The National Press ​
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...

আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে: তাহসিফের বোন

Thursday, October 29, 2026 The National Press
আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে: তাহসিফের বোন

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর খালাতো বোন মোশফেকা জাহান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তাহসিফের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। 

‘আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে’

তাহসিফের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁর খালাতো বোন মোশফেকা জাহান। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর তাহসিফকে দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছিল।

মোশফেকার অভিযোগ, চাকরি থেকে অবসরে পাঠানোর পরও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাহসিফকে অনুসরণ করতেন বলে তিনি তাঁকে জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, বাসা থেকে ডেকে নিয়ে তাহসিফকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তের ফলাফল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। 

আলোচিত ভিডিও ঘিরে আগে থেকেই আলোচনা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যসংবলিত একটি ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে তাহসিফ সাউরির নাম বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছিল। তবে ওই ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট জানিয়েছিল, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ও নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাহসিফকে অবসরে পাঠানো হয়েছিল। তাঁকে কোনো সুনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক অভিযোগে অবসরে পাঠানো হয়নি বলেও সংস্থাটির বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছিল।

যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ

নৌপুলিশ সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় যায়। সেখান থেকে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহের সঙ্গে থাকা ঘড়ি ও পকেটে পাওয়া মুঠোফোনের সূত্র ধরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

মৃত্যুর কারণ নিয়ে অপেক্ষা

তাহসিফের মৃত্যুকে ঘিরে তাঁর স্বজনদের অভিযোগ সামনে এলেও ঘটনাটিকে এখনই নিশ্চিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, তাঁর মৃত্যু দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের জন্য।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক