রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে সৌদি প্রবাসীদের উদ্বেগ, সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি
সৌদি আরবের মক্কা, জেদ্দা, মদিনাসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যুর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাংশ সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশি। তাদের আশঙ্কা, এ প্রক্রিয়ার ফলে প্রকৃত বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান, দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
প্রবাসীদের দাবি, সৌদি আরবে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যুর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশি পরিচয়ে এসব ব্যক্তিরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর পড়তে পারে।
এছাড়া সৌদি আরবের শ্রমবাজারে প্রকৃত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের মতে, বাংলাদেশি পরিচয়ে নতুন কর্মী যুক্ত হলে নিয়োগদাতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, যা বৈধভাবে কর্মরত বাংলাদেশিদের স্বার্থের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রবাসীদের অভিযোগ, কনস্যুলেটে পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে প্রকৃত বাংলাদেশিদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রচণ্ড গরমেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় সেবা প্রত্যাশীদের। তাদের আশঙ্কা, নতুন করে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারী যুক্ত হলে বিদ্যমান চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
তাদের আরও দাবি, কনস্যুলার সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়া, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া এবং আর্থিক ক্ষতির মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন প্রবাসীরা। এ কারণে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থ ও সেবার মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রবাসীদের মতে, জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের বর্তমান অবকাঠামো ও সেবার পরিধি সৌদি আরবে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির তুলনায় যথেষ্ট নয়। তারা কনস্যুলেট ভবনের পরিসর বৃদ্ধি, জনবল বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো তুলনামূলকভাবে বড় পরিসরে এবং আরও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সেবা প্রদান করে। বাংলাদেশ কনস্যুলেটেও একই ধরনের উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ অবস্থায় মক্কা, জেদ্দা, মদিনাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও কাগজপত্রের ভিত্তিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের একটি অংশের কাছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। পাশাপাশি অবশিষ্ট আবেদনগুলোর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে একটি বিশেষ টিম সৌদি আরবে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
পাসপোর্ট ইস্যুর পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, যথাযথ যাচাই এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশিরা।