোর অবস্থান থাকা দরকার। চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই, তারা শুধুই চাঁদাবাজÑএ মনোভাব থাকা জরুরি। চাঁদাবাজির সাথে যেই জড়িত থাকুক, যতই প্রভাবশালী হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বিএনপিকে এ কথাও মাথায় রাখতে হবে, যেসব নেতাকর্মী বিগত দেড়যুগ ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে অবর্ণনীয় নিপীড়ন-নির্যাতন ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে, সর্বস্ব হারিয়েছে, তাদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনে দলকে কিছু করতে হবে। দল কি তা করেছে? সহজ পথ হিসাবে, দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি এবং দখলবাজির সুযোগ দেয়া দলের পক্ষে মোটেই সমীচীন হতে পারে না।

চাঁদাবাজ-দখলবাজকে অপরাধী হিসেবে দেখতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের কেউ জড়িত থাকলে পার পেয়ে যাবে, এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বলা বাহুল্য, ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতাকর্মীর অপরাধ মানুষের কাছে অনেক বড় হয়ে দেখা দেয়। এর দায় ক্ষমতাসীন দলের উপরই বর্তায়। বর্তমানে যেভাবে চাঁদাবাজি চলছে, তার দায়ও ক্ষমতাসীন বিএনপির উপর বর্তাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জমা হচ্ছে। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, চাঁদাবাজরা তাকে ক্ষমতায় আনেনি, এনেছে সাধারণ মানুষ। এখন তারাই যদি চাঁদাবাজদের জুলুমের শিকার হয়, তাহলে তারা কোথায় যাবে? এমনিতেই দেশের অর্থনীতি নাজুক, ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম মন্দাবস্থার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে যদি চাঁদাবাজি চলতে থাকে, তাহলে মানুষের ক্ষোভ ক্ষমতাসীন বিএনপির উপরই পড়বে। চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির যে বদনাম হচ্ছে, তার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে যে পড়বে, তাতে সন্দেহ নেই। এসব নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী থাকবে। ভোটাররা তখন চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির প্রার্থীর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। অন্যদিকে, বিরোধীদলগুলো এই চাঁদাবাজিকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরবে। এতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। হাসিনার পতনের পর মানুষ যে পরিবর্তন আশা করেছিল, তা যদি ক্ষমতাসীন দলের সংশ্রবে বা প্রশ্রয়ে মুখথুবড়ে পড়ে, সেই পুরনো অপসংস্কৃতি বহাল থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের হতাশ ও ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক। ক্ষমতাসীন বিএনপিকে এ বিষয়টি সিরিয়াসলি বিবেচনায় নিতে হবে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।

ভোরে বাড়িতে ঢুকে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, দুইজন আটক

ভোরে বাড়িতে ঢুকে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, দুইজন আটক


 ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাইফুল সরদার (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোর চারটার দিকে সদর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ জাটিগ্রামে নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার হন তিনি।

নিহত সাইফুল ব্রাহ্মণ জাটিগ্রামের হবি সরদারের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

হামলায় একই দলের সমর্থক ইসমাইল মোল্যা (২৬) নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। উভয়পক্ষের অনন্ত ১০টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শফিকুল মিয়া ও আইয়ুব মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। মরদেহ ফরিদপুরে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলফাডাঙ্গার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান।

নিহতের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণ জাটিগ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম ও বিদ্যাধর গ্রামের শাহাদৎ হোসেন খোকন মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার ভোররাতে জুয়েল মিয়া ও তার ছোট ভাই হাসিব মিয়ার নেতৃত্বে অনন্ত ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শরিফুল ইসলামের সমর্থক সাইফুল সরদারের বাড়িতে প্রবেশ করে। থানা থেকে পুলিশ এসেছে বলে দরজা খুলতে বলে। দরজা খুলতেই সাইফুলকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এসময় হামলাকারীরা সাইফুলের বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র ও ইলেকট্রিক মালামাল ভাঙচুর করে। এরপর ইসমাইল মোল্যার বাড়িতে ঢুকে তাকে কুপিয়ে জখম করে। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা কাশিয়ানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার বেগতিক দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠায়।

শরিফুল মেম্বারের সমর্থক দবীর শরীফের স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, স্থানীয় জুয়েল মিয়া, হাসিব মিয়া ও সবুজ মিয়াসহ অনেক লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে ঘরে থাকা ৫ লাখ টাকা, দুটি ইজিবাইক ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে শরিফুল ইসলাম ও জুয়েল মিয়াকে কল করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি আবুল হাসনাত খান বলেন, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। রাতে পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে সাইফুল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। অন্য একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সূত্র :সমকাল

গুলিস্তানে খদ্দর মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে

গুলিস্তানে খদ্দর মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে

 



প্রায় দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে রাজধানীর গুলিস্তানে খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্সের আগুন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ৬টা ৫৮মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।

জানা গেছে, আগুনের খবর পাওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের মোট ৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে।

এর আগে, বাণিজ্যিক ভবনটির উপরের তলায় গোডাউন হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিলো। নিচতলার মার্কেটগুলোতে থাকা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন।

রাস্তায় মানুষের ভিড় থাকায় শুরুতে পানির উৎস পেতে বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। তবে আগুনের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র : আমার দেশ

মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু

মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু


রাজধানীর মগবাজারে দুর্বৃত্তদের ছোড়া বোমার বিস্ফোরণে সিয়াম নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মগবাজার মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভের সামনে ফ্লাইওভারের নিচে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচের দিকে একটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বোমাটি বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই সিয়াম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাইওভারের ওপর থেকে বোমাটি নিচে নিক্ষেপ করা হয়েছে। বোমা নিক্ষেপের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, সিয়াম একটি বেসরকারি ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। প্রথমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলেও পরে স্বজনরা এসে তাকে শনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বোমা নিক্ষেপের পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

 সূত্র : আমার দেশ

ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল শাহবাগ, চলছে বিক্ষোভ

ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল শাহবাগ, চলছে বিক্ষোভ

 



ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ মোড়। 

শনিবার বিকেল ৪টা থেকে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে এই বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর হাজার হাজার ছাত্র-জনতা মিছিল সহকারে শাহবাগে জড়ো হতে শুরু করেন। এ সময় ‘হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ এমন সব স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানে এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে শহীদ ওসমান হাদিকে সমাহিত করা হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে শেষ বিদায় জানানোর সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শনিবার দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লক্ষাধিক মানুষ শরিক হন। জানাজায় ইমামতি করেন শহীদ হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ওসমান হাদি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ জানাজা ও দাফন শেষে শাহবাগে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

 সূত্র : আমার সংবাদ


হাদি হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন নয়, আদর্শকে থামাতে পরিকল্পিত অপচেষ্টা: ঢাবি ভিসি

হাদি হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন নয়, আদর্শকে থামাতে পরিকল্পিত অপচেষ্টা: ঢাবি ভিসি



 ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি আদর্শকে থামিয়ে দেওয়ার পরিকল্পিত অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। 

শনিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে শহীদ ওসমান হাদির দাফন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন ঢাবি উপাচার্য।

এ সময় ঢাবি উপাচার্য বলেন, শরিফ ওসমান হাদি একটি ব্যক্তির নাম নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। এই আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়বে এবং কোনো হত্যাকাণ্ড দিয়ে একে থামিয়ে দেওয়া যাবে না।
এই হত্যাকাণ্ড কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। এটি ন্যায়, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানো একটি কণ্ঠকে স্তব্ধ করার চেষ্টা।

হাদি হত্যার ঘটনায় দেশবাসীর মধ্যে যে ক্ষোভ ও শোক তৈরি হয়েছে, সেটিকে ন্যায়বিচারের দাবিতে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, সারা দেশের মানুষ এই হত্যার পূর্ণাঙ্গ বিচার দেখতে চায়।

নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, আমরাও জোর দিয়ে বলছি-এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হবে।

ঢাবি ভিসি জানান, সরকারিভাবে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে এবং ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতিও দৃশ্যমান। তবে কেবল গ্রেপ্তার নয়, দৃষ্টান্তমূলক রায়ই এই ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন


হাদিকে গুলি করা সন্ত্রাসীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি: কমিশনার

হাদিকে গুলি করা সন্ত্রাসীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি: কমিশনার


 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা সন্ত্রাসীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগপুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

আজ শুক্রবার বিকেলে সাজ্জাত আলী গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ওনার অবস্থা খুবই গুরুতর। ওসমান হাদির ওপরে গুলি বর্ষণকারীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সন্ত্রাসীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা, র‌্যাবসহ সবাই কাজ করছে দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারের জন্য।

শুক্রবার দুপুরে মোটরসাইকেলে আসা অস্ত্রধারীরা রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করে। তাকে উদ্ধার করে আড়াইটার দিকে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়।

সূত্র: বাংলা নিউজ

গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও এমপি প্রার্থী ওসমান হাদি

গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও এমপি প্রার্থী ওসমান হাদি

 


রাজধানীর মতিঝিল থানা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। শুক্রবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে থানার বিজয়নগর কালভার্ট রোড দিয়ে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এসময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।

জানা গেছে, দুর্বৃত্তদের গুলি হাদির বাম কানের নিচে বিদ্ধ হয়। পরে তার সাথে থাকা সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দুপুর ২টা ৪০ মিনিট নাগাদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারের (ওসেক) আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাদির অবস্থা নিয়ে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) ডা. মোশতাক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা খুবই গুরুতর। তার মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে, তিনি এখন কোমায় আছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন,‌ আমরা শুনেছি বিজয়নগর এলাকায় হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমাদের টিম পাঠিয়েছি। তারা কনফার্ম করলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো। 

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

মোহাম্মদপুর মা-মেয়ে হত্যা: অভিযুক্ত গৃহকর্মীর মামলা দায়ের

মোহাম্মদপুর মা-মেয়ে হত্যা: অভিযুক্ত গৃহকর্মীর মামলা দায়ের

 


রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা লায়লা আফরোজ ও তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে হত্যার ঘটনায় কথিত গৃহকর্মী আয়েশাকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গৃহকর্মী আয়েশা জড়িত। ঘটনার পর থেকেই আনুমানিক ২০ বছর বয়সী ওই গৃহকর্মী পলাতক।

পুলিশ আরও জানায়, গতকাল সোমবার সকালে মা ও মেয়ের মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। অত্যন্ত নির্মমভাবে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। নিহত নাফিসার গলায় একাধিক গভীর ক্ষতচিহ্ন এবং লায়লার শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে গ্লাভস পরে মা-মেয়েকে আঘাত করা হয়েছে।

সূত্র : আমার সংবাদ

মিরপুর চিড়িয়াখানার খাঁচা থেকে  সিংহ বেরিয়ে গেছে

মিরপুর চিড়িয়াখানার খাঁচা থেকে সিংহ বেরিয়ে গেছে


 ঢাকার মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানার খাঁচা থেকে একটি সিংহ বের হয়ে গেছে।

শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সেটি বেরিয়ে যায় বলে চিড়িয়াখানার পরিচালক রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন। খবর বিডি-নিউজ

তিনি বলেন, ‘ সিংহ চিড়িয়াখানা থেকে হারিয়ে যায়নি, চিড়িয়াখানার ভেতরেই আছে। তার গতিবিধি লক্ষ্য করে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে চিড়িয়াখানার ভেতরে থাকা সকল দর্শনার্থীরা বের হয়ে গেছেন।’

সিংহটি কীভাবে বেরিয়ে গেল, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হয়তবা তালা লাগানো হয়নি। কারণ কোথাও কোনো গ্রিল ফাঁকা বা ভাঙা এরকম কিছু নেই। দরজা দিয়ে বের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ব্যাপারে রাতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’ 

বর্তমানে জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঁচটি সিংহ রয়েছে।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন