The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির ঘোষণা

বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির ঘোষণা

 

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে আগামীকাল বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর উত্তরা বিএনএস সেন্টার এলাকায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগের জন্য আজ রাত পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পদত্যাগ না করলে বুধবার ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচি ঘোষণার পর তারা উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সড়ক ছেড়ে চলে যান।

এদিকে একই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। ক্যাম্পাস এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান করছিলেন। একই এলাকায় পুলিশ সদস্যদেরও অবস্থান করতে দেখা যায়। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে সেখানে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিও রয়েছে।

এর আগে সোমবার টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা ওই কর্মসূচির পর তারা টিএসসি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান।

পরে বেলা সোয়া ১টার দিকে ভিসি চত্বরের সামনে পুলিশ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। এরপর আন্দোলনকারীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন।

সূত্র : আমার সংবাদ

ভাঙচুরের পর ধানমণ্ডি ৩২-এ আগুন দিল ছাত্র-জনতা

ভাঙচুরের পর ধানমণ্ডি ৩২-এ আগুন দিল ছাত্র-জনতা

 


ভাঙচুরের পর রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

‘লং মার্চ টু ধানমণ্ডি-৩২’ নিয়ে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে উপস্থিতি হয় ছাত্র-জনতা। এরপর তারা শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ির গেট ভেঙে ভেতর ঢুকে পড়ে ও ভাঙচুর চালায়। পরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। জ্বলছে আগুন। এ সময় মুহুমুর্হু স্লোগান দিচ্ছিলেন অনেকে। শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালসহ পুরো বিল্ডিংয়ের অবকাঠামোই ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

যদিও গত ৫ আগস্ট এক দফা ৩২ নম্বরের এই বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল।

এ সময় কথা হয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা বলেন, এই বাড়ি থেকে ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি শুরু হয়েছে। তাই দেশের মাটি থেকে এই বাড়ি মুছে ফেলতে চায় দেশের জনগণ।

বিশেষ করে গত ১৬ বছর শেখ হাসিনা সরকার দেশের মানুষের রক্ত চুষে আবার দেশের মানুষকে মারার পরিকল্পনা করছে। 

ইসমাইল হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, শেখ হাসিনা জুলাই আন্দোলনে দেশের মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। এই খুনি হাসিনা আবারও ষড়যন্ত্র করার পরিকল্পনা করছে। তা ছাড়া আজকে স্বৈরাচার সরকার পতনের অর্ধবছর পূর্ণ হয়েছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে বলা হয়, “ধানমণ্ডি ৩২ অভিমুখে ‘লং মার্চ টু ধানমণ্ডি ৩২’ বুলডোজার মিছিল।

হাজারো ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালিয়ে দিল্লি পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকেই খুনি হাসিনার বাংলাদেশবিরোধী অপতৎপরতার প্রতিবাদে ২৪-এর বিপ্লবী ছাত্র-জনতার উদ্যোগে আজ রাত ৯টায় এ কর্মসূচি পালিত হবে।”

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার

 


সুপ্রভাত ডেস্ক »

বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রতিশ্রুতি সাত দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে আবারও রাজপথে নামবেন তারা।

সোমবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুরুজ্জামান, সরকারি তিতুমীর কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক শিপ্রা রাণী মণ্ডলের উপস্থিতিতে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ৭ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তীতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিতুমীর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর আন্দোলনের ১২ শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কলেজের অধ্যক্ষসহ তিন অধ্যাপক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব এবং গুলশান জোনের উপপুলিশ কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

আগামী সাত দিনের মধ্যে ‘তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয়’ ইস্যুতে সরকার পদক্ষেপ নেবে, এমন আশ্বাসে আমরণ অনশনও ভেঙেছেন শিক্ষার্থীরা। রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. নুরুজ্জামান এবং তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শিপ্রা রানী মণ্ডলের উপস্থিতিতে তারা অনশন ভাঙেন। এ সময় অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের প্যাকেটজাত আমের জুস খাওয়ান অধ্যক্ষ।

তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে বেশ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে মিছিল, সড়ক-রেলপথ অবরোধ, স্মারকলিপি প্রদান, ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি এ বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সাড়া না পেয়ে গত বুধবার থেকে দাবি আদায়ে আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা টানা ষষ্ঠ দিনের মতো সোমবারও রাজপথে সরব ছিলেন। ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’র অংশ হিসেবে মহাখালীর রেললাইন অবরোধ করেন। বিকেলে শতাধিক শিক্ষার্থী কলেজের ফটক থেকে মিছিল নিয়ে মহাখালীতে যান।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী নায়েক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। রোববারের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধ করেছি।’

শিক্ষার্থীদের স্যালুট জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব

শিক্ষার্থীদের স্যালুট জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব

 

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের তোপের মুখে পড়েই গতকাল সোমবার দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে শাসন ক্ষমতায় থেকে হত্যা, নৈরাজ, অন্যায় অবিচার করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। অবশেষে শেখ হাসিনার বিদায়ে মুক্তি পেল পুরোদেশ।

শেখ হাসিনার এই বিদায়ে সারা দেশের ছাত্র জনতার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা নিজের জীবন বাজি রেখে প্রতিদিন রাস্তায় সংগ্রাম করেছেন। এই সংগ্রামে সারা দেশে নিহত হয়েছে কয়েকশ ছাত্র ও সাধারণ মানুষ। আহত হয়েছে কয়েক হাজার। জেলে যেতে হয়েছে অনেক শিক্ষার্থীকে। 

কোট সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের স্যালুট জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানাতে চাই, সেসব শহিদদের, ছাত্র ও জনতা যারা দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর ধরে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রতি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা অভিবাদন জানাতে চাই, স্যালুট জানাতে চাই, আমাদের ছাত্রদের আমাদের সন্তানদের যারা তাদের মেধা বুদ্ধিমত্তা সাহস নিয়ে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বুকের রক্ত দিয়ে ছাত্র-জনতা বিজয় অর্জন করেছেন আমরা তাদের স্যালুট জানাই।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আপনাদের মাধ্যমে এই বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছি দিতে চাই, এখন স্থান নেই কোনো প্রতিহিংসা, কোনো প্রতিশোধ গ্রহণের। এখন প্রয়োজন ধৈর্যের সঙ্গে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এই অর্জিত স্বাধীনতাকে সুসংহত করা।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছে শিক্ষার্থীরা

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছে শিক্ষার্থীরা

 


হাসিনার পদত্যাগের খবরে উল্লাসের মাঝেই বগুড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছে। তাণ্ডবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে সদর থানা, ফাঁড়ি, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং সদর উপজেলা পরিষদ ভবন এবং ইউএনও’র বাসভবন। একইসঙ্গে চলছে সুযোগ সন্ধানীদের লুটপাট। মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার থানা, ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্রগুলোর পুলিশ সদস্যদের ক্লোজ করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। থানা কিংবা ট্রাফিক বিভাগের সকল পুলিশ এখন ব্যারাকে। কোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা সদরের কোনো পুলিশের কাছে সেবা পাওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি পুলিশ সুপার কার্যালয়েও ঝুলছে তালা। এখানে কোনো পুলিশ সদস্য কিংবা কর্মকর্তা নেই বলে সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া বগুড়া সদরের সাতটি পুলিশ ফাঁড়ির সব পুলিশকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, জেলা পুলিশের দৃশ্যত কোনো কার্যক্রম নেই। শহরের যানজট নিরসনে কাজ করছে শিক্ষার্থী এবং জনতার স্বেচ্ছাসেবী।  শহরের সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা রেমি খাতুন জানান, এই মুহূর্তে দেশ খুব সংকটকাল পাড়ি দিচ্ছে। 

এখন চারদিকে লুটপাটের গুজব শোনা যাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের মাথায় কাঁঠাল রেখে দুষ্কৃতকারীরা অগ্নিসংযোগ করছেন। এটা ভয়াবহ। এসব দুষ্কৃতকারীদের কারণে বগুড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে পুলিশের কার্যক্রম না থাকা শঙ্কার। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখতে হবে। মিজানুর রহমান নামে আরেকজন বলেন, রাজাবাজার এলাকায় যাওয়ার পথে যানজটে পড়েছিলেন তিনি। আমি সাতমাথায় আসতে দেখি পুরো চত্বর রিকশা আর মোটরসাইকেল দিয়ে ভর্তি। একজন শিক্ষার্থী লাঠি হাতে যানজট ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সে একা আর কতোই পারবে? যদি এখনই প্রশিক্ষিত বাহিনী দায়িত্ব না নেয় তাহলে ক্রমাগত এই সংকট বাড়বে। রাজাবাজার এলাকার মুদি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, গতকাল দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত আমি অন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থেকে পালাক্রমে পাহারা দিয়েছি। নিজেদের দোকান, সম্পত্তি রক্ষায়। থানায় পুলিশ না থাকার সুযোগটি নিয়ে একশ্রেণির দুষ্কৃতকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। জেলা পুলিশের একাধিক সোর্স বলছে, বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে শহরে অস্থিতিশীল অবস্থা ও সরকারি একাধিক স্থাপনার হামলার কারণে পুলিশ সদস্যরা এখন কোনো কার্যক্রমে নেই। ভাঙচুর, লুটপাট আর অগ্নিসংযোগের ভয়ে রয়েছেন সবাই।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তারা জানান, গতকাল শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর থেকেই সরকারি স্থাপনা বিশেষ করে অগ্নিসংযোগের ভয় বাড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাঝে। এই পরিস্থিতিতে জেলা বিএনপি’র নেতাদের অনুরোধ করে পুলিশের স্থাপনা ও অফিস রক্ষা করার কথা জানানো হয়েছে। যতদূর জানি, তারা এগুলো পাহারা দিচ্ছেন। বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানান, সদর থানায় দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ফাইলপত্র পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জেলা সদরের পুলিশ এখন নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। তবে জেলার আরও ১১টা উপজেলার পুলিশ নিজ নিজ কর্মস্থলে রয়েছেন।

বিমানবন্দরে পালাতে গিয়ে হাছান মাহমুদ-পলক আটক

বিমানবন্দরে পালাতে গিয়ে হাছান মাহমুদ-পলক আটক

 


পালানোর সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আটক হয়েছে। পলক ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু হাছান মাহমুদের গন্তব্য জানা যায়নি। বিমাবন্দর সূত্র দুইজনকে আটকে দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও কোন সংস্থা তাদের আটক করেছে এবং কোথায় রাখা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গতকাল জুনাইদ আহমেদ পলক ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে আটক হন। 

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পালানোর উদ্দেশ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে অপেক্ষায় ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় বিমানবন্দরের কর্মচারীরা তাকে ভিআইপি লাউঞ্জে আটকে রাখেন। কিছুক্ষণ পর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এসে তাকে আটক করেন।
ওদিকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে বিমানবন্দরে ড. হাছান মাহমুদও আটক হন বলে বিমানবন্দর সূত্র নিশ্চিত করে। 
এ ছাড়া দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত ও মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ। গতকাল বিকালে তাদের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে। 
সড়কে শৃৃঙ্খলার দায়িত্বে শিক্ষার্থীরা

সড়কে শৃৃঙ্খলার দায়িত্বে শিক্ষার্থীরা

 


ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে শেখ হাসিনার পতনের পর পরিস্থিতি এখনো থমথমে। ঢাকাসহ সারা দেশেই বিভিন্ন থানায় হামলার আতঙ্ক বিরাজ করছে পুলিশের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল অফিস-আদালত চালু করা হলেও সড়কে দেখা যায়নি কোনো ট্রাফিক পুলিশকে। তবে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। তারা বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে সড়কের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। 

গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুর, বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীর গেট,? ফার্মগেট, কাওরান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ মোড়, কাকরাইল মোড়, রামপুরা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করেছেন। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করা শিক্ষার্থী মো. শাহাবুদ্দীন বলেন, আমরা আমাদের দেশ স্বাধীন করে ফেলেছি। এখন এটা গোছানোর পালা। যেহেতু এখনো কোনো সরকার গঠন হয়নি, এই মুহূর্তে পুলিশ বা ট্রাফিক পুলিশও নেই। রাস্তায় যেন যান চলাচলে সমস্যা না হয় তাই আমরা শিক্ষার্থীরা ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছি। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে হ্যান্ডমাইকে শিক্ষার্থীদের বলতে শোনা যায়, কোনো ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ যাতে না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

এই দেশটা আমাদের, এই দেশের সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের। এই ব্যাপারে সকল শিক্ষার্থীদের সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তারা। 

বিজয় সরণির মোড়ে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীকে গাড়ির সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়। সেখানে রফিকুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি সকালে বাসায় ফেরার সময় দেখলাম এখানে কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। এতে চতুর্দিকে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তাৎক্ষণিক কয়েকজন মিলে চার রাস্তায় দায়িত্ব নিয়েছি। ট্রাফিক পুলিশ যে দায়িত্বটুকু পালন করে আমরা সেটুকু পালন করছি। সাইদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, গাড়ির শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। যতক্ষণ না ট্রাফিক পুলিশ এখানে আসবে ততক্ষণ আমরা দায়িত্ব পালন করবো। এ ছাড়া রাজধানীর অন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড়েও শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের এই কাজের প্রশংসা করেছেন পথচারী যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। পরিবহন চালকরাও তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে দেশের শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন করেছেন। তাদের চেষ্টায় দেশের আগামীও বদলে যাবে। ফার্মগেটে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষার্থীরা মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট পরিধানের বিষয়ে উৎসাহিত করেন। যারা হেলমেট ছাড়া বের হন তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়। 

আবু সাঈদদের রক্তে ভিজে এলো যে বিজয়

আবু সাঈদদের রক্তে ভিজে এলো যে বিজয়

 


'মাগো ভাবনা কেন/আমরা তোমার শান্তি প্রিয় শান্ত ছেলে/ তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি/ তোমার ভয় নেই মা/ আমরা প্রতিবাদ করতে জানি। আমরা হারবো না/ তোমার মাটির একটি কণাও ছাড়ব না/ আমরা পাঁজর দিয়ে দুর্গ ঘাটি গড়তে জানি/ তোমার ভয় নেই মা/ আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।' গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা আর হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গলায় ও সুরে গাওয়া দেশাত্মবোধক গানটি বাঙালিমাত্রেরই জানা। ১৯৬১ সালে প্রথম প্রচারিত হওয়া এই গানটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের দারুণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

এবার বাংলাদেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন জুড়েও লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল শাশ্বত এই গানটি। কোটা সংস্কারের ন্যায্য দাবি নিয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল গত ৫ জুলাই।

নানা ঘটনা-অঘটন আর হত্যাযজ্ঞ ও রক্ত মাড়িয়ে সরকারের পদত্যাগের চূড়ান্ত এক দফার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়া আন্দোলনটি হয়ে ওঠে গণঅভ্যুত্থান। আন্দোলনের অকুতোভয় সমন্বয়কদের দুর্বার সাহস আর দেশপ্রেমে ভর করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার মধ্য দিয়ে পূর্ণ সফলতা অর্জন করে অভূতপূর্ব এই আন্দোলন। হাজারো গুলি, হত্যা, হামলা- মামলা, গ্রেফতার, টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট, ছররা গুলি আর সাউন্ড গ্রেনেডও পিছু হটাতে পারেনি অধিকার আদায়ের ন্যায্য দাবিতে অটল থাকা শিক্ষার্থীদের। জনতার কাছে তারা পেয়েছেন বীরের মর্যাদা।

সফল এই আন্দোলনে বড় ধরনের বাঁক বদল ঘটে ১৬ জুলাই রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায়। দুই হাত দুই দিকে টান টান প্রসারিত করে বুক পেতে দিয়ে সাঈদ বলেছিল, 'গুলি আন্দোলনকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। শিক্ষার্থীদের বিজয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছেন আবু সাঈদ। 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু থেকে বিজয় অর্জন পর্যন্তই যেন 'মাগো ভাবনা কেন' গানেরই কথা দিয়ে গাঁথা। বাঁচতে শুধু জানবো না/ আমরা চিরদিনই হাসি মুখে মরতে জানি/ তোমার ভয় নেই মা/ আমরা প্রতিবাদ করতে করো'। পুলিশ তার বুকে গুলি চালিয়ে নিমর্মভাবে হত্যা করে। এই দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে দেশে-বিদেশে। যারাই এই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য দেখেছেন কেউই মানতে পারেননি, চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। সাঈদের মৃত্যু যেই গানটিতে আরো রয়েছে- 'আমরা অপমান সইব না/ ভীরুর মত ঘরের কোণে রইব না/ আমরা আকাশ থেকে বজ্র হয়ে ঝড়তে জানি/ তোমার ভয় নেই মা/ আমরা প্রতিবাদ করতে জানি/আমরা পরাজয় মানব না/ দুর্বলতায় জানি/মাগো ভাবনা কেন।'

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন শুরু থেকেই ছিল অহিংস ও শান্তিপূর্ণ। ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কোটা পাবে না তো কী রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে?' তার এই মন্তব্যে মর্মাহত ও অপমানিত বোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ঐ দিনই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে স্লোগান দেন, 'চাইতে আসলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার', 'তুমি কে, আমি কে, রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার'।

পরদিন ১৫ জুলাই ওবায়দুল কাদের এক বক্তব্যে বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঔদ্ধত্বের জবাব দিতে ছাত্রলীগ প্রস্তুত'। এর কয়েক ঘণ্টার মাথায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলে পড়ে ছাত্রলীগ। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ছাত্রলীগ রক্তাক্ত করে তোলে। এরপর ক্যাম্পাসে নামানো হয় পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবিকে।

প্রতিবাদে পরদিন ১৬ জুলাই সারা দেশে শিক্ষাঙ্গনে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। সেদিনই রংপুরে আবু সাঈদসহ ছয় জন হত্যার শিকার হন। এতে আরো ঘোলাটে হয় পরিস্থিতি। ১৮ জুলাই সারা দেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির ডাক দেন শিক্ষার্থীরা। সেদিন রাজধানীর বাড্ডা ও উত্তরায় সংঘাতে বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থী নিহত হন। পরের তিন-চার দিন ধরে চলে সংঘর্ষ। এ সময়ে শিক্ষার্থীসহ নিহত হন প্রায় ৩০০ জন। এরপর কারফিউ জারি করা হয়। শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে লাখ লাখ ছাত্র-জনতার সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম সরকারের পদত্যাগের এক দফা ঘোষণা করেন। এক দফা আদায়ে ঘোষণা করা হয় অসহযোগ আন্দোলনের। এই কর্মসূচি চলাকালেই রবিবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত-সংঘর্ষে শতাধিক লোক নিহত হন। এরমধ্যেই 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন করে একদিন এগিয়ে এনে মঙ্গলবারের পরিবর্তে গতকাল সোমবার পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। আর গতকালই পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা, বিজয়ের পতাকা ওড়ান ছাত্র-জনতা।

ইত্তেফাক

ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দাবি

ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দাবি

 


ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ৪টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় এ প্রস্তাবনার কথা বলা হয়। ভিডিওবার্তায় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রসঙ্গে তাদের দাবির কথা জানান। এসময় আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদার নাহিদের পাশে বসা ছিলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণার জন্য চব্বিশ ঘণ্টা সময় নিয়েছিলাম। কিন্তু এই জরুরি পরিস্থিতিতে আমরা এখনই সেই রূপরেখা ঘোষণা করছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সর্বজন গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এবং নোবেল পুরস্কারজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে সরকার গঠনের দাবি জানাই। আমরা উনার সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি ছাত্রজনতার আহ্বানে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে সম্মত হয়েছেন। আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতির প্রতি অনুরোধ জানাই। এছাড়া সরকার গঠনের পুরো রূপরেখা ও বাকিদের নাম আমরা সকালে ঘোষণা করব।

নাহিদ আরও বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের এই অভ্যুত্থান ও বিপ্লবের পর বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা ও লুটপাট শুরু হয়েছে। আমাদের আন্দোলনকে নস্যাৎ করতেই পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিস্টদের দোসররা এমন কাজ করছে। আমরা মুক্তিকামী ছাত্রজনতাকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।

এই সমন্বয়ক আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানাই। আমরা এই আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছি, আমাদের দাবি মানতে হবে। আমাদের দাবি ব্যতিরেকে অন্যকোনো সরকার আমরা মেনে নেবো না। আমরা কোনোপ্রকার সেনা শাসন চাই না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগপর্যন্ত আমরা রাজপথে থেকে এই অভ্যুত্থানকে রক্ষা করব।

বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য: শাহবাগে সমন্বয়ক নাহিদ

বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য: শাহবাগে সমন্বয়ক নাহিদ

 


আওয়ামী লীগ দেশে একটা গৃহযুদ্ধ তৈরি করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও গন্তব্য পরিষ্কার। বিজয় এবং একমাত্র বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য।

আমরা এখনো সময় দিচ্ছি। সরকার যদি এখনো সহিংসতা চালিয়ে যায়, আমরা কিন্তু গণভবনের দিকে তাকিয়ে আছি। শেখ হাসিনাকে ঠিক করতে হবে, এখনো সহিংসতা চালাবেন, রক্তপাত চালাবেন, নাকি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে পদত্যাগ করবেন।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে আজ রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ মোড়সহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। বেলা তিনটার দিকে শাহবাগে বিক্ষোভে যোগ দিয়ে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দেশকে একটা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র-জনতা যেকোনো মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত। আজকে লাঠি তুলে নিয়েছি। যদি লাঠিতে কাজ না হয়, আমরা অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত। আপনারা প্রতিরোধ করুন, রুখে দাঁড়ান, সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশছাড়া করতে হবে।

আমাদের এক দফা দাবি ঘোষণা হয়ে গেছে। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণা বাকি। আমাদের যদি গুম–খুন করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয়, যদি ঘোষণা দেওয়ার মতো কেউ না থাকে, আপনারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আর যদি আমার ভাইদের বুকে গুলি করা হয়, আমার বোনদের কেউ আহত হয়, আমরা বসে থাকব না। পাড়ায়–পাড়ায়, গ্রামে–গ্রামে, মহল্লায়–মহল্লায়, অলিতে–গলিতে প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি গঠন করুন। যেখানেই হামলা হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। আমরা এই সরকারকে মানি না। এখন থেকে দেশের নেতৃত্ব দেবে ছাত্র-জনতা। ছাত্র-জনতার ঘোষণা চূড়ান্ত ঘোষণা।’

সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা এই খুনি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিচার নিশ্চিত করব এই বাংলার মাটিতে। পুনরায় মুঠোফোন ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র এবার কোনো কাজে লাগবে না। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও আমরা রাজপথে থাকব।’

সরকারের পদত্যাগের এই আন্দোলনে আগামীকাল সোমবার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

Bangladesh anti-government protests kill 105

Bangladesh anti-government protests kill 105

 


At least 90 people were killed in Bangladesh on Sunday, amid worsening clashes between police and anti-government protesters.

The unrest comes as student leaders have declared a campaign of civil disobedience to demand that Prime Minister Sheikh Hasina step down.

Thirteen police officers were killed when thousands of people attacked a police station in the district of Sirajganj, police said.

The student protest started with a demand to abolish quotas in civil service jobs last month, but has now turned into a wider anti-government movement.

Both police and some supporters of the governing party were seen shooting at anti-government protesters with live ammunition. Police also used tear gas and rubber bullets.

The total death toll since the protest movement began in July now stands at over 280.

A nationwide overnight curfew has been in place since 18:00 (12:00 GMT).

Amid calls for her resignation, Ms Hasina sounded defiant. Speaking after a meeting with security chiefs, she said the protesters were "not students but terrorists who are out to destabilise the nation".

On Sunday, Law and Justice Minister Anisul Huq told the BBC’s Newshour programme that authorities were showing “restraint”.

“If we had not shown restraint, there would have been a bloodbath. I guess our patience has limits,” he added.

In the capital, Dhaka, access to internet on mobile devices has been suspended.

Deaths and injuries have been reported across the country, including the northern districts of Bogra, Pabna and Rangpur.

Thousands of people gathered in a main square in Dhaka and there have been violent incidents in other parts of the city.

“The whole city has turned into a battleground,” a policeman, who asked not to be named, told the AFP news agency. He said a crowd of several thousand protesters had set fire to cars and motorcycles outside a hospital.

Asif Mahmud, a leading figure in the nationwide civil disobedience campaign, called on protesters to march on Dhaka on Monday.

"The time has come for the final protest", he said.

Students Against Discrimination, a group behind the anti-government demonstrations, urged people not to pay taxes or any utility bills.

The students have also called for a shutdown of all factories and public transport.


Around 10,000 people have been reportedly detained in a major crackdown by security forces in the past two weeks. Those arrested included opposition supporters and students.

Some ex-military personnel have expressed support for the student movement, including ex-army chief General Karim Bhuiyan, who told journalists: “We call on the incumbent government to withdraw the armed forces from the street immediately.

He and other ex-military personnel condemned "egregious killings, torture, disappearances and mass arrests".

The next few days are seen as crucial for both camps.

The protests pose a momentous challenge to Ms Hasina, who was elected for a fourth consecutive term in January elections, boycotted by the main opposition.

Students took to the streets last month over a quota that reserved one third of civil service jobs for relatives of the veterans of Bangladesh’s independence war with Pakistan in 1971.

Most of the quota has now been scaled back by the government following a government ruling, but students have continued to protest, demanding justice for those killed and injured. Now they want Ms Hasina to step down.

Supporters of Ms Hasina have ruled out her resignation.

Earlier, Ms Hasina offered unconditional dialogue with the student leaders, saying she wanted the violence to end.

“I want to sit with the agitating students of the movement and listen to them. I want no conflict," she said.

But the student protesters have rejected her offer.

Ms Hasina called in the military last month to restore order after several police stations and state buildings were set on fire during the protests.

The Bangladeshi army chief, Gen Waker-Uz-Zaman, held a meeting with junior officers in Dhaka to assess the security situation.

“The Bangladesh army has always stood by the people and will continue to do so for the interest of people and in any need of the state," Gen Zaman said, according to a release by the Inter Services Public Relation Directorate.

Bangladeshi media say most of those killed in last month’s protests were shot dead by police. Thousands were injured.

The government argues that police opened fire only in self-defence and to protect state properties.

Asia
Bangladesh
Sheikh Hasina

BBC NEWS ENGLISH

লাশের সারি রক্তাক্ত দেশ ঢাকাসহ জেলায় জেলায় সংঘর্ষ গুলি হামলা নিহত ৯৩

লাশের সারি রক্তাক্ত দেশ ঢাকাসহ জেলায় জেলায় সংঘর্ষ গুলি হামলা নিহত ৯৩

 


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগের প্রথম দিনেই গতকাল সারি সারি লাশে রক্তাক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকাসহ ১৯ জেলায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন পুলিশসহ ৯৩ জন। তাদের মধ্যে ১৪ জন পুলিশ সদস্য এবং বাকিরা আন্দোলনকারী ছাত্র, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক কর্মী। আন্দোলনকারী, আওয়ামী লীগকর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে বিক্ষোভের আগুন পৌঁছেছে শহর নগর গ্রামে। সবমিলিয়ে দেশব্যাপী তৈরি হয়েছে এক ভীতিকর পরিস্থিতি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ কর্মসূচিতে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত অন্তত ২২২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। এ পর্যন্ত ঢাকায় অন্তত ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, পল্টন, নয়াবাজার, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, কারওয়ানবাজার, মিরপুর-১০, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী ও শনির আখড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থী, পথচারী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মী। 

ফার্মগেটে গুলিতে আহত এক তরুণকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। পরে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় তৌহিদুল ইসলাম (২২) নামে ওই তরুণের মৃত্যু হয়। তিনি কবি নজরুল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে স্নাতকে ভর্তির অপেক্ষায় ছিলেন। পাশাপাশি ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায়। 

এর পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রমিজ উদ্দিন রূপ (২৪) নামে আরেক শিক্ষার্থীকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। তাকে কারওয়ান বাজার থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বেসরকারি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এদিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে জহির উদ্দিন (২৫) নামে আরেক যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাকে গুলিস্তান থেকে ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। 

জিগাতলায় গুলিতে আবদুল্লাহ সিদ্দিকী (২৩) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তিনি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের বিবিএর শিক্ষার্থী। তার বাসা পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে। উত্তরায় সংঘর্ষে ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ারুল নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা গুলিতে মারা যান। মিরপুরে গুলিতে মিরাজ হোসেন (২২) নামে এক পরিবহন শ্রমিক নিহত হন। এ ছাড়া ঢামেকে অজ্ঞাত আরও দুজনের লাশ পাওয়া তথ্য পাওয়া গেছে। এদের একজনের বয়স আনুমানিক ২৫।

ঢামেক সূত্র জানায়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে জামাল উদ্দিন (৫০), সাব্বির (১৮) ও মোদাচ্ছির হোসেন (২৩) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অপরদিকে রাজধানীর শাহবাগে মাহিন (২৫), হাসিবুর রহমান (৩০), সুভাষ (২৪), তানভীর রহমান (২০), সেলিম (৪০), রিমন (২৩) ও হৃদয় (২০) ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। পল্টনে ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক শাহরিয়ার আবির (২৮) আর সংঘর্ষে আহত হয়েছেন শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন (২০) ও মঞ্জিল মোল্লা (৫০)। এ ছাড়া বংশালে সাইফুল (৩০) ও আতিক (২৭), গুলিস্তানে শাহজালাল (৩০), নয়াবাজারে অজ্ঞাতনামা এক তরুণ (২৫), সায়েন্স ল্যাবে দোকানের কর্মচারী রিয়ন (১৬) ও শিক্ষার্থী কিবরিয়াকেও (২৩) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের কদম ফোয়ারা এলাকায় ছররা গুলিতে দৈনিক আমাদের সময়ের প্রধান ফটো সাংবাদিক মেহেরাজ (৪৮) এবং আজকের দৈনিকের নুর হোসেন (৪৫) আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সায়েন্স ল্যাবে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৪১ : রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবে গতকাল বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ সায়েন্স ল্যাব থেকে জিগাতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ৪১ জন। এর মধ্যে তিনজন তাজা গুলি ও বাকিরা ছররা গুলিতে বিদ্ধ হয়েছেন।

সায়েন্সল্যাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান চলাকালে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস থেকে আগত নেতা-কর্মীরা তাদের উদ্দেশে ইট পাটকেল ছোড়ে। এতে মুহূর্তেই রণক্ষেত্রের রূপ নেয় পুরো ধানমন্ডি, সিটি কলেজ, বিজিবি সদর দপ্তর এলাকা ও জিগাতলা। এ সময় জিগাতলায় গুলিতে আবদুল্লাহ সিদ্দিকী (২৩) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তিনি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের বিবিএর শিক্ষার্থী। তার বাসা পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে। 

ধানমন্ডিতে ‘ইয়েলো’র শোরুমে আগুন : রাজধানীর ধানমন্ডি-২ নম্বরে পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ইয়েলো’র একটি শাখায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ভবনটি। গতকাল বিকাল ৪টায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে দুপুর থেকেই ধানমন্ডির বিভিন্ন সড়কে আন্দোলনকারী, আওয়ামী লীগকর্মী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এর মধ্যেই কে বা কারা ধানমন্ডি-২ নম্বর রোডে পপুলার ডায়াগনস্টিকের পাশে ও স্টার কাবাবের বিপরীত দিকে অবস্থিত ‘ইয়েলোর’ শোরুমে আগুন দেয়।

উত্তরায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে নিহত দুই, আহত অর্ধশত : রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে আজমপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুজন নিহতসহ অর্ধশত আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি উত্তরা ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. হাবিব হাসানের আপন চাচাতো ভাই ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ারুল। তাকে গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারীরা। নিহত আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এর আগে, সকালে ‘এক দফা এক দাবি’ স্লোগান দিয়ে সড়কে মিছিল নিয়ে বের হন উত্তরার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা হাউস বিল্ডিং, আজমপুর থেকে বিএনএস সেন্টার পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সকাল থেকেই মাঠে ছিল আন্দোলনকারীরা। আজমপুর থেকে জসীমউদ্দিন পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আজমপুর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয়। এর পর শিক্ষার্থীরাও পাল্টা ধাওয়া দিলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পিছু হটে। এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি অস্ত্র, ইট-পাটকেট ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। চলতে থাকে গুলিও। ঘটে হতাহতের ঘটনা। বেলা ১১টার দিকে উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের জমজম টাওয়ার এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা আজমপুর বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে অবস্থান নেয়। রাজলক্ষ্মী, আজমপুর রেলগেটের গলির মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালীন আজমপুর আমির কমপ্লেক্সের গলির মধ্যে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

আমির কমপ্লেক্স এবং রাজউক মার্কেটের মাঝে প্যান্ডেল তৈরি করে সকাল থেকে অবস্থান করে সাবেক এমপি হাবিব হাসানের অনুসারী আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ। সংঘর্ষ শুরু হলে প্যান্ডেল ও চেয়ার পুড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সংঘর্ষে দুজন নিহতসহ অর্ধশত আহত হন। ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ারুল গুলিতে মারা যান। উত্তরা পূর্ব থানায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ও দুটি ট্রাক ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ইট-পাটকেলের হামলায় থানার তিন তলার জানালার কাচ ভেঙে গেছে। জসিমউদ্দীন, রাজলক্ষ্মী, আজমপুর, হাউজবিল্ডিং ও আবদুল্লাহপুর শিক্ষার্থীদের দখলে ছিল।

কারওয়ান বাজারে ত্রিমুখী সংঘর্ষ : কারওয়ান বাজারে বিকালে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা বাংলামোটরের দিকে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। অন্যদিকে কারওয়ান বাজারের দিকে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ অংশে পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এদিকে আন্দোলনে বাংলামোটর মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। 

সংঘর্ষে রণক্ষেত্র মোহাম্মদপুর : রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডেও ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ, আন্দোলনকারী ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আহতদের সবাই আন্দোলনকারী বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকাল পৌনে ৪টায় আল্লাহ করিম জামে মসজিদের সামনে থেকে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ছররা গুলি চালায় পুলিশ। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। সকাল থেকেই আন্দোলনকারীদের দখলে ছিল মোহাম্মদপুর এলাকা। এ ছাড়া বসিলা ব্রিজ থেকে তিন রাস্তার মোড়, পরে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে এগিয়ে দখল নেয় আন্দোলনকারীরা।   

আফতাবগর : গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় আফতাবনগরের ইস্ট?ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সা?মনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ইস্ট ওয়েস্ট ছাড়াও আশপা?শের আরও ক?য়েক?টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। 

মিরপুর-১০ এ পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ : গতকাল বিকাল ৫টায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর নিয়ন্ত্রণে নেয় আন্দোলনকারীরা। এ সময় গুলিতে একজন নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে তিন শতাধিক। মিরপুর ১৪ ও ১২ থেকে ১০ নম্বরের দিকে যাওয়ার সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। কিছু সময় পর পর ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। গুলিতে নিহত মিরাজ হোসেন (২২) আলিফ পরিবহনের বাস চালাতেন। আন্দোলন দেখতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। থাকতেন মিরপুর ৬ নম্বরে।

এর আগে সকাল থেকেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অবস্থান নিয়ে থাকে মিরপুর গোলচত্বরে। দুপুর ১২টায় সেখানে তাদের সমাবেশ করতে দেখা যায়। তখন থেকেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলছিল। বিক্ষোভকারীদের একটি দল কাজীপাড়ার দিক থেকে, অন্য আরেকটি দল মিরপুর-১১ নম্বরের দিকে থেকে গোলচত্বরের দিকে আসার চেষ্টা করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশ বক্সে আগুন : জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে। আন্দোলন কর্মসূচির সমর্থনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মানববন্ধন ঘিরে তৈরি হয় এই পরিস্থিতি। পুলিশ রাবার বুলেট-টিয়ার শেল ছোড়ে, পরে একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল বেলা সোয়া ১২টায় শুরু হয় এই উত্তেজনা। এ সময় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর বক্তৃতা শুরু হলে হঠাৎ করে কদম ফোয়ারার দিক থেকে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। পরে আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় প্রেস ক্লাবের সামনে রণক্ষেত্র পরিণত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সেগুনবাগিচার বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নিয়ে সরকারবিরোধী স্লেগান দিতে থাকে।

নরসিংদীতে ছাত্রদের মিছিলে আ’লীগের গুলি : পিটিয়ে ৬ কর্মীকে হত্যা, গুলিবিদ্ধ ৪

নরসিংদীতে ছাত্রদের মিছিলে আ’লীগের গুলি : পিটিয়ে ৬ কর্মীকে হত্যা, গুলিবিদ্ধ ৪

 



নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার মাধবদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এর জের ধরে আওয়ামী লীগের ছয় কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন উত্তেজিত জনতা। এছাড়া তাদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছেন চার আন্দোলনকারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (৪ আগস্ট) আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে বের হলে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাদের প্রতিহত করতে মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে সুমন মিয়া (৩৫), সোহেব (৪১), আল আমিনকে (২৫) নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং মীর জাহাঙ্গীরকে (৩০) মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, গুলি উপেক্ষা করেই বিক্ষোভরত ৪/৫ হাজার মানুষ আওয়ামী লীগের 

সমর্থকদের ওপর চড়াও হয়। এতে তারা দৌড়ে পালাতে থাকেন। এসময় ছয়জন মাধবদী বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম দিকের বড় মসজিদে আশ্রয় নেন। উত্তেজিত জনতা মসজিদ থেকে তাদের বের করে এনে মসজিদের সামনেই পিটিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়।

নিহতরা হলেন- চরদিগলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন (৪০), নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন (৩৮), জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শ্রমিক লীগ নেতা মনিরুজ্জামান ভূইয়া ওরফে নাতি মনির (৪২), শ্রমিক লীগ নেতা আনিছুর রহমান সোহেল (৪০), মাধবদী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার নওশের (৪০) ও অজ্ঞাত (৩৮) একজন।

বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত লাশ মসজিদের সামনেই পড়েছিল। স্থানীয় সাংবাদিকরা পুলিশকে খবর দিলেও পুলিশ সেখানে যায়নি।