The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
বাকশাল’ নামে গরু জবাই করে রাবিতে জুলাই জিয়াফত

বাকশাল’ নামে গরু জবাই করে রাবিতে জুলাই জিয়াফত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘জুলাই জিয়াফত’-এর আয়োজন করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে এ আয়োজন করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, ১৫ আগস্টের আয়োজনের জন্য আনা গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখা হয়েছে। সেটি জবাই করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজনটি উদযাপন করা হবে বলেও তিনি জানান।

আয়োজনে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়। রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ টাকা। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী এতে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংসের খাবার এবং অন্যদের জন্য বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়।

তবে শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি রাকসুর উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে বলে প্রচার করা হলেও পরে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

বিষয়টি নিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হলেও রাকসুর সব সদস্য এ আয়োজনে একমত ছিলেন না। পরে একজন শিক্ষার্থী গরুটি উপহার দেন। তাই এ আয়োজনের সঙ্গে রাকসু আনুষ্ঠানিকভাবে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখার কারণ জানতে চাইলে আম্মার বলেন, ১৫ আগস্টকে তিনি ‘বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন’ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন। সেই কারণেই গরুটির এমন নাম রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ আয়োজনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য ও সমালোচনা করেছেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ।

আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি'— শেষ ভয়েস মেসেজে মোহন

আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি'— শেষ ভয়েস মেসেজে মোহন

নওগাঁ প্রতিনিধি:বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হচ্ছে, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিনও ছুটিতে আসেনি। ছাওয়ালটা বলছিল—মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করবো। আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না।’

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই ছেলেকে হারিয়ে এভাবেই আহাজারি করছিলেন নিহত সুমন ও মোহনের মা ময়না খাতুন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এর আগে রোববার দুপুর ২টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে গন্ডগোহালী গ্রামের দুই ভাই মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক নিহত হন। একই গ্রামের আরও দুজন এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহতদের মা ময়না খাতুন বলেন, ‘কালকে মেজো ব্যাটার সঙ্গে সকালে কথা কইছি। ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও, সুস্থ থাকো—এই কথা কইছিল। আগুন লাগার পর ছাওয়াল ভয়েস ম্যাসেজ দিছে। কইছে, মা, দুইডা কথা কমু, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমার দুই বাবাকে আমার বুকে অ্যানা দেও বাবা। আমার বাবাদেরকে দেখে আমি কলিজা শান্ত করমু। বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনক আমার বুকে অ্যানা দে বাবা রে।’

মোহনের বিয়ের কথা মনে করে মা বলেন, ‘মোহন বলতেছিল—এসে বিয়া করমু মা। মেয়ে-টেয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু।’

এদিকে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে আত্রাই উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫) ও হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের মোহন প্রামাণিক, সুমন প্রামাণিক, রুবেল হোসেন (৩০) ও কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের সাগর (৩১) ও মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২)।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য ও মরদেহ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ও পরিচয় নিয়ে চূড়ান্ত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ড বাছাইয়ে দুই পদেই এক ব্যক্তি, ভাই-বোনও তালিকায়

ফ্যামিলি কার্ড বাছাইয়ে দুই পদেই এক ব্যক্তি, ভাই-বোনও তালিকায়

 

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ কার্যক্রমের স্বেচ্ছাসেবক বাছাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাছাইয়ের ফলাফলে একই ব্যক্তি সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী—দুই পদেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। একই সঙ্গে একই ওয়ার্ড থেকে আপন ভাই-বোন তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

গত ৭ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাইম হোসেন স্বাক্ষরিত ফলাফলে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের হোসেন আলীর ছেলে আইয়ুব আলী সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী—দুই পদেই উত্তীর্ণ হয়েছেন।

অন্যদিকে খামারকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে রফিকুল ইসলামের দুই সন্তান মেহেদি হাসান ও রিক্তি জাহান ইতি তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর এবং মেধাক্রম প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন প্রার্থী কত নম্বর পেয়েছেন এবং কীভাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্বাচন যদি মেধার ভিত্তিতেই হয়ে থাকে, তাহলে পরীক্ষার নম্বর ও মেধাক্রম প্রকাশ করতে আপত্তি কোথায়? এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে এবং প্রকৃত মেধাবীরা বাদ পড়েছেন কি না, সেটিও স্পষ্ট হবে।

বাছাইয়ের মৌখিক পরীক্ষা নিয়েও কয়েকজন পরীক্ষার্থী প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, মৌখিক পরীক্ষায় মূলত প্রার্থীদের নাম, বাবার নাম ও রোল নম্বরের মতো পরিচয়সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়েছে। ট্যাবে তথ্য লেখার সময় প্রয়োজনীয় অক্ষর খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়লেও কেউ কেউ মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে রাফছানি মিরাজি কেয়া অভিযোগ করেন, ২১৩ জন আবেদন সিরিয়াল করলেও ফলাফলে ২১৪ নম্বর সিরিয়ালের একজন নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

একই ওয়ার্ড থেকে একই পরিবারের দুই সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ ছিল কি না—এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।

তাদের মতে, পরীক্ষার নম্বর, মেধাক্রম এবং নির্বাচন কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তি প্রকাশ করা হলে পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাইম হোসেন বলেন, ‘একই পরিবারের দুজনের মেধা থাকলে তারা উঠে আসতেই পারে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, একজন পরীক্ষার্থী দুই পদে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি যেকোনো একটি পদ বেছে নেবেন। অন্য পদটি শূন্য হলে ওয়েটিং লিস্ট থেকে প্রার্থী নেওয়া হবে।

দ্যা ফিউচার প্রেস / এস আই জুনায়েদ

বগুড়ায় এনসিপি নেতাদের ব্যানারে আগুন দিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

বগুড়ায় এনসিপি নেতাদের ব্যানারে আগুন দিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা ছাত্রদল। বিক্ষোভ শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ছবিসংবলিত একটি ব্যানার ও কুশপুত্তলিকায় আগুন দেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ থেকে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাতমাথায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা সাতমাথার সপ্তপদী মার্কেটের ওপর টানানো এনসিপির নেতাদের ছবিসংবলিত ব্যানার নামিয়ে আগুন দেন। এ সময় একটি কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।

সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান অভিযোগ করেন, এনসিপির কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি এনসিপির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান ছাত্রদলের নেতারা।

বগুড়ায় ট্রাক-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

বগুড়ায় ট্রাক-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪


বগুড়ার কাহালু উপজেলায় একটি ট্রাক ও মাছবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তিনি লুৎফর রহমান। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।

স্থানীয় সূত্র, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের তথ্যমতে, নওগাঁ থেকে মাছ বিক্রি করে একটি পিকআপ বগুড়ার দিকে ফিরছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা নওগাঁগামী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপটির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রচণ্ড আঘাতে পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই চার আরোহীর মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কাহালু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কাহালু ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. সবুজ হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হলেও অপর তিনজনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতেই ফিরে গেলেন বিএসএফের পুশইনের শিকার ৪ ভারতীয়

ভারতেই ফিরে গেলেন বিএসএফের পুশইনের শিকার ৪ ভারতীয়

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন দিয়ে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে অবশেষে নিজ দেশে ফিরে গেছেন বিএসএফের পুশইনের শিকার চার ভারতীয় । বুধবার দুপুরে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষে তারা ভারতে ফিরে যান। চার নাগরিক হলেন- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারাই থানার ধৃতরা গ্রামের বাসিন্দা দানিস শেখ, সুইটি বিবি, কুরবান শেখ ও ইমাম দেওয়ান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ জামিরুল ইসলাম।

পুশইনের শিকার ভারতীয় নাগরিকদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের জুন মাসে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে দুই শিশুসহ ছয় ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলীনগর এলাকায় আশ্রয় নিলে পুলিশ তাদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।


প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তারা। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে একই পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবি ও তার শিশুপুত্রকে ভারত বিজিবির কাছ থেকে ফেরত নিলেও বাকি চারজনকে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এরপর থেকেই চারজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিকটআত্মীয় ফারুক হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ভারতীয় নাগরিক হওয়ার যাবতীয় প্রমাণসাপেক্ষে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট ও পরে সুপ্রিম কোর্ট সোনালী বিবিদের ফেরত আনার নির্দেশ দেন। তা সত্ত্বেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তেমন উদ্যোগী হচ্ছিল না।

এ পরিস্থিতিতে দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মানবিক কারণে ৬ নাগরিককে দ্রুত ফেরত আনার নির্দেশ দেন।

দুই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তারা ভারতীয় নাগরিক প্রমাণিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয় দুই দেশে। এরপর থেকেই ভারত তাদের বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে ট্রাভেলস পাশ ইস্যু করে। সে পাশ নিয়েই তারা বুধবার দুপুরে সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে ফিরে গেলেন। ফিরে যাওয়ার সময় তারা বিএসএফের অমানবিক আচরণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের জনগণ ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন ইনচার্জ জামিরুল ইসলাম বলেন, ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে চার ভারতীয়কে ভারতে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের ২০ আগস্ট ওই ছয় ভারতীয়কে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার একটি বাড়ি থেকে সদর মডেল থানা পুলিশ আটক করে। আটকের পর দুটি শিশু ছাড়া বাকি চারজনের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে পুলিশ বাদী মামলা করা হয়।

গত ১ ডিসেম্বর আদালত ওই চারজনকে জামিন দেন। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে ৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা এলাকার বাসিন্দা সোনালী বিবির আত্মীয় ফারুক হোসেনের জিম্মায় তাদের জামিন দেওয়া হয়। এরপর থেকে জামিনদার ফারুক হোসেনের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তারা।

 সূত্র: আমার দেশ

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, ওষুধে সাড়া মিলছে

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, ওষুধে সাড়া মিলছে


 রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়া এখন স্বাভাবিকভাবে ওষুধ গ্রহণ করতে পারছেন। গত কয়েক দিনের তুলনায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং চিকিৎসার প্রতি তিনি ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন। বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড নিবিড়ভাবে তার চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে তার নিউমোনিয়া শনাক্ত হয়। এর পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিনের পুরনো শারীরিক জটিলতা যেমন কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

 সূত্র : আমার সংবাদ

মাটির ৩৫ ফুট নিচে পড়ে গেছে দুই বছরের শিশু

মাটির ৩৫ ফুট নিচে পড়ে গেছে দুই বছরের শিশু


 রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সরু একটি গর্ত দিয়ে মাটির ৩৫ ফুট গভীরে পড়ে গেছে ২ দুই বছরের এক শিশু। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে।

ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। শিশুটির নাম সাজিদ। তার বাবার নাম রাকিবুল ইসলাম। কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামেই তার বাড়ি।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামের পাশের এ জমিটির মালিক কছির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। এক বছর আগে কছির উদ্দিন তার জমিতে সেচের জন্য একটি সেমিডিপ নলকূপ বসানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ৩৫ ফুট বোরিং করার পর সেখানে পানি পাননি। তাই নলকূপ বসানো হয়নি। এক বছর ধরে ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের গর্তটি সেভাবেই পড়ে ছিল।

বুধবার দুপুরে শিশুটির মা ওই মাঠে ধানগাছের খড় নিতে যান। ওই সময় সাজিদ খেলতে গিয়ে গর্তে পড়ে মাটির ভেতরে ঢুকে যায়। স্থানীয়রা প্রথমে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে। শিশুটিকে জীবিত রাখতে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। গর্তের পাশে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি খনন করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জানান, তারা আসার আগেই স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তখন কিছু মাটি গর্তে পড়ে গেছে। তারা ক্যামেরা পাঠিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন। মানুষের কোলাহলের কারণে শিশুটির কোনো সাড়া বুঝতে পারছেন না।

তিনি জানান, শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য তারা অক্সিজেন পাঠাচ্ছেন। পাশে এক্সকেভেটর দিয়ে খনন করছেন। এতে আরও তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

সূত্র :  যুগান্তর