The National Press
সর্বশেষ
লোড হচ্ছে...
সৌদিতে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নওগাঁর ৭ প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদিতে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নওগাঁর ৭ প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত বাংলাদেশি প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাত বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।

নিহত সাতজনই আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা এবং সৌদি আরবের ওই সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজন রয়েছেন।

তবে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান। এখন পর্যন্ত নিহত সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হলেও অন্যদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় অনেককে নিহতের সংখ্যা ১৫, ১৭ ও ১৯ জন উল্লেখ করে পোস্ট দিতে দেখা গেছে। তবে এসব দাবির কোনোটি এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

একই উপজেলার সাত প্রবাসীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আত্রাইজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে উপজেলার পরিবেশ।

নিহতদের পরিচয় ও অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

রিয়াদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই ভাইসহ তিন প্রবাসী অপহরণ, দেড় লাখ টাকা দিয়ে মুক্তি

রিয়াদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই ভাইসহ তিন প্রবাসী অপহরণ, দেড় লাখ টাকা দিয়ে মুক্তি


ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দুই ভাইসহ তিন প্রবাসীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের পর তাদের মারধর করে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পর প্রায় ২০ ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বজনরা।

অপহৃতরা হলেন—বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরশিবপুর গ্রামের মোসলেম মিয়ার ছেলে মো. কাউছার মিয়া ও মো. ইসলাম এবং একই উপজেলার ছলিমাবাদ গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে মো. মাসুদ মিয়া। মাসুদ সম্পর্কে কাউছার ও ইসলামের খালু।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউছার প্রায় তিন বছর আগে এবং তার ছোট ভাই ইসলাম এক মাস আগে সৌদি আরবে যান। তারা দুজন এবং তাদের খালু মাসুদ রিয়াদে কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে খাবার খেতে যাওয়ার সময় রিয়াদের বাথা মার্কেট এলাকা থেকে ৮-৯ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের জোর করে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর থেকে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শুক্রবার সকালে অপহরণকারীরা ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় তিন প্রবাসীকে নির্যাতনের দৃশ্যও স্বজনদের দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।

পরে তিন পরিবারের পক্ষ থেকে কাউছার ও ইসলামের মামা এবং সৌদি আরবপ্রবাসী হাসান মিয়া অপহরণকারীদের দেড় লাখ টাকা দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানানো হয়।

পরিবারের দাবি, অপহরণের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিন প্রবাসীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কাউছার ও ইসলামের মা হামিদা বেগম বলেন, ‘সারাদিন তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আমার ভাই সৌদি আরব থেকে দেড় লাখ টাকা দিয়েছে। অপহরণকারীরা আরও টাকা দাবি করেছিল। সন্ধ্যায় তারা ছেড়ে পেয়েছেন।’

মাসুদ মিয়ার স্ত্রী মাহমুদা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তার স্বামী ও দুই ভাগনে অপহরণের শিকার হন। শুক্রবার সকালে স্বামীর মুঠোফোন থেকে ভিডিও কল করে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ সময় তাদের মারধর করে দেখানো হয় বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, অপহৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় বিষয়টি জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে জানতে চেয়েছেন।

ঘটনাটি সৌদি আরবে সংঘটিত হওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮, আহত ৭৬

গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৮, আহত ৭৬


গাজা উপত্যকায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭৬ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আগের এক ইসরাইলি হামলায় আহত আরও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছরের তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ১,২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,০৫৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮০৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৪৯ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬২ জন।

এ ছাড়া ভবন ধসের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হওয়ায় এ ধরনের ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

২০২৭ সালের ২ আগস্ট সৌদির আকাশে শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব

২০২৭ সালের ২ আগস্ট সৌদির আকাশে শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব

 

আগামী বছরের (২০২৭ সাল) ২ আগস্ট সৌদি আরবের আকাশে ঘটতে যাচ্ছে শতাব্দীর অন্যতম বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। সেদিন কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো মিলিয়ে যাবে, সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলবে চাঁদ, দিনের আকাশে দেখা যাবে তারা, তাপমাত্রা কমে আসবে এবং সূর্যের রহস্যময় বহিঃস্তর করোনা খালি চোখে দেখা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ নয়; এটি একবিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণ সূর্যগ্রহণগুলোর একটি এবং ৭৫ বছরেরও বেশি সময় পর সৌদি আরবের ওপর দিয়ে অতিক্রম করা প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। 

সৌদি স্পেস এজেন্সি এটিকে ‘এই শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

কেন সৌদি আরবেই দেখা যাবে এই বিরল সূর্যগ্রহণ?
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে তখনই, যখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে এবং মাঝখানে থাকে চাঁদ।

প্রকৃতির এক বিস্ময়কর কাকতালীয় কারণে চাঁদ সূর্যের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ ছোট, আবার পৃথিবী থেকে ৪০০ গুণ বেশি কাছে। ফলে পৃথিবী থেকে দেখলে সূর্য ও চাঁদকে প্রায় একই আকারের মনে হয়। যখন তারা নিখুঁতভাবে এক সরলরেখায় আসে, তখন চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে এবং পৃথিবীর ওপর একটি সরু ছায়াপথ সৃষ্টি করে।

এই ছায়াপথকে বলা হয় ‘পাথ অব টোটালিটি’ । এই পথের ভেতরে থাকা মানুষই কেবল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে পান, অন্য এলাকায় দেখা যায় আংশিক সূর্যগ্রহণ।

২০২৭ সালের সূর্যগ্রহণের ছায়াপথ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে উত্তর আফ্রিকা, মিসর, লোহিত সাগর অতিক্রম করে সৌদি আরবের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে ভারত মহাসাগরের দিকে চলে যাবে। সৌদি আরব এই ছায়াপথের ঠিক মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় দেশটি বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যবেক্ষণস্থলে পরিণত হবে।

কেন এত দীর্ঘ হবে এই সূর্যগ্রহণ?
এই সূর্যগ্রহণের দীর্ঘস্থায়িত্বের পেছনে রয়েছে মহাজাগতিক অবস্থানের বিশেষ সমন্বয়।

আগস্টের শুরুতে পৃথিবী সূর্য থেকে বছরের সবচেয়ে দূরের অবস্থানের কাছাকাছি থাকে। ফলে সূর্যকে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা ছোট দেখায়। একই সময়ে চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানের কাছাকাছি থাকবে, ফলে সেটিকে তুলনামূলক বড় দেখাবে।

বড় চাঁদ যখন অপেক্ষাকৃত ছোট দেখানো সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়, তখন গ্রহণের স্থায়িত্ব বেড়ে যায়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ সময়, ছয় মিনিটের কিছু বেশি, দেখা যাবে প্রতিবেশী মিসরে। তবে সৌদি আরবেও এই অন্ধকার থাকবে প্রায় ছয় মিনিট, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য বিরল সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সৌদি স্পেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী-
•    আভা অঞ্চলে অন্ধকার থাকবে প্রায় ৬ মিনিট। 
•    জেদ্দা ও পশ্চিম উপকূলের কিছু এলাকায় থাকবে প্রায় ৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ড। 
তুলনামূলকভাবে বিশ্বের অধিকাংশ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দুই মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয়।

যেসব শহরে দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ
সৌদি জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মাজেদ আবু জাহরার মতে, পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে-
•    মক্কা 
•    জেদ্দা 
•    তায়েফ 
•    আল-বাহা 
•    খামিস মুশাইত 
•    জিজান 
•    নাজরান 

এছাড়াও তুওয়াল, দাহবান, খুলাইস, আল-লিথ, আল-কুনফুদাহ, তানুমা, বারিক, সাবিয়া, সারাত আবিদাহসহ আরও অনেক শহর ও জনপদ এই পূর্ণ গ্রহণের আওতায় থাকবে।

অন্যদিকে রাজধানী রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে পূর্ণ গ্রহণ দেখা যাবে না। সেখানে সূর্যের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদ ঢেকে দেবে।

কখন শুরু হবে গ্রহণ?
পুরো গ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে তিন ঘণ্টারও বেশি সময়।
•    প্রথম আংশিক গ্রহণ শুরু: বেলা ১১:৪১ টা (সৌদি সময়) 
•    পূর্ণ গ্রহণ: দুপুর ১:২১ টা থেকে ১:৪৪ টা 
•    গ্রহণ শেষ: বিকাল প্রায় ৩টা 

প্রধান শহরগুলোর সময়সূচি
জেদ্দা
•    আংশিক গ্রহণ: দুপুর ১২:০০টা 
•    পূর্ণ গ্রহণ: ১:২৫ টা
•    শেষ: ২:৪৩ টা

মক্কা
•    আংশিক গ্রহণ: ১২:০১ টা 
•    পূর্ণ গ্রহণ: ১:২৬ টা 
•    শেষ: ২:৪৪ টা

তায়েফ
•    আংশিক গ্রহণ: ১২:০৩ টা
•    পূর্ণ গ্রহণ: ১:২৮ টা
•    শেষ: ২:৪৫ টা

খামিস মুশাইত
•    আংশিক গ্রহণ: ১২:১৩ টা
•    পূর্ণ গ্রহণ: ১:৩৭ টা
•    শেষ: ২:৫৪ টা

কেমন হবে সেই মুহূর্ত?
পূর্ণ গ্রহণ শুরুর ঠিক আগে দিনের আলো রূপালি আভা ধারণ করবে। ছায়া আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠবে। তারপর হঠাৎ করেই নেমে আসবে অন্ধকার।

দিগন্তে দেখা দেবে গোধূলির মতো পরিবেশ, বাতাস কিছুটা শীতল হবে এবং দিনের আকাশেই ফুটে উঠবে উজ্জ্বল তারা ও গ্রহ।

ঠিক মাঝখানে থাকবে একটি কালো বৃত্তের মতো সূর্য, যার চারপাশে ছড়িয়ে থাকবে সাদা আলোর মুকুট- সূর্যের করোনা। সাধারণ সময়ে সূর্যের তীব্র আলোয় এই করোনা দেখা যায় না; কেবল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময়ই এটি দৃশ্যমান হয়।

কোথায় সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, যারা পূর্ণ অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের পাথ অব টোটালিটির কেন্দ্ররেখার যতটা সম্ভব কাছাকাছি অবস্থান করা উচিত।

সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানগুলো হলো-
•    জেদ্দা ও লোহিত সাগরের উপকূল- অধিকাংশ পর্যটকের জন্য এটি সবচেয়ে সহজ বিকল্প। এখানে একটি বড় বিমানবন্দর, প্রচুর হোটেল এবং প্রায় পাঁচ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের অন্ধকার থাকবে। উন্মুক্ত সৈকতগুলো থেকে আকাশের বিস্তৃত ও নির্মল দৃশ্য দেখা যাবে।
•    আভা ও খামিস মুশাইতের পার্বত্য এলাকা- রাজ্যের দীর্ঘতম অন্ধকার, প্রায় ছয় মিনিট, থাকবে এখানে। উচ্চতার কারণে সাধারণত বাতাস সেখানকার পরিষ্কার থাকে। তারপরও আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেননা, আগস্ট মাসে বিকালে পাহাড়ের উপর মেঘ জমতে পারে।
•    তায়েফ ও আল-বাহা- পাহাড়ি এই অঞ্চলের আবহাওয়া শীতল। সেখানকার পথের ভেতরে আরামদায়ক পরিবেশ বজায় থাকে। যারা গ্রীষ্মের তীব্র গরম থেকে বাঁচতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প।
•    মরুভূমির খোলা এলাকা- এটি ফটোগ্রাফারদের জন্য আদর্শ স্থান। সেখানে দিগন্তজুড়ে চাঁদের ছায়া অগ্রসর হওয়ার দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাবে। 
এ উপলক্ষে জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটিসহ বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান সংগঠন বিশেষ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কী দেখা যাবে?
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। দুবাইসহ পুরো দেশেই দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ।

দুবাইয়ে স্থানীয় সময় দুপুর ১:৩৩ টা থেকে ৩:৪৮ টা পর্যন্ত সূর্যের প্রায় ৫৩ শতাংশ চাঁদ ঢেকে ফেলবে। দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে এই হার ৬১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

তবে সেখানে দিনের অন্ধকার, সূর্যের করোনা কিংবা দিনের আকাশে তারা দেখার সুযোগ থাকবে না।

নিরাপদে সূর্যগ্রহণ দেখার নির্দেশনা
সৌদি স্পেস এজেন্সি সতর্ক করে বলেছে, বিশেষ সুরক্ষাচশমা ছাড়া কখনওই সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না। এতে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

নিরাপদ পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দেশনাগুলো হলো-
•    আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সোলার ইক্লিপস গ্লাস ব্যবহার করতে হবে। 
•    সাধারণ সানগ্লাস কখনওই যথেষ্ট সুরক্ষা দেয় না। 
•    ক্ষতিগ্রস্ত বা আঁচড়যুক্ত গ্রহণের চশমা ব্যবহার করা যাবে না। 
•    সোলার ফিল্টার ছাড়া দূরবীন, টেলিস্কোপ বা ক্যামেরা দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানো বিপজ্জনক। 
•    সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যাওয়ার কয়েক মিনিট ছাড়া বাকি সব সময় সুরক্ষাচশমা পরে থাকতে হবে। সূর্যের আলো ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আবার চশমা ব্যবহার করতে হবে।

বিরল মহাজাগতিক প্রদর্শনীর অপেক্ষায় বিশ্ব
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৭ সালের ২ আগস্ট সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম সেরা স্থান হয়ে উঠবে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করার জন্য। গবেষক, আলোকচিত্রী এবং আকাশপ্রেমীদের জন্য এটি হবে এক অসাধারণ সুযোগ, কারণ এত দীর্ঘ সময়ের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এক জায়গা থেকে দেখা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। ৭৫ বছরের অপেক্ষার পর সৌদি আরবের আকাশে এই মহাজাগতিক প্রদর্শনী নিঃসন্দেহে ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। 

সূত্র: গালফ নিউজ

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক জোটে বাংলাদেশ, সামনে সুযোগ-ঝুঁকির হিসাব

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক জোটে বাংলাদেশ, সামনে সুযোগ-ঝুঁকির হিসাব

 

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই জোটে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের নাম উঠে এসেছে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাব আল-মান্দেব কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়।

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং লোহিত সাগরে বিভিন্ন হামলার ঘটনায় বিকল্প সামুদ্রিক রুটের নিরাপত্তা এখন বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ও পণ্যের পরিবহন ব্যাহত হতে পারে।

এর প্রভাব আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

বাংলাদেশের অংশগ্রহণের গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় শ্রমবাজারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ ছাড়া বহুজাতিক সামুদ্রিক সহযোগিতায় অংশ নিলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আধুনিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রেও এই ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

রয়েছে কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও

তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন কোনো সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকির কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে অবস্থান ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশকে এমনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে একদিকে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় থাকে, অন্যদিকে কোনো সংঘাতের অংশ হিসেবেও যেন বিবেচিত না হয়।

ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিই মূল বিষয়

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত অবস্থান হলো ভারসাম্য বজায় রাখা। তাই সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় অংশ নিলেও দেশের স্বার্থ, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। সঠিক কৌশল ও কূটনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই পরিস্থিতিতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে সৌদি প্রবাসীদের উদ্বেগ, সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে সৌদি প্রবাসীদের উদ্বেগ, সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি

সৌদি আরবের মক্কা, জেদ্দা, মদিনাসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যুর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাংশ সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশি। তাদের আশঙ্কা, এ প্রক্রিয়ার ফলে প্রকৃত বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান, দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

প্রবাসীদের দাবি, সৌদি আরবে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যুর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশি পরিচয়ে এসব ব্যক্তিরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর পড়তে পারে।

এছাড়া সৌদি আরবের শ্রমবাজারে প্রকৃত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের মতে, বাংলাদেশি পরিচয়ে নতুন কর্মী যুক্ত হলে নিয়োগদাতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, যা বৈধভাবে কর্মরত বাংলাদেশিদের স্বার্থের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রবাসীদের অভিযোগ, কনস্যুলেটে পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে প্রকৃত বাংলাদেশিদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রচণ্ড গরমেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় সেবা প্রত্যাশীদের। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারী যুক্ত হলে বিদ্যমান চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

তাদের আরও দাবি, কনস্যুলার সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়া, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া এবং আর্থিক ক্ষতির মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন প্রবাসীরা। এ কারণে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থ ও সেবার মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

প্রবাসীদের মতে, জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের বর্তমান অবকাঠামো ও সেবার পরিধি সৌদি আরবে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির তুলনায় যথেষ্ট নয়। তারা কনস্যুলেট ভবনের পরিসর বৃদ্ধি, জনবল বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো তুলনামূলকভাবে বড় পরিসরে এবং আরও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সেবা প্রদান করে। বাংলাদেশ কনস্যুলেটেও একই ধরনের উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ অবস্থায় মক্কা, জেদ্দা, মদিনাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের একটি অংশের কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। পাশাপাশি অবশিষ্ট আবেদনগুলোর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে একটি বিশেষ টিম সৌদি আরবে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।

পাসপোর্ট ইস্যুর পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, যথাযথ যাচাই এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশিরা।

কোনো রাজনৈতিক সীমানাই নিরাপদ থাকবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি

কোনো রাজনৈতিক সীমানাই নিরাপদ থাকবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুঁশিয়ারি


 যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেন, হামলা অব্যাহত থাকলে কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই সুরক্ষিত থাকবে না।

রেজায়ি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বোমা হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরান পূর্ণমাত্রায় অভিযান শুরু করবে।

তিনি বলেন, ‘ইরান আর শুধু হামলার জবাবে সমপর্যায়ের পালটা প্রতিক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই আর নিরাপদ থাকবে না।’

রেজাই আরো বলেন, ‘যুদ্ধের সময় আলোচনার নীতি শেষ হয়ে গেছে’।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা যুদ্ধ সম্প্রসারণ বা আগ্রাসন চালানোর দিকে মনোযোগ দিইনি। এখন পর্যন্ত লক্ষ্য ছিল প্রতিরোধ, সংঘাতের অবসান ঘটানো। সংঘাতের অবসান ঘটাতেই আমরা হরমুজ দখল করেছি।’

সূত্র: আলজাজিরা

পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প


 যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই দিন আগেও একটি সমঝোতার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছিল জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি মনে করি একটি চুক্তি সম্ভব। অবশ্যই আমি তা মনে করি।’

ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দিন আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছিল। তবে পরে তেহরান আরও আলোচনার প্রয়োজনের কথা জানিয়ে সেই চুক্তি থেকে সরে আসে।

এর আগে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র নেবে এবং নিরাপত্তা বাবদ অর্থ নেওয়া হবে এ নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইরানও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার (১৩ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিট) সর্বশেষ হামলা শুরু হয়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক নাগরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বন্দর নগরী বান্দার আব্বাস, কিশ ও কেশম দ্বীপ ও বুশেহর প্রদেশের জাম শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফারস সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পশ্চিম বান্দার আব্বাসে একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি বান্দার আব্বাসের কাছে একটি মার্কিন নির্মিত ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে তারা। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ওমান উপসাগরসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন বলে দেশটি জানিয়েছে। 

আইআরজিসি দাবি করেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা অভিযান শুরু করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

ইরানি বিমান ঠেকাতে সানার বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানোর দাবি ইয়েমেন সরকারের

ইরানি বিমান ঠেকাতে সানার বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানোর দাবি ইয়েমেন সরকারের

 

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, হুথি নিয়ন্ত্রিত সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে সামরিক হামলা চালানো হয়েছে একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দিতে। সরকারের দাবি, ওই বিমানটির অবতরণ দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী ছিল।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবা জানায়, হুথিরা ইয়েমেনের জাতীয় বিমান সংস্থার একটি ফ্লাইটকে সানায় নামতে বাধা দিলেও একই সময়ে একটি ইরানি বিমানকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার চেষ্টা করছিল। এ পরিস্থিতিতে রানওয়েকে লক্ষ্য করে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ব্যবহারের বিষয়ে একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া বিদেশি কোনো উড়োজাহাজ ইয়েমেনের আকাশসীমা ব্যবহার করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে হুথি গোষ্ঠী অভিযোগ করেছে, বিমানবন্দরে হামলার পেছনে সৌদি আরবের ভূমিকা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। পরে ইরানি বিমানটি সানায় না নেমে হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইয়েমেনে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এ উত্তেজনা দেশটিতে কয়েক বছর ধরে চলা তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে।

সূত্র: সৌদি গেজেট

বাংলাদেশসহ ৭ দেশের জন্য ভিসা নিয়ে সুখবর দিল সৌদি

বাংলাদেশসহ ৭ দেশের জন্য ভিসা নিয়ে সুখবর দিল সৌদি

 

ভিসা নিয়ে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি জানিয়েছে, নতুন চালু করা সমন্বিত ভ্রমণ প্যাকেজের সুবিধা প্রাথমিক পর্যায়ে সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবে ভ্রমণ আরও সহজ হবে। শুক্রবার গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব প্রাথমিকভাবে সদ্য চালু হওয়া ভিসা প্যাকেজ কর্মসূচির জন্য সাতটি দেশকে নির্বাচন করেছে। এসব দেশের নাগরিকরা এই কর্মসূচির আওতায় একটি সমন্বিত ভ্রমণ বুকিংয়ের অংশ হিসেবে ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে মিশর, জর্ডান, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য এ সুবিধা চালু করা হয়েছে। দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন দেশের জন্য এ সেবা চালু করা হবে।

এই কর্মসূচির আওতায় ভ্রমণকারীরা একটি বুকিংয়ের মাধ্যমেই তাদের পুরো ভ্রমণের ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে পারবেন। এর মধ্যে রিটার্ন ফ্লাইট, অনুমোদিত পর্যটন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে আলাদাভাবে ভিসার আবেদন জমা দেওয়া বা সৌদি দূতাবাসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যাকেজ কেনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে ভিসা ইস্যু করা হবে। ভ্রমণকারীরা অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে বুকিং করার পর ইমেইলে তাদের ভিসা, ভ্রমণ বীমা এবং ভ্রমণ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়ে যাবেন। এখন পর্যন্ত রিজারভাল ও আলমোসাফের নামে দুটি ট্রাভেল এজেন্সি এ পরিষেবা প্রদানের অনুমতি পেয়েছে। ভিসাটির মেয়াদ হবে তিন মাস। এই ভিসায় একবার প্রবেশ করা যাবে এবং দুই দিন থেকে ৮৮ দিন পর্যন্ত থাকার অনুমতি থাকবে।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রথম দুই দিনের সর্বনিম্ন প্যাকেজ মূল্য ৪ হাজার সৌদি রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর প্রতি অতিরিক্ত দিনের জন্য ১ হাজার সৌদি রিয়াল যোগ হবে। ভিসা প্রদান ও ভ্রমণ বীমাসহ মোট ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০২ দশমিক ২১ সৌদি রিয়াল। ভ্রমণকারীরা তাদের বুকিংয়ের সঙ্গে ইভেন্টের টিকিট এবং বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতার মতো ঐচ্ছিক পরিষেবাও যুক্ত করতে পারবেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্যাকেজগুলোতে মক্কা ও মদিনায় উমরাহ-সম্পর্কিত কোনো পরিষেবা বা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে ভিসাধারীরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মক্কা ও মদিনাসহ দেশটির যেকোনো স্থানে ভ্রমণ করতে পারবেন। অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বা থাকার ব্যবস্থা বাতিল হলে অর্থ ফেরত এবং বুকিং পরিবর্তনের বিষয়টি অনুমোদিত ভ্রমণসেবা প্রদানকারীর নীতিমালা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে। পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কর্মসূচিটি আরও উন্নত করার পাশাপাশি এর আওতায় দেশের তালিকাও সম্প্রসারণ করা হবে।

সূত্র: গালফ নিউজ

গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৯৮ জন

গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৯৮ জন


 ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৩ হাজার ৯৮ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭১ জন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দৈনিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় পাঁচজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সম্প্রতি নিহত হয়েছেন আরও তিনজন।

এর ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭৩ হাজার ৯৮ জনে। আহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭১ জন।

এদিকে, গত বছরের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৭২ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৪৬৩ জন আহত হয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের নতুন নেতৃত্ব যেসব জায়গায় পুরোনোদের থেকে আলাদা

ইরানের নতুন নেতৃত্ব যেসব জায়গায় পুরোনোদের থেকে আলাদা


 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন গত মাসে ভার্সাই প্রাসাদে নৈশভোজের সময় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেন, সে সময় অনেকে একে ইতিহাসের এক চরম পরিহাস হিসেবে দেখেন।

আতিথেয়তা দেওয়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ হয়তো ট্রাম্প মত বদলানোর আগেই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়াটা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্পকে খুশি করতে তিনি সম্ভবত রাজকীয় ‘হল অব মিররস’ ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

তবে ভেন্যু বাছাইয়ের বিষয়টি অবধারিতভাবে দেড় পৃষ্ঠার এই চুক্তির সঙ্গে ১৯১৯ সালের বিশাল ভার্সাই চুক্তির তুলনা সামনে নিয়ে আসে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ওই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সই হয়েছিল।

১৯১৯ সালের সেই চুক্তি ইউরোপের মানচিত্র বদলে দিয়েছিল। তবে চুক্তিতে যুদ্ধের যে বিশাল ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছিল, তা জার্মানিকে ক্ষুব্ধ ও তিক্ত করে তোলে। আর সেটাই মাত্র ২০ বছর পরে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের মঞ্চ তৈরিতে সহায়তা করে।

ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তি অনেক দিক থেকেই আলাদা। তারপরও প্রশ্ন জাগে, এটিও কি একইভাবে ইতিহাসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে? প্রায় তিন সপ্তাহ পরেও ভঙ্গুর হলেও যুদ্ধবিরতি মোটামুটিভাবে বজায় রয়েছে।

১৯১৯ সালের সেই চুক্তি ইউরোপের মানচিত্র বদলে দিয়েছিল। তবে চুক্তিতে যুদ্ধের যে বিশাল ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছিল, তা জার্মানিকে ক্ষুব্ধ ও তিক্ত করে তোলে। আর সেটাই মাত্র ২০ বছর পরে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের মঞ্চ তৈরিতে সহায়তা করে।

তবে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষ হয়েছে। যুদ্ধের মূল কারণগুলোর কোনোটিও সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছায়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আগের মতোই চরম অনিশ্চিত রয়ে গেছে। তবে এরই মধ্যে ইরানে এক গভীর পরিবর্তন শুরু হয়েছে।

দেশটি এখন তাদের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষবিদায় জানাচ্ছে। চার মাসের বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। ওই হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের শুরু হয় এবং তেহরান প্রশাসনের নেতৃত্বের একটি বড় অংশকে হত্যা করা হয়।

এটি এক বড় ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে যে পুরোনো নেতৃত্ব নতুনদের পথ দেখিয়ে গেছে। নতুন এই নেতৃত্বের হাত ধরে আসছে নতুন কর্মপন্থা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো ইরানের অনেক সাবেক নেতাকে হত্যা করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এখন কি তবে তাদের জায়গায় আরও শক্তিশালী ও ভয়ংকর কোনো শত্রু তৈরি হলো?

দাবার ছকে নতুন বিন্যাস
জনস হপকিনস স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্য স্টাডিজের অধ্যাপক ভ্যালি নাসর বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত যেমনটা ভেবেছি, এই যুদ্ধের পরিণতি তার চেয়ে অনেক বড়।’





ভ্যালি নাসর বলেন, ‘এই মাত্রার সব বড় যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত দাবার ছক নতুন করে সাজায়। এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রেও একই কাজ করবে।’

গত জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়েই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

কয়েক দশক ধরে চলমান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি আগে থেকেই বিধ্বস্ত ছিল। এর ওপর ছয় মাস আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের একটি যুদ্ধের ক্ষতও দেশটি তখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে তাদের সুবিধা আদায়ের একটি কূটনৈতিক হাতিয়ার। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তিনি এটি পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন। কিন্তু তা ধ্বংস না হলেও অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

‘পুরো এক নতুন প্রজন্ম এখন ক্ষমতায়। তাদের একটি খুব স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। তারা যুদ্ধ সামলেছে এবং এখন তারা শান্তিপ্রক্রিয়াও সামলাতে যাচ্ছে।’
অধ্যাপক ভ্যালি নাসর, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্য স্টাডিজ, জনস হপকিনস স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ।

ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুতের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের কাছে যে ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা আরও সমৃদ্ধ করা হয়ে থাকলে সেগুলো দিয়ে ১০ থেকে ১১টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। ধারণা করা হচ্ছে, এই মজুতের একটি বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের মিত্র ও অনুসারীদের একটি জোট আছে। এটি ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ (অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স) নামে পরিচিত। এই জোটও একের পর এক বড় ধাক্কার মুখে পড়েছিল। সিরিয়ায় ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে মাত্র কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের মুখে তারা ক্ষমতা হারায়।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেছে ইসরায়েল। পেজার ও ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের মাধ্যমে তারা হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদেরও ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
গাজা উপত্যকায় ইরানের আরেক মিত্র হামাসও একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস ইসরায়েলে ভয়াবহ হামলা চালায়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় অবিরাম আক্রমণ শুরু করে। তারা গাজার বিশাল অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে এবং হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে।

নতুন সর্বোচ্চ নেতার মতো তাঁদের দুজনেরই শক্তিশালী ইরানিয়ান রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। লন্ডনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের পরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, ‘তাঁরা বিপ্লবের সন্তান।’

গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার জবাবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। তারা লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পাল্টা হামলা চালায়। তাদের কোনো কোনো হামলায় গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
দেশে-বিদেশে এমন অনেক বিপর্যয়ের পর সবার মধ্যে এই ধারণা জন্মেছিল যে ইরান এখন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন পেয়েছিলেন, যেগুলোতে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

ইরান যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে টিকে থাকতে পারবে, এমন চিন্তা তখন অবাস্তব মনে হয়েছিল।

অথচ শেষ পর্যন্ত সেটিই ঘটেছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এখনো টিকে আছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা তারা দেখিয়েছে। মূলত এই সক্ষমতাই তাদের টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।



বিদেশিদের জন্য সৌদি আরবে জমি মালিকানার নতুন সুযোগ

বিদেশিদের জন্য সৌদি আরবে জমি মালিকানার নতুন সুযোগ


 বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রিয়েল এস্টেট খাতকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে সম্পত্তি মালিকানার ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা কার্যকর করেছে সৌদি আরব। নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিদেশিরা মাত্র একটি শর্ত পূরণ করে দেশটিতে জমি, বাড়ি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি কিনতে পারবেন।

সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রিয়ার পুরো প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে ‘সৌদি প্রপার্টি’ নামে একটি একীভূত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো সম্পত্তি লেনদেনের আগে ক্রেতা ও বিক্রেতা- উভয়কেই এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করতে হবে। এর মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাই সহজ হবে। এ তথ্য জানিয়েছে খালিজ টাইমস।

বিদেশিদের সম্পত্তির মালিকানা দেওয়ার আইন ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আইনটি কার্যকর হয়। সৌদি সরকারের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য রিয়েল এস্টেট খাতে গতি আনা এবং বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করা।

নতুন নীতিমালার আওতায় বিদেশিরা রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা, মদিনাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গভর্নরেটে সম্পত্তি কেনার সুযোগ পাবেন। তবে দুটি পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার ক্ষেত্রে আলাদা বিধান রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনায় সম্পত্তির মালিকানা কেবল মুসলিম ব্যক্তিদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া যেসব সৌদি কোম্পানিতে বিদেশি শেয়ারধারী রয়েছে, তারাও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সেখানে সম্পত্তির মালিক হতে পারবে।

রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, ‘সৌদি প্রপার্টি’ প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন এলাকার ভৌগোলিক তথ্য, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে। এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২ বাংলাদেশির

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২ বাংলাদেশির

 

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুরের দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) ভোররাতে দ্রুতগতির একটি বাসের চাপায় তাদের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন-মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার খলিল মণ্ডলের ছেলে মনোহর আলী (৩৫) এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি গ্রামের মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে বজলুর রহমান (৪০)।

স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রহমান প্রায় দেড় বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে ইরাকে যান। তারা একই কনফেকশনারি কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

সোমবার ভোরে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে মনোহর আলীর বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি।

মনোহরের স্ত্রী সোমা আক্তার জানান, রোববার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। সে সময় পরিবারের সবার খোঁজখবর নিয়েছিলেন তিনি। পরে সোমবার ভোরে ইরাকপ্রবাসী এক আত্মীয় ফোন করে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর জানান।

তিনি আরও বলেন, স্বামীর মৃত্যুর দিনই কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের একমাত্র বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণের কিস্তি নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশিস রায় বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শান্তি চেষ্টার মাঝেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

শান্তি চেষ্টার মাঝেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

 


ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের চেষ্টায় নিয়োজিত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম দাবি করেছে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানি বাহিনীর হুমকি মোকাবিলা এবং আত্মরক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সংযম বজায় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও উল্লেখ করেছে।

এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো যখন দুই দেশের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে আলোচনার টেবিল থেকে কিছুটা অগ্রগতির খবর আসছিল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে তারা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছেন। তবে এখনই কোনো চুক্তি চূড়ান্ত বা আসন্ন নয় বলে তিনি সতর্ক করেছেন। 

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তীতে ট্রাম্প তাঁর আলোচকদের তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে আঘাত হানে এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। 

এই সর্বশেষ মার্কিন হামলার বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে চলমান শান্তি আলোচনাকে এই ঘটনা কতটা প্রভাবিত করবে তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

মুসলিম বিশ্বের জন্য আজ পবিত্র হজের দিন

মুসলিম বিশ্বের জন্য আজ পবিত্র হজের দিন

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজ। তাঁবুর শহর মিনায় রাত্রিযাপন শেষে আরাফাহ'র ময়দানের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন মুসল্লিরা। বিশেষ বাস ও ট্রেনযোগে এবার হজযাত্রীদের নেয়া হচ্ছে ঐতিহাসিক প্রান্তরে।

এখানেই আজ অনুষ্ঠিত হবে হজের খুতবা। যা বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় অনূদিত হবে। এ বছর খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। আরাফাহ'র ময়দানে একসাথে জোহর-আসরের নামাজ আদায়ের পর মুজদালিফায় যাবেন মুসল্লিরা। সেখানে রাত্রিযাপনের পর ১০ জিলহজ, বুধবার জামারায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। এরপরই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করবেন সবাই।

এবার হজযাত্রীদের আনা-নেয়ায় ২৪ হাজার বাস ব্যবহার করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, এবার রেকর্ড প্রায় ২০ লাখ মুসল্লি অংশ নিচ্ছেন পবিত্র হজে।

 

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

 

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে প্রতি বছর মক্কায় সমবেত হন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলিম। এ বছর হজের উদ্দেশে শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ সম্পর্কিত বিশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানা গেছে। আইটি হেল্প ডেস্কের বুলেটিন অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৩টা পর্যন্ত মোট ৮১টি ফ্লাইটে ৩২ হাজার ৫৩২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৩টি ফ্লাইটে গেছেন ১৩ হাজার ৬৮৪ জন।

সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের (সাউদিয়া) ৩০টি ফ্লাইটে পৌঁছেছেন ১১ হাজার ২৯৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ৫৪৯ জন হজযাত্রী জেদ্দায় পৌঁছেছেন।

এদিকে চলতি বছর পবিত্র হজ পালনে সৌদি গিয়ে এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তারা হলেন- টাঙ্গাইলের সদরের মো. আবুল কাশেম ও জয়পুরহাট সদরের মো. নইম উদ্দীন মণ্ডল।

টাঙ্গাইলের মো. আবুল কাশেম সৌদির মক্কায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। জয়পুরহাট সদরের মো. নইম উদ্দীন মণ্ডল স্বাভাবিকভাবে মক্কায় মারা যান বলে জানা গেছে।

গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ দিন ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করে। এ ফ্লাইট পরিচালনা শেষ হবে আগামী ২১ মে।

৩০ মে থেকে পুনরায় হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। শেষ হবে ৩০ জুন। চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে যাবেন ৫ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।