The Future Press
ব্রেকিং নিউজ
লোড হচ্ছে...
মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যাঁরা

মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যাঁরা

 


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসন পেয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক পর নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারা। বিএনপির এই মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, সবার নজর এখন সেদিকে।

এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোরালো আলোচনা। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পরই মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষণ গণনা শুরু হবে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, সাংবিধানিকভাবেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। তাঁরা আশা করছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই শপথ পড়ানো হবে এবং দেশবাসী নতুন সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিপরিষদ দেখতে পাবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন-প্রবীণের মিশেলে। অতীতে দলের প্রতি ত্যাগ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদে তাঁরা জায়গা পাবেন। দল থেকে যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁদের মূল্যায়ন করা হবে। বিষয়ভিত্তিক যাঁরা এক্সপার্ট, তাঁরাই এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন। ঢাউস কোনো মন্ত্রিসভা করা হবে না বলে জানা গেছে।
নতুন মন্ত্রিসভার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক যে যাত্রা শুরু হলো, তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। সব রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হবে—এটা আমাদের লক্ষ্য ছিল।’

তিনি বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই আমরা আমাদের ইশতেহার প্রণয়ন করেছি। এর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। এই রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল আমরা অক্ষর অক্ষরে পালন করব।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আশা করি, বিকেলের (গতকাল শুক্রবার) মধ্যে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করবে এবং তার পর থেকে ক্ষণ গণনা শুরু হবে। সংসদ সদস্য শপথ নেওয়ার বিষয়টি সাংবিধানিকভাবেই হবে।’

তারেক রহমান এবার দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে এবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে তাঁর ওপর দলের গুরুদায়িত্ব বর্তায়। নিজের পরিশ্রম, মেধা দিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে দেশের মানুষের মন জয় করে বিএনপিকে নিরষ্কুুশ জয় এনে দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হবেন।

নতুন সরকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যাচ্ছেন—এ বিষয়ে জোরালো আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জহিরউদ্দিন স্বপন, রেজা কিবরিয়া, এহসানুল হক মিলন, রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, শরীফুল আলম, দেওয়ান সালাহউদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, সেলিম ভূঁইয়া, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান আসাদ, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শামা ওবায়েদ, ফারজানা শারমিন পুতুল, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, আসাদুল হাবীব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রকিবুল ইসলাম বকুল আলোচনায় আছেন।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত, খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি ও বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত দুজনের মধ্যে একজন আলোচনায় আছেন।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, হুমায়ূন কবীর, জিয়া হায়দারসহ কয়েকজন।

এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন-নবী খান সোহেলও আলোচনায় আছেন।

মন্ত্রিসভায় বিএনপি জোটে শরিকদের মধ্যে আলোচনায় আছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর, ববি হাজ্জাজসহ কয়েকজন।

প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতাবিষয়ক বড় কোনো দায়িত্বে যাচ্ছেন তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনও এ ধরনের কোনো দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনায় আছেন।

জনগণকে কনভিন্স করাই আমাদের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং: তারেক রহমান

জনগণকে কনভিন্স করাই আমাদের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং: তারেক রহমান

 


জনগণকে পক্ষে নিয়ে আসা, তাদের কনভিন্স করাই বিএনপির ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বলে জানালেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিনের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমানের উদ্দেশে খালেদ মুহিউদ্দিনের প্রশ্ন ছিল, ‘অভয় দিলে জানতে চাই, নির্বাচনে আপনার দল যে দুইশ' এর বেশি আসন (বিএনপি ২০৯ ও শরিকরা ৩টি আসন) পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে—এতগুলো আসন পেতে আপনাদের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হয়েছে কি না?’

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণকে কনভিন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল সেটা হচ্ছে জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা। সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি। জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাই ছিল আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর। 

তার দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আর যেকোনো ভালো কাজ, ভালো লক্ষ্য অর্জন করতে গেলে তো কষ্ট করতে হবে।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে ইংরেজিতে বক্তব্য পাঠ করেন তারেক রহমান। তারপর বক্তব্য দেন বাংলা ভাষায়। এরপর তিনি দেশি-বিদেশি অতিথিদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন।

এ সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামী আন্দোলনসহ যেসব দল অংশ নিয়েছিল, সব দলকে অভিনন্দন এবং সাধুবাদ জানান তারেক রহমান।

তারও আগে এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হচ্ছেন ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তিনি (তারেক রহমান) আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন।

বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দল যেমন ঐক্যবদ্ধ, তেমনি দেশের ১৮ কোটি মানুষও আজ ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচনে উদারপন্থী গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

আগামী সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা : মির্জা ফখরুল

আগামী সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা : মির্জা ফখরুল


 আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতি সচল করাই আগামী সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব বলেন, শত-সহস্র রক্তের বিনিময়ে এই নির্বাচন। অনেক দিন পরে একটি চমৎকার, উৎসবমুখর এবং অত্যন্ত স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে বলে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি। আমি মুগ্ধ।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন যেমন অত্যন্ত আনন্দময়, তেমনি একই সঙ্গে বিষাদময়। কারণ আমাদের দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই অভূতপূর্ব বিজয় দেখে যেতে পারলেন না। 

গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের এই ধারা যদি আমরা অব্যাহত রাখতে পারি, তবেই গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হবে। 

আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া এবং দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে দলটির বিষয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত উঠে আসবে।

তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছে যুক্তরাজ্য

তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছে যুক্তরাজ্য

 


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় এ অভিনন্দন জানানো হয়।

বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে অভিনন্দন, এবং একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনায় বাংলাদেশের জনগণকেও অভিনন্দন জানাই। যুক্তরাজ্যের অভিন্ন অগ্রাধিকার: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভিবাসন, জলবায়ু এবং নিরাপত্তার ওপর একসাথে কাজ করার জন্য আমরা উন্মুখ।

২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল জানানো হলো

২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল জানানো হলো

 


২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই দুটি আসনের ফলাফল পরে ঘোষণা করা হবে। আর একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন হয়নি।

শুক্রবার আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ফলাফল ঘোষণার সমাপনী বক্তব্যে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানান।

ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২ আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭ আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ৭টি আসন।

বিএনপি একক দল হিসেবে পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি–বিজেপি ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি আসন পেয়েছে।

এ ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।

আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচনে মোট ভোট দিয়েছেন ৫৯. ৪৪ শতাংশ ভোটার। আর গণভোট দিয়েছেন ৬০.২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে চার কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।  

তিনি আরও বলেন, ২৯৯টি আসনের গণভোট গণনা করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ২টি আসনে ফলাফল আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় সেখানকার প্রার্থীদের ভোট হিসেব করা হয়নি। আর আদালতের বাধা না থাকায় সেখানকার গণভোটের হিসাব করা হয়েছে। আর একটি আসনে নির্বাচন হয়নি।

বিজয়ী হয়েই সাবেক এমপির বাড়িতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল

বিজয়ী হয়েই সাবেক এমপির বাড়িতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল

 


ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

ভূমিধ্স জয়ের পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর শহরের মৌলভীপাড়ায় সাবেক পাঁচবারের এমপি হারুন আল রশিদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে তার বাসভবনে যান খালেদ হোসেন।

সাক্ষাতে তিনি হারুন আল রশিদের পা ছুঁয়ে সালাম করেন এবং কুশল বিনিময় করেন। পরে তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

এসময় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি জহিরুল হক খোকন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান মঞ্জু, জসীম উদ্দিন রিপন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পদাক আসাদুজ্জামান শাহীন, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ মাহিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, হারুনূর রশীদ ভাই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। আগামীতে তার সহযোহিতা ও পরামর্শ নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই।

উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ধানের শীষ প্রতীক দুই লাখ ৯ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী জামায়াত ইসলামের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মো. আতাউল্লাহ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৫৪৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান এক লাখ ৪৭ হাজার ৮৯ ভোট। হারুন আল রশিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের পাঁচ বারের এমপি ও প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। 

এবারের ভোট এতটা উৎসবমুখর হবে ভাবেননি কেউ: মির্জা ফখরুল

এবারের ভোট এতটা উৎসবমুখর হবে ভাবেননি কেউ: মির্জা ফখরুল

 


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ভোট এবার এতোটা উৎসবমুখর হবে এটা কেউ ভাবেনি। মানুষের যে আগ্রহ, যে উচ্ছ্বাস, সারাদিনে প্রায় শতাধিক কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। এখন পর্যন্ত নির্বাচন অনেক সুন্দর হয়েছে।’ 

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার বিশ্বাস নির্বাচনে ভালো রেজাল্ট আসবে ও ফলাফলও ভালো হবে। এর ফলে জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার পাবে ও পার্লামেন্ট পাবে। যেটার জন্য আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর লড়াই সংগ্রাম করেছি।’

এছাড়াও তিনি নির্বাচনে বিজয়ের বিষয়ে যথেষ্ট আশাবাদী বলে জানান।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে এবার মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে দুইজন নারী প্রার্থী। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে সাতজন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে দশজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

তিনটি আসন মিলিয়ে জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১২ লাখ ৫৫ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮৮ জন, পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৭০ হাজার ২২ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৭ জন। এছাড়া পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ১০ হাজার ২৯২ জন ভোটার, যার মধ্যে নারী ২ হাজার ৩২৬ জন এবং পুরুষ ৭ হাজার ৯৬৬ জন।

শান্তিপূর্ণভাবে শেষ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, এখন চলছে ভোটগণনা

শান্তিপূর্ণভাবে শেষ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, এখন চলছে ভোটগণনা


 কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটামোটি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এখন চলছে ভোট গণনা। এর আগে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে টানা ভোটগহণ চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সারাদেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ৪২ হাজার ৯৫৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আর এই নির্বাচিত সরকারের দেশ পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রথম ধাপ পার করবে। দেশের মানুষ দেড় যুগ পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। জনগণ আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের কান্ডারি বেছে নিতে আজ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর দেশে প্রতিষ্ঠিত হবে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। সংসদ নির্বাচন ছাড়াও আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পর্কিত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ এর পক্ষে রায় দিয়েছেন ভোটাররা। জাতির ভবিষ্যত পুনর্গঠনে এই গণভোট অত্যন্ত জরুরি।

আজকের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিয়েছে। এই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রধান দুই প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসন, গুম ও গণহত্যা চালানোর জন্য আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে দেশে এক ধরনের ‘ঈদের আমেজ’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি দুটি ঘোষণা করে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে চারদিনের ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজধানীর বাসটার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে ঈদে বাড়ি ফেরার মতো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। তারা গ্রামের বাড়িতে গেছেন ভোট দিতে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর অনেক ভোটার বিশেষ করে তরুণরা প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত।

নির্বাচন কমিশন ক্যারাভ্যান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনের মাধ্যমে প্রচার করার সুযোগ দিয়ে নির্বাচনি আমেজ বাড়িয়ে তুলেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য এক লাখ সেনাবাহিনীসহ ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে।

এবারের নির্বাচনের প্রচারকে এক কথায় বলতে গেলে এটি ছিল নজিরবিহীন উৎসবমুখর ও ডিজিটালনির্ভর। এবারের প্রচারের সবচেয়ে বড় দিক ছিল ফেসবুক, ইউটিউব এবং টিকটকের ব্যবহার। কোনো প্রকার বড় ধরনের সহিংসতা কিংবা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই প্রার্থীরা তাদের প্রচার শেষ করেন। আজকের নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে কয়েকটি কারণে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং একটি ‘ঐতিহাসিক মোড়’ হিসেবে বিবেচিত। এবারই প্রথম একই দিনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের ওপর একটি জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হলো। ভোটাররা দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালট পেপার (সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা এবং গণভোটের জন্য গোলাপি) ব্যবহার করেন। গত তিনটি প্রহসনের নির্বাচনের পর এটিই প্রথম বড় ধরনের অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হলো। এবারের নির্বাচনে প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার। যারা মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশ। কেন্দ্রে সিসিটিভি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ২৫ হাজার ৭শ ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ রয়েছে। প্রায় এক হাজার ড্রোন ভোটকেন্দ্রে নজরদারি করছে।

এবার মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন। নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছে ১ হাজার ১২০ জন।

আলোচনায় থাকা ঢাকা-৮ আসনে ভোটের চিত্র কেমন ছিল

আলোচনায় থাকা ঢাকা-৮ আসনে ভোটের চিত্র কেমন ছিল


 নানা কারণে নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই আলোচিত ছিল ঢাকা-৮ আসন। এই আসনে বারবার আলোচনায় এসেছেন ১১-দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী। আসনটিতে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর একটা পর্যন্ত এই আসনে আলোচিত এই দুই প্রার্থীর কেউই অনিয়ম বা কারচুপির বড় কোনো অভিযোগ তোলেননি। ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন ভোটাররাও। তরুণদের অনেককেই ভোটকেন্দ্রের বাইরে সেলফি তুলতে দেখা গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে আড্ডায় মেতেছেন অনেকে।

বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণে, দুপুর পর্যন্ত মোটামুটি উৎসবমুখর পরিবেশেই ভোট হয়েছে এই আসনে। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসনটিতে দুপুর একটা পর্যন্ত ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।

অবশ্য দুপুরের পর এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর এজেন্টদের বিএনপির নেতাকর্মীরা মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়েছে।

একটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, তাঁর সমর্থকদের রেলওয়ে কলোনি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে বের হওয়ার পথে ‘আঘাত’ করা হয়।

পাটওয়ারী বলেন, ‘আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আছে দুইটা—রেলওয়ে কলোনি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র ও মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্র। সেখানে ভোট ডাকাতির মহোৎসব চলছে। তারা আমাদের গায়ে পড়ে মারামারি করে ঢাকা-৮ আসনের ভোট বানচাল করতে চাচ্ছে।’

এ সময় মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এখন সময় প্রতিরোধের। যদি ভোট ডাকাতি হয়, তাহলে মির্জা আব্বাসের যে রাজত্ব আছে, আল্লাহর কসম করে বলছি, সেই রাজত্ব আমরা খানখান করে দেব। তছনছ করে দেব। নির্বাচনে জয়ী হই বা না হই, বিএনপি নামক দলটিকে বাংলাদেশ থেকে আমরা নিশ্চিহ্ন করে দেব।’

শেরপুরে ব্যালট বই ছিনতাই, এক ব্যক্তির ৩ বছর কারাদণ্ড

শেরপুরে ব্যালট বই ছিনতাই, এক ব্যক্তির ৩ বছর কারাদণ্ড

 

শেরপুর সদরে ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট বই ছিনতাইয়ের দায়ে মাসুদ মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসাথে লাঙ্গল প্রতীকের এজেন্ট মো. বেলাল হোসেন (৪৮)কে নির্বাচনী আচরন বিধি লঙ্ঘন করার দায়ে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান ভুঁইয়া।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভুঁঞা সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে শেরপুর-১ (শেরপুর সদর) আসনের চরমোচারিয়া ইউনিয়নের ৯৮নং নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র হতে বিএনপি নেতা মো. রাহাত হোসেন, বিএনপি কর্মী বাবুল মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, রুবেল মিয়াসহ ১৫ থেকে ১৬ জন বিএনপির নেতাকর্মী ভোট কেন্দ্র দখল করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে অবৈধভাবে ভোট দেয়া শুরু করেন। ওইসময় ধানের শীষ প্রতীক সম্বলিত অবৈধ সিল মারা ২৬ টি ব্যালট পেপার নির্ধারিত বক্সে ফেলেন ও ব্যালট ক্রমিক নং- ০২৯৯৯০১-০৩০০০০০ নাম্বার যুক্ত গণভোট ও প্রতীক সম্বলিত ২টি ব্যালট পেপারের বই নিয়ে যায়। পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও পরিকল্পনা কমিশনের সহকারী সচিব শিবরাজ চৌধুরী, সেনাবাহিনীর টহল টিম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় ছিনতাই হওয়া ব্যালট পেপার পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা কার্যক্রম শেষে ছিনিয়ে নেওয়া দুইটি ব্যালট পেপারের বই ও বক্সে রাখা ২৬ টি ব্যালট পেপার বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক মাসুদ মিয়াকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান ভুঁইয়া ১৯৭২ এর ৮১(১)(চ)(অ) ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। আর একই কেন্দ্রে লাঙ্গল প্রতীকের এজেন্ট স্থানীয় হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. বেলাল হোসেন (৪৮)কে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করার দায়ে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে একই আসনের দিঘারপাড় কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দুজন এজেন্ট হট্টগোল শুরু করায় তাদের আটক করে রাখা হয়। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার উদয় সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আটক থাকবে বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এর আগে শেরপুর-১ (সদর) ও শেরপুর-২ আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেরপুরের তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।

সেনাবাহিনীর ভূমিকা এখন পর্যন্ত প্রশংসনীয় : জামায়াত আমির

সেনাবাহিনীর ভূমিকা এখন পর্যন্ত প্রশংসনীয় : জামায়াত আমির

 


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনের মাঠে এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংকালে তিনি মন্তব্য করেন, সেনাবাহিনী যদি ভোটগ্রহণের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বর্তমানের মতো দৃঢ় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, তবে জাতি একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার পাবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে তাদের ভোটাধিকারসহ মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত ছিল। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ তাদের হারানো অধিকার ফিরে পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচনী পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে জামায়াত আমির জানান, ঢাকা-১৫ আসনে সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক থাকলেও মিরপুর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় বালিকা শাখা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, সেখানে হঠাৎ করে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের লোকজন সাধারণ ভোটারদের মনে ভয়ভীতি সঞ্চার করেছে এবং অনেককে শারীরিকভাবে নাজেহাল করা হয়েছে।

এ ছাড়া তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীর গায়ে হাত দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে, তবে সেনাবাহিনীর সময়োচিত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি পুনরায় নিয়ন্ত্রণে আসে।

ডা. শফিকুর রহমান সুনির্দিষ্টভাবে লাকসাম ও ভোলার লালমোহন এলাকার উদাহরণ টেনে বলেন যে, সেখানে বিএনপির দলীয় লোকজন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি কোনো ধরনের জাল-জালিয়াতি বা অনিয়মের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়, তবে সেই সরকারের সাথে জনগণের কোনো আত্মিক সম্পর্ক বা বৈধতা থাকবে না।

জনগণের প্রকৃত রায় যাতে প্রতিফলিত হয়, সে জন্য তিনি প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যেখানে অনিয়মের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে দ্রুত সেনাবাহিনী পাঠানোর দাবি জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে তিনি তার নিজ আসনসহ সারাদেশে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণ করে শেষ পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি মনে করেন, সাধারণ ভোটাররা যদি নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন, তবে অপশক্তির পরাজয় নিশ্চিত।


সেনাবাহিনীর ওপর জনগণের অগাধ আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দেওয়া এখন সময়ের দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দিন শেষে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ফলাফলের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা নতুন মাত্রা পাবে।

লাইলাতুল গুজব চলছে বললেন জামায়াত আমির

লাইলাতুল গুজব চলছে বললেন জামায়াত আমির


 বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। তবে কী গুজব চলছে এ সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।

পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, সবাই সাবধান, এই সমস্ত গুজবকে পাত্তাই দিবেন না।


শেষে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।

গোপালগঞ্জের ৮ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার একজন

গোপালগঞ্জের ৮ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার একজন


 আজ বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটের পর থেকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

ঘোষেরচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের বাগানে একটি, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর মান্দারতলা এলাকায় দুটি, বীণাপানি স্কুলের পাশের রাস্তায় একটি, মাঝিগাতি ১০নং পল্লী এন কে উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে একটি, রঘুনাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের রাস্তায় একটি, ১১৬নং শহীদ মাহবুব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পাকা রাস্তার ওপর একটি ও টুংগীপাড়া উপজেলার ছিলনা গোয়াধানা স্কুলের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। 

এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর টিম সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করেছে। তার নাম জিসান মোল্লা (২৪), তিনি সদর উপজেলার বোড়াশী ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের খালেদ মোল্লার ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উদ্ধারকৃত অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমিরকে পরিবারের কাছে দেওয়া হলো

উদ্ধারকৃত অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমিরকে পরিবারের কাছে দেওয়া হলো


 জব্দকৃত টাকা ফেরতসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের পর বুধবার রাতে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

জানা যায়, প্রশাসনের তদন্তে টাকার বৈধ উৎস প্রমাণিত হওয়ায় এবং নির্বাচনী বিধিলঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় বেলাল উদ্দিন প্রধানকে টাকা ফেরতসহ মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে নগদ ৭৪ লাখ টাকাসহ বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে।

আটকের বিষয়ে নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম (পিপিএম) জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। ঢাকা থেকে আসা একটি ফ্লাইটে বেলাল উদ্দিন প্রধান সৈয়দপুর অবতরণ করেন। এ সময় তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত টাকার পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ বলে ধারণা করা হয়। তবে পরে গণনা শেষে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

জাতির ধাক্কায় পাল্টাচ্ছে মত, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে উঠছে কণ্ঠ

জাতির ধাক্কায় পাল্টাচ্ছে মত, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে উঠছে কণ্ঠ

 


জাতির ধাক্কা খেয়ে এখন কেউ কেউ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। 

শনিবার কেরানীগঞ্জে সাক্তা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা আশ্চর্য যেদিকে আগাতে চাই একটা দল সামনে এসে এটা বাদ দিয়ে দেয়। আমাদের সামনে আগাতে দেয় না তার সাক্ষী এ জাতি। জুলাই সংস্কার প্রস্তাবগুলো যাবে, গণভোট হবে। তারা বলে যে গণভোট আবার কিসের? এরপর ঠেলা খেয়ে যখন মানলো তখন বলে যে গণভোট একইদিনে হতে হবে। আমাদের দাবি ছিলো গণভোট আগে হোক তাহলে গণভোটও সুন্দর হবে, সংসদ নির্বাচনও সুন্দর হবে। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে করা হলো। এখন বলে আমরা গণভোট মানি না। এতদিন চালাচালি করে এখন যখন জনগণ জবাব চাচ্ছে তখন তারা গতকাল থেকে একটু একটু বলা শুরু করেছে। আসলে এরেই বলে ঠেলার নাম বাবাজি। এ জাতি যারে ধাক্কা দেয় তারে ছেড়ে দেয় না।

তিনি বলেন, আফসোস কেউ কেউ জুলাই শহিদদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে লাগলো। জুলাইকে কোনো স্বীকৃতিই দিতে চাইলো না। আবার একসময় যখন দেখলো জুলাই বাংলাদেশ, মানুষ মিশে গেছে জুলাইয়ের সঙ্গে তখন বলে আমরাই জুলাইয়ের মাস্টার মাইন্ড। তারা একবার মানে না আরেকবার মাস্টার মাইন্ড হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, জুলাইকে সম্মান করা মানে চাঁদাবাজি হতে পারে না। জুলাইকে সম্মান করার মাঝে দুর্নীতি হতে পারে না, নিরীহ মানুষের জমি দখল হতে পারে না। মামলা বাণিজ্য হতে পারে না, আমার মায়ের গায়ে হাত তুলতে পারে না। এটা জুলাই চেতনা হতে পারে না।


৪৭% মানুষ মনে করেন: তারেক রহমান হতে পারেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী

৪৭% মানুষ মনে করেন: তারেক রহমান হতে পারেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী


 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখতে চান ৪৭ দশমিক ৬ ভাগ মানুষ। অন্যদিকে, ২২ দশমিক ৫ ভাগ উত্তরদাতা মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড-৩’ শীর্ষক এক জরিপের ফলাফলে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভেশন কনসালটিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার। 

তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের ভোটদানের আগ্রহ ও নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে আগের রাউন্ডের সঙ্গে তুলনা করে জনমতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করাও ছিল জরিপের লক্ষ্য। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ ভাগ উত্তরদাতা জানান, তারা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে চান। আগের রাউন্ডে যারা ভোট দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তাদের ৯৬ দশমিক ১ ভাগ এবারও ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আর যারা আগে ভোট দেবেন না বলেছিলেন, তাদের ৭৮ দশমিক ৫ ভাগ এবার ভোট দেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছেন। পেপসের প্রথম রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল গত বছরের মার্চে আর দ্বিতীয় রাউন্ডের ফল প্রকাশ করা হয় সেপ্টেম্বরে। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেওয়া নাগরিকদের নিয়ে টেলিফোনে তৃতীয় রাউন্ডের জরিপ চালানো হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি জানুয়ারির ১৬ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত পরিচালিত ৫ হাজার ১৪৭টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ জরিপের প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। সাক্ষাৎকারদাতাদের বাছাই করা হয় দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম ও শহর থেকে। ভোটার উপস্থিতি, গণভোট সম্পর্কে জনমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও দলীয় পছন্দ এ ছয় বিষয়ে নেওয়া হয় মতামত।

জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ৪৭ দশমিক ৬ ভাগ উত্তরদাতা মনে করেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ দশমিক ৫ ভাগ মনে করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। জরিপে অংশ নেওয়া ২ দশমিক ৭ ভাগ নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। ২২ দশমিক ২ ভাগ উত্তরদাতা বলেছেন, ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী কে, তা তাঁরা বলতে পারছেন না।

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ী প্রসঙ্গে জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন, এ প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম বলেছেন। ২৩ দশমিক ৮ ভাগ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন। পেপসের দ্বিতীয় রাউন্ডের তুলনায় তৃতীয় রাউন্ডে বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এ হার বেড়েছে ১ দশমিক ১ ভাগ।

আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা বিএনপিতে বেশি : জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। দলটির কার্যক্রমে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনও রয়েছে স্থগিত। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোথায় যাবে, তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা। পেপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ ভাগ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ ভাগ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ ভাগ এখনো সিদ্ধান্তহীন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে যাঁরা সিদ্ধান্তহীন ছিলেন বা পছন্দ প্রকাশ করেননি, তাঁদের মধ্য থেকে জামায়াতের তুলনায় বেশি ভোট পেয়েছে বিএনপি। বিএনপির সম্ভাব্য ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটের মধ্যে ২৬ দশমিক ৬ ভাগ এসেছে আগে সিদ্ধান্তহীন ও অনির্ধারিত ভোটারদের কাছ থেকে। জামায়াতের সম্ভাব্য ৩১ ভাগ ভোটের মধ্যে ১৪ দশমিক ১ ভাগ এসেছে একই গোষ্ঠী থেকে। তৃতীয় রাউন্ডে কিছু জামায়াত সমর্থক তাঁদের ভোটের পছন্দ প্রকাশ করেননি জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তুলনামূলকভাবে জামায়াতের ভোটব্যাংকে অস্থিরতা বিএনপির চেয়ে বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে এনসিপির কিছু ভোট বিএনপির দিকে চলে গেছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত কারা কত ভাগ ভোট পেতে পারে, এ প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৮ ভাগ মানুষ বিএনপির পক্ষে মত দিয়েছেন। জামায়াত ও তাদের জোট ৩১ ভাগ ভোট পেতে পারেন বলে মনে করেন। আর ১৩ দশমিক ২ ভাগ উত্তরদাতা তাঁদের পছন্দ প্রকাশ করেননি। গণভোটে ‘হ্যাঁ-এর পক্ষে ৬০ ভাগ : আগামী নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের বিষয়ে পেপস প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরদাতাদের প্রায় ৬০ ভাগ গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। ২২ ভাগ জানিয়েছেন, গণভোটের বিষয়ে তাঁরা জানেন না। গণভোটের বিষয়ে জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা ও মতামতে পার্থক্য দেখার কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে।

 

 ভোট গণনায় যদি দেরি হয় তবে বুঝতে হবে খারাপ উদ্দেশ্যে রয়েছে: টুকু

ভোট গণনায় যদি দেরি হয় তবে বুঝতে হবে খারাপ উদ্দেশ্যে রয়েছে: টুকু

 

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ভোট গণনায় দেরি হলে জনগণ মেনে নেবে না। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ জানে ভোট গণনা করতে কত সময় লাগে। যদি ভোট গণনায় বেশি সময় নেয় তবে বুঝতে হবে খারাপ উদ্দেশ্য রয়েছে। এটা জনগণ মানবে না, এজেন্টরা মানবে না। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ভোট বিএনপি নতুন করছে না। সুতরাং এসব কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্তি করার সুযোগ নেই। 

আজ শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নে পাইকশা বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।  

তিনি বলেন, মাঠে জামায়াতের হালে পানি নেই বলে তারা বিএনপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছে। নির্বাচন বিধি জামায়াতই লঙ্ঘন করছে। তারা মসজিদ ও ইসলামি জলসাকে নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করছে। এগুলো সবই নির্বাচনী বিধির বাইরে। কিন্তু আমরা অভিযোগ দেইনি। আমরা নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছি। 

নির্বাচনী জনসভায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ সুইট, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ কায়েস, বিএনপি নেতা একাব্বর আলী, শ্রমিকদল নেতা আনোয়ার হোসেনসহ বিএনপিসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃববৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

১৭৯টি আসনে জামায়াতের প্রার্থী, আর এনসিপির প্রার্থী থাকছে ৩০ আসনে।

১৭৯টি আসনে জামায়াতের প্রার্থী, আর এনসিপির প্রার্থী থাকছে ৩০ আসনে।


 আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

ঘোষণায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, এলডিপি ৭টি আসনে লড়বে।

এছাড়াও এবি পার্টি ৩, বিডিপি ২ ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, কিছু আসনে এখনও ঝামেলা রয়েছে, এটি প্রত্যাহারের পর ঠিক হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদের, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির আনোয়ারুল হক, সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রমুখ।

সুষ্ঠু, ত্রুটিমুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

সুষ্ঠু, ত্রুটিমুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

 

আসন্ন ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে একটি ত্রুটিবিহীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

বুধবার রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ডিসেম্বর-২০২৫ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে প্রার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন যেন নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে এবং কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে না পারে সে বিষয়েও কঠোরভাবে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচন দেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের অভিযোগ না ওঠে সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন কমিশনার।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার (অতিরিক্ত আইজি) নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আচরণবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত সব পুলিশ সদস্যকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নির্বাচন পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিসেম্বর মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানে বিশেষ অবদান রাখায় ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।

সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির সব থানার অফিসার ইনচার্জ ও বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচন উপলক্ষে সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে আলাদা কোনো সুবিধা প্রদান করছে না - প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

নির্বাচন উপলক্ষে সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে আলাদা কোনো সুবিধা প্রদান করছে না - প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

 


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বিশেষ কোনো সুবিধা বা ‘এক্সট্রা প্রিভিলেজ’ দিচ্ছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বর্তমানে দেশে শতভাগ ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বিরাজ করছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

শফিকুল আলম জানান, আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে তারা একটি বড় এবং শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল পাঠাবেন।

প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় ইইউ কোনো পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। তবে এবার তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বড় পরিসরে কাজ করতে চায়।

নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া। বিশেষ করে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের দোসররা বিদেশ থেকে বা পর্দার আড়াল থেকে ব্যাপক হারে 'মিসইনফরমেশন' বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারে।

তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে এবং সাইবার জগতের গুজব মোকাবিলায় বিশেষ সেল কাজ করছে।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সন্তুষ্ট বলে জানান শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যার প্রেক্ষাপটে মাঝেমধ্যে দু-একটি অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। তবে সরকার প্রতিটি ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রেই দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট নিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন যে, একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে ইসি এবং প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি নরসিংদীতে মনি চক্রবর্তী নামের এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড মূলত পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে। কিন্তু একটি মহল একে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে প্রচার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিও যাচাই-বাছাই না করে এ নিয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন। আমরা সবাইকে অনুরোধ করব, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায় এমন কোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে তথ্য যাচাই না করে মন্তব্য করবেন না। এটি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।

ব্রিফিংয়ের মূল সুর ছিল স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা। সরকার যে কেবল একটি নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিনির্মাণে কাজ করছে, প্রেস সচিবের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই ফুটে উঠেছে। শফিকুল আলম আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বাংলাদেশ একটি মডেল নির্বাচন দেখতে পাবে।

সূত্র : আমার সংবাদ