The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
‘আমি যেন গর্ব করে বলতে পারি আসিফ আমার ছেলে’

‘আমি যেন গর্ব করে বলতে পারি আসিফ আমার ছেলে’

 


‘আন্দোলনের প্রথমে বাধা দিয়েছিলাম। যেন বের না হয়। সে আমার কথা শুনেনি। বললাম, এত কষ্ট করে পড়াশোনা করালাম ভালো চাকরি করো, মানুষের মত মানুষ হও। তুমি আন্দোলনে গিয়ে আমার স্বপ্ন শেষ করিও না। সে আমাকে বলেছিল দোয়া করতে৷কিছু করার ছিল না। আমি প্রতিবেলা নামাজে তার জন্য দোয়া করতাম। তার মাও দোয়া করতো, কান্নাকাটি করতো। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন। এখন আল্লাহ তার শ্রম ও সততার পুরষ্কার দিয়েছেন। অন্তবর্র্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হয়েছেন। ’

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব কথা বলেন অন্তরবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাবা মো. বিল্লাল হোসেন।

তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে আসিফ মিশুক ও অধিকার সচেতন। তার নেতৃত্ব দেয়ার আলাদা গুণ লক্ষ্য করেছি। সে যেখানেই গেছে নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু কখনই কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। 

তিনি বলেন, ছেলেকে সৎ ও যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। কখনই দুর্নীতির শিক্ষা দেয়নি। আমরা আজ গাড়ি ভাড়া করে এসেছি। আমি চাই আমার ছেলেও যখন উপদেষ্টা থাকবে না তখন যেন গর্ব করে বলতে পারে আমি দুর্নীতি করিনি। আজ যেমন পাঞ্জাবি, টি-শার্ট পরে বঙ্গভবনে গেছে সে যেন এমনই সাধারণ থাকে। আমার ছেলের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। তাকে বাংলার ইতিহাস মনে রাখবে এটা আমার বিশ্বাস আছে। আর আমিও যেন গর্ব করে বলতে পারি আসিফ আমার ছেলে। তার কোনো দুর্নীতি নেই। 

জানা গেছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকবপুর ইউনিয়নের আকবপুর গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেন ও রোকসানা আক্তার দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। আসিফের বাবা আকবপুর ইয়াকুব আলী ভূইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বড় বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে স্বামীসহ জাপানে আছেন। তৃতীয় বোন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। আর ছোট বোন রাজধানীর হলিক্রস কলেজে পড়াশোনা করছেন। 

জানা গেছে, আসিফ ২০১৩ সালে কুমিল্লার আকবপুর ইয়াকুব আলী ভূইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণি পাস করেন। পরে ঢাকার তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া এলাকার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর চলে যান ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার করেন তিনি। সব ক্লাসেই ভালো ফল পাওয়া আসিফ প্রথম বারেই চান্স পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে। 

তার এই সফলতার খবরে শুক্রবার উপজেলাজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে। মসজিদে মসজিদে তার জন্য দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ করছে স্থানীয় জনতা। অনেকে আসছেন তার বাড়ি ঘর দেখতে। 

বিডি প্রতিদিন

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যা বলছে শ্রীলংকা

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যা বলছে শ্রীলংকা

 


বাংলাদেশের উদ্ভূত পরিস্থিতির সার্বিক স্থিতিশীলতা কামনা করেছে শ্রীলংকা। অথচ মাত্র দুই বছর আগে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেছিল দেশটি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা সংক্ষিপ্ত এক বার্তায় বাংলাদেশ ইস্যুতে শ্রীলঙ্কার সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী সাবরি।

এক্সবার্তায় তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস, সহনশীলতা এবং ঐক্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ তার স্থিতিশীলতা-শান্তি ফিরিয়ে আনবে। সামনে বর্তমানে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেসব মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে— এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রসঙ্গত, ডলারের মজুত তলানিতে ঠেকে যাওয়ায় নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় সরকারপতন আন্দোলন শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের শেষের দিকে। প্রায় ৬ মাস তীব্র আন্দোলন চলার পর ২০২২ সালের জুন মাসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকশে এবং তার বড়ভাই এবং প্রধামন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশে।

আন্দোলনকারী জনতার হামলার ভয়ে পদত্যাগকারী মাহিন্দা আশ্রয় নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে। আর গোতাবায়া রাজাপাকশেকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।

শ্রীলঙ্কার আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সরকার পতন আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে। গত প্রায় এক মাস ধরে শিক্ষার্থী-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে সোমবার পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের স্যালুট জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব

শিক্ষার্থীদের স্যালুট জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব

 

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের তোপের মুখে পড়েই গতকাল সোমবার দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে শাসন ক্ষমতায় থেকে হত্যা, নৈরাজ, অন্যায় অবিচার করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। অবশেষে শেখ হাসিনার বিদায়ে মুক্তি পেল পুরোদেশ।

শেখ হাসিনার এই বিদায়ে সারা দেশের ছাত্র জনতার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা নিজের জীবন বাজি রেখে প্রতিদিন রাস্তায় সংগ্রাম করেছেন। এই সংগ্রামে সারা দেশে নিহত হয়েছে কয়েকশ ছাত্র ও সাধারণ মানুষ। আহত হয়েছে কয়েক হাজার। জেলে যেতে হয়েছে অনেক শিক্ষার্থীকে। 

কোট সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের স্যালুট জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানাতে চাই, সেসব শহিদদের, ছাত্র ও জনতা যারা দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর ধরে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রতি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা অভিবাদন জানাতে চাই, স্যালুট জানাতে চাই, আমাদের ছাত্রদের আমাদের সন্তানদের যারা তাদের মেধা বুদ্ধিমত্তা সাহস নিয়ে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বুকের রক্ত দিয়ে ছাত্র-জনতা বিজয় অর্জন করেছেন আমরা তাদের স্যালুট জানাই।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আপনাদের মাধ্যমে এই বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছি দিতে চাই, এখন স্থান নেই কোনো প্রতিহিংসা, কোনো প্রতিশোধ গ্রহণের। এখন প্রয়োজন ধৈর্যের সঙ্গে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এই অর্জিত স্বাধীনতাকে সুসংহত করা।

আবু সাঈদদের রক্তে ভিজে এলো যে বিজয়

আবু সাঈদদের রক্তে ভিজে এলো যে বিজয়

 


'মাগো ভাবনা কেন/আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে/ তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি/ তোমার ভয় নেই মা/ আমরা প্রতিবাদ করতে জানি। আমরা হারবো না/ তোমার মাটির একটি কণাও ছাড়ব না/ আমরা পাঁজর দিয়ে দুর্গ ঘাটি গড়তে জানি/ তোমার ভয় নেই মা/ আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।' গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা আর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গলায় ও সুরে গাওয়া দেশাত্মবোধক গানটি বাঙালিমাত্রেরই জানা। ১৯৬১ সালে প্রথম প্রচারিত হওয়া এই গানটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

এবার বাংলাদেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন জুড়েও লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল শাশ্বত এই গানটি। কোটা সংস্কারের ন্যায্য দাবি নিয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল গত ৫ জুলাই।

নানা ঘটনা-অঘটন আর হত্যাযজ্ঞ ও রক্ত মাড়িয়ে সরকারের পদত্যাগের চূড়ান্ত এক দফার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়া আন্দোলনটি হয়ে ওঠে গণঅভ্যুত্থান। আন্দোলনের অকুতোভয় সমন্বয়কদের দুর্বার সাহস আর দেশপ্রেমে ভর করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার মধ্য দিয়ে পূর্ণ সফলতা অর্জন করে অভূতপূর্ব এই আন্দোলন। হাজারো গুলি, হত্যা, হামলা- মামলা, গ্রেফতার, টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট, ছররা গুলি আর সাউন্ড গ্রেনেডও পিছু হটাতে পারেনি অধিকার আদায়ের ন্যায্য দাবিতে অটল থাকা শিক্ষার্থীদের। জনতার কাছে তারা পেয়েছেন বীরের মর্যাদা।

সফল এই আন্দোলনে বড় ধরনের বাঁক বদল ঘটে ১৬ জুলাই রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায়। দুই হাত দুই দিকে টান টান প্রসারিত করে বুক পেতে দিয়ে সাঈদ বলেছিল, 'গুলি আন্দোলনকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। শিক্ষার্থীদের বিজয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছেন আবু সাঈদ। 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু থেকে বিজয় অর্জন পর্যন্তই যেন 'মাগো ভাবনা কেন' গানেরই কথা দিয়ে গাঁথা। বাঁচতে শুধু জানবো না/ আমরা চিরদিনই হাসি মুখে মরতে জানি/ তোমার ভয় নেই মা/ আমরা প্রতিবাদ করতে করো'। পুলিশ তার বুকে গুলি চালিয়ে নিমর্মভাবে হত্যা করে। এই দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে দেশে-বিদেশে। যারাই এই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য দেখেছেন কেউই মানতে পারেননি, চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। সাঈদের মৃত্যু যেই গানটিতে আরো রয়েছে- 'আমরা অপমান সইব না/ ভীরুর মত ঘরের কোণে রইব না/ আমরা আকাশ থেকে বজ্র হয়ে ঝড়তে জানি/ তোমার ভয় নেই মা/ আমরা প্রতিবাদ করতে জানি/আমরা পরাজয় মানব না/ দুর্বলতায় জানি/মাগো ভাবনা কেন।'

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন শুরু থেকেই ছিল অহিংস ও শান্তিপূর্ণ। ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কোটা পাবে না তো কী রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে?' তার এই মন্তব্যে মর্মাহত ও অপমানিত বোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ঐ দিনই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে স্লোগান দেন, 'চাইতে আসলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার', 'তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার'।

পরদিন ১৫ জুলাই ওবায়দুল কাদের এক বক্তব্যে বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঔদ্ধত্বের জবাব দিতে ছাত্রলীগ প্রস্তুত'। এর কয়েক ঘণ্টার মাথায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলে পড়ে ছাত্রলীগ। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ছাত্রলীগ রক্তাক্ত করে তোলে। এরপর ক্যাম্পাসে নামানো হয় পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবিকে।

প্রতিবাদে পরদিন ১৬ জুলাই সারা দেশে শিক্ষাঙ্গনে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। সেদিনই রংপুরে আবু সাঈদসহ ছয় জন হত্যার শিকার হন। এতে আরো ঘোলাটে হয় পরিস্থিতি। ১৮ জুলাই সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির ডাক দেন শিক্ষার্থীরা। সেদিন রাজধানীর বাড্ডা ও উত্তরায় সংঘাতে বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থী নিহত হন। পরের তিন-চার দিন ধরে চলে সংঘর্ষ। এ সময়ে শিক্ষার্থীসহ নিহত হন প্রায় ৩০০ জন। এরপর কারফিউ জারি করা হয়। শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে লাখ লাখ ছাত্র-জনতার সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম সরকারের পদত্যাগের এক দফা ঘোষণা করেন। এক দফা আদায়ে ঘোষণা করা হয় অসহযোগ আন্দোলনের। এই কর্মসূচি চলাকালেই রবিবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত-সংঘর্ষে শতাধিক লোক নিহত হন। এরমধ্যেই 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন করে একদিন এগিয়ে এনে মঙ্গলবারের পরিবর্তে গতকাল সোমবার পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। আর গতকালই পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা, বিজয়ের পতাকা ওড়ান ছাত্র-জনতা।

ইত্তেফাক

বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য: শাহবাগে সমন্বয়ক নাহিদ

বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য: শাহবাগে সমন্বয়ক নাহিদ

 


আওয়ামী লীগ দেশে একটা গৃহযুদ্ধ তৈরি করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও গন্তব্য পরিষ্কার। বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য।

আমরা এখনো সময় দিচ্ছি। সরকার যদি এখনো সহিংসতা চালিয়ে যায়, আমরা কিন্তু গণভবনের দিকে তাকিয়ে আছি। শেখ হাসিনাকে ঠিক করতে হবে, এখনো সহিংসতা চালাবেন, রক্তপাত চালাবেন, নাকি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে পদত্যাগ করবেন।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে আজ রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ মোড়সহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। বেলা তিনটার দিকে শাহবাগে বিক্ষোভে যোগ দিয়ে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দেশকে একটা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র-জনতা যেকোনো মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত। আজকে লাঠি তুলে নিয়েছি। যদি লাঠিতে কাজ না হয়, আমরা অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত। আপনারা প্রতিরোধ করুন, রুখে দাঁড়ান, সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশছাড়া করতে হবে।

আমাদের এক দফা দাবি ঘোষণা হয়ে গেছে। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণা বাকি। আমাদের যদি গুম–খুন করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয়, যদি ঘোষণা দেওয়ার মতো কেউ না থাকে, আপনারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আর যদি আমার ভাইদের বুকে গুলি করা হয়, আমার বোনদের কেউ আহত হয়, আমরা বসে থাকব না। পাড়ায়–পাড়ায়, গ্রামে–গ্রামে, মহল্লায়–মহল্লায়, অলিতে–গলিতে প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি গঠন করুন। যেখানেই হামলা হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। আমরা এই সরকারকে মানি না। এখন থেকে দেশের নেতৃত্ব দেবে ছাত্র-জনতা। ছাত্র-জনতার ঘোষণা চূড়ান্ত ঘোষণা।’

সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা এই খুনি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিচার নিশ্চিত করব এই বাংলার মাটিতে। পুনরায় মুঠোফোন ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র এবার কোনো কাজে লাগবে না। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও আমরা রাজপথে থাকব।’

সরকারের পদত্যাগের এই আন্দোলনে আগামীকাল সোমবার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

Bangladesh anti-government protests kill 105

Bangladesh anti-government protests kill 105

 


At least 90 people were killed in Bangladesh on Sunday, amid worsening clashes between police and anti-government protesters.

The unrest comes as student leaders have declared a campaign of civil disobedience to demand that Prime Minister Sheikh Hasina step down.

Thirteen police officers were killed when thousands of people attacked a police station in the district of Sirajganj, police said.

The student protest started with a demand to abolish quotas in civil service jobs last month, but has now turned into a wider anti-government movement.

Both police and some supporters of the governing party were seen shooting at anti-government protesters with live ammunition. Police also used tear gas and rubber bullets.

The total death toll since the protest movement began in July now stands at over 280.

A nationwide overnight curfew has been in place since 18:00 (12:00 GMT).

Amid calls for her resignation, Ms Hasina sounded defiant. Speaking after a meeting with security chiefs, she said the protesters were "not students but terrorists who are out to destabilise the nation".

On Sunday, Law and Justice Minister Anisul Huq told the BBC’s Newshour programme that authorities were showing “restraint”.

“If we had not shown restraint, there would have been a bloodbath. I guess our patience has limits,” he added.

In the capital, Dhaka, access to internet on mobile devices has been suspended.

Deaths and injuries have been reported across the country, including the northern districts of Bogra, Pabna and Rangpur.

Thousands of people gathered in a main square in Dhaka and there have been violent incidents in other parts of the city.

“The whole city has turned into a battleground,” a policeman, who asked not to be named, told the AFP news agency. He said a crowd of several thousand protesters had set fire to cars and motorcycles outside a hospital.

Asif Mahmud, a leading figure in the nationwide civil disobedience campaign, called on protesters to march on Dhaka on Monday.

"The time has come for the final protest", he said.

Students Against Discrimination, a group behind the anti-government demonstrations, urged people not to pay taxes or any utility bills.

The students have also called for a shutdown of all factories and public transport.


Around 10,000 people have been reportedly detained in a major crackdown by security forces in the past two weeks. Those arrested included opposition supporters and students.

Some ex-military personnel have expressed support for the student movement, including ex-army chief General Karim Bhuiyan, who told journalists: “We call on the incumbent government to withdraw the armed forces from the street immediately.

He and other ex-military personnel condemned "egregious killings, torture, disappearances and mass arrests".

The next few days are seen as crucial for both camps.

The protests pose a momentous challenge to Ms Hasina, who was elected for a fourth consecutive term in January elections, boycotted by the main opposition.

Students took to the streets last month over a quota that reserved one third of civil service jobs for relatives of the veterans of Bangladesh’s independence war with Pakistan in 1971.

Most of the quota has now been scaled back by the government following a government ruling, but students have continued to protest, demanding justice for those killed and injured. Now they want Ms Hasina to step down.

Supporters of Ms Hasina have ruled out her resignation.

Earlier, Ms Hasina offered unconditional dialogue with the student leaders, saying she wanted the violence to end.

“I want to sit with the agitating students of the movement and listen to them. I want no conflict," she said.

But the student protesters have rejected her offer.

Ms Hasina called in the military last month to restore order after several police stations and state buildings were set on fire during the protests.

The Bangladeshi army chief, Gen Waker-Uz-Zaman, held a meeting with junior officers in Dhaka to assess the security situation.

“The Bangladesh army has always stood by the people and will continue to do so for the interest of people and in any need of the state," Gen Zaman said, according to a release by the Inter Services Public Relation Directorate.

Bangladeshi media say most of those killed in last month’s protests were shot dead by police. Thousands were injured.

The government argues that police opened fire only in self-defence and to protect state properties.

Asia
Bangladesh
Sheikh Hasina

BBC NEWS ENGLISH

ছাত্রদের সঙ্গে নামছে জনতা

ছাত্রদের সঙ্গে নামছে জনতা

 


দেশব্যাপী চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছাত্র আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে এরই মধ্যে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। এর ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়েছে অভিভাবক, গৃহিণীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের মধ্যে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরাও। বিভিন্ন স্লোগানে গলা মিলিয়েছে সর্বস্তরের জনতা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের গতকাল প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকা পরিণত হয় বিক্ষোভের নগরীতে।

এদিকে অসহযোগ কর্মসূচির কারণে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে সারা দেশ। গতকাল দিনভর আন্তজেলা পর্যায়ে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সারা দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যেই আজ ঢাকামুখী লং মার্চ নামে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে সরকার ঘোষিত কারফিউ।   
লাশ নিয়ে মিছিল-স্লোগান : চলমান আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় লাশ নিয়ে মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ আন্দোলন ঘিরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়েছে। বেড়েই চলছে নিহতের সংখ্যা। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আন্দোলনে নিহত চারজনের লাশ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। সেখান থেকে একজনের লাশ নিয়ে শাহবাগে মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। সন্ধ্যা ৬টায় কারফিউ জারির পর শাহবাগে ভিড় কমতে থাকে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় শাহবাগ মোড়ে কয়েক শ আন্দোলনকারী অবস্থান করছিলেন। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেটও ছোড়া হয়। পরে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এদিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এক নিহতের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ধারাবহরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গুলিবিদ্ধ হন দুজন। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানান, দুপুরে গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে ছাত্র-জনতা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাদের সরিয়ে দিতে যায় পুলিশ, সেখানে বিজিবিও উপস্থিত ছিল। পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে ছাত্র-জনতার তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবি পিছু হটতে বাধ্য হয়।

রাজধানীজুড়ে গত কয়েকদিনের বিক্ষোভ সমাবেশে রোজগারের কথা চিন্তা না করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্লোগানে গলা মেলাতে দেখা গেছে রিকশাচালকদেরও। ঘরকন্না ছেড়ে রাজপথের মিছিলে শামিল হয়েছেন সাধারণ গৃহিণীরাও। ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর দেশের সাধারণ মানুষকে এভাবে কোনো আন্দোলনে শামিল হতে দেখা যায়। আন্দোলনে চলমান সহিংসতা উপেক্ষা করে গণমানুষের এই সম্পৃক্ততা দেখা যাচ্ছে মহানগরীর পাড়া-মহল্লায়ও।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অল্প কয়েকজন অভিভাবককে দেখা গেলেও আন্দোলন যত গড়িয়েছে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অভিভাবকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। কেউ কেউ শুরুতে সন্তানের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আন্দোলন স্থলে এলেও এখন তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাবি আদায়ে নিজ সন্তানের সঙ্গেই স্লোগানে গলা মেলাচ্ছেন। গত শুক্রবার বিকালে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এই আবাসিক এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদেরও তাদের সন্তানসহ রাস্তায় নেমে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল করতে দেখা যায়। এই মিছিলে আরও ছিলেন এলাকার বয়স্ক নারী-পুরুষ।

গতকাল দুপুরে মিরপুর ইসিবি চত্বরে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনে অভিভাবকদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। বেশ কয়েকজন মাকে তার সন্তানদের নিয়ে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হতে দেখা যায়। তারা প্রধান সড়কের পাশেই পানি ও শুকনা খাবার হাতে গলির মুখে বসেছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীর মা সাহিনা আক্তার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমার কলেজপড়ুয়া মেয়ে তার সহপাঠীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের প্রতিবাদে আন্দোলন করছে। মা হিসেবে আমি প্রথমে ওর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ওপর যেভাবে নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে, তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, একজন অভিভাবক হিসেবে এটি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আন্দোলনে যে শিক্ষার্থীদের মৃত্যু হয়েছে তারা আমারই মেয়ের বয়সী, আমার সন্তানের মতো। নৈতিকভাবে আমিও এখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করছি।’

গতকাল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকদেরও ‘জাস্টিস, জাস্টিস উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে গলা মেলাতে দেখা যায়। শাহবাগ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকদেরও একাত্মতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর, প্রগতি সরণি, বনশ্রীসহ আরও বেশ কিছু এলাকায় অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের নিয়ে আন্দোলনে যোগ দিতে দেখা যায়।

সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এ ছাড়া রাজধানীর ফার্মগেটে দেশের চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, থিয়েটারসহ দৃশ্য মাধ্যমের কর্মীরা এরই মধ্যে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে পয়লা আগস্ট সমবেত হন। বাদ যাননি সংগীতশিল্পীরাও। ‘গেট আপ স্ট্যান্ড আপ’ শিরোনামে ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে সমবেত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারাও সংহতি প্রকাশ করেন। এরই মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সারা দেশে নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন সাংবাদিকরা। আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষও।

ঢাকামুখী নতুন কর্মসূচি আজ : অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্দোলনরত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ সোমবার ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে সরকার ঘোষিত কারফিউ। গতকাল এক বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের পক্ষে এ ঘোষণা দেন অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। অন্যান্য সমন্বয়কও একযোগে এ কর্মসূচির লিখিত ও ভিডিও বার্তা প্রচার করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি গভীর সংকটময় মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমাদের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি মঙ্গলবারের পরিবর্তে আজ সোমবার পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

পূর্বঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল প্রথম দিনে সকাল থেকেই রাজপথে নামতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন শিক্ষক-অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে দুপুরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের একটি অংশের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে মৃত্যুর খবরের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ঘোষণা করে সরকার। এ কারফিউ প্রত্যাখ্যান করে  এই ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি ঘোষণা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতাকে খুন করা হয়েছে। চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার সময় এসে গেছে। ইতিহাসের অংশ হতে সবাই ঢাকায় আসুন। আশপাশের জেলাগুলো থেকে সবাই আজ ঢাকায় আসবেন। আর যাদের সুযোগ রয়েছে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে যান। ঢাকায় এসে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা রাজপথগুলোতে অবস্থান নিন। চারদিক থেকে আমরা গণভবনের দিকে রওনা হব। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের গুন্ডারা পুলিশের অস্ত্র দিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করেছে। কিন্তু ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে তারা টিকে থাকতে পারেনি। রাজপথের পরাজিত শক্তি হিসেবে তারা বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এই ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করতে হবে। এই সমন্বয়ক বলেন, আনন্দের বিষয় হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনী ছাত্র-জনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। আবার মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনী ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, আপনারা এই দেশের নাগরিক। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। আপনারা দেশের পক্ষে ও দেশের জনগণের জন্য কাজ করবেন। কোনো খুনি রাজনৈতিক দলের জন্য কাজ করবেন না। এটিই দেশের জনগণ আপনাদের কাছে প্রত্যাশা করে।

 

বিডি প্রতিদিন

লাশের সারি রক্তাক্ত দেশ ঢাকাসহ জেলায় জেলায় সংঘর্ষ গুলি হামলা নিহত ৯৩

লাশের সারি রক্তাক্ত দেশ ঢাকাসহ জেলায় জেলায় সংঘর্ষ গুলি হামলা নিহত ৯৩

 


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগের প্রথম দিনেই গতকাল সারি সারি লাশে রক্তাক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকাসহ ১৯ জেলায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন পুলিশসহ ৯৩ জন। তাদের মধ্যে ১৪ জন পুলিশ সদস্য এবং বাকিরা আন্দোলনকারী ছাত্র, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক কর্মী। আন্দোলনকারী, আওয়ামী লীগকর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে বিক্ষোভের আগুন পৌঁছেছে শহর নগর গ্রামে। সবমিলিয়ে দেশব্যাপী তৈরি হয়েছে এক ভীতিকর পরিস্থিতি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ কর্মসূচিতে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত অন্তত ২২২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। এ পর্যন্ত ঢাকায় অন্তত ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, পল্টন, নয়াবাজার, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, কারওয়ানবাজার, মিরপুর-১০, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী ও শনির আখড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থী, পথচারী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মী। 

ফার্মগেটে গুলিতে আহত এক তরুণকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। পরে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় তৌহিদুল ইসলাম (২২) নামে ওই তরুণের মৃত্যু হয়। তিনি কবি নজরুল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে স্নাতকে ভর্তির অপেক্ষায় ছিলেন। পাশাপাশি ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায়। 

এর পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রমিজ উদ্দিন রূপ (২৪) নামে আরেক শিক্ষার্থীকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। তাকে কারওয়ান বাজার থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বেসরকারি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এদিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে জহির উদ্দিন (২৫) নামে আরেক যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাকে গুলিস্তান থেকে ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 

জিগাতলায় গুলিতে আবদুল্লাহ সিদ্দিকী (২৩) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তিনি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের বিবিএর শিক্ষার্থী। তার বাসা পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে। উত্তরায় সংঘর্ষে ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ারুল নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা গুলিতে মারা যান। মিরপুরে গুলিতে মিরাজ হোসেন (২২) নামে এক পরিবহন শ্রমিক নিহত হন। এ ছাড়া ঢামেকে অজ্ঞাত আরও দুজনের লাশ পাওয়া তথ্য পাওয়া গেছে। এদের একজনের বয়স আনুমানিক ২৫।

ঢামেক সূত্র জানায়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে জামাল উদ্দিন (৫০), সাব্বির (১৮) ও মোদাচ্ছির হোসেন (২৩) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অপরদিকে রাজধানীর শাহবাগে মাহিন (২৫), হাসিবুর রহমান (৩০), সুভাষ (২৪), তানভীর রহমান (২০), সেলিম (৪০), রিমন (২৩) ও হৃদয় (২০) ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। পল্টনে ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক শাহরিয়ার আবির (২৮) আর সংঘর্ষে আহত হয়েছেন শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন (২০) ও মঞ্জিল মোল্লা (৫০)। এ ছাড়া বংশালে সাইফুল (৩০) ও আতিক (২৭), গুলিস্তানে শাহজালাল (৩০), নয়াবাজারে অজ্ঞাতনামা এক তরুণ (২৫), সায়েন্স ল্যাবে দোকানের কর্মচারী রিয়ন (১৬) ও শিক্ষার্থী কিবরিয়াকেও (২৩) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের কদম ফোয়ারা এলাকায় ছররা গুলিতে দৈনিক আমাদের সময়ের প্রধান ফটো সাংবাদিক মেহেরাজ (৪৮) এবং আজকের দৈনিকের নুর হোসেন (৪৫) আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সায়েন্স ল্যাবে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৪১ : রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবে গতকাল বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ সায়েন্স ল্যাব থেকে জিগাতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ৪১ জন। এর মধ্যে তিনজন তাজা গুলি ও বাকিরা ছররা গুলিতে বিদ্ধ হয়েছেন।

সায়েন্সল্যাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান চলাকালে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস থেকে আগত নেতা-কর্মীরা তাদের উদ্দেশে ইট পাটকেল ছোড়ে। এতে মুহূর্তেই রণক্ষেত্রের রূপ নেয় পুরো ধানমন্ডি, সিটি কলেজ, বিজিবি সদর দপ্তর এলাকা ও জিগাতলা। এ সময় জিগাতলায় গুলিতে আবদুল্লাহ সিদ্দিকী (২৩) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তিনি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের বিবিএর শিক্ষার্থী। তার বাসা পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে। 

ধানমন্ডিতে ‘ইয়েলো’র শোরুমে আগুন : রাজধানীর ধানমন্ডি-২ নম্বরে পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ইয়েলো’র একটি শাখায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ভবনটি। গতকাল বিকাল ৪টায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে দুপুর থেকেই ধানমন্ডির বিভিন্ন সড়কে আন্দোলনকারী, আওয়ামী লীগকর্মী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এর মধ্যেই কে বা কারা ধানমন্ডি-২ নম্বর রোডে পপুলার ডায়াগনস্টিকের পাশে ও স্টার কাবাবের বিপরীত দিকে অবস্থিত ‘ইয়েলোর’ শোরুমে আগুন দেয়।

উত্তরায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে নিহত দুই, আহত অর্ধশত : রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে আজমপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুজন নিহতসহ অর্ধশত আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি উত্তরা ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. হাবিব হাসানের আপন চাচাতো ভাই ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ারুল। তাকে গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারীরা। নিহত আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এর আগে, সকালে ‘এক দফা এক দাবি’ স্লোগান দিয়ে সড়কে মিছিল নিয়ে বের হন উত্তরার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা হাউস বিল্ডিং, আজমপুর থেকে বিএনএস সেন্টার পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সকাল থেকেই মাঠে ছিল আন্দোলনকারীরা। আজমপুর থেকে জসীমউদ্দিন পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আজমপুর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয়। এর পর শিক্ষার্থীরাও পাল্টা ধাওয়া দিলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পিছু হটে। এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি অস্ত্র, ইট-পাটকেট ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। চলতে থাকে গুলিও। ঘটে হতাহতের ঘটনা। বেলা ১১টার দিকে উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের জমজম টাওয়ার এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা আজমপুর বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে অবস্থান নেয়। রাজলক্ষ্মী, আজমপুর রেলগেটের গলির মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালীন আজমপুর আমির কমপ্লেক্সের গলির মধ্যে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

আমির কমপ্লেক্স এবং রাজউক মার্কেটের মাঝে প্যান্ডেল তৈরি করে সকাল থেকে অবস্থান করে সাবেক এমপি হাবিব হাসানের অনুসারী আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ। সংঘর্ষ শুরু হলে প্যান্ডেল ও চেয়ার পুড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সংঘর্ষে দুজন নিহতসহ অর্ধশত আহত হন। ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ারুল গুলিতে মারা যান। উত্তরা পূর্ব থানায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ও দুটি ট্রাক ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ইট-পাটকেলের হামলায় থানার তিন তলার জানালার কাচ ভেঙে গেছে। জসিমউদ্দীন, রাজলক্ষ্মী, আজমপুর, হাউজবিল্ডিং ও আবদুল্লাহপুর শিক্ষার্থীদের দখলে ছিল।

কারওয়ান বাজারে ত্রিমুখী সংঘর্ষ : কারওয়ান বাজারে বিকালে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা বাংলামোটরের দিকে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। অন্যদিকে কারওয়ান বাজারের দিকে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ অংশে পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এদিকে আন্দোলনে বাংলামোটর মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। 

সংঘর্ষে রণক্ষেত্র মোহাম্মদপুর : রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডেও ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ, আন্দোলনকারী ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আহতদের সবাই আন্দোলনকারী বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকাল পৌনে ৪টায় আল্লাহ করিম জামে মসজিদের সামনে থেকে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ছররা গুলি চালায় পুলিশ। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। সকাল থেকেই আন্দোলনকারীদের দখলে ছিল মোহাম্মদপুর এলাকা। এ ছাড়া বসিলা ব্রিজ থেকে তিন রাস্তার মোড়, পরে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে এগিয়ে দখল নেয় আন্দোলনকারীরা।   

আফতাবগর : গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় আফতাবনগরের ইস্ট?ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সা?মনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ইস্ট ওয়েস্ট ছাড়াও আশপা?শের আরও ক?য়েক?টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। 

মিরপুর-১০ এ পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ : গতকাল বিকাল ৫টায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর নিয়ন্ত্রণে নেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় গুলিতে একজন নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে তিন শতাধিক। মিরপুর ১৪ ও ১২ থেকে ১০ নম্বরের দিকে যাওয়ার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। কিছু সময় পর পর ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। গুলিতে নিহত মিরাজ হোসেন (২২) আলিফ পরিবহনের বাস চালাতেন। আন্দোলন দেখতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। থাকতেন মিরপুর ৬ নম্বরে।

এর আগে সকাল থেকেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অবস্থান নিয়ে থাকে মিরপুর গোলচত্বরে। দুপুর ১২টায় সেখানে তাদের সমাবেশ করতে দেখা যায়। তখন থেকেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলছিল। বিক্ষোভকারীদের একটি দল কাজীপাড়ার দিক থেকে, অন্য আরেকটি দল মিরপুর-১১ নম্বরের দিকে থেকে গোলচত্বরের দিকে আসার চেষ্টা করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশ বক্সে আগুন : জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে। আন্দোলন কর্মসূচির সমর্থনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মানববন্ধন ঘিরে তৈরি হয় এই পরিস্থিতি। পুলিশ রাবার বুলেট-টিয়ার শেল ছোড়ে, পরে একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল বেলা সোয়া ১২টায় শুরু হয় এই উত্তেজনা। এ সময় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর বক্তৃতা শুরু হলে হঠাৎ করে কদম ফোয়ারার দিক থেকে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। পরে আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় প্রেস ক্লাবের সামনে রণক্ষেত্র পরিণত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সেগুনবাগিচার বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নিয়ে সরকারবিরোধী স্লেগান দিতে থাকে।

ছাত্র আন্দোলনের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ এক দিন এগিয়ে সোমবার

ছাত্র আন্দোলনের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ এক দিন এগিয়ে সোমবার

 


সরকারের পদত্যাগের এক দাবিতে চলমান অসহযোগ আন্দোলন সফল করতে ঘোষণা করা দুই দিনের নতুন কর্মসূচিতে একটু পরিবর্তন এনেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী- সোমবার (৫ আগস্ট) নারী ও শ্রমিক সমাবেশ এবং মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল শিক্ষার্থীদের। তবে লং মার্চ টু ঢাকা মঙ্গলবারের (৬ আগস্ট) পরিবর্তে সোমবার (৫ আগস্ট) করা হয়েছে।আজ রোববার বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক জরুরি সিদ্ধান্তে আমাদের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্ট থেকে পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট করা হলো। অর্থাৎ আগামীকালই সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আজ প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতার প্রাণহানি হয়েছে। চূড়ান্ত জবাব দেয়ার সময় এসে গেছে। বিশেষ করে আশপাশের জেলাগুলো থেকে সবাই ঢাকায় আসবেন এবং যারা পারবেন আজই ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে যান। ঢাকায় এসে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা রাজপথগুলোতে অবস্থান নিন।’

আসিফ মাহমুদ আরো বলেন, ‘চূড়ান্ত লড়াই, এই ছাত্র নাগরিক অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত স্বাক্ষর রাখার সময় এসে গেছে। ইতিহাসের অংশ হতে সকলে ঢাকায় আসুন। যে যেভাবে পারেন কালকের মধ্যে ঢাকায় চলে আসুন। ছাত্র-জনতা এক নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটাব।’

এর আগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান অসহযোগ আন্দোলন সফল করার লক্ষ্যে সোমবার সারাদেশে শহীদদের স্মরণে শহীদ হওয়ার স্থানসমূহে শহীদ স্মৃতিফলক উন্মোচন করা হবে। এদিন বেলা ১১টায় শাহবাগে শ্রমিক সমাবেশ এবং বিকেল ৫টায় শাহবাগে নারী সমাবেশ হবে। এছাড়া সারাদেশে বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান কর্মসূচি করবেন শিক্ষার্থীরা।

এতে আরো বলা হয়, এ কর্মসূচি অনুযায়ী সারাদেশের ছাত্র, নাগরিক, শ্রমিকসহ সব পেশাজীবীদের ঢাকায় আসার আহ্বান জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই দিন দুপুর ২টায় শাহবাগে গণজমায়েত কর্মসূচি করবেন তারা।

এছাড়া সব পাড়া-মহল্লা, গ্রাম, উপজেলা, জেলায় ছাত্রদের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

চলমান এ কর্মসূচির মধ্যে যদি ইন্টারনেট শাটডাউন করে ক্র্যাকডাউন চালানো হয়, তবুও নতুন কমিটি করে সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

সশস্ত্র বাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি দাঁড় না করানোর আহ্বান সাবেক সেনা প্রধানের

সশস্ত্র বাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি দাঁড় না করানোর আহ্বান সাবেক সেনা প্রধানের

 

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে সাধারণ ছাত্র-জনতার মুখোমুখি না করার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক সেনা প্রধান ও সেনা কর্মকর্তারা।

দেশের বিদ্যমান অবস্থায় সঙ্কট নিরসনে করণীয় প্রসঙ্গে রোববার দুপুরে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তারা।

সেখানে লিখিত বক্তব্যে সাবেক সেনা প্রধান ইকবাল করিম ভুঁইয়া বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে অবিলম্বে সেনা ছাউনিতে ফিরিয়ে নিয়ে যেকোনো আপদকালীন সঙ্কট মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অনুরোধ করে বলছি, এ সঙ্কট আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। দেশ প্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি করা যাবে না।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরে ভূঁইয়া এই ব্রিফিংয়ে বলেন, যে সম্মান, মর্যাদা ও গৌরব অর্জন করেছে, তা আজ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।যে কারণে মাঠে দায়িত্বরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিজ দেশের সাধারণ জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।সশস্ত্র বাহিনীকে অবিলম্বে সেনা ছাউনিতে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই সেনা প্রধান বলেন, আমরা নিজেরা নিজেদের সাথে যুদ্ধ করতে পারি না। দেশটাকে যুদ্ধ শহরে পরিণত করতে দিতে পারি না।

এই ছাত্র বিক্ষোভে নিহত ও গুলির ঘটনা জাতিসঙ্ঘের নেতৃত্বে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের জন্য তিনি দাবি জানান।

এই সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন।

সূত্র : বিবিসি

নরসিংদীতে ছাত্রদের মিছিলে আ’লীগের গুলি : পিটিয়ে ৬ কর্মীকে হত্যা, গুলিবিদ্ধ ৪

নরসিংদীতে ছাত্রদের মিছিলে আ’লীগের গুলি : পিটিয়ে ৬ কর্মীকে হত্যা, গুলিবিদ্ধ ৪

 



নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার মাধবদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এর জের ধরে আওয়ামী লীগের ছয় কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন উত্তেজিত জনতা। এছাড়া তাদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন চার আন্দোলনকারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (৪ আগস্ট) আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে বের হলে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাদের প্রতিহত করতে মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে সুমন মিয়া (৩৫), সোহেব (৪১), আল আমিনকে (২৫) নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং মীর জাহাঙ্গীরকে (৩০) মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, গুলি উপেক্ষা করেই বিক্ষোভরত ৪/৫ হাজার মানুষ আওয়ামী লীগের 

সমর্থকদের ওপর চড়াও হয়। এতে তারা দৌড়ে পালাতে থাকেন। এসময় ছয়জন মাধবদী বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম দিকের বড় মসজিদে আশ্রয় নেন। উত্তেজিত জনতা মসজিদ থেকে তাদের বের করে এনে মসজিদের সামনেই পিটিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।

নিহতরা হলেন- চরদিগলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন (৪০), নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন (৩৮), জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শ্রমিক লীগ নেতা মনিরুজ্জামান ভূইয়া ওরফে নাতি মনির (৪২), শ্রমিক লীগ নেতা আনিছুর রহমান সোহেল (৪০), মাধবদী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার নওশের (৪০) ও অজ্ঞাত (৩৮) একজন।

বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত লাশ মসজিদের সামনেই পড়েছিল। স্থানীয় সাংবাদিকরা পুলিশকে খবর দিলেও পুলিশ সেখানে যায়নি।