The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
অভিমানে’ ৩০ বছর প্রবাসে, দেশে ফেরার তিন দিন পর মৃত্যু

অভিমানে’ ৩০ বছর প্রবাসে, দেশে ফেরার তিন দিন পর মৃত্যু

প্রায় তিন দশক ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাস জীবন কাটানোর পর অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে মারা গেছেন সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মাসুক আহমদ (৫৫)। দীর্ঘ ৩০ বছর পর দেশে ফিরলেও শেষবারের মতো স্বজনদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে দেখা করার সুযোগ হয়নি তার। দেশে ফেরার তিন দিনের মাথায় নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।

মাসুক আহমদের ভাতিজা ও দুবাইপ্রবাসী শাহেদুল আরেফিন জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিমান করে দেশ ছাড়েন মাসুক। এরপর আর কখনো নিজের গ্রামের বাড়িতে ফেরেননি তিনি।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জকিগঞ্জের সোনাপুর গ্রামে নিজের দোকানের সামনে কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে মাসুকের বাগবিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার পর তাকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি তাকে এতটাই কষ্ট দেয় যে পরে তিনি দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

দুবাই যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে বসবাস করেন মাসুক। বিভিন্ন সময়ে দেশটির পক্ষ থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিতে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলেও তিনি সেই সুযোগ গ্রহণ করেননি বলে তার পরিচিতজনদের ভাষ্য।

প্রবাস জীবনে বিভিন্ন স্থানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে তার বাবা-মা ও এক ভাই মারা যান। বিদেশে থাকা স্বজনেরা একাধিকবার তাকে দেশে ফিরে আসার অনুরোধ করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।

সাত মাস ছিলেন কোমায়

প্রায় সাত মাস আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মাসুক আহমদ। পরে তার হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে দুবাইয়ের শেখ রাশিদ হাসপাতাল ও আজমানের থুম্বেই হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার চিকিৎসা ব্যয় প্রায় ২ কোটি টাকা হয়ে যায়। তবে মানবিক বিবেচনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার তার পুরো চিকিৎসা বিল মওকুফ করে দেয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় শুক্রবার এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। সিলেটে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থাকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানান। পরে তাকে জকিগঞ্জের নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানেই মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।

দীর্ঘ ৩০ বছরের প্রবাস জীবনের পর দেশে ফেরার স্বপ্ন পূরণ হলেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ আর পেলেন না মাসুক আহমদ। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হলো তিন দশকের এক বেদনাময় প্রবাসজীবনের গল্প।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

সৌদিতে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নওগাঁর ৭ প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদিতে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নওগাঁর ৭ প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত বাংলাদেশি প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাত বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।

নিহত সাতজনই আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা এবং সৌদি আরবের ওই সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজন রয়েছেন।

তবে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান। এখন পর্যন্ত নিহত সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হলেও অন্যদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় অনেককে নিহতের সংখ্যা ১৫, ১৭ ও ১৯ জন উল্লেখ করে পোস্ট দিতে দেখা গেছে। তবে এসব দাবির কোনোটি এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

একই উপজেলার সাত প্রবাসীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আত্রাইজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে উপজেলার পরিবেশ।

নিহতদের পরিচয় ও অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

রিয়াদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই ভাইসহ তিন প্রবাসী অপহরণ, দেড় লাখ টাকা দিয়ে মুক্তি

রিয়াদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই ভাইসহ তিন প্রবাসী অপহরণ, দেড় লাখ টাকা দিয়ে মুক্তি


ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দুই ভাইসহ তিন প্রবাসীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের পর তাদের মারধর করে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পর প্রায় ২০ ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বজনরা।

অপহৃতরা হলেন—বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরশিবপুর গ্রামের মোসলেম মিয়ার ছেলে মো. কাউছার মিয়া ও মো. ইসলাম এবং একই উপজেলার ছলিমাবাদ গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে মো. মাসুদ মিয়া। মাসুদ সম্পর্কে কাউছার ও ইসলামের খালু।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউছার প্রায় তিন বছর আগে এবং তার ছোট ভাই ইসলাম এক মাস আগে সৌদি আরবে যান। তারা দুজন এবং তাদের খালু মাসুদ রিয়াদে কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে খাবার খেতে যাওয়ার সময় রিয়াদের বাথা মার্কেট এলাকা থেকে ৮-৯ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের জোর করে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর থেকে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শুক্রবার সকালে অপহরণকারীরা ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় তিন প্রবাসীকে নির্যাতনের দৃশ্যও স্বজনদের দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।

পরে তিন পরিবারের পক্ষ থেকে কাউছার ও ইসলামের মামা এবং সৌদি আরবপ্রবাসী হাসান মিয়া অপহরণকারীদের দেড় লাখ টাকা দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানানো হয়।

পরিবারের দাবি, অপহরণের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিন প্রবাসীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কাউছার ও ইসলামের মা হামিদা বেগম বলেন, ‘সারাদিন তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আমার ভাই সৌদি আরব থেকে দেড় লাখ টাকা দিয়েছে। অপহরণকারীরা আরও টাকা দাবি করেছিল। সন্ধ্যায় তারা ছেড়ে পেয়েছেন।’

মাসুদ মিয়ার স্ত্রী মাহমুদা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তার স্বামী ও দুই ভাগনে অপহরণের শিকার হন। শুক্রবার সকালে স্বামীর মুঠোফোন থেকে ভিডিও কল করে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ সময় তাদের মারধর করে দেখানো হয় বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, অপহৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় বিষয়টি জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে জানতে চেয়েছেন।

ঘটনাটি সৌদি আরবে সংঘটিত হওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বচ্ছলতার আশায় গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে, কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১০৯ জন

স্বচ্ছলতার আশায় গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে, কম্বোডিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১০৯ জন

 


কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ১০৯ জন দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার রাতে তারা দেশে এসে পৌঁছান। এ নিয়ে জুন মাসে সেখান থেকে ফিরলেন ৫৮৩ বাংলাদেশি। 
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তারা থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। গত চার দিনে মোট ৩৬২ বাংলাদেশি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন।

দেশে ফিরে আসা প্রত্যেককে বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এবং ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
লক্ষ্মীপুরের এক ভুক্তভোগী জানান, একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে কম্বোডিয়ার একটি কোম্পানিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই চাকরির জন্য তিনি ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকেও ছাড়পত্র নিয়েছিলেন।

কিন্তু কম্বোডিয়া পৌঁছানোর পর তাকে মাত্র এক মাসের একটি ভিজিট ভিসা দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে বাংলাদেশি দালালেরা তাকে গ্রহণ করলেও পরে কোনো বৈধ কাজের ভিসার ব্যবস্থা করা হয়নি। পরিবর্তে তাকে টাকার বিনিময়ে একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে ওই ভুক্তভোগী জানান।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাদের বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে অনলাইন প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো। যারা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারতেন না, তাদের মারধর, শারীরিক নির্যাতন এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। স্ক্যাম সেন্টারের ভেতরে আলাদা একটি নির্যাতন কক্ষও ছিল বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই সেন্টারে অভিযান চালালে প্রতারক চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যান এবং তারা মুক্ত হন।


ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের একটি বিপজ্জনক রূপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলছি যে, সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের এক ভয়াবহ রূপ। উন্নত দেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের বিদেশ নেওয়া হচ্ছে এবং এরপর তাদের অনলাইন প্রতারণায় বাধ্য করা হচ্ছে। যারা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।


শরিফুল হাসান জানান, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এই বাংলাদেশিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, জুন মাসে ৫৮৩ জনের ফিরে আসা প্রমাণ করে যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এই পাচারকারী চক্রের শিকার হয়েছেন। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী মামলা করেছেন।
তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রকে শনাক্ত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ বাংলাদেশি কাজের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গিয়েছেন। তবে ফিরে আসা ব্যক্তিদের দাবি, কাজ না পেয়ে বা প্রতারণার শিকার হয়ে কয়েক হাজার বাংলাদেশি এখনো সেখানে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
তারা জানান, তাদের অনেককেই উচ্চ বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।
প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুনে ফিরে আসা ৫৮৩ জনের অনেকেরই বিএমইটি ছাড়পত্র ছিল।


এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাদের সাইবার প্রতারণা করতে বাধ্য করা হয়।
ব্র্যাক জানিয়েছে, পাচারকারী চক্র ভুয়া ওয়েবসাইট, ইমেল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ এবং কাস্টমার সার্ভিস অফিসারের মতো আকর্ষণীয় পদের বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের প্রলুব্ধ করে।


সংস্থাটি আরও জানায়, চাকরিপ্রার্থীদের পরে স্ক্যাম সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে অনলাইনে প্রতারণায় বাধ্য করা হয়।
থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে চাকরির প্রস্তাব, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভিসার ধরন সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ব্র্যাক।

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২ বাংলাদেশির

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২ বাংলাদেশির

 

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) ভোররাতে দ্রুতগতির একটি বাসের চাপায় তাদের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন-মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার খলিল মণ্ডলের ছেলে মনোহর আলী (৩৫) এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি গ্রামের মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে বজলুর রহমান (৪০)।

স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রহমান প্রায় দেড় বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে ইরাকে যান। তারা একই কনফেকশনারি কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

সোমবার ভোরে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে মনোহর আলীর বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি।

মনোহরের স্ত্রী সোমা আক্তার জানান, রোববার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। সে সময় পরিবারের সবার খোঁজখবর নিয়েছিলেন তিনি। পরে সোমবার ভোরে ইরাকপ্রবাসী এক আত্মীয় ফোন করে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর জানান।

তিনি আরও বলেন, স্বামীর মৃত্যুর দিনই কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের একমাত্র বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণের কিস্তি নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশিস রায় বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কুয়েতে মিসাইল বিস্ফোরণে নিহত সন্দ্বীপের প্রবাসী জাহেদ

কুয়েতে মিসাইল বিস্ফোরণে নিহত সন্দ্বীপের প্রবাসী জাহেদ

 

কুয়েতে মিসাইল বিস্ফোরণে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের এক প্রবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশ সময় আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে কুয়েতের জারা জালমি এলাকার মরু অঞ্চলে একটি মিসাইল বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

নিহত ওই প্রবাসীর নাম জাহেদ হোসেন (৩০)। তিনি সন্দ্বীপ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিনের ছোট ছেলে। জাহেদ হোসেনের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে। স্বজনরা জানান, প্রায় ৪ বছর আগে উট চড়ানোর (ক্যামেল রাইডিং) ভিসায় কাজের উদ্দেশে জাহেদ কুয়েত যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুয়েত থেকে এক আত্মীয় ফোন করে পরিবারের সদস্যদের তার মৃত্যুর খবর জানান।

তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

এসময় তিনি স্বজনদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

১৩ দিনে দেড় বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে

১৩ দিনে দেড় বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে


 বছরের শেষ সময়ে এসেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের ১৩ দিনে দেশে এসেছে প্রায় ১৫০ কোটি ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার প্রবাসী আয়। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৮ হাজার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) ৩৯০ কোটি টাকার বেশি।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম ১৩ দিনে ১৫০ কোটি ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক (কৃষি ব্যাংক) ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ লাখ ডলার। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলো মাধ্যমে ১০৯ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ডলার এসেছেন এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩২ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয় ছিল— জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স।

প্রসঙ্গত, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল, যা ছিল ওই অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। পুরো অর্থবছরে প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার—আগের বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

২০২৩–২৪ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। ওই অর্থবছরের মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স ছিল— জুলাইয়ে ১৯১ দশমিক ৩৭ কোটি, আগস্টে ২২২ দশমিক ১৩ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০ দশমিক ৪১ কোটি, অক্টোবরে ২৩৯ দশমিক ৫০ কোটি, নভেম্বরে ২২০ কোটি, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি, মার্চে ৩২৯ কোটি, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি, মে মাসে ২৯৭ কোটি এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলার।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

🔴 ব্রেকিং নিউজ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক রিয়াদে নিখোঁজ — অপহরণের আশঙ্কা!

🔴 ব্রেকিং নিউজ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক রিয়াদে নিখোঁজ — অপহরণের আশঙ্কা!




সৌদি আরবের রিয়াদে ৬ দিন ধরে নিখোঁজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক পাবেল আহমেদ।
সর্বশেষ তাকে দেখা যায় শিফা সানাইয়া এলাকায়। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ — কোনোভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

পরিবার ও সহকর্মীদের সন্দেহ,
এটি সাধারণ নিখোঁজ নয়, হতে পারে অপহরণ বা কোনো অপরাধমূলক ঘটনা।

নিখোঁজের তথ্য:

নাম: পাবেল আহমেদ

কর্মস্থল: রাধুনি রেস্টুরেন্ট, রিয়াদ

বাড়ি: শাহবাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া


রিয়াদে কেউ তার অবস্থান বা কোনো তথ্য জানলে অবিলম্বে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।



সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের অপহরণের ‘মহামারী বিস্ফোরক অভিযোগ -পিনাকী ভট্টাচার্যের

সৌদি আরবে বাংলাদেশীদের অপহরণের ‘মহামারী বিস্ফোরক অভিযোগ -পিনাকী ভট্টাচার্যের



পিনাকী ভট্টাচার্যের


"গত আট মাসে সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশী অপহরণের শিকার হয়েছে শতাধিক। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তিনজন। সবচেয়ে ভয়ংকর খবর হচ্ছে এই কাজ করছে বাংলাদেশীরাই। মুক্তিপণ আদায় একটা কারণ।

সেই ক্রিমিনালদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে সৌদি প্রবাসী সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ধনাঢ্য বাংলাদেশীরা।

আমি বিষয়টা নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলেছি। আমাদের দুতাবাসেও কথা বলেছি। সরকার অবহিতই শুধু না উনারা কাজ করছেন।

কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। কিন্তু ভিক্টিমকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছে এমন প্রভাবশালী তারা। কেউ সাক্ষ্যও দিতে আসছে না। তাই তারা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।

বিষয়টা জটিল সেই কারণে। আপনারা সাক্ষ্য দিবেন। ভয় পাবেন না। আর এর পর থেকে যারা গ্রেফতার হবে তাদের নিয়ে এপিসোড বানাবো আমি ইলিয়াস আর কনক সারোয়ার একসাথেই। যারা এই ক্রিমিনালদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে তাদের নাম ধাম প্রকাশ করে দেবো হাতে অকাট্য প্রমাণ এলেই।

আমরা কিছু নাম জেনেছি এর মধ্যেই যারা এই ক্রিমিনালদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে। আর একটা ঘটনা ঘটলে সিরিয়াল ধরে একজন একজন করে নাম ধাম প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশের ভাত কিন্তু জিন্দেগীর মতো হারাম হয়ে যাবে।"

বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট পিনাকীর এই পোস্টটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে শেয়ার করা হয়েছে, যা সৌদি আরবে বাংলাদেশী প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিচে বিস্তারিত:

অপহরণের পরিসংখ্যান ও প্রকৃতি:

গত ৮ মাসে (এপ্রিল থেকে নভেম্বর ২০২৫) শতাধিক (১০০+) বাংলাদেশী অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

অপহরণকারীরা সহ-প্রবাসী বাংলাদেশীরা – তারা মুক্তিপণ (১০-৫০ লাখ টাকা) আদায় করে। অপহৃতদের আটকে রেখে বাংলাদেশে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও/অডিও কল করে হুমকি দেয়া হয়। টাকা বিকাশ, ব্যাংক বা এমএফএস-এর মাধ্যমে আদায় করা হয়।

সৌদির রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মামের মতো শহরে এই চক্র সক্রিয়। ২০১৬-১৭ সাল থেকে শুরু হলেও, করোনা পরবর্তী সময়ে এটি 'মহামারী' আকার ধারণ করেছে।45de01


পিনাকীর অভিযোগ: সৌদির প্রতিষ্ঠিত ধনাঢ্য বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা এই ক্রিমিনাল চক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এর ফলে গ্রেপ্তারকৃতরা ছাড়া পান। তিনি বলেছেন, কিছু নাম তারা জেনে গেছেন, এবং অকাট্য প্রমাণ পেলে প্রকাশ করবেন। "বাংলাদেশের ভাত জীবনের মতো হারাম হয়ে যাবে" – এই সতর্কবাণী দিয়ে তিনি জাতীয় লজ্জার কথা তুলে ধরেছেন।


পিনাকী জানান, তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছেন। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু প্রভাবশালীদের হুমকিতে ভিক্টিমরা সাক্ষ্য দিতে ভয় পান। ফলে অপরাধীরা মুক্তি পান।

সরকার অবহিত কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নেই। দূতাবাসের 'প্রবাসী সহায়তা সেল' কাজ করছে না বলে অভিযোগ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও অফিসিয়াল বিবৃতি দেয়নি।b596a9

পিনাকীর ঘোষণা ও আহ্বান ভিক্টিমদের "সাক্ষ্য দিন, ভয় পাবেন না।"

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে ইলিয়াস এবং কনক সারোয়ারের সঙ্গে এপিসোড তৈরি করবেন। আরেকটি ঘটনা ঘটলে সিরিয়ালভাবে আশ্রয়দাতাদের নাম প্রকাশ করবেন।

এটি একটি জটিল সমস্যা, কারণ অদৃশ্য শক্তি (প্রভাবশালী লোকেরা) হস্তক্ষেপ করছে।

সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ (পিনাকীর পোস্টের প্রেক্ষাপটে):

নভেম্বর ২০২৫: রিয়াদে ২০ বছরের প্রবাসী মো. রাসেলকে অপহরণ। ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, পরিবার ৩৫ লাখ দেয়। চক্রের সদস্য জিয়াউর রহমান (৪২) বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হন।

মে ২০২৫: রিয়াদের সোলাই এলাকায় জয়নাল আবেদীনকে অপহরণ, ১০ লাখ দাবি। ১.৫ লাখ বিকাশে মুক্তি, কিন্তু নির্যাতিত।

সৌদিতে ৩৫ লক্ষ বাংলাদেশী শ্রমিক আছেন, যা রেমিট্যান্সের বড় অংশ। এই চক্র রেমিট্যান্স কমাতে পারে।

প্রভাব ও দাবি পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। #SaveSaudiBangladeshi, #StopKidnappingInSaudi ট্রেন্ড করছে। প্রবাসীরা ৭ দফা দাবি তুলেছেন: দূতাবাস সক্রিয় করা, যৌথ তদন্ত, ভিক্টিম সহায়তা ইত্যাদি। পিনাকীর এই পোস্ট বাংলাদেশী প্রবাসীদের নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন আন্দোলনের সূচনা করেছে।

#পিনাকী ভট্টাচার্যের

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করলেন ১,১৪,০৯৪ প্রবাসী

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করলেন ১,১৪,০৯৪ প্রবাসী

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এই নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। নিবন্ধিতদের মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৩৭ জন পুরুষ ও ১৬ হাজার ১৭জন নারী ভোটার।

দেশভিত্তিক নিবন্ধনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক ১৮ হাজার ২৫ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৯ হাজার ৩৮২ জন, কানাডায় ৮ হাজার ৫৩৭ জন, সিঙ্গাপুরে ৮ হাজার ৫২৮ জন, সৌদি আরবে ৭ হাজার ৪৯৪জন, অস্ট্রেলিয়ায় ৭ হাজার ৪৩৭ জন, জাপানে ৬ হাজার ৭৮৮ জন, যুক্তরাজ্যে ৬ হাজার ৮৯৭ জন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪ হাজার ৭২২ জন এবং ইতালিতে ৫ হাজার ১৪৪ জন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।  

বাসসের প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, কুয়েত ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন কার্যক্রম সোমবার থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। এর আগে ঠিকানা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে এসব দেশে নিবন্ধন সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। অনেকেই ইংরেজিতে পূর্ণ পোস্ট কোডসহ সঠিক ঠিকানা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যালট পেপার পৌঁছানোর ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছিল।  

ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, প্রবাসে ডাকযোগে ব্যালট পেতে অবশ্যই সঠিক ঠিকানা দিতে হবে। প্রয়োজনে বন্ধু বা আত্মীয়ের ঠিকানা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, প্রবাসীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিশ্বের সব দেশের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে কোনো সময় বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে প্রবাসীরা নিবন্ধন করতে পারবেন।  

তিনি আরো জানান, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটদানের ব্যবস্থা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা, আইনি হেফাজতে থাকা ভোটার এবং নিজ এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) চালু করা হয়েছে, যাতে প্রায় ১০ লাখ ভোটার সুবিধা পাবেন।  

গত ১৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন এবং ১৪৮টি দেশে ভোটার নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেন। নিবন্ধনের জন্য প্রবাসী ভোটারদের অবশ্যই সেই দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে, যেখান থেকে তারা ভোট দেবেন। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় নিবন্ধন করা যাবে।

সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ২১ হাজার প্রবাসী গ্রেফতার

সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ২১ হাজার প্রবাসী গ্রেফতার

 

সৌদি আরবে বসবাস, সীমান্ত ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে দেশটির প্রশাসন। এক সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানে ২১ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। এতে মোট ২১ হাজার ১৩৪ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ১৩ হাজার ১২৮ জন বসবাস আইন লঙ্ঘন, ৪ হাজার ৮২৬ জন সীমান্ত নিরাপত্তা ভঙ্গ এবং ৩ হাজার ১৮০ জন শ্রম আইন ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেফতার হন।  

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২২ হাজার ৭১ জনকে নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়েছে। ৫ হাজার ৭৮ জনকে ভ্রমণ ব্যবস্থাপনার অধীনে পাঠানো হয়েছে। এ সপ্তাহে ১১ হাজার ৬৭৪ জনকে সৌদি আরব থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।  

অভিযানে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ৬৬৭ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ ইথিওপিয়ান, ৪২ শতাংশ ইয়েমেনি এবং বাকিরা অন্যান্য দেশের নাগরিক। এছাড়া ৩১ জন সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ধরা পড়ে।  

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, অভিযানে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে যারা আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কর্মসংস্থান দিয়ে সহায়তা করছিলেন। বর্তমানে দেশটিতে মোট ৩১ হাজার ৯১ জন বিদেশির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৫৩৮ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫৫৩ জন নারী।  

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা আইন লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয়, পরিবহন বা সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং ব্যবহৃত যানবাহন বা সম্পত্তি জব্দ করা হতে পারে। 

সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অপহরণ: প্রবাসী ইলিয়াশের সাংবাদিক সম্মেলন সরকারের নজরে আসে, ৭ দফা দাবির ঘোষণা

সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অপহরণ: প্রবাসী ইলিয়াশের সাংবাদিক সম্মেলন সরকারের নজরে আসে, ৭ দফা দাবির ঘোষণা

 

File Photo


জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সৌদি প্রবাসী অধিকারকর্মী ইলিয়াশ  নেতৃত্বে এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে যে অপহরণ চক্র চলছে তার মূল পরিকল্পনাকারী, অপারেটর এবং লাভবান সবাই বাংলাদেশি। এই চক্রে নারী সদস্যরাও সক্রিয়। সম্মেলনের খবর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

চক্রের বাস্তবতা: বাংলাদেশিদেরই মূল জড়িততা

অপহরণকারী গ্যাংয়ের ৯০% এর বেশি সদস্য বাংলাদেশি প্রবাসী

তারা বাংলায় কথা বলে শিকারকে বিশ্বাস করে গাড়িতে তুলে নেয়

মুক্তিপণের টাকা ১০০% বাংলাদেশের বিকাশ-নগদ-ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসে

বাংলাদেশে বসে থাকা সহযোগীরা টাকা তুলে কমিশন ভাগ করে নেয়

চক্রে নারী সদস্যরাও আছেপ্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে

 সাম্প্রতিক ঘটনা (সবই বাংলাদেশি চক্র)

. এমডি রাসেল (রিয়াদ) – ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ, বাংলাদেশে জন গ্রেপ্তার

. আরিফ হোসেন (মানফুয়া) – ১৫ লাখ দাবি, এখনো নিখোঁজ

. হবিগঞ্জের শাকিল-কাসেদুল লাখ টাকা বিকাশে আদায়

. ফেনীর জয়নাল১০ লাখ দাবি, . লাখ পেয়ে ছেড়ে দেয়

 আজকের দফা দাবি

. সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ টাস্কফোর্স গঠন

. অপহরণকারীদের নাম-ছবি-পাসপোর্ট প্রকাশ ইকামা বাতিল

. দূতাবাসে ২৪ ঘণ্টা প্রবাসী নিরাপত্তা সেল

. বাংলাদেশে মুক্তিপণের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ গ্রেপ্তার ত্বরান্বিত

. সৌদিতেগ্যাং ঝাটাবিশেষ অভিযান

. প্রবাসীদের জন্য আলাদা হটলাইন

. নারী সদস্যসহ পুরো চক্রের তালিকা প্রকাশ 

ইলিয়াশ বলেছেন, “আমাদের ভাইয়েরাই আমাদের ভাইদের তুলে নিয়ে মারছেএটা আর চলতে দেওয়া যাবে না!” সরকারের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে সিআইডি: আরও - জনের নাম শনাক্ত, গ্রেপ্তার চলছে

দূতাবাস রিয়াদ: নতুন হটলাইন (+৯৬৬-৫৫-৩০২-৬৮১৪),(8001000124) চালু

রাতে একা বের হবেন না

অপরিচিত গাড়িতে উঠবেন না

কিছু হলে সৌদি পুলিশ ৯৯৯দূতাবাসপরিবার

মুক্তিপণ দিলে চক্র আরও বাড়বে

 

সূত্র: ,সিআইডি, বাংলা ট্রিবিউন