ফ্যামিলি কার্ড বাছাইয়ে দুই পদেই এক ব্যক্তি, ভাই-বোনও তালিকায়
গত ৭ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাইম হোসেন স্বাক্ষরিত ফলাফলে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের হোসেন আলীর ছেলে আইয়ুব আলী সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী—দুই পদেই উত্তীর্ণ হয়েছেন।
অন্যদিকে খামারকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে রফিকুল ইসলামের দুই সন্তান মেহেদি হাসান ও রিক্তি জাহান ইতি তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর এবং মেধাক্রম প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন প্রার্থী কত নম্বর পেয়েছেন এবং কীভাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্বাচন যদি মেধার ভিত্তিতেই হয়ে থাকে, তাহলে পরীক্ষার নম্বর ও মেধাক্রম প্রকাশ করতে আপত্তি কোথায়? এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে এবং প্রকৃত মেধাবীরা বাদ পড়েছেন কি না, সেটিও স্পষ্ট হবে।
বাছাইয়ের মৌখিক পরীক্ষা নিয়েও কয়েকজন পরীক্ষার্থী প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, মৌখিক পরীক্ষায় মূলত প্রার্থীদের নাম, বাবার নাম ও রোল নম্বরের মতো পরিচয়সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়েছে। ট্যাবে তথ্য লেখার সময় প্রয়োজনীয় অক্ষর খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়লেও কেউ কেউ মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে রাফছানি মিরাজি কেয়া অভিযোগ করেন, ২১৩ জন আবেদন সিরিয়াল করলেও ফলাফলে ২১৪ নম্বর সিরিয়ালের একজন নির্বাচিত হয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
একই ওয়ার্ড থেকে একই পরিবারের দুই সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ ছিল কি না—এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।
তাদের মতে, পরীক্ষার নম্বর, মেধাক্রম এবং নির্বাচন কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তি প্রকাশ করা হলে পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাইম হোসেন বলেন, ‘একই পরিবারের দুজনের মেধা থাকলে তারা উঠে আসতেই পারে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, একজন পরীক্ষার্থী দুই পদে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি যেকোনো একটি পদ বেছে নেবেন। অন্য পদটি শূন্য হলে ওয়েটিং লিস্ট থেকে প্রার্থী নেওয়া হবে।