The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
আন্দোলনের গতিপথ পাল্টে দেয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আন্দোলনের গতিপথ পাল্টে দেয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

সকাল সোয়া ৯টা। ১৮ জুলাই, ২০২৪। কমপ্লিট শাটডাউন চলছে। ফেসবুক খুলতেই দেখি শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির গেটের ভেতরে ঢুকিয়ে দিল পুলিশ। মুহূর্তের ভগ্নাংশের মধ্যে ছুটে মেয়ের রুমে ঢুকে দেখি, ফাঁকা। পেছন থেকে ছোট মেয়ে বলল, প্যানিক করো না। আপি ম্যাচ, নিউজ পেপার, পেস্ট, এন্টিকাটার আর মরিচ গোলানো পানি নিয়ে ব্র্যাকে গেছে। আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম। পুলিশ গুলি ছুড়ছে। একদিন আগে আবু সাঈদ-ওয়াসিমসহ ছয়জন মারা গেছে। আর এরা এন্টিকাটার আর মরিচের গুঁড়া নিয়ে সাহস দেখাচ্ছে!

আগের রাত থেকেই পাবলিক ইউনির্ভাসিটিগুলোর হলে আর শিক্ষার্থীদের থাকতে দিচ্ছে না প্রশাসন। পুলিশ-ছাত্রলীগের তাণ্ডবে রাজু ভাস্কর্য বা টিএসসি—কোথাও জড়ো হতে পারছে না সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রায় অবরুদ্ধ পুরো শহর। দমবন্ধ এই পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাই রাস্তায় নেমে আসে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হাজার হাজার। ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্ট, নর্দান, নর্থ সাউথের তরুণ-তরুণীরা আন্দোলনে নতুন করে আগুন ধরায় সেদিন, যা ছিল জুলাই বিপ্লবের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট।

আগে থেকেই মেসেজিং অ্যাপ ডিসকোর্ডে গ্রুপ খোলে তারা। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে শেয়ার হতে থাকে গ্রুপের লিংক। চেষ্টা ছিল ১৮ তারিখে সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থীকে মাঠে নামানোর।

আমার আগের রাত কেটেছে মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে। কেন সে রোজ আন্দোলনে যোগ দিতে যাচ্ছে? সে পড়ে প্রাইভেট ভার্সিটিতে। বিসিএস কখনো দেবে না। কোটার তার প্রয়োজন নেই। দেশে থাকবে কি না তারও ঠিক নেই। ঘরকুনো, নিজের মধ্যে থাকা একটি মেয়ে কেন যাবে? প্রশ্নের চেয়েও জবাবগুলো ছিল অনেক তীক্ষ্ণ, ফেলো স্টুডেন্টরা গুলি খাবে, মরবে আর সে কাওয়ার্ডের মতো ঘরে বসে থাকবে? সব শেষে বলল, ‘একাত্তরে তোমার মতো মা থাকলে এ দেশ আর স্বাধীন হতো না।’

সকাল ৭টায় কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে গেছে।

ওদের পরিকল্পনা কোনোভাবে লিক হয়ে গিয়েছিল। ১৮ জুলাই ভার্সিটির গেটে আগেই পুলিশ এসে অবস্থান নেয়। পুলিশকে সামনে রেখে রাস্তায় বসে পড়ে শিক্ষার্থীরা। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। ওদের ওপর কড়া নির্দেশ ছিল, আইডি কার্ড নেই এমন কারো কাছ থেকে কিছু নেওয়া যাবে না। অচেনা অনুপ্রবেশকারীদের বিক্ষোভে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।

অল্প সময়ের মধ্যেই সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ। ধাওয়া দিয়ে তুলে দেয় শিক্ষার্থীদের। শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। এক পর্যায়ে ব্র্যাকের গেট খুলে দেওয়া হয়। পুলিশ বাইরে থেকে টিয়ার শেল ক্যাম্পাসে ছুড়তে থাকে। কোণঠাসা হয়ে পড়ে ব্র্যাকের শিক্ষার্থীরা।

এ সময় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনির্ভাসিটির শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে ব্র্যাকের দিকে ছুটে আসে। যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে এগোতে থাকে নর্থ সাউথসহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা। রোকেয়া সরণির পুরো রাস্তা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

মেয়ের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ হয় বেলা সাড়ে ১১টায়। ফোন করে জানায়, ক্যাম্পাসে আছে। টিয়ার শেলের ধোঁয়ায় ওরা কেউ শ্বাস নিতে পারছে না। মুখ ও হাতে পেস্ট মেখেছে। খবরের কাগজ পুড়িয়ে ধোঁয়া বানানোর পরও ঝাঁজ যাচ্ছে না।

আমি তখন যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় একটি অনলাইন পোর্টালে কাজ করি। সিদ্ধান্ত নিলাম অফিসে যাব, ওখান থেকে হেঁটে ব্র্যাকে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসব। ভেঙে ভেঙে অফিসে পৌঁছালাম। কিছুটা অফিসের গাড়িতে, কিছুটা রিকশায় আর বাকিটা হেঁটে। স্টুডেন্টদের বাধা, পুলিশ-ছাত্রলীগের ব্যারিকেড পার হয়ে ব্র্যাক পর্যন্ত আর এগোনো গেল না।

সারা দেশ থেকে ভয়াবহ নৃশংসতার খবর আসতে থাকে। দেশের ৪৭ জেলায় পুলিশ-র‌্যাব, ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলায় ৩১ জন নিহত হয়। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ২৬ জন। শুধু ঢাকায়ই নিহত হয় ১৯ জন।

ঘণ্টাখানেক চুপ থাকার পর মেয়ের এসএমএস আসে। পুলিশ বাইরে থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে বৃষ্টির মতো গুলি করছে। বহু স্টুডেন্টের শরীরে গুলি লেগেছে। বলল, ‘পাখির মতো স্টুডেন্টদের মারছে ওরা।’ মনে হলো কেউ খুব শক্ত হাতে কঠিনভাবে আমার গলা টিপে ধরেছে। শ্বাস নিতে পারছি না। আরেকটি বড় টেক্সট ফোনে ঢুকল, পুলিশের গুলি থামাতে ব্র্যাকের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছে। হাতে লাঠি নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া দিচ্ছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেল হাতে নিয়ে আবার ছুড়ে দিচ্ছে পুলিশের দিকে। সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইস্ট ওয়েস্টসহ আরো কয়েকটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা।

প্রাণ বাঁচাতে কানাডিয়ান ইউনিভাসির্টির দোতলায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে পুলিশ। তবে সেখান থেকেই শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি আর টিয়ার শেল ছুড়ছে তারা।

এবার আর টেক্সট না, ফোনই করে মেয়ে। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ভেতরে ঢুকে ওই পুলিশ সদস্যদের থামাতে যাচ্ছে ওরা। জানিয়েই ফোন কেটে দিল। হতবিহ্বল লাগছিল। এর ৩০-৩৫ মিনিট পর জানালো দোতলায় আটকে পড়া পুলিশ ছাদে উঠে গেছে। ওদের গুলি-টিয়ার শেল শেষ। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির সিঁড়ি দখল করে আছে স্টুডেন্টরা। এক পুলিশ সদস্যকে ওরা ধরে ফেলেছিল। তার কাপড় খুলে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কিছু চড়-থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

এর মধ্যেই ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেল। উত্তরা, সাভার, যাত্রাবাড়ী রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বলে টেলিফোনে খবর আসছে। ছাত্র মারা যাওয়ার খবর আসছে। ধানমন্ডিতে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র ফারহান ফাইয়াজ নিহত হয়েছে। পুলিশের গুলিতে মারা গেছে উত্তরার নর্দান ইউনিভাসিটির আসিফ ও শাকিল নামে দুটি ছেলে। উত্তরায় এপিসি নিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে পুলিশ।

দুপুরের দিকে বাড্ডা থেকে সহকর্মী ফোন করলেন। জানালেন, ক্যানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাদ থেকে পুলিশ সদস্যদের রেসকিউ করার জন্য র‌্যাবের হেলিকপ্টার যাচ্ছে। আমার মেয়ে চাইলে ওদের সঙ্গে বেরিয়ে আসতে পারে। মেয়েকে জানালাম। উত্তরে মেয়ে জানাল, ‘আমি প্রোটেস্ট করতে আসছি। আমি কাওয়ার্ড না। আমি পালাব না।’ ফোনটা বন্ধ করে দিল। আমি কোনোভাবেই আর ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলাম না।

বিকালে শাহবাগে জড়ো হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের ওপর টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। সাড়ে ৫টার দিকে কফিন মিছিল শুরু হতেই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ছাত্র-জনতা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য করে প্রশাসন। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করলে নিজ ভবনে আটকে পড়েন উপাচার্য। পরে পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় শিক্ষার্থীরা, আহত হয় শতাধিক। সারা দিনে সারা দেশে শুধু পুলিশের হিসাবেই আহত হয় দেড় হাজার মানুষ।

বিকালের দিকে বিটিভির কার্যালয়েও একাধিকবার হামলা চালানো হয়। অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ সময় বিরতি দিয়ে বিকাল সাড়ে ৫টায় মেয়ে আমাকে ফোন করে। জানায়, এবার সে বাড়ি ফিরতে চায়। রাস্তায় কোনো বাস বা রিকশা নেই। পুলিশ নেই। শিক্ষার্থীরা ফিরছে। তার আর হাঁটার শক্তি নেই। এবার আমি আমার সহকর্মীর সহায়তা নিতে পারলাম। তিনি মেয়েকে নিয়ে অফিসে ফিরলেন। আমার টুকটুকে ফর্সা তালপাতার সিপাই মেয়ে পুড়ে কুচকুচে কালো হয়ে গেছে। মনে হলো কেমন যেন কুঁকড়ে আছে। গলার কাছে উঁচু হয়ে আছে ছোট্ট একটি বল । কী ওটা? চামড়া সরে লাল হয়ে আছে জায়গাটা। ছররা বুলেটের টুকরা? মাথা থেকে বলটাকে ঝেড়ে ফেললাম। মেয়ে বেঁচে আছে। সুস্থ। আর কী চাওয়ার আছে?

সিদ্ধান্ত নিলাম পরদিন থেকে চাকরি-বাকরি বাদ। মেয়ের সঙ্গে বিক্ষোভে নামব।

ভাঙচুরের পর ধানমণ্ডি ৩২-এ আগুন দিল ছাত্র-জনতা

ভাঙচুরের পর ধানমণ্ডি ৩২-এ আগুন দিল ছাত্র-জনতা

 


ভাঙচুরের পর রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

‘লং মার্চ টু ধানমণ্ডি-৩২’ নিয়ে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে উপস্থিতি হয় ছাত্র-জনতা। এরপর তারা শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ির গেট ভেঙে ভেতর ঢুকে পড়ে ও ভাঙচুর চালায়। পরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। জ্বলছে আগুন। এ সময় মুহুমুর্হু স্লোগান দিচ্ছিলেন অনেকে। শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালসহ পুরো বিল্ডিংয়ের অবকাঠামোই ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

যদিও গত ৫ আগস্ট এক দফা ৩২ নম্বরের এই বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল।

এ সময় কথা হয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা বলেন, এই বাড়ি থেকে ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি শুরু হয়েছে। তাই দেশের মাটি থেকে এই বাড়ি মুছে ফেলতে চায় দেশের জনগণ।

বিশেষ করে গত ১৬ বছর শেখ হাসিনা সরকার দেশের মানুষের রক্ত চুষে আবার দেশের মানুষকে মারার পরিকল্পনা করছে। 

ইসমাইল হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, শেখ হাসিনা জুলাই আন্দোলনে দেশের মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। এই খুনি হাসিনা আবারও ষড়যন্ত্র করার পরিকল্পনা করছে। তা ছাড়া আজকে স্বৈরাচার সরকার পতনের অর্ধবছর পূর্ণ হয়েছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে বলা হয়, “ধানমণ্ডি ৩২ অভিমুখে ‘লং মার্চ টু ধানমণ্ডি ৩২’ বুলডোজার মিছিল।

হাজারো ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালিয়ে দিল্লি পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকেই খুনি হাসিনার বাংলাদেশবিরোধী অপতৎপরতার প্রতিবাদে ২৪-এর বিপ্লবী ছাত্র-জনতার উদ্যোগে আজ রাত ৯টায় এ কর্মসূচি পালিত হবে।”

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

 


সুপ্রভাত ডেস্ক »

বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রতিশ্রুতি সাত দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে আবারও রাজপথে নামবেন তারা।

সোমবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুরুজ্জামান, সরকারি তিতুমীর কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক শিপ্রা রাণী মণ্ডলের উপস্থিতিতে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ৭ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তীতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিতুমীর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর আন্দোলনের ১২ শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কলেজের অধ্যক্ষসহ তিন অধ্যাপক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব এবং গুলশান জোনের উপপুলিশ কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

আগামী সাত দিনের মধ্যে ‘তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়’ ইস্যুতে সরকার পদক্ষেপ নেবে, এমন আশ্বাসে আমরণ অনশনও ভেঙেছেন শিক্ষার্থীরা। রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. নুরুজ্জামান এবং তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শিপ্রা রানী মণ্ডলের উপস্থিতিতে তারা অনশন ভাঙেন। এ সময় অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের প্যাকেটজাত আমের জুস খাওয়ান অধ্যক্ষ।

তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে বেশ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে মিছিল, সড়ক-রেলপথ অবরোধ, স্মারকলিপি প্রদান, ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি এ বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সাড়া না পেয়ে গত বুধবার থেকে দাবি আদায়ে আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা টানা ষষ্ঠ দিনের মতো সোমবারও রাজপথে সরব ছিলেন। ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’র অংশ হিসেবে মহাখালীর রেললাইন অবরোধ করেন। বিকেলে শতাধিক শিক্ষার্থী কলেজের ফটক থেকে মিছিল নিয়ে মহাখালীতে যান।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী নায়েক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। রোববারের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধ করেছি।’

আবু সাঈদের ভাস্কর্য না বানানোর অনুরোধ পরিবারের

আবু সাঈদের ভাস্কর্য না বানানোর অনুরোধ পরিবারের



 গত ১৬ জুলাই কোটা আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন। আবু সাঈদ নিহতের পর বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছিল আবু সাঈদের একটি ভাষ্কর্য নির্মাণ করার। কিন্তু আবু সাঈদের বাবা এবং তার পরিবার চাচ্ছেন না দেশের কোথাও আবু সাঈদের ভাষ্কর্য নির্মাণ করা হোক।

আজ শুক্রবার আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ভাষ্কর্য নির্মাণ না করার অনুরোধ জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি দেন। সেই চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

চিঠিতে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা সকলেই অবগত আছেন, আমার ছেলে আবু সাঈদ গত ১৬ জুলাই স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসরের গুলিতে নির্মমভাবে শহিদ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, কতিপয় কিছু লোক শহিদ আবু সাঈদের ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। শহিদ আবু সাঈদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আপনারা এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা আপনাদের ভালোবাসাকে সম্মান করি। কিন্তু আমার ছেলেটাকে কত কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আপনারা দেখেছেন। আমি চাই না আমার ছেলে দুনিয়াতে যেমন কষ্ট পেয়েছে, আখিরাতেও তেমন কষ্ট পাক। আমরা মুসলমান। আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করি। যেহেতু ইসলাম ধর্মে সকল মূর্তি বা ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি বানানো নিষিদ্ধ, সেহেতু আপনাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি- দেশের কোনো স্থানে আমার ছেলের মূর্তি বা ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি যেন না বানানো হয়। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, আমার ছেলের জন্য যদি কিছু করতেই চান, তাহলে জনকল্যাণমুখী এমন কিছু কাজ করুন যার সওয়ার আবু সাঈদ কবরে পাবে। সর্বোপরি, আমরা আপনাদের কাছে শহিদ আবু সাঈদের জন্য দোয়া চাই, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন। আমাদের জন্যও দোয়া চাই।”

এ প্রসঙ্গে আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন, ‘বাবা ভাষ্কর্য না বানানোর জন্য দেশবাসীর কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। ভাষ্কর্য বানানো নিয়ে আমরা বিভিন্ন আলেমের সাথে কথা বলেছি। তারা ভাস্কর্য না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। আবু সাঈদের নামে কোনো ব্রিজ, সড়ক, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কোনো হলের নাম হতে পারে কিন্তু ভাষ্কর্য না।’

বিডি প্রতিদিন

‘আমি যেন গর্ব করে বলতে পারি আসিফ আমার ছেলে’

‘আমি যেন গর্ব করে বলতে পারি আসিফ আমার ছেলে’

 


‘আন্দোলনের প্রথমে বাধা দিয়েছিলাম। যেন বের না হয়। সে আমার কথা শুনেনি। বললাম, এত কষ্ট করে পড়াশোনা করালাম ভালো চাকরি করো, মানুষের মত মানুষ হও। তুমি আন্দোলনে গিয়ে আমার স্বপ্ন শেষ করিও না। সে আমাকে বলেছিল দোয়া করতে৷কিছু করার ছিল না। আমি প্রতিবেলা নামাজে তার জন্য দোয়া করতাম। তার মাও দোয়া করতো, কান্নাকাটি করতো। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন। এখন আল্লাহ তার শ্রম ও সততার পুরষ্কার দিয়েছেন। অন্তবর্র্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হয়েছেন। ’

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব কথা বলেন অন্তরবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাবা মো. বিল্লাল হোসেন।

তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে আসিফ মিশুক ও অধিকার সচেতন। তার নেতৃত্ব দেয়ার আলাদা গুণ লক্ষ্য করেছি। সে যেখানেই গেছে নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু কখনই কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। 

তিনি বলেন, ছেলেকে সৎ ও যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। কখনই দুর্নীতির শিক্ষা দেয়নি। আমরা আজ গাড়ি ভাড়া করে এসেছি। আমি চাই আমার ছেলেও যখন উপদেষ্টা থাকবে না তখন যেন গর্ব করে বলতে পারে আমি দুর্নীতি করিনি। আজ যেমন পাঞ্জাবি, টি-শার্ট পরে বঙ্গভবনে গেছে সে যেন এমনই সাধারণ থাকে। আমার ছেলের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। তাকে বাংলার ইতিহাস মনে রাখবে এটা আমার বিশ্বাস আছে। আর আমিও যেন গর্ব করে বলতে পারি আসিফ আমার ছেলে। তার কোনো দুর্নীতি নেই। 

জানা গেছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকবপুর ইউনিয়নের আকবপুর গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেন ও রোকসানা আক্তার দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। আসিফের বাবা আকবপুর ইয়াকুব আলী ভূইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বড় বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে স্বামীসহ জাপানে আছেন। তৃতীয় বোন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। আর ছোট বোন রাজধানীর হলিক্রস কলেজে পড়াশোনা করছেন। 

জানা গেছে, আসিফ ২০১৩ সালে কুমিল্লার আকবপুর ইয়াকুব আলী ভূইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণি পাস করেন। পরে ঢাকার তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া এলাকার হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর চলে যান ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। সেখানে উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার করেন তিনি। সব ক্লাসেই ভালো ফল পাওয়া আসিফ প্রথম বারেই চান্স পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে। 

তার এই সফলতার খবরে শুক্রবার উপজেলাজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে। মসজিদে মসজিদে তার জন্য দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ করছে স্থানীয় জনতা। অনেকে আসছেন তার বাড়ি ঘর দেখতে। 

বিডি প্রতিদিন

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যা বলছে শ্রীলংকা

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যা বলছে শ্রীলংকা

 


বাংলাদেশের উদ্ভূত পরিস্থিতির সার্বিক স্থিতিশীলতা কামনা করেছে শ্রীলংকা। অথচ মাত্র দুই বছর আগে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেছিল দেশটি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা সংক্ষিপ্ত এক বার্তায় বাংলাদেশ ইস্যুতে শ্রীলঙ্কার সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী সাবরি।

এক্সবার্তায় তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস, সহনশীলতা এবং ঐক্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ তার স্থিতিশীলতা-শান্তি ফিরিয়ে আনবে। সামনে বর্তমানে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেসব মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে— এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রসঙ্গত, ডলারের মজুত তলানিতে ঠেকে যাওয়ায় নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় সরকারপতন আন্দোলন শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের শেষের দিকে। প্রায় ৬ মাস তীব্র আন্দোলন চলার পর ২০২২ সালের জুন মাসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকশে এবং তার বড়ভাই এবং প্রধামন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশে।

আন্দোলনকারী জনতার হামলার ভয়ে পদত্যাগকারী মাহিন্দা আশ্রয় নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে। আর গোতাবায়া রাজাপাকশেকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।

শ্রীলঙ্কার আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সরকার পতন আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে। গত প্রায় এক মাস ধরে শিক্ষার্থী-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে সোমবার পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের স্যালুট জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব

শিক্ষার্থীদের স্যালুট জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব

 

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের তোপের মুখে পড়েই গতকাল সোমবার দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে শাসন ক্ষমতায় থেকে হত্যা, নৈরাজ, অন্যায় অবিচার করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। অবশেষে শেখ হাসিনার বিদায়ে মুক্তি পেল পুরোদেশ।

শেখ হাসিনার এই বিদায়ে সারা দেশের ছাত্র জনতার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা নিজের জীবন বাজি রেখে প্রতিদিন রাস্তায় সংগ্রাম করেছেন। এই সংগ্রামে সারা দেশে নিহত হয়েছে কয়েকশ ছাত্র ও সাধারণ মানুষ। আহত হয়েছে কয়েক হাজার। জেলে যেতে হয়েছে অনেক শিক্ষার্থীকে। 

কোট সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের স্যালুট জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানাতে চাই, সেসব শহিদদের, ছাত্র ও জনতা যারা দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর ধরে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রতি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা অভিবাদন জানাতে চাই, স্যালুট জানাতে চাই, আমাদের ছাত্রদের আমাদের সন্তানদের যারা তাদের মেধা বুদ্ধিমত্তা সাহস নিয়ে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বুকের রক্ত দিয়ে ছাত্র-জনতা বিজয় অর্জন করেছেন আমরা তাদের স্যালুট জানাই।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আপনাদের মাধ্যমে এই বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছি দিতে চাই, এখন স্থান নেই কোনো প্রতিহিংসা, কোনো প্রতিশোধ গ্রহণের। এখন প্রয়োজন ধৈর্যের সঙ্গে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এই অর্জিত স্বাধীনতাকে সুসংহত করা।

 স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ

স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ




আজ সকাল থেকে বাংলাদেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে।


সকল নাগরিক স্ব স্ব কর্মস্থলে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করবেন। শিক্ষার্থীদের পদচারনায় আবারও মুখরিত হবে শিক্ষাঙ্গন।

বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য: শাহবাগে সমন্বয়ক নাহিদ

বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য: শাহবাগে সমন্বয়ক নাহিদ

 


আওয়ামী লীগ দেশে একটা গৃহযুদ্ধ তৈরি করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও গন্তব্য পরিষ্কার। বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য।

আমরা এখনো সময় দিচ্ছি। সরকার যদি এখনো সহিংসতা চালিয়ে যায়, আমরা কিন্তু গণভবনের দিকে তাকিয়ে আছি। শেখ হাসিনাকে ঠিক করতে হবে, এখনো সহিংসতা চালাবেন, রক্তপাত চালাবেন, নাকি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে পদত্যাগ করবেন।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে আজ রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ মোড়সহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। বেলা তিনটার দিকে শাহবাগে বিক্ষোভে যোগ দিয়ে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দেশকে একটা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র-জনতা যেকোনো মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত। আজকে লাঠি তুলে নিয়েছি। যদি লাঠিতে কাজ না হয়, আমরা অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত। আপনারা প্রতিরোধ করুন, রুখে দাঁড়ান, সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশছাড়া করতে হবে।

আমাদের এক দফা দাবি ঘোষণা হয়ে গেছে। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণা বাকি। আমাদের যদি গুম–খুন করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয়, যদি ঘোষণা দেওয়ার মতো কেউ না থাকে, আপনারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আর যদি আমার ভাইদের বুকে গুলি করা হয়, আমার বোনদের কেউ আহত হয়, আমরা বসে থাকব না। পাড়ায়–পাড়ায়, গ্রামে–গ্রামে, মহল্লায়–মহল্লায়, অলিতে–গলিতে প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি গঠন করুন। যেখানেই হামলা হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। আমরা এই সরকারকে মানি না। এখন থেকে দেশের নেতৃত্ব দেবে ছাত্র-জনতা। ছাত্র-জনতার ঘোষণা চূড়ান্ত ঘোষণা।’

সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা এই খুনি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিচার নিশ্চিত করব এই বাংলার মাটিতে। পুনরায় মুঠোফোন ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র এবার কোনো কাজে লাগবে না। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও আমরা রাজপথে থাকব।’

সরকারের পদত্যাগের এই আন্দোলনে আগামীকাল সোমবার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

Bangladesh anti-government protests kill 105

Bangladesh anti-government protests kill 105

 


At least 90 people were killed in Bangladesh on Sunday, amid worsening clashes between police and anti-government protesters.

The unrest comes as student leaders have declared a campaign of civil disobedience to demand that Prime Minister Sheikh Hasina step down.

Thirteen police officers were killed when thousands of people attacked a police station in the district of Sirajganj, police said.

The student protest started with a demand to abolish quotas in civil service jobs last month, but has now turned into a wider anti-government movement.

Both police and some supporters of the governing party were seen shooting at anti-government protesters with live ammunition. Police also used tear gas and rubber bullets.

The total death toll since the protest movement began in July now stands at over 280.

A nationwide overnight curfew has been in place since 18:00 (12:00 GMT).

Amid calls for her resignation, Ms Hasina sounded defiant. Speaking after a meeting with security chiefs, she said the protesters were "not students but terrorists who are out to destabilise the nation".

On Sunday, Law and Justice Minister Anisul Huq told the BBC’s Newshour programme that authorities were showing “restraint”.

“If we had not shown restraint, there would have been a bloodbath. I guess our patience has limits,” he added.

In the capital, Dhaka, access to internet on mobile devices has been suspended.

Deaths and injuries have been reported across the country, including the northern districts of Bogra, Pabna and Rangpur.

Thousands of people gathered in a main square in Dhaka and there have been violent incidents in other parts of the city.

“The whole city has turned into a battleground,” a policeman, who asked not to be named, told the AFP news agency. He said a crowd of several thousand protesters had set fire to cars and motorcycles outside a hospital.

Asif Mahmud, a leading figure in the nationwide civil disobedience campaign, called on protesters to march on Dhaka on Monday.

"The time has come for the final protest", he said.

Students Against Discrimination, a group behind the anti-government demonstrations, urged people not to pay taxes or any utility bills.

The students have also called for a shutdown of all factories and public transport.


Around 10,000 people have been reportedly detained in a major crackdown by security forces in the past two weeks. Those arrested included opposition supporters and students.

Some ex-military personnel have expressed support for the student movement, including ex-army chief General Karim Bhuiyan, who told journalists: “We call on the incumbent government to withdraw the armed forces from the street immediately.

He and other ex-military personnel condemned "egregious killings, torture, disappearances and mass arrests".

The next few days are seen as crucial for both camps.

The protests pose a momentous challenge to Ms Hasina, who was elected for a fourth consecutive term in January elections, boycotted by the main opposition.

Students took to the streets last month over a quota that reserved one third of civil service jobs for relatives of the veterans of Bangladesh’s independence war with Pakistan in 1971.

Most of the quota has now been scaled back by the government following a government ruling, but students have continued to protest, demanding justice for those killed and injured. Now they want Ms Hasina to step down.

Supporters of Ms Hasina have ruled out her resignation.

Earlier, Ms Hasina offered unconditional dialogue with the student leaders, saying she wanted the violence to end.

“I want to sit with the agitating students of the movement and listen to them. I want no conflict," she said.

But the student protesters have rejected her offer.

Ms Hasina called in the military last month to restore order after several police stations and state buildings were set on fire during the protests.

The Bangladeshi army chief, Gen Waker-Uz-Zaman, held a meeting with junior officers in Dhaka to assess the security situation.

“The Bangladesh army has always stood by the people and will continue to do so for the interest of people and in any need of the state," Gen Zaman said, according to a release by the Inter Services Public Relation Directorate.

Bangladeshi media say most of those killed in last month’s protests were shot dead by police. Thousands were injured.

The government argues that police opened fire only in self-defence and to protect state properties.

Asia
Bangladesh
Sheikh Hasina

BBC NEWS ENGLISH

ছাত্র আন্দোলনের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ এক দিন এগিয়ে সোমবার

ছাত্র আন্দোলনের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ এক দিন এগিয়ে সোমবার

 


সরকারের পদত্যাগের এক দাবিতে চলমান অসহযোগ আন্দোলন সফল করতে ঘোষণা করা দুই দিনের নতুন কর্মসূচিতে একটু পরিবর্তন এনেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী- সোমবার (৫ আগস্ট) নারী ও শ্রমিক সমাবেশ এবং মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল শিক্ষার্থীদের। তবে লং মার্চ টু ঢাকা মঙ্গলবারের (৬ আগস্ট) পরিবর্তে সোমবার (৫ আগস্ট) করা হয়েছে।আজ রোববার বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক জরুরি সিদ্ধান্তে আমাদের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্ট থেকে পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট করা হলো। অর্থাৎ আগামীকালই সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আজ প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতার প্রাণহানি হয়েছে। চূড়ান্ত জবাব দেয়ার সময় এসে গেছে। বিশেষ করে আশপাশের জেলাগুলো থেকে সবাই ঢাকায় আসবেন এবং যারা পারবেন আজই ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে যান। ঢাকায় এসে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা রাজপথগুলোতে অবস্থান নিন।’

আসিফ মাহমুদ আরো বলেন, ‘চূড়ান্ত লড়াই, এই ছাত্র নাগরিক অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত স্বাক্ষর রাখার সময় এসে গেছে। ইতিহাসের অংশ হতে সকলে ঢাকায় আসুন। যে যেভাবে পারেন কালকের মধ্যে ঢাকায় চলে আসুন। ছাত্র-জনতা এক নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটাব।’

এর আগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান অসহযোগ আন্দোলন সফল করার লক্ষ্যে সোমবার সারাদেশে শহীদদের স্মরণে শহীদ হওয়ার স্থানসমূহে শহীদ স্মৃতিফলক উন্মোচন করা হবে। এদিন বেলা ১১টায় শাহবাগে শ্রমিক সমাবেশ এবং বিকেল ৫টায় শাহবাগে নারী সমাবেশ হবে। এছাড়া সারাদেশে বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান কর্মসূচি করবেন শিক্ষার্থীরা।

এতে আরো বলা হয়, এ কর্মসূচি অনুযায়ী সারাদেশের ছাত্র, নাগরিক, শ্রমিকসহ সব পেশাজীবীদের ঢাকায় আসার আহ্বান জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই দিন দুপুর ২টায় শাহবাগে গণজমায়েত কর্মসূচি করবেন তারা।

এছাড়া সব পাড়া-মহল্লা, গ্রাম, উপজেলা, জেলায় ছাত্রদের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

চলমান এ কর্মসূচির মধ্যে যদি ইন্টারনেট শাটডাউন করে ক্র্যাকডাউন চালানো হয়, তবুও নতুন কমিটি করে সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

সশস্ত্র বাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি দাঁড় না করানোর আহ্বান সাবেক সেনা প্রধানের

সশস্ত্র বাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি দাঁড় না করানোর আহ্বান সাবেক সেনা প্রধানের

 

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে সাধারণ ছাত্র-জনতার মুখোমুখি না করার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক সেনা প্রধান ও সেনা কর্মকর্তারা।

দেশের বিদ্যমান অবস্থায় সঙ্কট নিরসনে করণীয় প্রসঙ্গে রোববার দুপুরে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তারা।

সেখানে লিখিত বক্তব্যে সাবেক সেনা প্রধান ইকবাল করিম ভুঁইয়া বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে অবিলম্বে সেনা ছাউনিতে ফিরিয়ে নিয়ে যেকোনো আপদকালীন সঙ্কট মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অনুরোধ করে বলছি, এ সঙ্কট আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। দেশ প্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি করা যাবে না।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরে ভূঁইয়া এই ব্রিফিংয়ে বলেন, যে সম্মান, মর্যাদা ও গৌরব অর্জন করেছে, তা আজ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।যে কারণে মাঠে দায়িত্বরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিজ দেশের সাধারণ জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।সশস্ত্র বাহিনীকে অবিলম্বে সেনা ছাউনিতে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই সেনা প্রধান বলেন, আমরা নিজেরা নিজেদের সাথে যুদ্ধ করতে পারি না। দেশটাকে যুদ্ধ শহরে পরিণত করতে দিতে পারি না।

এই ছাত্র বিক্ষোভে নিহত ও গুলির ঘটনা জাতিসঙ্ঘের নেতৃত্বে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের জন্য তিনি দাবি জানান।

এই সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন।

সূত্র : বিবিসি

বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য: সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম

বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য: সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম



 বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশে একটা গৃহযুদ্ধ তৈরি করতে চায়। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও গন্তব্য পরিষ্কার। বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আমরা এখনো সময় দিচ্ছি। সরকার যদি এখনো সহিংসতা চালিয়ে যায়, আমরা কিন্তু গণভবনের দিকে তাকিয়ে আছি। শেখ হাসিনাকে ঠিক করতে হবে, এখনো সহিংসতা চালাবেন, রক্তপাত চালাবেন, নাকি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে পদত্যাগ করবেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে আজ রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ মোড়সহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। বিকাল ৩টার দিকে শাহবাগে বিক্ষোভে যোগ দিয়ে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দেশকে একটা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র-জনতা যেকোনো মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত। আজকে লাঠি তুলে নিয়েছি। যদি লাঠিতে কাজ না হয়, আমরা অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত। আপনারা প্রতিরোধ করুন, রুখে দাঁড়ান, সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশছাড়া করতে হবে।

‘আমাদের এক দফা দাবি ঘোষণা হয়ে গেছে। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণা বাকি। আমাদের যদি গুম–খুন করা হয়, গ্রেফতার করা হয়, যদি ঘোষণা দেওয়ার মতো কেউ না থাকে, আপনারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন, আর যদি আমার ভাইদের বুকে গুলি করা হয়, আমার বোনদের কেউ আহত হয়, আমরা বসে থাকব না। পাড়ায়–পাড়ায়, গ্রামে–গ্রামে, মহল্লায়–মহল্লায়, অলিতে–গলিতে প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি গঠন করুন। যেখানেই হামলা হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। আমরা এই সরকারকে মানি না। এখন থেকে দেশের নেতৃত্ব দেবে ছাত্র-জনতা। ছাত্র-জনতার ঘোষণা চূড়ান্ত ঘোষণা।

সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে উল্লেখ করে এই সমন্বয়ক আরও বলেন, আমরা এই খুনি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিচার নিশ্চিত করব এই বাংলার মাটিতে। আবার মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র এবার কোনো কাজে লাগবে না। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও আমরা রাজপথে থাকব।’

প্রসঙ্গত, সরকারের পদত্যাগের এক দাবিতে আজ সোমবার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।


অসহযোগ আন্দোলন : নিহত ১০২

অসহযোগ আন্দোলন : নিহত ১০২


 দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি। এ সময় বিভিন্ন স্থানে সঙ্ঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের হাতে আসা শেষ খবর পর্যন্ত অন্তত ১০২ জন নিহত হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১৪ জন পুলিশ সদস্য। সিরাজগঞ্জে ১৩ পুলিশসহ সিরাজগঞ্জে ২৩ জন, ফেনীতে ৮ জন, লক্ষীপুরে ৮ জন, নরসিংদীতে ৬ জন, ঢাকায় ১১ জন, কিশোরগঞ্জে ৫ জন, মুন্সীগঞ্জে ৪ জন, বগুড়ায় ৫ জন, পাবনায় ৩ জন, মাগুরায় ৪ জন, ভোলায় ৩ জন, রংপুরে ৪ জন, শেরপুরে ৩ জন, সিলেটে ৫ জন, কুষ্টিয়ায় ২ জন, কুমিল্লায় পুলিশ সদস্যসহ ৩ জন, হবিগঞ্জ ১ জন, জয়পুরহাট ১ জন, কক্সবাজারে ১, বরিশালে ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ বিষয়ে নয়া দিগন্তের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ তুলে ধরা হচ্ছে,

সিরাজগঞ্জের থানা হামলায় ২৩ জন নিহত
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানা হামলায় অন্তত ১৩ পুলিশসহ ২৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইডি বিজয় বসাক বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলায় ১৩ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

ফেনীতে নিহত ৮
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির সমর্থনে নামা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। এতে আটজন নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো অর্ধশতাধিক।