মহাখালীতে আ.লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ককটেল বিস্ফোরণ; আটক ৪
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতির সময় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে বনানী থানার আওতাধীন মহাখালী জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কাছাকাছি মুক্তিযোদ্ধা গলি ও সিএম পাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মিছিলের প্রস্তুতিতে থাকা ব্যক্তিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের আসলাম মিয়া (২৫), কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর আশিকুল ইসলাম (২৪), ঢাকার দারুস সালাম এলাকার মো. মাহফুজুর রহমান সিয়াম (১৯) এবং মিরপুর চিড়িয়াখানা স্টাফ কোয়ার্টারের মো. মনির হোসেন (৪৮)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক আসলাম মিয়া ও আশিকুল ইসলাম সরকারি বাংলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মী। তারা ওই কলেজের বিবিএ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
৩০-৪০ জনের মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগ
পুলিশ জানায়, আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ব্যানারে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি মহাখালী এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে বনানী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলের প্রস্তুতিতে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েন। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চারজনকে আটক করা সম্ভব হয়।
ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ
পুলিশের দাবি, আটকের সময় মিছিলকারীদের কয়েকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। পরে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।