The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
ট্রাফিক আইন ভাঙায় ঢাকায় ১,৪৯৩ মামলা, ডাম্পিং ৪৯৯ গাড়ি

ট্রাফিক আইন ভাঙায় ঢাকায় ১,৪৯৩ মামলা, ডাম্পিং ৪৯৯ গাড়ি

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একদিনে ১ হাজার ৪৯৩টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। একই অভিযানে ৪৯৯টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৩৫টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের আটটি জোনে পৃথকভাবে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরু এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে। সেখানে মোট ৩০০টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ১১টি বাস, ২২টি ট্রাক, ৩৫টি কাভার্ডভ্যান, ৩৫টি সিএনজি ও ১৩৭টি মোটরসাইকেল রয়েছে।

মতিঝিল বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭৮টি মামলা হয়েছে। এ বিভাগের অভিযানে ২৩টি বাস, দুটি ট্রাক, ১৩টি কাভার্ডভ্যান, ৫৯টি সিএনজি ও ১২৩টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এ ছাড়া উত্তরা বিভাগে ২৫৬টি এবং লালবাগ বিভাগে ২২৭টি মামলা হয়েছে। উত্তরা এলাকায় মামলার মধ্যে ছিল ২৪টি বাস, সাতটি ট্রাক, ছয়টি কাভার্ডভ্যান, ৪৪টি সিএনজি ও ১০১টি মোটরসাইকেল।

অন্যদিকে ওয়ারী বিভাগে ১৪১টি, তেজগাঁওয়ে ১০২টি, গুলশানে ৯৯টি এবং রমনা বিভাগে ৯০টি মামলা করা হয়েছে।

ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করার পাশাপাশি অভিযানে বিপুলসংখ্যক যানবাহনের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, ৪৯৯টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৩৫টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট কমানো এবং চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সড়কে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গুলশানের দুই স্পা-সেলুনে পুলিশের অভিযান, ২৯ নারীসহ আটক ৫৩

গুলশানের দুই স্পা-সেলুনে পুলিশের অভিযান, ২৯ নারীসহ আটক ৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের দুটি স্পা ও সেলুনে পৃথক অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৫৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে ২৯ জন নারী ও ২৪ জন পুরুষ রয়েছেন। পুলিশের দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটির আড়ালে অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ ছিল।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে গুলশান থানা পুলিশের পৃথক দল অভিযান দুটি পরিচালনা করে। গুলশান থানার রোড নম্বর ২৪-এর ‘গুলশান ওয়ান সেলুন’ এবং রোড নম্বর ৯৯-এর ‘হট স্টোন স্পা’-তে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। গোপন তথ্য যাচাইয়ের পর বুধবার রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

তবে আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা এখনো আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন বলেন, গুলশান এলাকায় স্পা সেন্টারের আড়ালে কোনো ধরনের বেআইনি কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্পা ও সেলুনকেন্দ্রিক অভিযানে নারী-পুরুষ আটকের ঘটনা ঘটেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ ব্যবসার আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে ‘লাইন মেইনটেন্যান্স’-এর নামে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বাংলা এডিশনের অনুসন্ধানে চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এ ধরনের অর্থ আদায়ের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইনবোর্ড এলাকায় চলাচলকারী সিএনজি থেকে ৩০ টাকা এবং অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। টাকা দেওয়ার পর যানবাহনের গ্লাসে বিশেষ ধরনের চিহ্নও দেওয়া হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে। চালকদের অভিযোগ, কয়েকজনের একটি চক্র ‘লাইন নিয়ন্ত্রণের’ কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অর্থ আদায় করছে।

অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই সড়কে প্রায় ৩০০টি সিএনজি ও ৪০০টি অটোরিকশা চলাচল করে। চাষাঢ়া ও সাইনবোর্ড—দুই প্রান্তেই অর্থ আদায়ের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে মাসে প্রায় ৮ লাখ এবং বছরে কোটি টাকার বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

তবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। আলম ও রাকিবসহ অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তারা সিএনজি থেকে টাকা নেন না; অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা নেওয়া হয় জীবিকা নির্বাহের জন্য।

অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈধ ইজারা বা অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা চক্র যানবাহন থেকে অর্থ আদায় করছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা জরুরি।

তথ্যসূত্র: বাংলা এডিশন

রান্নার সিলিন্ডারে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

রান্নার সিলিন্ডারে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জ্বালানি হিসেবে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। যাত্রীদের আসনের পেছনে দড়ি দিয়ে সিলিন্ডার বেঁধে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব অটোরিকশা চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় আগুন বা বিস্ফোরণের মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গজারিয়ার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সংকট চলছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে রান্নার এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন।

উপজেলার ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড থেকে হোগলাকান্দি হয়ে কালীপুরা ট্রলারঘাট সড়কে অন্তত ২৪টি অটোরিকশায় এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব গাড়িতে যাত্রীদের আসনের ঠিক পেছনে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সিলিন্ডার বাঁধা ছিল।

এক যাত্রী বলেন, যাত্রীদের ঠিক পেছনে এভাবে গ্যাসের সিলিন্ডার রাখায় তারা আতঙ্কের মধ্যে যাতায়াত করছেন। চালকদের কাছে জানতে চাইলে গ্যাস না পাওয়ার কারণে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। সামান্য দুর্ঘটনা ঘটলেও বড় বিপদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।

আরেক যাত্রী জানান, সিলিন্ডারটি তার ঠিক পেছনে রাখা ছিল। পুরো পথজুড়ে তার মধ্যে আতঙ্ক কাজ করেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার দ্রুত বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে আগে ৪০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চালকদের দাবি, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত গ্যাস পাওয়া গেলে তারা ঝুঁকি নিয়ে এলপিজি ব্যবহার করতেন না। একজন চালক বলেন, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় সারাদিনে গ্যাস পাওয়া যায় না। গাড়ি চালাতে না পারলে পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের মতে, শুধু অটোরিকশাচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহের সংকটের কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি যানবাহনে রান্নার সিলিন্ডার ব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ফিরোজ মিয়া বলেন, এলপি গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য। সিলিন্ডারে ত্রুটি, অসতর্কতা কিংবা আগুনের সংস্পর্শে এলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী অটোরিকশায় এভাবে সিলিন্ডার বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

ভবেরচর হাইওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল আখন্দ জানান, যানবাহনে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার নিষিদ্ধ ও বেআইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

১২ কোটি টাকার সেতু তৈরি, তবু নদী পার হতে হচ্ছে বাঁশের সাঁকো দিয়ে

১২ কোটি টাকার সেতু তৈরি, তবু নদী পার হতে হচ্ছে বাঁশের সাঁকো দিয়ে

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নে হুগলী নদীর ওপর প্রায় ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি দুই বছর ধরে পড়ে আছে। সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও পশ্চিম পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি এখনো যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে নদী পারাপারে স্থানীয়দের ভরসা এখনো বাঁশের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষের নড়িয়া উপজেলা সদরে যাতায়াত সহজ করতে থিরপাড়া এলাকায় হুগলী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য নিয়াজ-আরকে নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে প্রায় ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় ৯০ মিটার সেতুর পাশাপাশি দুই পাশে মোট ২৮৫ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা ছিল। ২০২৪ সালের জুনে সেতুর নির্মাণ শেষ হয়। এরপর পূর্ব পাশে ১৮০ মিটার সংযোগ সড়ক তৈরি করা হলেও পশ্চিম পাশের ১০৫ মিটার অংশের কাজ আটকে যায়।

জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় আটকে সংযোগ সড়ক

এলজিইডি কর্মকর্তারা জানান, সেতুর নকশা ও সমীক্ষার সময়ই দুই প্রান্তে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থাকার বিষয়টি জানা ছিল। সেখানে প্রায় দুই একর জমি প্রয়োজন হলেও জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা না করেই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়।

সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তায় পূর্ব পাশের জমির বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়। ফলে ওই অংশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পশ্চিম পাশের জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি দিতে রাজি হননি।

জমির মালিকদের দাবি, শুধু জমির মূল্য নয়, সংযোগ সড়ক নির্মাণের কারণে যেসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেগুলোরও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু মূল প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি সমাধানে গত বছরের নভেম্বরে নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে ৮১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়। তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় এখনো সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

সেতু আছে, কিন্তু ওঠার পথ নেই

সেতু নির্মাণের পর থিরপাড়া ঘাটে আগের নৌকা পারাপারও বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। বর্তমানে সেই সাঁকো দিয়েই মানুষ সেতুর ওপর উঠছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাঁকোটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ ব্যক্তিদেরও ঝুঁকি নিয়ে এটি পার হতে হচ্ছে।

ভেদরগঞ্জের চরভাগা এবং নড়িয়ার ঘড়িসার ইউনিয়নের বাসিন্দারা এই পথ দিয়ে ঘড়িসার বাজার, কার্তিকপুর, গোলার বাজার ও নড়িয়া উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। আশপাশের দুটি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এই সাঁকো ব্যবহার করে।

প্রতিদিন হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

চরভাগা এলাকার বাসিন্দা সাগর সরদার বলেন, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এই পথে চলাচল করেন। আগে নৌকায় নদী পার হতে হতো। সেতু নির্মাণের পর মানুষের আশা ছিল যাতায়াত সহজ হবে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই সুবিধা মিলছে না।

তিনি জানান, গত এক বছরে বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে কয়েকজন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন।

ক্ষতিপূরণ চান জমির মালিক

থিরপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শাহ আলম মাল জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি ঘাট এলাকায় দোকান পরিচালনা করছেন। সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হলে তাঁর দোকানও সরিয়ে নিতে হবে।

তাঁর ভাষ্য, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে দোকান সরিয়ে দিলে তিনি জীবিকা হারাবেন। তবে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার স্বার্থে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হলে জমি ও স্থাপনা ছাড়তে তাঁর আপত্তি নেই।

দ্রুত সমাধানের চেষ্টা

নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এক পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি দিতে রাজি না হওয়ায় কাজটি আটকে আছে।

শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম বলেন, সেতু নির্মাণের আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জমির মালিকেরা মৌখিকভাবে জমি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই ভিত্তিতেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে এক পাশের জমির সমস্যা সমাধান হলেও অন্য পাশের জমি পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, স্থাপনার আংশিক ক্ষতিপূরণসহ বিকল্প কোনো উপায়ে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে সেতুটিকে পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।

দীর্ঘদিন পর সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে সেটি কার্যত অচল থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের দাবি, জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের জটিলতা দ্রুত সমাধান করে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হোক।

শ্রীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে দম্পতি নিহত, আত্মহত্যার সন্দেহ

শ্রীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে দম্পতি নিহত, আত্মহত্যার সন্দেহ

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে আল আমিন (৩২) ও তার স্ত্রী রিনা আক্তার (৩০) নিহত হয়েছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ইজ্জতপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের আউটার সিগন্যালে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত রিনা আক্তারের বাড়ি শ্রীপুরের বর্মী ইউনিয়নে। তার বাবার নাম সিদ্দিক মিয়া। আল আমিনের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে ইজ্জতপুর রেলস্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়া এক যুবক ও এক যুবতীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। তবে কোন ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত রিনার স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে পরিবারের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেন রিনা ও আল আমিন। পরিবার তাদের বিয়ে মেনে না নেওয়ায় তারা শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।

স্বজনরা আরও জানান, সম্প্রতি ওই দম্পতি অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। স্বজনদের ধারণা, এসব কারণে তারা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করা হয়নি। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এস আই জে জুনায়েদ

শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে আগুন, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এলাকা

শাহজালাল বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে আগুন, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বলাকা লাউঞ্জে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে লাউঞ্জসহ আশপাশের এলাকা ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে সেখানে থাকা যাত্রী ও অন্যান্য লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের এক অপারেটর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ছয়জন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেছেন। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎ লাউঞ্জের ভেতরে ধোঁয়া দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আতঙ্কিত হয়ে অনেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।

পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেন। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর শান্তা ফারজানাসহ ৬ জন পুলিশ হেফাজতে

৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর শান্তা ফারজানাসহ ৬ জন পুলিশ হেফাজতে

 

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংঘর্ষের পর চিকিৎসা নিতে গিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন নতুন ধারা বাংলাদেশের (এনডিবি) ছয় নেতা। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ তাদের নিরাপত্তার মধ্যে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, আহত নেতাদের নিরাপত্তার স্বার্থে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের হেফাজতে নেওয়া নেতারা হলেন—নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল এবং হরিদাস সরকার।

রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাব্বানী এবং শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন আহত ছয় নেতাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)-এর নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে সেখানে আবারও উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দফায় দফায় সংঘর্ষের কারণে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ সময় ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা অভিযোগ করেন, প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ মশাল ও প্রতিবাদ মিছিল চলাকালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে চিকিৎসার জন্য ঢামেকে গেলে সেখানেও হামলার মুখে পড়েন এবং জরুরি বিভাগে আটকা পড়ে চিকিৎসা নিতে সমস্যায় পড়েন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াশ দাবি করেন, তাদের পক্ষের প্রতিবাদের জেরে নতুন ধারা বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। হাসপাতালেও তাদের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে মঞ্চ-২৪-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সংঘর্ষের কারণ ও অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নরসিংদীর পলাশে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গুলি ও হামলা, আহত অন্তত ১০

নরসিংদীর পলাশে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গুলি ও হামলা, আহত অন্তত ১০

 

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনাহাটা ফকিরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফকিরবাড়ি এলাকার আওলাদ, মহসিন, সানি ও সবজু মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই শনিবার রাতে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার সময় মাসুম, মামুন, জয়নাল আবেদীনসহ কয়েকজন একটি মুদি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়।

হামলায় ছাত্রদল নেতা মাসুম গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।

আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বোমা আতঙ্কে মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ

বোমা আতঙ্কে মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ

 


বোমা আতঙ্কে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চক্করের মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে বন্ধ রাখা হয়।





বিস্তারিত আসছে...


১০ হাজার টাকার পাওনা ফেরত চাওয়ায় ডেকে নিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী

১০ হাজার টাকার পাওনা ফেরত চাওয়ায় ডেকে নিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী

 

রাজধানীর হাতিরঝিল থানার বড় মগবাজার এলাকায় মাত্র ১০ হাজার টাকা পাওনা আদায় করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মো. রাজু (৪৮) নামে এক সবজি বিক্রেতা। এ ঘটনায় তার পরিচিত ব্যবসায়ী বজলুর রহমান ও তার স্ত্রী সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের তথ্যমতে, বরিশালের কাঁঠালিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. রাজু দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতে সবজি ব্যবসা করতেন। একসময় বড় মগবাজার এলাকায় বজলুর রহমানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে বজলুরের কাছে রাজুর ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। দীর্ঘদিন টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি বারবার তা দাবি করছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে রাজুকে বড় মগবাজারের একটি বাসায় ডেকে নেন বজলুর রহমান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় অভিযুক্তরা প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোন্তারছির বিল্লাহ জানান, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। বুধবার রাতে এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে বজলুর রহমান ও তার স্ত্রী সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রাজুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তার বোন শাহানা বেগম মরদেহ গ্রামের বাড়ি বরিশালের কাঁঠালিয়া উপজেলায় নিয়ে যান।

শাহানা বেগম বলেন, “আমার ভাই অনেক দিন ধরে ১০ হাজার টাকা পাওনা আদায়ের জন্য চেষ্টা করছিল। টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

স্বজনদের ভাষ্য, রাজু এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। প্রায় সাত-আট বছর আগে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব একাই পালন করছিলেন। সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা রাজুর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবি, নিখোঁজ ২

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাডুবি, নিখোঁজ ২

 

রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় নৌকায় থাকা ১০ জনের মধ্যে ৮ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
 
আজ রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গাজীপুরের কড্ডার বাজার থেকে একটি নতুন স্টিল বডি ইঞ্জিনচালিত নৌকা কিনে ১০ জন লোক কুমিল্লা মুরাদনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। নৌকাটি পোস্তগোলা ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ সেটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় নিয়ন্ত্রণহীন নৌকাটিকে ‘সুন্দরবন-১২’ নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।
 
দুর্ঘটনার পর ৮ যাত্রী সাঁতরে নদীর কূলে উঠতে সক্ষম হলেও ২ জন নিখোঁজ হন। একই সাথে নৌকাটিও তলিয়ে যায়।

খবর পেয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে


 রাজধানী ও চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সব জেলায় চাঁদাবাজি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানদাররাও চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। যতই দিন যাচ্ছে, চাঁদাবাজি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ছে। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামে একটি বড় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সন্ত্রাসীরা এর মালিকপক্ষকে দুই কোটি টাকা চাঁদা এবং মাসে দশ লাখ টাকা দেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে এসেছে। তা নাহলে, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের এ ধরনের দৌরাত্ম্য কমবেশি সারাদেশেই চলছে। গতকাল ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে রাজধানীর চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাজধানীর ৪৫টি থানা এলাকায় প্রায় ১২০০ চাঁদাবাজ সক্রিয় রয়েছে। ক্ষিলখেত, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, হাতিরঝিল, বাড্ডা, উত্তরা, ভাটারা, খিলগাঁও, পল্লবী, আদাবর এলকায় চাঁদাবাজরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। অন্যান্য এলাকায়ও কমবেশি চাঁদাবাজি চলছে। চাঁদাবাজির এ চিত্র শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশের সর্বত্রই বিরাজমান।

দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি নতুন কিছু নয়। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে। যথাযথ পদক্ষেপ না থাকায় তা দমন করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে বহু লেখালেখি হয়েছে। তাতে কাজ হয়নি। চাঁদাবাজদের সাথে রাজনৈতিক দলের একশ্রেণীর প্রভাবশালী নেতা ও আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যর সংশ্রব ও প্রশ্রয় থাকার কারণে চাঁদাবাজি নির্মূল করা যাচ্ছে না। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিগত দেড় দশকের শাসনামলে চাঁদাবাজি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল। প্রকাশ্যেই তা চলেছে। ফুটপাতের দোকান, মার্কেট, বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন, আবাসনখাতসহ বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়মিত ছিল। এর সাথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সরাসরি জড়িত ছিল। তাদের চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীদের নাভিশ^াস উঠেছিল। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের অন্যতম কারণ ছিল, চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে অতীষ্ঠ মানুষের ক্ষোভ। হাসিনার পতনের পর আশা করা হয়েছিল, চাঁদাবাজি, দখলবাজির অবসান ঘটবে। দেখা যাচ্ছে, তা ঘটেনি। আগের চাঁদাবাজদের জায়গায় নতুন চাঁদাবাজরা স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, কিংবা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চাঁদাবাজি বহাল রেখেছে। দেশে যে কথাটি বহুল প্রচলিত তা হচ্ছে, একদল ক্ষমতা থেকে গেলে, আরেকদল ক্ষমতায় এলে শুধু চাঁদাবাজদের পরিবর্তন ঘটে। চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। এটা পালাবদলের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে এখন ক্ষমতায়। দেখা যাচ্ছে, চাঁদাবাজির অপসংস্কৃতির পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই চাঁদাবাজরা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, হাসিনার শাসনামলে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী সীমাহীন নিপীড়ন-নির্যাতন, খুন-গুম, হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। অনেকের বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য আওয়ামী পান্ডারা দখল করে নিয়েছিল। তারা যে কিছু করে জীবনযাপন করবে, এ সুযোগও ছিল না। হাসিনার পতনের পর তাদের কেউ কেউ চাঁদাবাজি-দখলবাজির মতো অপকর্মে জড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে চাঁদাবাজির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিএনপি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল। চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ছয়-সাত হাজার নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কারসহ অনেকের বিরুদ্ধে দল থেকে মামলা করা হয়। তাতে চাঁদাবাজি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দল ক্ষমতায় আসার পর তা আবার বেড়ে গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সিদ্ধান্ত থাকা অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও কঠোর অবস্থান থাকা দরকার। চাঁদাবাজদের কোনো দল নেই, তারা শুধুই চাঁদাবাজÑএ মনোভাব থাকা জরুরি। চাঁদাবাজির সাথে যেই জড়িত থাকুক, যতই প্রভাবশালী হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বিএনপিকে এ কথাও মাথায় রাখতে হবে, যেসব নেতাকর্মী বিগত দেড়যুগ ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে অবর্ণনীয় নিপীড়ন-নির্যাতন ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে, সর্বস্ব হারিয়েছে, তাদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনে দলকে কিছু করতে হবে। দল কি তা করেছে? সহজ পথ হিসাবে, দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি এবং দখলবাজির সুযোগ দেয়া দলের পক্ষে মোটেই সমীচীন হতে পারে না।

চাঁদাবাজ-দখলবাজকে অপরাধী হিসেবে দেখতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের কেউ জড়িত থাকলে পার পেয়ে যাবে, এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বলা বাহুল্য, ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতাকর্মীর অপরাধ মানুষের কাছে অনেক বড় হয়ে দেখা দেয়। এর দায় ক্ষমতাসীন দলের উপরই বর্তায়। বর্তমানে যেভাবে চাঁদাবাজি চলছে, তার দায়ও ক্ষমতাসীন বিএনপির উপর বর্তাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জমা হচ্ছে। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, চাঁদাবাজরা তাকে ক্ষমতায় আনেনি, এনেছে সাধারণ মানুষ। এখন তারাই যদি চাঁদাবাজদের জুলুমের শিকার হয়, তাহলে তারা কোথায় যাবে? এমনিতেই দেশের অর্থনীতি নাজুক, ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম মন্দাবস্থার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে যদি চাঁদাবাজি চলতে থাকে, তাহলে মানুষের ক্ষোভ ক্ষমতাসীন বিএনপির উপরই পড়বে। চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির যে বদনাম হচ্ছে, তার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে যে পড়বে, তাতে সন্দেহ নেই। এসব নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী থাকবে। ভোটাররা তখন চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির প্রার্থীর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। অন্যদিকে, বিরোধীদলগুলো এই চাঁদাবাজিকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরবে। এতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। হাসিনার পতনের পর মানুষ যে পরিবর্তন আশা করেছিল, তা যদি ক্ষমতাসীন দলের সংশ্রবে বা প্রশ্রয়ে মুখথুবড়ে পড়ে, সেই পুরনো অপসংস্কৃতি বহাল থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের হতাশ ও ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক। ক্ষমতাসীন বিএনপিকে এ বিষয়টি সিরিয়াসলি বিবেচনায় নিতে হবে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।

ভোরে বাড়িতে ঢুকে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, দুইজন আটক

ভোরে বাড়িতে ঢুকে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, দুইজন আটক


 ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাইফুল সরদার (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ভোর চারটার দিকে সদর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ জাটিগ্রামে নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার হন তিনি।

নিহত সাইফুল ব্রাহ্মণ জাটিগ্রামের হবি সরদারের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

হামলায় একই দলের সমর্থক ইসমাইল মোল্যা (২৬) নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। উভয়পক্ষের অনন্ত ১০টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শফিকুল মিয়া ও আইয়ুব মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। মরদেহ ফরিদপুরে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলফাডাঙ্গার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান।

নিহতের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণ জাটিগ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম ও বিদ্যাধর গ্রামের শাহাদৎ হোসেন খোকন মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার ভোররাতে জুয়েল মিয়া ও তার ছোট ভাই হাসিব মিয়ার নেতৃত্বে অনন্ত ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শরিফুল ইসলামের সমর্থক সাইফুল সরদারের বাড়িতে প্রবেশ করে। থানা থেকে পুলিশ এসেছে বলে দরজা খুলতে বলে। দরজা খুলতেই সাইফুলকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এসময় হামলাকারীরা সাইফুলের বাড়িতে থাকা আসবাবপত্র ও ইলেকট্রিক মালামাল ভাঙচুর করে। এরপর ইসমাইল মোল্যার বাড়িতে ঢুকে তাকে কুপিয়ে জখম করে। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা কাশিয়ানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার বেগতিক দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠায়।

শরিফুল মেম্বারের সমর্থক দবীর শরীফের স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, স্থানীয় জুয়েল মিয়া, হাসিব মিয়া ও সবুজ মিয়াসহ অনেক লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে ঘরে থাকা ৫ লাখ টাকা, দুটি ইজিবাইক ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে শরিফুল ইসলাম ও জুয়েল মিয়াকে কল করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি আবুল হাসনাত খান বলেন, স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। রাতে পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে সাইফুল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। অন্য একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সূত্র :সমকাল

গুলিস্তানে খদ্দর মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে

গুলিস্তানে খদ্দর মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে

 



প্রায় দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে রাজধানীর গুলিস্তানে খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্সের আগুন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ৬টা ৫৮মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।

জানা গেছে, আগুনের খবর পাওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের মোট ৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে।

এর আগে, বাণিজ্যিক ভবনটির উপরের তলায় গোডাউন হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিলো। নিচতলার মার্কেটগুলোতে থাকা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন।

রাস্তায় মানুষের ভিড় থাকায় শুরুতে পানির উৎস পেতে বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। তবে আগুনের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র : আমার দেশ

মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু

মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু


রাজধানীর মগবাজারে দুর্বৃত্তদের ছোড়া বোমার বিস্ফোরণে সিয়াম নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মগবাজার মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভের সামনে ফ্লাইওভারের নিচে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচের দিকে একটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বোমাটি বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই সিয়াম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাইওভারের ওপর থেকে বোমাটি নিচে নিক্ষেপ করা হয়েছে। বোমা নিক্ষেপের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, সিয়াম একটি বেসরকারি ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। প্রথমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলেও পরে স্বজনরা এসে তাকে শনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বোমা নিক্ষেপের পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

 সূত্র : আমার দেশ

ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল শাহবাগ, চলছে বিক্ষোভ

ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল শাহবাগ, চলছে বিক্ষোভ

 



ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ মোড়। 

শনিবার বিকেল ৪টা থেকে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে এই বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর হাজার হাজার ছাত্র-জনতা মিছিল সহকারে শাহবাগে জড়ো হতে শুরু করেন। এ সময় ‘হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ এমন সব স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বানে এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে শহীদ ওসমান হাদিকে সমাহিত করা হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে শেষ বিদায় জানানোর সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শনিবার দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লক্ষাধিক মানুষ শরিক হন। জানাজায় ইমামতি করেন শহীদ হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ওসমান হাদি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ জানাজা ও দাফন শেষে শাহবাগে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

 সূত্র : আমার সংবাদ


হাদি হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন নয়, আদর্শকে থামাতে পরিকল্পিত অপচেষ্টা: ঢাবি ভিসি

হাদি হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন নয়, আদর্শকে থামাতে পরিকল্পিত অপচেষ্টা: ঢাবি ভিসি



 ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি আদর্শকে থামিয়ে দেওয়ার পরিকল্পিত অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। 

শনিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে শহীদ ওসমান হাদির দাফন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন ঢাবি উপাচার্য।

এ সময় ঢাবি উপাচার্য বলেন, শরিফ ওসমান হাদি একটি ব্যক্তির নাম নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। এই আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়বে এবং কোনো হত্যাকাণ্ড দিয়ে একে থামিয়ে দেওয়া যাবে না।
এই হত্যাকাণ্ড কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। এটি ন্যায়, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানো একটি কণ্ঠকে স্তব্ধ করার চেষ্টা।

হাদি হত্যার ঘটনায় দেশবাসীর মধ্যে যে ক্ষোভ ও শোক তৈরি হয়েছে, সেটিকে ন্যায়বিচারের দাবিতে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, সারা দেশের মানুষ এই হত্যার পূর্ণাঙ্গ বিচার দেখতে চায়।

নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, আমরাও জোর দিয়ে বলছি-এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হবে।

ঢাবি ভিসি জানান, সরকারিভাবে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে এবং ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতিও দৃশ্যমান। তবে কেবল গ্রেপ্তার নয়, দৃষ্টান্তমূলক রায়ই এই ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন


হাদিকে গুলি করা সন্ত্রাসীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি: কমিশনার

হাদিকে গুলি করা সন্ত্রাসীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি: কমিশনার


 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করা সন্ত্রাসীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগপুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

আজ শুক্রবার বিকেলে সাজ্জাত আলী গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ওনার অবস্থা খুবই গুরুতর। ওসমান হাদির ওপরে গুলি বর্ষণকারীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সন্ত্রাসীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা, র‌্যাবসহ সবাই কাজ করছে দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারের জন্য।

শুক্রবার দুপুরে মোটরসাইকেলে আসা অস্ত্রধারীরা রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করে। তাকে উদ্ধার করে আড়াইটার দিকে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়।

সূত্র: বাংলা নিউজ

গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও এমপি প্রার্থী ওসমান হাদি

গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও এমপি প্রার্থী ওসমান হাদি

 


রাজধানীর মতিঝিল থানা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। শুক্রবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে থানার বিজয়নগর কালভার্ট রোড দিয়ে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এসময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।

জানা গেছে, দুর্বৃত্তদের গুলি হাদির বাম কানের নিচে বিদ্ধ হয়। পরে তার সাথে থাকা সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দুপুর ২টা ৪০ মিনিট নাগাদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারের (ওসেক) আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাদির অবস্থা নিয়ে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) ডা. মোশতাক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা খুবই গুরুতর। তার মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে, তিনি এখন কোমায় আছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন,‌ আমরা শুনেছি বিজয়নগর এলাকায় হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমাদের টিম পাঠিয়েছি। তারা কনফার্ম করলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো। 

সূত্র : বিডি প্রতিদিন