The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ লাইন্সের ঘটনা ‘পরাজিত ফ্যাসিবাদের প্রতিশোধমূলক অপচেষ্টা’: খেলাফত মজলিস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ লাইন্সের ঘটনা ‘পরাজিত ফ্যাসিবাদের প্রতিশোধমূলক অপচেষ্টা’: খেলাফত মজলিস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে উচ্চস্বরে গানবাজনাকে কেন্দ্র করে মাদরাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রতিশোধমূলক অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এ দাবি জানান। দলটির প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসান জনাইদ বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান।

বিবৃতিতে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, পরীক্ষার্থী মাদরাসাছাত্ররা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পুলিশ লাইন্সে যায়নি। পরীক্ষার প্রস্তুতির স্বার্থে উচ্চশব্দে গানবাজনা বন্ধ করা অথবা শব্দের মাত্রা কমানোর অনুরোধ জানাতেই তারা সেখানে গিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শোনার পরিবর্তে পুলিশের একটি অংশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও ছররা গুলি নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব। এতে কিশোর ও শিশু শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

পুলিশের এমন আচরণকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করে তিনি প্রশাসনের ভেতরে আগের সরকারের প্রতি আনুগত্যশীল কোনো গোষ্ঠী এখনো সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান।

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, দায়ী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে দ্রুত বরখাস্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ লাইন্সে দায়িত্বে থাকা ইনচার্জের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

খেলা হবে’ বলা শামীম ওসমান এখন নিউইয়র্কে বসে ‘যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি

খেলা হবে’ বলা শামীম ওসমান এখন নিউইয়র্কে বসে ‘যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। সময়ের পালাবদলের পর এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করেও তিনি নতুন করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শামীম ওসমান দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান। বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করে তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে ‘এখন খেলা নয়, এবার যুদ্ধ হবে’ বলে মন্তব্য করছেন বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষমতায় থাকার সময় শামীম ওসমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিভিন্ন সময় কঠোর ও চ্যালেঞ্জিং বক্তব্য দিতেন। বিশেষ করে ‘খেলা হবে’ স্লোগানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক বক্তব্য ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তার অবস্থানেও বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় রাজপথ ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে সক্রিয় থাকা এই নেতাকে এখন প্রবাস থেকে বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে।

শামীম ওসমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে।

ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দিতে ‘চুমু’ নয়, পাল্টা জবাব দেব: রাশেদ খান

ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দিতে ‘চুমু’ নয়, পাল্টা জবাব দেব: রাশেদ খান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাবে নীরব থাকার মতো ‘সুশীল ব্যক্তি’ তিনি নন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খান। তার এই বক্তব্যের সূত্রপাত আগের দিনের একটি টেলিভিশন টকশোকে কেন্দ্র করে।

রাশেদ খানের দাবি, এটিএন নিউজের ওই টকশোতে তিনি শুরু থেকেই গঠনমূলকভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন। এ সময় তাকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খান বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি মামলায় জেল খেটেছেন এবং রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলনে রাজপথে থাকার দাবিও করেন তিনি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে রাশেদ খান দাবি করেন, আন্দোলনের সময় তিনি ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়ের কাজ করেছেন। নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনের সঙ্গে জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধির বৈঠক আয়োজনেও নিজের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করা এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা দেওয়ার কথাও পোস্টে উল্লেখ করেন রাশেদ খান।

টকশোর বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, সারোয়ার তুষার তাকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে রাশেদ খান বলেন, তারা নির্বাসনে থেকে কাজ করেছেন। পরে তিনি সারোয়ার তুষারকে প্রশ্ন করলে তিনি ১৯ জুলাই মাঠে থাকার কথা জানান। এরপরও তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হলে একপর্যায়ে তিনি পাল্টা জবাব দেন বলে দাবি করেন রাশেদ।

সবশেষে রাশেদ খান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কেউ আক্রমণ করলে তিনি চুপ থাকবেন না। একই সঙ্গে ‘নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি’র নামে ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চর্চা না করার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, এক পক্ষ থেকে ভদ্রতা এলে তার পক্ষ থেকেও আরও বেশি ভদ্রতা থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের প্রস্তাব দিচ্ছি: হাসনাত

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের প্রস্তাব দিচ্ছি: হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলকে ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনা দেওয়ার যে চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা দেওয়ার জন্য ছয় মাসের সময়সীমা দিয়েছেন। এনসিপি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ইতোমধ্যে সমাধানের প্রস্তাব তুলে ধরছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সমাধানের বিভিন্ন প্রস্তাব আগেই দেওয়া হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় মোট ১৫টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদে ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য পাঁচটি, ৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ছয়টি এবং দীর্ঘমেয়াদে চারটি প্রস্তাব রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি নীতি, জ্বালানি পরিকল্পনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা নিয়েও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের বড় দল থাকার পরও বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের দেওয়া এসব প্রস্তাব যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন হাসনাত। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এনসিপির প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন ডাকার জন্য বিরোধী দলের অনুরোধেও সরকার সাড়া দিচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনে ব্যাপক দলীয় পদায়নের কারণে অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি, জরুরি পরিস্থিতি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনার ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ বাস্তবায়নের দাবিও তুলে ধরেছেন এনসিপির এই নেতা। তার মতে, এই ব্যবস্থায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। এতে সরকারের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না বলে তিনি দাবি করেন।

হাসনাত বলেন, সরকার যদি এই নীতি বাস্তবায়নে ছয় মাসের বেশি সময় নেয়, তাহলে সেটি কেবল নীতিগত ব্যর্থতা নয়, সরকারের সক্ষমতার প্রশ্নও তৈরি করবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার পরিবর্তে সরকারের কাজের জবাবদিহি করলে সেটিই গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য বেশি উপযোগী হতো।

সবশেষে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানের প্রস্তাব বিরোধী দলের হাতে রয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের হাতে। ছয় মাস পর জনগণই মূল্যায়ন করবে—দেশের বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে প্রকৃত সমস্যা কোথায় ছিল।

স্থায়ী কমিটিতে রিজভীসহ বিএনপির নতুন চার সদস্য

স্থায়ী কমিটিতে রিজভীসহ বিএনপির নতুন চার সদস্য

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন সদস্যরা হলেন—দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম (ডোনার) এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

দলের সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন সদস্যদের মধ্যে রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। আমান উল্লাহ আমান এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। একই ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন ফরহাদ হালিম। আর মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলের পর দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কয়েকজন সদস্যের মৃত্যু, পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে স্থায়ী কমিটিতে একাধিক পদ শূন্য হয়। পর্যায়ক্রমে এসব পদে নতুন নেতাদের যুক্ত করেছে দলটি।

এবার একসঙ্গে চার নেতাকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নতুন বিন্যাস তৈরি হলো।

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের দমানো যাবে না: নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের দমানো যাবে না: নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা ‘আবাবিল পাখির মতো’। সরকার কিংবা দেশের বাইরের কোনো শক্তির পক্ষেই তাদের দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ বিভিন্ন দাবির সমাধান শুধু সংসদে হবে বলে তিনি মনে করেন না। এসব দাবিতে ভবিষ্যতে রাজপথেই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জনগণের কণ্ঠস্বরই এসব দাবির সমাধানের পথ তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের সাহস ও দৃঢ়তার প্রশংসা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, সংগঠনটির কর্মীরা অত্যন্ত সাহসী এবং একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে কাজ করছেন। আদর্শ, ন্যায়, নীতি ও ইনসাফের প্রশ্নে তারা শহীদ ওসমান হাদির মর্যাদার সঙ্গে কোনো আপস করেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদি বলে গিয়েছিলেন, তিনি না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের রেখে গেছেন। বর্তমানে সংগঠনটির সঙ্গে দেশের লাখো মানুষ রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এর সঙ্গে আরও বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্ত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রসঙ্গে পাটোয়ারী বলেন, বিরোধী দল ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে প্রথমেই জানতে চান—এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কবে হবে। সংসদে এ বিষয়ে তুলনামূলক কম আলোচনা হলেও শুধু সংসদীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে এর সমাধান হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশের সামনে রাজপথ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। জনগণের এই কণ্ঠস্বর ভবিষ্যতে ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিসরে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সকালে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত ও মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ‘রাহে ইনকিলাব’ নামে বিপ্লবী র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

দিনব্যাপী আয়োজনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ পর্ব, শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, কবি-সাহিত্যিক ও শিল্পীদের মতামত এবং ‘আঘাত-শ্রাবণ জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় ‘লাল জুলাই’ নাটক ও ‘ইশক-এ ইনকিলাব’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজনেরও কথা ছিল। 

প্রশাসনের সর্বত্র জামায়াত-আওয়ামী লীগ রয়েছে: পাপিয়া

প্রশাসনের সর্বত্র জামায়াত-আওয়ামী লীগ রয়েছে: পাপিয়া

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের লোকজন অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া।

মঙ্গলবার রাতে একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

পাপিয়ার দাবি, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যেসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার বড় একটি অংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল। তার অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে অনেকে চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় ও সংসদ সদস্যদের একটি অংশ নিয়োগ-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে জামায়াতের লোকজনও জায়গা করে নিয়েছেন। পাপিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের প্রায় ৮০ শতাংশ পদে জামায়াতের লোক এবং ২০ শতাংশ পদে আওয়ামী লীগের লোকজন রয়েছেন। এ অবস্থায় প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তিনি দাবি করেন, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ঘটনায় ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাপিয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান। জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা যায়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্যও তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তবে প্রশাসনে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের লোকজনের উপস্থিতি এবং নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে পাপিয়ার করা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ

মহাখালীতে আ.লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ককটেল বিস্ফোরণ; আটক ৪

মহাখালীতে আ.লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ককটেল বিস্ফোরণ; আটক ৪

রাজধানীর মহাখালী এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতির সময় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে বনানী থানার আওতাধীন মহাখালী জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কাছাকাছি মুক্তিযোদ্ধা গলি ও সিএম পাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মিছিলের প্রস্তুতিতে থাকা ব্যক্তিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের আসলাম মিয়া (২৫), কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর আশিকুল ইসলাম (২৪), ঢাকার দারুস সালাম এলাকার মো. মাহফুজুর রহমান সিয়াম (১৯) এবং মিরপুর চিড়িয়াখানা স্টাফ কোয়ার্টারের মো. মনির হোসেন (৪৮)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক আসলাম মিয়া ও আশিকুল ইসলাম সরকারি বাংলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মী। তারা ওই কলেজের বিবিএ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

৩০-৪০ জনের মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগ

পুলিশ জানায়, আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ব্যানারে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি মহাখালী এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে বনানী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলের প্রস্তুতিতে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েন। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চারজনকে আটক করা সম্ভব হয়।

ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ

পুলিশের দাবি, আটকের সময় মিছিলকারীদের কয়েকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। পরে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সর্বসম্মতিক্রমে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বৈঠকে এলডিপি চেয়ারম্যান ও মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ জোটের অন্যান্য নেতারা অংশ নেন।

এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর অলি আহমদকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।

১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদের নাম ঘোষণার ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

জাতীয় সংসদের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। 

দ্যা ফিউচার প্রেস / এস আই জুনায়েদ

মন্ত্রিসভায় আসছে রদবদল, সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় যারা

মন্ত্রিসভায় আসছে রদবদল, সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় যারা

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, মন্ত্রণালয় পরিচালনার সক্ষমতা এবং সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া কিংবা নির্দিষ্ট কোনো মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল হবে—এমন বিষয় এখনো নিশ্চিত নয়।

দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সম্ভাবনাও

সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্ভাব্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু মন্ত্রী বাদ দেওয়া বা নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেই। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের চাপ কমিয়ে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

সরকারের ভেতরে এমন মত রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজনের হাতে থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সময় বেশি লাগতে পারে। তাই প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়াতে প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হতে পারে।

আলোচনায় কয়েকজন নতুন মুখ

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হলে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও জয়নুল আবদিন ফারুকসহ কয়েকজন নেতার নাম সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে এসেছে।

তবে এসব নামের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক মহলের আলোচনা ও সূত্রনির্ভর সম্ভাবনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনাই মূল বিবেচনা

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১৮০ দিনের জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, স্বাস্থ্য-শিক্ষার উন্নয়ন এবং নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ছয় মাসের মূল্যায়নে এসব কর্মপরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, মন্ত্রণালয়গুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজ করেছে এবং জনসেবা কতটা উন্নত হয়েছে—এসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।

সরকারের বক্তব্য

মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে এর আগে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছিলেন, কোনো সদস্যের কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক না হলে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করতে বা নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন।

তবে ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।

এখন নজর ১৭ আগস্টে

সব মিলিয়ে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি। সামনে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তি, কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পরিবর্তন অথবা একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের মতো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তবে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের পরিবর্তন হবে, সেটি নির্ভর করবে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন এবং প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর।

ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকারের পরিণতি হবে ভয়াবহ

ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকারের পরিণতি হবে ভয়াবহ

 

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক ছাত্র গণজমায়েতে বক্তারা অভিযোগ করেছেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের সহিংসতা ও দখলদারিত্বের রাজনীতি বেড়েছে। তারা দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সরকারের জন্যও এর নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে’ এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো বিষয় থেকে দৃষ্টি সরাতেই ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক হামলায় জড়িতদের অনেকেই প্রকৃত শিক্ষার্থী নন, বরং বহিরাগত। তিনি দাবি করেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সরকারকে সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও মন্তব্য করেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের পরিবর্তে আবারও দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

জামায়াতের নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টেন্ডারবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। তিনি শিক্ষাঙ্গনে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সাম্প্রতিক সহিংসতার বিচার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

৫ আগস্ট উপলক্ষে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বিবৃতি

৫ আগস্ট উপলক্ষে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বিবৃতি

 

৫ আগস্টকে জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এ দিনটি দেশের মানুষের দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনার পর থেকে এ অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতা, অধিকার ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম করে এসেছে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন ও প্রতিরোধ সেই পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও জনগণের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সংকট, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের জনগণ বারবার হতাশ হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে তার অভিযোগ, আন্দোলনের পরও প্রত্যাশিত সংস্কার ও পরিবর্তনের অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দলীয়করণ, সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের অভিযোগ তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে সরকারকে গণরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও দখলদারিত্ব বন্ধ করা এবং বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।

সবশেষে নাহিদ ইসলাম দেশবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসনভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

মাথায় হেলমেট, হাতে লাঠি—সংঘর্ষে নেতৃত্বে যুবদল নেতা নয়ন

মাথায় হেলমেট, হাতে লাঠি—সংঘর্ষে নেতৃত্বে যুবদল নেতা নয়ন

রাজধানীর আলিয়া মাদরাসা মোড়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের সময় যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নকে ঘটনাস্থলে সক্রিয়ভাবে অবস্থান করতে দেখা গেছে। সাদা পাঞ্জাবি, মাথায় হেলমেট এবং হাতে জিআই পাইপ নিয়ে তাকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৫টার পর আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পৃথক সংঘর্ষের জেরে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ চলাকালে রবিউল ইসলাম নয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান নেন এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে তাদের সংগঠিত করার চেষ্টা করেন।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তাকে বলতে শোনা যায়, “তারা (শিবির) গুলি করছে, আপনারা কিছু করছেন না কেন?”

জানা গেছে, রবিউল ইসলাম নয়ন বর্তমানে যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আলিয়া মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চের প্রস্তুতি নিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চের প্রস্তুতি নিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে নতুন ধাপে নিতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জোটের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের ২৯ বা ৩০ আগস্ট থেকে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ শুরু করার প্রস্তাব লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচির রূপরেখাও ওই বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, লংমার্চের পাশাপাশি বিভাগীয় পথসভা, জনসভা, রাজধানীতে মহাসমাবেশ, জাতীয় সেমিনার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন–পরবর্তী সময় থেকেই জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে ১১ দলীয় ঐক্য। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি শেষ করে জোটটি।

এরপর ৩০ জুলাই রাজধানীর মিন্টো রোডে অনুষ্ঠিত লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে আন্দোলনের নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ, রাজধানীতে মহাসমাবেশ এবং বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে খুলনা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি রুটে একাধিক পথসভা ও জনসভা আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন বলেন, লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে লংমার্চের প্রস্তাব এসেছে। শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে অনুমোদন হলে সময়সূচি ও রুট চূড়ান্ত করা হবে।

জোটের নেতারা জানান, আগে অক্টোবরে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা থাকলেও লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সেটি নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় মাঠে থেকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে এ কৌশলের মূল লক্ষ্য।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের ভাষ্য, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, লোডশেডিং, গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান এবং জনভোগান্তি—এসব বিষয়ও আন্দোলনের অন্যতম ইস্যু হিসেবে সামনে আনা হবে।

জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ধারাবাহিক কর্মসূচিতে জনগণের ইতিবাচক সাড়া মিললেও সরকার এখনো দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করতে লংমার্চ, মহাসমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্তের পর পর্যায়ক্রমে সেগুলো ঘোষণা করা হবে।

নরসিংদীর পলাশে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গুলি ও হামলা, আহত অন্তত ১০

নরসিংদীর পলাশে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গুলি ও হামলা, আহত অন্তত ১০

 

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনাহাটা ফকিরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফকিরবাড়ি এলাকার আওলাদ, মহসিন, সানি ও সবজু মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই শনিবার রাতে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার সময় মাসুম, মামুন, জয়নাল আবেদীনসহ কয়েকজন একটি মুদি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়।

হামলায় ছাত্রদল নেতা মাসুম গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ আরও কয়েকজন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।

আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বগুড়ায় এনসিপি নেতাদের ব্যানারে আগুন দিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

বগুড়ায় এনসিপি নেতাদের ব্যানারে আগুন দিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা ছাত্রদল। বিক্ষোভ শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ছবিসংবলিত একটি ব্যানার ও কুশপুত্তলিকায় আগুন দেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ থেকে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাতমাথায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা সাতমাথার সপ্তপদী মার্কেটের ওপর টানানো এনসিপির নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার নামিয়ে আগুন দেন। এ সময় একটি কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।

সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান অভিযোগ করেন, এনসিপির কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি এনসিপির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান ছাত্রদলের নেতারা।

সত্য প্রকাশে আপস না করার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের

সত্য প্রকাশে আপস না করার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের


বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ এবং সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। সত্য প্রকাশে আপস না করাই গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

শনিবার সিলেটের বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহ মসজিদ কমপ্লেক্সে দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ৩৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দৈনিক জালালাবাদ যেন কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র না হয়ে জনগণের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে। নীতিগত অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রতিকূলতার মুখে পড়লেও সত্য প্রকাশ থেকে সরে না আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোনো সংবাদ যদি তার ব্যক্তিগতভাবে বা তার দলের বিরুদ্ধেও যায়, তবুও সত্য প্রকাশে যেন গণমাধ্যম পিছপা না হয়। একটি সংবাদমাধ্যম নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরতে পারলেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

সমাজে আস্থার সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষে মানুষে বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বক্তব্যের শেষে তিনি দৈনিক জালালাবাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের গণমাধ্যমে সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার ধারা আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, দৈনিক জালালাবাদের সম্পাদক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মির্জা আব্বাস

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মির্জা আব্বাস

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।



নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

 

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপিও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছিল। ফলে ঘটনাটি ঘিরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই বিকেলে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকায় এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর দাবি, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শোকসভায় অংশ নিতে গেলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ অভিযুক্তরা হামলা চালান। এতে জেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় কয়েকটি আইফোন, একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

মামলার নামীয় আসামিরা হলেন—নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, নুর আলম চৌধুরী, ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, নাহিদ উদ্দিন তারেক, আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

অন্যদিকে, একই ঘটনার পর এনসিপিও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। তাদের একজন একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। একই ঘটনায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়।

এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য একটি ভবনে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং পুলিশি নিরাপত্তায় মৌলভীবাজারে পৌঁছে দেয়।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এদিকে, জেলা ছাত্রদলের নেতারাও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের দায়ের করা পাল্টাপাল্টি মামলা ও অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দেশে আবারও ভয়ের সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

দেশে আবারও ভয়ের সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম


দেশে আবারও ভয়ের সংস্কৃতি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আন্দোলন দমনে বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে রাস্তা অবরোধ করা শেখ হাসিনা সরকারের কৌশলের পুনরাবৃত্তি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ডিএসএ) ব্যবহার করে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করেছিল। বর্তমান সরকারও একই ধরনের পথ অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা ও বাধার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন করতে বলপ্রয়োগ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তির বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, ‘ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত হলে নব্য ফ্যাসিবাদ আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তিনি যদি ঢাকার মাটিতে পা রাখেন, তখন দেখা যাবে।’

এর আগে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা এবং মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে পৌঁছান। দক্ষিণ সুরমার পারাইচক বাইপাস এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীরা তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

পরে তারা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আলোচনা সভায় অংশ নেন।