The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
ছাত্রদের সঙ্গে নামছে জনতা

ছাত্রদের সঙ্গে নামছে জনতা

 


দেশব্যাপী চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছাত্র আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে এরই মধ্যে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। এর ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়েছে অভিভাবক, গৃহিণীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের মধ্যে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরাও। বিভিন্ন স্লোগানে গলা মিলিয়েছে সর্বস্তরের জনতা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের গতকাল প্রথম দিনে রাজধানী ঢাকা পরিণত হয় বিক্ষোভের নগরীতে।

এদিকে অসহযোগ কর্মসূচির কারণে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে সারা দেশ। গতকাল দিনভর আন্তজেলা পর্যায়ে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সারা দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যেই আজ ঢাকামুখী লং মার্চ নামে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে সরকার ঘোষিত কারফিউ।   
লাশ নিয়ে মিছিল-স্লোগান : চলমান আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় লাশ নিয়ে মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ আন্দোলন ঘিরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়েছে। বেড়েই চলছে নিহতের সংখ্যা। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আন্দোলনে নিহত চারজনের লাশ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। সেখান থেকে একজনের লাশ নিয়ে শাহবাগে মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। সন্ধ্যা ৬টায় কারফিউ জারির পর শাহবাগে ভিড় কমতে থাকে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় শাহবাগ মোড়ে কয়েক শ আন্দোলনকারী অবস্থান করছিলেন। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেটও ছোড়া হয়। পরে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এদিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এক নিহতের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার ধারাবহরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গুলিবিদ্ধ হন দুজন। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানান, দুপুরে গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে ছাত্র-জনতা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাদের সরিয়ে দিতে যায় পুলিশ, সেখানে বিজিবিও উপস্থিত ছিল। পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে ছাত্র-জনতার তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবি পিছু হটতে বাধ্য হয়।

রাজধানীজুড়ে গত কয়েকদিনের বিক্ষোভ সমাবেশে রোজগারের কথা চিন্তা না করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্লোগানে গলা মেলাতে দেখা গেছে রিকশাচালকদেরও। ঘরকন্না ছেড়ে রাজপথের মিছিলে শামিল হয়েছেন সাধারণ গৃহিণীরাও। ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর দেশের সাধারণ মানুষকে এভাবে কোনো আন্দোলনে শামিল হতে দেখা যায়। আন্দোলনে চলমান সহিংসতা উপেক্ষা করে গণমানুষের এই সম্পৃক্ততা দেখা যাচ্ছে মহানগরীর পাড়া-মহল্লায়ও।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অল্প কয়েকজন অভিভাবককে দেখা গেলেও আন্দোলন যত গড়িয়েছে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অভিভাবকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। কেউ কেউ শুরুতে সন্তানের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আন্দোলন স্থলে এলেও এখন তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাবি আদায়ে নিজ সন্তানের সঙ্গেই স্লোগানে গলা মেলাচ্ছেন। গত শুক্রবার বিকালে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এই আবাসিক এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদেরও তাদের সন্তানসহ রাস্তায় নেমে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল করতে দেখা যায়। এই মিছিলে আরও ছিলেন এলাকার বয়স্ক নারী-পুরুষ।

গতকাল দুপুরে মিরপুর ইসিবি চত্বরে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনে অভিভাবকদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। বেশ কয়েকজন মাকে তার সন্তানদের নিয়ে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হতে দেখা যায়। তারা প্রধান সড়কের পাশেই পানি ও শুকনা খাবার হাতে গলির মুখে বসেছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীর মা সাহিনা আক্তার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমার কলেজপড়ুয়া মেয়ে তার সহপাঠীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের প্রতিবাদে আন্দোলন করছে। মা হিসেবে আমি প্রথমে ওর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ওপর যেভাবে নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে, তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, একজন অভিভাবক হিসেবে এটি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আন্দোলনে যে শিক্ষার্থীদের মৃত্যু হয়েছে তারা আমারই মেয়ের বয়সী, আমার সন্তানের মতো। নৈতিকভাবে আমিও এখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করছি।’

গতকাল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকদেরও ‘জাস্টিস, জাস্টিস উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে গলা মেলাতে দেখা যায়। শাহবাগ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকদেরও একাত্মতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর, প্রগতি সরণি, বনশ্রীসহ আরও বেশ কিছু এলাকায় অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের নিয়ে আন্দোলনে যোগ দিতে দেখা যায়।

সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এ ছাড়া রাজধানীর ফার্মগেটে দেশের চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, থিয়েটারসহ দৃশ্য মাধ্যমের কর্মীরা এরই মধ্যে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে পয়লা আগস্ট সমবেত হন। বাদ যাননি সংগীতশিল্পীরাও। ‘গেট আপ স্ট্যান্ড আপ’ শিরোনামে ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে সমবেত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারাও সংহতি প্রকাশ করেন। এরই মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সারা দেশে নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন সাংবাদিকরা। আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষও।

ঢাকামুখী নতুন কর্মসূচি আজ : অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্দোলনরত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ সোমবার ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে সরকার ঘোষিত কারফিউ। গতকাল এক বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের পক্ষে এ ঘোষণা দেন অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। অন্যান্য সমন্বয়কও একযোগে এ কর্মসূচির লিখিত ও ভিডিও বার্তা প্রচার করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি গভীর সংকটময় মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমাদের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি মঙ্গলবারের পরিবর্তে আজ সোমবার পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

পূর্বঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল প্রথম দিনে সকাল থেকেই রাজপথে নামতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অংশ নেন শিক্ষক-অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে দুপুরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের একটি অংশের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে মৃত্যুর খবরের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ঘোষণা করে সরকার। এ কারফিউ প্রত্যাখ্যান করে  এই ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি ঘোষণা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতাকে খুন করা হয়েছে। চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার সময় এসে গেছে। ইতিহাসের অংশ হতে সবাই ঢাকায় আসুন। আশপাশের জেলাগুলো থেকে সবাই আজ ঢাকায় আসবেন। আর যাদের সুযোগ রয়েছে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে যান। ঢাকায় এসে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা রাজপথগুলোতে অবস্থান নিন। চারদিক থেকে আমরা গণভবনের দিকে রওনা হব। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের গুন্ডারা পুলিশের অস্ত্র দিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করেছে। কিন্তু ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে তারা টিকে থাকতে পারেনি। রাজপথের পরাজিত শক্তি হিসেবে তারা বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এই ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করতে হবে। এই সমন্বয়ক বলেন, আনন্দের বিষয় হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনী ছাত্র-জনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। আবার মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনী ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, আপনারা এই দেশের নাগরিক। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। আপনারা দেশের পক্ষে ও দেশের জনগণের জন্য কাজ করবেন। কোনো খুনি রাজনৈতিক দলের জন্য কাজ করবেন না। এটিই দেশের জনগণ আপনাদের কাছে প্রত্যাশা করে।

 

বিডি প্রতিদিন

ছাত্র আন্দোলনের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ এক দিন এগিয়ে সোমবার

ছাত্র আন্দোলনের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ এক দিন এগিয়ে সোমবার

 


সরকারের পদত্যাগের এক দাবিতে চলমান অসহযোগ আন্দোলন সফল করতে ঘোষণা করা দুই দিনের নতুন কর্মসূচিতে একটু পরিবর্তন এনেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী- সোমবার (৫ আগস্ট) নারী ও শ্রমিক সমাবেশ এবং মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল শিক্ষার্থীদের। তবে লং মার্চ টু ঢাকা মঙ্গলবারের (৬ আগস্ট) পরিবর্তে সোমবার (৫ আগস্ট) করা হয়েছে।আজ রোববার বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক জরুরি সিদ্ধান্তে আমাদের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্ট থেকে পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট করা হলো। অর্থাৎ আগামীকালই সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আজ প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতার প্রাণহানি হয়েছে। চূড়ান্ত জবাব দেয়ার সময় এসে গেছে। বিশেষ করে আশপাশের জেলাগুলো থেকে সবাই ঢাকায় আসবেন এবং যারা পারবেন আজই ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে যান। ঢাকায় এসে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা রাজপথগুলোতে অবস্থান নিন।’

আসিফ মাহমুদ আরো বলেন, ‘চূড়ান্ত লড়াই, এই ছাত্র নাগরিক অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত স্বাক্ষর রাখার সময় এসে গেছে। ইতিহাসের অংশ হতে সকলে ঢাকায় আসুন। যে যেভাবে পারেন কালকের মধ্যে ঢাকায় চলে আসুন। ছাত্র-জনতা এক নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটাব।’

এর আগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান অসহযোগ আন্দোলন সফল করার লক্ষ্যে সোমবার সারাদেশে শহীদদের স্মরণে শহীদ হওয়ার স্থানসমূহে শহীদ স্মৃতিফলক উন্মোচন করা হবে। এদিন বেলা ১১টায় শাহবাগে শ্রমিক সমাবেশ এবং বিকেল ৫টায় শাহবাগে নারী সমাবেশ হবে। এছাড়া সারাদেশে বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান কর্মসূচি করবেন শিক্ষার্থীরা।

এতে আরো বলা হয়, এ কর্মসূচি অনুযায়ী সারাদেশের ছাত্র, নাগরিক, শ্রমিকসহ সব পেশাজীবীদের ঢাকায় আসার আহ্বান জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই দিন দুপুর ২টায় শাহবাগে গণজমায়েত কর্মসূচি করবেন তারা।

এছাড়া সব পাড়া-মহল্লা, গ্রাম, উপজেলা, জেলায় ছাত্রদের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

চলমান এ কর্মসূচির মধ্যে যদি ইন্টারনেট শাটডাউন করে ক্র্যাকডাউন চালানো হয়, তবুও নতুন কমিটি করে সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য: সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম

বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য: সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম



 বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশে একটা গৃহযুদ্ধ তৈরি করতে চায়। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও গন্তব্য পরিষ্কার। বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আমরা এখনো সময় দিচ্ছি। সরকার যদি এখনো সহিংসতা চালিয়ে যায়, আমরা কিন্তু গণভবনের দিকে তাকিয়ে আছি। শেখ হাসিনাকে ঠিক করতে হবে, এখনো সহিংসতা চালাবেন, রক্তপাত চালাবেন, নাকি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে পদত্যাগ করবেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে আজ রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ মোড়সহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। বিকাল ৩টার দিকে শাহবাগে বিক্ষোভে যোগ দিয়ে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দেশকে একটা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র-জনতা যেকোনো মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত। আজকে লাঠি তুলে নিয়েছি। যদি লাঠিতে কাজ না হয়, আমরা অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত। আপনারা প্রতিরোধ করুন, রুখে দাঁড়ান, সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশছাড়া করতে হবে।

‘আমাদের এক দফা দাবি ঘোষণা হয়ে গেছে। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণা বাকি। আমাদের যদি গুম–খুন করা হয়, গ্রেফতার করা হয়, যদি ঘোষণা দেওয়ার মতো কেউ না থাকে, আপনারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন, আর যদি আমার ভাইদের বুকে গুলি করা হয়, আমার বোনদের কেউ আহত হয়, আমরা বসে থাকব না। পাড়ায়–পাড়ায়, গ্রামে–গ্রামে, মহল্লায়–মহল্লায়, অলিতে–গলিতে প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি গঠন করুন। যেখানেই হামলা হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। আমরা এই সরকারকে মানি না। এখন থেকে দেশের নেতৃত্ব দেবে ছাত্র-জনতা। ছাত্র-জনতার ঘোষণা চূড়ান্ত ঘোষণা।

সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে উল্লেখ করে এই সমন্বয়ক আরও বলেন, আমরা এই খুনি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিচার নিশ্চিত করব এই বাংলার মাটিতে। আবার মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র এবার কোনো কাজে লাগবে না। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও আমরা রাজপথে থাকব।’

প্রসঙ্গত, সরকারের পদত্যাগের এক দাবিতে আজ সোমবার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।


আগামীকাল সকাল ৯ টার মধ্যে রাস্তা দখলে নিতে হবে (Asif Mahmud) বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন

আগামীকাল সকাল ৯ টার মধ্যে রাস্তা দখলে নিতে হবে (Asif Mahmud) বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন

 


আগামীকাল সকাল ৯ টার মধ্যে রাস্তা দখলে নিতে হবে।  তাহলে ঢাকার বাইরের সকল জনতার জন্য এসেই যোগ দিতে সুবিধা হবে। অন্যথায় ঢাকার বাইরের জনতা হুট করে খালি ময়দানে এসে বিপদে পড়তে পারে।  


ভাইয়েরা আজকের মতো ঘুমিয়ে পড়তে অনুরোধ করবো।  রেস্টের দরকার আছে। আমরা জানিনা আগামীকালের পর আমরা ঘুমাতে পারবো কিনা , কিংবা আদৌ চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ি কিনা।  


সবাই একে অপরকে ক্ষমা করে দিয়েন। কখনো আপনাদের  মনে আঘাত দিয়ে থাকলে আমাদের পুশাব টিমকেও ক্ষমা করুন।  শহীদের মিছিলে হয়তো দেখা হলে পরিচয় দিবো।  বেঁচে থাকলে আজীবন যেন নিঃস্বার্থে ন্যায়ের জন্য লড়ে যেতে পারি সেই পার্থনাটুকু চাই  । 


Asif Mahmud

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন

—Team PUSAB

সারা দেশের আপডেট নিউজ

সারা দেশের আপডেট নিউজ

 





আপডেট:


- ঢাকার শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব দখলে নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ধীরে ধীরে অন্য জায়গায় জড়ো হচ্ছেন তারা। 


- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের অবস্থান।


- ঢাকায় আজ পুলিশের উপস্থিতি কম, দিন বাড়তে থাকলে টোকাইলীগের আক্রমনের আশংকা : তবে মঞ্চ থেকে শক্ত প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে শিক্ষার্থী জনতা।


- কুমিল্লায় শিক্ষার্থী-জনতার বড় শোডাউন


- মুসিগঞ্জে  শিক্ষার্থী জনতার উপর  হামলা ব্যাপক সংঘর্ষ, আহত অনেকে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ শুরু

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ শুরু

   


এক দফা দাবিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে শুরু হয়েছে অসহযোগ কর্মসূচি। কর্মসূচি সফল করতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। সকাল থেকেই উত্তপ্ত ছিল রাজধানীর এলাকাগুলো। রোববার (৪ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয় কাটাবন এলাকায়। যেখানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় আন্দোলনকারীরা। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। কাটাবন থেকে সংঘর্ষ ছড়িয়েছে রাজধানীর শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব ও বাটার সিগন্যাল এলাকায়। 

একই সময় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বিস্তারিত আসছে... 

 জরুরি অবস্থা ও সরকারের সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম

জরুরি অবস্থা ও সরকারের সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম

 



জরুরি অবস্থা ও সরকারের সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে—

১৯শে জুলাই আমরা কারফিউ ভঙ্গ করে শাটডাউন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমাদের সে বক্তব্য কোনো মিডিয়ায় প্রচার করতে দেওয়া হয় নাই। সে রাতে আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মম অত্যাচার করা হয় এ ঘোষণার জন্য এবং আন্দোলন প্রত্যাহার ও সরকারের সাথে আলোচনায় বসার জন্য জবরদস্তি করা হয়।
ছাত্রজনতা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিল৷ সরকার দমন-পীড়ন করে সেটিকে সংঘাত ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধ করে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এবার এরকম পরিস্থিতি হলে কারো জন্যই পরিণতি ভালো হবে না।
পরবর্তীতে ডিবি অফিস থেকেও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমাদের অনশন ও রাজপথে আন্দোলনের কারণে সে পরিকল্পনা সফল হয়নি।
আমরা এখনো শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখতে চাই। আমরা কোনো সহিংসতা, প্রতিহিংসা ও প্রাণনাশ চাই না৷ নিরাপত্তা বাহিনীকেও এরজন্য সহযোগিতা করতে হবে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের রাজপথে দেখা গেলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এর দায়ভার নিতে হবে।
তবে রক্ত ঝড়লে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। আমরা ন্যায়বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। কোনো ধরনের দমন-পীড়ন, প্রোপাগাণ্ডা ও ষড়যন্ত্র করে এ আন্দোলন থামানো যাবে না।
জরুরি অবস্থা বা কারফিউ ছাত্র-নাগরিক মেনে নিবে না। শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি চাইলে গুলি ও হামলা করার নির্দেশ বন্ধ করতে হবে। অসহযোগ আন্দোলনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে হবে।
খুনি সরকারের কাছে বিচার চাওয়া বা সংলাপে বসারও সুযোগ আর নেই। ক্ষমা চাওয়ার সময়ও পার হয়ে গেছে। যখন সময় ছিল তখন সরকার ব্লক রেইড দিয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করেছে, নির্যাতন করেছে। আখতার হোসেন, আরিফ সোহেলসহ রাজবন্দীদের কারাগারে রেখে আমরা কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবো না।



নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান থাকবে খুনি সরকারকে সমর্থন না দিয়ে ছাত্র-নাগরিকের পাশে থাকুন। সরকার জনগণের বিপক্ষে দাঁড়ালে সেই সরকারের হুকুম শুনতে আপনারা আর বাধ্য নন। ছাত্রদের সাথে মিছিলে যোগ দিন। আমরা পুলিশ নয়, হুকুমের আসামীকে কাঠগড়ায় দাঁড়া করাতে চাই। নিরাপত্তা বাহিনীকে মিছিলে যোগদানের আহ্বান থাকবে।
সবাই শান্তিপূর্ণভাবে আজকের বিক্ষোভ ও আগামীকাল থেকে অসহযোগ কর্মসূচী সফল করুন।
"বাংলাদেশের জনগণ,
নেমে আসুন, নেমে পড়ুন"
"বাংলাদেশের অভিভাবক,
নেমে আসুন, নেমে পড়ুন"
"বাংলাদেশের শিক্ষকেরা,
নেমে আসুন, নেমে পড়ুন"
"বাংলাদেশের শ্রমিকেরা
নেমে আসুন, নেমে পড়ুন"
মো. নাহিদ ইসলাম,
সমন্বয়ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
See translation
All reactions:
29K

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থী-জনতার ঢল

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থী-জনতার ঢল




গণগ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করা, হত্যাকাণ্ডের বিচার, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়াসহ ৯ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে আজও বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এতে ছাত্র-জনতার ঢল নেমেছে।

শনিবার (৩ আগস্ট) বিকেল তিনটা থেকে নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় কোতোয়ালী লালদীঘি স্টেশন রোডসহ আশপাশের সব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে যোগ দেন। দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত রাজপথে অবস্থানের ঘোষণা দেন তারা। অনেক শিক্ষক এবং অভিভাবকরাও তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। সমাবেশস্থলের কিছুটা দূরে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী।

এদিকে, কক্সবাজারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে ছাত্ররা। বিকেল তিনটা থেকে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল মোড়ে একপাশের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়। এ সময় ছাত্রদের পাশাপাশি অনেক অভিভাবকরাও যোগ দেন। বিক্ষোভকে ঘিরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সারা দেশে চলমান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ক্যাম্পাসের সামনে রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে তারা। পরে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সেইসাথে হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানায় আন্দোলনকারীরা। আটক করা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিও জানান তারা। 

শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা

শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা



 সরকার পদত্যাগের একদফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা। শনিবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন তারা।

এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা। অপরদিকে, আন্দোলকারীদের একটি অংশ এখনও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রয়েছেন।


প্রসঙ্গত, এর আগে শনিবার সরকার পদত্যাগের একদফা দাবি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে একদফা দাবির ঘোষণা দেন সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম। আগামীকাল রোববার (৪ আগস্ট) থেকে সারাদেশে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন শুরু হবে বলেও সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়। যদিও গতকাল শুক্রবারই দাবি আদায়ে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি দেয়ার কথা জানানো হয়।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে গত ১৬ জুলাই থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার কারফিউ জারি করে। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে কারফিউ শিথিল করা হয়। এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ১৫০ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে সরকার। যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলছে, এ সংখ্যা দুই শতাধিক।

শহীদ মিনার থেকে এক দফা ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

শহীদ মিনার থেকে এক দফা ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

 



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

আজ শনিবার বিকালে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র-জনতার সমাবেশে এই দাবির ঘোষণা দেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‌‘আমরা আর তাদের কাছে কী বিচার চাইব? তারাই তো খুনি। আমাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আপনাদের আন্দোলনের কারণে আমরা ছাড়া পেয়েছি। আজকেও গুলি চলেছে। এই পরিস্থিতিতে এক দফা ঘোষণা করছি। শেখ হাসিনা বলেছেন, আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। তিনি আগেই বুঝেছেন, দরজা রাখার সময় হয়েছে। আমরা আসছি। এই যে খুন-হত্যা হয়েছে, এজন্য তাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। শুধু শেখ হাসিনা নন, সব মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এক দফা হলো শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং এই সরকারের লুটপাট-দুর্নীতির বিচার। আমরা জেলের তালা ভেঙে আমাদের ভাইদের আনব। যে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে এতে সব জনতা যোগ দিন। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিত মোর্চা গঠন করব। আমরা আমাদের দেশের রূপরেখা ঘোষণা করব। আগামীকাল থেকে সর্বত্র অসহযোগ আন্দোলন হবে।’

এই সমন্বয়ক বলেন, ‘যদি ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ জারি হয় আমরা মেনে নেব না। এখন ছাত্র-জনতার এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে অসহযোগ আন্দোলন পালন করবেন। সরকার যদি জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, এটা জনগণ মানবে না। আপনারা যদি অস্ত্র চালান তাহলে প্রতিরোধ হবে। আমরা সব গণহত্যার বিচার করব বাংলার মাটিতে।’

বাংলাদেশের জনগণ অসহযোগের নেতৃত্ব দেবে জানিয়ে তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ছাত্রদের ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলন সফল করার আহ্বান জানান।

এর আগে দুপুর দেড়টা থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ মিনারে জড়ো হতে শুরু করেন। ক্ষণে ক্ষণে বাড়তে থাকে সেই জনস্রোত। এক পর্যায়ে শহীদ মিনার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

দেশ সবচেয়ে নিরাপদ দেশের জনগনের হাতেই  প্রধান সমন্বয় আসিফ মাহমুদ

দেশ সবচেয়ে নিরাপদ দেশের জনগনের হাতেই প্রধান সমন্বয় আসিফ মাহমুদ

 



দেশ সবচেয়ে নিরাপদ দেশের জনগনের হাতেই। জনগন রাজপথের দখল নিয়েছে। 

জরুরি অবস্থার নামে দমন-পীড়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। আজ এবং এখন থেকে রাজপথ ছাত্র-জনতার দখলে থাকবে। 


সেনাবাহিনী সহ সকল বাহিনীর প্রতি আহ্বান থাকবে জনগনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ক্যান্টনমেন্ট, ব্যারাক থেকে বের হতে পারেন বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য নয়। 

এদেশের জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের শপথ নিয়ে যে দায়িত্ব নিয়েছেন তা সঠিক ভাবে পালন করুন। মনে রাখবেন, আপনারা কোন খুনি রাজনৈতিক দলের নিরাপত্তার জন্য নয় বরং দেশের জনগনের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। 


শান্তিপূর্ণ ভাবে ছাত্র-নাগরিকের অভ্যুত্থান সফলে আপামর জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আজকের বিক্ষোভ মিছিল ও আগামীকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অসহযোগ আন্দোলন সফল করুন।

প্রধান সমন্বয় আসিফ মাহমুদ

অফিশিয়ালি এইবার এক দফার ডাক দিছে ছাত্র জনতার

অফিশিয়ালি এইবার এক দফার ডাক দিছে ছাত্র জনতার




★ এক দফা: খুনের দায়ে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ। ★ ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করা হবে যেখানে সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে৷ এমন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করা হবে যাতে বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে। ★ অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন। ★ পাশাপাশি আগামীকাল সকল জেলা, উপজেলা, পাড়ায়, মহল্লায় বিক্ষোভ ও গণঅবস্থান কর্মসূচী। ★ সকল খুনের বিচার এবং সকল রাজবন্দীকে মুক্ত করা হবে। ★ সকল ক্যাম্পাস ও হল খুলে দেওয়ার জন্য ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম। আগামীকালের মধ্যে হল খোলা না হলে শিক্ষার্থীরা নিজ দায়িত্ব হল খুলে প্রবেশ করবে। ★ সর্বস্তরের নাগরিক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে শীঘ্রই ক্ষমতা হস্তান্তরের জাতীয় রুপরেখা হাজির করা হবে। ★ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের নাগরিকদের নিয়ে জাতীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হবে।

নাহিদ ইসলাম


"শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ ও ফ্যাসিবাদের বিলোপ" বাংলার ছাত্র-জনতার একদফা ঘোষণা হয়ে গেছে। অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র-নাগরিকের গণঅভ্যুত্থান বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিককে নিতে হবে। আপনারা প্রস্তুত তো?

Asif Mahmud


হবিগঞ্জ গণমিছিলে পুলিশ-আওয়ামী লীগের হামলা, একজন নিহত

হবিগঞ্জ গণমিছিলে পুলিশ-আওয়ামী লীগের হামলা, একজন নিহত

 


হবিগঞ্জ শিক্ষার্থী-জনতার গণমিছিলে পুলিশ-আওয়ামী লীগের হামলা হয়েছে। এ সময় একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ওই ব্যক্তির নাম মোস্তাক মিয়া (২৪)। তিনি পেশায় শ্রমিক বলে জানা গেছে। আজ শুক্রবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে এ ঘটনা ঘটে।

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মঈন উদ্দীন চৌধুরী বলেন, মোস্তাকের হাতে বড় ধরনের আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। হাতের আঘাত গুলি কি না, পরে জানানো যাবে।

মোস্তাকের সহকর্মী মারুফ হোসেন আলোকে বলেন, মোস্তাক এখানে জুতা কিনতে বাজারে গিয়েছিলেন। এসে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

'শহীদ মিনার থেকেই মুক্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক

'শহীদ মিনার থেকেই মুক্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক

 



আন্দোলনরত সবাইকে শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।


শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা ২৬ মিনিটে এক ফেসবুকে স্ট্যাটাসে এ আহ্বান জানান তিনি।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'শনিবার ৩ আগস্ট বিকেল ৩টায় আশেপাশের সব আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে জড়ো হবেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা আগামীকালকের বিক্ষোভ মিছিলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে উপস্থিত থাকব।'

'আগামীকাল (আজ শনিবার) এই জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কর্মসূচি সফলে দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। মুক্তির বার্তা শহীদ মিনার থেকেই ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে।'
আসিফ মাহমুদের স্ট্যাটাস



এদিকে সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করে হত্যার প্রতিবাদ ও ৯ দফা দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ মিছিল ও রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের 'সর্বাত্মক অসহযোগ' আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। শুক্রবার রাত ৮টায় ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ ও সহ-সমন্বয়ক রিফাত রশিদ।

সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে সারা দেশের মানুষকে অলি-গলি ও পাড়ায়-পাড়ায় সংগঠিত হয়ে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুলাই থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটতে থাকে। এসব ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ১৫০ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংখ্যা দুই শতাধিক বলে দাবি করা হচ্ছে।
৬৯ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জামিন, তবে মামলা রয়েছে

৬৯ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জামিন, তবে মামলা রয়েছে

 


কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাতের ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন অন্তত ৭ এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তবে গতকাল শুক্রবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সাতক্ষীরায় ৬৯ পরীক্ষার্থীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। জামিন হলেও মামলা থেকে অব্যাহতি পাননি এসব শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের আইনজীবী ও অভিভাবকেরা দ্রুত সম্ভব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, মামলা মাথায় নিয়ে পরীক্ষায় বসা তাদের জন্য কঠিন হবে। পরীক্ষার আগে তারা এই চাপ নিতে পারবে না।

৭ এইচএসসি পরীক্ষার্থী কারাগারে

গত ১৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে পুলিশ রাজধানীর ডেমরার ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের দুজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের গত জানুয়ারিতে ফতুল্লা মডেল থানার নাশকতা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে করা দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁদের একজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়ায়, অপরজন সিদ্ধিরগঞ্জের সাহেবপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মামুনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ওই দুই পরীক্ষার্থী কারাগার থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন।

সিলেটে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ১৮ জুলাই দুজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তাঁরা বর্তমানে কারাগারে আছেন।

১৮ জুলাই মাগুরার ভায়না এলাকা থেকে মাগুরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানায়, ১৮ জুলাই মাগুরা-যশোর মহাসড়কে মৎস্য ভবনের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সেদিন রাতে মাগুরা সদর থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল হালদার মামলা করেন। এতে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়। ওই মামলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ পাঁচ শিক্ষার্থীকে কারাগারে পাঠান আদালত।

২৬ জুলাই বাবার কবর জিয়ারত করতে যাওয়ার সময় রাজশাহী আদর্শ ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে গত শনিবার নগরের মতিহার থানার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেদিন থেকেই তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার পরিদর্শক মো. সাহাবুল ইসলাম ওই শিক্ষার্থীর কারাগারে থাকার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

লালমনিরহাট শহরের মিশন মোড় এলাকায় ১৯ জুলাই বিকেলে বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে সদর থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন লালমনিরহাটের আদিতমারীর সাকোয়ার মঞ্জিল টেকনিক্যাল কলেজের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে। ১৯ জুলাই রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি লালমনিরহাট জেলা কারাগারে আছেন।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সাতক্ষীরায় ৬৯ পরীক্ষার্থীর জামিন

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘাতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪১ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে গতকাল জামিন দিয়েছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রশিদুল আলম। সিএমএম আদালতের বেঞ্চ সহকারী তানভীর রেজা প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জামিন পাওয়া শিক্ষার্থীদের আইনজীবী সাইদুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন থানায় করা অন্তত ৩৩টি মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়ে ৪১ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থী কারাগারে আছেন। তাঁদের জামিন চেয়ে তিনি আদালতে আবেদন করেন। পরে আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এ ছাড়া ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, কেরানীগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় দায়ের করা চারটি মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর জামিন দিয়েছেন আদালত।

চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষ, নিহতের ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার ১৬ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জামিন হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রাম আদালতে তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন রাত আটটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, কারাগারে ১৬ এইচএসসি পরীক্ষার্থী রয়েছেন। গতকাল তাঁদের জামিন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

সাতক্ষীরায় গ্রেপ্তার হওয়া ছয় এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দায়িত্বে থাকা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাউদ্দিন তাঁদের জামিন দেন। সাতক্ষীরা সদর থানায় জোর করে ঢোকার চেষ্টা, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৮ জুলাই ওই ৬ জনসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার দাবির আন্দোলন ঘিরে যেসব এইচএসসি পরীক্ষার্থী আটক হয়েছেন, তাঁদের জামিনের বিষয়ে আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আটকের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য একটি ই-মেইল খোলা হয়েছে। এ বিষয়ে helphsc24@gmail.com ঠিকানায় মামলার নম্বর, আটক পরীক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের অনুলিপি এবং ঠিকানা দেওয়ার অনুরোধ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যদি কেউ চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী থাকেন, তাঁরা পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রাদিসহ জামিন আবেদন করলে তাঁদের জামিনে মুক্তিতে সরকার আইনি সহায়তা দেবে। আটককৃত যেসব ছাত্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নেই, তাঁদের জামিনের ক্ষেত্রেও সরকার আইনি সহায়তা দেবে।