The Future Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল জানানো হলো

২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল জানানো হলো

 


২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই দুটি আসনের ফলাফল পরে ঘোষণা করা হবে। আর একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন হয়নি।

শুক্রবার আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ফলাফল ঘোষণার সমাপনী বক্তব্যে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানান।

ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসন।

বিএনপি একক দল হিসেবে পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি–বিজেপি ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি আসন পেয়েছে।

এ ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।

আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচনে মোট ভোট দিয়েছেন ৫৯. ৪৪ শতাংশ ভোটার। আর গণভোট দিয়েছেন ৬০.২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে চার কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।  

তিনি আরও বলেন, ২৯৯টি আসনের গণভোট গণনা করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ২টি আসনে ফলাফল আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় সেখানকার প্রার্থীদের ভোট হিসেব করা হয়নি। আর আদালতের বাধা না থাকায় সেখানকার গণভোটের হিসাব করা হয়েছে। আর একটি আসনে নির্বাচন হয়নি।

এবারের ভোট এতটা উৎসবমুখর হবে ভাবেননি কেউ: মির্জা ফখরুল

এবারের ভোট এতটা উৎসবমুখর হবে ভাবেননি কেউ: মির্জা ফখরুল

 


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ভোট এবার এতোটা উৎসবমুখর হবে এটা কেউ ভাবেনি। মানুষের যে আগ্রহ, যে উচ্ছ্বাস, সারাদিনে প্রায় শতাধিক কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। এখন পর্যন্ত নির্বাচন অনেক সুন্দর হয়েছে।’ 

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার বিশ্বাস নির্বাচনে ভালো রেজাল্ট আসবে ও ফলাফলও ভালো হবে। এর ফলে জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার পাবে ও পার্লামেন্ট পাবে। যেটার জন্য আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর লড়াই সংগ্রাম করেছি।’

এছাড়াও তিনি নির্বাচনে বিজয়ের বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী বলে জানান।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে এবার মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে দুইজন নারী প্রার্থী। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে সাতজন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে দশজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

তিনটি আসন মিলিয়ে জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১২ লাখ ৫৫ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮৮ জন, পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৭০ হাজার ২২ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৭ জন। এছাড়া পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ১০ হাজার ২৯২ জন ভোটার, যার মধ্যে নারী ২ হাজার ৩২৬ জন এবং পুরুষ ৭ হাজার ৯৬৬ জন।

দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫৮, হারালেন ৭ জন

দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫৮, হারালেন ৭ জন

 


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই নিয়ে আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে ৫৮ জন প্রার্থী আবারও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। রবিবার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত শুনানিতে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

ইসি জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের জানান, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে ৫৮টি আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতটি আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে এবং ছয়টি আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) একদিনে ৭০টি আপিলের মধ্যে ৫১ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া ১৫ জনের আপিল নামঞ্জুর ও তিনজনের আপিল বিবেচনাধীন রাখা হয়।

আগামী সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১-২১০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে আপিল শুনানি।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আপিল শুনানি সম্পন্ন করে আবেদন নিষ্পত্তি করবে। এরপর ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। সেই দিনই চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। রিটার্নিং অফিসার ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন।

নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

সূত্র :বিডি-প্রতিদিন

বিএনপি-জামায়াতের জাতীয় সরকার ভাবনা নিয়ে আলোচনা

বিএনপি-জামায়াতের জাতীয় সরকার ভাবনা নিয়ে আলোচনা

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছে, আর বিএনপি বলছে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের প্রস্তাবের কথা। এতে প্রশ্ন উঠেছে- দুই দলের প্রস্তাবের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, নাকি মৌলিক পার্থক্যই বেশি।

সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের এক বৈঠকের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। যদিও ওই বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সরকার কাঠামোর কথা বলা হয়নি। তবে শফিকুর রহমানের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়- নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগে তারা বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান এবং দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সম্মিলিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আগ্রহী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এই বক্তব্যকে ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, জামায়াত নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠছে- শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত কি কোনো জাতীয় সরকার গঠনে একমত হবে, নাকি আবারও একপক্ষীয় সংসদ গঠিত হবে, অথবা সংসদে কার্যকর বিরোধী দল থাকবে।

তারেক রহমান ও শফিকুর রহমানের বৈঠকটি হয় ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর একদিন পর, পহেলা জানুয়ারি, জামায়াতের আমির বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করতে গেলে সেখানে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ভিন্ন পরিস্থিতিতে বৈঠক হলেও সেখানে জামায়াতের আমির রাজনীতি ও নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পাঁচ বছরের জন্য দেশের স্থিতিশীলতা ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সবাই মিলে ভালো কোনো পথ বের করা যায় কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। তিনি জানান, নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগে তারা আলোচনায় বসবেন এবং জাতির স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

যদিও তার বক্তব্যে সরকার কাঠামো নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট প্রস্তাব ছিল না, তবু সরকার গঠনের আগে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার আগ্রহই নানা আলোচনা তৈরি করেছে। এমনকি শফিকুর রহমান নিজেও স্বীকার করেছেন, তার বক্তব্যে একটি ইঙ্গিত রয়েছে, যদিও তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরের শাসনে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন খাতে ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি সামাল দেওয়া যায়নি। এই বাস্তবতায় ঐকমত্য ও সহযোগিতা ছাড়া কোনো দলের এককভাবে দেশ পরিচালনা কঠিন বলেই জামায়াত মনে করে।

তবে বাস্তবে বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপোড়েনপূর্ণ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর বিএনপির সাবেক মিত্র জামায়াতই তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দুই দলের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও অভিযোগও দেখা যাচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াত দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশ তৈরিই এখন সক্রিয় দলগুলোর লক্ষ্য।

তবে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের সময়ই বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের ফাটল স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনে জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং জামায়াত আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থ থেকেই এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা এখন আরও বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে- নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা কি অপর দলকে সরকারে অংশীদার করবে? বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সক্রিয় সব দলই মনে করছে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর তাদের প্রভাব রয়েছে, ফলে ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও বেড়েছে।

লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, জামায়াত ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে চায় বলেই সরকার গঠনের আগে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কথা বলছে। যদিও জামায়াত নেতারা এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ এবং সব দলের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাই জোর দিচ্ছেন।

জামায়াত জাতীয় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তিনটি শর্তের কথা বলছে- দুর্নীতির কোনো সুযোগ না দেওয়া, বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ রাখা এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনায় সব দলের সম্মত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন। জামায়াতের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী হলে এই শর্তে যারা একমত হবে, তাদের নিয়েই তারা জাতীয় সরকার গঠন করতে চায়।

জামায়াতের আমির জানিয়েছেন, তারা কোনো সরকারে গিয়ে দুর্নীতির দায় নিতে প্রস্তুত নন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যে বিএনপির প্রতিও ইঙ্গিত থাকতে পারে। তবে সরকার গঠনের আগে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ জানানোয় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে- জামায়াত কি বিএনপির সঙ্গে সরকারে যেতে চায়।

এ বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি জামায়াতকে বাদ দিয়েই জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের কথা বলছে। বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সব দলের সহযোগিতার বিষয়টি সামনে আনতেই জামায়াত এই প্রস্তাব দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে জাতীয় সরকারের ধারণা বাস্তবায়নে এগোবে। আর বিএনপি সরকার গঠন করলে তারা সহযোগিতা করতে চায় বলে জানিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতায় থাকা দলগুলোও এই তিন শর্তে জাতীয় সরকার গঠনের পক্ষে।

দুই দলের প্রস্তাবে যোগসূত্র থাকার বিষয়টি উভয় পক্ষই অস্বীকার করছে। তবে পার্থক্য স্পষ্ট- জামায়াত বলছে জাতীয় সরকার, আর বিএনপি বলছে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার।

বিএনপি ২০২২ সালে যুগপৎ আন্দোলনের সময় দেওয়া ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে জামায়াতকে বাদ রেখেই মিত্রদের নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের কথা উল্লেখ করে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা জামায়াতকে বাদ রেখেই সরকার গঠনের অবস্থানে রয়েছেন।

বিএনপির আরেক নেতা বলেন, সব দলকে নিয়ে সরকার গঠন করলে সংসদে কার্যকর বিরোধী দল থাকবে না এবং একপক্ষীয় সংসদ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সহযোগিতা আর ক্ষমতার অংশীদারত্ব-এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রাখতে চায় বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্য অবস্থান বিবেচনায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে যৌথভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনা আপাতত কম। কারণ উভয় দলই ভিন্ন শিবিরের নেতৃত্ব দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং একে অপরকে বাদ রেখেই সরকার গঠনের কথা বলছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

ভোটে অংশ নেওয়া নিয়ে যা বললেন হাদির বড় ভাই

ভোটে অংশ নেওয়া নিয়ে যা বললেন হাদির বড় ভাই

 

ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের কেউ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। রোববার সন্ধ্যার পর ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর হাদি আমার দেশ-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওমর হাদি বলেন, আমাদের পরিবার থেকে কেউ নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

এর আগে ওসমান হাদির শাহাদাতের পরে তার আসন থেকে কে নির্বাচন করবেন সে নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছিল। হাদি পরিবার থেকে ওসমান হাদির বড় বোনের নাম শোনা যাচ্ছিল।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পরে পল্টন এলাকায় গুলিকাঘাতে আক্রান্ত হন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। এরপর দেশে চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু দেশে সম্ভব না হওয়ায় পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর শাহাদাত বরণ করেন ওসমান হাদি। ১৯ ডিসেম্বর তার লাশ ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ২০ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে ওসমান হাদিকে সমাহিত করা হয়।


 আগামীকাল প্রকাশ হচ্ছে তারেক রহমান ও জাইমার ভোটার সংক্রান্ত নথি

আগামীকাল প্রকাশ হচ্ছে তারেক রহমান ও জাইমার ভোটার সংক্রান্ত নথি

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর কন্যা জাইমা রহমানের ভোটার হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামীকাল রোববার বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

শনিবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সচিব জানান, তারেক রহমান ও জাইমা রহমানের ভোটার নিবন্ধনের প্রাথমিক ধাপগুলো ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে তাঁরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত ফরম পূরণ, ছবি তোলা এবং বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ) প্রদান করেছেন। তাঁরা রাজধানীর গুলশান এলাকার (ঢাকা-১৭ আসন) ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করেছেন।

ইসি সচিব ব্যাখ্যা করেন, ভোটার তালিকা আইন ২০০৯-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী কমিশন যেকোনো যোগ্য নাগরিককে যেকোনো সময় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা রাখে। তবে সাধারণত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নতুন করে ভোটার অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে পূর্ণ কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। সেই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই তাঁদের নথি আগামীকাল কমিশনের টেবিলে তোলা হবে।

আখতার আহমেদ আরও জানান, তাঁদের এনআইডি নম্বর আজকের মধ্যেই জেনারেট হয়ে যেতে পারে। তবে বায়োমেট্রিক তথ্যগুলো কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করে প্রযুক্তিগতভাবে যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা সময় লাগে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই তাঁরা চূড়ান্ত এনআইডি নম্বর পাবেন।

আগামীকাল কমিশন কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, কমিশন চাইলে আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে অথবা নথিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে অনুমোদন দিতে পারে। এটি সম্পূর্ণ কমিশনের এখতিয়ার।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর আজই প্রথমবারের মতো ভোটার হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে একই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।

 সূত্র : আমার সংবাদ

সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের পথে যেসব চ্যালেঞ্জ

সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের পথে যেসব চ্যালেঞ্জ


 জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হচ্ছে প্রথমবারের মতো। তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে সারা দেশে চলছে ভোটের আমেজ। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো স্বাগত জানিয়েছে। অধিকাংশ দলই ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছে; প্রার্থীও ঘোষণা দিয়েছে তারা। মনোনয়ন পেতে দলবদলের হিড়িক চলছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ; নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালন; মাঠ প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ; সংঘাত-সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ; লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি; প্রবাসীদের ভোটাধিকারের বিষয়ে পোস্টাল ভোটিং এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা আসন্ন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই। এদিকে তফসিল ঘোষণার এক দিন পরে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নির্বাচনি আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অনেক নতুনের নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। আইনবিধি সংস্কার নিয়ে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট অনন্য মাত্রা আনছে। আবার একটি বড় দল ভোটের বাইরে থাকায় বিরাজমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নির্বাচনেও নানা বাধা আসতে পারে। তুলনামূলক পরিবেশে ভোটার উপস্থিতি বাড়ার আশা ও অংশগ্রহণমূলক ভোটের পথে বর্তমান ইসির প্রতি আস্থার পরীক্ষাও সামনে। ভোটের বাদ্য বাজলেও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের এ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ভোটে লড়বেন। এবার ৫৫টি দল নিবন্ধিত রয়েছে।

নির্বাচনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের কঠোরতা ও কার্যকারিতা। এ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কঠোরতা প্রদর্শন করতে পারেনি বলে আমার আশঙ্কা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও তাদের মনোনীত প্রার্থীদের সদাচরণ। তারা যদি হানাহানি ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, তারা যদি অসদাচরণ করে, সংঘাত-সহিংসতার পথ বেচে নিয়ে ছলেবলে কৌশলে রাজনৈতিক বৈতরণি পার হতে চায় তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে না।’ তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর। রাজনৈতিক দলগুলো যদি সদাচরণ করে এবং নির্বাচন কমিশন যদি কঠোর ভূমিকা পালন করে তবে ভোটের চ্যালেঞ্জ কমে যাবে।

এদিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে সব ধরনের উদ্যোগ ও সরকারের সহযোগিতার কথা ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন তফসিল ঘোষণাকালে বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দল ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ ভোটারদের আন্তরিক অংশগ্রহণ ও সক্রিয়তা কামনা করছি। সবার প্রতি আমার আহ্বান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সফল করে আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখুন।’ এবারের নির্বাচনকে ‘জাতির ইতিহাসে অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটের অনুষ্ঠান উৎসবে রূপ নেবে।’ বিশ্লেষকদের মতে, সংস্কার হয়েছে আইনবিধিতে, সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে হচ্ছে; এগুলো সবই মাইলফলক। প্রবাসী ভোটিং হচ্ছে মাইলফলক। এগুলো সব মাইলফলক। কিন্তু চ্যালেঞ্জ আছে। চ্যালেঞ্জটা সব সময় কাজের অংশ হয়। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য ইলেকশন কমিশনের প্ল্যান থাকতে হবে। যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে সেগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম হতে হবে ইসিকে।

ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী প্রচারে মাঠে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ক্ষেত্রে যে যে বিষয়গুলো প্রাসঙ্গিক হবে আমরা সব নিশ্চয়ই নিশ্চিত করব।’ যাতে কেউ অন্ততপক্ষে কোনো অভিযোগ না করতে পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। আচরণবিধি প্রতিপালনে ইসির কঠোর পদক্ষেপ থাকলেও রাজনৈতিক দলের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন সচিব। আখতার আহমেদ বলেন, ‘এখন কথাটা হচ্ছে, এটা তো আমাদের দিক থেকে পদক্ষেপ থাকবে। এরপরও যারা এর সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক দলের তাদেরও সদিচ্ছার ব্যাপার থাকতে প্রাসঙ্গিক। আমি বিশ্বাস করি, আমি আস্থা রাখি এবং আমি এটা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি যে সবাই সহযোগিতা করবেন।’ কেউ যদি না মানেন তাহলে তার জন্য আইনগতভাবে যে ব্যবস্থাটা আছে, সেটা নেওয়া হবে, উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, মব এখনও চলছে, নিয়মিত অনিয়মিতভাবে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নজন আক্রান্ত হচ্ছে, বিভিন্ন সম্প্রদায় আক্রান্ত হচ্ছে। এমন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে মানুষ নির্বাচনি পরিবেশে আস্থার মধ্যে আনতে পারছে না। মানুষের সামনে সংশয় আছে। ভোট সামনে রেখে রাজনৈতিক জোটের হিসাবনিকাশও চলছে, ভোটের তারিখ হলেও সংশয় কাটছে না। জোটেও নানা রকমের ইকুয়েশন, শেষ থেকে আরও মোড় নিতে পারে। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে নানা রকম শঙ্কা আছে, সংশয় আছে। অন্যদিকে এবার আরেকটা বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আওয়ামী লীগ ভোটের বাইরে থাকা আবার জাতীয় পার্টি নিবন্ধিত থাকলেও ভোটে অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে এই দুই দলের সমর্থকরাও ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারেন। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসন তথা ডিসি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে। সেগুলো নিয়ে মাঠ প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

র্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না

র্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না


 যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সারাদেশে পালিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাংলাদেশের চূড়ান্ত স্বাধীনতা। বিজয়ের এই গৌরবময় দিনে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ও দৃঢ় ভাষণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করতে পলাতক ও পরাজিত শক্তি সহিংসতা, গুপ্ত হামলা ও ভয় সৃষ্টির কৌশল বেছে নিয়েছে, তবে সরকার এসব অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এই ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বিভিন্ন গণমাধ্যমে  একযোগে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ভাষণে ড. ইউনুস মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনের এক অম্লান গৌরবের দিন। লাখো শহীদের রক্ত আর অসংখ্য মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, এটি একটি আদর্শ ন্যায়, মানবিকতা ও গণতন্ত্রের আদর্শ।

ড. ইউনুস বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে। সেই চেতনাকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নির্বাচনের আগেই ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পালিয়ে যাওয়া পরাজিত শক্তিগুলো। তারা বুঝে গেছে তরুণরা, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক জাগরণই তাদের সবচেয়ে বড় বাধা। তাই তারা সহিংসতা, চোরাগুপ্তা হামলা ও ভয় সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।

তিনি বলেন, এসব শক্তি নির্বাচনের আগেই নিজেদের রাজত্ব কায়েম করার স্বপ্ন দেখছে, কিন্তু জনগণের ঐক্য ও রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানের সামনে তাদের এই অপচেষ্টা সফল হবে না।

ভাষণে জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ্য সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদীর ওপর হামলা কোনো এক ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর, আমাদের গণতান্ত্রিক পথচলার ওপর সরাসরি আঘাত।

ড. ইউনুস জানান, শরীফ ওসমান হাদী বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পলাতক শক্তিগুলো যতদিন তরুণদের পাশে জনগণকে পাবে, ততদিন তারা সফল হবে না। তরুণরাই আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই তাদের দমন করতেই এই সহিংসতা।

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ আমাদের সবাইকে জোর গলায় বলতে হবে আমরা তরুণদের রক্ষা করব। পুরোনো দাসত্বের রাজনীতিতে যারা বন্দি, তাদের সেই দাসত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ভাষণে ড. ইউনুস বলেন, দেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা। তিনি জানান, নির্বাচনের আর বেশি সময় বাকি নেই।

তিনি বলেন, নির্বাচন অবধি বাকি মাত্র দুই মাস। এই সময়ে আমরা প্রতিটি দিন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ রাখতে চাই। জনগণই হবে এই নির্বাচনের প্রকৃত মালিক।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সম্পন্ন হলে সহিংসতার পেছনে থাকা শক্তিগুলো জনগণের সমর্থন হারিয়ে বেকায়দায় পড়বে আর এ কারণেই তারা এত তাড়াহুড়ো করছে।

ড. ইউনুস বলেন, সরকার নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি দিন সতর্ক নজরদারিতে রাখবে।
আমরা তাদের প্রতিটি অপচেষ্টা নজরে রাখছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত। দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে কাউকে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করার মধ্য দিয়েই দেশের উপর জনগণের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

ভাষণের শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারব।

তিনি বিজয় দিবসে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান,বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় এগিয়ে আসার।

মহান বিজয় দিবসে প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণ নতুন করে জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিল, স্বাধীনতা শুধু অর্জনের নয়, রক্ষারও নাম, আর সেই দায়িত্ব আজ বর্তমান প্রজন্মের কাঁধেই ন্যস্ত।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সতর্কতা

নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সতর্কতা


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এই সংক্রান্ত একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে।

দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়, সমগ্র বাংলাদেশেই এই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে যে, পরবর্তী সংসদ নির্বাচন এবং একটি জাতীয় গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের তারিখ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সমাবেশ এবং বিক্ষোভ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

দূতাবাস বলছে, মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং মনে রাখা উচিত যে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভগুলো সংঘাতমূলক এবং সহিংসতায় পরিণত হতে পারে। আপনার বিক্ষোভ এড়ানো উচিত এবং কোনও বড় সমাবেশের আশেপাশে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

নাগরিকদের করণীয় প্রসঙ্গে মার্কিন দূতাবাস বলছে, আপনার চারপাশ সম্পর্কে সচেতন থাকুন, আপডেটের জন্য স্থানীয় মিডিয়া পর্যবেক্ষণ করুন, ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং বিক্ষোভ এড়িয়ে চলুন।

  সূত্র : বিডি প্রতিদিন

নির্বাচন হবেই, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে: ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচন হবেই, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে: ইসি সানাউল্লাহ


 আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অ্যাক্টিভলি কাজ করছে।’

রবিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির  ‍উদ্দিনের সভাপতিত্বে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক এ সভা হয়। এতে নির্বাচন কমিশনাররা ছাড়াও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

যারা এই নির্বাচনকে বানচাল করতে চাইবে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে উল্লেখ করে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন হবেই। নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অ্যাক্টিভলি কাজ করছে। ওসমান হাদিকে গুলি করার মতো চোরাগুপ্তা হামলাকে প্রতিহত করার জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।’ 

রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক দোষারোপ থেকে মুক্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি। 

ইসির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই জায়গায় নির্বাচন কমিশনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ডেভিল হান্টে যারা বিভিন্ন সময় আটক হয়েছে, তারাই আবার জামিন পাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘চোরাগুপ্তা হামলা হয়েছে সেটা কোনো বড় পরিকল্পনার অংশ কি না, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে। যারা এই নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করবে তাদের প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে বলা হয়েছে।’

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল দেবে পুলিশ

রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল দেবে পুলিশ


 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পুলিশের পক্ষ থেকে দেশের সব রাজনৈতিক দলের জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল সরবরাহ করা হবে। এই প্রটোকলে রাজনৈতিক নেতা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের বাসস্থান, কার্যালয়, চলাচল, জনসভা ও সাইবার স্পেসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন।

রোববার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়। এছাড়া, গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় হামলাকারী ও তার সহযোগীদের পুলিশ এরইমধ্যে শনাক্ত করেছে।

তাদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের হাতের চাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষা করা হচ্ছে।

প্রধান সন্দেহভাজন যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সেজন্য শুক্রবার রাতেই সবগুলো ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ছবি ও অন্যান্য তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। বিজিবি ও র‍্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে সীমান্ত এলাকায়।

দেশের অভ্যন্তরে একাধিকবার সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলেও বারবার স্থান পরিবর্তনের কারণে এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ প্রধান সন্দেহভাজনের চলাচলের খতিয়ান বা ট্রাভেল হিস্ট্রি সংগ্রহ করেছে। এতে দেখা যায়, আইটি ব্যবসায়ী পরিচয়ে তিনি গত কয়েক বছরে একাধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং সর্বশেষ গত ২১ জুলাই সিঙ্গাপুর ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এমন আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকেছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে।

হাইকমিশনারকে জানানো হয় যে, ভারতে অবস্থানকারী পলাতক অপরাধী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং আসন্ন নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে ক্রমাগতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন ও তার দলের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন।

ভারত সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা অনতিবিলম্বে তার এবং ভারতে পলাতক তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের এ সব ফ্যাসিস্ট টেরোরিস্ট কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়। এছাড়া, ভারতীয় হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাচেষ্টাকারীরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা রোধে ভারত সরকার যেন সহযোগিতা করে এবং তারা ভারতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে তাদের পাকড়াও করে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ করে।

সূত্র : আমার সংবাদ

ওসমান হাদিকে দেখতে ঢামেকে গেলেন জামায়াত আমির

ওসমান হাদিকে দেখতে ঢামেকে গেলেন জামায়াত আমির

 


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। 

শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি ঢামেকে যান।

ওসমান হাদি এখন কোমায় আছেন বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) ডা. মোশকাত আহমেদ।

এর আগে হাদিকে দেখতে ঢামেকে যান একই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। এছাড়া হাদিকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।

চিকিৎসক জানান, শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা খুবই গুরুতর। তার মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তিনি এখন কোমায় আছেন।

জানা যায়, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানী বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় অস্ত্রধারীরা তাকে গুলি করে। তাকে উদ্ধার করে ২টা ৩৫ মিনিটে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

সূত্র : news24bd.tv

গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও এমপি প্রার্থী ওসমান হাদি

গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও এমপি প্রার্থী ওসমান হাদি

 


রাজধানীর মতিঝিল থানা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। শুক্রবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে থানার বিজয়নগর কালভার্ট রোড দিয়ে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এসময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।

জানা গেছে, দুর্বৃত্তদের গুলি হাদির বাম কানের নিচে বিদ্ধ হয়। পরে তার সাথে থাকা সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দুপুর ২টা ৪০ মিনিট নাগাদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারের (ওসেক) আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাদির অবস্থা নিয়ে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) ডা. মোশতাক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা খুবই গুরুতর। তার মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে, তিনি এখন কোমায় আছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন,‌ আমরা শুনেছি বিজয়নগর এলাকায় হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমাদের টিম পাঠিয়েছি। তারা কনফার্ম করলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো। 

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যানার‑ফেস্টুন সরানোর নির্দেশ”

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যানার‑ফেস্টুন সরানোর নির্দেশ”


 আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড সরানোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ওই নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, গেট, তোরণ বা ঘের, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা ইত্যাদি প্রচার সামগ্রী ও নির্বাচনী ক্যাম্প থাকলে তা সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য প্রার্থী/ব্যক্তিদের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজ খরচে/দায়িত্বে অপসারণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। এ লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।

ইসি জানায়, নির্ধারিত সময়ে উপর্যুক্ত প্রচারণা সামগ্রীসমূহ অপসারণ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়ে অনুরোধ করা হলো।

নির্দেশনা মোতাবেক ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আগাম প্রচার সামগ্রী অপসারণ করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। অন্যথায় নির্বাচনী আচরণবিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে, এরপর পদ ছাড়তে চান রাষ্ট্রপতি

নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে, এরপর পদ ছাড়তে চান রাষ্ট্রপতি


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদ ছাড়তে চান। 

বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ ইচ্ছার কথা জানান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করছেন।

হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেন, ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন। কারণ, সংবিধান তাকে এই অবস্থানে থাকার বাধ্যবাধকতা দিয়েছে।

তিনি বলেন, "আমি যেতে আগ্রহী। আমি পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চাই। তবে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবো।"

বার্তা সংস্থা রয়টার্স সাহাবুদ্দিনের অভিযোগ তুলে ধরে উল্লেখ করে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. ইউনূস গত সাত মাসে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। এমনকি সেপ্টেম্বরে দেশের দূতাবাস ও মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

রয়টার্স জানায়, রাষ্ট্রপতির ছবি সব দূতাবাস, কনস্যুলেট ও হাইকমিশন থেকে এক রাতে হঠাৎ তা সরিয়ে ফেলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, এতে ভুল বার্তা গিয়েছিল সবার কাছে। যেন রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে তিনি খুব অপমানিত বোধ করেছেন বলে ওই সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করা হয়।

সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি লেখেন। তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

৭৬ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

 সূত্র : আমার সংবাদ

 

সরকার একই সঙ্গে সবাইকে অননুমোদিত সমাবেশ ও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে যেন নির্বাচন-পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা যায়।

সরকার একই সঙ্গে সবাইকে অননুমোদিত সমাবেশ ও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে যেন নির্বাচন-পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা যায়।


 তফসিল ঘোষণার পর কোনো ধরনের দাবি-দাওয়া বা আন্দোলন নিয়ে রাস্তায় নামলে পুরো বিষয়টি খুব কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। 

বৃহস্পতিবার  বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, "আমরা এখন নির্বাচনের মোডে। এই তফসিল ঘোষণার পরে কোনো ধরনের দাবি-দাওয়া, আন্দোলন নিয়ে রাস্তায় নামলে এই পুরো বিষয়টি খুব কঠোরভাবে দমন হবে। আমরা একটি ভালো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।"

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, "আমরা দেখছি অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়েও আন্দোলন করার চেষ্টা চলছে। সেই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরশুদিন স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই বিষয়টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। যারা আন্দোলন করবেন, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।"

তিনি বলেন, "আমরা মনে করি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো আছে। আমরা আপনাদেরকে অনুরোধ (অনুরোধ) করব, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সঙ্গে কথা বলবেন। তারা আপনাদেরকে গত ছয় মাস বা গত বছরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি পরিসংখ্যান (পরিসংখ্যান) দেবে এবং আমরা যে পরিসংখ্যান দেখছি, তাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দেড় লাখ পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সাড়ে তিন লাখ আনসারের প্রশিক্ষণ শেষ পর্যায়ে। বডি ক্যামেরা কীভাবে চালাতে হয়, সে নিয়ে প্রশিক্ষণ হচ্ছে। সিসিটিভি এটা নিয়েও প্রশিক্ষণ হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলছেন জাতিকে একটি খুবই সুন্দর, বিশ্বাসযোগ্য (বিশ্বাসযোগ্য), শান্তিপূর্ণ (শান্তিপূর্ণ) এবং উৎসাহমুখর, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া। কিন্তু গত ১৬ মাসে ২০০০টি আন্দোলন হয়েছে। নতুন সরকারের একটা সিদ্ধান্ত ছিল যে এগুলোকে শান্তিপূর্ণভাবে (শান্তিপূর্ণভাবে) মোকাবিলা করা, শান্তিপূর্ণভাবে এটাকে ডিল করা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লাঠিচার্জের বাইরে কিছু হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা একটা বিরল ঘটনা।" 

সূত্র : আমার সংবাদ


জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি—তারেক রহমান কবে ফিরছেন?

জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি—তারেক রহমান কবে ফিরছেন?

 


জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

তিনি কবে দেশে ফিরবেন এই প্রশ্ন এখন দলীয় নেতাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক কৌশল এবং মাঠের বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বৃহস্পতিবারের কর্মশালায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "খুব শিগগিরই আমাদের নেতা দেশে আসবেন।" এই একটি বাক্যই বিএনপি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। কিন্তু 'খুব শিগগিরই'-এর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা কী? আর বাস্তবে এই ফেরার সম্ভাবনা কতটা?

দলীয় বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে এমন বার্তা রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ। নির্বাচন সামনে রেখে কর্মীদের সক্রিয়, সংগঠিত ও উদ্দীপিত রাখতে এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন নেতৃত্বের শূন্যতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীরা চান তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব। ফলে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনার বার্তা দলকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি উপায়। তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, নিরাপত্তাজনিত জটিলতার সঙ্গেও জড়িত।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচন ও গণভোটের মতো স্পর্শকাতর মুহূর্তে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। সরকারও এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক এমনটি চাইবে না। ফলে তাঁর ফেরার সিদ্ধান্ত অনেকটাই রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ওপর নির্ভরশীল।

গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন: বিএনপির সামনে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ ১২ ফেব্রুয়ারির তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির সামনে দুটি প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তারা কি নির্বাচনে যাবে? যদি যায়, নেতৃত্ব দেবেন কে?

এই দুই প্রশ্নের উত্তর আংশিকভাবে জড়িয়ে আছে তারেক রহমানের ফেরার সঙ্গে। তিনি দেশে ফিরলে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে নাটকীয় পরিবর্তন আসতে পারে। আর যদি না ফেরেন, তবে দূরবর্তী নেতৃত্ব ও টেকনিক্যাল নির্দেশনা দিয়েই দলকে পরিচালনা করতে হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন তারেক রহমান দেশে ফিরলে বিএনপির মাঠ আন্দোলন নতুন গতি পাবে। দলীয় মনোবল বাড়বে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তবে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়বে বহুগুণ।

মির্জা ফখরুল বলেছেন 'খুব শিগগিরই' কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, তাঁর ফেরার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তিনটি বিষয়ের ওপর: নির্বাচনী পরিবেশ কীভাবে বদলায়, সরকারের অবস্থান কতটা কঠোর বা নমনীয় হয়, আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বা বার্তা কী আসে।


সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, বিএনপি নেতৃত্ব ফেরার সম্ভাবনার বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে রাজনৈতিক মাঠে নতুন সাড়া তৈরি করতে চাইছে। তবে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন কি না এখনো তা নির্দিষ্ট সময়রেখায় বলা যাচ্ছে না। নির্বাচন ও গণভোট ঘনিয়ে এলেই এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসবে।

 সূত্র : আমার সংবাদ